স্বাধীনতা দিবসে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে আত্মপ্রকাশ মাওবাদীদের

85320-mb

ফের বাংলায় আত্মপ্রকাশ করল মাওবাদীরা। সেই সঙ্গে ম্লান হয়ে গেল মুখ্যমন্ত্রীর দাবি করা ‘জঙ্গলমহল হাসছে’।

জানা গিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার সকালে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় এলাকায় একটি সরকারি স্কুলে কালো পতাকা উত্তোলন করে মাওবাদীরা। শুধু তাই নয়, মাওবাদী মতাদর্শের পক্ষে নানাবিধ পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছে অযোধ্যা পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। একইসঙ্গে উঠেছে সরকার বিরোধী স্লোগান।

চার বছর চুপ থাকার পর জঙ্গলমহলে চোখে পড়ল মাওবাদী কার্যকলাপ। এর আগে ২০১৩ সালে শেষবারের মতো মাওবাদী কার্যকলাপ দেখা গিয়েছিল রাজ্যের জঙ্গলমহল এলাকায়। তারপর আর মাওবাদীদের সক্রিয়তা দেখা যায়নি। এই ঘটনাকে রাজ্য সরকারের সাফল্য বলেই দাবি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সাফল্যে যে ভাটা পড়তে চলেছে এদিনের ঘটনা তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

সূত্রঃ https://www.kolkata24x7.com/maoist-come-out-in-bengal-after-four-years.html


মাওবাদী মোকাবিলায় মোবাইল, সড়কে জোর কেন্দ্রের

498921-jpg_343336_1000x667

মাওবাদীদের মোকাবিলায় মোবাইল ফোনের যোগাযোগকে আরো গুরুত্ব দিতে চাইছে কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ইতিমধ্যে মাও প্রভাবিত এলাকায় ২০০০ মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করেছে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রক। দ্য হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী গত ৮ অগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে মাও প্রভাবিত ৬ রাজ্যের বৈঠকে ঠিক হয়েছে এই সব অঞ্চলে মোবাইল টাওয়ার  সড়ক ও বিমান পরিষেবার উন্নতির উপর জোর দেওয়া হবে। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে  এই সব এলাকায় সড়ক তৈরি যে আসলে মাওবাদীদের শায়েস্তা করার জন্য, এলাকার উন্নয়নের জন্য নয় তা একপ্রকার স্বীকার করে নেওয়া হল এই বৈঠকে।

সূত্রঃ satdin.in

 


ট্রেন থেকে সিপিআই(মাওবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির প্রাক্তন সদস্য তুষার ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার

Naxalite-leader-Tusharkranti-Bhattacharya

সিপিআই(মাওবাদী)’র  কেন্দ্রীয় কমিটির প্রাক্তন সদস্য তুষার ভট্টাচার্যকে নাগপুরের কাছে চলন্ত ট্রেন থেকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করল গুজরাট পুলিস। মঙ্গলবার গ্রেফতার করল গুজরাট পুলিস। তুষারের  স্ত্রী নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা সোমা সেন  সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন এক পুরনো মামলায় গুজরাট পুলিস তাকে গ্রেফতার করেছে। ২০১০ সালের যে মামলায় এই মাওবাদী নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেই সময় তিনি জেলে ছিলেন বলে দাবি করেছেন সোমা। ২০০৭ সালে তুষার ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করে বিহার পুলিস। বেশ কয়েকবছর জেলে থাকার পর তিনি ছাড়া পান। সোমা সেন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যের কারণে তিনি অধিকাংশ সময় বাড়িতেই থাকতেন। হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী বাঙালি হলেও  তুষার তেলেঙ্গানাতেই মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসাবে উত্তর ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে সংগঠনের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।

ছবি – nagpur today এর সৌজন্যে

rahul-sharma-gujarat-ips

সূত্রঃ satdin.in


কাশ্মীরের ঢঙেই এবার গোপন গোয়েন্দা পাঠিয়ে মাও দমন করবে ভারত ?

 

সম্প্রতি মাওবাদী হামলার ঘটনায় রীতিমত কপালে ভাঁজ পড়েছে কেন্দ্রের। এই বিষয়ে একটি রিভিউ মিটিংও হয়েছে। যেখানে ছিলেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। এবার তাই মাওবাদীদের রুখতে ছত্তিসগড়ের মত জায়গায় গোপনে গোয়েন্দা পাঠাতে হবে বলেই মনে করছে কেন্দ্র। ঠিক যেভাবে জঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করতে কাশ্মীরে ছদ্মবেশে গোয়েন্দা পাঠানো হয়, সেভাবেই মাওবাদীদেরও এবার কড়া হাতে দমন করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র।

গত ৮ মে ১০টি মাও অধ্যুষিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে কেন্দ্র। সিনিয়র সিকিউরিটি অ্যাডভাইসর কে বিজয় কুমার অন্তত আটটি মিটিং করেছেন। যার মধ্যে ছ’টিই ছত্তিসগড়ের অফিসারদের সঙ্গে।

এর আগে রাজনাথ বলেন, ‘সিলভার বুলেটে’ মাও দমন সম্ভব নয়। কোনও শর্ট কাটে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না। শর্ট টার্ম, মিডিয়াম-টার্ম ও লং-টার্ম সমাধান করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেছিলেন, বুলেটে সব সমস্যার সমাধান হয় না। গোয়েন্দাদের খুঁজে বের করতে হবে মাওবাদীদের টার্গেটগুলি। রাজ্যগুলিকেও মাওবাদী দমনের অপারেশনে যোগ দিতে হবে। মাও অধ্যুষিত জঙ্গলগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা, জল, খাবার দেওয়ার ব্যবস্থাতেও আরও জোর দেওয়ার কথা বলেন রাজনাথ।

সূত্রঃ https://www.kolkata24x7.com/on-government-priority-shadow-intelligence-officers-for-top-maoist-in-chattisgarh.html


ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের গেরিলা হামলায় নিহত পুলিশ অফিসার, আহত কনস্টেবল

498920-jpg_343339_1000x667

ছত্তিশগড়ে সশস্ত্র মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছে জেলা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর, জখম হয়েছেন এক কনস্টেবল। আইজি (দুর্গ রেঞ্জ) দীপাংশু কাবরা জানিয়েছেন, রবিবার দুপুরে ছত্তিশগড়ের রাজনন্দগাঁও জেলার গাটাপার থানার অধীনে মাওবাদী অধ্যুষিত জঙ্গলে মাওবাদী দমন অভিযানে নামে জেলা পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষিত ই-৩০ বাহিনী। রাজনন্দগাঁও শহর থেকে ১৫০ কিমি দূরে ভাবে গ্রামের কাছে জঙ্গল ঘিরে ফেলার পরে আচমকা বাহিনীকে নিশানা করে গোপন আস্তানা থেকে গুলি চালাতে শুরু করে মাওবাদীরা। সংঘর্ষে সাব-ইন্সপেক্টর যুগল কিশোর ভার্মার শরীরে গুলি লাগলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। জঙ্গলের ভিতরে পড়ে থাকা মৃত পুলিশ আধিকারিকের দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রসঙ্গত, রাজনন্দগাঁওয়ের এক বড় অংশ ঘেঁষে রয়েছে মহারাষ্ট্রের গোন্ডিয়া ও গাডচিরোলি অঞ্চল এবং মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট এলাকা। বেশ কয়েক বছর যাবত এই বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে প্রভাব বিস্তার করেছে মাওবাদীরা। সম্প্রতি বস্তার থেকে উদ্ধার হওয়া মাওবাদী নথি অনুসারে, এই অঞ্চলেই নয়া সদর ঘাঁটি গড়ে তোলার চেষ্টায় রয়েছে মাওবাদীরা।

সূত্রঃ

http://www.timesnownews.com/india/article/chhattisgarh-police-sub-inspector-constable-killed-in-encounter-with-maoists/69886


মাওবাদীদের শহীদ সপ্তাহে প্রায় ১০০০ জন গ্রামবাসী অংশ নিয়েছে, শহীদদের হত্যার বদলা নেয়ার শপথ

weak_6156

৩১শে অক্টোবর ২০১৬ সালে রামগুদায় মাওবাদীদের গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে সিপিআই(মাওবাদী) বলেছে যে, এর জন্যে সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে। মাওবাদীরা, তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার এবং শহীদ কমরেডদের মতাদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

অন্ধ্রপ্রদেশ-উড়িষ্যা সীমান্তে গতকাল শুক্রবার থেকে সিপিআই(মাওবাদী) ‘শহীদ সপ্তাহ’ উদযাপন শুরু করেছে, চলবে ৩রা আগস্ট পর্যন্ত। সরকারী নিরাপত্তা কর্মীদের কঠোর অভিযান জোরদার সত্ত্বেও, সভাটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

পূর্বাঞ্চলের মাওবাদীদের পরিচালিত এই কর্মসূচিতে প্রায় ৭০০ থেকে ১০০০ জন গ্রামবাসী অংশগ্রহণ নেয়। মাওবাদীরা এ সময় লাল কাপড় দিয়ে একটি তোরণকে সজ্জিত করে এবং স্লোগান দেয়। অক্টোবরে নিহত মাওবাদী কমরেডদের, কমরেড চারু মজুমদার ও কানহাই চ্যাটার্জী’র স্মরণে লাল সালাম দেওয়া হয়। “বনের সমস্ত প্রাকৃতিক সম্পদ আদিবাসীদের,” এই স্লোগানটি বার বার দেয়া হয়। একই সাথে রায়গাদা, গোররালমেটটা, ক্যাপ্টোটি এবং কোরাপুটের শহীদ মাওবাদীদের উদ্দেশ্যেও লাল সালাম দেওয়া হয়ে।

মাওবাদী স্কোয়াডের নেতা দাবি করেন যে, একটি বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে আদিবাসী আন্দোলনকে রাজ্য সরকার চাপ দিচ্ছে। গ্রামের তরুণদের মিলিশিয়া সদস্য এবং সিপিআই(মাওবাদী)’র সহানুভূতিশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। একজন মাওবাদী নেতা অভিযোগ করেন যে, পুলিশ অবৈধভাবে গ্রামের তরুণদের আটক করছে। পুলিশের চর হয়ে কাজ করার জন্যে এসব যুবকদের চাপ দেয়া হচ্ছে।

মাওবাদী নেতা অভিযোগ করেন কোরুনপুরা, জি কে ভীডি মণ্ডল, মানদপল্লী, ভেলামজুবী এবং অন্যান্য ভেতরের দিকের গ্রামের আদিবাসীদের চিন্তাপল্লী, আন্নাভারাম ও জি কে ভীডি এর কারাগারে আটকে রেখেছে পুলিশ। “পুলিশ যুবকদের আটক করেছে এবং তাদের পরিবারকে জানানো হচ্ছে না,” বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, কিছু আদিবাসী নেতা এই এলাকায় খনির মাফিয়াদের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিশাখা গ্রামীণ এসপি ও মালকানগিরি’র এসপি নির্দোষ আদিবাসীদের আটক করছে।

সূত্রঃ http://timesofindia.indiatimes.com/city/visakhapatnam/nearly-1000-take-part-in-maoists-martyrs-week-red-ultras-vow-to-avenge-ramaguda-encounter/articleshow/59814095.cms


ছত্তীসগঢ়ে মাওবাদী অধ্যুষিত বস্তারে নিজেদের ক্ষমতা বাড়াচ্ছে সিআরপিএফ

crpf-696x436

মাওবাদী উপদ্রুত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত বস্তার। সাম্প্রতিক কালে বেশ কয়েক বার মাওবাদীদের হাতে পরাস্ত হতে হয়েছে সিআরপিএফকে। সেই সব হামলা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার ওই অঞ্চলে নিজেদের শক্তি আরও বাড়াচ্ছে তারা।

বস্তারে আরও দুই ব্যাটিলিয়ন জওয়ান মোতায়েন করা হবে বলে জানান সিআরপিএফের ডিরেক্টর জেনারেল আর আর ভাটনগর। তাঁর কথায়, “এক ব্যাটিলিয়ন জওয়ান বস্তারে পৌঁছেছে। আরও এক ব্যাটিলিয়নকে পাঠানো হচ্ছে।” উল্লেখ্য, একটি ব্যাটিলিয়নে এক হাজার জওয়ান থাকে।”

বস্তারের সুকমা এবং বিজাপুর জেলায় এই জওয়ানদের মোতায়েন করা হবে। সিআরপিএফ সূত্রে জানানো হয়েছে, এই দুই জেলা নিয়ে বিস্তার করা অবুঝমাড় জঙ্গলে তাদের নতুন ক্যাম্প বসানো হবে, যাতে মাওবাদীদের সঙ্গে পালটা লড়াই করা যায়। প্রসঙ্গত অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং ছত্তীসগঢ়ের সীমানায় অবস্থিত এই জঙ্গল এলাকাটি মাওবাদীদের সব থেকে শক্তিশালী ঘাঁটি বলে পরিচিত।

মাওবাদী দমনে সিআরপিএফের অস্ত্রেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সাধারণত সিআরপিএফ জওয়ানদের কাছে ইনসাস বন্দুক থাকে, কিন্তু এ বার থেকে তাদের ‘একে’ সিরিজের বন্দুক দেওয়া হবে। শীঘ্রই জওয়ানদের হাতে এক-৪৭ এবং একে-৫৬ বন্দুক পৌঁছে যাবে। ভাটনগরের কথায়, “দেশে একমাত্র দক্ষিণ বস্তারেই এখন মাওবাদীর প্রভাব সব থেকে বেশি। সেটাই কমানোর পরিকল্পনা করছি।”

এর পাশপাশি জওয়ানদের নিরাপত্তার ব্যবস্থাও ভাবাচ্ছে সিআরপিএফকে। এর জন্য আরও কিছু পদক্ষেপ করা হচ্ছে সিআরপিএফের তরফ থেকে। ভাটনগরের কথায়, “জওয়ানদের নিরাপত্তা এখন আমাদের প্রধান চিন্তার বিষয়। পুলিশের সঙ্গে এখন আমাদের সমন্বয় আগে থেকে অনেক ভালো হয়েছে।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক কালে সিআরপিএফের ওপর সব থেকে ভয়ংকর মাওবাদী হামলাগুলি ঘটেছে এই বস্তার অঞ্চলেই। এ বছরের মার্চ এবং এপ্রিলে সিআরপিএফের ওপর দু’টি পৃথক মাওবাদী হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন যথাক্রমে ১২ এবং ২৫ জন জওয়ান। ২০১০-এ এই অঞ্চলেই মাওবাদী হামলায় নিহত হয়েছিলেন ৭৫ জন জওয়ান।

সূত্রঃ http://khaboronline.com/news/national/crpf-is-increasing-their-strenght-and-firepower-in-maoist-hit-areas/