ছত্তিসগড়ে মাওবাদী হামলায় ২ পুলিশ সদস্যসহ নিহত ৩, গুরুতর জখম ৬ পুলিশ

six-suspectsmaoistupats

ndtv জানাচ্ছে, দক্ষিণ ছত্তিসগঢ়ের বস্তার অঞ্চলের সুকমা জেলায় ফের মাওবাদী হামলা হয়েছে। আজ রবিবার চিন্তাগুফার কাছে ভিজি অঞ্চলে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের যৌথ বাহিনী মাওবাদী দমনাভিযানে গেলে, আচমকাই মাওবাদীরা হামলা করে বসে ৷ ভেজ্জি থানার অন্তর্গত এলারমাদগু গ্রামের ওই এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে উভয় পক্ষের গুলির লড়াই ৷ এই সংঘর্ষেই পুলিশের দুই সদস্য নিহত হয় ৷গুরুতর জখম হয় ৬ পুলিশ।

সুকুমা জেলার এই এলাকাটি মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দুর্ধর্ষ মাওবাদী কমান্ডার হিদমা এই অঞ্চলটিতে ব্যাটেলিয়ন সহ চলাফেরা করে থাকেন।

অ্যান্টি নকশাল অপারেশনের স্পেশাল ডিজি ডিএম অবস্তি আগে সংবাদমাধ্যমকে জানায়, ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ডসের ৪ জওয়ান ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ২জন জওয়ান জখম হয়েছে ৷মারা গেছে একজন STF ও একজন DRGজওয়ান। এরপরেই এলারমাদগু এলাকা থেকে নতুন করে সংঘর্ষের খবর আসে ৷ সংঘর্ষ হয় এররাবোর গ্রামেও৷

অন্য ঘটনায়, ভেজ্জি ও এলারমাদগু এলাকার মাঝামাঝিতে মাওবাদীদের গুলিতে রাস্তা নির্মাণকারী সংস্থার ম্যানেজার নিহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এসময় মাওবাদীরা রাস্তা নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

 

Advertisements

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সিনিয়র মাওবাদী দম্পতি গ্রেফতার

DVmxdxYWAAALqoK

The hindu জানাচ্ছে, গত শুক্রবার মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে সিনিয়র মাওবাদী দম্পতি রামান্না(৬৫) ও পদ্মা’কে(৫৫)। গাড়চিরোলি ও চন্দ্রপুর পুলিশের জয়েন্ট অপারেশনে বল্লারসাহ থেকে গ্রেফতার করা হল এই ২ সিনিয়র মাওবাদীকে। পুলিশ কর্তৃক রামান্নার মাথার দাম ২৫ লক্ষ টাকা, পদ্মার মাথার দাম ৬ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, রামান্নার আসল নাম শ্রীনিবাস মাদারু। তেলেগু ভাষায় দক্ষ রামান্না একজন অভিজ্ঞ অস্ত্র নির্মাতা ও অস্ত্র-গোলাবারুদ প্রশিক্ষক। তিনি সিপিআই(মাওবাদী) দণ্ডকারণ্যে স্পেশাল জোনাল কমিটি’র সদস্য ও ছত্তিসগড়ে পার্টির প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান এবং ঐ স্তর থেকে গ্রেফতার হওয়া প্রথম মাওবাদী নেতা।  ১৯৭৬-৭৭ সাল থেকে তিনি পার্টির সাথে যুক্ত। ১৯৯৫ সালে পার্টি তাকে প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব দেয়।

তবে মাও দম্পতির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আরও তদন্তও চালাচ্ছে পুলিশ।


A – Army, B – Blast, C – Communist: শিশুদের জন্যে মাওবাদীদের স্কুল পাঠ্যসূচী

c7aa70f8993262b6ca15252a474a4477c45b5a5f-tc-img-preview

নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় মাওবাদী ক্যাম্প থেকে পাওয়া মাওবাদী স্কুল পাঠ্যক্রমগুলোর একটি নোট

সম্প্রতি ছত্তিসগড়ের বস্তারে মাওবাদী ক্যাম্পে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় মাওবাদীদের পরিচালিত স্কুল পাঠ্যক্রমগুলোর নোট ও বই পুনরুদ্ধারের পরে এসব স্কুলগুলো সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য জানা যাচ্ছে।

মাওবাদীরা এসব স্কুলগুলোতে তাদের মতাদর্শে শিশুদের গড়ে তোলার জন্যে নিজস্ব শিক্ষা পাঠ্যসূচী প্রণয়ন করেছে। ঐ সমস্ত অঞ্চল সমুহে মাওবাদী গণযুদ্ধের বাস্তবতা অনুযায়ি শিশুদের জন্যে প্রণয়ন করা হয়েছে বর্ণমালা। যেমন- “A for Army, Aim / B for Bomb, Blast / C for Communist…” উল্লেখযোগ্য।

মাওবাদী অধ্যুষিত জঙ্গলে সিপিআই (মাওবাদী)’র ক্যাম্পে চালিত এই সব স্কুলে মাওবাদীদের শিশু স্কোয়াড ‘বাল সাঘম’ এর সদস্য এবং অন্যান্য আদিবাসী শিশুদের (যাদের মা বাবা নিরাপত্তারক্ষীদের সাথে সংঘর্ষে নিহত বা হত্যার শিকার হয়েছে) জন্যেই মাওবাদীরা এই আনুষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে।

বস্তারের একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা asianage.com সংবাদপত্রকে বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি যে, মাওবাদী স্কুলে তাদের সহিংসতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য মাওবাদীদের চালচলন কিভাবে মস্তিষ্ক থেকে মস্তিষ্কে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা আমরা জানতে পেরেছি”। মাওবাদী স্কুলের একজন প্রাক্তন শিক্ষক এবং সিপিআই (মাওবাদী) এর কিস্তারাম এলাকার কমিটির সদস্য ২৫ বছর বয়সী মচুকি হিডমা সুকমা জেলার একটি জঙ্গলে সম্প্রতি গ্রেফতার হন।

বস্তারের এক পুলিশ কর্মকর্তা মচুকি’র উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, কিভাবে নকশাল স্কুলগুলিতে অর্ধ-শিক্ষিত নকশালী ও রাষ্ট্রের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত মাওবাদী সদস্যদের বিধবা স্ত্রী বা স্বামীদের নকশাল স্কুলে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব স্কুলগুলোতে প্রত্যেক শিক্ষককে প্রতি মাসে ১৫০০ রুপী বেতন দেয় স্থানীয় জনতা’র সরকার। বিদ্রোহী এই জেলাগুলোর গ্রামকে মাওবাদীদের সমান্তরাল সরকার, বিদ্রোহীদের ভাষ্যে ‘মুক্ত অঞ্চল’ বলে অভিহিত করা হয়।

মুচকি জানান, ১৭ বছর আগে মাওবাদীদের একটি দল তাকে তার মা-বাবার কাছ থেকে দূরে নিয়ে যায় এবং ৮ বছর বয়সে তিনি বাল সেনঘামে চলে যান। গ্রেফতার হওয়ার আগে তিনি মাওবাদীদের কিষানতাম এলাকার কমিটির সদস্য পদে উন্নীত হন।

মুচকি’র মতে, ৬-১০ বছর বয়সী প্রায় ২৫জন আদিবাসী শিশু তার স্কুলে অধ্যয়নরত ছিল, যেখানে আরও ২ জন নকশাল শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ডঃ বর্ণিকা শর্মা,  যিনি সংঘাতময় বস্তার অঞ্চল নিয়ে পোস্ট ডক্টোরাল গবেষণায় জানান – মাওবাদীদের দ্বারা প্রভাবিত কয়েকটি সরকারী স্কুল পরিদর্শনে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি স্বাধীনতা ও প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে “লাল সালাম” এর স্লোগান দিয়ে ছাত্ররা চিৎকার দিয়েছিল।

সম্প্রতি ,মাওবাদীদের দ্বারা মুক্তিপ্রাপ্ত ২২ মিনিটের একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ বস্তার জেলার আবুজমাদ এলাকার নারায়নপুরের একটি স্কুলে ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা ছাত্রদের নকশাল বিপ্লবী হতে প্রভাবিত করেছে সশস্ত্র মাওবাদীদের একটি স্কোয়াড। ঐ সময় মাওবাদীরা ছাত্রদের বলে “আপনারা যদি নকশাল হন, তাহলে আপনারা পৃথিবীর শাসন করবেন এবং যদি আপনি ডাক্তার বা প্রকৌশলী হন, তবে একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে আপনাদের জীবন শেষ হয়ে যাবে । “শক্তি, স্টেথোস্কোপ (ডাক্তারের) থেকে নয়, বন্দুকের ব্যারেল থেকে বের হয়” বলেও ছাত্রদের জানায় নকশালরা।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, এসব মাওবাদী স্কুলের আদিবাসী শিশুদের মধ্য থেকে বেছে নেয়া একটি নির্বাচিত দলকে বুনিয়াদী কমিউনিস্ট প্রশিক্ষণ স্কুলে (বি.সি.সি.এস.- একটি বিশেষায়িত মাওবাদী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) নকশাল মতাদর্শের উপর ছয় মাসের কোর্স/প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং বিশেষ অস্ত্রশিক্ষা প্রশিক্ষণে অধ্যয়ন করতে দেয় মাওবাদীরা।

স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় মাওবাদীরা শিক্ষার্থীদের স্কুলে গিয়ে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন এবং ছাত্রদের দৃঢ় নকশালে পরিণত করেন। মাওবাদীরা “সি ৪ আই” (কমান্ড, কন্ট্রোল, যোগাযোগ, সমন্বয়, বুদ্ধিমত্তা) নামে মোবাইল স্কুলও পরিচালনা করে, যেখানে সীমিত বালসংঘের সদস্যরা, স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নির্বাচিত, গেরিলা যুদ্ধে প্রশিক্ষিত হয়।

এই ধরনের স্কুলগুলি বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে, মাওবাদীদের নগর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য, সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী বাচ্চাদের সমালোচনা করে মাওবাদী আদর্শে প্রভাবিত করা, পাশাপাশি যোদ্ধা হিসেবেও কাজ করা। নকশালরা সরকারি বিদ্যালয়ের ভবনগুলিকে ধ্বংস করে দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর মাওবাদী দমনের কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করার ফলে বস্তারের অভ্যন্তরে মাওবাদীদের স্কুলগুলোর বিকাশের চিত্র ফুটে উঠেছে।

কিছুদিন আগে মাওবাদীদের বস্তার পশ্চিমাঞ্চলীয় কমিটির তৎকালীন সচিব ‘মাধভি’র একাধিকবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বস্তার জেলার দূরবর্তী এলাকায় নকশালরা স্কুল চালাচ্ছে।

একটি সরকারি হিসাবের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, গত ১৫ বছরে বস্তার বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চল, দান্তেওয়াড়া, সুকমা, বিজয়পুর, কাঁকর, নারায়ণপুর, বাষ্টার ও কান্দগাঁওসহ সাত জেলায় মাওবাদীরা ১০৯টি সরকারি স্কুল ধ্বংস করেছে।

নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা মাওবাদীদের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে এবং জঙ্গলের বহু মাওবাদী-পরিচালিত বিদ্যালয় ধ্বংস করেছে। স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (এসআইবি) সূত্র বলছে যে, বালসংঘের ছাত্ররা স্থানীয় ভাষা এবং গণযুদ্ধের ইংরেজী বর্ণমালার শেখার মৌলিক শিক্ষা দিয়েছে – যা মূলত মাওবাদী মতাদর্শের সাথে তাদের যুক্ত করা।

 


মাওবাদী রাজবন্দীদের অনশনের পরেও টনক নড়ছে না আলিপুর সেন্ট্রাল জেল কর্তৃপক্ষের

27938897_397703847345829_1705882081_n

মিন্টু বিশ্বাস, ৮ ফেব্রুয়ারী, কলকাতা:  সুদীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী শতাব্দী প্রাচীন আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে মাওবাদী ৩ রাজবন্দীর ১৪ দিন অনশনের পরেও উদাসীন কারা কর্তৃপক্ষ। বন্দীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এই অনশনের কোন গুরুত্ব দিতে নারাজ জেল সুপার ।

গত ২৬শে জানুয়ারি দেশের প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন থেকে মাওবাদী রাজনৈতিক বন্দী মনসারাম হেমব্রম (বিকাশ ), বিমল মল্লিক ও অনুপ রায় বন্দী অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে অভুক্ত অনশন শুরু করলে জেল কর্তৃপক্ষ সমস্ত আইন কে থোড়াই কেয়ার করে নুন্যতম মেডিকেল চেকআপ পর্যন্ত করেনি। অনশনরত অবস্থায় বিমল গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তাদের দাবী দাওয়ার দিকে কোন কর্নপাত করেনি জেল সুপার। এমতাবস্থায় রাজবন্দীদের পরিবার এবং শুভাকাঙ্খীরা মানবধিকার রক্ষা কমিটির সাথে যোগাযোগ করলে গতকাল কয়েকটি মানবধিকার রক্ষা কমিটি জেলের সামনে জমায়েত হন। অবিলম্বে অনশনরত বন্দীদের সাথে কথা বলে তাদের দাবী দাওয়ার সুমীমাংসা করার ডেপুটেশন জমা দিতে চাইলে গেটে ঢোকার আগেই জেল কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে পড়তে হয় তাদের। জেল সুপারের সাথে কথা বলতে চাইলে ঘন্টার পর ঘন্টা তাদের বসিয়ে রাখা হয় । এরপর উত্তেজিত মানবধিকার কর্মীরা পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করলে সুপার তাদের সাথে কথা বলতে রাজি হয় । ৫ সদস্যের টিম, সুপারের সাথে আলোচনার পর জানান ‘কর্তৃপক্ষ ব্যাপারটা নিয়ে ভেবে দেখবে এবং তাদের সমস্ত দাবী মীমাংসা করার চেষ্টা করবে’। এদিন জেলগেটের বাইরে প্রিজন ভ্যানে বন্দীদের সাথে কথা বললে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বন্দী খুবই দুঃখের সাথে একগাদা অভিযোগ তোলেন। খাবারের নিম্নমান, জেলা পুলিশের বিনা কারণে অমানবিক নির্যাতন, মেরে নেশাদ্রব্য রাখার কথা স্বীকার করানো, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়া, ইউটিলিটি আর কনভিট বৈষম্যকে জেল পুলিশের সমর্থন করা সবকিছুই মিলিয়ে বন্দী আইনের তোয়াক্কা না করা আলিপুর জেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উঠছে মানবাধিকার রক্ষায় ব্যর্থতার প্রশ্ন চিহ্ন ।

সূত্রঃ https://peoplescreativemedia.blogspot.com/2018/02/blog-post.html?m=1


আদিবাসী নিপীড়ন ও ভূয়া এনকাউন্টারে মাওবাদী হত্যার প্রতিবাদে মাওবাদীদের ডাকা বনধ পালিত

1219x915x00000-maoist-odisha-bandh.jpg.pagespeed.ic.r4ZH4H1Eis

আদিবাসী জনগণের উপর দমন নিপীড়ন ও ‘ভূয়া এনকাউন্টার’ এ মাওবাদী হত্যার প্রতিবাদে আজ  ৫ই ফেব্রুয়ারি, দণ্ডকারণ্য-তেলেঙ্গানার কয়েকটি জেলায় ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)’র ডাকা বনধ(সাধারণ ধর্মঘট) সফল ভাবে পালিত হয়েছে। বনধ সফল করতে মাওবাদীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে একশন চালিয়েছে।

অন্য একটি একশনে মাওবাদীরা বিজয়পুর জেলার কংগুপল্লী ও ভট্টটিগুডা সড়কে একটি নির্মাণ কোম্পানির ১০টি গাড়ি ধ্বংস করে দেয়। এসময় গেরিলারা ঐ কোম্পানির কাজ বন্ধ করে দেয় এবং তারপর তাদের গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়।

আরেকটি রিপোর্টে, মাওবাদীরা গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারি তাদের হাতে আটক পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শককে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তার মৃতদেহ বিজয়পুর জেলার কাখালারাম গ্রামের কাছে পাওয়া গেছে।

বীজাপুর জেলার টিপ্পাপুরম গ্রামের কাছে বনভূমিতে মাওবাদী PLGA এর ইউনিট প্রশাসনের দমনপীড়নমূলক শক্তির ইউনিটগুলির বিরুদ্ধে বিভিন্ন হামলা চালায়। এতে একজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয় বলে ভারতীয় প্রেস রিপোর্ট করেছে।

দান্তেওয়াড়া জেলায় পুলিশ কর্তৃক মাওবাদীদের দায়ী করা হয়েছে যে, আক্রমণের শিকার হয়ে একটি সড়ক নির্মাণ কোম্পানির একজন হিসাবরক্ষক মারা গেছে।

গাদচিরোলি জেলার কুমাদপাড়ার বনের এলাকাতে, PLGA এর ইউনিট এবং মহারাষ্ট্র পুলিশের সি -60 কমান্ডের বাহিনীর মধ্যে এক সংঘর্ষের পরে একটি স্মাইলি 303 রাইফেল, দুটি ক্যানোনের একটি শটগান এবং মাওবাদী প্রচারের উপাদান উদ্ধার করার দাবি করা হয়েছে ।

অন্ধ্রপ্রদেশের সীমান্ত এলাকা (এপি) -লালংনাতে মাওবাদীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যকলাপ রিপোর্ট করা হয়েছে। দমনমূলক বাহিনীর ট্র্যাকিং কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য মাওবাদীদের  PLGA এর ইউনিট কর্তৃক গাছপালা কেটে বিভিন্ন রাস্তাঘাট ব্যারিকেড দিয়ে রাখে মাওবাদীরা।

সূত্রঃ ইন্টারনেট


কলকাতাঃ উদাসীন প্রশাসন, লাগাতার অনশনে অসুস্থ মাওবাদী রাজনৈতিক বন্দী

27655448_795544457320169_6395080042034072865_n

আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে গত ১১ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন মাওবাদী তিন  রাজনৈতিক বন্দী মানসারাম হেমব্রম, বিমল মল্লিক ও অনুপ রায়। অভিযোগ লাগাতার অনশন চালিয়ে গেলেও প্রশাসন এঁদের স্বাস্থ্য বিষয়ে কোন খেয়াল রাখেনি। ইতিমধ্যেই বিমল মল্লিক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বারবার দাবি করা সত্ত্বেও রাজনৈতিক বন্দীদের স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশাসন উদাসীনতা দেখিয়ে চলেছে। রাজনৈতিক বন্দীরা অনশন শুরু করলে তাদের কোন মেডিকেল চেক আপের ব্যবস্থা রাখা হয় না, সে সংক্রান্ত বিষয়ে কাউকে জানানো হয় না। রাজনৈতিক বন্দীদের প্রতি প্রশাসনের চুড়ান্ত অবহেলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আগামী ৭ তারিখ এক প্রতিবাদ সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এপিডিআর, আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের সামনে। এ রাজ্যে এখন সরকার বিরোধী কোন খবরই মূলধারার সংবাদ মাধ্যমে জায়গা পায় না, তাই কোন জেলে একটানা অনশন করতে করতে কোন রাজনৈতিক বন্দী অসুস্থ হয়ে পড়লেও, তা সংবাদ হিসেবে গণ্য হয় না।

সূত্রঃ satdin.in


ঝাড়খণ্ডে মাওবাদীদের এম্বুশ আক্রমণে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর জখম

13maoist600

ভারতের গণমাধ্যম সূত্র জানাচ্ছে, গত ৩১শে জানুয়ারি, ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে মোহনপুর গ্রামের বাইরে পারসনাথ পাহাড়ে সিআরপিএফের বাহিনীর বিরুদ্ধে মাওবাদীরা এক এম্বুশ আক্রমণ চালায়।

যুদ্ধের শেষ ১৫ মিনিট সময় পুলিশ বাহিনী চুপ করে বসে থাকে, এই যুদ্ধে পুলিশের দমনমূলক বাহিনীর তিনজন সদস্য গুরুতর জখম হয় এবং বিপ্লবী যোদ্ধারা নিজেদের কোনরূপ ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে সরে যায়।

অনুমান করা হয় যে, মাধববান জঙ্গলে সিপিআই(মাওবাদী) স্পেশাল এরিয়া কমিটি সদস্য(SACM) কমরেড সুনিল মাঝির নেতৃত্বে ২৫ জনের মাওবাদী গেরিলা দল এই এম্বুশ আক্রমণটি করে।