মাওবাদী হামলায় নিহত ২ বিএসএফ জওয়ান

Maoist_Annihilation line

 

ছত্তিশগড়ে IED বিস্ফোরণে নিহত দুই BSF জওয়ান। গত ৯ই জুলাই বিকেল পাঁচটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিশগড়ের কানকের জেলার ছোট্টেবেদিয়া থানার দক্ষিণ মারবেদা ক্যাম্পে। মৃতদের নাম সন্তোষ লক্ষ্মণ ও বিজয়ানন্দ। কর্নাটকের বাসিন্দা এই দুই জওয়ান প্যারামিলিটারি ফোর্সের ১২১ নম্বর ব্য়াটেলিয়নের সদস্য ছিলেন।

ছত্তিশগড় পুলিশের DIG(অ্যান্টি নকশাল অপারেশন) পি সুন্দররাজ বলেন, ওই দুই জওয়ান ঘটনাস্থানে টহলদারি চালানোর সময় বিস্ফোরণ ঘটে।

দু’মাস আগেই দান্তেওয়াড়া এলাকায় মাওবাদীদের IED বিস্ফোরণে জখম হন CRPF-র ২৩১ নম্বর ব্যাটেলিয়নের দু’জন জওয়ান। ২০ মে ফের দান্তেওয়াড়ার চোলনার গ্রামে IED বিস্ফোরণে নিহত হয় ছ’জন জওয়ান।

সূত্রঃ http://bangla.eenaduindia.com/News/National/2018/07/09224613/2-BSF-jawans-killed-in-Chhattisgarh-IED-blast.vpf

 

Advertisements

প্রয়াত নকশাল আন্দোলনের সৈনিক নিমাই ঘোঘ

36596365_1750865395008466_7087921761936736256_n (1)

পশ্চিমবঙ্গের অসংখ্য যুবক যুবতীর মত সত্তর দশককে মুক্তির দশকে বদলে দেবার স্বপ্নে বিভোর হয়েছিলেন তিনিও। সেই স্বপ্নের তাড়না যুবক বয়সে তাঁকে ঘর ছাড়া করেছিল, উদ্বুদ্ধ করেছিল সরাসরি নকশাল আন্দোলনে জড়িয়ে পড়তে। উদ্দাম-উত্তাল সেই নকশাল আন্দোলনের একজন সৈনিক বলে নিজেকে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতেন, বিশ্বাস করতেন অনেক ভুল ভ্রান্তি সত্ত্বেও নকশাল আন্দোলন এ দেশের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী ও কৃযিজীবী মানুষের প্রতিবাদের এক উজ্জ্বল ঐতিহ্য-তিনি নিমাই ঘোষ, প্রয়াত হলেন বুধবার সকালে। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। কিছুদিন আগে প্রেসমেকার বসাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। সেখান থেকেই তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। নকশাল আন্দোলন করতে গিয়ে কারারুদ্ধ থেকেছেন দীর্ঘদিন। রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের সাক্ষ্য বহন করেছেন শরীর জুড়ে। তবু আদর্শ ও নৈতিকতায় আজীবন অবিচল ছিলেন নিমাই ঘোষ। বামপন্থী সাহিত্যিক হিসেবেও পরিচিতি ছিল নিমাই ঘোষের, তার উপন্যাস ও কবিতা বিশেষ সমাদর পেয়েছিল। একসময়কার সাড়া জাগানো বামপন্থী পত্রিকা দেশব্রতীর প্রকাশক ছিলেন নিমাই ঘোষ। তাঁর মৃত্যু বামশক্তিকে দুর্বল করবে বলে তাঁর অনুরাগিদের আশঙ্কা।

ক‌মিউ‌নিষ্ট পা‌র্টির ইতিহা‌সে সবসম‌য়েই এমন কিছু মানুষ থে‌কে‌ছেন যারা পা‌র্টির প্রকাশনা এবং পত্রপ‌ত্রিকার কা‌জে গুরুত্বপূর্ণ ভূ‌মিকা পালন করেছেন। অবিভক্ত ক‌মিউ‌নিষ্ট পা‌র্টি‌তে যেমন পা‌র্টির প্রকাশনা সংস্থা ‘ন্যাশনাল বুক এজেন্সী’র হাল ধ‌রে‌ছি‌লেন সু‌রেন দত্ত, কাটু (সুনীল) বোসরা। অবিভক্ত ক‌মিউ‌নিষ্ট পা‌র্টির প‌ত্রিকার কাজক‌র্মে স‌ক্রিয় ছি‌লেন নিরঞ্জন বসু। ১৯৬৭-‌তে নকশালবা‌ড়ির পর যখন বাংলায় ‘‌দেশব্রতী’ এবং ইং‌রি‌জি‌তে ‘‌লিবা‌রেশন’ প‌ত্রিকা শুরু হ‌লো তখন নিরঞ্জন বসু থাক‌লেন নকশালপন্থী‌দের স‌ঙ্গে, পরবর্তী‌তে নকশালপন্থী ক‌মিউ‌নিষ্ট পা‌র্টি সি‌পিআই (এম-এল) তৈরী হ‌লে নিরঞ্জন বসু যোগ দি‌লেন নতুন পা‌র্টি‌তেই, চালা‌তে থাক‌লেন পা‌র্টির পত্রপ‌ত্রিকা তৈরী ও প্রকাশনার কাজ, বাংলা থে‌কেই ছাপা হ‌লো মাও‌য়ের উদ্ধৃ‌তির সংকলন, ‘রেড বুক’, যার প্রথম ছাপায় কাগ‌জের খরচ কমা‌নোর জন্য হরফ ছি‌লো খুবই ছোট প‌য়ে‌ন্টের, চারু মজুমদার দে‌খে আপ‌ত্তি ক‌রেন, অতো ছোট প‌য়ে‌ন্টে গ্রা‌মের কৃষক‌দের পড়‌তে অসু‌বি‌ধে হ‌বে ব‌লে জানান, হর‌ফের প‌য়েন্ট বাড়া‌নো হয়। শেষ সত্ত‌রে, যখন আন্দোল‌নে ভাঁটা আর পা‌র্টি‌তে ভাঙাভা‌ঙি, নিরঞ্জন বসু তখন ক‌লেজ স্ট্রিট বইপাড়ায় বই‌য়ের দোকা‌নে কাজ নেন। পরবর্তী‌তে প‌শ্চিমব‌ঙ্গে সি‌পিআই (এম-এল) জনযুদ্ধ পা‌র্টি কাজ শুরু কর‌লে নিরঞ্জন বসু জনযু‌দ্ধের প‌ত্রিকা ‘‌বিপ্লবী যুগ’-এর কা‌জে স‌ক্রিয় হন, জনযুদ্ধ যখন এম‌সি‌সির সা‌থে সংযুক্ত হ‌য়ে তৈরী ক‌রে সি‌পিআই (মাওবাদী) পা‌র্টি তখন সেই পা‌র্টির সদস্যপদ পান নিরঞ্জন বসু, একথা জে‌নে‌ছি ২০০৯ সা‌লে নিরঞ্জন বসুর মৃত্যুর পর ‘এবং জলার্ক’ প‌ত্রিকায় তাঁ‌কে নি‌য়ে প্রকা‌শিত ক্রোড়পত্র থে‌কে। অর্থাৎ, অবিভক্ত ক‌মিউ‌নিষ্ট পা‌র্টি থে‌কে ঐক্যবদ্ধ মাওবাদী ক‌মিউ‌নিষ্ট পা‌র্টি পর্যন্ত নিরঞ্জন বসুর অভিযাত্রা, পা‌র্টির প্রকাশনার কাজক‌ম্মে সংযুক্ত থে‌কেই। নিরঞ্জন বসুর ম‌তোই অবিভক্ত সি‌পিআই (এম-এল) পা‌র্টির মুখপ‌ত্রের প্রকাশনার কা‌জে যুক্ত ছি‌লেন নিমাই ঘোষ, দীর্ঘ‌দিন জেল খে‌টে বে‌রি‌য়ে পেশার তা‌গি‌দে নানা কাজকর্ম ক‌রে‌ছেন, পেশাদারভা‌বে যাত্রায় অভিনয়ও ক‌রে‌ছেন, কিন্তু কখ‌নোই শাস‌কের সা‌থে কম‌প্রোমাইজ ক‌রেন‌নি (য‌দিও বছরক‌য়েক আগে এক নকশা‌লি ইতিহাস‌বেত্তা তার বই‌য়ে লি‌খে‌ছি‌লেন যে জে‌লবন্দী থাকার সময় জেল কর্তৃপ‌ক্ষের সা‌থে নিমাই ঘো‌ষের “ভা‌লো সম্পর্ক” ছি‌লো, নিমাইদা এর প্র‌তিবাদ ক‌রে‌ছি‌লেন, নিমাইদার বন্ধুরাও প্র‌তিবাদ ক‌রে‌ছি‌লেন, সেই ইতিহাস‌বেত্তা এই প্র‌তিবা‌দের কোন জবাব দি‌য়ে‌ছি‌লেন ব‌লে জানা নেই)। নিমাই ঘোষ, ষাট-সত্ত‌রে ক‌মিউ‌নিষ্ট পা‌র্টির প‌ত্রিকার কর্মী, পরবর্তী‌তে লিটল ম্যাগা‌জি‌নের লেখক, আর অনেক পু‌স্তিকার প্রকাশকও, প্রয়াত হ‌লেন আজ, পি‌জি হাসপাতা‌লে।

সূত্রঃ satdin.in,  facebook

 


ঝাড়খণ্ডে মাওবাদীদের বিস্ফোরণে নিহত ৬ CRPF জওয়ান

jharkhand-maoists-17-10-17

মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ডের গাড়ওয়াতে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে নিহত হলেন জাগুয়ার বাহিনীর ৬ জওয়ান। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। সন্দেহ করা হচ্ছে মাওবাদীদের ঘটানো বিস্ফোরণের জেরেই নিহত হয়েছেন ৬ জওয়ান। জাতীয় মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী তল্লাশির সময় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ ঘটায় মাওবাদীরা। মাও বিরোধী অভিযানে CRPF এর বিশেষ প্রশিক্ষিত বাহিনী হল জাগুয়ার।

সূত্রঃ http://satdin.in


মাওবাদী সন্দেহে দিল্লি থেকে গ্রেফতার অাইটি পেশাদার

abhay-devdas-nayak

মাও যোগের সন্দেহে বেঙ্গালুরুর অাইটি পেশাদার অভয় দেবদাস নায়েক(৩৪)’কে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানাল ছত্তিশগড় পুলিস। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট জানাচ্ছে পুলিস দাবি করেছে মাওবাদীদের অাইটি সেলের সদস্য ছিলেন অভয়। মুখপাত্র হিসাবেও কাজ করতেন। মাওবাদী সংগঠনের কাজে বিদেশে যাতায়াত ছিল অভয় দেশমুখের। রিপোর্ট অারো জানাচ্ছে গত ৩১শে মে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিস। বাস্তার পুলিস নিজেদের হেফাজতে নেয়। পুলিসের দাবি মাওবাদীদের অাদর্শ প্রচার করতেন ‍‍ওই যুবক। অভয়ের গ্রেফতারকে নিজেদের বড় সাফল্য বলে দাবি করেছে বাস্তার পুলিস। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে ১জুন যাকে গ্রেফতার করা হল অথচ গ্রেফতারির কথা মিডিয়াকে জানান  হল ১২জুন ? দ্বিতীয়ত মাওবাদী অাদর্শ প্রচার করা বা মতে বিশ্বাস করা কোন অপরাধ নয় বলে অাগেই জানিয়েছে অাদালত, তাহলে সেই অভিযোগে কি কাউকে পুলিস গ্রেফতার করতে পারে? ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী ছত্তিশগড়ের ধরবা এলাকায় ২০১৭ সালে যে অাইইডি বিস্ফোরণ হয়েছিল  তার তদন্তে গিয়ে পুলিস একটি লিফলেট পায় যাতে অভয়ের নাম ছিল। অভয়কে uapaতে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভয় কি মাওবাদীদের হয়ে প্রচার করতেন না অাইইডি বিস্ফোরণে যুক্ত ছিলেন ? সাংবাদিকদের করা এই প্রশ্নের উত্তরে মাও বিরোধী অভিযানে নিযুক্ত বিশেষ ডিজি ডিএম অবস্তি জানিয়েছেন যখন কেউ মাওবাদীদের সঙ্গে যুক্ত হন তখন সে স্বাভাবিক ভাবেই সব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। অভয় অবশ্য দাবি করেছেন তিনি মাওবাদীদের সঙ্গে যুক্ত নন, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতা করেন।

ছবি – নয়াদুনিয়ার সৌজন্যে

সূত্রঃ satdin. in ও thequint.com


বিয়ের অনুষ্ঠানে অাসা ১৪জনকে মাওবাদী বলে গ্রেফতার ছত্তিশগড় পুলিসের?

chattisarrest-300x158

ভুয়ো সংঘর্ষ ও অাত্মসমপর্ণের পর এবার ভুয়ো মাওবাদী গ্রেফতারে নেমেছে ছত্তিশগড় পুলিস। scroll.in এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার পুলিস দাবি করেছে তারা বিভিন্ন নাশকতায় যুক্ত ১৫জন মাওবাদীকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে গ্রামবাসীদের দাবি বিয়ের অনুষ্ঠানে অাসা ১৪জনকে গ্রেফতার করে রেখেছে পুলিস। গ্রামবাসীদের দাবি, গত ১৮মে ২৬জনকে গ্রেফতার করে পুলিস। সোমবার ১২জনকে ছেড়ে দিলে‍ও বিয়েতে অাসা ১৪জনকে অাটকে রেখেছে পুলিস। মঙ্গলবার বিজাপুরে প্রশাসনিক দফতরে ধৃতদের মুক্তির দাবি জানায় গ্রামবাসীরা। বিস্তারিত রিপোর্টি পড়ুন scroll.in।

সূত্রঃ satdin.in


ছত্তীসগঢ়ে মাওবাদী বিস্ফোরণে নিহত ৭ জওয়ান

image-1827-1526822435

ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়ায়  মাওবাদীদের পাতা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে নিহত হলেন ৪ পুলিস সহ ৭ নিরাপত্তাকর্মী। জখম অারো কয়েকজন। ঘটনাটি ঘটেছে রাজ্যের দান্তেওয়াড়া জেলার চোলনার গ্রামে।

পুলিশ সূত্রে খবর, এ দিন সকাল ১১টা নাগাদ রাজ্য পুলিশের একটি সশস্ত্র বাহিনী চোলনার গ্রামের রাস্তা গিয়ে একটি গাড়িতে করে রুটিন তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। সেই সময় মাওবাদীরা ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণে গাড়িটি উড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ছয় জওয়ানের।

বিস্ফোরণের পরই মাওবাদীরা জওয়ানদের  কাছ থেকে পাঁচটি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র লুঠ করে নিয়ে পালায়।

ডিইজি নকশাল অপারেশন সুন্দররাজ পি জানিয়েছেন, চোলনারের কাছে একটি জায়গায় মাইন পুঁতে রেখেছিল মাওবাদীরা। গাড়িটি ওই স্থানের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিস্ফোরণের শিকার হয়।

কিছুদিন আগে মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি ও ছত্তিশগড‌ের বিজাপুরে মাওবাদী সহ ৫০জনকে ভুয়ো স‌ংংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনী হত্যা করেছিল বলে অভিযোগ করেছিল মাওবাদীরা । মাওবাদীদের তরফে হঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল ওই ঘটনার তারা বদলা নেবে।  মনে   করা হচ্ছে এদিন  তারই পাল্টা জবাব দিল তারা।

Ddn-ttaUwAALggw


ভারতের মাওবাদীদের নতুন অস্ত্রঃ র‍্যাম্বো অ্যারো, রকেট বোম্ব ও পশু বর্জ্য

maxresdefault

র‍্যাম্বো অ্যারো

র‍্যাম্বো চলচ্চিত্রে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আঘাত হানতে নায়ক সিলভেস্টার স্ট্যালোন এর ব্যবহার করা বিস্ফোরক তীর/অ্যারো এর বাস্তব রূপ দিয়েছে ভারতের মাওবাদীরা। এছাড়াও মাওবাদীরা নতুন অস্ত্র উদ্ভাবন করেছে- রকেট বোম্ব ও বিস্ফোরকে পশু বর্জ্যে ব্যবহার এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার জন্য মাওবাদীরা মারাত্মক মারণাস্ত্র এবং গোলাবারুদ তৈরি করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘র‍্যাম্বো অ্যারো’ এবং ‘রকেট বোম্ব’ যেগুলো নতুন আইইডি অস্ত্রসম্ভারের অংশ। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এ সব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

আইইডি হুমকি নিয়ে যৌথ নিরাপত্তা কমান্ডের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাওবাদীরা নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দা কুকুরের নজর এড়াতে বোমা তৈরিতে প্রাণীর বর্জ্য ব্যবহার করছে, যাতে সেগুলো শুঁকে খুঁজে বের করতে না পারে।

পিটিআই যে রিপোর্টটি হাতে পেয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, “২০১৭ সালের শুরুর দিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষিত কুকুরগুলো লুকানো ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) খোঁজার সময় সেগুলোর বিস্ফোরণে মারা গেছে অথবা জখম হয়েছে”।

ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের পেতে রাখা বোমায় সিআরপিএফের দুটো কুকুর মারা যায়। এরপরই ‘অস্বাভাবিক’ এই ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রাণীর বর্জ্য দিয়ে আইইডিগুলো লুকিয়ে রাখার কারণে সেগুলো বিস্ফোরিত হয়ে কুকুরগুলো মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইইডি খুঁজে বের করা এবং সেনাদের জীবন রক্ষার জন্য এই কুকুরগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে।

টহল কুকুরের জন্য নতুন এই হুমকির ব্যাপারে নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে।

এলডাব্লিউই থিয়েটারে আইইডি একটা বড় ঘাতক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিগত অনেক বছর ধরেই এই বোমাগুলো বিস্ফোরণে বহু রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্য নিহত হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, সিপিআই (মাওবাদী) ক্যাডাররা এখন অস্ত্র তৈরীতে নতুন একটা বিস্ফোরক পদার্থ ব্যবহার করছে যেটাকে বলা হচ্ছে ‘র‍্যাম্বো অ্যারো’।

তীরের মাথায় নিম্নমানের গান পাউডার বা ফায়ার ক্র্যাকার পাউডার লাগিয়ে দেয়া হয়, যেটা টার্গেটে আঘাত করার পর বিস্ফোরিত হয়।

নতুন আইইডির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, র‍্যাম্বো অ্যারোতে খুব বেশি ক্ষতি হয় না কিন্তু মারাত্মক তাপ ও ধোঁয়া সৃষ্টি করে নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করে দেয়। এতে করে সেনারা মারাত্মক আহত হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে মাওবাদীরা তাদের অস্ত্রশস্ত্র লুটে নিতে পারে”।

রিপোর্টে বলা হয়, মাওবাদীরা উচ্চ মানের বিস্ফোরক আইইডির পরিবর্তে এই কৌশলের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। কারণ উচ্চ মানের বিস্ফোরক ব্যবহার করলে নিরাপত্তা বাহিনীর অস্ত্রগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং সেগুলো ব্যবহার করা যায় না।

রিপোর্টে বলা হয়, গত বছর ২৪ এপ্রিল এ ধরনের কৌশলের ব্যবহার দেখা গেছে। ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় মাওবাদীরা সে সময় ভয়াবহ হামলা চালায়। ওই হামলায় ২৫ জন সিআরপিএফ সদস্য নিহত হয় এবং তাদের অস্ত্রশস্ত্রগুলো লুট করা হয়।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ‘র‍্যাম্বো অ্যারো’ ছাড়াও মাওবাদীরা ইম্প্রোভাইজড মর্টার এবং রকেট উদ্ভাবন করেছে।

এতে বলা হয়, রকেট যখন আঘাত করে তখন একটা বিস্ফোরণ হয় এবং প্রচণ্ড শব্দ হয়। এই রকেট থেকে বোঝা যায় মাওবাদীদের অস্ত্রগুলো কতটা ভয়ঙ্কর।

এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পগুলোতে হামলার জন্য আরেক ধরনের রকেট ব্যবহার করছে মাওবাদীরা।

এলডাব্লিউই গ্রিড এলাকায় নিয়োজিত সেন্ট্রাল আধাসামরিক বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে যে রিপোর্ট বিনিময় করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার জন্য মাওবাদীরা সম্প্রতি মারাত্মক মারণাস্ত্র ইম্প্রোভাইজড রকেট ব্যবহার করছে। এই অস্ত্রগুলো মাওবাদীদের সক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

২০১৫ সালের মে থেকে নিয়ে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুর বিজাপুর এবং কোন্দাগাঁও জেলায় যে সব হামলা হয়েছে, সেখানে এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

বিস্ফোরকগুলো যখন বিস্ফোরিত হয়, তখন বিস্ফোরিত লোহার রিংগুলোর কারণে মারাত্মক হতাহতের ঘটনা ঘটে। আর এতে যে সালফিউরিক অ্যাসিড ও সুগার ক্লোরেড ব্যবহার করা হয়, সে কারণে তাবুসহ ক্যাম্পের অন্যান্য জিনিসপত্র পুড়ে যায়।

রিপোর্টের উপসংহারে বলা হয়েছে যে, “নতুন ধারায় দেখা যাচ্ছে, নকশালরা আইইডি এবং নিক্ষেপযোগ্য রকেটের সুইচ ও মেকানিজমের ব্যাপারে তাদের টেকনিক্যাল দক্ষতা অনেক বাড়িয়েছে”।

সূত্রঃ https://timesofindia.indiatimes.com/india/naxalites-innovate-get-rambo-arrows-and-poop-laced-bombs/articleshow/64056733.cms

https://economictimes.indiatimes.com/news/politics-and-nation/naxalites-latest-arsenal-includes-rambo-arrows-and-poop-laced-bombs/inspired-by-rambo/slideshow/64060367.cms

https://www.telegraphindia.com/india/rambo-arrows-on-maoist-report-228628

http://www.thehindu.com/news/national/maoists-new-weapons-rambo-arrows-rocket-bombs-and-animal-excreta/article23795092.ece