আসামে উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের সশস্ত্র আন্দোলনে যোগদান বাড়ছে

ULFA-2

বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম প্রথম আলো জানাচ্ছে, রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি হওয়ায় ভারতের আসাম রাজ্যে সশস্ত্র আন্দোলনে তরুণদের যোগদান বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। তরুণ প্রজন্মের এভাবে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ায় উদ্বিগ্ন পুলিশ, প্রশাসন।

আসামের স্বাধীন গোষ্ঠীর (উলফা আই) স্বঘোষিত সর্বাধিনায়ক পরেশ বড়ুয়ার ভাইয়ের ছেলে মুন্না বড়ুয়া সম্প্রতি বাড়ি থেকে পালিয়ে জঙ্গি দলে যোগ দিয়েছেন।

ছেলের সশস্ত্র আন্দোলনে যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন পরেশ বড়ুয়ার ভাই বিমল বড়ুয়া।

সাংবাদিকদের কাছে বিমল বড়ুয়া বলেন, ‘ছেলে জেনেবুঝেই স্বজাতিকে রক্ষা করার কাজে গিয়েছে। বিন্দুমাত্র দুঃখ নেই।’

আসামের গণমাধ্যম উলফা আই নেতা পরেশ বড়ুয়াকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তাঁর ভাইয়ের ছেলে স্বেচ্ছায় সশস্ত্র আন্দোলনে নাম লেখানোয় তিনি খুশি। আসাম জাতির জন্য এই আত্মত্যাগ তাঁকে গর্বিত করেছে বলেও নাকি পরেশ মন্তব্য করেছেন।

শুধু মুন্না বড়ুয়াই নন, রাজ্যে নতুন করে সশস্ত্র আন্দোলনে তরুণদের যোগদান বাড়ছে। উচ্চশিক্ষিত তরুণেরা নিজেদের পেশা ভুলে যোগ দিচ্ছেন জঙ্গলের জীবনে। এই প্রবণতায় বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক কুলধর শইকিয়া গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের সশস্ত্র আন্দোলনে যোগদান বন্ধে সব রকম তৎপরতা শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ। সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিবেশী রাজ্যগুলোকে সতর্ক করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন আসামের পুলিশপ্রধান। সেই সঙ্গে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।

এমনকি আসামের পুলিশপ্রধান তরুণদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, বন্দুকের নল দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে এই মত মানতে নারাজ উলফার আলোচনাপন্থী নেতা অনুপ চেটিয়া। তাঁর ভাষ্য, আসামের নাগরিকেরা আজ অস্তিত্বের সংকটে। নাগরিকত্ব বিল পাস হলে অনুপ্রবেশকারীতে ভরে যাবে আসাম। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতি তাই আস্থা নেই তরুণদের। এ কারণে তাঁরা হাতে অস্ত্র তুলে নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব দিতে চায় ভারত সরকার। এ জন্য বিল আনা হয়েছে পার্লামেন্টে। বিলটি বর্তমানে যৌথ সংসদীয় কমিটির বিবেচনাধীন।

অনুপ চেটিয়াদের মতে, বিলটি পাস হলে সমস্যায় পড়বে আসামের নাগরিকেরা। তাই তাঁরা ‘বিদেশি অনুপ্রবেশ’ ঠেকাতে প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসছেন।

Advertisements

পশ্চিমবঙ্গে ‘মাওবাদী সাহিত্য’ পাওয়ার অভিযোগে গণ ও রাজ‌নৈ‌তিক আন্দোল‌নের কর্মী গ্রেফতার

404_09_06_13_ATS_arrests_7_suspected_Maoists_in_Mumbai_H@@IGHT_510_W@@IDTH_680

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুরের মাকলি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জঙ্গল লাগোয়া একটি ফুটবল মাঠে অভিযান চালিয়ে গণআ‌ন্দোলন ও রাজ‌নৈ‌তিক আন্দোল‌নের কর্মী টিপু সুলতান ওরফে স্বপন, অর্কদীপ গোস্বামী, সঞ্জীব মজুমদার ও সব্যসাচী গোস্বামী‌কে গ্রেপ্তার ক‌রে‌ছে পু‌লিশ। ওদের কা‌ছে “মাও‌য়িস্ট লিটা‌রেচার” পাওয়া গে‌ছে ব‌লে পু‌লি‌শের অভি‌যোগ। 

সব্যসাচী ও সঞ্জীব সোদপুরের বাসিন্দা। অর্কদীপ ওরফে বিজয়ের বাড়ির কলকাতার পর্ণশ্রী এলকায়। টিপু সুলতানের বাড়ি বীরভূমে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু লিফলেট ও প্রচার পুস্তিকা উদ্ধার হয়েছে। তাতে মাওবাদী রাজ্য কমিটির সম্পাদক আকাশের নাম রয়েছে। শুধু তাই নয়, জঙ্গলমহলের আদিবাসীদের সশস্ত্র লড়াইয়ের ডাক দেওয়ার কথা লেখা রয়েছে ওই প্রচার পুস্তিকা ও লিফলেটগুলিতে। ধৃতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৯, ১২০, ১২১, ১২২, ১২৩, ১২৪এ-সহ বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এ দিন ধৃতদের গড়বেতা আদালতে তোলা হবে।

ধৃতদের সঙ্গে মাওবাদী যোগের কথা অস্বীকার করেছে এপিডিআর। সংগঠনের পক্ষ থেকে রঞ্জিত শূর বলেন, “আমরা ওঁদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেছি। আদিবাসীদের উন্নয়ন ও কয়েকটি সমীক্ষার কাজে গতকালই জঙ্গলমহলে গিয়েছিলেন সব্যসাচী-অর্কদীপরা। পুলিশ ওঁদের গ্রেফতার করেছে।” অবিলম্বে ধৃতদের মুক্তির দাবিও জানান তিনি।

সব্যসাচীর নাম এর আগেও কয়েক বার প্রকাশ্যে এসেছে। শীর্ষ মাওবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত। অর্কদীপ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে পড়েছেন। অন্য দিকে, বিশ্বভারতীতে স্নাতকোত্তর শেষ করে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হয়েছেন টিপু ওরফে স্বপন।

সূত্রঃ https://www.anandabazar.com/state/four-suspected-maoist-arrested-from-goaltore-dgtl-1.897719


গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের প্রতি মাওবাদীদের বার্তা

gorkha-protests

পাহাড়ের আন্দোলনকারীদের বিভক্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জোটবদ্ধ হওয়ার ডাকের পাশাপাশি ‘সত্যিকারের শত্রু’কে চিহ্নিত করা এবং সঠিক বন্ধুদের সঙ্গে হাত মেলানোর কথা জানিয়েছে মাওবাদীরা। দলের ইস্টার্ন রিজিওনাল ব্যুরোর শীর্ষনেতা কিসানদা ওরফে প্রশান্ত বসুর বিবৃতিতে মাওবাদীরা তাদের পরবর্তী পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এ কথাই উল্লেখ করেছে। ২০১৭-র জুন মাসে পাহাড় জুড়ে বিমল গুরুংদের গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন শুরুর পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, এই আন্দোলনে মাওবাদীদের মদত রয়েছে। যদিও পাহাড়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতারা তা মানতে চাননি। বর্তমানে বিমল গুরুংদের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে আসা জিজেএমের নেতা বিনয় তামাং দাবি করেছিলেন, তাঁদের আন্দোলনে মাওবাদীরা নেই। এটা স্বতঃস্ফূর্ত গণ-আন্দোলন। এ সব বিতর্ক চলতে থাকলেও পাহাড়ের টানা বনধ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের একটি নির্দেশের প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের তরফে আগেই দাবি করা হয়েছিল, বাইরে থেকে মাওবাদীরা এসে পাহাড়ে ঘাঁটি তৈরি করেছে। তারা এই আন্দোলনে মদত দিচ্ছে। ঠিক এর পরেই পাহাড়ে চকবাজারের কাছে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। যার প্রেক্ষিতে মোর্চা নেতা বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের রিপোর্ট বলছে, ২০০৮ সালেই মাওবাদীদের ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশন গণপ্রতিরোধ মঞ্চের তিন সদস্য রাজা সরখেল, প্রসূন চট্টোপাধ্যায় এবং গৌর চক্রবর্তী পাহাড়ে গিয়ে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। অন্য দিকে, ২০০৯-এর ফেব্রুয়ারি মাসে লালগড়ের খাসজঙ্গলে সিপিএম কর্মীদের গুলিতে তিন আদিবাসীর হত্যার প্রতিবাদে পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটি যে বিক্ষোভ সভার ডাক দেয়, সেখানে রোশন গিরি, বিনয় তামাংরা হাজির হয়েছিলেন। কিসানদা ঝাড়খণ্ড থেকে পাঠানো তাঁর বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আলাদা রাজ্যের দাবি, নাগরিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং বাংলা ভাষা জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বহু বছর আগে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন শুরু হয়। কিন্তু সুবাস ঘিসিংয়ের বিশ্বাসঘাতকতায় এই আন্দোলন তার লক্ষ্য থেকে সরে যায়। তবু পাহাড়ের সাধারণ মানুষের কথা ভেবে আমরা এই আন্দোলনের প্রতি আমাদের সহানুভূতি এবং সমর্থন এখনও জারি রেখেছি। ওখানকার বাসিন্দাদের সব কিছু সহ্য করেই পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মুক্তি না পেলে কোনও আন্দোলন সম্পূর্ণ হয় না। পাহাড়ের আন্দোলনকারীদের প্রতি বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের শোষণ-নিপীড়নে ইতি টানতে সেনাবাহিনীকে নির্মূল করা জরুরি। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে সশস্ত্র সংগ্রামের রাস্তা থেকে সরে আসা যাবে না। এ জন্য প্রথমে গ্রাম, তার পর শহরের দিকে এগোতে হবে। গোর্খল্যান্ড নিয়ে মাওবাদীদের সমর্থন নতুন কোনও বিষয় নয়। কিন্তু দার্জিলিং নিয়ে আচমকা প্রশান্ত বসুর এই বিবৃতি চিন্তায় ফেলেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের। কারণ, প্রায় বছরখানেক আগে বিমল শিবির থেকে বেরিয়ে এসে বিনয় তামাং দলের নতুন নেতা হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। এমনকি তিনি জিটিএ-র দায়িত্ব নিয়েছেন। ইউএপিএ-সহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বিমল গুরুং আত্মগোপন করে রয়েছেন। পাহাড়ের এই আপাত ঠান্ডা বাতাবরণেই মাওবাদীদের বিবৃতি নতুন করে ভাবাচ্ছে গোয়েন্দাদের।

সূত্রঃ https://eisamay.indiatimes.com/west-bengal-news/kolkata-news/the-maoists-call-back-the-cold-hills-again/articleshow/65876490.cms


বিশাখাপত্তনমে TDP বিধায়ক ও প্রাক্তন বিধায়ককে গুলি করে হত্যা মাওবাদীদের

six-suspectsmaoistupats

অারাকুর TDP বিধায়ক সর্বেশ্বরা রাও ও প্রাক্তন বিধায়ক এস সোমান্নাকে রবিবার গুলি করে হত্যা করলো বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন মাওবাদী। প্রায় ৬০জন মাওবাদী এই হামলায় অংশ নেয়, এর মধ্যে ৪০জনই নারী গেরিলা ছিল। দ্য হিন্দুর রিপোর্ট অনুযায়ী, রবিবার সকালে ওই ২ নেতা যখন সভা করতে বিশাখাপত্তনমের কাছে একটি গ্রামে যাচ্ছিলেন সেই সময় তাদের গাড়ি অাটকায় ৫০-৬০জনের সশস্ত্র মাওবাদীদের একটি দল। পরে তথাকথিত গণঅাদালতে দোষী সাব্যস্ত করে ওই ২ টিডিপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করে তারা। অন্যদিকে পিটিঅাই জানাচ্ছে গাড়ি থেকে ওই ২ নেতাকে নামিয়ে গুলি করে মাওবাদীরা। খননের বিষয় নিয়ে বিধায়কের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ছিল তারা। বিশাখাপত্তনম এলাকায় যথেচ্ছভাবে খননের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পরিবেশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষতি হলেও প্রশাসন তা নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ। ২০১৪ সালে ysr কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হন সর্বেশ্বর। সম্প্রতি হাওয়া বুঝে TDPতে যোগ দেন তিনি।

সূত্রঃ satdin.in


হিদমাঃ ছত্তিসগড়ের ‘রবিনহুড’

image (1)

হিদমাই এখন ছত্তীসগঢ়ের জঙ্গলে পুলিশের কাছে ত্রাস, আদিবাসীদের কাছে ‘রবিনহুড’। যার হাতে সব সময় থাকে ‘একে-৪৭’ রাইফেল। শোনা যায়, ঘুমোনোর সময় হিদমার একটা হাতে ধরা থাকে কালাশনিকভ।

পুলিশ আর নিরাপত্তা বাহিনী মাওবাদী হিদমাকে তন্নতন্ন খুঁজছে গত ৫/৬ বছর ধরে। কিন্তু হিদমা এখনও পর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গিয়েছেন।

হিদমার ‘একশো একটা’ ছবি রয়েছে ছত্তীসগঢ়ের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে। কিন্তু তার মধ্যে কোনটা হিদমার আদত ছবি, এখনও তা জানা সম্ভব হয়নি। সুকমার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের জেরা করে পুলিশ কানাঘুষো যেটুকু শুনেছে, তাতে মাওবাদী হিদমা বেশ বেঁটেখাটো, অনেকটা মাও জে দঙের মতোই। তবে চেহারায় বেশ খানিকটা রোগাই। তাঁর জন্ম সম্ভবত সুকমার জাগরগুন্ডা এলাকায়। বয়সটা ৫১-র আশপাশে।

গোটা বস্তার জেলায় মাওবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এই হিদমাই। সুকমা, বস্তারে আরও একটি নামে হিদমাকে চেনে লোকজন। ‘দেবা’। তবে কবে তাঁর হাতে বন্দুক উঠল আর কবে তিনি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা শুরু করলেন, এখনও পর্যন্ত তার কিছুই ছত্তীসগঢ়ের পুলিশের জানা নেই। এও জানা যায়নি, স্ত্রী ছাড়া হিদমার পরিবারে আর কে কে আছেন, তাঁরা কোথায় থাকেন।

ছত্তীসগঢ়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা হলেই হিদমার নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়।

এই হিদমার নাম প্রথম জোরালো ভাবে ছত্তীসগঢ় পুলিশের কানে আসে আজ থেকে ৫ বছর আগে, ২০১৩-য়। ওই সময় মাওবাদীদের আক্রমণে ঝিরাম উপত্যকায় নিহত হয় ২৭ জন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তদানীন্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্ল, প্রদেশ কংগ্রেসের তদানীন্তন সভাপতি নন্দকুমার পটেল, তাঁর ছেলে দীনেশ, প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা মহেন্দ্র কর্মা ও ছত্তীসগঢ়ের তদানীন্তন বিধায়ক উদয় মুদালিয়র। গত বছরের এপ্রিলে বারকাপালে মাওবাদীদের সঙ্গে গুলিযুদ্ধে সিআরপিএফের ২৪ জন জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনাতেও হিদমা জড়িত ছিলেন বলে ছত্তীসগঢ় পুলিশের একাংশের ধারণা।

পুলিশ শুধু এইটুকুই জানতে পেরেছে, সুকমার জাগরগুন্ডা এলাকায় জন্ম হিদমার। একটি আদিবাসী পরিবারে। হিদমা এখন মাওবাদী সংগঠন পিপলস লিবারেশন-এর ‘গেরিলা সেনাবাহিনী’র এক নম্বর ব্যাটেলিয়নের প্রধান নেতৃত্ব। আর মাওবাদীদের ‘সাউথ সাব-জোনাল কমান্ডে’র প্রধান। সংগঠনের ক্যাডারদের কাছে হিদমা এখন কার্যত ‘হিরো’।

হিদমাকে সব সময় ঘিরে রাখে তাঁর খুব বিশ্বস্ত লোকজনের চার-চারটি ‘বলয়’। সুকমা, বস্তারের যেখানেই যান হিদমা, তাঁর সঙ্গে যায় ওই চারটি ‘বলয়’। পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হলে বাইরের ‘বলয়’-এর অনেকের মৃত্যু হয়। কিন্তু হিদমা’র বলয়টি অক্ষত থাকে। নেতৃত্বকে রক্ষা করতে এটাই গেরিলা যুদ্ধের রণকৌশল।

সূত্রঃ https://www.anandabazar.com/national/who-is-hidma-why-he-is-most-wanted-dgtl-1.865247


‘সাম্রাজ্যবাদী’ চীন দুনিয়ার নির্যাতিত মানুষের শত্রুঃ সিপিআই(মাওবাদী)

Communist_Party_of_Bhutan_Flag.svg

‘সাম্রাজ্যবাদী’ চীনকে দুনিয়ার নির্যাতিত মানুষের শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে ৭৬ পৃষ্ঠার দলিল প্রকাশ করেছে সিপিআই(মাওবাদী)।

দলিলে চিনকে ‘একটি নয়া সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তি’ আখ্যা দিয়েছে সিপিআই(মাওবাদী)। ওই ৭৬ পৃষ্ঠার দলিলের শিরোনামে লেখা হয়েছে, চিন ‘বিশ্বের পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থারই অংশ’। ভারতের বুর্জোয়া ও এর দ্বারা প্রভাবিত রাজনৈতিক শিবিরের একটি বড় অংশ অবশ্য মনে করে, বিশ্বের বাণিজ্যে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে চিন মাও জে দঙের পথ ছেড়ে ঠিকই করেছে। এর ফলেই মার্কিন শক্তির চোখে চোখ রেখে কথা বলার মতো অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক শক্তি অর্জন করতে পেরেছে তারা। তবু বামপন্থী আদর্শগত দৃষ্টিকোণ থেকে মাওবাদীদের চিন সম্পর্কিত মূল্যায়ন তাৎপর্যপূর্ণ বৈকি!

মাওবাদী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বিশ্লেষণের ফসল ওই দলিল তৈরি হয়েছে গত বছর, অর্থাৎ ২০১৭ সালে। ঘটনাচক্রে, যে বছর নকশালবাড়ি আন্দোলনের সুবর্ণ জয়ন্তী হয়েছে। তবে এত দিন তেলুগু ছাড়া অন্য কোনও ভাষায় তা প্রকাশ করা হয়নি। অতি সম্প্রতি নিজেদের এই বিশ্লেষণ সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছে সিপিআই (মাওবাদী)।

দলিলের মুখবন্ধে মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটি জানিয়েছে, ‘সাম্রাজ্যবাদী’ চিন দুনিয়ার নির্যাতিত মানুষের শত্রু। বলা হয়েছে, বিশ্ব জুড়ে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের লক্ষ্যে যারা লড়ছে, সেই মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী এবং মাওবাদী দলগুলির যুদ্ধের নিশানা হবে এই চিন। মাওবাদীদের মতে, ‘সাম্রাজ্যবাদী’ চিন  পিছিয়ে পড়া এবং অন্যান্য দেশে যুদ্ধাস্ত্র ও পুঁজি রফতানি এবং অসম বাণিজ্য চাপিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সেই দেশগুলির প্রাকৃতিক সম্পদকে গ্রাস করছে। ওই সব দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও নাক গলাচ্ছে তারা। এমনকি, ওই সব দেশে সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত সুযোগেরও অপেক্ষা করছে। বস্তুত, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে চিন।

বস্তুত, চিনকে আর সমাজতান্ত্রিক বলা যায় কি না, তা নিয়ে সিপিএম-সহ ভারতের সব কমিউনিস্ট দলগুলির মধ্যেই বিতর্ক আছে। তবে সিপিএমের ঘোষিত মতে এখনও চিন সমাজতান্ত্রিকই। চিনা কমিউনিস্ট পার্টি অবশ্য তাদের দেশকে ‘চৈনিক বৈশিষ্ট্য সমেত সমাজতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়েছে। কিন্তু মাওবাদী তাত্ত্বিকেরা ওই অভিধা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেছেন তাঁদের দলিলে।


ভারতের অনেক জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে মাওবাদীরাঃ গোয়েন্দা রিপোর্ট

Naxal-800x445

Times of India এর রিপোর্ট জানাচ্ছে, সিপিআই(মাওবাদী) -এর পশ্চিমঘাটের বিশেষ জোনাল কমিটি (WGSZC) রাজ্যের পাঁচ জেলায় তার সশস্ত্র শাখা পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি (পিএলজিএ) এর শক্তি বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে, রাজ্য পুলিশের নক্সাল বিরোধী স্কোয়াডের গোয়েন্দা বিভাগের একটি রিপোর্ট।

সরকারের কাছে উপস্থাপন করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বছর আগে নিলাম্বুরের বনভূমিতে এনকাউন্টারে দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের মৃত্যুর পর এই অঞ্চলগুলিতে পিএলজিএ সদস্যের সংখ্যা বেড়েছে। অগাস্টের শেষ সপ্তাহে ওয়ানাদ-কোজিকোডের বনভূমিতে অনুষ্ঠিত একটি শহীদ স্মৃতিসৌধ অনুষ্ঠানে প্রায়  ৪৫ জন পিএলজিএ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও দণ্ডকারণ্য বিশেষ জোন কমিটির সদস্যগণ (ডিস্কজিসি) উপস্থিত ছিলেন, অনুষ্ঠানে কানুর, কোজিকোড, পাল্ককাদ, ওয়ায়ানাদ ও মালাপ্পুরমে পাঁচটি শাখা কমিটিকে শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেইয়া হয়। গত সপ্তাহে নীলাম্বুরের বনভূমিতে মাওবাদী নেতার দানিশ, গণেশ ও প্রশান্তের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা স্কোয়াড।

গোয়েন্দা বিভাগ থেকে আশা করা হয়েছিল যে, ২০১৬ সালের ২৪ শে নভেম্বর নিলম্বুরের পুলিশের সাথে কথিত সংঘর্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কুপ্পু দেবরাজ ও তার সহযোগী অজিথাকে মৃত্যুর ঘটনায় এই অঞ্চলে নকশাল বাহিনীর কর্মকান্ডে একটি বড় বাধা হতে পারে। তবে সর্বশেষ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেরলায় পিএলজিএ সদস্যদের সংখ্যা ২৫-২৮ থেকে ৪৫ পর্যন্ত বেড়েছে, যাদের বেশিরভাগই অপরিচিত, এখনো তাদের সনাক্ত করা যায়নি। কেরালা, তামিলনাড়ু এবং কর্ণাটকের ত্রি-জংশনের কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে উত্তর ভারতীয় রাজ্যগুলির ক্যাডাররা সম্প্রতি এই গ্রুপে যোগদান করেছে।

নকশাল-বিরোধী গোয়েন্দা স্কোয়াডের সূত্রে জানা যায়, কেরালা, কর্ণাটক ও তামিলনাডুর কর্মীরা আগেই এই অঞ্চলের গোষ্ঠীর জন্য কাজ করেন, কিন্তু অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও ঝাড়খন্ডের কর্মীদের কেরালার বনাঞ্চলে উপস্থিতি নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, প্রান্তিক কোজিকোডের বিভিন্ন অংশে সিপিআই(মাওবাদী) নামে পোস্টারগুলিতে সাম্প্রতিক বন্যার বিপর্যয়ের জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করা হয়েছে। কাবানী এলাকার কমিটির নামে একটি পোস্টারেও অভিযোগ করা হয় যে, সরকার, ভারী বৃষ্টি এবং বন্যার উপর সঠিক সতর্কবার্তা পাওয়ার পরেও নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে জনগণকে নিরাপদে স্থানে সরিয়ে নেয়ার সঠিক পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।