“সমাজতন্ত্র ও ধর্ম”- লেনিন (ধর্ম প্রসঙ্গে)

লিখিত প্রবন্ধটি ভ. ই. লেনিন-এর ধর্ম প্রসঙ্গে নামে প্রকাশিত গ্রন্থের প্রথম প্রবন্ধ যা ন্যাশনাল বুক এজেন্সি প্রা. লি. কলকাতা থেকে প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২০০৬ মুদ্রণ থেকে নেয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রবন্ধটি নিচের আংশিক প্রবন্ধের পরেই pdf  আকারে দেয়া আছে, পাঠক কমরেডগণ ডাউনলোড করে নিতে পারেন ।     

images

বর্তমান সমাজের ভিত্তি বিপুলসংখ্যক শ্রমিক শ্রেণির শোষণের উপর স্থাপিত। জনসমষ্টির অতিক্ষুদ্র এক অংশ জমিদার ও পুঁজিপতি শ্রেণির দ্বারা তারা শোষিত। এ সমাজ দাস সমাজ। কারণ ‘মুক্ত’ শ্রমিকরা সারা জীবন পুঁজির জন্য কাজ করে জীবিকা নির্বাহের যেটুকু উপকরণের ‘অধিকার লাভ করে’ তা শুধু দাস পালনের পক্ষে একান্ত অপরিহার্য এবং এরাই পুঁজিতান্ত্রিক দাসত্বের নিরাপত্তা ও স্থায়ীত্বের জন্য মুনাফা উৎপাদন করছে।
শ্রমিকদের অর্থনৈতিক পীড়নের জন্য অনিবার্য পরিণতি অজস্র প্রকার রাজনৈতিক পীড়ন ও সামাজিক অবমাননা, জনগণের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক জীবনের কার্কশ্য ও অন্ধকার। অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সংগ্রামার্থে শ্রমিকদের পক্ষে অল্পবিস্তর রাজনৈতিক স্বাধীনতা লাভ সম্ভব, কিন্তু পুঁজিকে ক্ষমতাচ্যুত না করে দারিদ্র, বেকারত্ব এবং পীড়ন থেকে মুক্তি লাভ অসম্ভব। ধর্ম আধ্যাত্মিক পীড়নের অন্যতম প্রকার বিশেষ। চিরকাল অন্যের জন্য খাটুনি, অভাব ও নিঃসঙ্গতায় পীড়িত জনগণের উপর সর্বত্রই তা চেপে বসে। শোষকদের বিরুদ্ধে শোষিত শ্রেণির সংগ্রামের অক্ষমতা থেকেই অনিবার্যভাবে উদ্ভুত হয় মৃত্যু-পরবর্তী উত্তম জীবনের প্রত্যয়, যেমন প্রকৃতির বিরুদ্ধে সংগ্রামে আদিম মানুষের অক্ষমতা থেকে উদ্ভূত হয় ঈশ্বর, শয়তান, অলৌকিকত্ব, ইত্যাদিতে বিশ্বাস। যারা সারা জীবন খাটে আর অভাবে নিমজ্জিত থাকে, ধর্ম এ পৃথিবিতে তাদের নম্রতা ও সহিষ্ণুতার শিক্ষাদান করে স্বর্গীয় পুরস্কারের সান্তনা দেয়। কিন্তু যারা অন্যের শ্রমশোষক, ধর্ম তাদের পার্থিব জীবনে বদান্যতা অনুশীলনের নির্দেশ দেয়। এভাবেই শোষক হিসেবে নিজেদের অস্তিত্বের নায্যতা সপ্রমাণের জন্য ধর্ম খুবই সস্তা সুযোগ দেয় ও পরিমিত মূল্যের টিকিটে স্বর্গবাসে তাদের স্বাচ্ছন্দ্যবিধানের ব্যবস্থা করে। ধর্ম জনগণের পক্ষে আফিমস্বরূপ। ধর্ম এক প্রকার আধ্যাত্মিক সুরাবিশেষ এবং এরই মধ্যে পুঁজিদাসদের মনুষ্য-ভাবমূর্তি এবং অল্পবিস্তর মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার দাবি নিমজ্জিত।

Read the rest of this entry »