সিপিআই(মাওবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটি সকল ফ্রন্টে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে

608271276-Maoist_6

নিষিদ্ধ কমিউনিস্ট দল সিপিআই(মাওবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটি পার্টির ১৭তম বার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে সারা দেশ থেকে ব্যাপক সংখ্যায় নারী ক্যাডারদের দলে নিয়োজিত করার জন্যে পার্টির আঞ্চলিক কমিটির সদস্যগণকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সংগঠনটি, মাওবাদী আধিপত্য রয়েছে এমন রাজ্যের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে বসবাসরত নারীদেরকে এই সংগঠনে যোগদানের আমন্ত্রণ জানিয়ে ব্যাপক মাত্রায় পোস্টার এবং ব্যানার লাগিয়েছে।

এর মধ্যে একটি পোষ্টারে সিপিআই(মাওবাদী) বলেছে, ” পিতৃতন্ত্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উত্থাপন করুন, সব মঞ্চে নারীর সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে তুলুন।”

এ নিয়ে গোয়েন্দা বিভাগ সূত্র বলছে, ব্যাপক মাত্রায় পুরুষ ক্যাডার ও নেতৃত্ব হারানোর কারণে মাওবাদীরা এই ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে।  

মাওবাদীরা ২-৮ই ডিসেম্বর পর্যন্ত পিএলজিএ সপ্তাহ পালন করছে।

উল্লেখ্য যে, গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী ৫ জন নারী ক্যাডার সহ কমপক্ষে ৮ জন মাওবাদী কর্মীকে ভুয়া এনকাউন্টারে হত্যা করেছে এবং সারা দেশে আটক হওয়া ৫ জন মাওবাদীর মধ্যে ৩ জন নারী কর্মী রয়েছে।

সূত্রঃ http://www.newsnation.in/india-news/cpi-maoist-central-committee-decides-to-involve-women-in-all-fronts-article-187743.html

Advertisements

সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত রাশিয়ায় নারী মুক্তি

b97467ea337b6a637bcb0fbc5800f8a4--army-women-for-women

শ্রেণির উদ্ভব ও বিকাশের প্রক্রিয়ায় মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার অবসান হয় এবং পুরুষ শাসিত সমাজব্যবস্থার সৃষ্টি হয়। তখন থেকে নারীদের একদিকে করা হয় শ্রমদাসী, অন্যদিকে যৌনদাসী। নারীর উপর চলে পুরুষতন্ত্রের বর্ধিত শোষণ। পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের যুগে সমাজ সংস্কারের অংশ হিসেবে নারীদের একটা অংশ অফিস-আদালতে, স্কুল-কলেজে এবং কলে-কারখানায় সামাজিক উৎপাদন বা অর্থনৈতিক কাজে অংশগ্রহণ করলেও শ্রেণি-নিপীড়ন ও পুরুষতান্ত্রিক শোষণ-নিপীড়ন থেকে নারী মুক্ত হতে পারেনি। বাহ্যিকভাবে নারী-কল্যাণমূলক কিছু কিছু সংস্থার আবির্ভাব ঘটেছে। সেখানে ব্যাপক শ্রমিক-কৃষক, শ্রমজীবী নারীরা হন উপেক্ষিত। এছাড়া নারীদের ‘কল্যাণে’ বহু আইন করা হলেও তা থেকে যায় কাগজে-কলমে। এই আইনী সেবা পেতে গেলেও বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢালতে হয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্তাদের খুশি করতে, যা শ্রমিক-কৃষক-শ্রমজীবী নারীদের পক্ষে সম্ভব নয়।

 ১৯১৭ সালে লেনিন-স্ট্যালিনের নেতৃত্বে রাশিয়ায় মহান সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব এবং সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণে সেখানকার নারীরা রান্নাঘর ও আঁতুরঘর থেকে এবং শ্রেণি ও পুরুষতান্ত্রিক শোষণ-নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেয়েছিল। পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ নারীদের জন্য যা ২০০ বছরেও করতে পারেনি, সমাজতান্ত্রিক রাশিয়া ও চীন মাত্র ২৫-৩০ বছরে তা করেছিল।

 সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত রাশিয়ায় নারী মুক্তির কিছু চিত্র সংক্ষেপে এখানে তুলে ধরা যেতে পারে। সোভিয়েত রাশিয়ায় সংবিধান তৈরী করার সময় তারা ঠিক করেছিল- সমস্ত রকমের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, রাষ্ট্রীয় এবং অন্যান্য সর্বজনীন ক্ষেত্রে সোভিয়েত রাশিয়ার মেয়েরা পুরুষের সাথে সমানাধিকার পাবে। তার বাস্তব ভিত্তি পেয়েছিল- মেয়েদের পুরুষদের সাথে সমান কাজ করার অধিকার, সমান বেতন পাওয়ার, বিশ্রাম পাওয়ার ও অবসর বিনোদনের অধিকার, সামাজিক বীমা এবং শিক্ষা, মা ও শিশু স্বার্থকে রাষ্ট্রব্যবস্থা দ্বারা রক্ষা করা, বড় পরিবারের মা আর অবিবাহিত মা-কে রাষ্ট্রীয় অর্থ সাহায্য, পুরো বেতনে মাতৃত্বের ছুটির ব্যবস্থা ছিল। ব্যাপকভাবে মাতৃসদন, শিশুসদন ও খেলাঘর-এর জাল বিস্তার করা। তারা এগুলো শুধু আইনেই সীমাবদ্ধ রাখেনি। বাস্তবে পরিণত করেছিল। গ্রামে বা শহরে যেখানেই হোক না কেন, কোন মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হলে (সে মেয়ের বিয়ে হোক বা না-ই হোক) রাষ্ট্রের কাছ থেকে বিনা পয়সায় নিম্নোক্ত সুযোগ-সুবিধা পাবেঃ ১) অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় চিকিৎসামূলক যত্ন ও তদারক; ২) প্রসবের জন্যে প্রসব হাসপাতালে জায়গা; ৩) পুরো বেতনে ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহের ছুটি; ৪) সবসময়ে চিকিৎসামূলক সাহায্য ও তদারক; ৫) স্বাস্থ্যের দিক থেকে যখনই সে সম্পূর্ণভাবে কাজের উপযুক্ত তখনই তার নিজের চাকরিতে যোগ দিতে পারার অধিকার; ৬) কাজে যোগ দেওয়ার পর নবজাতককে স্তন্যদানের জন্যে নির্দিষ্ট সময় অন্তর আধ ঘণ্টা করে ছুটি; ৭) নবজাতকের জামাকাপড় কিনবার জন্যে নগদ টাকা; ৮) সন্তান জন্মাবার পর থেকে এক বছর ধরে তার খাদ্য বাবদ মাসে মাসে নগদ টাকা; ৯) মা যতক্ষণ কাজ করবে ততক্ষণ শিশুকে সামলাবার জন্য খেলাঘরের সুযোগ। দু’মাস বয়স থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা এই সব খেলাঘরে মানুষ হবে।

আইনত প্রত্যেক ভাবী মা-ই এইসব সুযোগ সুবিধা পেতেন। শুধু তাই নয়, প্রসব হাসপাতালে একটি করে আইন বিভাগ, সেই বিভাগে অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ হাজিরা দিতেন অন্তঃসত্ত্বা কোনও নারী যাতে আইনত কোনও রকম সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন সেই দৃষ্টি রাখাই ছিল এই বিভাগের একমাত্র কর্তব্য। সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত রাশিয়ায় নারীদের এই বিভাগের পরামর্শ নগদ অর্থে কিনতে হয়নি। 

শহরে প্রাক্প্রসব ক্লিনিক-এ জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্বন্ধে সমস্ত মেয়েদের পরামর্শ দেয়া হতো এবং প্রত্যেক ভাবী-মাকে ১টা করে কার্ড দেয়া হতো এবং তাদের নিম্নোক্ত সুবিধা দেয়া হতো- ১) ট্রামে সবার  আগে উঠার এবং প্রথমে বসতে  পাওয়ার অধিকার, ২) দোকান-হাটে কিছু কিনতে গেলে  প্রতীক্ষিয়মানদের সবাইকে পেরিয়ে সবার আগে জিনিপত্র কিনতে পাওয়ার অধিকার, ৩) বাড়তি রেশন, ৪) যেখানে সে কাজ করে সেখানে শুধু হালকা ধরনের কাজ করতে পাওয়ার অধিকার- ইত্যাদি।

 সোভিয়েত রাশিয়ায় নারীদের মধ্যে সামাজিক শ্রমের মর্যাদা ফিরিয়ে আনবার সচেতন বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা করা হয়। ঘর-সংসারের কাজ আর সামাজিকভাবে প্রয়োজনীয় উৎপাদনের কাজ- এ দুই-য়ের মাঝে তফাতটা মুছে দিয়ে নারীদের মাঝে শ্রমের মর্যাদা ফিরিয়ে এনেছিল। পৃথিবীতে এর আগে আর কোন দেশে (পরে মাও-এর চীন সেটা করেছিল) আর কোন যুগে নারীদের মুক্তির  জন্য এমনতর পরিকল্পনা আর কখনো দেখা যায়নি। সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত গড়ার শুরু থেকেই এই প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল। বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে নারীদের সামাজিক শ্রমের মর্যাদায় কাজে ফিরিয়ে আনার ফলাফল কী রকম ছিল তার হিসাব ছিল এরকম-  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার সময়ে সোভিয়েত রাশিয়ায় ১,১০,০০,০০০ নারী কলকারখানা, চলাচল ব্যবস্থা আর নির্মাণ কাজে যোগ দিয়েছিল; তাদের মধ্যে ১,৭০,০০০ হ’ল ইঞ্জিনিয়ার আর টেকনিশিয়ান। চার হাজার নারী সোভিয়েত ইউনিয়নে ইঞ্জিন চালাবার কাজে নিযুক্ত ছিল।

রুশ বিপ্লবের চল্লিশ বছর আগে সে দেশের গ্রামের মেয়েদের অবস্থা সম্পর্কে স্ট্যালিন যে বর্ণনা দিয়েছিলেন তা হলো- বিয়ের আগে পর্যন্ত মেয়েকে সবচেয়ে অধম চাকরানি মনে করা হতো। বাপের সংসারে সে গতর খাটাত, উদয়াস্ত গতর খাটাত, তবু বাপ তাকে ধমকে বলতো ‘মনে রাখিস তুই আমার অন্ন ধ্বংস করিস!’ বিয়ের পর স্বামীর সংসারে সে গতর খাটাত, স্বামীর যেমন মর্জি তেমনিভাবেই। তবু স্বামী তাকে ধমক দিয়ে বলত, ‘মনে রাখিস তুই আমার অন্ন ধ্বংস করিস।’ বিপ্লবের আগে রুশ যেসব মেয়েরা কারখানায় কাজ করতো তাদের অবস্থাও ছিল একইরকম। জার আমলে ১০৭ ধারায় আইন ছিলঃ স্বামী পরিবারের প্রধান কর্তা, স্ত্রীর কর্তব্য হ’ল স্বামীর অনুগত হওয়া। তখনকার দিনে রুশ দেশে স্বামীর পক্ষে স্ত্রীকে মারধোর করাটা নেহাতই সহজ আর স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। স্ত্রীর সতীত্বে কোনও রকম সন্দেহ জাগলে স্বামীরা স্ত্রীদের সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে গরুর গাড়িতে বেঁধে চাবকাতে চাবকাতে গ্রাম ঘুরিয়ে আনত।

অথচ বিপ্লবের পর সমাজতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলার কাজে এই নারীরাই এগিয়ে এসেছে পুরুষের পাশাপাশি, সমান সমান হয়ে। এই দেশেই ১৯৩৫ সালে, বিপ্লবের মাত্র ১৮ বছর পরে, দেশের যত শিক্ষক আর যত ডাক্তার আছে তার মধ্যে তিনভাগের দু’ভাগই ছিল নারীরা। এমনকি সৈন্য ও নৌবাহিনীতেও যোগ দিয়েছিল মেয়েরা। আজকে বাংলাদেশের নারীরা পুলিশ, সেনাবাহিনী বা অন্যান্য পেশায় যোগ দিলেও পুরুষতান্ত্রিক নির্যাতন তাদের পিছু ছাড়ছে না। প্রতিদিন খবরের কাগজে আসছে ঊর্ধ্বতন অফিসার, সহকর্মী বা অন্যদের দ্বারা তারা ধর্ষিতা-নির্যাতিতা হচ্ছেন, যা সোভিয়েত দেশে ছিল কল্পনার অতীত।

মোট কথা হলো- রুশ বিপ্লব পূর্বের রাশিয়া এবং সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত রাশিয়া ছিল যেন দুটো পৃথক পৃথিবী। তাই পৃথিবীর দেশে দেশে সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছিল। পূর্ব ইউরোপের রুমানিয়া, বুলগেরিয়া, চেকোশ্লভাকিয়া এবং এশিয়ায় চীন, ভিয়েতনামের মানুষ বেছে নিয়েছিল সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ার আদর্শ ও পথ। সে সব দেশে সমাজতান্ত্রিক বা তার লক্ষানুসারী ব্যবস্থা কায়েম হলেও বর্তমানে সোভিয়েত রাশিয়াসহ কোন দেশেই এখন আর সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকে নেই। বিশ্বাসঘাতক ক্রুশ্চেভ-ব্রেজনেভ এবং তেং-হুয়া চক্রসহ তাবদ দেশের সংশোধনবাদীরা সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় পরিণত করেছে। যার পরিণতিতে নারীরা হারিয়েছে তাদের স্বাধীনতা, তারা পুনরায় শ্রমিক ও নারী হিসেবে পুঁজিবাদের শ্রম ও পুরুষতান্ত্রিক শোষণ-নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। তা সত্ত্বেও সমাজতান্ত্রিক রাশিয়া নিপীড়িত নারীদের মুক্তির দিশা ও অনুপ্রেরণা হয়ে আজও আলো ছড়াচ্ছে।

উদ্ধৃতি

“শ্রমিক শাসিত সরকার, কমিউনিস্ট পার্টি ও সংঘগুলি নরনারীর সেকেলে ধারণাগুলি দূর করবার জন্য, অসাম্যবাদী মনস্তত্ত্বকে বিনাশ করার জন্য কোনও রকম কসুর করছে না। আইনের দিক থেকে অবশ্যই পুরুষ এবং নারীর মধ্যে সম্পূর্ণ সাম্য রয়েছে। এই সাম্যকে বাস্তবে পরিণত করবার জন্য… … … আমরা মেয়েদের নিয়ে আসছি অর্থনীতি, আইনসভা ও সরকারের মধ্যে। যাতে তারা কাজকর্মের শক্তি আর সামাজিক শক্তি বাড়াতে পারে সেই জন্যেই সমস্ত শিক্ষায়তনে প্রবেশের পথ তাদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। আমরা প্রতিষ্ঠা করছি যৌথ রান্নাঘর, সাধারণের খাবারঘর, শিশুদের রাখবার জায়গা, শিশুদের খেলাঘর, ছেলে-মেয়েদের বাড়ি- সব রকম শিক্ষালয়। এক কথায়, স্বতন্ত্র সংসারের অর্থনৈতিক ও শিক্ষামূলক কাজকে সামাজিক কাজে পরিণত করবার চেষ্টায় আমরা সত্যিই উঠেপড়ে লেগেছি। তার দরুন নারীরা মুক্তি পাবে বহু দিনকার পুরনো ঘর-সংসারের একঘেঁয়ে কাজ থেকে এবং পুরুষের আধিপত্য থেকে। ফলে নারীরা নিজেদের প্রতিভা এবং রুচিকে পুরোমাত্রায় কাজে লাগাতে পারবে……।”

“শ্রমজীবী নারী আন্দোলনের প্রধান কাজ হলো নারীদের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতার জন্য সংগ্রাম করা, এবং তা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক সমতা নয়। মূল বিষয়টা হলো নারীদের জন্য সামাজিক উৎপাদন শ্রমে অংশ নেয়া, “গৃহস্থালী দাসত্ব” থেকে তাদেরকে মুক্ত করা, রান্নাঘর আর শিশুপালনের আদিঅন্তহীন ক্লান্তিকর খাটুনির নিকট তাদের অসাড়কারী ও অবমাননাকর অধীনতা থেকে তাদেরকে মুক্ত করা।

এই সংগ্রাম হবে এক দীর্ঘ সংগ্রাম, এবং এটা সামাজিক প্রযুক্তি ও নৈতিকতা উভয়ের মৌলিক পুনর্গঠনের দাবি করে। কিন্তু এটা কমিউনিজমের পরিপূর্ণ বিজয়ে সমাপ্ত হবে।”

– লেনিন, ৪ মার্চ ১৯২০, “আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারী দিবস সম্পর্কে”, সংগৃহীত রচনাবলী, খ- ৩০।

সূত্রঃ আন্দোলন পত্রিকা, অক্টোবর ’১৭ সংখ্যা


চিলির সান্তিয়াগোতে নারীবাদী স্কুল ”ফ্লোরা ত্রিস্তান” এর সভা অনুষ্ঠিত

19024463_1181256855320049_1628049613_o

গত ৬ই জুন, মঙ্গলবার চিলির সান্তিয়াগোতে ত্রিশ জন সদস্যের উপস্থিতিতে, নারীবাদী স্কুল “ফ্লোরা ত্রিস্তান” এর গোল টেবিল সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভার আয়োজন করে কনট্র্যাকরিয়েন্টে ছাত্ররা। ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদে অনুষ্ঠিত এই সভায় নারী এবং পুরুষ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই ছাত্র ছাত্র ছিল।

সভায়, প্রতিটি সংগঠন নারীবাদী বিষয়ে তাদের মতামত পেশ করে এবং উল্লেখিত প্রশ্নগুলির বিষয়ে বিতর্কের দিকে অগ্রসর হয়:

“চিলিতে আজ নারীবাদীর কাজ কী? নারীবাদী সংগ্রামের বিষয় বা বিষয় কি? এটা কি গুরুত্বপূর্ণ? নারীবাদী সংগঠন হিসেবে আমরা নিজেদেরকে পুঁজিবাদ বিরোধী বলে ঘোষণা করি?”

 


ছত্তিশগড়ে মাওবাদী হামলাঃ হামলাকারীদের মধ্যে ৭০% নারী গেরিলা ছিল

গত সোমবার ছত্তিশগড়ের দক্ষিণ বাস্তার জেলার কালাপথে মাওবাদীদের সাথে বন্দুকযুদ্ধে আহত একজন সিআরপিএফ সৈনিক বলেছে যে, হামলাকারীদের মধ্যে ৭০% ভাগই মাওবাদী নারী গেরিলা ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সৈনিক বলেন যে, ঐ সময় মাওবাদীদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীদের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল, যারা AK-47 নিয়ে সিআরপিএফ সৈন্যদের আক্রমণ করেছিল।

আরেকজন সৈনিক বলেন যে, সৈনিকদের হত্যা করার পর নারীরা অস্ত্র লুট করে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য যে, ২৪শে এপ্রিল ছত্তিশগড়ের দক্ষিণ বাস্তার জেলার কালাপথের এলাকায় মাওবাদীদের সঙ্গে প্রচণ্ড এক লড়াইয়ের সময় ২৬ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হয়।

সূত্রঃ http://m.dailyhunt.in/news/india/english/oneindia-epaper-oneindia/chhattisgarh+maoists+attack+70+attackers+were+women-newsid-66871565?ss=fb&s=a


বাংলাদেশের এক শ্রমিকের লেখা শ্রমজীবী কবিতা – ‘মজদুর মেয়ে’

মজদুর মেয়ে

ইচ্ছে ছিল না মজদুর মেয়েটাকে নিয়ে গদ্য লিখার

কালি-কলম রক্তের অক্ষর লিখে যায়- সোনাফলানো

ক্ষেতের চাষি-মজদুরের কাহিনী, চাষি-বউরা নিদ্রায়।

মজদুর মেয়েটা কথা সারে চাষিদের সাথে, খুব ভোরে

বুনবে স্বপ্নের রোয়া চাষিদের জমিতে অথবা ভাড়ায়

কেনা। মজদুর মেয়েটার জমি নেই, তবু সব জমি তার

বেগার খেটে যাওয়া নয়, সে যেন চাষির সহদোর বোন

বর্ষার জলে ভিজে ভিজে সতেজ জমিতে ধান বোনা হয়

চাষিদের সাথে মজদুর মেয়েটাও ধান বুনে নিজ হাতে।

বৃষ্টির ছন্দ চাষিদের হাতে। পায়রার মত দোলায়

খোঁপা মজদুর মেয়েটা, গান ধরেঃ আয় বৃষ্টি ঝেপে- ধান

দেব যে মেপে। হেমন্তে নাচে বাঁকা ধানের শীষ। মজদুর

মেয়েটা গিয়েছে শহরে। বস্তিতে ব্যস্ত নারী শ্রমিকের কাজে

ফিরবে এ-গাঁয়ে বা অন্য গাঁয়ে। আন্ধার মেঘের ছায়ায়

নিখোঁজ সংবাদ এলো- সে ছিল এক কমরেড মজদুর।

 

রচনাকালঃ ২৪.০৫.২০১৫

 


সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীর ‘নিরাপত্তা’য় পুরুষ পাঠানো

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী ভারত, শ্রীলংকা, ফিলিপাইন, ভুটান, নেপাল থেকে নারী গৃহকর্মী পাঠানো হচ্ছে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। আমাদের দেশ থেকে যেসমস্ত নারীগণ মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে যান তাদের অর্ধেকেরও বেশি যান সৌদি আরবে।

যারা যান তারা নিতান্তই দেশে দরিদ্র, যারা অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতেন বা কাটাচ্ছেন। দেশে তারা জীবিকা নির্বাহ করতে না পেরে বাধ্য হয়ে বিদেশে যান।

সৌদি আরবে এখন গৃহকর্মী পাঠানোর বিষয়টি একারণেই আলোচিত যে- সৌদি আরবে যেসমস্ত নারীরা গৃহকর্মী হিসেবে শ্রম করতে যান তাদেরকে সৌদি রাজতান্ত্রিক, স্বৈরতান্ত্রিক গৃহমালিকরা মানুষ হিসেবে গণ্য না করে তাদের সাথে পশুর মতো আচরণ করে। শ্রমিকের মর্যাদা তো আরো পরের বিষয়। বাংলাদেশ থেকে নেয়া গৃহকর্মী নারীদেরকে মধ্যযুগীয় ক্রীতদাসী হিসেবে গণ্য করে। দালাল চক্র তাদের ইচ্ছামতো বেচাকেনা করে। এসমস্ত অসহায় নারীদের দিয়ে যৌন ব্যবসা করায়। গৃহের কর্তার দ্বারা ধর্ষণ, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, না খাইয়ে রাখা, ঠিকমতো খেতে না দেয়া, দেশে পরিবার-পরিজনের সাথে যোগাযোগ করতে না দেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের অপমানজনক, অমানবিক, লাঞ্ছনা, বঞ্চনা, নিপীড়নের শিকার হতে হয় নারীদেরকে। বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে পড়ে কোনো-কোনো নারী দেশে ফিরে আসেন। সৌদি আরবে এপর্যন্ত ৮০ হাজার নারী গৃহকর্মী পাঠানো হয়েছে। তারমধ্যে ৫০ ভাগই ফেরত এসেছেন। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বুর্জোয়া পত্র-পত্রিকা এবং গণমাধ্যমেও এটা আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।

হাসিনা সরকারের প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী যুক্তি দেয় যে, গৃহকর্মীদের মাঝে হোম সিকনেস (বাড়ি ফেরা রোগ) কাজ করে, এজন্য তারা এগুলো বানিয়ে বলে। সৌদি নাগরিকরা ভাত খায় না রুটি খায়- গৃহকর্মীরা বলে তাদেরকে ভাত দেয় না, না খাইয়ে রাখে। মন্ত্রীর এসমস্ত ভাষ্য মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়েছেন সৌদি আরব থেকে ফেরত আসা নারীরা তাদের জীবনের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া অপমান, লাঞ্ছনা, বঞ্চনার কথা বর্ণনা করে। যা পত্রপত্রিকাসহ নানা মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে।

হাসিনা সরকার আবারো সৌদি সরকারের সাথে ১ লক্ষ ২০ হাজার গৃহকর্মী পাঠানোর চুক্তি করেছে। যেহেতু গৃহকর্মীদের উপর নিপীড়নকে সকল স্তরের প্রগতিশীল ও সুশীল সমাজ এবং নারী সমাজ প্রতিবাদ করেছেন, আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে, তাই একজন নারীকে ‘নিরাপত্তা’ দিতে সাথে ২ জন পুরুষ যেতে পারবে বলে সরকার ঘোষণা দিয়েছে। যে পুরুষরা গৃহকর্মী নারীকে পাহারা দিবে।

সরকারের এই আনাড়ি ও গোজামিলের ব্যবস্থা নারীজাতির জন্য অসম্মানজনক, অপমানজনকই শুধু নয়, লজ্জাজনকও। সরকার এবং রাষ্ট্রের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির আরো একবার প্রকাশ ঘটালো এই পদক্ষেপের মধ্যদিয়ে। সরকারের এই পুরুষ পাহারাদারের ব্যবস্থা নারীজাতিকে মধ্যযুগে ফিরিয়ে নেয়ারই দৃষ্টিভঙ্গি।

বুর্জোয়া শাসক শ্রেণির দল আওয়ামী লীগ সরকার সৌদি সরকারের সাথে যে চুক্তি করেছে সেখানে সৌদি সরকারের উপর কোনো চাপ সৃষ্টি করেনি। যেসমস্ত দরিদ্র নারী গৃহকর্মীদের উপার্জিত বিদেশি অর্থে তাদের সরকারি বিলাস চলে সেসমস্ত নারীদের জন্য সম্মানজনক কোনো চুক্তি করেনি। দ্বিপক্ষীয় চুক্তি লংঘন করে সৌদি আরব গৃহকর্মীদের উপর অমানবিক বর্বরোচিত আচরণ করেছে এবং এখনো করছে। এগুলো বন্ধ করার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। সৌদি আরব আমাদের নারীদের সাথে যা করেছে তার জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে শর্তসাপেক্ষে চুক্তি না করে নতজানু হয়েছে। যেন সৌদি সরকার গৃহকর্মী নিয়ে কৃপা করছে।

অথচ সৌদি আরবে নারীর প্রতি এ জাতীয় অপমান ও বর্বরতার জন্য শ্রীলংকা এবং ফিলিপাইন সৌদি আরবে গৃহকর্মী না পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। সেখানে  বছরে ১ লক্ষ ২০ হাজার গৃহকর্মী পাঠাতে পেরে সরকার নিজেই নিজেকে বাহবা দিচ্ছে। আমাদের নারীদের সম্মান সম্ভ্রম তার কাছে গুরুত্ব পায়নি। সরকার এবং তার মন্ত্রী এই চুক্তি করতে পেরেছে এ কারণেই যে এসমস্ত নারীগণ হচ্ছেন দরিদ্র কৃষক-শ্রমিক-শ্রমজীবী জনগণ ও তাদের সন্তান। একইসাথে তারা নারী। গৃহকর্মীদের সাথে ২ জন পুরুষ নিরাপত্তার জন্য পাঠানোর কথা বলা হচ্ছে, যা কার্যত অর্থহীন অসার এবং হাস্যকরও।

রাজতান্ত্রিক ধর্মান্ধ মৌলবাদী চরম প্রতিক্রিয়াশীল সৌদি আরবে নারীদের ‘পরপুরুষ’-এর সামনে যাওয়া নিষিদ্ধ। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুরুষরা কি গৃহে প্রবেশ করতে পারবেন? তা পারবেন না নিঃসন্দেহে। গৃহকর্মী গৃহকর্তার লালসার শিকার হলে (যা সাধারণভাবেই হয়ে থাকে) বা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হলে উক্ত পুরুষরা রক্ষা করবেন কীভাবে? যদি তিনি রক্ষা করতে যান তাহলে তারই গর্দান যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। সৌদি আরবে এমনই মধ্যযুগীয় বিধি-বিধান, আইন রয়েছে।

সরকার নাকি মোট ৬৮টি দেশে নারী শ্রমিক (গৃহকর্মীসহ) পাঠাচ্ছে। এই হার নাকি গত ১০ বছরে ৬ গুণ বেড়েছে। সারা বিশ্বের নারী শ্রমিকদের উপর একইভাবে শ্রম শোষণ নিপীড়ন নির্যাতন হয়ে আসছে। কারণ তারা মূল শ্রেণির জনগণ। ধনীক শ্রেণির নারী হলে এভাবে শর্তবিহীন চুক্তি তারা করতে পারতো না। তাই শ্রেণির প্রশ্নটি খুবই গুরুরুত্বপূর্ণ, তা শ্রমিক-কৃষক-দরিদ্র নারীদেরকে বুঝতে হবে। তাদের শ্রম, ঘাম, রক্ত এবং বাধ্যতামূলক দেহব্যবসার উপার্জিত রেমিটেন্সে শাসক শ্রেণির সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার পূর্ণ হচ্ছে; মন্ত্রী, আমলা, উপদেষ্টাদের টাকা বাড়ছে, বিলাসবহুল গাড়ি, বাড়ি হয়েছে- হচ্ছে।

গৃহকর্মীসহ শ্রমিক-কৃষক দরিদ্র জনগণকে বুঝতে হবে এই সরকার, রাষ্ট্র তাদের স্বার্থের নয়। এই সরকার, রাষ্ট্র হচ্ছে শোষণমূলক ব্যবস্থার। বড়ধনী শ্রেণির সরকার আপনাদের স্বার্থ সম্মান রক্ষা করার সরকার নয়। তা আপনারা নিজস্ব অভিজ্ঞতা দিয়েই বুঝতে পারছেন।

সৌদি আরবেও একই শোষনমূলক সমাজ ব্যবস্থা। রাজতান্ত্রিক মৌলবাদের শৃঙ্খলে শৃঙ্খলিত রয়েছেন সেখানকার নারীরা। তারা মাত্র ২০১৫ সালে ভোটাধিকার পেয়েছেন। সৌদি নারীরা আরো একধাপ পিছিয়ে রয়েছেন। তাদেরকেও বিপ্লবী নারী মুক্তির আন্দোলনে নামতে হবে। সেদেশের নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবে যোগ দিতে হবে। সমাজতন্ত্র-কমিউনিজমের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। তাছাড়া যেমন বাংলাদেশের নারীদের মুক্তি নেই। সৌদি নারীদেরও মুক্তি নেই।

– ডিসেম্বর/’১৬

সূত্রঃ নারী মুক্তি, মার্চ ২০১৭ সংখ্যা

 


গার্মেন্টস আন্দোলনঃ শ্রমিকদের বিপ্লবকে আঁকড়ে ধরতে হবে

সাম্প্রতিককালে আবারও গার্মেন্টস শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে নেমেছিলেন। উল্লেখ্য, গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রায় ৮০ ভাগই হচ্ছেন নারী শ্রমিক। সাভারের আশুলিয়ায় এ আন্দোলনের সূচনা হলেও দ্রুতই শ্রমিকদের এ প্রাণের দাবিতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গার্মেন্টস এলাকায়ও তারা এ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে প্রধান দাবি ছিল মূল মজুরি ১০ হাজার টাকাসহ মোট মজুরি ১৬ হাজার টাকা করতে হবে। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পরিস্থিতিতে তাদের এই ন্যায্য দাবিকে শুরু থেকেই গার্মেন্টস মালিকপক্ষ মেনে নিতে অস্বীকার করে। আন্দোলন দমনে একদিকে চক্রান্ত করতে থাকে, অন্যদিকে শ্রমিকদেরকে নানারকম ভয়ভীতি দেখাতে থাকে, হুমকি দিতে থাকে। কিন্তু শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য আন্দোলন আরো জোরদারভাবে এগিয়ে নিতে থাকেন। দেশের প্রগতিশীল ও বিপ্লবী জনগোষ্ঠীও এ আন্দোলনকে সমর্থন করেন। এদের কোনো কোনো সংগঠন সরাসরি মাঠে শ্রমিকদের আন্দোলনে শামিল হয়। মালিকরা ঘাবড়ে যায়। এমনি পরিস্থিতিতে মালিকরা এবং তাদের সংগঠন বিজিএমইএ হাসিনা সরকারের মদদে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী দমন নামিয়ে আনে। একইসাথে তারা এ আন্দোলনকে “ষড়যন্ত্র” বলে। একপর্যায়ে শ্রমিকদেরকে না খাইয়ে মারার ষড়যন্ত্রে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য গার্মেন্টস বন্ধ করে দেয়। বড় ধনীদের হাসিনা সরকারও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মালিকদের পক্ষ নিয়ে এ আন্দোলনকে গার্মেন্টস শিল্পের বিরুদ্ধে, উন্নয়নের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দমনে নামে। তারা বলে যে, এটা হলো বহিরাগতদের কাজ। একইসাথে তারা আন্দোলনের নেতৃত্বকারী গার্মেন্টস শ্রমিকসহ বেশকিছু শ্রমিককে ছাঁটাই করে। এমনকি তারা যাতে অন্য কোনো গার্মেন্টসে কাজ নিতে না পারেন সে চক্রান্তেও নামে। মালিক-সরকার ফ্যাসিবাদী ঔদ্ধত্যের সঙ্গে বলে যে কোনোরকম মজুরি বাড়ানো হবে না। এ ধরনের চরম শ্রমিকবিরোধী অপতৎপরতার ফলে আন্দোলন থিতিয়ে এলে এক পর্যায়ে গার্মেন্টস খুলে দেয়া হয়।

শ্রমিক তথা শ্রমিক আন্দোলন সম্পর্কে মালিক ও শাসকশ্রেণির এই আচরণ নতুন নয়। যখনই শ্রমিকরা অস্তিত্বের জন্য, বেঁচে থাকার জন্য আন্দোলন করেছেন তখনই এরা একজোট হয়ে রাষ্টযন্ত্রকে ব্যবহার করে দমনে নেমেছে। এমনকি একে গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বলেছে, বহিরাগতদের তৎপরতা বলে আখ্যায়িত করেছে। ইতিহাসে এটা দেশভেদে বারবারই দেখা গেছে, দেখা যায়। ইতিহাসের এই বাস্তবতা অত্যন্ত সঠিকভাবেই মূল্যায়ন করেছে যে, উভয়পক্ষের স্বার্থ সম্পূর্ণই হচ্ছে দুটি বিপরীত শ্রেণিস্বার্থ। শ্রমিক তার একমাত্র সম্পদ শ্রম বিক্রি করে বেঁচে থাকার জন্য। বিপরীতে মালিকপক্ষ এই শ্রমিকদের শোষণ করে সীমাহীন মুনাফা বাড়িয়ে চলার জন্য। এটা পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী শোষণমূলক ব্যবস্থার নিয়ম। এখানে পারতপক্ষে মালিকরা শ্রমিকদের মজুরি, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে তথা মৌলিক অধিকার দিতে নারাজ। কিন্তু শ্রমিকদেরও এসবের জন্য আন্দোলন ছাড়া উপায় নেই। তাদের তা করতেই হবে, তারা তা করবেনও। কিন্তু শ্রমিকদের এই শোষণমূলক ব্যবস্থায় আন্দোলন করে দফায় দফায় মজুরি বাড়িয়েও মানবেতর জীবন কোনো সমাধান নয়। তাদেরকে এই শ্রম-দাসত্বের দুঃসহ জীবন থেকে মুক্তির জন্য শোষণমূলক এই সমাজব্যবস্থাকে পুরোপুরি বদলে ফেলতে হবে। এজন্য তাদেরকে শাসকশ্রেণির হাত থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা নিজেদের হাতে নিতে হবে। এ এক বিপ্লবী দায়িত্ব। একে প্রধান কাজ হিসেবে নিতে হবে। নিজেদেরকে বিপ্লবী রাজনীতিতে শিক্ষিত ও সজ্জিত করতে হবে। পাশাপাশি দাবি-দাওয়ার আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে, সংগঠিতভাবে ও জোরদারভাবে চালিয়ে যেতে হবে। 

সূত্রঃ নারী মুক্তি, মার্চ ২০১৭ সংখ্যা