চিলির সান্তিয়াগোতে নারীবাদী স্কুল ”ফ্লোরা ত্রিস্তান” এর সভা অনুষ্ঠিত

19024463_1181256855320049_1628049613_o

গত ৬ই জুন, মঙ্গলবার চিলির সান্তিয়াগোতে ত্রিশ জন সদস্যের উপস্থিতিতে, নারীবাদী স্কুল “ফ্লোরা ত্রিস্তান” এর গোল টেবিল সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভার আয়োজন করে কনট্র্যাকরিয়েন্টে ছাত্ররা। ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদে অনুষ্ঠিত এই সভায় নারী এবং পুরুষ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই ছাত্র ছাত্র ছিল।

সভায়, প্রতিটি সংগঠন নারীবাদী বিষয়ে তাদের মতামত পেশ করে এবং উল্লেখিত প্রশ্নগুলির বিষয়ে বিতর্কের দিকে অগ্রসর হয়:

“চিলিতে আজ নারীবাদীর কাজ কী? নারীবাদী সংগ্রামের বিষয় বা বিষয় কি? এটা কি গুরুত্বপূর্ণ? নারীবাদী সংগঠন হিসেবে আমরা নিজেদেরকে পুঁজিবাদ বিরোধী বলে ঘোষণা করি?”

 


ছত্তিশগড়ে মাওবাদী হামলাঃ হামলাকারীদের মধ্যে ৭০% নারী গেরিলা ছিল

গত সোমবার ছত্তিশগড়ের দক্ষিণ বাস্তার জেলার কালাপথে মাওবাদীদের সাথে বন্দুকযুদ্ধে আহত একজন সিআরপিএফ সৈনিক বলেছে যে, হামলাকারীদের মধ্যে ৭০% ভাগই মাওবাদী নারী গেরিলা ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সৈনিক বলেন যে, ঐ সময় মাওবাদীদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীদের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল, যারা AK-47 নিয়ে সিআরপিএফ সৈন্যদের আক্রমণ করেছিল।

আরেকজন সৈনিক বলেন যে, সৈনিকদের হত্যা করার পর নারীরা অস্ত্র লুট করে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য যে, ২৪শে এপ্রিল ছত্তিশগড়ের দক্ষিণ বাস্তার জেলার কালাপথের এলাকায় মাওবাদীদের সঙ্গে প্রচণ্ড এক লড়াইয়ের সময় ২৬ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হয়।

সূত্রঃ http://m.dailyhunt.in/news/india/english/oneindia-epaper-oneindia/chhattisgarh+maoists+attack+70+attackers+were+women-newsid-66871565?ss=fb&s=a


বাংলাদেশের এক শ্রমিকের লেখা শ্রমজীবী কবিতা – ‘মজদুর মেয়ে’

মজদুর মেয়ে

ইচ্ছে ছিল না মজদুর মেয়েটাকে নিয়ে গদ্য লিখার

কালি-কলম রক্তের অক্ষর লিখে যায়- সোনাফলানো

ক্ষেতের চাষি-মজদুরের কাহিনী, চাষি-বউরা নিদ্রায়।

মজদুর মেয়েটা কথা সারে চাষিদের সাথে, খুব ভোরে

বুনবে স্বপ্নের রোয়া চাষিদের জমিতে অথবা ভাড়ায়

কেনা। মজদুর মেয়েটার জমি নেই, তবু সব জমি তার

বেগার খেটে যাওয়া নয়, সে যেন চাষির সহদোর বোন

বর্ষার জলে ভিজে ভিজে সতেজ জমিতে ধান বোনা হয়

চাষিদের সাথে মজদুর মেয়েটাও ধান বুনে নিজ হাতে।

বৃষ্টির ছন্দ চাষিদের হাতে। পায়রার মত দোলায়

খোঁপা মজদুর মেয়েটা, গান ধরেঃ আয় বৃষ্টি ঝেপে- ধান

দেব যে মেপে। হেমন্তে নাচে বাঁকা ধানের শীষ। মজদুর

মেয়েটা গিয়েছে শহরে। বস্তিতে ব্যস্ত নারী শ্রমিকের কাজে

ফিরবে এ-গাঁয়ে বা অন্য গাঁয়ে। আন্ধার মেঘের ছায়ায়

নিখোঁজ সংবাদ এলো- সে ছিল এক কমরেড মজদুর।

 

রচনাকালঃ ২৪.০৫.২০১৫

 


সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীর ‘নিরাপত্তা’য় পুরুষ পাঠানো

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী ভারত, শ্রীলংকা, ফিলিপাইন, ভুটান, নেপাল থেকে নারী গৃহকর্মী পাঠানো হচ্ছে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। আমাদের দেশ থেকে যেসমস্ত নারীগণ মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে যান তাদের অর্ধেকেরও বেশি যান সৌদি আরবে।

যারা যান তারা নিতান্তই দেশে দরিদ্র, যারা অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতেন বা কাটাচ্ছেন। দেশে তারা জীবিকা নির্বাহ করতে না পেরে বাধ্য হয়ে বিদেশে যান।

সৌদি আরবে এখন গৃহকর্মী পাঠানোর বিষয়টি একারণেই আলোচিত যে- সৌদি আরবে যেসমস্ত নারীরা গৃহকর্মী হিসেবে শ্রম করতে যান তাদেরকে সৌদি রাজতান্ত্রিক, স্বৈরতান্ত্রিক গৃহমালিকরা মানুষ হিসেবে গণ্য না করে তাদের সাথে পশুর মতো আচরণ করে। শ্রমিকের মর্যাদা তো আরো পরের বিষয়। বাংলাদেশ থেকে নেয়া গৃহকর্মী নারীদেরকে মধ্যযুগীয় ক্রীতদাসী হিসেবে গণ্য করে। দালাল চক্র তাদের ইচ্ছামতো বেচাকেনা করে। এসমস্ত অসহায় নারীদের দিয়ে যৌন ব্যবসা করায়। গৃহের কর্তার দ্বারা ধর্ষণ, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, না খাইয়ে রাখা, ঠিকমতো খেতে না দেয়া, দেশে পরিবার-পরিজনের সাথে যোগাযোগ করতে না দেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের অপমানজনক, অমানবিক, লাঞ্ছনা, বঞ্চনা, নিপীড়নের শিকার হতে হয় নারীদেরকে। বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে পড়ে কোনো-কোনো নারী দেশে ফিরে আসেন। সৌদি আরবে এপর্যন্ত ৮০ হাজার নারী গৃহকর্মী পাঠানো হয়েছে। তারমধ্যে ৫০ ভাগই ফেরত এসেছেন। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বুর্জোয়া পত্র-পত্রিকা এবং গণমাধ্যমেও এটা আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।

হাসিনা সরকারের প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী যুক্তি দেয় যে, গৃহকর্মীদের মাঝে হোম সিকনেস (বাড়ি ফেরা রোগ) কাজ করে, এজন্য তারা এগুলো বানিয়ে বলে। সৌদি নাগরিকরা ভাত খায় না রুটি খায়- গৃহকর্মীরা বলে তাদেরকে ভাত দেয় না, না খাইয়ে রাখে। মন্ত্রীর এসমস্ত ভাষ্য মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়েছেন সৌদি আরব থেকে ফেরত আসা নারীরা তাদের জীবনের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া অপমান, লাঞ্ছনা, বঞ্চনার কথা বর্ণনা করে। যা পত্রপত্রিকাসহ নানা মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে।

হাসিনা সরকার আবারো সৌদি সরকারের সাথে ১ লক্ষ ২০ হাজার গৃহকর্মী পাঠানোর চুক্তি করেছে। যেহেতু গৃহকর্মীদের উপর নিপীড়নকে সকল স্তরের প্রগতিশীল ও সুশীল সমাজ এবং নারী সমাজ প্রতিবাদ করেছেন, আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে, তাই একজন নারীকে ‘নিরাপত্তা’ দিতে সাথে ২ জন পুরুষ যেতে পারবে বলে সরকার ঘোষণা দিয়েছে। যে পুরুষরা গৃহকর্মী নারীকে পাহারা দিবে।

সরকারের এই আনাড়ি ও গোজামিলের ব্যবস্থা নারীজাতির জন্য অসম্মানজনক, অপমানজনকই শুধু নয়, লজ্জাজনকও। সরকার এবং রাষ্ট্রের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির আরো একবার প্রকাশ ঘটালো এই পদক্ষেপের মধ্যদিয়ে। সরকারের এই পুরুষ পাহারাদারের ব্যবস্থা নারীজাতিকে মধ্যযুগে ফিরিয়ে নেয়ারই দৃষ্টিভঙ্গি।

বুর্জোয়া শাসক শ্রেণির দল আওয়ামী লীগ সরকার সৌদি সরকারের সাথে যে চুক্তি করেছে সেখানে সৌদি সরকারের উপর কোনো চাপ সৃষ্টি করেনি। যেসমস্ত দরিদ্র নারী গৃহকর্মীদের উপার্জিত বিদেশি অর্থে তাদের সরকারি বিলাস চলে সেসমস্ত নারীদের জন্য সম্মানজনক কোনো চুক্তি করেনি। দ্বিপক্ষীয় চুক্তি লংঘন করে সৌদি আরব গৃহকর্মীদের উপর অমানবিক বর্বরোচিত আচরণ করেছে এবং এখনো করছে। এগুলো বন্ধ করার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। সৌদি আরব আমাদের নারীদের সাথে যা করেছে তার জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে শর্তসাপেক্ষে চুক্তি না করে নতজানু হয়েছে। যেন সৌদি সরকার গৃহকর্মী নিয়ে কৃপা করছে।

অথচ সৌদি আরবে নারীর প্রতি এ জাতীয় অপমান ও বর্বরতার জন্য শ্রীলংকা এবং ফিলিপাইন সৌদি আরবে গৃহকর্মী না পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। সেখানে  বছরে ১ লক্ষ ২০ হাজার গৃহকর্মী পাঠাতে পেরে সরকার নিজেই নিজেকে বাহবা দিচ্ছে। আমাদের নারীদের সম্মান সম্ভ্রম তার কাছে গুরুত্ব পায়নি। সরকার এবং তার মন্ত্রী এই চুক্তি করতে পেরেছে এ কারণেই যে এসমস্ত নারীগণ হচ্ছেন দরিদ্র কৃষক-শ্রমিক-শ্রমজীবী জনগণ ও তাদের সন্তান। একইসাথে তারা নারী। গৃহকর্মীদের সাথে ২ জন পুরুষ নিরাপত্তার জন্য পাঠানোর কথা বলা হচ্ছে, যা কার্যত অর্থহীন অসার এবং হাস্যকরও।

রাজতান্ত্রিক ধর্মান্ধ মৌলবাদী চরম প্রতিক্রিয়াশীল সৌদি আরবে নারীদের ‘পরপুরুষ’-এর সামনে যাওয়া নিষিদ্ধ। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুরুষরা কি গৃহে প্রবেশ করতে পারবেন? তা পারবেন না নিঃসন্দেহে। গৃহকর্মী গৃহকর্তার লালসার শিকার হলে (যা সাধারণভাবেই হয়ে থাকে) বা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হলে উক্ত পুরুষরা রক্ষা করবেন কীভাবে? যদি তিনি রক্ষা করতে যান তাহলে তারই গর্দান যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। সৌদি আরবে এমনই মধ্যযুগীয় বিধি-বিধান, আইন রয়েছে।

সরকার নাকি মোট ৬৮টি দেশে নারী শ্রমিক (গৃহকর্মীসহ) পাঠাচ্ছে। এই হার নাকি গত ১০ বছরে ৬ গুণ বেড়েছে। সারা বিশ্বের নারী শ্রমিকদের উপর একইভাবে শ্রম শোষণ নিপীড়ন নির্যাতন হয়ে আসছে। কারণ তারা মূল শ্রেণির জনগণ। ধনীক শ্রেণির নারী হলে এভাবে শর্তবিহীন চুক্তি তারা করতে পারতো না। তাই শ্রেণির প্রশ্নটি খুবই গুরুরুত্বপূর্ণ, তা শ্রমিক-কৃষক-দরিদ্র নারীদেরকে বুঝতে হবে। তাদের শ্রম, ঘাম, রক্ত এবং বাধ্যতামূলক দেহব্যবসার উপার্জিত রেমিটেন্সে শাসক শ্রেণির সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার পূর্ণ হচ্ছে; মন্ত্রী, আমলা, উপদেষ্টাদের টাকা বাড়ছে, বিলাসবহুল গাড়ি, বাড়ি হয়েছে- হচ্ছে।

গৃহকর্মীসহ শ্রমিক-কৃষক দরিদ্র জনগণকে বুঝতে হবে এই সরকার, রাষ্ট্র তাদের স্বার্থের নয়। এই সরকার, রাষ্ট্র হচ্ছে শোষণমূলক ব্যবস্থার। বড়ধনী শ্রেণির সরকার আপনাদের স্বার্থ সম্মান রক্ষা করার সরকার নয়। তা আপনারা নিজস্ব অভিজ্ঞতা দিয়েই বুঝতে পারছেন।

সৌদি আরবেও একই শোষনমূলক সমাজ ব্যবস্থা। রাজতান্ত্রিক মৌলবাদের শৃঙ্খলে শৃঙ্খলিত রয়েছেন সেখানকার নারীরা। তারা মাত্র ২০১৫ সালে ভোটাধিকার পেয়েছেন। সৌদি নারীরা আরো একধাপ পিছিয়ে রয়েছেন। তাদেরকেও বিপ্লবী নারী মুক্তির আন্দোলনে নামতে হবে। সেদেশের নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবে যোগ দিতে হবে। সমাজতন্ত্র-কমিউনিজমের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। তাছাড়া যেমন বাংলাদেশের নারীদের মুক্তি নেই। সৌদি নারীদেরও মুক্তি নেই।

– ডিসেম্বর/’১৬

সূত্রঃ নারী মুক্তি, মার্চ ২০১৭ সংখ্যা

 


গার্মেন্টস আন্দোলনঃ শ্রমিকদের বিপ্লবকে আঁকড়ে ধরতে হবে

সাম্প্রতিককালে আবারও গার্মেন্টস শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে নেমেছিলেন। উল্লেখ্য, গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রায় ৮০ ভাগই হচ্ছেন নারী শ্রমিক। সাভারের আশুলিয়ায় এ আন্দোলনের সূচনা হলেও দ্রুতই শ্রমিকদের এ প্রাণের দাবিতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গার্মেন্টস এলাকায়ও তারা এ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে প্রধান দাবি ছিল মূল মজুরি ১০ হাজার টাকাসহ মোট মজুরি ১৬ হাজার টাকা করতে হবে। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পরিস্থিতিতে তাদের এই ন্যায্য দাবিকে শুরু থেকেই গার্মেন্টস মালিকপক্ষ মেনে নিতে অস্বীকার করে। আন্দোলন দমনে একদিকে চক্রান্ত করতে থাকে, অন্যদিকে শ্রমিকদেরকে নানারকম ভয়ভীতি দেখাতে থাকে, হুমকি দিতে থাকে। কিন্তু শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য আন্দোলন আরো জোরদারভাবে এগিয়ে নিতে থাকেন। দেশের প্রগতিশীল ও বিপ্লবী জনগোষ্ঠীও এ আন্দোলনকে সমর্থন করেন। এদের কোনো কোনো সংগঠন সরাসরি মাঠে শ্রমিকদের আন্দোলনে শামিল হয়। মালিকরা ঘাবড়ে যায়। এমনি পরিস্থিতিতে মালিকরা এবং তাদের সংগঠন বিজিএমইএ হাসিনা সরকারের মদদে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী দমন নামিয়ে আনে। একইসাথে তারা এ আন্দোলনকে “ষড়যন্ত্র” বলে। একপর্যায়ে শ্রমিকদেরকে না খাইয়ে মারার ষড়যন্ত্রে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য গার্মেন্টস বন্ধ করে দেয়। বড় ধনীদের হাসিনা সরকারও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মালিকদের পক্ষ নিয়ে এ আন্দোলনকে গার্মেন্টস শিল্পের বিরুদ্ধে, উন্নয়নের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দমনে নামে। তারা বলে যে, এটা হলো বহিরাগতদের কাজ। একইসাথে তারা আন্দোলনের নেতৃত্বকারী গার্মেন্টস শ্রমিকসহ বেশকিছু শ্রমিককে ছাঁটাই করে। এমনকি তারা যাতে অন্য কোনো গার্মেন্টসে কাজ নিতে না পারেন সে চক্রান্তেও নামে। মালিক-সরকার ফ্যাসিবাদী ঔদ্ধত্যের সঙ্গে বলে যে কোনোরকম মজুরি বাড়ানো হবে না। এ ধরনের চরম শ্রমিকবিরোধী অপতৎপরতার ফলে আন্দোলন থিতিয়ে এলে এক পর্যায়ে গার্মেন্টস খুলে দেয়া হয়।

শ্রমিক তথা শ্রমিক আন্দোলন সম্পর্কে মালিক ও শাসকশ্রেণির এই আচরণ নতুন নয়। যখনই শ্রমিকরা অস্তিত্বের জন্য, বেঁচে থাকার জন্য আন্দোলন করেছেন তখনই এরা একজোট হয়ে রাষ্টযন্ত্রকে ব্যবহার করে দমনে নেমেছে। এমনকি একে গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বলেছে, বহিরাগতদের তৎপরতা বলে আখ্যায়িত করেছে। ইতিহাসে এটা দেশভেদে বারবারই দেখা গেছে, দেখা যায়। ইতিহাসের এই বাস্তবতা অত্যন্ত সঠিকভাবেই মূল্যায়ন করেছে যে, উভয়পক্ষের স্বার্থ সম্পূর্ণই হচ্ছে দুটি বিপরীত শ্রেণিস্বার্থ। শ্রমিক তার একমাত্র সম্পদ শ্রম বিক্রি করে বেঁচে থাকার জন্য। বিপরীতে মালিকপক্ষ এই শ্রমিকদের শোষণ করে সীমাহীন মুনাফা বাড়িয়ে চলার জন্য। এটা পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী শোষণমূলক ব্যবস্থার নিয়ম। এখানে পারতপক্ষে মালিকরা শ্রমিকদের মজুরি, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে তথা মৌলিক অধিকার দিতে নারাজ। কিন্তু শ্রমিকদেরও এসবের জন্য আন্দোলন ছাড়া উপায় নেই। তাদের তা করতেই হবে, তারা তা করবেনও। কিন্তু শ্রমিকদের এই শোষণমূলক ব্যবস্থায় আন্দোলন করে দফায় দফায় মজুরি বাড়িয়েও মানবেতর জীবন কোনো সমাধান নয়। তাদেরকে এই শ্রম-দাসত্বের দুঃসহ জীবন থেকে মুক্তির জন্য শোষণমূলক এই সমাজব্যবস্থাকে পুরোপুরি বদলে ফেলতে হবে। এজন্য তাদেরকে শাসকশ্রেণির হাত থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা নিজেদের হাতে নিতে হবে। এ এক বিপ্লবী দায়িত্ব। একে প্রধান কাজ হিসেবে নিতে হবে। নিজেদেরকে বিপ্লবী রাজনীতিতে শিক্ষিত ও সজ্জিত করতে হবে। পাশাপাশি দাবি-দাওয়ার আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে, সংগঠিতভাবে ও জোরদারভাবে চালিয়ে যেতে হবে। 

সূত্রঃ নারী মুক্তি, মার্চ ২০১৭ সংখ্যা

 


মণিপুর আন্দোলনে ইরোম শর্মিলার পশ্চাদপসরণ – দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের এক নৈতিক পরাজয়

ইরোম শর্মিলা ছিলেন ভারতের মণিপুর রাজ্যের নারী আন্দোলনের এক বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর। যিনি ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের রাষ্ট্রীয় দমন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবং তার রক্ষাকবচ গণবিরোধী আইন “আফসপা” (AFSPA) বাতিলের দাবিতে দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ অনশন ধর্মঘটের মাধ্যমে সংগ্রাম করে আসছিলেন। ইরোম শর্মিলার এই সংগ্রাম ছিল মণিপুরি জনগণের উপর ভারতীয় শাসকশ্রেণির আধিপত্য বজায় রাখার এক সন্ত্রাসী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতিবাদ। এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মণিপুর রাজ্যের নিপীড়িত জনগণ ধারাবাহিকভাবে বীরোচিত সংগ্রাম করে আসছেন। এই সংগ্রাম বুর্জোয়া মিডিয়ায় বিশেষ প্রচার না পেলেও ইরোম শর্মিলার দীর্ঘ অনশন ধর্মঘটের কারণেই ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের বর্বরোচিত হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতনের খবর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছিল। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনসহ মণিপুরের সকল আন্দোলনেই রয়েছে সেখানকার নারীদের বিশেষ ভূমিকা। মণিপুর রাজ্যে ভারতীয় শাসকশ্রেণির শোষণ-শাসন এবং সেনাবাহিনীর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিপীড়িত জনগণের মুক্তি সংগ্রামের অংশ হিসেবে নিপীড়িত নারীদের যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে ইরোম শর্মিলার সংগ্রাম তারই অংশ।

২০০০ সালের ২ নভেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি বর্বর হত্যাকান্ড (যা মালোম হত্যাকান্ড হিসেবে পরিচিত) ইরোম শর্মিলার বিদ্রোহী চিত্তে এক ঝড় তোলে। সেদিন বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষারত ১০ জন  যাত্রীকে গুলি করে হত্যা করে ভারতীয় কুখ্যাত সেনাবাহিনী। আর যে গণবিরোধী আইনের জোরে সেনাবাহিনী এই হত্যাকান্ডটি নির্বিকারে ঘটিয়েছিল ইরোম শর্মিলা সেই আইন “আফসপা”(AFSPA) বাতিলের দাবিতে সংগ্রাম করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ৫ নভেম্বর মালোম পৌঁছান। সেখানেই শুরু হয় তার অনশন ধর্মঘট। এই অনশন শুরু করার তিনদিন পরেই পুলিশ তাকে “আত্মহত্যার” চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে একই অভিযোগে তাকে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও আটক করে এবং জোরপূর্বক অনশন ভাঙ্গানোর চেষ্টা করে। কিন্তু শর্মিলা তাতে টলেননি। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেও মুখে কোন খাবার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নাকের মাধ্যমে তরল খাবার, পানীয় ও ভিটামিন দেওয়া হতো। শর্মিলার উপর আনীত অভিযোগের (আত্মহত্যার) মামলায় দিল্লীর এক আদালত ইরোম শর্মিলাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাগারে প্রেরণ করে। ভারত রাষ্ট্রের যে গণবিরোধী আইন “আফসপা’র” (AFSPA) বিরুদ্ধে ইরোম শর্মিলা সংগ্রাম করেছিলেন সে আইনে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে যে কোন নাগরিক হত্যা করার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। ভারতীয় শাসকশ্রেণি ফ্যাসিস্ট এই আইনটিকে বৃহৎ “গণতান্ত্রিক” রাষ্ট্রের আইন এবং এর বিরুদ্ধে আন্দোলনকে আত্মহত্যা বলে জঘন্য প্রচারণা চালিয়েছিল।

১৯৭২ সালের ১৪ মার্চ ইরোম শর্মিলার জন্ম। মাধ্যমিক পড়ার সময়েই স্কুলের পাঠ্যপুস্তক শর্মিলার কাছে অর্থহীন মনে হয়। কারণ, সে বইয়ে তিনি তার আশেপাশের মানুষের জীব-সংগ্রামের কোন ইতিহাস দেখতে পাননি। স্কুলে ভারত রাষ্ট্রের সংবিধান পড়েও তিনি তার অসারতা বুঝতে পেরেছিলেন- এটা ভূয়া গণতন্ত্র ছাড়া কিছু নয়। তার মনে প্রশ্ন জাগে মণিপুরসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশাল রাজ্য কি ভারতের অংশ? তাহলে ভারতের অন্যান্য অংশের তুলনায় কেন এই ভূখন্ড এতোটা পিছিয়ে? এমন সব চিন্তা থেকে শর্মিলার আগ্রহ জন্মায় রাজনীতির প্রতি। মণিপুর রাজ্য জুড়ে বিদ্রোহী মুক্তিকামী সংগঠনগুলোর প্রতি তার আগ্রহ জন্মে। তিনি নুপিলানের গণআন্দোলনের (বৃটিশ বিরোধী নারী আন্দোলন) নেতা-কর্মীদের সাথে এবং “মৈরা পাইব” (নারীদের দ্বারা গঠিত সামাজিক সংগঠন) সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে পরিচিত হন। মাধ্যমিক পড়ার পর তিনি একটি সাংবাদিকতার কোর্সে ভর্তি হন, আর এসময়েই তার চেতনার পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। তার বয়েসী ছেলে-মেয়েদের চেয়ে তিনি পৃথক চিন্তা-চেতনার অধিকারী হয়ে পড়েন। তিনি উপলব্ধি করেন ভারতের মূল ভূখন্ডের সাথে মণিপুর রাজ্যের যোজন যোজন পার্থক্য। ইরোম শর্মিলার সংগ্রাম মণিপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সে সংগ্রামের ইতিহাস না জানলে ইরোম শর্মিলার সংগ্রামের তাৎপর্য উপলব্ধি করা আদৌ সম্ভব নয়।

মণিপুর হচ্ছে বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্যের একটি রাজ্য। কিন্তু মনিপুর কখনই ভারত সাম্রাজ্যের অংশ ছিল না। মনিপুরের ইতিহাস সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। উনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ পর্যন্ত ছিল একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাজ্য। ১৮৯১ সালে বৃটিশ উপনিবেশিকরা মণিপুর রাজ্য দখল করে নেয়। বৃটিশ শাসকদের শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে মণিপুরের নিপীড়িত জনগণের ও নিপীড়িত নারীদের আন্দোলন গড়ে উঠে। মণিপুরের শ্রমজীবী নারীরা ১৯০৪ সালে যে আন্দোলন শুরু করেন তা ধারাবাহিকভাবে চলে। যার মধ্যে ছিল ইংরেজ বাহিনীতে জোরপূর্বক নিয়োগ, বাজার বয়কট, অস্বাভাবিক জলকর ধার্য, খৃষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরের, কৃষকদের থেকে কম দামে ধান কিনে মজুদদারী এবং মণিপুরের বাইরে চাল রপ্তানির বিরুদ্ধে আন্দোলন।

১৯৪৭ সালে ১১ আগস্ট মহারাজা বোধ চন্দ্র আর ইংরেজ সরকারের গভর্ণর জেনারেল লুই মাউন্টব্যাটনের মধ্যে একটি চুক্তির মধ্য দিয়ে মণিপুর রাজ্যকে স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা দেয়া হয়। ১৫ আগস্ট ’৪৭ মণিপুর স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়। কিন্তু ভারত তার সম্প্রসারণবাদী চরিত্রের দ্বারা ছলে-বলে-কৌশলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোকে দখলে নেয়। ১৯৪৯ সালে ১৫ অক্টোবর মহারাজা বোধ চন্দ্রের সাথে ভারত সরকারের এক চুক্তির মাধ্যমে মণিপুর ভারতের সাথে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই চুক্তি ছিল মণিপুরের পরাধীনতার চুক্তি। এই চুক্তিতে মহারাজাকে জোরপূর্বক রাজি করানো হয়েছিল। ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান রচনাকালে মণিপুরকে তৃতীয় শ্রেণির অঙ্গরাজ্য হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৭২ সালে মণিপুরকে ভারত সরকার পূর্ণ রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও মূলত ভারতের অধীনে একটি পরাধীন রাজ্য হিসেবে জাতিগত নিপীড়ন চালিয়ে আসছে। ফলে বিগত দিনে জনগণের জীবন-মানের কোন উন্নয়নই ঘটেনি। বরং আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিপতিদের লুটপাট, কালোবাজারী, মাদক ব্যবসার কালো থাবায় মণিপুর রাজ্যকে গ্রাস করে চলে। সেখানে মদ্যপান মহামারী আকার ধারণ করে। সেই সাথে মায়ানমার থেকে চোরা পথে আসে হিরোইন, ইয়াবা, মরফিন, পেথিডিনের মতো মাদক দ্রব্য।

এই মাদকের বিরুদ্ধেও গড়ে উঠে নারী আন্দোলন। ১৯৭৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর মণিপুরের নারীদের উদ্যোগে গঠিত হয় “নিশা বন্ধ” নামে একটি সংগঠন। এই আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে ১৯৭৬ সালের ২১ এপ্রিল সমমনা সংগঠনগুলো একটি সমাবেশের মাধ্যমে গঠন করে একটি কেন্দ্রীয় সংগঠন “অল মণিপুর উইমেনস সোশ্যাল রিফরমেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি” (এএমডব্লিউএসআরডিএস)। এই সংগঠনের কাজের ধারাবাহিকতায় ১৯৮০ সালের ৪ এপ্রিল মদ ও মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধকরণের দাবিতে রাজ্যব্যাপী বন্ধ (হরতাল) পালিত হয়।

১৯৪৯ সালে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের মণিপুর রাজ্য দখলের পর নিপীড়িত জাতি ও জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং শাসকশ্রেণির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠন ও সংগ্রাম গড়ে উঠে যা সশস্ত্র সংগ্রামেও রূপ নেয়। জাতীয়তাবাদী সংগঠনের পাশাপাশি সেখানে মাওবাদী বিপ্লবী সংগঠনও গড়ে উঠে। এই সংগঠনগুলো মণিপুর রাজ্যকে ভারত রাষ্ট্র থেকে স্বাধীন করার জন্য সংগ্রাম করে আসছে। ১৯৭৮ সালে সশস্ত্র সংগ্রামরত পার্টিগুলো সন্ত্রাসী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জোরদার বীরোচিত সংগ্রাম গড়ে তোলে। এই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সমূলে উচ্ছেদের জন্য ভারত সরকার মণিপুরে সেনাবাহিনী পাঠিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নামে হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতনের স্টিমরোলার চালায়। পরে ১৯৮০ সালে সরকার আইন-শৃঙ্খলার অবনতির দোহাই দিয়ে মূলত জনগণের বিদ্রোহ দমনে রাজ্যে সামরিক শাসন জারি করে। সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে নামায়। আফসপা (AFSPA) হলো এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের রক্ষা কবচ।

রাষ্ট্রীয় বাহিনী হত্যা-ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের তা-ব ঘটিয়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে- যাতে জনগণ বিদ্রোহীদের সহযোগিতা না করে। সেনাবাহিনী দ্বারা মণিপুরের হাজার হাজার নারী-পুরুষ হত্যা-ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ও হচ্ছেন। যেমন, ২০০০ সালে মালোম হত্যাকান্ডের পর ২০০৩ সালে ৪ অক্টোবর জনৈকা নান্দৈবম সঞ্জিতার উপর ভারতীয় সেনারা পাশবিক নির্যাতন চালায়। ২০০৪ সালে ১১-১২ জুলাই সেনারা মনোরোমা নামের এক নারীকে ঘরের দরজা ভেঙ্গে তার মা ও দুই ভাইকে আহত করে মনোরোমার দুই চোখ বেঁধে তার উপর নির্যাতন চালায় কয়েক ঘণ্টা ধরে। তাকে সারা শরীরে বেয়োনেট ও ছুরি চালিয়ে হত্যা করা হয়। তাদের অভিযোগ ছিল মনোরোমা বিদ্রোহী সশস্ত্র সংগঠন পিএলএ’র সাথে জড়িত।

এহেন পৈশাচিক নির্যাতন ও হত্যাকা-ের ঘটনায় গণবিক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। প্রতিবাদ উঠে সর্বত্র। এরই অংশ হিসেবে দেশের কাংলা দুর্গের সিংহদ্বারে বারোজন “মৈরা পাইবি” আন্দোলনকারী নারী প্রতিবাদ জানান। দুর্গে অবস্থানকারী আসাম রাইফেলসের বিভিন্ন রেজিমেন্টের সামনে এই প্রতিবাদী নারীরা তাদের পরনের যাবতীয় বস্ত্র খুলে একটি ব্যানার সামনে রেখে বিক্ষোভ করেন। ব্যানারে লেখা ছিল “এসো ভারতীয় সেনাবাহিনী আমাদের ধর্ষণ করো- আমরা সবাই মনোরোমার মা!” প্রতিবাদী এই নারীদের ছবি দেশে-বিদেশে প্রচার হবার পর রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীর নিপীড়নের বিরুদ্ধে চারিদিকে নিন্দার ঝড় উঠে। প্রতিবাদী নারীরা বিবস্ত্র হয়ে সম্প্রসারণবাদী ভারত রাষ্ট্রের ‘গণতন্ত্র’র লেবাস খুলে ফ্যাসিবাদকে উন্মোচন করেন।

* ইরোম শর্মিলা ২০০০ সাল থেকে এইসব নির্যাতন ও বীভৎস হত্যাকা-ের প্রতিবাদে এবং তার রক্ষাকবচ গণবিরোধী ফ্যাসিস্ট আইন “আফসপা”(AFSPA) বাতিলের দাবিতে বিগত ১৫ বছর ধরে অনশনের মাধ্যমে সংগ্রাম করে আসছিলেন। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি খবরে প্রকাশ ইরোম শর্মিলা তার শান্তিপূর্ণ অনশন ভঙ্গ করে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি বুর্জোয়া সংসদীয় নির্বাচন করবেন এবং সংসদীয় পদ্ধতিতেই তার চলমান প্রতিবাদ জানাবেন।

ইরোম শর্মিলা কোন বিপ্লবী রাজনৈতিক সংগঠন বা কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলেন না। তিনি ছিলেন মানবতাবাদী গান্ধীবাদী অহিংস শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকামী। ফলে তার দৃষ্টিভঙ্গি বিপ্লবী ছিল না এবং তার সংগ্রামে বিপ্লবী দিশা ছিল অনুপস্থিত। উপরন্তু তিনি শত্রুর হাতে বন্দী ছিলেন। শত্রুরা সর্বদাই তার নৈতিক স্খলন ঘটাতে প্ররোচিত করেছে এবং ভয়-ভীতিও প্রদর্শন করেছে। অবশেষে উদারনৈতিক মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির দিকভ্রান্ত সংগ্রামের পথ শর্মিলাকে বুর্জোয়া সংসদীয় পথে চালিত করেছে।

ইরোম শর্মিলার দীর্ঘ বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের ইতিহাস যেমন নিপীড়িত নারী সমাজের সামনে এক বিরল দৃষ্টান্ত, তেমনি তার দৃঢ়চেতা সংগ্রাম থেকে পশ্চাদপসরণ এবং বুর্জোয়া সংসদীয় পথে প্রত্যাবর্তন তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের এক নৈতিক পরাজয়ও বটে। কারণ সংসদীয় প্রতিবাদে মণিপুরী জনগণের উপর থেকে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের আগ্রাসন কখনো বন্ধ হবে না। আপোষহীন বিপ্লবী সংগ্রামই ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের কবল থেকে মণিপুরসহ সারা ভারতের নিপীড়িত জনগণকে  মুক্ত করবে একদিন।

সূত্রঃ নারী মুক্তি, মার্চ ২০১৭ সংখ্যা


হিজড়া জনগোষ্ঠীর অমানবিক জীবন এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব

হিজড়া বলতে আমরা বুঝি যারা নারী নন বা পুরুষও নন। আমাদের দেশের রাষ্ট্র হিজড়া জনগোষ্ঠীকে সম্প্রতি ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যা বিশ্বের বুর্জোয়া রাষ্ট্রের অনেক সরকার বহু পূর্বেই দিয়েছে।
বাংলাদেশের বুর্জোয়া গবেষকদের হিসাব মতে সারাদেশে হিজড়াদের সংখ্যা দেড় লাখের উপরে। রাজধানী ঢাকাতে ১৫ হাজারের মতো। যদিও সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসেবে সারা দেশে ১০ হাজার।
এই সংখ্যা যে আরো দ্বিগুণ বা ৩ গুণ তা অনুমান করা যায়। কারণ হিজড়া বলতে সমাজে অপাঙক্তেয়, অশুচি, অভিশাপ- এই ভুল দৃষ্টিভঙ্গির কারণে হিজড়া শিশু জন্মগ্রহণ করলে বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনরা গোপন রাখেন। সমাজকে জানতে দেন না। তাই এটা কোনো সত্যিকার অর্থে সঠিক সংখ্যা নয়।
হিজড়া জনগোষ্ঠী/সম্প্রদায় এই বুর্জোয়া রাষ্ট্র এবং সমাজে সাধারণ মানুষ হিসেবে বিবেচিত হন না। তারা নিগৃহীত, অসহায়, মানবেতর, মধ্যযুগীয় জীবন-যাপন করছেন। এক অপমানজনক পেশা হিসেবে বাজারে, বাসে, রাস্তায়, দোকানে টাকা তুলে জীবন নির্বাহ করছেন। যা ভিক্ষাবৃত্তির শামিল। রাস্তাঘাটে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের শিকার হচ্ছেন।
আরো একটি পেশা তারা করেন তাহলো কোনো বাড়িতে শিশু জন্মগ্রহণ করলে সেখানে নাচ-গান করে টাকা তোলা। তাদের দাবি পূরণ না হলে জবরদস্তি করেন, গৃহকর্ত্রী বা নবজাতকের পরিবারের সাথে অশালীন আচরণ করেন, গালাগাল করেন। ফলে তাদের এই সমস্ত আচরণে মানুষ বিরক্ত হয়, এদেরকে সমাজের কীট মনে করে।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারী পণ্য, নারী পুরুষের ভোগের সামগ্রী। সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র। একারণে হিজড়াদের অধিকাংশই নারীর পোশাক-পরিচ্ছদ, সাজ-গোজ করে নারীর রূপ ধারণ করে থাকেন। হিজড়াদের মধ্যে একটি অংশ বিকৃত যৌন ব্যবসাকেও রোজগারের পথ করে নেন। বাস্তবে তাদের কোনো যৌন জীবন নেই। এখানেও তারা নিপীড়িত হন।
বাস্তবত হিজড়া জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্র কোনো সাধারণ জনগোষ্ঠীর আওতায় আনতে না পারার কারণেই তারা রাস্তা-ঘাটে, বাসাবাড়িতে, বাজারে, দোকানে সর্বত্র মানুষকে বিরক্ত করতে বাধ্য হন। কারণ তাদেরকে মানুষ হিসেবে, নাগরিক হিসেবে তাদের সকল প্রকার অধিকার দিতে এবং সম্মানজনক মর্যাদাপূর্ণ জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে।
সকল ধর্মেই হিজড়াদের অভিশাপ হিসেবে দেখা হয়- তাদেরকে কীট-পতঙ্গের সাথে তুলনা করা হয়েছে। তারা হবেন না বেহেস্তবাসী বা স্বর্গবাসী। হিজড়াদের মর্ত্য-স্বর্গ কোথাও স্থান নেই। এরা ধর্মের কাছে, প্রতিক্রিয়াশীল সমাজের কাছে অপাঙক্তেয়, অশুচি। গণবিরোধী রাষ্ট্র ও সমাজ এই দৃষ্টিভঙ্গির সৃষ্টি করেছে। রাস্তা-ঘাটে তথাকথিত সভ্য সমাজের মানুষ তাদের সাথে মর্যাদাপূর্ণ আচরণের বদলে চিড়িয়াখানার প্রাণীর মতো তাদেরকে দেখে, তাদের আচরণ তামাশা হিসেবে উপভোগ করে। ফলে তারা এই সভ্য সমাজের রীতি-নীতির বিরুদ্ধে চলবেন এটাইতো স্বাভাবিক। হিজড়াদের এই অমানবিক, মধ্যযুগীয় জীবনের মধ্যে ফেলে রেখেছে রাষ্ট্র, সমাজ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ।
বুর্জোয়া পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হয়েছে- ঢাকাসহ সারা দেশে নাকি নকল হিজড়ার ছড়াছড়ি। অপারেশনের মাধ্যমে নাকি হিজড়া বানিয়ে এদেরকে দিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে। এটা ঠিক যে হিজড়াদের নিয়ে ১টি অপরাধী চক্র গড়ে উঠেছে। এই চক্রের সাথে জড়িত কিছু হাসপাতাল-ডাক্তার- পুলিশসহ সমাজের উঁচু শ্রেণির কিছু ব্যক্তিও।
যে রাষ্ট্র ও সরকারের আমলা মন্ত্রীরা দুর্নীতিবাজ, যে রাষ্ট্রে নকল মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায়, মুক্তিযুদ্ধে সাহায্যকারী বিদেশীদের নকল মেডেল দেয়া হয়- সেদেশে নকল হিজড়া হবে এতে অবাক হবার কিছু নেই।
’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পালা বদল করে আওয়ামীলীগ, বি.এন.পি, জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এসেছে। এই অবহেলিত, বঞ্চিত হিজড়া জনগোষ্ঠীর স্বার্থে কোনো শাসক দলই কাজ করেনি। তারা যে তিমিরে ছিলেন সে তিমিরেই রয়ে গেছেন বিগত ৪৫ বছর ধরে। বর্তমান শাসক দল আওয়ামী লীগের ‘উন্নয়নের’ জোয়ার বয়ে গেলেও হিজড়াদের গায়ে তার ছোঁয়া লাগেনি। সরকার ১০ হাজার হিজড়ার গণনা করেছে। এবং ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবেও স্বীকৃতি দিয়েছে। এই গণনা এবং স্বীকৃতি আওয়ামী ভোটবাজী রাজনীতির স্বার্থ হাসিল করার জন্য তা বলাই বাহুল্য। যেখানে হিজড়াদের গণনাই সঠিকভাবে শাসক দল করতে পারছে না/করেনি। তাদের সম্পর্কে ধর্ম ও সমাজ থেকে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ব্যবস্থা না নিয়ে, তাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ পেশার ব্যবস্থা না করে, তাদেরকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার চলমান ব্যবস্থার অবসান না করে এই গণনা ও নতুন নাম শাসক শ্রেণি ও তার দলের ধোঁকাবাজী ছাড়া কিছু নয়।
হিজড়ারা শারীরিকভাবে পঙ্গু নন, শারীরিকভাবে সক্ষম একেকজন মানুষ তারা। বিগত ৪৫ বছরে রাষ্ট্র তাদেরকে পুনর্বাসন করেনি। সম্মানজনক কোনো কাজ দেয়নি, কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করেনি। উপরন্তু তাদেরকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে চাঁদা দিতে হয়, ক্ষমতাসীন দলের কেডার-মাস্তানদের মনোরঞ্জন করে খুশী না রাখলে তারা পাড়ায় বসবাস করতে পারেন না। রাষ্ট্র তাদেরকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেই কী আসে-যায়।
সাম্রাজ্যবাদ ও শাসক শ্রেণি একেক সময় তাদের পছন্দমত একেকটি বিষয় নিয়ে মাতামাতি করে। কখনো-কখনো জনগণকে তাতে যুক্ত হতে বাধ্য করে। হাসিনা সরকার ও তার মেয়ে পুতুল-এর তেমনি একটি কর্মসূচি হচ্ছে অটিজম। অটিজম নিয়ে হাসিনা সরকার ও তার মেয়ে পুতুল সরকারি বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে। যা কিনা মূলত উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্তদের মাঝেই সীমাবদ্ধ। অথচ মানবেতর জীবনে থাকা হিজড়াদের জন্য কিছুই করছে না- যারা কিনা নিপীড়িত অবহেলিত মূল জনশক্তির অংশ। তাদের এই অটিজম নিয়ে কর্মকান্ডে শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ জনগণের অটিষ্টিক শিশুদের ভাগ্যের কতখানি পরিবর্তন হবে সে প্রশ্ন থেকে গেলেও পুতুল ও তার আওয়ামী দালাল সাঙ্গপাঙ্গরা বরাদ্দকৃত অর্থ লুট-পাট করে খাবার আরেকটি সেক্টর খুলেছে সেটা আজ সচেতন হিজড়াসহ ব্যাপক জনগণের বোঝার বিষয়।
* পৃথিবীর সর্বত্র হিজড়া জনগোষ্ঠী রয়েছেন। একেক দেশে তাদের জীবন-যাত্রার রকমফের হলেও পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থায় তারা সব দেশেই অবহেলিত, বঞ্চিত, নিগৃহীত। যেহেতু প্রচলিত সমাজ তাদেরকে গ্রহণ করে না। তাই তারা নিজেরা আলাদা সমাজ গঠন করে বসবাস করেন। তাদের রয়েছে নিজস্ব নিয়ম-শৃঙ্খলা। তথাকথিত সভ্য সমাজে হিজড়ারা অসভ্য, মারমুখো, অশ্লীল, অশালীন, অভদ্র হলেও তাদের নিজস্ব সমাজের নিয়ম-শৃঙ্খলা রীতি-নীতি তাদেরকে মানতে হয়।
আমাদের দেশে হিজড়া জনগোষ্ঠী দলবদ্ধভাবে বসবাস করেন। দলে একজন গুরুমা থাকেন। সারা দেশে হিজড়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আমাদের হাতে নেই। রাজধানী ঢাকায় ৫ গুরুর আওতায় প্রায় ১৫ হাজার হিজড়া রয়েছেন। ১ জন গুরুর অধীনে ৮/১০টি দল থাকে। দলে তাদেরকে লিঙ্গভিত্তিক নামকরণ করা হয়। যেমন- যারা শারীরিকভাবে পুরুষ, কিন্তু মানসিকভাবে নারী- তাদেরকে ডাকা হয় ‘অকুয়া’। অন্যদিকে যেসমস্ত হিজড়া মানসিকভাবে পুরুষ শারীরিকভাবে নারী- তাদেরকে ডাকা হয় ‘জেনানা’। মানুষ সৃষ্ট হিজড়াদেরকে তারা ডাকেন ‘চিন্নি’ বলে।
তারা টাকা তুলে গুরুমা’র কাছে জমা দেন। গুরুমা যেহেতু তাদেরকে লালন-পালন করে বড় করেছেন, নিরাপত্তা দিচ্ছেন তাই তাদের অর্থের অর্ধেক গুরুমাকে দিতে হয় তাদের আইন অনুযায়ী। প্রতি সপ্তাহে গুরুমার নেতৃত্বে বিচারিক সভা বসে। কোনো হিজড়া তাদের নিয়ম ভঙ্গ করলে তার শাস্তি হয়। শাস্তি তারা মাথা পেতে নেন।
এরা রাষ্ট্র ও সমাজে অপাঙক্তেয় হলেও এদের রোজগারের অর্থের ভাগ থানার এস.পি, ওসি ও পুলিশরা পেয়ে থাকে। এবং আওয়ামী লীগ তথা শাসকদলের কেডার, মাস্তান, গুণ্ডাপাণ্ডাদের ভাগ না দিয়ে বস্তিতে তারা বসবাস করতে পারেন না। এমন কি এই সমস্ত পুলিশ প্রশাসন ও কেডার মাস্তানদের যৌন সন্ত্রাসের শিকারও তারা হন।
সমাজের সকল স্তরের জনগণকে হিজড়াদের সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। সমাজের সচেতন প্রগতিশীল, বিপ্লবীমনা ব্যক্তিদের তাদেরকে পরিবর্তনের সংগ্রামে এগিয়ে আসতে হবে। হিজড়া জনগোষ্ঠীর মতাদর্শের পুনর্গঠনের জন্য- সং সাজার বদলে মানুষ হিসেবে ভাবতে শেখার বিপ্লবী রূপান্তর ঘটাতে হবে। যা এই পুঁজিবাদী সমাজ এবং রাষ্ট্রের অধীনে সম্ভব নয় তা বিগত ৪৫ বছরেও প্রমাণিত হয়েছে।
হিজড়া জনগোষ্ঠীকে সম্মানজনক স্থানে নিতে পারে শুধুমাত্র কোনো বিপ্লবী সরকার এবং রাষ্ট্র। যে রাষ্ট্রে শ্রমিক-কৃষক ও মধ্যবিত্ত জনগণের উপর কোনো শোষণ নিপীড়ন বঞ্চনা থাকবে না। থাকবে না নারী হত্যা, ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ, নিপীড়ন। সেই উন্নততর সমাজ ব্যবস্থার বিপ্লবী সংগ্রামে শ্রমিক-কৃষকের সাথে সচেতন হিজড়াদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে। তাছাড়া তাদের মুক্তির কোনো উপায় নেই। 

সূত্রঃ নারী মুক্তি, মার্চ ২০১৭ সংখ্যা