বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ ১২টি চলচ্চিত্রে চীনের কমিউনিস্ট ইতিহাস (১৯৫০-৭০)

Advertisements

বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ কমিউনিস্ট চীনের লোক সঙ্গীত চলচ্চিত্র ‘Sister Liu’ (১৯৬০ সাল)

দক্ষিণ পশ্চিম চীনের স্বশাসিত অঞ্চল গুয়াংজি যুয়াং এর লোক সঙ্গীতের প্রতীক ‘Sister Liu’ চলচ্চিত্রটি ১৯৬০ সালে কমিউনিস্ট চীনে মুক্তি পায়। মুক্তির পরপরই অসম্ভব জনপ্রিয়তা লাভ করে এটি। এখনো অনেকের হৃদয়ে এই লোক সঙ্গীত চলচ্চিত্রটি গেঁথে আছে-


মুক্তির অপেক্ষায় কার্ল মার্কসকে নিয়ে চলচ্চিত্র ‘The Young Karl Marx’

২৬ বছর বয়সে মার্কসের সাথে এঙ্গেলসের কথোপকথন

২৬ বছর বয়সে মার্কসের সাথে এঙ্গেলসের কথোপকথন

মহান দার্শনিক কার্ল মার্কসকে নিয়ে ‘The Young Karl Marx’/ ‘Der junge Karl Marx’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করছেন, এই বছর অস্কার নমিনেশন পাওয়া হাইতিয়ান চলচ্চিত্রকার রাউল পেক/Raoul Peck । বার্লিনে চিত্রায়িত এই ছবিতে ১৯ শতকের মাঝামাঝিতে কমিউনিজমের সূচনা কাল, ১৮৪৪ সালের দিকে প্যারিসে শিল্প বিপ্লব, র‍্যাডিক্যাল ধারার রাজনীতি, ২৬ বছর বয়সে মার্কসের যৌবন কালে এঙ্গেলস, মার্কসের স্ত্রী জেনি, আর্থ-সামাজিক টানা পোড়েনে  বিক্ষুব্ধ জনগণ সহ নানা চরিত্র, সম্পর্ক ও ঘটনা নিয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে। আগামী ২রা মার্চ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবে।

সূত্রঃ theguardian.com


বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ The Dupes

120220_poster

ফিলিস্তিনি বিপ্লবী এবং লেখক ‘ঘাসান কানাফানি’ উপন্যাস Men in the Sun এর উপর ভিত্তি করে নির্মিত এই চলচ্চিত্র, সিরিয়ার এই চলচ্চিত্রটিতে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের আত্মোৎসর্গ ও কষ্টের ছবি তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমাটি অনেক ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা।

কানাফানি (১৯৭২ সালে মোসাদ কর্তৃক নিহত হওয়ার আগে), যিনি পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্যা লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন এর একজন সদস্য ছিলেন, তিনি PLO এর নেতৃত্ব ইয়াসির আরাফাতের পরাজয়বাদী কৌশল এবং পাশাপাশি অন্যান্য মুৎসুদ্দি নেতৃত্বের শাসনাধীনে দুর্নীতি ও নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেন।

এই বার্তাটি আজ ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের পিএলও এর বিক্রি হওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে PFLP এর তৃতীয় ইন্তিফাদা নির্মাণের অব্যাহত সংগ্রাম। 


বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ ‘The Founding of a Republic’

১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার কাহিনী নিয়ে নির্মিত ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র। মাও সে তুঙয়ের নেতৃত্বে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাপানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধের শেষে জাতীয়তাবাদী সরকারের উপর কূটনীতি এবং পরিণামে যুদ্ধে বিজয় নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্র-

tang1-2lf9fnp


বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ ‘How the steel was tempered'(নিকোলাই অস্ত্রোভস্কির ‘ইস্পাত উপন্যাস’)

SovietBook-Ishpat-part2-NikolaiOstrovsky-cover

বিখ্যাত বিপ্লবী লেখক নিকোলাই আলেক্সিভিচ অস্ত্রোভস্কি এর উপন্যাস ‘How the steel was tempered‘( বাংলায় ‘ইস্পাত’ নামে পরিচিত) নিয়ে ১৯৪২ সালে নির্মিত হয় এই চলচ্চিত্র।

[ নিকোলাই আলেক্সিভিচ অস্ত্রোভস্কি (১৯০৪-১৯৩৬) সমাজতান্ত্রিক বাস্তবতা যুগের লেখক। তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘ইস্পাত’ (How the Steel Was Tempered – ইস্পাত)। এই উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯৩৫ সালে ‘অর্ডার অব লেনিন’-এ (Order of Lenin) ভূষিত হন।

নিকোলাই অস্ত্রোভস্কি ১৯০৪ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্গত ইউক্রেনের অস্ট্রস শহরের ভিলিয়া গ্রামে একটি শ্রমিকশ্রেণি পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। নয় বছর বয়স পর্যন্ত সেখানেই তিনি স্কুলে যান এবং ১৯১৪ সালে তার পরিবার সমেত রেল স্থাপনার শহর শেপিতিভকায় চলে যান যেখানে তিনি রেলওয়েতে কাজ করা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি ঐ রেল কোম্পানির রকটি শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রের ইলেক্ট্রিশিয়ান হিসেবে পদন্নতি পান। ১৯১৭ সালে মাত্র তেরো বছর বয়সে তিনি বলশেভিক পার্টির সদস্য হন। সেই সময়ই তিনি একটি মারাত্বক রোগে আক্রান্ত হন যা তাকে পরবর্তীতে কিছুদিনের মধ্যেই অন্ধ এবং শয্যাশায়ী করে দেয়।

দাপ্তরিক নথি অনুযায়ী জার্মানরা যখন ১৯১৮ সালের বসন্তে তার শহর দখলে নিয়ে নেয় তখন তিনি স্থানীয় বলশেবিভ পার্টি সরিয়ে নেন। যুদ্ধে অনেকবার আহত এবং গুলিবিদ্ধ হওয়ায় তিনি মারাত্বক ভাবে অসুস্থ হন এবং অনেকবার চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হন। তার নিজের লেখা জীবনীতে তিনি কখনই উল্লেখ করেননি যে তিনি রেড আর্মিতে কাজ করেছেন। অসুস্থতার দরূন ১৯২৯ সালের দিকে তিনি চিরতরে তার দৃষ্টিশক্তি হারান। দৃষ্টিশক্তি না থাকার পরেও ১৯৩০ সালের দিকে তিনি তার জীবনের প্রথন উপন্যাস ‘How the steel was tempered‘/ ইস্পাত লেখা শুরু করেন। পরবর্তীতে তার উপন্যাস এবং লেখার জন্য কমিউনিষ্ট বিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান এবং ১৯৩৫ সালে অর্ডার অফ লেনিন সম্মাননায় ভূষিত হন। মারাত্বক অসুস্থতার দরূন ১৯৩৬ সালের ২২ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরন করেন। মৃত্যুর আগে তিনি তার উপন্যাস বর্ন অফ দ্যা স্টোর্ম শেষ করে যেতে পারেন নি।

নিকোলাইকে যারা খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম আন্না কারাভায়েভা। তাঁর দায়িত্বেই ‘ইস্পাত’ উপন্যাসটি ‘মলোদায়া গভারদিয়া’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল এবং আন্না ছিলেন সেই পত্রিকার তৎকালীন প্রধান সম্পাদক। ]

8pF6Iv1pqJgbQ6xVOYJ67MpmQpP


বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ ‘Mother (1926)’ (ম্যাক্সিম গোর্কির ‘মা’ উপন্যাস অবলম্বনে)

 ‘মা’ রূশ কথাসাহিত্যিক মাক্সিম গোর্কি রচিত এক কালজয়ী উপন্যাস যা ১৯০৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। রুশ ভাষায় লিখিত এই উপন্যাসটি পরবর্তী এক শত বৎসরে সারা বিশ্বের প্রায় সব ভাষায় অনূদিত হয়েছে।  উপন্যাসটি বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত এবং উপন্যাসের প্রধান দুটি চরিত্র হল প্যাভেল ও তাঁর মা। বাংলা ভাষায় বিভিন্ন প্রকাশনী সংস্থা বিভিন্ন লেখকের অনুদীত মা উপন্যাস প্রকাশ করেছে। তাদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হল ন্যাশনাল বুক এজেন্সিস্‌-এর প্রকাশিত বইটি, যার অনুবাদ করেছেন পুষ্পময়ী বসু। মা উপন্যাসের উপর আজ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র তৈরী হয়েছে। এর মধ্যে ‘Mother (1926)’ উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র ।