চারু মজুমদারের সংগৃহীত রচনা সংকলন: কমরেডদের প্রতি

500x350_0718bd934ac49f1e112b30cd4cfd4285_charu_majumder

ব্যাপক কৃষক সাধারণ থেকে বিচ্ছিন্নতা বিপ্লবীদের পক্ষে একটা মারাত্মক রাজনৈতিক দুর্বলতা; সংগ্রামের প্রতিটি স্তরে এই বিপদ থাকে, তাই গেরিলা যুদ্ধের কৌশল বলতে গিয়ে চেয়ারম্যান বলেছেন, “জনগণকে জাগিয়ে তোলার জন্য তোমাদের শক্তিকে তোমরা ভাগ করে দাও, শত্রুর সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য তোমাদের শক্তিকে একত্র জড়ো করো (Divide your forces to arouse the masses, concentrate your forces to deal with the enemy)- এটাই হোল প্রথম সূত্র। এই জনগণকে জাগিয়ে তোলা (arousing the masses) কোনদিন সম্পূর্ণ হয় না। দ্বিতীয় যে শিক্ষা তা হোল, গেরিলা যুদ্ধ মূলত: শ্রেণী সংগ্রামের উন্নত স্তর এবং শ্রেণী সংগ্রাম অর্থনীতিক ও রাজনীতিক দুটি সংগ্রামের যোগফল। চেয়ারম্যানের চিন্তাধারা যতই নির্দ্দিষ্টভাবে বুঝবার চেষ্টা করছি ততই নতুন নতুন শিক্ষা হচ্ছে। এ রকম শিক্ষা প্রত্যেক অঞ্চলেই হবে এবং তবেই আমাদের উপলব্ধি বাড়বে। আমরা আরও ভাল মার্কসবাদী হবো। সমস্ত কমরেডই যে এ কথা সঠিক বুঝেছেন এখনই সে কথা বলা যায় না, তবে সব কমরেডই এই পথে চিন্তা মুরু করেছেন এবং চেষ্টাও কিছু কিছু শুরু হয়েছে। জনগণের কাছ থেকে শেখা (Learn from the masses)- এটা খুবই কঠিন কাজ। মনগড়া ধারণা নিয়ে চলাও (Subjectivism) সংশোধনবাদের দান। সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম আমরা শুরু করেছি মাত্র, এখনও অনেক পথ বাকী।

কৃষক এলাকায় যে সব কমরেড কাজ করছেন তারা যেমন রাজনীতি প্রচার করবেন তেমনই অর্থনৈতিক দাবীর উপর একটা সাধারণ আওয়াজ রাখার প্রয়োজনীয়তাকে কোন সময়েই ছোট করে দেখলে চলবে না। কারণ ব্যাপক কৃষক সাধারণকে আন্দোলনের পথে না আনলে রাজনীতি প্রচার বোঝার অবস্থায়, পশ্চাদপদ কৃষককে টেনে আনা যাবে না এবং শ্রেণীশত্রুর বিরুদ্ধে ঘৃণাকে জাগিয়ে রাখা যাবে না। “আগামী ফসলের উপর দখল রাখতে হবে”- এখন থেকেই এই আওয়াজকে প্রচার করতে হবে। সারা বছরের অনাহারের জন্য জোতদার শ্রেণীর বিরুদ্ধে ঘৃণাকে জাগিয়ে তুলতে হবে। সামনের ফসল কৃষকের- এই আওয়াজ ব্যাপক কৃষককে আন্দোলনের আওতায় আনবে এবং আমাদের সচেতন রাজনৈতিক প্রচার এই কৃষক আন্দোলনের চরিত্রকে বদলে দেবে।

দেশব্রতী, ১লা আগষ্ট, ১৯৬৮

Advertisements

ছত্তিসগড়ে মাওবাদী হামলায় ২ পুলিশ সদস্যসহ নিহত ৩, গুরুতর জখম ৬ পুলিশ

six-suspectsmaoistupats

ndtv জানাচ্ছে, দক্ষিণ ছত্তিসগঢ়ের বস্তার অঞ্চলের সুকমা জেলায় ফের মাওবাদী হামলা হয়েছে। আজ রবিবার চিন্তাগুফার কাছে ভিজি অঞ্চলে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের যৌথ বাহিনী মাওবাদী দমনাভিযানে গেলে, আচমকাই মাওবাদীরা হামলা করে বসে ৷ ভেজ্জি থানার অন্তর্গত এলারমাদগু গ্রামের ওই এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে উভয় পক্ষের গুলির লড়াই ৷ এই সংঘর্ষেই পুলিশের দুই সদস্য নিহত হয় ৷গুরুতর জখম হয় ৬ পুলিশ।

সুকুমা জেলার এই এলাকাটি মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দুর্ধর্ষ মাওবাদী কমান্ডার হিদমা এই অঞ্চলটিতে ব্যাটেলিয়ন সহ চলাফেরা করে থাকেন।

অ্যান্টি নকশাল অপারেশনের স্পেশাল ডিজি ডিএম অবস্তি আগে সংবাদমাধ্যমকে জানায়, ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ডসের ৪ জওয়ান ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ২জন জওয়ান জখম হয়েছে ৷মারা গেছে একজন STF ও একজন DRGজওয়ান। এরপরেই এলারমাদগু এলাকা থেকে নতুন করে সংঘর্ষের খবর আসে ৷ সংঘর্ষ হয় এররাবোর গ্রামেও৷

অন্য ঘটনায়, ভেজ্জি ও এলারমাদগু এলাকার মাঝামাঝিতে মাওবাদীদের গুলিতে রাস্তা নির্মাণকারী সংস্থার ম্যানেজার নিহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এসময় মাওবাদীরা রাস্তা নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

 


মাওবাদী কমিউনিস্টদের হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করলেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট দুতের্তে

18010141_10154609668578576_5527140361601419786_n

‘আল জাজিরা’ জানাচ্ছে, মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের হত্যার জন্য ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের পুরস্কার ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছে মানবাধিকার গ্রুপ, বিদ্রোহী ও আদিবাসী সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ দুতের্তের এই ঘোষণা সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধাপরাধে প্ররোচিত করবে।

গত সপ্তাহে দুতের্তে মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। ফিলিপিনো প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, আধা-সামরিক বাহিনীর যোদ্ধা বানাতে তিনি আদিবাসী জনগণকে প্রশিক্ষণ এবং মিনদানাওর দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপে তাদের সম্প্রদায়ের প্রত্যেক কমিউনিস্ট বিদ্রোহীকে হত্যার জন্য ২০ হাজার পেসো (৩৮৪ মার্কিন ডলার) করে দিবেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা অর্থ চাও? আমি তোমাদের অর্থ দিব। প্রত্যেকের জন্য ২০ হাজার পেসো দিব।’

তবে দুতের্তের ওই ঘোষণার পর এরই মধ্যে দক্ষিণ ফিলিপাইনের সবচেয়ে বড় আদিবাসী সংগঠন জানিয়েছে, অর্থের জন্য হত্যা করা তাদের সংস্কৃতির অংশ নয়। দুতের্তে এর আগেও একইরকম বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি নারী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের ‘অকার্যকর’ করতে সেনাবাহিনীকে তাদের যৌনাঙ্গে গুলি করার কথা বলেছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার দেওয়া বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কার্লোস এইচ কন্ডে বলেন, ওই পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে দুতের্তে তার ‘সেনাবাহিনীকে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করতে উত্সাহিত করছেন’। তিনি আরো বলেন, দুতের্তের ‘হিংসাত্মক বক্তব্য’ সশস্ত্র সংঘাতের রীতি-নীতি লঙ্ঘনে উত্সাহ দেয়। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের র‍্যাচেল চোহয়া-হাওয়ার্ডও দুতের্তের নতুন পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করে একে ‘একই সঙ্গে আতঙ্কজনক ও নিষ্ঠুর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টির নির্বাসিত নেতা হোসে মারিয়া সিসন বলেন, দুতের্তে তার শাসনের মধ্য দিয়ে একটি অপরাধী চক্রের সর্দারের মতো কাজ করছেন। আল জাজিরাকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দুতের্তের ওই সমাধানের ফলে নির্বিচারে হত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে।


প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সিনিয়র মাওবাদী দম্পতি গ্রেফতার

DVmxdxYWAAALqoK

The hindu জানাচ্ছে, গত শুক্রবার মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে সিনিয়র মাওবাদী দম্পতি রামান্না(৬৫) ও পদ্মা’কে(৫৫)। গাড়চিরোলি ও চন্দ্রপুর পুলিশের জয়েন্ট অপারেশনে বল্লারসাহ থেকে গ্রেফতার করা হল এই ২ সিনিয়র মাওবাদীকে। পুলিশ কর্তৃক রামান্নার মাথার দাম ২৫ লক্ষ টাকা, পদ্মার মাথার দাম ৬ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, রামান্নার আসল নাম শ্রীনিবাস মাদারু। তেলেগু ভাষায় দক্ষ রামান্না একজন অভিজ্ঞ অস্ত্র নির্মাতা ও অস্ত্র-গোলাবারুদ প্রশিক্ষক। তিনি সিপিআই(মাওবাদী) দণ্ডকারণ্যে স্পেশাল জোনাল কমিটি’র সদস্য ও ছত্তিসগড়ে পার্টির প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান এবং ঐ স্তর থেকে গ্রেফতার হওয়া প্রথম মাওবাদী নেতা।  ১৯৭৬-৭৭ সাল থেকে তিনি পার্টির সাথে যুক্ত। ১৯৯৫ সালে পার্টি তাকে প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব দেয়।

তবে মাও দম্পতির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আরও তদন্তও চালাচ্ছে পুলিশ।


চারু মজুমদারের সংগৃহীত রচনা সংকলন: নকশালবাড়ীর এক বছর

500x350_0718bd934ac49f1e112b30cd4cfd4285_charu_majumder

নকশালবাড়ীর এক বছর

নকশালবাড়ী কৃষক সংগ্রামের এক বছর পূর্ণ হোল। অন্য কৃষক সংগ্রাম থেকে এই সংগ্রামের পার্থক্য কোথায়? নানা অবিচার-অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষক চিরকালই সংগ্রাম করে এসেছেন। এই প্রথম সেই কৃষক শুধু ভার ছোট দাদীর জন্য আন্দোলন করলেন না, তিনি আন্দোলন করলেন রাষ্ট্র ক্ষমতার জন্য। নকশালবাড়ীর কৃষক আন্দোলন থেকে যদি অভিজ্ঞতা নিতে হয় তবে সে অভিজ্ঞতা হচ্ছে এই যে, জমি বা ফসল ইত্যাদির জন্য জঙ্গী সংগ্রাম নয়, জঙ্গী-সংগ্রাম করতে হবে রাষ্ট্র ক্ষমতার জন্য। নকশালবাড়ীর নতুনত্ব এখানেই। এলাকার এলাকায় কৃষককে তৈরী হতে হবে নিজ নিজ এলাকায় সেই রাষ্ট্রযন্ত্রকে অচল করে দেওয়ার জন্য। ভারতবর্ষের কৃষক আন্দোলনে সর্বপ্রথম নকশালবাড়ীতেই এই পথ গৃহীত হোল। অর্থাৎ বিপ্লবী বর্ষ শুরু হোল। তাই নকশালবাড়ীর এই আন্দোলনকে প্রত্যেক দেশের সংগ্রামীরা অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

ভারতবর্ষ সাম্রাজ্যবাদের ও সংশোধনবাদের ঘাটি হচ্ছে; সে আজ মুক্তিকানী জনতার বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়ার ঘাঁটি হিসাবে কাজ করছে। তাই নকশালবাড়ীর সংগ্রাম শুধু জাতীয় সংগ্রাম নয়, একটা আন্তর্জাতিক সংগ্রাম। এ সংগ্রাম কঠিন-সহজ এ পথ নয়। বিপ্লবের পথ কঠিন–সহজ সে পথ নয়। বাধা আছে, বিপত্তি আছে, এমন কি পশ্চাদপশরণও আছে। তবুও এই নতুন আন্তর্জাতিকতায় উদ্বুদ্ধ কৃষক মাথা হেট করেন নি, সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত এক বছরের আমাদের অভিজ্ঞতা, এই ছোট এলাকায় সংগ্রামের বগী সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রত্যেক রাজনৈতিক পার্টির বিরোধীতা সত্বেও মানুষ এই সংগ্রামের কথাই ভাবছে এবং সেই সংগ্রামের পথেই এগোচ্ছে। আজ নকশালবাড়ীর বীর নেতারা জীবিত, আজও তাঁদের ধ্বংস করতে প্রতিক্রিয়াশীল সরকার পারে নি। তাই তো চেয়ারম্যান বলেছেন, সমস্ত প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি দেখতে যত ভয়ংকরই হোক না কেন, আসলে কাগুজে বাঘ।

চেয়ারম্যান বলেছেন, সেদিন আর দূরে নেই যেদিন মানুষের উপর মানুষের শোষণ বন্ধ হবে, সমস্ত মানুষ মুক্ত হবে।

আমরা সেই উজ্জ্বল সূর্যোলোকের জন্য অপেক্ষা করছি।

২৩ শে মে, ১৯৬৮


মাওবাদী কমিউনিস্ট নারীদের যৌনাঙ্গে গুলি করা উচিতঃ ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট দুতার্তে

AFP_Z90A7-5344

ফিলিপাইনে প্রেসিডেন্ট দুতার্তে

aljazeera.com জানাচ্ছে, ফিলিপাইন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেয়া মাওবাদী কমিউনিস্ট নারী বিদ্রোহীদের যৌনাঙ্গে গুলি করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশটির মানবাধিকার সংস্থা ও নারী সংগঠনগুলো।

ফিলিপাইনের হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সোমবার আল জাজিরাকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছে, নারীদের নিয়ে দুতার্তের ধারাবাহিক মন্তব্যের মধ্যে সাম্প্রতিক এই মন্তব্যটি চরম নারী বিদ্বেষমূলক, মর্যাদাহানিকর এবং অপমানজনক।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ফিলিপাইন প্রতিনিধি কার্লোস কন্দে বলেন, ‘দুতার্তের এই বক্তব্য সশস্ত্র সংঘাতের সময় রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে যৌন সহিংসতা সংগঠিত করতে উৎসাহিত করবে। আর এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন।’   

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৭ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট এই বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ফিলিপাইনের সেনাদের মাওবাদী কমিউনিস্ট নারী বিদ্রোহীদের গুলি করে মারা উচিত নয়।

দুতার্তে বলেন, ‘আমরা শুধু তোমাদের গোপনাঙ্গে গুলি করব। যাতে করে তোমাদের আর কোনো গোপন অঙ্গ না থাকে। তখন তোমরা এমনিতেই অকেজো হয়ে যাবে।’

কমিউনিস্ট আন্দোলনে যোগ দিতে যেসব নারী যোদ্ধারা পরিবার ও সন্তানদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তাদের ভর্তসনা করেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট।

গাব্রিয়েলা উইমেনস পার্টির কংগ্রেস সদস্য ইমি ডি জেসাস বলেছেন, দুতার্তের এটি ‘নোংরা মন্তব্য’। তার এই বক্তব্য দেশের ‘দমনমূলক সংস্কৃতির’ পরিচয় বহন করে।

তিনি প্রেসিডেন্ট দুতার্তেকে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বিপজ্জনক পুরুষ ফ্যাসিবাদী বলে উল্লেখ করেন।  

 


A – Army, B – Blast, C – Communist: শিশুদের জন্যে মাওবাদীদের স্কুল পাঠ্যসূচী

c7aa70f8993262b6ca15252a474a4477c45b5a5f-tc-img-preview

নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় মাওবাদী ক্যাম্প থেকে পাওয়া মাওবাদী স্কুল পাঠ্যক্রমগুলোর একটি নোট

সম্প্রতি ছত্তিসগড়ের বস্তারে মাওবাদী ক্যাম্পে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় মাওবাদীদের পরিচালিত স্কুল পাঠ্যক্রমগুলোর নোট ও বই পুনরুদ্ধারের পরে এসব স্কুলগুলো সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য জানা যাচ্ছে।

মাওবাদীরা এসব স্কুলগুলোতে তাদের মতাদর্শে শিশুদের গড়ে তোলার জন্যে নিজস্ব শিক্ষা পাঠ্যসূচী প্রণয়ন করেছে। ঐ সমস্ত অঞ্চল সমুহে মাওবাদী গণযুদ্ধের বাস্তবতা অনুযায়ি শিশুদের জন্যে প্রণয়ন করা হয়েছে বর্ণমালা। যেমন- “A for Army, Aim / B for Bomb, Blast / C for Communist…” উল্লেখযোগ্য।

মাওবাদী অধ্যুষিত জঙ্গলে সিপিআই (মাওবাদী)’র ক্যাম্পে চালিত এই সব স্কুলে মাওবাদীদের শিশু স্কোয়াড ‘বাল সাঘম’ এর সদস্য এবং অন্যান্য আদিবাসী শিশুদের (যাদের মা বাবা নিরাপত্তারক্ষীদের সাথে সংঘর্ষে নিহত বা হত্যার শিকার হয়েছে) জন্যেই মাওবাদীরা এই আনুষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে।

বস্তারের একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা asianage.com সংবাদপত্রকে বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি যে, মাওবাদী স্কুলে তাদের সহিংসতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য মাওবাদীদের চালচলন কিভাবে মস্তিষ্ক থেকে মস্তিষ্কে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা আমরা জানতে পেরেছি”। মাওবাদী স্কুলের একজন প্রাক্তন শিক্ষক এবং সিপিআই (মাওবাদী) এর কিস্তারাম এলাকার কমিটির সদস্য ২৫ বছর বয়সী মচুকি হিডমা সুকমা জেলার একটি জঙ্গলে সম্প্রতি গ্রেফতার হন।

বস্তারের এক পুলিশ কর্মকর্তা মচুকি’র উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, কিভাবে নকশাল স্কুলগুলিতে অর্ধ-শিক্ষিত নকশালী ও রাষ্ট্রের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত মাওবাদী সদস্যদের বিধবা স্ত্রী বা স্বামীদের নকশাল স্কুলে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব স্কুলগুলোতে প্রত্যেক শিক্ষককে প্রতি মাসে ১৫০০ রুপী বেতন দেয় স্থানীয় জনতা’র সরকার। বিদ্রোহী এই জেলাগুলোর গ্রামকে মাওবাদীদের সমান্তরাল সরকার, বিদ্রোহীদের ভাষ্যে ‘মুক্ত অঞ্চল’ বলে অভিহিত করা হয়।

মুচকি জানান, ১৭ বছর আগে মাওবাদীদের একটি দল তাকে তার মা-বাবার কাছ থেকে দূরে নিয়ে যায় এবং ৮ বছর বয়সে তিনি বাল সেনঘামে চলে যান। গ্রেফতার হওয়ার আগে তিনি মাওবাদীদের কিষানতাম এলাকার কমিটির সদস্য পদে উন্নীত হন।

মুচকি’র মতে, ৬-১০ বছর বয়সী প্রায় ২৫জন আদিবাসী শিশু তার স্কুলে অধ্যয়নরত ছিল, যেখানে আরও ২ জন নকশাল শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ডঃ বর্ণিকা শর্মা,  যিনি সংঘাতময় বস্তার অঞ্চল নিয়ে পোস্ট ডক্টোরাল গবেষণায় জানান – মাওবাদীদের দ্বারা প্রভাবিত কয়েকটি সরকারী স্কুল পরিদর্শনে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি স্বাধীনতা ও প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে “লাল সালাম” এর স্লোগান দিয়ে ছাত্ররা চিৎকার দিয়েছিল।

সম্প্রতি ,মাওবাদীদের দ্বারা মুক্তিপ্রাপ্ত ২২ মিনিটের একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ বস্তার জেলার আবুজমাদ এলাকার নারায়নপুরের একটি স্কুলে ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা ছাত্রদের নকশাল বিপ্লবী হতে প্রভাবিত করেছে সশস্ত্র মাওবাদীদের একটি স্কোয়াড। ঐ সময় মাওবাদীরা ছাত্রদের বলে “আপনারা যদি নকশাল হন, তাহলে আপনারা পৃথিবীর শাসন করবেন এবং যদি আপনি ডাক্তার বা প্রকৌশলী হন, তবে একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে আপনাদের জীবন শেষ হয়ে যাবে । “শক্তি, স্টেথোস্কোপ (ডাক্তারের) থেকে নয়, বন্দুকের ব্যারেল থেকে বের হয়” বলেও ছাত্রদের জানায় নকশালরা।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, এসব মাওবাদী স্কুলের আদিবাসী শিশুদের মধ্য থেকে বেছে নেয়া একটি নির্বাচিত দলকে বুনিয়াদী কমিউনিস্ট প্রশিক্ষণ স্কুলে (বি.সি.সি.এস.- একটি বিশেষায়িত মাওবাদী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) নকশাল মতাদর্শের উপর ছয় মাসের কোর্স/প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং বিশেষ অস্ত্রশিক্ষা প্রশিক্ষণে অধ্যয়ন করতে দেয় মাওবাদীরা।

স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় মাওবাদীরা শিক্ষার্থীদের স্কুলে গিয়ে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন এবং ছাত্রদের দৃঢ় নকশালে পরিণত করেন। মাওবাদীরা “সি ৪ আই” (কমান্ড, কন্ট্রোল, যোগাযোগ, সমন্বয়, বুদ্ধিমত্তা) নামে মোবাইল স্কুলও পরিচালনা করে, যেখানে সীমিত বালসংঘের সদস্যরা, স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নির্বাচিত, গেরিলা যুদ্ধে প্রশিক্ষিত হয়।

এই ধরনের স্কুলগুলি বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে, মাওবাদীদের নগর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য, সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী বাচ্চাদের সমালোচনা করে মাওবাদী আদর্শে প্রভাবিত করা, পাশাপাশি যোদ্ধা হিসেবেও কাজ করা। নকশালরা সরকারি বিদ্যালয়ের ভবনগুলিকে ধ্বংস করে দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর মাওবাদী দমনের কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করার ফলে বস্তারের অভ্যন্তরে মাওবাদীদের স্কুলগুলোর বিকাশের চিত্র ফুটে উঠেছে।

কিছুদিন আগে মাওবাদীদের বস্তার পশ্চিমাঞ্চলীয় কমিটির তৎকালীন সচিব ‘মাধভি’র একাধিকবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বস্তার জেলার দূরবর্তী এলাকায় নকশালরা স্কুল চালাচ্ছে।

একটি সরকারি হিসাবের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, গত ১৫ বছরে বস্তার বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চল, দান্তেওয়াড়া, সুকমা, বিজয়পুর, কাঁকর, নারায়ণপুর, বাষ্টার ও কান্দগাঁওসহ সাত জেলায় মাওবাদীরা ১০৯টি সরকারি স্কুল ধ্বংস করেছে।

নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা মাওবাদীদের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে এবং জঙ্গলের বহু মাওবাদী-পরিচালিত বিদ্যালয় ধ্বংস করেছে। স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (এসআইবি) সূত্র বলছে যে, বালসংঘের ছাত্ররা স্থানীয় ভাষা এবং গণযুদ্ধের ইংরেজী বর্ণমালার শেখার মৌলিক শিক্ষা দিয়েছে – যা মূলত মাওবাদী মতাদর্শের সাথে তাদের যুক্ত করা।