মাওবাদী নেতা কমরেড ‘নিজামউদ্দিন মতিন’-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

মাওবাদী নেতা কমরেড ‘নিজামউদ্দিন মতিন’-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

মাওবাদী নেতা কমরেড নিজামউদ্দিন মতিন ১৯৫৫ সালে বরিশালের আলেকান্দায় এক মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি যখন নবম শ্রেণির ছাত্র, তখন বিশ্বব্যাপী বিপ্লবী লড়াই-সংগ্রামের তাত্ত্বিক ভিত্তি মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ও মাও সেতুঙ চিন্তাধারা ও মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব দ্বারা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন। ১৯৬৯ সালেই তিনি কমরেড সিরাজ সিকদার প্রতিষ্ঠিত বিপ্লবী পার্টি গঠনের প্রস্তুতি সংগঠন ‘পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলন’-এ যোগ দেন এবং বরিশাল শহরে কাজ শুরু করেন। মেধাবী ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও ১৯৭০ সালে তিনি দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় মাত্র ১৫ বছর বয়সে বুর্জোয়া একাডেমিক শিক্ষা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার মোহ ত্যাগ করে পেশাদার বিপ্লবীতে পরিণত হন।
সার্বক্ষণিক সংগঠক হিসেবে কমরেড মতিন চট্টগ্রামে নিয়োজিত হন এবং সেখানে গ্রামাঞ্চলে সংগঠন গড়ে তোলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পাবনায় কাজ করেন।
বিচ্ছিন্নতা ও যুদ্ধরত অবস্থায় কমরেড মতিন পার্টি গঠনের সংবাদ অবহিত হননি। পরে সংযোগ হলে তিনি কমরেড সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বাধীন ‘পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি’তে যোগ দেন।
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭২ সালের মাঝামাঝি সময়ে কমরেড মতিন বিক্রমপুরে প্রধান সংগঠকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৭৩-৭৪ সালে বিক্রমপুরে পার্টির বিপ্লবী সংগ্রামের উত্থান ঘটে। এরপর শেখ মুজিবের ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে কমরেড সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে সারা দেশে বিপ্লবী লড়াইয়ের যে উত্থান সৃষ্টি হয় তাতে কমরেড মতিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন। বিশেষ করে ১৯৭৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৪ সালের ১৬ জুন ও ১৫-১৬ ডিসেম্বর পার্টির আহ্বানে যে হরতাল পালিত হয়, সেখানেও কমরেড মতিন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৭৪ সালে কমরেড মতিন ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল পরিচালনা করেন এবং পার্টির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৭৪ সালে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সংকট নিরসনে সেপ্টেম্বর মাসের বর্ধিত অধিবেশনে কমরেড সিরাজ সিকদার ৬ সদস্যের যে রাজনৈতিক ও সামরিক সাহায্যকারী দুটি গ্রুপ গঠিত করেন তাতে কমরেড মতিন ছিলেন ‘সামরিক সাহায্যকারী’ গ্রুপের ১ নম্বর সদস্য।
১৯৭৫ সালের ২ জানুয়ারি শেখ মুজিবের ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র্র কর্তৃক কমরেড সিরাজ সিকদার গ্রেফতার ও নিহত হলে পার্টি গুরুতর বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। পার্টির নেতৃত্বদানের মারাত্মক সংকটকালে সাহায্যকারী গ্রুপদ্বয়ের কোনো সিনিয়র সদস্য দায়িত্ব নিয়ে সভা আহ্বান না করলে কমরেড মতিন উদ্যোগী হয়ে সভা আহ্বান করেন এবং আলোচনার ভিত্তিতে পার্টির অস্থায়ী কেন্দ্র ‘অস্থায়ী সর্বোচ্চ সংস্থা (অসস)’ গঠন করেন। কমরেড মতিনের ওপর প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব অর্পিত হয়। পরে ১৯৭৫ সালের জুন মাসে পার্টির বর্ধিত অধিবেশনে তা সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়। সে সময় তিনি পার্টিকে গুছিয়ে পুনরায় বিপ্লবী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সমর্থনপুষ্ট খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে সামরিকবাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর কমরেড সিরাজ সিকদারের আগাম বিশ্লেষণ অনুযায়ী কমরেড মতিনের নেতৃত্বাধীন ‘অসস’ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে জাতীয় দ্বন্দ্বকে প্রধান দ্বন্দ্ব নির্ধারণ করে বিপ্লবী লড়াই অব্যাহত রাখে।
১৯৭৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পার্টির দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কমরেড মতিন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন। তাঁর গ্রেফতারের কিছুকাল পরে পার্টি তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। জেলবন্দী অবস্থায় কমরেড মতিন আরেক জেলবন্দী নেতা কমরেড সুলতানকে নিয়ে গঠন করেন ‘পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির বিপ্লবী সত্তা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া’ যা সংক্ষেপে ‘সত্তা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পরে জেলে অন্তরীণ থাকাকালে দুই লাইনের সংগ্রামের প্রক্রিয়ায় তিনি কমরেড আনোয়ার কবীরের নেতৃত্বাধীন পার্টি-কেন্দ্র ‘সর্বোচ্চ বিপ্লবী’ পরিষদ (সবিপ)’র সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ১৯৭৮ সালে ঐক্যবদ্ধ হন।
১৯৮০ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় কমরেড মতিন নিপীড়নমূলক কারা-আইনের বিরুদ্ধে দুর্বার সংগ্রাম গড়ে তোলেন। সব জেলে পার্টির জেলবন্দী নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে সংগঠিত হয় জেল আন্দোলন।
সুদীর্ঘ ১০ বছর কষ্টকর বন্দীজীবনে তিনি মাওবাদ ও বিপ্লবের প্রতি আনুগত্যকে কখনো শিথিল করেননি এবং ১৯৮৬ সালে বন্দীদশা থেকে মুক্তি লাভের পর পুনর্বার বিপ্লবী অনুশীলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
‘অভূতপূর্ব বিপ্লবী অনুশীলন, ত্যাগ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কমরেড মতিন ১৯৮৭ সালে পার্টির দ্বিতীয় ও ১৯৯২ সালে তৃতীয় কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনেরও সদস্য ছিলেন।
তৃতীয় কংগ্রেসের পর দক্ষিণাঞ্চলের দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পিত হয়। তিনি তৃতীয় কংগ্রেসের গৃহীত লাইন অনুযায়ী বিপ্লবী লড়াই সূচনা করেন। পরে ’৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে পার্টি অভ্যন্তরে বিবিধ লাইন প্রশ্নে দুই লাইনের সংগ্রাম সূচিত হয়, যার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে পার্টি তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। কমরেড মতিন ১৯৯৯ সালের মে দিবসে গঠন করেন ‘পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন (এমবিআরএম)’।
নতুন কেন্দ্র গঠন করেই তিনি বিপ্লবী লড়াইয়ের সূচনা করেন এবং বেশকিছু সাড়া জাগায় ও বিকাশ ঘটায়। বিপ্লবী অনুশীলনের একপর্যায়ে তিনি গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবশেষে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় কমরেড নিজামউদ্দিন মতিন গত ১১ আগস্ট ২০১৯ দুপুর ১২টায় মৃত্যুবরণ করেন।
কমরেড নিজামউদ্দিন মতিনের ত্যাগীজীবন, অধ্যাবসায়, অবিরাম বিপ্লবী অনুশীলন ও বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস থেকে নতুন প্রজন্মের বিপ্লবীদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। কমরেড মতিন আজীবন নয়াগণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের জন্য লড়াইয়ের মধ্যদিয়ে জনগণের সেবা করেছেন। তাই তাঁর মৃত্যু থাই পাহাড়ের চেয়েও ভারী। কমরেড মতিনের মৃত্যুতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনে এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হলো। কমরেড মতিনের স্মৃতির প্রতি আমরা জানাই লাল সালাম।

মাওবাদী নেতা কমরেড নিজামউদ্দিন মতিন স্মরণ কমিটি

কর্মসূচি
স্মরণসভা : ১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার, বিকেল ৪টা
স্থান : আরসি মজুমদার মিলনায়তন(কলা ভবনের পেছনে), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


প্রয়াত কমিউনিস্ট নেতা কমরেড নিজামুদ্দিন মতিন

 

বাংলাদেশের ফেসবুকে বামপন্থীদের বিভিন্ন পোস্ট ও দেশটির জাতীয় দৈনিক ‘ঢাকা ট্রিবিউন’ জানাচ্ছে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট রাজনীতির অন্যতম ব্যক্তিত্ব, মাওবাদী ধারার কমিউনিস্ট পার্টি ‘পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি(এমবিআরএম)’ এর সম্পাদক কমরেড নিজামুদ্দিন মতিন ওরফে কমরেড ‘ক’ ওরফে কমরেড শাহিন গত ১২ই আগস্ট সকাল ১১টায় মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫বছর। তিনি দীর্ঘদিন যাবত কিডনি রোগে ভুগছিলেন। ১৯৫৫ সালে বরিশালের আলেকান্দায় জন্ম নেয়া মাওবাদী ধারার এই কমিউনিস্ট ব্যক্তিত্ত্ব মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৬৯ সালে তিনি সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে পুর্ব বাংলার শ্রমিক আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৭৫সালে কমরেড  সিরাজ শিকদারকে হত্যার সময়ে কমরেড নিজামুদ্দিন মতিন জেলে ছিলেন। সেখানেই বিভিন্ন কেন্দ্রের বিভ্রান্তি এড়াতে নিজেরা তৈরী করেন “সত্ত্বা” নামে একটি আলাদা গ্রুপ। পরে আবার মিশে যান মূলধারার সাথে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পাবনা, টাংগাইল ফ্রন্টের দ্বায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট রাজনীতিতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর অসংখ্য লেখা থেকে “শামুরবাড়ির প্রতিরোধ” স্মৃতিচারণমুলক লেখাটা ‘লাল সংবাদ’ আজ প্রকাশ করেছে।

 

 

আজীবন মাওবাদী কমিউনিষ্ট বিপ্লবী কমরেড হামিদুজ্জামান বাঘা

োোো

২০১৪ সালের ২৯শে এপ্রিল রাত ৯টায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রাক্তন কৃষিবিদ মুক্তিযোদ্ধা প্রবীণ বিপ্লবী, মাওবাদী নেতা হামিদুজ্জামান বাঘা আকস্মিক হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ইতোপূর্বে ২০০৯ সালে ব্রেন স্ট্রোক থেকে প্যারালাইজড হয়ে নিজ বাড়ীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকাকালীন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর পরই হামিদুজ্জামান বাঘার জীবন রক্ষা ও মুক্তি কমিটি গঠিত হয় এবং তার মুক্তির দাবীতে আন্দোলন গড়ে তোলে। এই কমিটি সভা-সমাবেশ, লিফলেট, ব্যানারসহ বিভিন্ন উপায়ে প্রচারনা চালায়। দেশের বিশিষ্ট বাম রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ- টিপু বিশ্বাস, ফয়জুল হাকিম লালা, সাইফুল হক, মোশরেফা মিশু, জোনায়েদ সাকী সহ অনেকেই কমরেড বাঘার নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে বিবৃতি দিয়েছিলেন। নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চা পোষ্টার করেছিল। অন্যদিকে প্যরালাইজড রোগী হিসেবে বিশেষ বিবেচনায় জামিনের চেষ্টা করা হয়। এমনকি জেল কর্তৃপক্ষ গুরুতর অসুস্থতার কারণে হামিদুজ্জামানকে জেলে আনফিট হিসেবে একাধিকবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলেও সরকার তাকে জামিন বা মুক্তি দেয়নি। সর্বোপরি রাজশাহী জেল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পিজি হাসপাতালে প্রেরণ করলেও তাকে পিজিতে চিকিৎসা না করেই পুনরায় রাজশাহীতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। অথচ এই দেশে বড় বড় দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক নেতা-আমলারা কোর্টে হাজির না থেকেও আগাম জামিন নিয়ে থাকে। এভাবে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মৃত্যুর পর একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চাটমোহর থানা পুলিশের এস.আই মাইনুদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল লোক দেখানো “গার্ড অব অনার” প্রদান করেছিল। হামিদুজ্জামান বাঘা পাবনা জেলার চাটমোহর থানার লাউতিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বিশিষ্ট স্কুল শিক্ষক মজনু মাষ্টার তার পিতা। তিনি বড় ধনী শ্রেণীর রাজনৈতিক দল বা নেতাদের মত আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য কিছুই করেননি। বিগত ৪০ বছর এই শোষণমূলক সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষে নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব তথা শ্রমিক-কৃষক মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক জনগণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাইতো তরুণ বয়সে রাজনীতি বুঝে ওঠার আগেই ছাত্র অবস্থায় জীবন বাজী রেখে ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি আবার পড়াশুনায় ফিরে যান। কিন্তু ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি দেখলেন তাদের স্বপ্নের শ্রমিক-কৃষকসহ সর্বস্তরের নিপীড়িত জনগণের মুক্তি আসেনি। পাকিস্তানি বড় ধনীদের জায়গায় কিছু বাঙালী বড় ধনী শ্রেণী তৈরী হচ্ছে। “অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত” মাওসেতুঙের এই বাণীকে আকড়ে ধরে বাঘা’৭২ সালে জাসদ ছাত্রলীগ এবং পরবর্তীতে ’৭৩ সালে মহান মাওবাদী নেতা কমরেড সিরাজ সিকদারের প্রতিষ্ঠিত পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টিতে যোগদান করেন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে তিনি উপজেলা কৃষি-কর্মকর্তা হিসেবে সরকারী চাকুরীর পাশাপাশি গোপনে পার্টির সংগঠক হিসেবে শ্রমিক-কৃষকসহ বিভিন্ন স্তরের জনগণকে পার্টিতে সংগঠিত করেছেন। অবশেষে ’৮৪ সালে লোভনীয় সরকারী চাকুরী ত্যাগ করে বিপ্লবকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে সার্বক্ষণিকভাবে নিজেকে পার্টি কাজে আত্মনিয়োগ করেন। সেই থেকে গ্রেফতারের পূর্ব পর্যন্ত আনোয়ার কবীরের নেতৃত্বে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি (সিসি)’র নেতৃস্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। যতদূর জানা যায়, এই সুদীর্ঘ সময়ে পার্টির উত্থান-পতনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আশির দশকে এই পার্টির নেতৃত্বে যে সংগ্রাম গড়ে ওঠে সেই সংগ্রামে নরসিংদীর সংগ্রামের অন্যতম নেতৃত্ব ছিলেন তিনি। সেই সংগ্রামে কুখ্যাত সামরিক ফ্যাসিষ্ট এরশাদের পার্টি বিরোধী “অপারেশন দুর্বার” এর দমন অভিযানে হামিদুজ্জামান কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন’৮৯ সালে এবং ’৯৮ সালে জামিনে মুক্তি পান। জেল থেকে মুক্তি পেয়েই বাঘা পার্টি পুনর্গঠন এবং অতীত সংগ্রামের সারসংকলন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন। ’৭৩ সাল থেকে অনেকবার তিনি কারাবরণ করেছেন- সরকারী বাহিনীর অমানবিক নির্যাতন সহ্য করেছেন। কিন্তু শত্রু তাকে কখনো পরাজিত করতে পারেনি। অসুস্থ হওয়ার পূর্বে পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের স্টাফ হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন ছাড়াও সামরিক বিভাগের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কমরেড হামিদুজ্জামান বাঘা আমাদের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকবেন।আমরা তার বিপ্লবী কাজ সমাপ্ত করবো এই অঙ্গীকার করছি।

তথ্যসূত্র: চাটমোহর থেকে প্রকাশিত “দৈনিক চলনবিল” হামিদুজ্জামান বাঘার জীবন রক্ষা ও মুক্তি কমিটির প্রকাশিত কাগজপত্র থেকে


চে গুয়েভারার ছোট ভাইয়ের স্মৃতি

চে গুয়েভারার কাঁধে ছোট ভাই হুয়ান মার্তিন গুয়েভারা

বলিভিয়ার লা হিগুয়েরা নামের সীমান্তবর্তী এক গ্রামের যে স্কুলঘরে ১৯৬৭ সালে বিপ্লবী এরনেস্তো চে গুয়েভারাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, ৪৭ বছর পর প্রথম সেখানে পা রাখেন তাঁর ছোট ভাই হুয়ান মার্তিন গুয়েভারা।

জায়গাটা এখন ব্যস্ততম পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ চে। এই বিপ্লবীর চিরচেনা ছবি শোভা পাচ্ছে চারপাশে।

হুয়ান মার্তিন যখন বাসিন্দাদের কাছে নিজের পরিচয় দেন, অবিশ্বাসী কণ্ঠে তাঁরা বলে ওঠেন, ‘যিশুর কোনো ভাইবোন থাকতে পারে না!’

হুয়ান লিখেছেন, ‘এখানকার সবার কাছে চে একজন সাধু-সন্ন্যাসী হয়ে উঠেছেন। তাঁর ছবি সামনে নিয়ে প্রার্থনা করা হয়, অলৌকিক প্রত্যাশা করা হয় তাঁর কাছে। এ এক ভয়ংকর অবস্থা। আমার ভাইয়ের চিন্তা ও আদর্শ ধুয়েমুছে গেছে।’

হুয়ানের সঙ্গে চের বয়সের পার্থক্য ছিল ১৫ বছর। ছোট ভাইকে প্রায় সন্তানের মতোই দেখতেন চে। মৃত্যুর কিছুকাল আগে ঘনিষ্ঠজনদের কাছে চে বলেছিলেন, ছোট ভাইয়ের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি নৈকট্য অনুভব করেন তিনি।

চের সঙ্গে নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করেছেন হুয়ান। গত সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর স্মৃতিচারণামূলক বইয়ের ইংরেজি সংস্করণ চে, মাই ব্রাদার। প্রকাশক পলিটি প্রেস। হিস্পানি ভাষায় মূল বইটি বেরিয়েছিল গত বছর।

বইটিতে হুয়ান লিখেছেন এরনেস্তোর বিপ্লবী হওয়ার পারিবারিক কাহিনি। উঠে এসেছে অ্যাজমায় ভোগা এক শিশুর কথা, যার স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুষ্ক আবহাওয়ার অন্য শহরে ঠিকানা বদল করেছিল পুরো পরিবার। টগবগে তরুণ চে পড়ছিলেন চিকিৎসাবিদ্যা। কিন্তু মোটরবাইকে করে দুই বছর লাতিন আমেরিকার পথে পথে ঘুরে বদলে যায় তাঁর জীবনদর্শন। গড়ে ওঠে সাম্রাজ্যবাদী শোষণের বিরুদ্ধে বিপ্লবী চেতনা ও রাজনৈতিক আদর্শ।

ভাইয়ের কাছে কেমন ছিলেন চে? হুয়ান বলেন, ‘বাবা ও মায়ের মিশেলে গড়ে উঠেছিল সে। মা সিলিয়া ডি লা সারনা ছিলেন ধীরস্থির, বুদ্ধিমতী ও একই সঙ্গে প্রথাবিরোধী। বাবা এরনেস্তো গুয়েভারা লিঞ্চ আবার নিজেকে বেঁধে রাখার মানুষ নন। পরিবার থেকে কিছুটা দূরেই থেকেছেন। দুজনের বৈশিষ্ট্যই এসেছিল চের মধ্যে। আমার কাছে বাবার বিকল্প ছিল সে। আবার ছিল ভাই ও বন্ধুও।’

কিন্তু ১৯৫৭ সালের পর বদলে যায় চের পরিচয়। একই সঙ্গে হুয়ানের পরিচয়ও বদলে যায়। আগে ছিলেন মেডিকেল পড়ুয়া চের ভাই। পরে হলেন কিংবদন্তি বিপ্লবী ও ভয়ডরহীন যোদ্ধা চের ‘ছায়ায় বেড়ে ওঠা’ হুয়ান মার্তিন গুয়েভারা। বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকের শেষ থেকে আশির দশকের শুরু পর্যন্ত আর্জেন্টিনায় রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে কারাগারে ছিলেন চের এই ছোট ভাই। পরে ছাড়া পান ঠিকই, কিন্তু তত দিনে প্রিয় ভাই আর পৃথিবীতে নেই।

হুয়ানের মতে, চের ভাস্কর্য বা মূর্তি গড়ে তাঁকে আরাধনা করার প্রয়োজন নেই। চেকে এই পূজার বেদি থেকে নামিয়ে আনতে হবে। সবার উচিত তাঁকে একজন ব্যতিক্রমী মানুষ হিসেবে দেখা, স্রেফ মানুষ, যিনি কিনা মার্ক্সবাদী আদর্শে বৈষম্যহীন বিশ্ব গড়তে চেয়েছিলেন।

বিশ্বে কি চের মতো আরেকজন বিপ্লবীর প্রয়োজন আছে? তেমন মানুষ কি পাওয়া সম্ভব? হুয়ান দ্বিধাহীনভাবে
লিখেছেন, ‘হ্যাঁ, পাওয়া সম্ভব। সে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। কিন্তু আমাদের কি ঠিক তাঁর মতো মানুষই প্রয়োজন? একজন গেরিলা? না। টুপি মাথায় পাহাড়ে থাকা কোনো মানুষ? না। কিন্তু এমন একজন মানুষ লাগবে, যাঁর পরিবর্তনের ভাবনা আছে। আছে সুস্পষ্ট নীতি, যা অর্থবিত্ত বা ক্ষমতার কাছে কখনো বিক্রি হয় না। চে এমনটাই ছিল। আমাদের এমন মানুষ দরকার। চে যখন বেঁচে ছিল, তখনকার তুলনায় আজকের পৃথিবী খুব ভালো অবস্থায় নেই। বরং আরও খারাপ অবস্থায় আছে। পরিস্থিতির উন্নতির জন্য আমাদের অবশ্যই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’

 


পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি’র প্রথম অবাঙ্গালী বিপ্লবী শহীদ কমরেড তাহের আজমী

শহীদ কমরেড তাহের আজমী

শহীদ কমরেড তাহের আজমী

মোহম্মদ শমিউল্লাহ্ আজমী(পার্টি নাম- তাহের আজমী)। এই তাঁর পারিবারিক নাম। ডাকনাম বাচ্চু। জন্মেছিলেন ১৯৪৭ সালের জানুয়ারী মাসের কোনো একদিন। বর্তমান পূর্ব উত্তর প্রদেশের বালিয়া শহরে। পাঁচ ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। তাঁর বাবা মা ছিলেন উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলা থেকে আগত। তাঁর পরিবার দেশভাগের পর তদানিন্তন পূর্বপাকিস্তানে চলে যান। শমিউল্লা সেখানেই বড় হয়ে ওঠেন। তাঁর প্রাথমিক পড়াশুনা শুরু হয় তালোরা, গাইবান্ধা ও ফেনী এই তিন জায়গার বাংলা মাধ্যম স্কুলে। পরে যখন তাঁরা পাকাপাকিভাবে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন তখন প্রথমে ভর্তি হন ডন স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ও পরে শাহীন স্কুলে নবম ও দশম শ্রেণীতে। পরে ইন্টারমিডিয়েট তেজগাঁও টেকনিকাল কলেজে এবং তারপর কায়দে আজম কলেজে। কায়দে আজম কলেজে তিনি soil science নিয়ে B.sc.পড়তে শুরু করেন। এই সময়েই তিনি বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। ১৯৬৯ এ আত্মগোপন করার আগে পর্যন্ত তাঁর বাসস্থান ছিল ৯৫ সবুজবাগ, কমলাপুর, ঢাকা। কমরেড সিরাজ সিকদার কর্তৃক প্রথম যে দলটি সংগঠিত হয়, তিনি ছিলেন তার পুরোধা। ১৯৬৭ সালের শেষদিকে মেনন গ্রুপের EPSU ছাত্র সংগঠনের আজীমপুর, তোপখানা রোডের দফতরে তাঁর সাথে আজমীর প্রথম সাক্ষাত। সিরাজ সিকদার সেসময় একগুচ্ছ অত্যন্ত অগ্রসর বিপ্লবী চেতনা সম্পন্ন মানুষকে একত্রিত করার কাজে তৎপর হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিলো পরাধীন পূর্ববাংলার শোষিত মানুষের মুক্তির জন্য একটি সর্বাত্মক সশস্ত্র আন্দোলন গড়ে তোলা। পরিচয়ের কিছুদিনের মধ্যেই শমিউল্লা আজমী সিরাজ সিকদারের ঘনিষ্ঠতম সাথীদের একজন হয়ে হয়ে উঠলেন এবং ১৯৭১ এ সাভারে শহীদ হওয়া পর্যন্ত তাঁর স্থান এবং আনুগত্য অটুট ছিল। আজমীর এই অকাল মৃত্যুর কিছুকাল পূর্বে যখন তাঁর পরিবার করাচি চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখনই তাঁর মা আজমীকে সস্ত্রীক তাঁদের সাথে দেশত্যাগ করতে বলেন। আজমী এবং তাঁর স্ত্রী উভয়েই সে প্রস্তাব সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেন। মাতৃ হৃদয় অবুঝ। তিনি চলে গিয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু মৃত্যুর শেষদিন পর্যন্ত সন্তানের মাতৃক্রোড়ে ফিরে আসার প্রতীক্ষা করেছেন। এমনকি সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ বিশ্বাস করেননি মৃত্যু পর্যন্ত। আজমীর মৃত্যুর পর সিরাজ সিকদার শোকজ্ঞাপন করে এবং সংগঠনে ওপূর্ববাংলার জনগণের মুক্তিসংগ্রামে তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ করে একটি চিঠি আজমীর বোনের কাছে প্রেরণ করেন। বাংলার জন্য তাঁর আত্মদানকে সিরাজ সিকদার কানাডার কম্যুনিস্ট ডাক্তার নর্মান বেথুনের সঙ্গে তুলনা করে তাঁকে “বাংলার নর্মান বেথুন”এই আখ্যা দিয়েছিলেন।

মধ্যবর্তী ইতিহাসঃ

এক সন্ধ্যায় সিরাজ সিকদারের বাড়িতে তিনি, শমিউল্লাহ্ ও রজীউল্লাহ্(শমির ছোটো ভাই) একটি শপথনামায় নিজেদের রক্ত দিয়ে সই করেন। তাঁরা শপথ নেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বিপ্লবের পথে। ঐ তিনজন ছদ্মনাম গ্রহন করেন। সিরাজ ওরফে রুহুল আলম, শমিউল্লাহ্ ওরফে রুহুল আমিন এবং রজীউল্লাহ্ ওরফে রুহুল কুদ্দুস। এই রুহুল শব্দটি তিন জনের নামের মধ্যে রেখে একটি ভ্রাতৃত্ববোধের সঞ্চার করতে চেয়েছিলেন বোধহয়।কিন্তু পরবর্তিতে তা সফল হয়নি। ১৯৭০ এ খালেদা নামে একজন বিপ্লবী তরুণীর সাথে আজমীর ঘনিষ্ঠতা ও প্রেম হয়। তিনি সংগঠনের অনুমতিক্রমে ৫ই মে তে, যেদিন পাকিস্তান কাউন্সিল ও ইউসিস লাইব্রেরীর উপর একটি প্রতীকি হামলা চালানো হয়(কোনো জান মালের ক্ষতি না করে) সেই দিন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অবশ্য অনুমতিপত্র পকেটে নিয়েও সদ্যবিবাহিতা স্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করতে পারেননি। সাতদিন পর তিনি স্ত্রীকে নিয়ে বরিশাল রওনা হলেন লঞ্চে। বরিশালে কিছুকাল সংগঠন গড়ে তোলার পর আবার সস্ত্রীক ঢাকা ফিরে আসেন। এরপর দুজনে চলে যান চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামে একটি অবাঙালী টোলায় তাঁরা এবং আরও দুজন কমরেড একটি বাড়ি ভাড়া করে থাকেন। ঢাকা থেকেই সিরাজ সিকদার, তাঁর স্ত্রী জাহানারা, আজমী, তাঁর স্ত্রী খালেদা সকলের নামেই পাকিস্তান সরকার গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছিল। প্রত্যেকের মাথার দাম ঘোষিত ছিলো এবং জীবিত অথবা মৃত। এই মহল্লার মানুষের পক্ষে এসব জানা সম্ভব ছিলনা। এখানে আজমীর পরিচয় ছিল সাংবাদিক। তিনি ঐখান থেকেই চট্টগ্রামে জোরকদমে সংগঠন গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। তিনি ছিলেন অসাধারণ বাগ্মি এবং সহজেই মন জয় করতে পারতেন এবং উদ্বুদ্ধ করতে পারতেন কর্মীদের। ইতিমধ্যে কমরেড সিরাজ সিকদারের নির্দেশক্রমে আজমী তাঁর স্ত্রীর সহায়তায় স্বাধীন বাংলার পতাকার রূপ দান করেন। ১৯৭০ সালের ৩রা ডিসেম্বর পল্টনে মওলানা ভাসানীর জনসভায় পুর্ব বাংলার জাতীয় গনতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করার আহ্বান সংবলিত লিফলেট এবং ভবিষ্যতে স্বাধীন পুর্ব বাংলার পতাকা বিতরন করে। সে পতাকাটি, সিরাজ সিকদারের অনুসারীদের ভাষায়, এখনকার বাংলাদেশের পতাকা যার ডিজাইন করেছিলেন শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় কর্মী অবাঙ্গালী কমরেড তাহের আজমী ।

৭ই মার্চ পল্টন ময়দানে জনসমাবেশে মুজিব ঘোষিত স্বায়ত্বশাসনের ডাক জনগণের স্বাধীনতার আকাঙ্খার হুঙ্কারের নীচে চাপা পড়ে গেলে, মুজিবকে গ্রেফতারের নাটক হয়ে গেলে সারাদেশে শৃঙ্খলাহীণভাবে লড়াই শুরু হয়ে যায়। যুব সম্প্রদায় ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণ দিতে থাকে এই অসংগঠিত যুদ্ধে। বানের জলের মতো যোশ আর উচ্ছাসে জানের পরোয়া নেই কারো। ফলে অযাচিতভাবে কত তরুণপ্রাণ বিনষ্ট হয়েছে। ঐ অবস্থাতেই শুরু হয়ে যায় বাঙালী অবাঙালী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। আজমী হালিশহর থেকে কোনোভাবে বেরিয়ে মেহেদীবাগে ইঞ্জিনিয়ারদের মেসে উঠলেন। সেখান থেকে পাহাড়তলী। পাহাড়তলী থেকে হেঁটে রামগড় শাব্রুম হয়ে আগরতলা। আগরতলায় পৌঁছে তাঁর স্ত্রী ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিকে টাকা নেই।  স্ত্রীর গহনা যা কিছু আজমীর মায়ের দেয়া তা পার্টিফাণ্ডে জমা করা হয়ে গেছে। বিক্রি করে ওষুধ কেনার মতো কিছু ছিলনা। ছিল শুধু একটি লেডিস ঘড়ি স্ত্রীর হাতে।

 তাই বেচে স্ত্রীর পথ্য জোগাড় হ’ল। এখান থেকে ট্রেনে উঠে সোজা কুচবিহার খালেদার বাড়ি। তখন গোলমালের সময় বলে বোধহয় ট্রেনে টিকিট লাগতোনা।  যাই হোক কুচবিহারে কতদিন তিনি অবস্থান করেছিলেন জানা যায়না। পরে কলকাতা এসে বনগাঁ দিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে আসেন সস্ত্রীক। ঢাকা পৌঁছে আবার সংগঠনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন হ’ল।

কোনো এক অজানা কারণে কমরেড সিরাজ সিকদার আজমীকে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করে রাখলেন। একই শহরে থাকা সত্ত্বেও তাঁদের সাক্ষাতের অনুমতি ছিলনা।

এর কিছুদিন পর যুদ্ধের প্রয়োজনে মুক্তিবাহিনীর সাথে ঐক্যফ্রন্ট গঠনের উদ্দেশ্যে আজমীকে সাভারে প্রেরণ করা হয়। এরপরের ইতিহাস সবার জানা। আওয়ামী মুক্তিবাহিনীরা কমরেড তাহেরসহ অন্যান্যদের হত্যা করে।

কিন্তু জানা গেলনা কিভাবে ঠিক কোন জায়গায় তাঁদের হত্যা করা হয়েছিল।

এ নিয়ে সিরাজ শিকদার ‘সাভারের লাল মাটি’ শীর্ষক কবিতা লেখেন

তাহের, তোমাকে কতবার বলেছি

সতর্ক হতে।

আওয়ামী লীগের চররা

হায়নার মত খুঁজে বেড়ায়

বন্ধুর বেশে আমাদের

খতম করে।

রাতের অন্ধকারে

ফ্যাসিস্টদের বুলেটের শব্দে

তোমাদের ঘুম ভেঙ্গে যায় ।

তারপর…

লড়েছিলে ।

আর কিছু জানিনে ।

সূত্রঃ

raziazmi.com

ও শহীদ কমরেডের স্ত্রী Monzi khaleda begum

 


শহীদ কমরেড ‘মার্গারেট কাগোল’ লাল সালাম

উত্তর ইটালির এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয়া শহীদ কমরেড ‘মার্গারেট কাগোল’ (৮ই এপ্রিল ১৯৪৫ – ৫ই জুন ১৯৭৫) ছিলেন ইতালি এবং পশ্চিম ইউরোপ জুড়ে শুরু হওয়া সর্বহারা সংগ্রামের নতুন তরঙ্গ সশস্ত্র কমিউনিস্ট সংগঠন ‘রেড ব্রিগেড'(Brigate Rosse) এর প্রতিষ্ঠাকালীন নেত্রী।  ৬০ এর দশকের শেষে এককুই তেরম এর সময় আধাসামরিক পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধে তাকে হত্যা করা হয়।

বিস্তারিত পড়ুনঃ

Margherita Cagol

06Margherita_Cagol_Mara2

cagol1

 

ভিডিও – 


ছবির সংবাদঃ তুরস্কের শহীদ মাওবাদী কমরেড ইব্রাহীম কায়পাক্কায়া

তুরস্কের শহীদ মহান মাওবাদী নেতা কমরেড ইব্রাহীম কায়পাক্কায়া-

তুরস্কের দেরসিমের পার্বত্য এলাকায় ইব্রাহিম কাপাক্কায়া নিজে প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন, কিন্তু তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।  তার এক সপ্তাহ পরে আহত অবস্থায় তিনি বন্দী হন।  তাকে বাধ্য করা হয় নগ্ন পায়ে হেটে যেতে ৫০ কিলোমিটার তুষার আর বরফের নদী পেরিয়ে শহর থেকে শহরে, তারপর প্রায় চার মাস দিয়ারবাকিরস বন্দীশালায় তাকে রাখা হয় নির্জন কারাবাসে এবং ধারাবাহিকভাবে তার ওপর নির্যাতন চলে।  পার্টি ও কমরেডদের কোনরকম তথ্য প্রকাশ না করায় প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্র তাকে গুলি করে হত্যা করে।

Ibrahim+kaypakkaya

11146517_1107322785964049_4341136930796364123_n

11137105_1107339045962423_9084783778939951154_n

10996500_1107334642629530_8638134056262204072_n

10404316_1108096995886628_9074624616420149553_n

11256556_1107322045964123_5568295775044506141_n

CBDBkm2WoAE15j4

13165906_1340192512677074_6899916796104538859_n

BKipxQiCUAAzJPa

কমরেড ইব্রাহীম কায়পাক্কায়া'র মা

কমরেড ইব্রাহীম কায়পাক্কায়া’র মা

11012278_547261495412696_2103255304_n