তুরস্কের শহীদ মহান মাওবাদী কমরেড ইব্রাহীম কায়পাক্কায়া স্মরণে প্রশ্নোত্তর –

zzz

কীভাবে ও কোন প্রেক্ষাপটে কমরেড ইব্রাহিম কাপাক্কায়া পথনির্দেশক চিন্তাধারা উদ্ভূত হল?

তুরস্কের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন মুস্তাফা সুফী (১৮৮৩-১৯২১), কিন্তু তা শীঘ্রই ধ্বংস হলো কামালবাদের কারণে, যা ছিল অটোমান সাম্রাজ্যবাদের পতনের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণকারী আমলাতান্ত্রিক বুর্জোয়াদের মতবাদ।১৯৪৯ সালে জন্ম নিয়েছেন যিনি, সেই ইব্রাহীম কাপাক্কায়া চিন্তাধারা উদ্ভূত হয়েছে জনগণের সৃষ্ট সমগ্র বিপ্লবী তরঙ্গের সর্বাধিক বিকশিত অংশ হিসেবে (অপরাপর বিখ্যাত ব্যক্তি যারা সশস্ত্র সংগ্রামের কথা বলেছেন তারা হচ্ছেন চেবাদী মহির কায়ান এবং হোজাবাদী ডেনিস গেজমিস)।   প্রধান প্রশ্ন ছিল তুর্কী শাসকগোষ্ঠীর চরিত্র ও তার উত্স কামালবাদী “বিপ্লব”কে বোঝা, একটা প্রতিবিপ্লব যাকে সুবিধাবাদ “বুর্জোয়া” অথবা এমনকি “গণতান্ত্রিক ও যার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে” বিবেচেনা করেছিল ।

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া অধ্যয়ন করেন তুরস্কের চরিত্র, মুস্তাফা কামাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠার সময় থেকে এর ইতিহাস, এর আধা উপনিবেশিক আধা সামন্তবাদী চরিত্র নিশ্চিত করে এবং নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের পথ অনুসরণ করার প্রয়োজনীয়তা।

কমরেড ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া কি একটি নতুন পার্টি গঠন করেন নাকি একটা পূর্ব থেকে অস্তিত্বমান পার্টিতে যোগ দেন?

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া মাত্র ২১ বছর বয়সে টিআইআইকেপিতে যোগ দেন, যা মাওসেতুঙ কর্তৃক মার্কসবাদ-লেনিনবাদের ব্যাখ্যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরছিল, সেখানে তিনি লেখেন ১৯৭২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত, তখন তিনি টিআইআইকেপির সাথে বিভাজন ঘটাতে এক বিপ্লবী দলকে নেতৃত্ব করেন, তিনি তার চিন্তাধারার জন্ম দেন।

কায়পাক্কায়া মধ্য জুন ১৯৭০-এর মহান ধর্মঘট থেকে শিক্ষা নেন এবং টিআইআইকেপি (তুরস্কের বিপ্লবী শ্রমিক ও কৃষক পার্টি)-এর পুনর্মূল্যায়নের কাজ শুরু করেন।

চীনের মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে সমর্থন করে তিনি টিআইআইকেকেপিতে একটা বিপ্লবী দল সংগঠিত করেন যা শেষ পর্যন্ত টিআইআইকেপির সাথে বিভাজন ঘটিয়ে তুরস্কের কমিউনিস্ট পার্টি/মার্কসবাদী-লেনিনবাদী টিকেপি/এমএল গঠন করে।

কমরেড ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া কি নিজেকে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফসল হিসেবে বিবেচনা করেছেন?

টিআইআইকেপির কর্মসূচির সমালোচনাতে ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া ব্যাখ্যা করেন: “আমাদের আন্দোলন হচ্ছে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফল।”

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়ার প্রধান দলিলগুলো কী কী?

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া, যিনি ২১ বছর বয়সে মারা যান, চারটি প্রধান দলিল রচনা করেছেন। এই দলিলগুলো টিকেপি/এমএল (তুরস্কের কমিউনিস্ট পার্টি/মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) র প্রতিষ্ঠার মুল দলিল।

প্রথমটি ১৯৭২-এর শুরুতে টিকেপি/এমএল-এর গঠনের পর লেখা হয়েছিল, যার শিরোনাম “টিকেপি/এমএল কর্তৃক সাফাক (আইদিনিলিক) সংশোধনবাদের সাধারণ সমালোচনা”।

সাফাক (ভোর) ছিল সংশোধনবাদী তুরস্কের বিপ্লবী শ্রমিক ও কৃষক পার্টির বেআইনি কেন্দ্রিয় পত্রিকা; আর আইদিনিলিক (স্বচ্ছতা) ছিল পার্টির লাইনকে তুলে ধরা আইনি পত্রিকা।

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া কৃত “সাধারণ সমালোচনা”য় রয়েছে ১১টি প্রবন্ধ এবং একটি দীর্ঘ দলিল “সাফাক সংশোধনবাদ থেকে আমাদের পৃথক করে যে মূল প্রশ্নসমূহ”; এগুলো মিলে বই ১৫০ পৃষ্ঠার।

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়ার অন্য দলিলগুলো যার প্রতিটি ৬০ পৃষ্ঠা করে, আরো বিখ্যাত।  ১৯৭২-এর জানুয়ারিতে কায়পাক্কায়া লেখেন “টিআইআইকেপি (আইদিনিলিক)এর কর্মসূচির সমালোচনা এবং “কামালবাদ সম্পর্কে মতাবস্থান”।

প্রথম দলিলটি “সাধারণ সমালোচনা”র চেতনায় সংশোধনবাদী টিআইআইকেপির সমালোচনা; আর দ্বিতীয়টি খুব বিখ্যাত দলিল যেখানে তিনি কামালবাদকে ফ্যাসিবাদ হিসেবে চরিত্রায়িত করেছেন।

ডিসেম্বর ১৯৭১-এ আরো লেখেন “তুরস্কে জাতীয় প্রশ্ন”, এখানে তিনি সংশোধনবাদী জাত্যাভিমানকে বর্জন করে ও জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারকে রক্ষা করে কুর্দী প্রশ্নকে আলোচনা করেন।

বিপ্লবী ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া কি গণযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন?

হ্যাঁ, ইব্রাহিম কাপাক্কায়া টিক্কো (টিআইকেকেও) গঠন করেন যা হচ্ছে তুরস্কের শ্রমিক ও কৃষকদের মুক্তি বাহিনী। দেরসিমের পার্বত্য এলাকায় ইব্রাহিম কাপাক্কায়া নিজে প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন, তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তার এক সপ্তাহ পরে তিনি বন্দী হন। তাকে বাধ্য করা হয় নগ্ন পায়ে হেটে যেতে ৫০ কিলোমিটার তুষাঢ় আর বরফের নদী পেরিয়ে শহর থেকে শহরে, তারপর প্রায় চার মাস দিয়ারবাকিরস বন্দীশালায় তাকে রাখা হয় নির্জন কারাবাসে এবং ধারাবাহিকভাবে তার ওপর নির্যাতন চলে। কোনরকম তথ্য প্রকাশ না করায় প্রতিক্রিয়া তাকে গুলি করে হত্যা করে।

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া কি একজন নতুন নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন?

হ্যাঁ, ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া তুরস্কের মাওবাদী আন্দোলনের মহান নেতায় পরিণত হন। আর এটা লক্ষনীয় যে, তুরস্কের প্রতিক্রিয়াশিল রাষ্ট্র তার সাথে সম্পর্কিত সবকিছু নিষিদ্ধ করতে যাবতীয় প্রচেষ্টা চালায়, অন্যদিকে চেবাদী মহির কায়ানের রোমান্টিকতাবাদ আধা গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয় এবং হোজাবাদী ডেনিস গেজমিদ প্রায় স্বীকৃত হয়।

আজ পর্যন্ত মাওবাদীদের কাছে ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া কেন্দ্রীয়, এমনকি যারা তাকে “সংশোধন করার ভাণ করে মাওসেতুঙের রেফারেন্স, গণযুদ্ধ ও নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবকে নেতিকরণ করে সেই “মার্কসবাদী-লেনিনবাদী”দেরও।

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া কি গণযুদ্ধকে সার্বজনীন বিবেচেনা করেছেন?

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া এ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করেননি। তবে মাওয়ের ধারণাকে অনুসরণ করে লাল রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রশ্নকে আলোচনা করে ইব্রাহিম কাপাক্কায়া নিশিচত করেন যে “ঔপনিবেশিক ও আধা ঔপনিবেশিক সকল পশ্চাদপদ দেশে লাল রাজনৈতিক ক্ষমতা সম্ভব। কেবল সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলিতেই তা সম্ভব নয়।”

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া কি সাহিত্য উদ্ধৃত করেছেন?

না, ইব্রাহিম কায়পাক্কায়ার এমন রেফরেন্স পাওয়া যায়না।

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া কি কবিতা লিখেছেন?

না, এমন কিছু পাওয়া যায়নি।

স্কুলজীবন থেকেই কি ইব্রাহিম কায়পাক্কায়ার বিপ্লবী জীবন শুরু?

প্রায় চার মাস নির্যাতিত হওয়ার পর, ২১ বছর বয়সে ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া মৃত্যুবরণ করেন; তিনি ইতিমধ্যেই পার্টি ও মুক্তিবাহিনী গড়ে তুলেছেন। এটা দেখায় আগে তার জীবন কী ছিল।

ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের পদার্থবিদ্যার ছাত্র থাকা অবস্থায় কায়পাক্কায়া বিপ্লবী ভাবধারা আবিষ্কার করেন। মার্চ, ১৯৬৮তে তিনি কাপা ভাবধারা ক্লাবের ফাউন্ডেশনে যোগ দেন এর সভাপতি হয়ে। আমেরিকার ষষ্ঠ নৌবহরের বিরুদ্ধে লিফলেট প্রস্তুত করায় নভেম্বর ১৯৬৮তে তিনি স্কুল থেকে বহিষ্কৃত হন।

বিপ্লবী বাম প্রেসে তখন তিনি প্রবন্ধ লেখেন, আর শীঘ্রই একজন নেতায় পরিণত হন।

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া বেঁচে থাকলে কি তিনি গনসালো চিন্তাধারার মত অধিক বিকশিত চিন্তাধারা গড়ে তুলতে সফল হতেন?

অবশ্যই, যেহেতু ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া তুরস্কের সমাজের বাস্তবতাকে বুঝতে সক্ষম হয়েছেন আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ ও কুর্দী জাতীয় সমস্যার প্রধান প্রশ্ন সমেত।

 


মহান মে দিবসঃ ফাঁসির মঞ্চে যারা গেয়ে গেল, জীবনের জয়গান

13077100_714602458681669_4733753899653735568_n

13082549_714602388681676_6753552528195513473_n

13087326_714602405348341_3248175293377600857_n

13102622_714602415348340_3367767728623855861_n

কাজের সময়সীমা ৮ ঘন্টা দাবী বাস্তবায়িত করা সংগ্রামের গতিপথে ১৮৮৪ সালে ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ১৮৮৬ সালের ১ মে সমাবেশ, বিক্ষোভের। কিন্তু বুর্জোয়াশ্রেণীর সরকারের পুলিশ ও গুণ্ডা বাহিনীর নির্মম দমন-পীড়নের প্রতিবাদে ১ মে শ্রমিক ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নাইটস অব লেবার ও আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবারের নেতৃত্বে বুর্জোয়াশ্রেণীর সকল চক্রান্ত্র-ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে ১ মে শ্রমিক সমাবেশ ও ধর্মঘট সফলভাবে পালিত হয়। শ্রমিক আন্দোলন ও ধর্মঘট ছড়িয়ে পড়ে এবং শিকাগো শহরে তা জঙ্গীরূপ লাভ করে। শিকাগোর ম্যাককামক ওয়ার্কর্স নামে এক কারখানার শ্রমিকদের সাথে পুঁজিপতি শ্রেণীর দালালদের সংঘর্ষ শুরু হয়। মালিক ও পুলিশের এই বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে ৪ মে শ্রমিককেরা শিকাগোর হে মার্কেটে প্রতিবাদ সভার ডাক দেয়। প্রতিবাদ সভা চলাকালে পুলিশের পৈশাচিক গুলিবর্ষণে নিহত হন ৭ জন শ্রমিক এবং হতাহত হন অনেকে।

 ৮ ঘন্টা শ্রম দিবসের এই ঐতিহাসিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবার জন্য পুলিশ গ্রেপ্তার করে ৭ জন শ্রমিক নেতা –অসাষ্ট স্পাইজ, সীমফেল্ডেন, মাইকেল, জর্জ এঞ্জল, এডলফ ফিশার, লুই নিংগ ও অঙ্কার নিবেকে। বুর্জোয়া শ্রেণী ও তাদের স্বার্থরাকারী সরকার ফাঁসির আদেশ দেয় শ্রমিকশ্রেণীর নির্ভীক, দৃঢ়পতিজ্ঞ বীর নেতা অগাষ্ট স্পাইজ, গ্যারসন, ফিশার ও এঞ্জলকে

ক্ষমা প্রদর্শনের আবেদন জানাতে অস্বীকার করে এই সব বীর শ্রমিক নেতারা সৃষ্টি করেন আত্মত্যাগ ও বিপ্লবী দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ও ইতিহাস।

অগাষ্ট স্পাইস আদালতে বলেন, “ অভাব ও কষ্টে খেটে খাওয়া লক্ষ লক্ষ শোষিত মানুষের আন্দোলনে তাদের মুক্তির আশা দেখে আপনারা যদি ভাবেন যে, আমাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়েই আপনারা সেই শ্রমিক আন্দোলনকে উচ্ছেদ করতে পারবেন, যদি এটাই আপনাদের মত হয়, তবে দিন আমাদের ফাঁসি। এখানে একটা স্ফুলিঙ্গের ওপর আপনারা পা দেবেন, কিন্তু সেখান থেকেই আপনাদের পেছনে, আপনাদের সামনে এবং সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে লেলিহান অগ্নিশিখা। এটা ভূ-গর্ভের আগুন এবং আপনারা তা কখনও নেভাতে পারবেন না।” তিনি বলেন, “ আজ তোমরা আমাদের টুটি টিপে ধরেছো, কিন্তু আমাদের নীরবতা সেই কণ্ঠস্বরের চেয়েও অনেক বেশী শক্তিশালী হয়ে উঠবে এমন দিন আসবে।”

ফাঁসির পূর্বে ফিমারের মত সর্বহারা বীররাই এমন কথা উচ্চারণ করতে পারেন যে, “এটা আমার জীবনের সবচেয়ে খুশীর মূহুর্ত।”

ফাঁসির দড়ি গলায় পরেও অপারেজেয় যোদ্ধা এঞ্জেল ঘোষণা করেন,“জনগণের কষ্ঠস্বর শোনা হোক।”

পারসনের মতো সর্বহারা যোদ্ধারাই মৃত্যুর পূর্বে তার স্ত্রীকে লেখা চিঠিতে তুলে ধরতে পারেন এমন সর্বহারা ভাবমানস, “ আমার অসহায় প্রিয় বৌ, তোমাকে আমি জনগণের কাছেই অর্পণ করছি, তুমি জণগণের একজন নারী। তোমার কাছে আমার একটি অনুরোধ, আমি যখন রইব না তখন কোন বেপরোয়া কাজ করনা, তবে সমাজতন্ত্রের মহান আদর্শকে আমি যেখানে রেখে যেতে বাধ্য হলাম, সেখান থেকে তাকে তুলে ধরো।” অধিকার ও মুক্তি ছিনিয়ে আনার সংগ্রামের অগ্নিশিখা ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে।

অনেক ত্যাগ, রক্ত, সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায় ৮ ঘন্টা শ্রম দিবসের দাবী। কিন্তু এর মধ্যে তা সীমাবদ্ধ ছিল না, এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, এটা হচ্ছে শ্রমিকশ্রেণীর মুক্তির লক্ষ্যে মজুরী দাসত্ব ব্যবস্থা তথা পুঁজিবাদ উচ্ছেদ করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মহান সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ।


ভারতের গণযুদ্ধের শহীদ নারী কমরেড ‘গাজ্জেলা সারোজানা(আমারা)’

গাজ্জেলা সারোজানা(আমারা)

গাজ্জেলা সারোজানা(আমারা)

অনূদিত – 

সিপিআই(মাওবাদী) এর সিনিয়র নেত্রী কমরেড ‘গাজ্জেলা সারোজানা(আমারা)‘। শ্রমিক পরিবারে জন্ম নেয়া এই কমরেড ১১ই ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি শোষণ ও নিপীড়নসহ সব ধরণের অন্যায় থেকে জনগণের মুক্তির জন্যে নিঃস্বার্থ ভাবে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত পার্টি ও জনগণের সেবা করে যান। তার বড় ভাই গাজ্জেলা গঙ্গারামও পার্টির একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে ১৯৮১সালে পার্টির প্রশিক্ষণ শিবিরে বোমা তৈরির সময় শহীদ হন। তার মা গোর্কির মায়ের মত তার সন্তানদের সবসময় বিপ্লবী আন্দোলনে অংশ নেয়ার জন্যে উৎসাহ দিতেন। তার বাবাও একজন শ্রমিক ছিলেন। কৈশোরেই তিনি শ্রমিক শ্রেণী পরিবারের ঐতিহ্য দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য তার জীবন উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেন। কৈশোরে ছাত্র গণসংযোগের কাজ করতেন, পরে প্রযুক্তিগত কাজ করেন , পরবর্তীতে তিনি আদিলাবাদ জেলার একটি স্কোয়াডে কয়েক বছর কাজ করেন. পরে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার বিপ্লবী জীবন দন্ডকারণ্যে কেটেছে। তিনি তার জীবন- সবচেয়ে নিপীড়িত আদিবাসী জনগণের সেবায় ব্যয় করেছেন।  তাদের মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ এর শিক্ষার্থী হিসেবে তৈরী করতে তাদের শিক্ষাদান করতেন। তিনি কমরেড শ্যামকে বিয়ে করেন। কমরেড শ্যামকে ১৯৯৯সালের ২রা ডিসেম্বরে ভুয়া এনকাউণ্টারে হত্যা করে পুলিশ। ১৯৮৬ সালে তিনি গ্রেফতার হয়ে ৩ বছর জেলে কাটান। মুক্তি পেয়ে আবার তিনি কমরেড শ্যামের সাথে আদিবাসী জনগণের সেবায় যুক্ত হন। কমরেড সারোজানা খুব সহজ জীবন যাপন করতেন। পার্টিতে তার জ্যেষ্ঠতা সত্ত্বেও তিনি কখনো তার নিজের উন্নয়ন সম্পর্কে চিন্তা করেননি।

সূত্রঃ  signalfire


জণ্ডিসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন সিপিআই(মাওবাদী)’র সিনিয়র নেতা ‘রবি’

Kudumula-Venkata-Rao

গত শনিবার শহরের এক হাসপাতালে সিপিআই(মাওবাদী)’র এক শীর্ষ নেতা ‘কুদুমুলা ভেঙ্কট রমানা’ ওরফে রবি জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

রবি ছিলেন অন্ধ্র-উড়িষ্যা সীমান্ত বিশেষ জোনাল কমিটি((AOBSZC)) এর সদস্য এবং পার্টির কেন্দ্রীয় আঞ্চলিক কমিটি(সিআরসি)’র প্রথম কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন। তিনি এলাকায় অনেক অপারেশনের দায়িত্ত্বে ছিলেন। তিনি, পুলিশ ও তাদের সম্পদ ধ্বংসের অনেক হামলার পরিকল্পনায় ছিলেন,  রবি’র মাথার জন্যে ২০ লক্ষ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল পুলিশ।

পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ সুপার ‘কয়া প্রভীন’ বলেন-  রবিকে সকালে চিন্তাপল্লী মণ্ডলের শাপ্পাড়লা’র একটি জায়গা থেকে শহরে আনা হয়েছিল কিন্তু সে মারা যায়।

চিন্তাপল্লী মণ্ডলের কোম্মাঙি গ্রামের অধিবাসী ‘রবি’ হাইস্কুল শেষ করার পর ১৯৯৮ সালে মাওবাদী পার্টিতে যোগদান করেন। এরপর তিনি ধীরে ধীরে পার্টির শীর্ষ নেতা ও সামরিক পরিকল্পনাবিদ হয়ে উঠেন। পার্টি সদস্য ‘কুমারী’কে তিনি বিয়ে করেন।

রবির মৃতদেহ শনিবার সন্ধ্যায় তার নিজ গ্রাম  চিন্তাপল্লী মণ্ডলের কোম্মাঙিতে নেয়া হয় এবং আজ রবিবার তাকে দাহ করা হয়েছে। রবির মরদেহ বিশাখাপত্তনম থেকে নেয়ার খবর পেয়ে বিশাল সংখ্যক গিরিজন সম্প্রদায়ের জনগণ কোম্মাঙিতে পৌঁছায়। সাবেক মন্ত্রী পি বালারাজু’র স্ত্রী, বিজেপি নেতা লোকুলা গান্ধী রবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

অনুবাদ সূত্রঃ thehindu


ফিলিপিনের কমিউনিস্ট পার্টি’র শহীদ মুখপাত্র ‘কা রজার’ লাল সালাম

tumblr_lsu93uUSE01qesnz6o1_1280-1-791x1024

ফিলিপাইন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (NDFP), নিউ পিপলস আর্মি (এনপিএ) এর ৪৭তম বার্ষিকীতে কমরেড ‘কা রজার’ এর প্রতি আবারো সর্বোচ্চ সন্মান জানিয়েছে।

কা রজার ছিলেন এনপিএ’র একজন দৃষ্টান্তমূলক কমান্ডার ও ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র। ফিলিপিনে ৪৭ বছর ব্যাপী মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী সশস্ত্র সংগ্রামে ও ফিলিপিনের জনগণের প্রতি তিনি অকৃত্রিম সেবা করে গেছেন। তার নেতৃত্বে এনপিএ, প্রতিক্রিয়াশীল শাসকগোষ্ঠীর সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অনেক কৌশলী অভিযান পরিচালনা করেছিল। বহু বছর ধরে মার্কোস স্বৈরতন্ত্রের সময় থেকে কা রজার বিপ্লবী আন্দোলনের প্রাণবন্ত মুখ হিসেবে ফিলিপিন জনগণের ভালোবাসার ও পছন্দের পাত্র ছিলেন। তিনি একজন চমৎকার যোগাযোগ বিনিময়কারী ছিলেন,  জনগণের আন্দোলনের লাইনকে সবচেয়ে কার্যকরভাবে সম্প্রচার, বিভিন্ন বিষয়, এমনকি সবচেয়ে কঠিন কিছুকে সহজ ব্যাখ্যা এবং খুব বোধগম্য ভাবে জনগণের কাছে উপস্থাপন করতেন। শ্রমজীবি জনগণের কাছ থেকে আসা তাদের অবস্থা, জীবন ও সংগ্রামের গভীরতম অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষা তিনি সহজেই বুঝতে পারতেন। গণমাধ্যম কর্মীদের কাছেও তিনি বেশ প্রিয় ছিলেন। তারাও ভালোবেসে তার সাক্ষাৎকার নিতেন।

তার স্মৃতি এবং অনুপ্রেরণা সমগ্র জনগণের মধ্যে বেঁচে থাকবে। প্রকৃত ভূমি সংস্কার এবং জাতীয় শিল্পায়ন, মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য এবং শুধু মাত্র দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য তাঁর অবিরাম সংগ্রামের জীবন ও সেবা জনগণের হৃদয়ে আঁকা থাকবে।

কমরেড ‘কা রজার‘ এর প্রতি রইল ‘লাল সংবাদ‘ এর লাল সালাম।।

(অনূদিত)


ফিলিস্তিনি কমরেড ‘ডাঃ ওয়াদি হাদ্দাদ’ এর ৩৮তম শহীদ বার্ষিকী স্মরণ

wadiehaddad

১৯৭৮ সালের ২৮শে মার্চ, আরব জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ফিলিস্তিনের সমাজতান্ত্রিক ধারার পপুলার ফ্রন্ট ফর দি লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন((PFLP) এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কমরেড ডাঃ ওয়াদি হাদ্দাদ এর ৩৮তম শহীদ বার্ষিকী। এই দিনে ফিলিন্তিনি জনগণ, আরব জাতি ও পৃথিবীর সকল মুক্তিকামী আন্দোলন একজন সংগ্রামীকে হারিয়েছেন, যিনি ফিলিস্তিনি জনগণের উপর ইহুদিবাদী দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ইসরায়েলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ পূর্ব জার্মানি’র পূর্ব বার্লিনে চকলেট প্রিয় মহান কমরেড ডাঃ ওয়াদি হাদ্দাদকে বেলজিয়ান চকলেটের মাধ্যমে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছিল। এই কমরেডের নেতৃত্বেই ১৯৬০-৭০ এর দিকে ইসরায়েলী লক্ষ্য বস্তুতে আঘাত হানা ও বিমান হাইজ্যাক করা হয়েছিল।

১৯২৭ সালে ফিলিস্তিনে এক অর্থোডক্স খ্রিষ্টান পরিবারে জন্ম নেয়া এই কমরেড বৈরুতের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগ থেকে পড়াশুনা শেষ করেন। কমরেড ডাঃ ওয়াদি হাদ্দাদের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক ধারার (PFLP)ফ্রন্ট ‘শত্রু সর্বত্র’ এই ব্যানারে দখলদারীত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিন ও আন্তর্জাতিকব্যাপী শক্তিশালী বিপ্লবী সামরিক অভিযান চালায়। জাতীয় মুক্তি আন্দোলন এবং বিশ্বজুড়ে সংগ্রামে তাঁর নেতৃত্বে যোগদানকারী কমরেডদের সহযোগিতায় জাপানি রেড আর্মি’র যোদ্ধারা ১৯৭২ সালে লোদ বিমানবন্দরে সাহসী অপারেশন চালায়।

পৃথিবীর মুক্তি সংগ্রামের যোদ্ধা, এই মহান আন্তর্জাতিকতাবাদী কমরেডের প্রতি ‘লাল সংবাদ‘ জানাচ্ছে বিপ্লবী লাল সালাম।।

(অনূদিত)


আন্তর্জাতিকতাবাদের প্রতীকঃ শহীদ নারী কমরেড ‘বারবারা আন্না কিস্টলার’

466218_o70cb

বারবারা আন্না কিস্টলার ২১ নভেম্বর, ১৯৫৫ সালে জুরিখে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা-মা শ্রমিক ছিলেন। ১৬ বছর বয়সে তিনি রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং যারা শাসক ব্যবস্থার সমালোচনা করতেন সেসব জনগণকে দলে সংগঠিত করতে শুরু করেন। ১৭ বছর বয়সে, তিনি রাজনৈতিক বন্দীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।  এছাড়া তিনি বিভিন্ন নারী সংগঠনে কাজ করতেন। তার লক্ষ্য ছিল মার্কসবাদ-লেনিনবাদের মাধ্যমে নারীদের নারীবাদী ধারণার পরিবর্তন করা। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন ফ্যাসিবাদ বিরোধী দলের সঙ্গে কাজ করেন। বিচ্ছিন্নতা (KGI) বিরোধী দলের সাথে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ছিল, যারা সুইজারল্যান্ডে একটি কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিল।একই সাথে তিনি অন্যান্য দেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের পরিস্থিতি অনুসন্ধান করতেন, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের আন্দোলনের প্রতি তিনি আগ্রহী ছিলেন।

১৯৮০ সালে, তিনি সামরিক অভ্যুত্থান এড়িয়ে যে সমস্ত বিপ্লবী তুরস্ক থেকে সুইজারল্যান্ডে পালিয়ে যান, তাদের কাছ থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৮০ সালে তিনি সহানুভূতিশীল হিসেবে মাওবাদী TKP/ML[তুর্কি কমিউনিস্ট পার্টি/মার্কসবাদী-লেনিনবাদী] এর সংস্পর্শে আসেন। এ সময় পার্টি তাঁকে আরো গভীর ভাবে মাওবাদী TKP/ML এর প্রোগ্রাম অধ্যয়নের বিষয়ে নেতৃত্ব দেয়। এরপর তিনি সুইজারল্যান্ডের জীবন নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠেন, তাই তিনি তুরস্ক থেকে যান এবং মাওবাদী TKP/ML এর নেতৃত্বে শ্রেণী সংগ্রামে যোগদান করার সিদ্ধান্ত নেন।

১৯৯১ সালের ১৯শে মে তিনি ইস্তাম্বুলে অন্যান্য কমরেডদের সাথে একত্রে গ্রেফতার হন।ফ্যাসিস্ট তুর্কি রাষ্ট্রের আদালতের সামনে তিনি- “সর্বহারা আন্তর্জাতিকতাবাদকে দোষারোপ করার কোন অধিকার আপনাদের নেই!” এই কথাগুলো বলে তুর্কি ফ্যাসিবাদের নিন্দা জানান। ১৬ই সেপ্টেম্বর তারিখে তিনি মুক্তি পান এবং সুইজারল্যান্ডে ফিরে যান। কিন্তু তিনি কেবল এক মাসের জন্য সেখানে থাকেন এবং আবার তিনি তুরস্কে ফিরে যান।

তিনি মাওবাদী TKP/ML এর সশস্ত্র শাখা TIKKO[তুরস্কের শ্রমিক ও কৃষকদের মুক্তি সেনা] এর সশস্ত্র সংগ্রামে যোগদানের জন্য পাহাড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯৩ সালে রিপোর্ট আসে যে তিনি শহীদ হন।

কমরেড বারবারা ফ্যাসিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, পুঁজিবাদ এবং প্রতিক্রিয়াশীলসহ সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বহারা শ্রেণীর নেতৃস্থানীয় সংগ্রামে তার জীবন দিয়েছেন। তার সংগ্রাম আমাদের সংগ্রাম এবং তিনি আমাদের সংগ্রামে বেঁচে থাকবেন।

কমরেড বারবারা আন্না কিস্টলার অমর হোন!

নয়া গণতান্ত্রিক যুব – Yeni Demokratik Genclik (YDG)

মহান আন্তর্জাতিকতাবাদী নারী কমরেড ‘বারবারা আন্না কিস্টলার‘ এর প্রতি রইল ‘লাল সংবাদ‘ এর লাল সালাম।

(অনূদিত)