রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের উপর চেপে বসেছে

rohingya-afp_650x400_41506136867

রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের নয়। তারপরও বাংলাদেশ এই সঙ্কটে জড়িয়ে পড়েছে। এর পেছনে ক্রিয়াশীল রয়েছে এতদঞ্চলকে নিয়ে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব ও সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত।এখন বাংলাদেশও তার শিকারে পরিণত হলো। বিগত ২০১৬ সালে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু সঙ্কট আরও একবার দেখা দিয়েছিল। বাংলাদেশ সরকার সেই সময়ে রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করতে অস্বীকার করলো এবং আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির সশস্ত্র তৎপরতার নিন্দা জানিয়েছিল। কিন্তু এবারের সঙ্কটে কেন সীমান্ত খুলে দিল সেখানেই নিহিত রয়েছে গভীর রহস্য। সীমান্ত খুলে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশে ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রবেশ করায় বাংলাদেশও এই সঙ্কটে জাড়িয়ে পড়লো। বাংলাদেশে এর আগে থেকেই প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছিল, এই ৫ লাখ নিয়ে সর্বমোট ৮ লাখ রোহিঙ্গা এখন অবস্থান করছে। আরও প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গার আগমন ঘটবে বলে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের এভাবে বাংলাদেশে আসার পেছনেও রয়েছে মার্কিন মদদপুষ্ট আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির সংগঠিত তৎপরতা। রোহিঙ্গাদের এইভাবে বাংলাদেশে আনার পেছনে রয়েছে সাম্রাজ্যবাদের আর এক ষড়যন্ত্র। রোহিঙ্গাদের স্বদেশভূমিতে অধিকার প্রতিষ্ঠার নামে সশস্ত্র করা এবং আল কায়দা, আইএস ইত্যাদি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মদদে পুষ্ট আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে যুক্ত করা। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এখন বাংলাদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের নিয়ে বহুমুখী ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করছে। বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াশীল শাসক-শোষক গোষ্ঠীকে মার্কিনের এইসব ষড়যন্ত্র-চক্রান্তমূলক পরিকল্পনার সাথে সামগ্রিকভাবে সমন্বিত করার প্রয়াস চালানো হচ্ছে।

মিয়ানমারের রাখাইনদের সাথে রোহিঙ্গাদের জাতিগত বিরোধে মিয়ানমার সরকার সব সময়েই রাখাইনদের পক্ষ নিয়েছে। মিয়ানমারে পাশ্চাত্যর সাহায্যপুষ্ট এনজিওগুলোর আজকের পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য কম দায়ী নয়। এই এনজিওগুলো রোহিঙ্গাদের দুরাবস্থার সুযোগ নিয়ে তাদের মাঝে ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা চালায় এবং ভিত্তি স্থাপন করে। মার্কিনের নেতৃত্বে পাশ্চাত্যের সাহায্যপুষ্ট এনজিওগুলোই গড়ে তুলেছে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। মার্কিনের নেতৃত্বে পাশ্চাত্যের অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদীরা পরিকল্পনা করে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিকে(আরসা)কাজে লাগাচ্ছে। তারা চীনের মদদপুষ্ট মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে মার্কিনের পরিকল্পনা মোতাবেক হামলা চালাচ্ছে এবং সিত্তু বন্দর ও তার আশেপাশের এলাকার পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তুলছে। এখানে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার জোট সঙ্গীদের লক্ষ্য হলো সিত্তু বন্দরকে অচল করে দেওয়া ও চীনের বিনিয়োগ ও সামগ্রিক পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত করা। চীনের সমর্থনপুষ্ট মিয়ানমারের সরকারি আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা)এ আক্রমণের জবাব দিচ্ছে অতি নিষ্ঠুর উপায়ে। মিয়ানমারের স্বৈরাচারি শাসক-শোষক গোষ্ঠী স্বৈরতান্ত্রিক পন্থায় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির এই আক্রমণ প্রতিহত করছে। স্বৈরাচারী শাসক-শোষক গোষ্ঠী সামরিক বাহিনী নামিয়ে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভয়-ভীতির পরিবেশ তৈরি রোহিঙ্গাদের জন্মভূমি ত্যাগে বাধ্য করছে। এর পিছনে রয়েছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর গভীর চক্রান্ত। কেন এই চক্রান্ত?এখন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ একক পরাশক্তি হিসাবে টিকে থাকলেও বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব ও আধিপত্য করার একচ্ছত্র ক্ষমতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সে কিন্তু বসে নেই। একক পরাশক্তি হিসাবে পূর্বের ধারাবাহিকতায় বিশ্বব্যাপী একক আধিপত্য করার প্রয়াস চালাচ্ছে। এর বিপরীতে বিশ্বব্যাপী তার প্রতিপক্ষ শক্তির উদ্ভব ঘটেছে এবং প্রতিপক্ষ শক্তির সামগ্রিক ক্ষমতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ প্রতিপক্ষকে মোকাবেলায় বেসামাল হয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের যুদ্ধ করে দখলকৃত আফগানিস্তানে পুঁজিবাদী চীন এখন প্রধান বিনিযোগকারী। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দখলকৃত ইরাকে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে ইরাক সরকারের ওপর প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদের সাথে যুক্ত ইরানের প্রভাবও বৃদ্ধি। এই অবস্থায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আইএস সৃষ্টি করে ইরাক-সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে প্রতিপক্ষ শক্তির সাথে সম্পর্কযুক্ত সিরিয়াতে বাসার আল আসাদ সরকারের পতন ঘটানোর ষড়যন্ত্র করে। কিন্তু প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়ার হস্তক্ষেপে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য এইভাবে একের পর এক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।

এই প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে এবারে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ঘৃণ্য রাজনীতির খেলায় নেমেছে। দীর্ঘদিন যাবত মিয়ানমার নামক দেশটি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদীদের কাছে তেমন কোন গুরুত্ব পায়নি। এই সুযোগের ব্যবহার করেছে পুঁজিবাদী চীন। মিয়ানমার প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এক বিশাল ভূখণ্ড। চীন এই দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ও খনিজ সম্পদ উত্তোলনে ব্যাপক বিনিয়োগ করে। এরই মধ্যে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের পতন ঘটে। বিশ্বব্যাপী মার্কিন সাম্রাজ্যাদের আর কোন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকে না, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ একক পরাশক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সময়ে মিয়ানমারের ওপর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দালাল অং সান সুকি ও তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসিকে সামনে আনা। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে পশ্চিমারা তাকে গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী বানিয়ে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করে। মার্কিনের নেতৃত্বে পাশ্চত্যের সাম্রাজ্যবাদীদের প্রচেষ্টায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সামরিক শাসকদের সমগ্র জনগণের ওপর দমন পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন অং সান সুকি।

মিয়ানমারের সরকার ও সামরিক বাহিনীকে মদদ দিয়ে চলেছে পুঁজিবাদী চীন। পুঁজিবাদী চীন সাম্রাজ্যবাদী চীনে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সিঙ্গাপুরে নৌঘাঁটি করে মালাক্কা প্রণালীকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কোন জরুরি পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটলে বা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে চীনের যুদ্ধ বেধে গেলে মালাক্কা প্রণালীতে চীনের নৌ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই জন্য চীন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মালাক্কা প্রণালী এড়িয়ে বিকল্প পথে তার সামুদ্রিক বাণিজ্য চালু রাখার উপায় হিসাবে বেছে নিয়েছে মিয়ানমারের কিয়াউ পুঁই বন্দরকে। কিয়াউ পুঁই বন্দরকে আধুনিক বন্দর হিসাবে গড়ে তোলার জন্যে চীন প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে। এই বন্দর ব্যবহারের লক্ষ্যে সড়ক চীনের সাথে সড়ক যোগাযোগ ইতিমধ্যেই স্থাপিত করেছে এবং তেল ও গ্যাসের পাইপ লাইন নির্মিত হচ্ছে ও রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার কাজ করছে। মিয়ানমারের রাখাইনের কিয়াউ পুঁই বন্দর ও এর আশেপাশের এলাকায় রোহিঙ্গাদের অবস্থান রয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাথে রাখাইনদের যে বিরোধ সে বিরোধের শত শত বছরের পুরণো ইতিহাস বয়েছে। এখন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বাধীন জোট মিয়ানমারের রাখাইন ও রোহিঙ্গাদের জাতিগত বিরোধকে কাজে লাগাতে সচেষ্ট রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী ভাগ-বাটোয়ারার প্রতিযোগিতায় পুঁজিবাদী চীনের জোট সঙ্গী রুশ সাম্রাজ্যবাদ। মিয়ানমারকে নিয়ে চীনের সামগ্রিক পরিকল্পনা মার্কিনের নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষতিগ্রস্ত করায় চীন স্বভাবতই মিয়ানমারের সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। আরাকানের উপকূলে ব্যাপক হাইড্রো-কার্বনের সন্ধান পাওয়ায় ও চীনের সাথে জোটবদ্ধ হওয়ায় রাশিয়াও মিয়ানমারের স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। আধাসামন্তবাদী-নয়াঔপনিবেশিক ভারত কেন রোহিঙ্গা সঙ্কট প্রশ্নে চীন-রাশিয়ার পাশে এবং বাংলাদেশের ভূমিকাকে সমর্থন না করে দ্বৈত্য ভূমিকা নিল- এর পেছনে ক্রিয়াশীল রয়েছে ভারতের শাসক-শোষক গোষ্ঠীর গভীর ষড়যন্ত্র।

চীনের সাথে প্রতিযোগিতায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে জোটবদ্ধ ভূমিকা নিচ্ছে ভারত। দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে চীনের স্বার্থ বিরোধী ভূমিকা গ্রহণ করছে ভারত। এতদঞ্চলে চীনের প্রভাব খর্ব করে ভারতের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত করাই ভারতের সামন্ত-মুৎসুদ্দি শ্রেণির লক্ষ্য। এ কাজে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ভারতের শাসক-শোষক শ্রেণিকে মদদ দিয়ে চলেছে। বাংলাদেশের শাসক-শোষক গোষ্ঠী ভারতের সাথে গভীর সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছে আবার চীনের সাথেও সম্পর্ক গভীর করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশে চীনের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে। এমতাবস্থায় ভারত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সহযোগী হিসাবে রোহিঙ্গা সঙ্কটকে দীর্ঘস্থায়ী করে চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক বৈরি করা ও সম্পর্ক ছিন্ন করে একমাত্র ভারতের শাসক-শোষক গোষ্ঠীর সাথেই সম্পর্ক রক্ষার পরিবেশ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

সূত্র: সাপ্তাহিক সেবা, বর্ষ-৩৭।।সংখ্যা-০৫, রোববার।। ২২ অক্টোবর ২০১৭।।

Advertisements

‘লাল সংবাদ’ এর জরুরী আহবান –

Untitled

প্রিয় পাঠক কমরেডগণ,

লাল সংবাদ‘ এর পক্ষ থেকে লাল সালাম শুভেচ্ছা নিন। আপনারা লক্ষ্য করছেন, গত কিছুদিন ধরে ‘লাল সংবাদ‘ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। কারণ, ‘লাল সংবাদ‘ বন্ধ করতে প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্র উঠে পড়ে লেগেছে। ফলে আমাদের নিয়মিত প্রকাশনা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। যে কোন মুহূর্তে হয়তো বন্ধ করে দিতে পারে আমাদের কার্যক্রম। দমন, পীড়ন , নির্যাতনও আসতে পারে।

আমরা বিশ্বাস করি- বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত সত্য একটিই হয়। তাই পৃথিবীর বাধাগ্রস্থ প্রগতিশীল সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক সত্যতা তুলে ধরার লক্ষ্যে আমরা প্রাণপণ লড়াই করে যাব। কারণ, বাধাগ্রস্থ প্রগতিশীল বৈজ্ঞানিক সত্য কখনোই চার দেয়ালে বন্দী থাকতে পারে না। আশা করছি, ‘লাল সংবাদ‘ এর সত্য প্রকাশের লড়াইয়ে আপনারাও পাশে থাকবেন। ভালো থাকুন কমরেডগণ। 

–  ‘লাল সংবাদ


সম্পাদকীয় চিত্র-

12784634_480495315467561_1335589234_n - Copy


সম্পাদকীয়ঃ CPG (m-l) গ্রীসের কমিউনিস্ট পার্টি(মার্কসবাদী লেনিনবাদী) কর্তৃক ‘লাল সংবাদ’ এর অনুবাদ প্রকাশ সম্পর্কিত বক্তব্য

kkeml_eng

 

সুরুক হত্যাকাণ্ডের উপর গ্রীসের কমিউনিস্ট পার্টি(মার্কসবাদী লেনিনবাদী) এর প্রেস বিবৃতি

 CPG (m-l) Press statement for Suruc attack  শীর্ষক সংবাদটি  গত ২৪/০৬/২০১৫ তারিখে লাল সংবাদ বাংলায় প্রকাশ করে।

লাল সংবাদ‘ এর বাংলা অনুবাদটি, CPG (m-l)- গ্রীসের কমিউনিস্ট পার্টি(মার্কসবাদী লেনিনবাদী) তাদের ওয়েবসাইটে- kkeml.gr গত ২৬/০৬/২০১৫ প্রকাশ করেছে।  উল্লেখ্য যে, এটাই  CPG (m-l) এর ওয়েব সাইটে প্রকাশিত প্রথম বাংলা অনুবাদ।

মহান আন্তর্জাতিকতাবাদী অবস্থান থেকে CPG (m-l) বাংলা ভাষার সংবাদকে তুলে ধরায় তাদের প্রতি “লাল সংবাদ” সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। এতে করে গ্রীক ভাষাভাষীরা বাংলা ভাষাভাষী দেশ ও রাজ্য গুলোর প্রগতিশীল আন্দোলন সম্পর্কে ধারণা রাখবে।

সংবাদ সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর – 

অনেক পাঠক আমাদের জানিয়েছেন, CPG (m-l)গ্রীসের কমিউনিস্ট পার্টি(মার্কসবাদী লেনিনবাদী) এর ওয়েবসাইটে আমাদের অনুবাদ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তাদের সাথে আমাদের কোন যোগাযোগ আছে কিনা? এ সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য আবারো তুলে ধরছি – 

বাক ও চিন্তার স্বাধীনতাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে অনলাইন ভিত্তিক সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী প্রকাশনা “লাল সংবাদ”। পৃথিবীর যেখানে কোন না কোন ভাবে প্রগতিশীল চিন্তা এবং মতাদর্শ প্রকাশের স্বাধীনতাকে দমিয়ে রাখার নিয়ত চেষ্টা চলছে, সেসব মত ও সংবাদকে সকলের কাছে সহজলভ্য করে তুলতে প্রকাশে বাধাগ্রস্ত সংবাদ ও প্রকাশনাগুলোকে “লাল সংবাদ” এ প্রকাশ করতেই আমাদের এ প্রয়াস।

 “লাল সংবাদ” সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি ফেসবুক ও ব্লগ ভিত্তিক সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী প্রকাশনা। এর সাথে কোন রাজনৈতিক দল, সংগঠন, নেটওয়ার্ক কিংবা গোষ্ঠীর কোন সম্পর্ক নেই। বিশ্বের শোষিত, বঞ্চিত ও নির্যাতিত গণমানুষের সংগ্রামের প্রতি আমাদের পূর্ণ সহানুভূতি রয়েছে। বিশ্বের দেশে দেশে যেখানেই প্রতিক্রিয়াশীল সরকার প্রগতিশীল চিন্তাকে দমন করার চেষ্টা করে, সেইসব দমিয়ে রাখা প্রকাশনা এবং দলিলাদী সমূহকে সকলের কাছে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের প্রকাশিত এ সকল দলিলাদী, প্রকাশনা ও ছবির অর্থ এই নয় যে আমরা এগুলোর সাথে একমত। আমরা কোন ভাবেই কোন দল বা সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি না।

আমরা পরিস্কারভাবে জানাচ্ছি যে, আমরা কোন বিদেশী কিংবা দেশী সংগঠনের অধীনস্থ নই; এবং কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের সাথে সংঘবদ্ধভাবে আমরা আমাদের কোন কাজ ও সংবাদ প্রকাশ করি না। আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে প্রচুর পরিমাণে সংবাদ পেয়ে থাকি। সেগুলো থেকে কোনগুলো প্রকাশ করা হবে তা সম্পূর্ণ আমরাই বাছাই ও নির্ধারণ করে থাকি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংবাদগুলো আমাদের কাছে কারা পাঠাচ্ছে, তাদের রাজনৈতিক আদর্শ ও বিশ্বাস কী, তা আমরা জানি না এবং আমরা কোন ভাবেই তাদের পক্ষ হয়ে কাজ করছি না। আমরা কোন ব্যক্তি বা সংগঠনকে কোন প্রকার সাহায্য, সহযোগিতা, কিংবা কোন প্রকার উপদেশ প্রদানমূলক কার্যক্রম এর সাথে যুক্ত নই।

পরিশেষে, সকল পাঠকদের “লাল সংবাদ” এর সাথে থাকার জন্যে লাল সালাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। কমরেডগণ, ভালো থাকুন-সুস্থ থাকুন।”


সম্পাদকীয় চিত্র –

Untitled


সম্পাদকীয় চিত্র –

1511657_656434127823595_4300563654621210876_n