মাওবাদী মোকাবিলায় মোবাইল, সড়কে জোর কেন্দ্রের

498921-jpg_343336_1000x667

মাওবাদীদের মোকাবিলায় মোবাইল ফোনের যোগাযোগকে আরো গুরুত্ব দিতে চাইছে কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ইতিমধ্যে মাও প্রভাবিত এলাকায় ২০০০ মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করেছে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রক। দ্য হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী গত ৮ অগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে মাও প্রভাবিত ৬ রাজ্যের বৈঠকে ঠিক হয়েছে এই সব অঞ্চলে মোবাইল টাওয়ার  সড়ক ও বিমান পরিষেবার উন্নতির উপর জোর দেওয়া হবে। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে  এই সব এলাকায় সড়ক তৈরি যে আসলে মাওবাদীদের শায়েস্তা করার জন্য, এলাকার উন্নয়নের জন্য নয় তা একপ্রকার স্বীকার করে নেওয়া হল এই বৈঠকে।

সূত্রঃ satdin.in

 


ট্রেন থেকে সিপিআই(মাওবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির প্রাক্তন সদস্য তুষার ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার

Naxalite-leader-Tusharkranti-Bhattacharya

সিপিআই(মাওবাদী)’র  কেন্দ্রীয় কমিটির প্রাক্তন সদস্য তুষার ভট্টাচার্যকে নাগপুরের কাছে চলন্ত ট্রেন থেকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করল গুজরাট পুলিস। মঙ্গলবার গ্রেফতার করল গুজরাট পুলিস। তুষারের  স্ত্রী নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা সোমা সেন  সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন এক পুরনো মামলায় গুজরাট পুলিস তাকে গ্রেফতার করেছে। ২০১০ সালের যে মামলায় এই মাওবাদী নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেই সময় তিনি জেলে ছিলেন বলে দাবি করেছেন সোমা। ২০০৭ সালে তুষার ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করে বিহার পুলিস। বেশ কয়েকবছর জেলে থাকার পর তিনি ছাড়া পান। সোমা সেন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যের কারণে তিনি অধিকাংশ সময় বাড়িতেই থাকতেন। হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী বাঙালি হলেও  তুষার তেলেঙ্গানাতেই মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসাবে উত্তর ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে সংগঠনের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।

ছবি – nagpur today এর সৌজন্যে

rahul-sharma-gujarat-ips

সূত্রঃ satdin.in


শ্রমজীবী জনগণও চাঁদাবাজদের হাতে বন্দী

may_89632

আব্দুল ওয়াদুদ এক সময়ে জমিদার জোতদাররা দেশের শ্রমিক, কৃষক, জনগণের নিকট থেকে কর আদায় করতো। এর সাথে যুক্ত হতো ইজারাদারদের তোলা। এই তোলাবাজির বিরুদ্ধে জোরদার কৃষক আন্দোলন হয়েছিল। তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল হাট-বাজারে তোলা উঠানো বন্ধ করতে হবে। প্রবল আন্দোলনের মুখে তোলা উঠানো বন্ধ হয়। শুধু তোলা উঠানো নয়, জমিদারি প্রথাই চিরতরে বিলুপ্ত হয়। জমিদারি প্রথার বিরুদ্ধে এবং কৃষকের উপর জবরদস্তিমূলক উপরি আদায়ের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি কৃষকদের সংগঠিত করে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিল। এখন কমিউনিস্টদের সেই শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে, তাই চাঁদাবাজদের জুলুমের শিকার হচ্ছেন গোটা শ্রমজীবী জনগণ। দেশের শ্রমজীবী জনগণকেই একশ্রেণির চাঁদাবাজদের আবদার মেটাতে হচ্ছে। দাবি না মেটাতে পারলে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে তা আদায় করে নিচ্ছে একশ্রেণির চাঁদাবাজ। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় অবাধ্যতার শাস্তি স্বরূপ শারীরিক নির্যাতনের ঘটনার মধ্যে থেমে থাকছে না, জবরদস্তিমূলকভাবে শ্রমজীবী জনগণের সামান্য পুঁজিও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

চাঁদাবাজির ঘটনা সম্পর্কে একটি সচিত্র প্রতিবেদন দেখেছিলাম টেলিভিশনে। সেখানে দেখানো হয়েছে, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা রাস্তায় চালাতে গেলে চালককে প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। তবেই সিএনজি রাস্তায় নামতে পারে এবং বৈধ হিসাবে গণ্য হয়। সিএনজি চালক এই উৎকোচের অর্থ পুষিয়ে নেয় যাত্রীদের নিকট থেকে, বেশি ভাড়া আদায় করে। সড়কে চাঁদাবাজির কারণে বাজারে ফল-মূল, শাক-সবজী ও মাংসের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। গরু, ছাগল, হাস-মুরগি ইত্যাদি পরিবহন করতে গেলে ঘাটে ঘাটে চাঁদা দিয়ে তবেই গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। শেষ গন্তব্যে পৌঁছানোর পরেও সেখানে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে। ঢাকা মহানগরীতে কারওয়ান বাজার একই বড় বাজার। সেখান থেকে বছরে শত শত কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়ে থাকে। ফলে মাংসের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে এখন তা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। শাক-সবজি, তরি-তরকারি ইত্যাদি উৎপাদন করে কৃষক লাভের মুখ তো দেখতে পান না, উপরন্তু তাকে লোকসানে পড়ে দেনার দায়ে শেষ সম্বল ভিটে বাড়ি হারাতে হয়। এই সব কৃষি পণ্য উৎপাদন করে কৃষক লাভবান হতে না পারলেও পণ্য বাজারে নেওয়ার পথে পরিবহন থেকে চাঁদাবাজরা অর্থ আদায় করে নিচ্ছে। আর ক্রেতা সাধারণের ঘাড়ে তার দায়ভার পড়ছে।

ঢাকাতে ফেরিওয়ালাদের ফুটপাতে বসতে হলে চাঁদাবাজির শিকার হতে হচ্ছে। ঢাকার নবাবপুর রোডের ডাব বিক্রেতা হাশেম মিয়া। আদি নিবাস রাজবাড়ী জেলাতে। পদ্মার ভাঙনে কয়েকবার ভিটে মাটি হারিয়ে ঢাকাতে এসেছেন, ডাব বিক্রি করতে। পরিবার-পরিজন এখন বেড়ি বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। ঢাকাতে একটি বস্তির ভাঙা ঘরে কয়েকজনে মিলে ভাড়া থাকেন। সেখানেও চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা পাননি। নবাবপুর রোড এমনিতেই শহরের ব্যস্ত রাস্তা। সারাদিনই এখানে যানজট লেগেই থাকে। যার মাঝে ফুটপাতে হকারের ভিড়, দোকানদারের মালপত্র দিয়ে ফুটপাত দখল করা ইত্যাদি সমস্যা রয়েছে। তার মাঝে হাশেম মিয়া ভ্যানে করে ডাব ফেরি করে বিক্রি করেন। তার কাছ থেকেও চাঁদাবাজি হচ্ছে। প্রতিদিন সকালে ১০ টাকা, আর বিকালে ১০ টাকা হারে। চাঁদা দিতে বিলম্ব হলে পুলিশের লাইনম্যান নামে পরিচিত চাঁদাবাজ তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করে চাঁদা আদায় করে নেয়। তার উপরে ট্রাফিক সাজেন্ট তো রয়েছেন। তিনি সপ্তাহে দুই একবার এসে দেখা করেন। হাশেম মিয়ার ভাষায়, ‘সাজেন্ট স্যার আসলে একটা করে ডাব তাকে খাওয়াতে হয়’। এইভাবে চলে যায় ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা। ঢাকার রাস্তায় এখন রিক্সায় চলে ভ্রমণ করেন নিম্ন আয়ের জনগণ। নবাবপুর রোডের বিভিন্ন গলিতে রিক্সা ঢোকার জন্য মাঝে মাঝে পুলিশ বাধা দিয়ে থাকে। তবে গলিতে ঢোকার জন্য রিক্সা প্রতি পাঁচ টাকা করে পুলিশকে চাঁদা দিলেই গলিতে প্রবেশ বৈধ হয়ে যায়।

একবার ট্রেনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম। ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যেকার ট্রেনে যাত্রী ভিড় লেগেই থাকে। এখানকার ট্রেনগুলোতে নির্ধারিত আসনে যাত্রী তো আছেনই, তার উপর আসন ছাড়াও বহু লোক দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করছেন। তার মধ্যে আবার বিভিন্ন হকারদের আনাগোণা, হাঁক-ডাক, চিৎকার মিলে গরমে এক ভয়াবহ অবস্থা। চলতি পথে ট্রেন ভৈরব এসে থামলো। ভৈরব স্টেশনে দাঁড়ানোর সাথে সাথে কিছু সংখ্যক মাস্তান চাঁদাবাজ হকারদের ওপর চড়াও হলো। তারা হকারদের কাছ থেকে জোর জবরদস্তিমূলকভাবে ২০ টাকা, ৩০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করে নিল। অনেক ফেরিওয়ালা সদ্য ফেরি করতে উঠেছেন, বিক্রি হয়নি, এই অজুহাতে চাঁদা দিতে না চাওয়ায় চাঁদাবাজ মাস্তানরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে চাঁদা আদায় করে নিল। ফেরিওয়ালাদের অসহায় অবস্থা দেখে ট্রেন স্টেশন থেকে ছাড়ার পর খোঁজ নিয়ে জানতে পারা গেল, ট্রেনে ফেরি করে ব্যবসা করতে হলে এই মাস্তানদের চাঁদা দিতে হয়। এই চাঁদাবাজ মাস্তানদের সাথে রয়েছে জিআরপি’র ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। মাস্তান চাঁদাবাজরা আবার জিআরপি’র পক্ষ থেকেই চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা আদায়ের পর জিআরপি ও মাস্তান চাঁদাবাজরা ভাগ বাটোয়ারা করে নিচ্ছে।

ঢাকা মহানগরের সড়কের আশে-পাশের ফুটপাতগুলোতে হকার উচ্ছেদের অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। ঢাকা মহানগরীর রাস্তাগুলো থেকে ভিক্ষুক উচ্ছেদ, হকার উচ্ছেদের অভিযান মাঝে মাঝে চলে থাকে। প্রচলিত রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় এটা সরকারের উদ্ভট পরিকল্পনা হলেও এই ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে। আর সরকারের তেল মারা কিছু মিডিয়া রয়েছে তারা প্রকৃত সমস্যা আড়াল করে এই ভূমিকার গুণকীর্তন করছে। প্রচলিত সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যেখানে জনসংখ্যার অর্ধেকই বেকার সেখানে এই ধরনের অভিযানের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তবুও চলেছে ঘটা করে হকার উচ্ছেদের অভিযান। সিটি কর্পোরেশন রাজধানী ঢাকার ফুটপাতকে হকারমুক্ত করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীদের সমন্বয়ে চলছে এই অভিযান। তবে একদিকে চলছে হকার উচ্ছেদের অভিযান আবার অন্যদিকে নতুনভাবে হকার বসানোর আয়োজন। এর তাৎপর্য কী তা বুঝতে একটু সময় লাগলো। নতুন করে বসা হকারদের কাছে একটু খোঁজ নিয়ে জানা গেল মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাদের আবার ফুটপাতে বসতে দেওয়া হয়েছে। তার উপরে হকারদের নিকট থেকে প্রতিদিনের চাঁদা তা তো অব্যাহত রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারী ও কিছু সংখ্যক অসাধু পুলিশের যোগাযোগে এই নতুন করে হকার বসানোর কর্মসূচি চলছে। সিটি কর্পোরেশনের হকার উচ্ছেদের কর্মসূচি এইভাবে একটি চক্রের পকেট ভারী করার কাজে লাগানো হচ্ছে। ভিক্ষুকদের নিকট থেকে চাঁদা আদায় হয় কী না সে সম্পর্কে কোন তথ্য এখনও জানা নেই।

এতো গেল সমাজের নিচের মহলের চাঁদাবাজির কিছু ঘটনা। সমাজের সর্বমহলেই এভাবে চলছে চাঁদাবাজি। এবারে আসা যাক সরকারের একজন মন্ত্রীর ভাইয়ের চাঁদাবাজির কাহিনী। সরকারের মন্ত্রী বলে তার ভাইয়েরও কদর বেড়েছে। তাই ভুক্তভোগী মানুষজন নিত্য যাতায়াত করছেন মন্ত্রীর ভাইয়ের কাছে সুপারিশের জন্য। চাকরি, ব্যবসা, জমিজমা, সামাজিক বিরোধ, এলাকার সকল সমস্যার সমাধান দেন মন্ত্রীর ভাই। এব্যাপারে অনেকেই তার গুণকীর্তন করে থাকেন। সরকারি চাকরির ব্যাপারে তার কাছে গেলে তো কথা নেই। তিনি কোন প্রার্থীর সুপারিশ-ই অগ্রাহ্য করেন না। চাকরি দেওয়ার নামে তিনি সকলের নিকট থেকেই লক্ষ লক্ষ টাকা নগত হাতিয়ে নেন। তার মধ্যে কারো না কারো চাকরি নিজ যোগ্যতা বলে হয়ে যায়। যাদের যোগ্যতা বলে চাকরি হয়ে যায় তারা তো খুশিতে প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আর যাদের চাকরি হয় না, তাদেরকেও তিনি হতাশ করেন না। যাওয়া মাত্র আলমারি থেকে কাগজপত্র, টাকা পয়সা বের করে তিনি চাকরি লাভে ব্যর্থ প্রার্থীর হাতে ধরিয়ে দেন। এইভাবেই তিনি কৌশল করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

এবারে আসা যাক বিগত সরকারের অর্থাৎ চার দলীয় জোট সরকারের জনৈক প্রভাবশালী মন্ত্রীর প্রভাব প্রতিপত্তি আর উৎকোচ গ্রহণের কাহিনী। তবে মন্ত্রী সজ্জন ব্যক্তি, নিছক ভদ্রলোক, তিনি উৎকোচ গ্রহণ করেন না। তাই তার কাছে কেউ উৎকোচ নিয়ে যেতে সাহস পায় না। তবে মন্ত্রীর স্ত্রী, যিনি জনগণকে উপকার (!) করতে কার্পন্য করেন না। সরকারি চাকরির সার্কুলার দিলেই তার পোয়াবারো অবস্থা। শত শত চাকরি প্রার্থী। তিনি কোন প্রার্থীকেই হতাশ করেন না। সকলকেই চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেন। এই প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে সবার নিকট থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করেন। তারপর প্রার্থীর যোগ্যতা অনুসারে কারো কারো চাকরি হয়ে যায়। যার চাকরি হলো তার খুশি আর ধরে না। যাদের চাকরি হলো না, তারা আবার মন্ত্রীর বাড়ির দিকে ছুটলেন মন্ত্রীর স্ত্রীর উদ্দেশ্যে। অনেক কষ্ট করে দেখাও হয়তো করলেন। মন্ত্রীর স্ত্রী আশ্বাস দিল এবারে চাকরি হলো না, পরে আবার সাকুর্লার হলে দিয়ে দেওয়া যাবে। মন্ত্রীর স্ত্রীর কথায় আশ্বস্ত হয়ে পিছনে পিছনে ঘুরতে শুরু করলেন চাকরি প্রার্থী। কিন্তু পরের বারও হলো না। মন্ত্রীর স্ত্রীর সাথে দেখা করে টাকা ফেরত পেলেন। তবে তার দেওয়া পাঁচ থেকে দশ লাখ টাকার পুরোটা নয়, আংশিক। অবস্থাভেদে এক থেকে তিন লাখ টাকা। বাঁকি টাকার ব্যাপারে মন্ত্রীর স্ত্রী বললেন, ‘এখন আর বিরক্ত করিস না, পরে আসিস দেখা যাবে’। মন্ত্রী বাহাদুরের স্ত্রী টাকা ফেরত চাইলে বিরক্ত হয়েছেন। এর পরে আর কোন চাকরি প্রার্থীর সাহস আছে তার পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া।

ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি শাসক-শোষক শ্রেণির কল্যাণে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। চাঁদাবাজি, মাস্তানি, অনিয়ম, দুর্নীতি এত ব্যাপক হয়েছে যার হাত থেকে নিঃস্ব, হতঃদরিদ্ররাও রেহাই পাচ্ছে না। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি করতে পারাটাই এখন অনেকের কাছে কারিশমা। বর্তমান ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের আমলে এই দুর্নীতি আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। মহাজোট সরকার দীর্ঘস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থেকে যাওযায় আশ্বস্ত হয়ে ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতি এখন খোলাখুলিভাবে করতে পারছেন। অবক্ষয়ি সমাজের নৈতিকতার মানদন্ড এত নিচুতে পৌঁছেছে যে গোটা সমাজটাই ডুবতে বসছে।

সূত্র: সাপ্তাহিক সেবা, বর্ষ-৩৭।।সংখ্যা-০২, রোববার।। ২৫ জুন ২০১৭।।


তুরস্কে মাওবাদী MKP ও HKO এর ৩ কমরেড যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন

DGQUNoXVoAEGkai

তুরস্কের বুর্জোয়া সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, দারসিম অঞ্চলের ওভাচিক এ দখলদারী সরকারী সেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে মাওবাদী MKP ও HKO এর ৩ কমরেড শহীদ হয়েছেন ।


কাশ্মীরের ঢঙেই এবার গোপন গোয়েন্দা পাঠিয়ে মাও দমন করবে ভারত ?

 

সম্প্রতি মাওবাদী হামলার ঘটনায় রীতিমত কপালে ভাঁজ পড়েছে কেন্দ্রের। এই বিষয়ে একটি রিভিউ মিটিংও হয়েছে। যেখানে ছিলেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। এবার তাই মাওবাদীদের রুখতে ছত্তিসগড়ের মত জায়গায় গোপনে গোয়েন্দা পাঠাতে হবে বলেই মনে করছে কেন্দ্র। ঠিক যেভাবে জঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করতে কাশ্মীরে ছদ্মবেশে গোয়েন্দা পাঠানো হয়, সেভাবেই মাওবাদীদেরও এবার কড়া হাতে দমন করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র।

গত ৮ মে ১০টি মাও অধ্যুষিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে কেন্দ্র। সিনিয়র সিকিউরিটি অ্যাডভাইসর কে বিজয় কুমার অন্তত আটটি মিটিং করেছেন। যার মধ্যে ছ’টিই ছত্তিসগড়ের অফিসারদের সঙ্গে।

এর আগে রাজনাথ বলেন, ‘সিলভার বুলেটে’ মাও দমন সম্ভব নয়। কোনও শর্ট কাটে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না। শর্ট টার্ম, মিডিয়াম-টার্ম ও লং-টার্ম সমাধান করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেছিলেন, বুলেটে সব সমস্যার সমাধান হয় না। গোয়েন্দাদের খুঁজে বের করতে হবে মাওবাদীদের টার্গেটগুলি। রাজ্যগুলিকেও মাওবাদী দমনের অপারেশনে যোগ দিতে হবে। মাও অধ্যুষিত জঙ্গলগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা, জল, খাবার দেওয়ার ব্যবস্থাতেও আরও জোর দেওয়ার কথা বলেন রাজনাথ।

সূত্রঃ https://www.kolkata24x7.com/on-government-priority-shadow-intelligence-officers-for-top-maoist-in-chattisgarh.html


বাংলাদেশঃ ১১ই আগস্ট সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ উদযাপন কমিটি গঠনে সভা

20526001_1598686746817517_2279113458198067597_n

রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লবের শতবর্ষ উদযাপন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আহ্বান

সহযোদ্ধা বন্ধুগণ,

দুনিয়া জুড়ে বিদ্যমান শ্রেণী বিভক্ত সমাজে শোষিত নিপীড়িত জনগণের মুক্তির সংগ্রাম যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর, রাশিয়ায় শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে বলশেভিক বিপ্লবের বিজয়ে এ সংগ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রকৃত পথ। যদিও এর সূচনা ঘটেছিল কমরেড কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের নেতৃত্বে ১৮৪৮ সালে কমিউনিস্ট ইশতেহার প্রকাশের মধ্য দিয়ে। এরই ধারাবাহিকতায় কমরেড লেনিনের নির্দেশনায় কায়েম হয় শ্রমিক কৃষক নিপীড়িত জনগণের ক্ষমতা। ইতিহাসের প্রথম এ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র দেখিয়ে দেয়, পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের বিপরীতে সাম্যবাদের লক্ষ্যে, সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্বই সমাধানের প্রক্রিয়া। এজন্যই মহান সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও সোভিয়েত ইউনিয়ন তখন সারা দুনিয়ার নিপীড়িত জনগণের আশা ভরসার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়। ঘুম হারাম করে দেয় শোষক, পুঁজিপতি ও লুটেরাদের।

কমরেড লেনিনের মৃত্যুর পর তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী কমরেড স্ট্যালিন শত প্রতিকূলতার মধ্যে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার নেতৃত্ব দেন। এটা ছিল ইতিহাসে সমাজতন্ত্রের প্রথম অভিজ্ঞতা। এতে একদিকে যেমন অর্জিত হয় বিরাট সাফল্য তেমনি কিছু ভুল-ত্রুটিও ঘটে। কিন্তু ট্রটস্কি, বুখারিন, কামেনেভ, জিনোভিয়েভ প্রমুখের সর্বহারা একনায়কত্ববিরোধী ও সমাজতন্ত্রবিরোধী লাইনকে নস্যাত করে দিয়ে কমরেড স্ট্যালিনই সমাজতন্ত্রকে এগিয়ে নেন। স্ট্যালিনের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে ক্রুশ্চেভ-ব্রেজনেভ সংশোধনবাদী চক্র সোভিয়েত ইউনিয়নকে পুঁজিবাদের পথে চালিত করে। ঠিক তখনই কমরেড মাও সে তুঙ-এর নেতৃত্বে প্রলেতারিয় বিপ্লবীরা বলশেভিক বিপ্লবের পতাকাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেন। সমাজতন্ত্রের নামে পুঁজিবাদের পথগামীরা সোভিয়েত ইউনিয়নকে সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদে পরিণত করে। আর ’৯১ সালে এই ভুয়া সমাজতন্ত্রেরই আনুষ্ঠানিক পতন ঘটে।

রুশ বিপ্লবের ধারাবাহিকতায় কমরেড মাও সে তুঙ চীনে সমাজতন্ত্রের সংগ্রাম এগিয়ে নেন। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে ক্রুশ্চেভীয় সংশোধনবাদ ও দেশের ভেতরকার পুঁজিবাদের পথগামীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সমাজতন্ত্রকে রক্ষা করেন। কমরেড মাও সে তুঙ-এর মৃত্যুর পর বিশ্বাসঘাতক তেঙ শিয়াও পেঙ চক্র এক ক্যুদেতার মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে সমাজতান্ত্রিক চীনকে পুঁজিবাদী পথে পরিচালিত করে। কিন্তু সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদের লক্ষ্যে নিপীড়িত জনগণের মুক্তির সংগ্রাম থেমে থাকেনি।

এভাবে রাশিয়া, চীনসহ সারা বিশ্বে শ্রেণীসংগ্রাম ও সংশোধনবাদবিরোধী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মার্কসবাদ গুণগতভাবে বিকাশ লাভ করেছে। সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদের এই সংগ্রাম ও বিকাশের প্রক্রিয়া আজও চলমান। এ বছর ২০১৭ সালে সারা বিশ্বেই উদযাপিত হচ্ছে মহান অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ। বাংলাদেশেও ঐক্যবদ্ধভাবে এই শতবর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সংশোধনবাদ নয়, সমাজতন্ত্রের সঠিক উপলব্ধির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে বলশেভিক বিপ্লবের শতবর্ষ উদযাপনের জন্য সকল আন্তরিক ব্যক্তি ও সংগঠনকে এই উদ্যোগে সামিল হতে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।

আগামী ১১ আগস্ট শুক্রবার, বিকেল ৪টায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসির দ্বিতীয় তলায় মুনীর চৌধুরী সম্মেলন কক্ষে শতবর্ষ উদযাপনের কমিটি গঠন ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করার জন্য সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিসহ সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থাকার জন্য আপনার/আপনাদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

হাসান ফকরী
সমন্বয়ক,
রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লবের শতবর্ষ উদযাপন প্রস্তুতি কমিটি।


ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের গেরিলা হামলায় নিহত পুলিশ অফিসার, আহত কনস্টেবল

498920-jpg_343339_1000x667

ছত্তিশগড়ে সশস্ত্র মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছে জেলা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর, জখম হয়েছেন এক কনস্টেবল। আইজি (দুর্গ রেঞ্জ) দীপাংশু কাবরা জানিয়েছেন, রবিবার দুপুরে ছত্তিশগড়ের রাজনন্দগাঁও জেলার গাটাপার থানার অধীনে মাওবাদী অধ্যুষিত জঙ্গলে মাওবাদী দমন অভিযানে নামে জেলা পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষিত ই-৩০ বাহিনী। রাজনন্দগাঁও শহর থেকে ১৫০ কিমি দূরে ভাবে গ্রামের কাছে জঙ্গল ঘিরে ফেলার পরে আচমকা বাহিনীকে নিশানা করে গোপন আস্তানা থেকে গুলি চালাতে শুরু করে মাওবাদীরা। সংঘর্ষে সাব-ইন্সপেক্টর যুগল কিশোর ভার্মার শরীরে গুলি লাগলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। জঙ্গলের ভিতরে পড়ে থাকা মৃত পুলিশ আধিকারিকের দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রসঙ্গত, রাজনন্দগাঁওয়ের এক বড় অংশ ঘেঁষে রয়েছে মহারাষ্ট্রের গোন্ডিয়া ও গাডচিরোলি অঞ্চল এবং মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট এলাকা। বেশ কয়েক বছর যাবত এই বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে প্রভাব বিস্তার করেছে মাওবাদীরা। সম্প্রতি বস্তার থেকে উদ্ধার হওয়া মাওবাদী নথি অনুসারে, এই অঞ্চলেই নয়া সদর ঘাঁটি গড়ে তোলার চেষ্টায় রয়েছে মাওবাদীরা।

সূত্রঃ

http://www.timesnownews.com/india/article/chhattisgarh-police-sub-inspector-constable-killed-in-encounter-with-maoists/69886