বাম বুদ্ধিজীবী গ্রেফতারের প্রমাণে ধরা পড়ল বড়োসড়ো অসঙ্গতি!

Maoist1

এটাও একটা ষড়যন্ত্রের চিঠি

মাওবাদীদের সঙ্গে সম্পর্কের জোরালো প্রমাণ হিসাবে ব্যবহৃত তথাকথিত উদ্ধার হওয়া চিঠি এবং ই-মেলগুলিতে প্রচুর অসঙ্গতি এবং দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে বলে জানাল এনডিটিভির একটি বিশ্লেষণ এর সুত্র উল্লেখ করেছে খবর অনলাইন। উল্লেখ্য, ওই চিঠি ও ই-মেলগুলিকে হাতিয়ার করেই পুণে পুলিশ ১০ জন বিদ্বজ্জন, আইনজীবী এবং সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে।

গত জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যেই বামপন্থী মনোভাবাপন্ন ওই ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে মাওবাদীদের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা পালনের অপরাধে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হত্যার মতো বড়োসড়ো ষড়ষন্ত্রের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, তাদের হাতে এসেছে এই সম্পর্কিত ১৩টি চিঠি। সংবাদ মাধ্যমের কাছে সেই চিঠির কথা জানিয়ে পুলিশ দাবি করেছে,  এর মধ্যে ৬টি চিঠির দিনাঙ্গ গত জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে। এগুলির মধ্যে পাঁচটি হিন্দিতে এবং বাকি আটটি ইংরাজিতে লেখা।

পুলিশের দাবি, চিঠিগুলি উদ্ধার করা হয়েছে ল্যাপটপ বা অন্য কোনো বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম থেকে। ফলে সেখানে প্রেরকের স্বাক্ষর অনুপস্থিত। বিশ্লেষকদের যুক্তি, ওই চিঠিগুলিতে গোপনীয়তা রক্ষার তাগিদে সাংকেতিক শব্দের অভাব রয়েছে। বিষয়টি যেথানে জড়িয়ে রয়েছে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সেখানে কেন ষড়যন্ত্রকারীরা সরাসরি মত আদানপ্রদান করবেন?

মামুলি নাশকতা মূলক কাজে ব্যবহৃত হয় সাংকেতিক শব্দ। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে কেই-বা স্পষ্ট ভাষায় ই-মেল পাঠাবেন? এমন প্রশ্নও হেলাফেলার নয়।

ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্টের এগ্‌জিকিউটিভ ডিরেক্টর অজয় সাহনি দাবি করেছেন, “চিঠিগুলিতে স্পষ্ট জালিয়াতি ধরা পড়ছে”। তিনি বলেছেন, গত ১৫ বছরে মাওবাদীদের কোনো চিঠি এমন ‘অসুরক্ষিত’ ভাবে লেখা হয়নি।

collage5-1200x480

Advertisements

নেতৃত্বে তরুণ বুদ্ধিজীবীদের খুঁজছে মাওবাদীরা

MAOIST

সিপিআই(মাওবাদী) তাদের নেতৃত্বের সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে এবং নিম্ন স্তরের-কর্মীদের শিক্ষিত করতে(যাদের মধ্যে আদিবাসী ও দলিত রয়েছে) শহুরে ও বুদ্ধিবৃত্তিক তরুণদের সন্ধান করছে।

সিপিআই (মাওবাদী) পলিটব্যুরোর সদস্য প্রশান্ত বসু ওরফে কিষেণদা পার্টির প্রকাশনা ‘লাল চিংড়ী প্রকাশন(Lal Chingari Prakhashan)’ এ জানালেন, সংগঠনে শিক্ষিত তরুণ ক্যাডারের অভাব তাঁদের ভোগাচ্ছে। তাই শহরের বিভিন্ন এলাকার ‘বিপ্লবী ভাবধারায় বিশ্বাসী শিক্ষিত ছাত্র ও বুদ্ধিদীপ্ত কমরেডদের’ পাঠানোর জন্য মাওবাদীদের সমস্ত কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষিত যুবকদের অভাবের কারণে দ্বিতীয় স্তরের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে পার্টি। যুদ্ধক্ষেত্রে শিক্ষিত সংখ্যক ক্যাডারের সংখ্যা খুবই কম, এই সব ক্যাডারদের রাজনীতিকরণ করা সংগঠনটির রাজনৈতিক কর্মসূচির একটা প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে, আমরা নিশ্চিত যে আমরা খুব শিগগির এই ধরনের শিক্ষিত, তরুণ ও গতিশীল কমরেড পেতে সক্ষম হব, যারা আমাদের দলের তৃতীয় এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের নেতৃত্ব শুরু করতে সক্ষম হবে, যদিও পার্টি পরবর্তী প্রজন্মের নেতাদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল সহ সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক দলিল তৈরি করেছে, কিন্তু পার্টি তা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়নি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত শিক্ষাদানের মাধ্যমে ও জঙ্গল যুদ্ধের অভিজ্ঞতার মাধ্যমেে একজন গ্রামীণ স্তরের ক্যাডারের মাওবাদী নেতা হয়ে উঠার জন্য কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ বছর সময় লাগে। তিনি আরো বলেন, মাওবাদীদের অধিকাংশ কর্মী অশিক্ষিত বা কম শিক্ষিত, তাই তাদের নেতৃত্বে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই তাদের শিক্ষিত করতে ও নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষমতা আনার জন্যে তরুণ বুদ্ধিজীবীদের প্রয়োজন।

দলীয় মুখপত্রে প্রশান্তবাবু বলেছেন, ‘‘দ্বিতীয় স্তরের নেতৃত্ব তৈরি করাটাই এখন সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অন্যান্য রাজ্যে— অসম, বিহার, ঝাড়খণ্ডে আমরা দলিত, আদিবাসী, গরিবদের মধ্যে ভিত তৈরি করেছি। শিক্ষার হার সেখানে কম। কাজেই তাদের মার্ক্সবাদের প্রকৃত অর্থ শেখানো কঠিন। এদের শিক্ষিত করে তুলতে শিক্ষিত, বুদ্ধিদীপ্ত বিপ্লবীদের প্রয়োজন।’’ মাওবাদীদের শীর্ষ নেতাদের প্রায় প্রত্যেকেই ষাটোর্ধ্ব। প্রবীণ ক্যাডারদের জন্য অবসর প্রকল্প চালু করেছে তারা।

সূত্রঃ https://economictimes.indiatimes.com/news/defence/cpi-maoist-scouting-for-urban-and-intellectual-youth-to-fill-ranks/articleshow/65740929.cms


মধ্যপ্রদেশ-ছত্তিশগড়-মহারাষ্ট্র সীমান্তে মাওবাদীদের ‘নতুন যুদ্ধ অঞ্চল’ নির্মাণ চলছে – RAW এর রিপোর্ট

naxal-sukma-story_647_042517110749_0

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইটিক্যাল উইং -RAW’ এর সূত্র উল্লেখ করে sentinelassam.com জানাচ্ছে, ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান দমন অপারেশনগুলির মধ্যেও ভারতের শীর্ষ কমিউনিষ্ট পার্টি (সিপিআই-মাওবাদী) একটি নতুন গেরিলা জোন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মধ্যপ্রদেশ-ছত্তিশগড়-মহারাষ্ট্র (MMC) ত্রি-জংশন সীমান্তে একটি নতুন যুদ্ধক্ষেত্র ‘নির্মাণের জন্য কঠোর চেষ্টা করছে।

গোপন গোয়েন্দা তথ্য মতে, মাওবাদীরা এখন তাদের বিভিন্ন এলাকার যুদ্ধ অঞ্চল থেকে নিরাপত্তা বাহিনী (এসএফএস)’কে লক্ষ্য করার পরিকল্পনা করছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, মাওবাদীরা উত্তর ও পূর্ব দিকে তাদের যুদ্ধ অঞ্চল প্রসারিত করতে চায় এবং বালাগাট-রাজনন্দগাঁও-কাবরিধাম-গণ্ডিয়া মধ্যে একটি সংযোগ করিডোর নির্মাণ করতে চায়।

MMC এলাকায় বৃহত্তর পর্যায়ে মাওবাদীদের সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তটি অনেক আগেই গ্রহণ করা হয়েছিল বলে গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এবং এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে মাওবাদীদের একটি বিভাগ মধ্য প্রদেশের বালাগাটের সীমান্ত এলাকায় ছত্তিশগড়ের রাজনান্দগাঁও এবং মহারাষ্ট্রের গণ্ডিয়াতে সক্রিয় রয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাওবাদী ক্যাডাররা ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র ও উড়িষ্যাতে সরকারের স্পেশাল ফোর্স-এসএফের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করছে। মাওবাদীদের এলাকা কমিটির সিনিয়র সদস্যরা- বিশেষ করে পুলিশের বিশেষ পুলিশ অফিসার (এসপিওএস) এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের-এসএফএস এবং ‘পুলিশ ইনফরমার্স’দের চিহ্নিত ও হত্যা করার জন্য তাদের ছোট কর্মী দলকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এই অঞ্চলে মাওবাদীরা সরকারের কথিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে আসছে। ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় সক্রিয় মাওবাদী কমান্ডাররা, গ্রামবাসীদের সঙ্গে একটি বৈঠক করে এবং পেন্তা গ্রামে অবস্থিত বিদ্যুৎ প্লান্ট ধ্বংস করার চিন্তা করছে। এসময় মাওবাদীরা সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ করা এবং সরকারী সম্পত্তি আটক করার জন্য গ্রামীণ জনগণদের প্রতি আহ্বান জানান।

সূত্রঃ https://www.sentinelassam.com/news/intel-reports-suggest-maoists-building-new-battle-zone-on-madhya-pradesh-chhattisgarh-maharashtra-border/


৫ মানবাধিকার কর্মীকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গৃহবন্দি রাখার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

socialacvt-300x154

মামলা চলাকালীন মানবাধিকার কর্মীদের গ্রেফতারের বিষয় মিডিয়ার সামনে প্রমাণ হাজির করায় পুলিসকে তিরস্কার করলো সু্প্রিম কোর্ট। এর অাগে একই রকম তিরস্কার করেছিল বোম্বে হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে  সুধা ভরদ্বাজ, গৌতম নওলাখা, অরুণ ফেরেনা, ভেরনন গঞ্জালভেস, ভারভারা রাওয়ের গৃহবন্দির সময়সীমা বাড়িয়ে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ৫ মানবাধিকার কর্মী গ্রেফতার হওয়ার পর নিজেদের অাত্মসমর্থনে  বিচারাধীন বিষয পুলিসের বড় কর্তা সাংবাদিক সম্মেলন করেন সেই কারণে এদিন  মহারাষ্ট্র সরকারের অাইনজীবীকে সর্বোচ্চ অাদালতের প্রধান বিচারপতি বলেন পুলিসের কাছ থেকে শুনতে রাজি নই সুপ্রিম কোর্ট ভুল করেছে।  

২৮ অগস্ট  দেশজুড়ে একাধিক সমাজকর্মী ও মানবাধিকার কর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৫জন মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেফতার করে পুণে পুলিস। যদিও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অাপাতত কিছুটা ব্যাকফুটে মহারাষ্ট্র  তথা কেন্দ্র সরকার। তাছাড়া জুন মাসে গ্রেফতার করা অন্য ৫ মানবাধিকার কর্মীকেও ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট দিতে পারেনি । পর্যবেক্ষকদের মতে সব মিলিয়ে চাপে থাকা পুলিস এখন প্রমাণ তৈরি করতে ব্যস্ত ।

সূত্রঃ satdin.in


পুঁজিবাদী সঙ্কটের আর এক নাম বিশ্ব(বাণিজ্য)যুদ্ধ

p8-eichengreen-a-20180412-870x593

বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতি সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পুঁজিবাদী চীনের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে যুদ্ধ ক্রমাগত মীমাংসার অতীত পর্যায়ের দিকে এগিয়ে চলেছে। এই বাণিজ্য যুদ্ধ শুধু সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন য্ক্তুরাষ্ট্র আর চীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে এমন নয়, এই যুদ্ধ প্রধান প্রধান অর্থনেতিক শক্তি ছাড়াও কানাডা, মেক্সিকো, ভারত প্রভৃতি দেশের সাথেও বিস্তৃত হচ্ছে। এছাড়াও রাজনৈতিক কারণে রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, ইরানসহ কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক অবরোধ সৃষ্টি করে রেখেছে। এ সকল ঘটনা ২০০৮ সালের পূর্ব হতে সূচিত বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান মন্দা এই সঙ্কটকে আরও ঘনীভূত হয়ে জটিল ও বিপর্যয়কর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সম্প্রতি শুরু হওয়া এই বাণিজ্য যুদ্ধ নতুন ও হঠাৎ করেই শুরু হয়েছে এমন নয়, পুঁজিবাদের অসম বিকাশের বৈশিষ্ট্যই পুঁজিবাদী সাম্রাজবাদী দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হওয়া অনিবার্য। “বিশ্বপুঁজিবাদের উৎপাদন ও বাণিজ্য বৃদ্ধির সবচেয়ে বিশিষ্ট লক্ষণ হলো এই যে, সেই বিকাশ এগিয়ে চলে অসমভাবে। বিকাশটা এইভাবে হয় না যে, পুঁজিবাদী দেশগুলো কেউ কাউকে বাঁধা না দিয়ে, একে অপরকে টলিয়ে না দিয়ে স্বচ্ছন্দ ও সুষমভাবে একের পর এক সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, বরং তা এমনভাবেই হচ্ছে যে কয়েকটি দেশ হটে যাচ্ছে, পিছিয়ে পড়ছে, নীচে নামছে, অপরদিকে অন্যরা ধাক্কা মেরে সামনে এগোচ্ছে ও ওপরে উঠছে, এটা এগিয়ে চলেছে বাজারের আধিপত্যের জন্য ও মহাদেশগুলোর লড়াইয়ের ভেতর এক প্রাণান্তকর রূপ ধরে।” (কমঃ স্তালিন) অর্থাৎ উৎপাদন ক্ষমতার বৃদ্ধি এবং বাজারের আপেক্ষিক স্থিতিশীলতার মধ্যকার দ্বন্দ্বই হল এই ঘটনার মূলে, যে বাজারের সমস্যাটাই হল পুঁজিবাদের আজ মৌলিক সমস্যা। সাধারণভাবে বাজারের সমস্যার তীব্রতা বৃদ্ধি, বিশেষ করে বৈদেশিক বাজারের সমস্যার তীব্রতা বৃদ্ধি এবং নির্দিষ্টভাবে পুঁজি রপ্তানির জন্য বাজারের সমস্যার তীব্রতা বৃদ্ধি- এই হল সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদের বৈশিষ্ট্যজনিত সমস্যা।

এই ধরনের একটা পরিস্থিতিতে শুল্কপ্রাচীর গড়ে তোলা মানেই হল আগুনে ঘৃতাহুতি দেয়ার নামান্তর। যার লক্ষণসমূহ প্রকাশ করে চলেছে প্রতিনিয়ত নানারূপে।

১৯৯৫ সালে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদীরা সোৎসাহে গড়ে তুলেছিল WTO বা বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা- যাকে বলা হয়েছিল ‘মুক্তবাজার অর্থনীতি’। মার্কিন সাম্রাজ্যাবাদের লক্ষ্য ছিল একক বৃহৎ শক্তি হিসেবে এই মুক্তবাজার অর্থনীতির আড়ালে গোটা বিশ্ববাজারের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। কারণ, ১৯৯০ সালে অপর পরাশক্তি সেই সময়ের সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়ার (সোভিয়েত ইউনিয়ন) পতন ঘটে যায়। রাশিয়ার পতনে স্বাভাবিকভাবে একক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভুত হয় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। এতদসত্ত্বেও নতুন করে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল কেন?

পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী সঙ্কটের কারণে সংঘটিত হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এই যুদ্ধে বৃহৎ উপনিবেশিক শক্তি ব্রিটেনসহ ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী দেশসমূহ বিধ্বস্ত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ঔপনিবেশিক শক্তির একচ্ছত্র অধিপতি ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের স্থলে ঔপনিবেশিক শক্তির নতুন নেতৃত্ব হিসেবে আবির্ভুত হয় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। অন্যদিকে হিটলারের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদ পরাস্ত হয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক দেশের শ্রমিকশ্রেণির হাতে। বিশ্বশান্তির পক্ষে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিশ্ব শ্রমিকশ্রেণির শ্রেষ্ঠত্ব ও শৌর্যবীর্য প্রমাণিত হয়। এর প্রভাব পড়ে বিশ্বের শ্রমিকশ্রেণি, নিপীড়িত জাতি ও জনগণের ওপরে। সারা বিশ্বে জাগরণ ঘটে সমাজতান্ত্রিক ও জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের। বিশ্ব জনগণের মুক্তি সংগ্রামের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায় সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন।

যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের হাত থেকে ইউরোপকে রক্ষা ও বিশ্ব বাণিজ্য পরিচালনার জন্য ১৯৪৭ সালে General Agreement of Trade and Tariffs (GATT) গঠন করে। এ সময়ে ব্রিটেন উডস সম্মেলনে গড়ে তোলা হয় বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল(IMF) সহ প্রস্থা। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এ সকল সংস্থার ওপর কার্যত একচ্ছত্র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে বিশ্বসাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার নেতা হিসেবে সামনে আসে।

১৯৫৬ সালে ক্রুশ্চেভের নেতৃত্বে প্রতিবিপ্লবী সংশোধনবাদী শক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষমতা দখল করে সমাজতন্ত্রের নামে পুঁজিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে। এরই পরিণতিতে সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের আত্মপ্রকাশ ঘটে- যা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিপরীতে আর এক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভুত হয়।

এরপর থেকেই ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বিশ্ববাজার, অর্থনীতি, ভূ-রাজনৈতিক, সামরিকসহ গোটা বিশ্বব্যবস্থায় দুই পরাশক্তির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতা তীব্রতর হতে থাকে; যা ‘শীতলযুদ্ধ’ নামে পরিচিতি পায়।

আগেই বলা হয়েছে, রাশিয়ার পতনে যুক্তরাষ্ট্র একক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ একক পরাশক্তি হিসাবে তার এই অবস্থানকে সুদৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী করতে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে।

১৯৪৭ সালে গড়ে ওঠা গ্যাট বিশ্ববাণিজ্যে একচেটিয়া স্বার্থ আদায়ে যথেষ্ট সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়। গ্যাট দ্বারা সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে দিয়ে এর সিদ্ধান্ত কার্যকরী করার ক্ষেত্রে কোন বাধ্যবাধকতা ছিল না।

পুঁজিবাদীরা চায় সব সময় বাজারের ‘স্থিতিশীলতা’। কিন্তু পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ‘স্থিতিশীলতা’ হলো আপেক্ষিক। সাময়িক স্থিতিশীলতায় উৎপাদন বাড়ে, বাণিজ্য বাড়ে, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ে, অথচ বিশ্ববাজার, বাজারের সীমা এবং আলাদা আলাদা একক সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাবাধীন এলাকা কমবেশী এক জায়গাতেই বজায় থাকে। -স্পষ্টত এটাই কিন্তু পুঁজিবাদের এক অত্যন্ত গভীর ও তীব্র সংকটের উদ্ভব ঘটায়। সে সংকট হলো, নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতির দ্বারা আকীর্ণ।

গত শতাব্দীর ৩০ এর দশকেও সাম্রাজ্যবাদী উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রযুক্তির বিকাশের কারণে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি যে হারে বাড়তে থাকে, পাশাপাশি অসম বিকাশের নিয়মে বাজারের দাবিদার বাড়তে থাকে। এর সাথে যুক্ত হতে থাকে বাজারের নতুন নতুন দাবিদার। অর্থনীতির গতি মুখ থুবড়ে পড়তে থাকে স্থবিরতায়। সংক্রামকের মতো তীব্র-তীক্ষ্ণ হয় মন্দার ছোবল, সর্বগ্রাসী এই আগ্রাসী আক্রমণে দিশেহারা অবস্থায় আত্মরক্ষার পথ খুঁজতে থাকে অস্তিত্ব সংকটে ভুগতে থাকা পুঁজিবাদীরা।

বাজারের সমস্যা সমাধানে শান্তিপূর্ণ পথ পুঁজিবাদীদের সামনে রুদ্ধ হয়ে যায়।‘পুঁজিবাদের সামনে একমাত্র বেরোনোর পথ’ হলো শক্তি প্রয়োগ করে, সশস্ত্র সংঘর্ষ দিয়ে নতুন করে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের মাধ্যমে বাজার ও প্রভাবাধীন এলাকা পুনর্বন্টন- যার প্রত্যক্ষ প্রমাণ হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হওয়া।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বপরিস্থিতিতে উদ্ভুত বৈশিষ্ট্যসমূহ পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ রূপ সাম্রাজ্যবাদী সংকটের ধারাবাহিকতার প্রতিফলন মাত্র। সুতরাং চলতি বাণিজ্যযুদ্ধসহ বিশ্বব্যবস্থায় সংঘটিত ঘটনাসমূহ তার থেকে ভিন্নভাবে দেখার অবকাশ আছে বলে মনে হয় না।
১৯৯০-এ রাশিয়ার পতনের মধ্য দিয়ে ‘শীতল যুদ্ধের’ অবসানের মাধ্যমে পরবর্তীতে যে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তাতে বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় দেখা দেয় আপাত ‘স্থিতিশীলতা’। বাণিজ্য সম্প্রসারিত হতে থাকে, প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে থাকে, কিন্তু উৎপাদনের তুলনায় বাণিজ্য ও বাজার থাকে পেছনে পড়ে। পুঁজিবাদের অসম বিকাশের ধারায় শক্তি সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদী ও পুঁজিবাদী দেশগুলোর মধ্যে থাকে বিরাট ব্যবধান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কারণে সামরিক ক্ষেত্রে পারমাণবিক অস্ত্রের সংযোজন এবং পরবর্তীকালে তথ্যপ্রযুক্তির সংযোজন, এই প্রযুক্তির বহুমাত্রিক ব্যবহার, উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এর গতিবৃদ্ধিতে নতুন মাত্রা পায়। বিশেষ করে সেবাখাত ভোগের অন্যতম প্রধানখাতে উপনীত হয়। যে হারে বাজারের গতিবেগ বৃদ্ধি করে বিপরীতে উৎপাদন বাজার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সংকটের মাত্রা আর গভীর ও নতুন পর্যায়ে উপনীত করে। ফলে উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সংকটের গভীরতার মাত্রা ও ব্যবধানকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

প্রযুক্তির ব্যবহার কেন্দ্রিভুত হচ্ছে সামরিকীকরণে এবং পুঁজির সঞ্চালনকে শেয়ার বাজারের ফটকাবাজারিতে কেন্দ্রীভুত করা হয়। বৃহৎ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো বিশেষ করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী একচেটিয়া পুঁজিবাদীরা এ পথেই তাদের সঙ্কট উত্তরণের পথ খোঁজে। শেয়ার বাজারগুলো বুদ্বুদের মত ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকে আবার ফানুসের মতো চুপশে যায়। রেসের নেশার মতো বৃহৎ কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলতে থাকে একত্রিকরণ(মার্জার) ও বৃহৎ একত্রিকরণের (মেগা মার্জার) প্রক্রিয়া।

ঋণগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্র, জাপানের মতো দেশগুলো শূণ্য শুল্ক হারে নামিয়ে আনে। চাহিদার তুলনায় কৃত্রিমভাবে তেজি হয়ে উঠতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের হাউজিং সেক্টরগুলো। পাশাপাশি এর অধিক গতিতে শেয়ার বাজার বুদ্বুদের মত বাড়তে থাকে।

সামরিক বিনিয়োগকে চাঙ্গা রাখার জন্য যুদ্ধকে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয়া হয। পূর্ব ইউরোপ ও রাশিয়ার শূণ্যস্থান পূর্ণ করার জন্য ন্যাটোকে পূর্বমুখী অভিযানে সম্পৃক্ত করার অংশ হিসাবে পুর্ব ইউরোপের দেশগুলোকে ন্যাটোর আওতায় আনতে ন্যাটোকে সম্প্রসারিত করা হয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক যুদ্ধকে সম্প্রসারিত ও দীর্ঘস্থায়ী করে অস্ত্রের বাজারের কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করে অস্ত্রের ব্যবসাকে চাঙ্গা করার প্রয়াস চলতে থাকে। আফ্রিকা, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোসহ মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক যুদ্ধকে বিস্তৃত করার নগ্ন খেলায় মেতে ওঠে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো, বিশেষ করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। এই যুদ্ধ বিস্তৃতির নগ্নরূপ প্রত্যক্ষ করা যায় ‘ইসলামি জঙ্গি’ হামলার নামে সংঘটিত নাইন ইলেভেনের ঘটনাকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে আফগানিস্তান, পরবর্তিতে মিত্রদের নিয়ে ইরাক, লিবিয়ায় প্রত্যক্ষ যুদ্ধে লিপ্ত হয়। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তার কাঙ্ক্ষিত ফল লাভে শুধু ব্যর্থই হয় না, নতুন নতুন সঙ্কটের জালে জড়িয়ে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক ইত্যাদির ক্ষেত্রে ক্ষয়িষ্ণুতায় আক্রান্ত হতে থাকে। যা প্রাধান্যকারী শক্তি হিসাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের জন্য অস্তিত্বের সঙ্কট হিসাবে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: সাপ্তাহিক সেবা, বর্ষ-৩৮।।সংখ্যা-০৫, রোববার।। ২২ জুলাই ২০১৮।। ০৭ শ্রাবণ ১৪২৫ বাংলা


‘গণহত্যাকারীরা দাপাচ্ছে, আর বাম বুদ্ধিজীবীদের ধরপাকড় চলছে!!’ – অরুন্ধতী রায়

arundhatistory_647_100316054702

দেশ জুড়ে মাওবাদী তকমা দিয়ে বামপন্থী বুদ্ধিজীবীদের ধরপাকড়ের তীব্র নিন্দা করলেন লেখিকা অরুন্ধতী রায়৷ তাঁর দাবি, কোনওরকম প্রমাণ ছাড়া এইভাবে ধরপাকড়ের অর্থ কী? দেশজুড়ে গণহত্যা চলছে, শুধুমাত্র সন্দেহের জেরে মানুষ খুন হচ্ছে, এখন সেই সন্দেহের বশেই বিশিষ্টদের ধরপাকড় করা হচ্ছে৷ যা মানা যায় না৷

এই ধরপাকড় স্পষ্ট করছে কোন জায়গায় দেশে দাঁড়িয়ে রয়েছে৷ যে দেশে প্রকাশ্যে গুলি চলে, হিটলিস্ট মেনে খুনের পরিকল্পনা হয় সেই দেশেই এইধরণের ধরপাকড় স্বাভাবিক বলে জানান অরুন্ধতী৷ প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ছক করছে মাওবাদীরা, এই তথ্য পেয়ে দেশজুড়ে মাওবাদী তকমা দিয়ে বামপন্থীদের বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ৷ গ্রেফতার করা হয় মাওবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী সমাজকর্মী ভারভারা রাও সহ ৫ জনকে৷

ভারভারা রাওয়ের কন্যার বাড়িতে তল্লাশি চলে৷ এক সাংবাদিকের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়৷ এক তেলুগু সাংবাদিকের পুনের বাড়িতেও তল্লাশি চলে৷ এছাড়াও এক বিদেশি ভাষার অধ্যাপকের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়৷ মুম্বইয়ে তল্লাশি চলে অরুন ফেরেইরা, সুসান আব্রাহাম, ভেনন গঞ্জালভেসের বাড়িতে৷ গোয়াতে আনন্দ টেলটম্বুদে, ঝাড়খণ্ডে স্ট্যালিন স্বামী ওসুধা ভরদ্বাজের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়৷

গোটা ঘটনায় অরন্ধতীর দাবি, যুক্তিবাদীদের মুখ বন্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে৷ যা ভয়ঙ্কর৷

সূত্রঃ kolkata24x7.com


মাওবাদী তকমা দিয়ে সারা দেশ থেকে গ্রেফতার বহু মানবাধিকার কর্মী, ফ্যাসিবাদী অাক্রমণ দাবি মানবাধিকার কর্মীদের

Varavara-Rao

ভোররাতে ফের কড়া নাড়া। দেশজুড়ে মানবাধিকার কর্মী ও তাদের বাড়িতে পুলিসের হানা। গ্রেফতার ছত্তিশড়ের ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী, অাইনজীবী সুধা ভরদ্বাজ। সুধাকে গ্রেফতার করা হয় ফরিদাবাদ থেকে। ভারভারা রাওকে পুলিস গ্রেফতার করেছে হায়দরাবাদ থেকে। মুম্বইয়ের অরুণ ফেরেরা ও ভেরনন গনসালভেসকেও গ্রেফতার করেছে পুণের পুলিস। বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী গৌতম নাভলেখার বাড়িতেও হানা দেয় পুণে পুলিসের দল। পুলিস হানা দিয়েছে ঝাড়খণ্ডের মানবাধিকার কর্মীর বাড়িতেও। পুলিসের অভিযোগ ভিমা করেগাঁও হিংসার সঙ্গে জড়িত এরা। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে মারাঠা পেশওয়াদের বিরুদ্ধে দলিতদের বিজয় ২০০ বছর পূর্তিতে ভিমা করেগাঁতে এক অনুষ্ঠানের অায়োজনকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়ায়। তার জেরে এর অাগে নাগপুর ও দিল্লি থেকে  সুধীর ধাওয়ালে, সুরেন্দ্র গাডলিং, মহেশ রাউত, সোমা সেন ও রোনা উইলসনকে গ্রেফতার করে পুণের পুলিস। সেই সময় একটি চিঠি অাবিষ্কার করে পুলিস যেখানে বলা হয় নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার পরিকল্পনা করছে মাওবাদীরা। অার সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেফতারের ঘটনাকে  ফ্যাসিবাদী হামলা বলে জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

সূত্রঃ satdin.in