আই.এস. এবং নারী মুক্তি

screen-shot-2015-03-09-at-1-43-26-pm

ধর্মীয় মৌলবাদী জঙ্গি সংগঠন হিসেবে বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত-আলোড়িত শক্তিশালী সংগঠনের নাম ইসলামী স্টেট বা আইএস। এই আইএস এখন এক সময়ের জঙ্গি নেতা ওসামা বিন লাদেনের সংগঠন আল কায়দার চেয়েও শক্তিশালী। আইএস হচ্ছে সুন্নি মুসলিমদের জঙ্গি সংগঠন। আইএস-এর সাথে আল কায়দার পার্থক্য হল আল কায়দার নির্দিষ্ট কোন ভূখণ্ড ছিল না। কিন্তু আইএস ইরাক-সিরিয়া-তুরস্কের তেল সমৃদ্ধ সীমান্ত এলাকা দখল করে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবি করছে। আইএস-এর প্রধান হচ্ছে আবু বকর আল বোগদাদী।

আইএস-এ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রচুর তরুণ-তরুণীরা যোগদান করছে। অনেক দেশের নারীরাও এই সংগঠনের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। অনেক নারী নিজের দেশ ত্যাগ করে আইএস-এর ঘাঁটিতে চলে গিয়েছে। কেবলমাত্র পশ্চাৎপদ সামন্ততান্ত্রিক সমাজ উদ্ভূত দেশ থেকেই নয়, আধুনিক পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপ-আমেরিকা থেকেও অনেক মুসলিম নারীরা আইএস-এ যোগ দিচ্ছে। বিভিন্ন মিডিয়ার প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায় সারা বিশ্ব থেকে ৫০০-এর অধিক নারী এই সংগঠনে যোগ দিয়েছে। এর মধ্যে বাঙালি বংশোদ্ভূত দুইজন বৃটিশ বাঙালি নারীও রয়েছে।

 অথচ আইএস-এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ-এ দেখা যায়- এদের দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মসূচি পশ্চাৎপদ সামন্ততান্ত্রিক গোষ্ঠীভিত্তিক। যেজন্য নারী প্রশ্নে আইএস-এর সকল কর্মকর্তাই নারীমুক্তি বিরোধী। এমনকি প্রগতি বিরোধী। বহু বিবাহ,নারীদেরকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে করা, দাসী হিসেবে দেখা,যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করা প্রভৃতির মধ্য দিয়ে তা প্রকাশিত।

আইএস তাদের হাতে বন্দি নারীদের উপর মধ্যযুগীয় নির্যাতন করছে। তাদেরই সমর্থক নাইজেরিয়ার বোকো হারাম গেরিলারা শতশত স্কুল ছাত্রীকে ধরে নিয়ে গিয়ে বিবাহ করছে, অনেককে গর্ভবতী করেছে।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা আইএস-এর বিরুদ্ধে হাজার হাজার নারী ও তরুণী অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ এনেছে। ২০১৪ সালের এপ্রিলে “হিউম্যান রাইটস ওয়াচে”র এক প্রতিবেদনে ২০ জন নারীর সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়- যারা আইএস-এর নিয়ন্ত্রণ থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। তারা জানান, অপহরণ কিংবা আটককৃতদের মধ্যে যারা অল্প বয়সী নারী তাদেরকে পুরুষ ও বয়স্ক নারীদের থেকে পৃথক করে আইএস। এরপর ঐ কম বয়সী নারীদের পুরস্কার হিসেবে আইএস যোদ্ধাদের দিয়ে দেয়া হয় অথবা দাসী হিসেবে তাদের বিক্রি করে দেয়া হয়। এসব নারীদের অসংখ্যবার ধর্ষণ করা হয় বলে জানান তারা।

উত্তর ইরাকের ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের সাড়ে তিন হাজার নারীকে বন্দি করে। যাদেরকে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করছে আইএস। এইসব বন্দি হতভাগ্যদের মধ্য থেকে খুব কম নারীই পালিয়ে আসতে পেরেছে। এমন এক যৌনদাসী ইয়াজিদি নারী হচ্ছেন ১৮ বছর বয়সী  হান্নান (ছদ্মনাম)। আইএস-এর আস্তানা থেকে পালিয়ে এসে বর্ণনা করেছেন তার ভয়ঙ্কর সব স্মৃতি। বিবিসি’র অনলাইন প্রতিবেদন অবলম্বনে ঐ যৌনদাসীর মানবেতর ও নির্মম কাহিনীর সারকথা এখানে তুলে ধরা হলো-

২০১৪ সালের আগষ্টে সিনডার পর্বতে হামলা করে লণ্ডভণ্ড করে দেয় আইএস বাহিনী। তাদের লক্ষ ছিল ইয়াজিদি সম্প্রদায়। সেই দিন অন্যান্য ইয়াজিদি নারী ও শিশুদের সঙ্গে হান্নানকে ধরে নিয়ে যায় আইএস। সেদিন হান্নান প্রাণে বেঁচে গিয়েছিল ঠিকই, তবে তার পরবর্তী জীবন কোন নারীরই কাম্য নয়। হান্নান জানায়, আইএস জঙ্গিরা তাদের অবরোধ করে শুধুমাত্র নারীদের আলাদা করে মসুলে নিয়ে যায়। তাদেরকে মারধর করা হয়। দুই/তিন সপ্তাহ পর একটি বড় হলে নিয়ে আসে। সেখানে আরো প্রায় ২০০ নারী ও কিশোরী ছিল। এখানে এসে আইএস যোদ্ধারা তাদের পছন্দমত যৌনদাসী কিনে নিয়ে যেত।

 যৌন দাসীদের সঙ্গে আচরণ কেমন হবে এ সম্পর্কে আইএস-এর নিজস্ব বিধান রয়েছে। সেই বিধানে বলা হয়েছে খৃস্টান, ইহুদি এবং ইয়াজিদি নারীদের যৌনদাসী হিসেবে গ্রহণ করা যাবে। এদেরকে কেনা-বেচা করা যাবে, উপহার হিসেবে দেয়া যাবে।

প্রশ্ন হচ্ছে এই সব নারীমুক্তি বিরোধী পশ্চাৎপদ প্রতিক্রিয়াশীল কর্মকা- সত্ত্বেও কেন বিভিন্ন দেশের মুসলিম নারীরা এই সংগঠনে যোগদান করছে। তার কয়েকটি কারণ এখানে তুলে ধরা হচ্ছে-

* পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো বিশেষত আমেরিকার নেতৃত্বাধীন জোট আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়াসহ মুসলিম দেশগুলো দখল করে সেখানে নারীদের উপর ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন তথা যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। মুসলিম জনগণের বিরুদ্ধে ‘ক্রুসেড’ অর্থাৎ ধর্মযুদ্ধ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে যুদ্ধবাজ ইউরোপ-আমেরিকায় বসবাসকারী মুসলিম জনগণকে সর্বদাই জঙ্গি সন্ত্রাসী হিসেবে সন্দেহ করে বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ন করা হয়। বিশেষত নারীদের উপর অনেক অপমানজনক কালাকানুন জারী করেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- ফ্রান্সে মুসলিম নারীদের ঐতিহ্যবাহী হিজাব পরিধানকে আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে মুসলিম জনগণ বিশেষত নারী সম্প্রদায় যুদ্ধবাজ সাম্রাজ্যবাদীদের উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছে। এই ক্ষুব্ধ জনগণ যখন ভিডিওতে দেখে আইএস যোদ্ধারা একজন অমুসলিম আমেরিকান-ইউরোপিয়ানকে তলোয়ার দিয়ে জবাই করছে তখন নির্যাতিতা মুসলিম নারীরা আইএস-এর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। কেউ কেউ সাম্রাজ্যবাদ নিয়ন্ত্রিত তৃতীয় বিশ্বের মুসলিম দেশের পশ্চাৎপদ সামন্ততান্ত্রিক আর্থ-সামাজিক অবস্থা থেকে মৌলবাদী চিন্তার কারণে অনেকে আইএস-এ যোগদান করে। এইসব দেশের শাসকগোষ্ঠী সাম্রাজ্যবাদের দালালরা ক্ষমতায় টিকে থাকা ও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতা লালন-পালন করে থাকে। যা আবার পশ্চাৎপদ সামন্ততান্ত্রিক আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা টিকে থাকতে সহায়তা করে।

* আইএস মুসলিম নারীদেরকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছে তারা ইসলাম রক্ষার জন্য জিহাদ করছে। এই জিহাদে অংশ নিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে।

আমাদের দেশেও ইতিমধ্যে আইএস-এর অস্তিত্ব ঘোষিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন নামে ইসলামি জঙ্গিবাদের তৎপরতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নারীদের অংশগ্রহণও লক্ষ্য করা যায়। এখানকার শাসক সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের দালাল আমলা মুৎসুদ্দি-বুর্জোয়া শ্রেণি ক্ষমতায় টিকে থাকতে ও ক্ষমতা দখল করার স্বার্থে ধর্মীয় মৌলবাদকে কখনো দমন করছে। আবার কখনো লালন-পালন করছে।

যে কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত। তবে অনেক সময় জনগণের বিদ্রোহ সঠিক বিপ্লবী লাইনের অভাবে বিভ্রান্তিতে পতিত হয়- কখনো ব্যর্থ হয়। যুদ্ধবাজ সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে নারীদের বিশেষত মুসলিম নারীদের ক্ষোভ-বিদ্রোহ ন্যায্য হলেও তারা নারী প্রগতি বিরোধী পশ্চাৎপদ মৌলবাদী সামন্ততান্ত্রিক আইএস-কে বন্ধু মনে করছে। শত্রুকে মিত্র ভেবেছে। আমাদের দেশের নারী সমাজ সহ সকল নারীদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

প্রকৃত নারীমুক্তি অর্জন করতে হলে সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদেরই লালিত সামন্ততান্ত্রিক মৌলবাদী আইএস এই দুই ফ্রন্টে সংগ্রাম করতে হবে। নারীমুক্তির পথ হচ্ছে সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ। নারীমুক্তির শত্রু হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদ-সামন্তবাদ ও মৌলবাদ। এদেরকে উচ্ছেদের লক্ষ্যে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। প্রকৃত নারী মুক্তির জন্য পুনারায় সমাজতন্ত্রের পতাকা উর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে। নারী-পুরুষের সমঅধিকার-সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

Advertisements

আইএস বিরোধী লড়াইয়ে কমিউনিস্ট (কুর্দি ও ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের) নারীরা

PKK-Fighter

মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস বিরোধী লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই নারীরাও। ইরাক ও সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি কুর্দিদের কমিউনিস্ট সশস্ত্র সংগঠন কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি- পিকেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে এ যুদ্ধে। সাজ সরঞ্জাম নিয়ে সম্ভব না হলেও, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আইএস- বিরোধী লড়াইয়ের প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে কমিউনিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী কুর্দি ও ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের নারীরা।

ইরাক, ইরান ও তুরস্কের সীমান্ত ঘেঁষা এই পাহাড়ি অঞ্চলেই বেশিরভাগ কমিউনিস্ট পিকেকে যোদ্ধার বসবাস। বেঁচে থাকার জন্য যুদ্ধই একমাত্র উপায় হওয়ায় সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এ অঞ্চলের নিত্যদিনের দৃশ্য। তারা মূলত তুর্কি সরকার বিরোধী বিদ্রোহী হলেও; এ বছর দেশটির সীমান্ত এলাকায় আইএস-এর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় কুখ্যাত জঙ্গি গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধেও তীব্র লড়াইয়ে নামতে বাধ্য হয় কমিউনিস্ট পিকেকে সদস্যরা।

BvSdhe3IYAAmbqR
আর এ যুদ্ধে নারীদের ভূমিকাও যে কোনো অংশে কম নয়, তাই ফুটে উঠলো কমিউনিস্ট পিকেকে নারী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণস্থল ঘুরে বিবিসির তৈরি করা এক প্রতিবেদনে। আইএস বিরোধী লড়াইয়ে কমিউনিস্ট পিকেকে যোদ্ধাদের অবদান ইরাক ও সিরিয় বাহিনীর চেয়ে কোনো অংশেই কম নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দেখতে অতি সাধারণ ও কম বয়সী হলেও আইএস-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের কৌশল শিখতেই তাদের এখানে আসা।

বেরিতান সেলা নামের এই কমান্ডার গত ১০ বছর ধরে এ অঞ্চলে কমিউনিস্ট পিকেকে’র হয়ে লড়াই করে আসছে। বর্তমানে তিনি কুর্দি ও ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।

LiveLeak-dot-com-101_1409890684-pkk_1409891624.jpg.resized
কমিউনিস্ট পিকেকের নারী কমান্ডার বেরিতান সেলা বলেন, ‘এখানে যারা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে আসে, তাদের বয়স অনেক কম। প্রশিক্ষণে অংশ নেয়াদের মধ্যে ১৭ থেকে ১৮ বছরের মেয়েরাই বেশি। যে একবার আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়, পরিণত যোদ্ধা হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে সাধারণত আর কোথাও যেতে দেয়া হয় না। প্রশিক্ষণগুলো খুব কঠিন হলেও, ওদের বয়স কম হওয়ায় বিষয়গুলো খুব তাড়াতাড়ি আয়ত্ত করে ফেলে। আমরা সবাইকে বুঝাই; তোমার যদি কোনো নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য থাকে, তবে একদিন সফল হবেই। কোনো বাধাই তোমাকে দমাতে পারবে না।’

শুধু প্রশিক্ষণই নয়, এর ফাঁকেই চলে খেলাধুলা। তবে খেলাধুলাতেও শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান ও মিত্রপক্ষের সঙ্গে সহাবস্থান সম্পর্কে কৌশল শেখানো হয়ে থাকে।

PPK_-fighter-holds_3286777k
কমিউনিস্ট পিকেকে’র সঙ্গে যোগ দেয়া নারীদের মধ্যে একজন ইয়াজিদি তরুণী আভিন। গত বছর তুর্কি-সিরিয়া সীমান্তবর্তী সিনজার পর্বত এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে আইএস। দু’মাস বন্দিদশা কাটানোর পর মুক্তি পেলেও, ভুলতে পারেনি বিভীষিকাময় নানা স্মৃতি। আর তাই প্রতিশোধ নিতে এই পথ বেছে নেয়ার কথা জানালো আভিন।

0e7ef118-e7c0-4b7b-b247-c290db1f029b_16x9_600x338
ইয়াজিদি যোদ্ধা আভিন জানান, ‘সিনজার এবং কোবানিতে জঙ্গিরা যা করেছে এবং করছে, আমি তার প্রতিশোধ নিতে যোদ্ধা হওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছি। যেসব মা এবং শিশুরা আইএস-এর হাতে বন্দি আছে আমরা তাদের মুক্ত করে আনবো।’

আভিনেরই আরেক বন্ধু আরজিন। জন্ম ও শিক্ষাগ্রহণ দু’টোই জার্মানিতে। নিজ সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর জঙ্গিদের অনাচার সহ্য করতে না পেরে যোগ দিয়েছে কমিউনিস্ট পিকেকের সঙ্গে।

ইয়াজিদি যোদ্ধা আরজিন বলেন, ‘আমি টেলিভিশনে দেখেছি, ওরা ইয়াজিদিদের সঙ্গে কেমন নৃশংস আচরণ করেছে। আইএস বর্বরতার শিকার হয়েও আভিন যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে, তা আমাকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।’

কমিউনিস্ট কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি পিকেকে-কে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে আসছে তুরস্ক সরকার। গত মাসে ইরাক-সিরিয়া সীমান্তে কুর্দি যোদ্ধাদের ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণে তা গুঁড়িয়ে দেয় তুর্কি সামরিক বাহিনী।

এ অবস্থায় কমিউনিস্ট পিকেকের অধিকাংশ প্রশিক্ষণ ক্লাস হচ্ছে মাটির নীচে তৈরি বিশেষ কক্ষে। সংগঠনের আরেকজন নারী কমান্ডার জানালেন যতো বাধাই আসুক, সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে লক্ষ্যে পৌঁছতে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

কমিউনিস্ট পিকেকে কমান্ডার নরিন জামশি জানান, ‘আইএস বিরোধী লড়াইয়ে অনেক পক্ষই অংশ নিয়েছে। কিন্তু সবারই কোনো না কোনো উদ্দেশ্য আছে। কিন্তু আমরা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী। আর একজন স্বেচ্ছাসেবক সবার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবে এবং নিজের জীবন উৎসর্গ করতে সদা প্রস্তুত থাকে। আমরা এমনভাবে যোদ্ধাদের গড়ে তুলি, যাতে তাদের কোনো ভয়, কোনো পিছুটান না থাকে।’

less-photogenic-kurd-women-fighters
কমিউনিস্ট পিকেকে’র সদস্যদের মধ্যে ৪০ শতাংশই নারী যোদ্ধা। তারা উভয়েই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস বিরোধী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আর এ লড়াইয়ে নিয়মশৃঙ্খলা ও আনুগত্য কমিউনিস্ট পিকেকে যোদ্ধাদের সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি বলে জানায় বিবিসি।

তবে সম্প্রতি কুর্দি যোদ্ধাদের অবস্থানে তুর্কি বাহিনীর হামলায় তাদের কঠিন যাত্রা আরও কঠিন হওয়ার পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে জটিল করে তুলেছে।


আইএস(দায়েশ) এর উপর প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালিয়েছে মাওবাদীরা

mlkpkurdc4b1stan

শিনগালঃ সুরুক গণহত্যার প্রতিশোধ হিসেবে শিনগালে আইএস(দায়েশ) জঙ্গি গোষ্ঠীর উপর হামলা চালিয়েছে মাওবাদী MLKP গেরিলারা। জানা গেছে গেরিলাদের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি তবে জঙ্গি গোষ্ঠীর তিনজন নিহত হয়েছে। এই হামলার পর ঘটনাস্থলে তুর্কি রাষ্ট্রের জোট বাহিনীর বিমান বোমা বর্ষণ করে।

হামলা সম্পর্কে মাহির সেনগাল নামে একজন গেরিলা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “২০শে ফেব্রুয়ারি পিরসুসে ৩১ জন সমাজতন্ত্রীকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে আমরা এই হামলা চালাই। হামলায় তিন জঙ্গি নিহত হয়। গণহত্যার প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এইরকমই হবে। দায়েশ ও তুর্কি রাষ্ট্র এই গণহত্যার দায় থেকে পালাতে পারবে না। ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব ও সংগ্রামের বিরুদ্ধে পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলবো ও প্রতিরোধ বিস্তৃত করব। এখন থেকে তুর্কি রাষ্ট্র ও দায়েশের বিরুদ্ধে গণহত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তুরস্ক, বাকুর, কুর্দিস্তান, রোজাভা ও শিনগালে আমরা হামলা চালাব। রক্তের বদলা রক্ত দিয়ে গ্রহণ করা হবে।”

সূত্রঃ http://www.etha.com.tr/Haber/2015/08/06/guncel/mlkp-gerilalarindan-daise-misilleme-eylem/

https://nouvelleturquie.wordpress.com/2015/08/07/attaque-punitive-des-guerilleros-du-mlkp-contre-daesh/

https://comitesolidaridadrojava.wordpress.com/2015/08/09/represalia-del-mlkp-al-daesh-tras-los-atentados-de-suruc/