ভারতে ৩ মাসে আত্মঘাতী ২২৬ কৃষক

26_000_Del54044

রাজ্যে রাজ্যে কৃষকদের মৃত্যু মিছিল চলছেই! মারাঠাওয়াড়া অঞ্চলে মাত্র ৩ মাসে আত্মঘাতী কৃষকের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ- প্রশাসনের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, আত্মঘাতী কৃষক ২২৬ জন। ফসল নষ্ট হওয়ার কারণেই তাঁরা আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, অতি বর্ষণে মারাঠাওয়াড়া অঞ্চলের ফসলও ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকৃতির সেই ধাক্কা সামলাতে না-পেরেই মৃত্যুমিছিলে শরিক হচ্ছেন কৃষকরা। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫-র এই ক’মাসে যত কৃষক আত্মহত্যা করেছেন, ২০১০ থেকে ২০১৩-র মধ্যে এত কৃষক আত্মহত্যা করেননি। ২০১০-এ আত্মঘাতী কৃষক ১৯১, ২০১১-য় ১৬৯, ২০১২-য় ১৯৮ এবং ২০১৩ সালে সংখ্যাটা ২০৭ জন। তবে গত বছর কৃষত আত্মহত্যার প্রবণতা, সাম্প্রতিক অতীতের রেকর্ড ছাপিয়ে ছিল ৫৬৯ জন। এ বছর এপ্রিলের শুরুতেই গত বছরের ৪০ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলেছে কৃষক-মৃত্যু।

শুধু বীড় জেলাতেই আত্মহত্যা করেছেন ৬৪ জন। ঔরঙ্গাবাদে ৩৮ জন এবং নানদেড়ে ৩৬ জন। ওসমানাবাদে এ বছর ৩৫ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন।

বীড় জেলার এক সরকারি আধিকারিকের ধারণা, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। ফসল ঘরে তোলার আগে, মাঠেই নষ্ট হচ্ছে। যে কারণে লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না। উলটে দেনার বোঝা আরও ভারী হচ্ছে। বারবার এ ভাবে বিপর্যয়ের মুখে সর্বস্বান্ত হয়েই, তাঁরা আত্মহননের মতো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

সমাজকর্মীরা কিন্তু কৃষকমৃত্যুর দায়ভার সরকারের উপরই চাপিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করলেও, তা অতি সামান্যই। তা-ও আবার সময়মতো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে পৌঁছচ্ছে না। যে কারণেই এত আত্মহত্যা বাড়ছে।

Advertisements

মার্কিন সেনাবাহিনীতে আত্মহত্যার প্রবণতা আরও বেড়েছে

4bhkb9ede309b81j3a_620C350

মার্কিন সেনাবাহিনীতে আত্মহত্যার হার গত বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে আশংকাজনকভাবে বেড়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। মার্কিন ডিফেন্স সুইসাইড প্রিভেনশন অফিস এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এতে দেখা যায়, রিজার্ভ ইউনিটসহ মার্কিন সেনাবাহিনীর সব শাখায় গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেড়েছে। ২০১৪ সালের একই সময়ের তুলনায় এ হার বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে চাকরিতে সক্রিয় সেনা সদস্যদের মধ্যে ৫৭ জন আত্মহত্যা করেছিল। কিন্তু গত বছর এ সংখ্যা বেড়ে ৭২-এ পৌঁছেছে। অন্যদিকে একই সময়ে রিজার্ভে সেনাদের আত্মহত্যার সংখ্যা ৪৮ থেকে বেড়ে ৭০-এ গিয়ে ঠেকেছে।

একই সময়ে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে মেরিন কোরে। এ বাহিনীতে ২০১৪ সালে ৬ জনের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলেও ২০১৫ সালে তা এক লাফে ১৩-তে গিয়ে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে আত্মহত্যার কারণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয় নি।

অবশ্য বিদেশে দীর্ঘদিন মোতায়েন রাখা এবং যুদ্ধ ফেরত সেনাদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করাকে দেশটির সেনা সদস্যদের আত্মহত্যার প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হয়ে থাকে।


ভারতঃ বিপ্লব তীব্রতর হবে, সতর্ক করে দিলেন মাওবাদী নেতা

vlcsnap-2015-11-13-16h58m23s618

খারিয়ার, ১৩ নভেম্বরঃ উড়িষ্যা-ছত্তিসগড় সীমান্তের কাছে উড়িষ্যার একটি দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকদের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশ জুড়ে তীব্র খরা দেখা দেয়ায় আশংকা প্রকাশ করে সিপিআই (মাওবাদী) এর নেতা বলেছেন কেন্দ্রের কৃষক বিরোধী স্বৈরাচারী নীতিমালার বিরুদ্ধে বিপ্লব তীব্রতর হবে।

সিপিআই (মাওবাদী) এর নুয়াপাড়া-সোনপুর বিভাগীয় কমিটির মুখপাত্র বুধুরাম পাহাড়িয়া বলেন, দেশে যখন ভয়াবহ খরা দেখা দিয়েছে, কৃষক সম্প্রদায় চরম দুর্দশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তখন সরকার বিদেশী কোম্পানির কাছে খনি তুলে দিতে ব্যস্ত। এদেশে ১৯৪৩ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে ৪০ লাখের বেশী মানুষ খরায় মৃত্যুবরণ করেছে। পাহাড়িয়া বলেন, বিদেশী কোম্পানিদেরকে ধরে রাখা এবং জলবায়ু পরিবর্তনই এর জন্য দায়ী।

কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে আক্রমণ করে মাওবাদী নেতা উল্লেখ করেন, উন্নয়নের কথা বলে দেশের কাছে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশী কোম্পানির হাতে দেশের খনি ও খনিজ সম্পদ তুলে দিচ্ছে কেন্দ্র। পাহাড়িয়া বলেন, “সেচ প্রকল্প নিয়ে সরকার নীতিমালা তৈরি করেছে কিন্তু বাস্তবে তারা বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে পানি সরবরাহ করছে। এতে করে পানি দূষণ হচ্ছে ও ফলশ্রুতিতে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। কৃষি ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তন বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘Make in India’  প্রচারণা বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করে পাহাড়িয়া বলেন, “Make in India’ প্রচারণার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে তরান্বিত করার বাজনা বাজিয়ে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী, আবার সেইসাথে তিনি কৃষকদেরকে দেশের মেরুদণ্ড আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে ‘Make in India’  হয়ে গেছে ‘Take from India’। বর্তমানে উড়িষ্যা ও ছত্তিসগড়ের অধিকাংশ অঞ্চলে তীব্র খরা চলছে কিন্তু রাজ্য সরকার বা কেন্দ্র সরকার কেউই কৃষকদের জন্য কোন সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা দেয়নি। যা দেয়া হয়েছে তা সমুদ্রে এক ফোঁটা জলের মতই।

মাওবাদী নেতা আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বিশ্বভ্রমণের আনন্দে মেতে আছেন। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করার কথা যেসব রাজনৈতিক দলের তারা তাদের নিজেদের রাজনৈতিক পুঁজি তুলতে ব্যস্ত।” তিনি বলেন, তীব্র খরার কারণে কৃষকেরা আত্মহত্যা করতে শুরু করেছে। পাহাড়িয়া এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের আত্মহত্যা না করে সরকারের কৃষক বিরোধী নীতিমালার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। প্রতি একর শস্যের ক্ষয়ক্ষতির জন্য মাওবাদীরা ৪০০০০ রুপি ক্ষতিপূরণের দাবী জানিয়েছে। এছাড়াও মৃত কৃষকদের পরিবারের জন্য ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ ও কাজের সুযোগ প্রদান, সকল দরিদ্র জনগণের জন্য সেচ সুবিধা, এক বছরের জন্য বিনা খরচে বীজ ও সার প্রদান এবং রেশন কার্ড প্রদানের দাবী জানিয়েছে মাওবাদীরা।

তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে তাদের দলীয় স্বার্থ নির্বিশেষে কৃষকদের স্বার্থে লড়াই করার আহ্বান জানান।

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.orissapost.com/will-intensify-revolt-warns-maoist-leader/


কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা অবহেলা করলে কৃষকরা নকশাল হয়ে যাবেঃ নানা পাটেকর

nana-patekar

সরকার যদি কৃষক আত্মহত্যা ঠেকাতে এখনই কোন ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে কৃষকরা নকশালপন্থী হয়ে যেতে পারে। এরকমটাই মনে করেন অভিনেতা নানা পাটেকর। বছরের পর বছর দেশজুড়ে কৃষকরা আত্মহত্যা করলেও উদাসীন থেকেছে সব রঙের সরকারই। মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ ও মারাঠওয়াড়ায় কৃষক আত্মহত্যা এক ভয়াবহ আকার নিয়েছে। মারাঠি শিল্পীদের সঙ্গে এদের পাশে দাঁড়াবার জন্য এগিয়ে এসেছেন নানা পাটেকারও। প্রথমে নিজের পকেট থেকে এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সাহায্য শুরু করার পর নানারা বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঁদা তুলে আর্থিক সাহায্য করে চলেছেন এই সব পরিবারগুলোকে। নানা মনে করেন মিডিয়া ইন্দ্রাণী ইস্যুকে যতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তার ছিঁটেফোঁটাও গুরুত্ব দিচ্ছে না কৃষক আত্মহত্যার ঘটনাতে।

সূত্রঃ http://satdin.in/?p=4616


ভারতঃ আত্মহত্যায় কৃষকদের থেকে এগিয়ে গৃহবধূদের লাশের মিছিল

image_232969.deth-1

নয়াদিল্লি: আত্মহত্যার ক্ষেত্রে কৃষকদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে গৃহবধূদের লাশের মিছিল৷ কৃষকদের তুলনায় প্রায় চারগুণ আত্মহত্যা করতে দেখা গিয়েছে গৃহবধূদের৷ ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর সমীক্ষা এমনটাই জানাচ্ছে৷

 এই সমীক্ষা রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, গত বছর ২০হাজার ১৪৮ জন গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে৷ সেখানে কৃষক আত্মহত্যার সংখ্যাটি হল ৫৬৫০৷ কৃষক আত্মহত্যার কারণে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন সরকারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ৷ অন্যদিকে গৃহবধূদের আত্মহত্যার পিছনে রয়েছে পণ, মানসিক অবসাদ, দাম্পত্য কলহ, বিবাহবহির্ভূত জীবনসহ নানা ধরনের সামাজিক বিশৃঙ্খলতার কারণ ৷

সূত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/farmers-wife-suicide.html


ভারতে গত বছর ১২৩৬০জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন

farmer-suicide

কৃষকদের আত্মহত্যার মিছিল অব্যাহত। মধ্যবিত্তের মনে এখন আর তেমন একটা প্রভাব পড়ে বলে মনে হয় না। তবে কৃষকদের আত্মহত্যার পরিসংখ্যানটা যথেষ্ট উদ্বেগের। ২০১৪ সালে দেশে ১২৩৬০ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছিলেন। আগের বছর সংখ্যাটা ছিল ১১৭৩২। দেশে কৃষক আত্মহত্যার তালিকায় প্রথম নাম রয়েছে আর্থিক রাজধানী মুম্বই যে রাজ্যে অবস্থিত সেই মহারাষ্ট্রের। গত বছর ৪০০০ কৃষক এখানে আত্মহত্যা করেছিলেন। যদিও এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের কোন আলু চাষী বা ধান চাষীর নাম নেই! ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে ২০০৫ থেকে  ২০১৪ সালে দেশে ৩ লক্ষ ৮ হাজার ৮২৬জন কৃষক আত্মহত্যার বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও অনেক কৃষকই যে আত্মহত্যা করেছেন পশ্চিমবঙ্গ তার প্রমাণ। কারণ ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী গত বছর এ রাজ্যে কোন কৃষকই আত্মহত্যা করেননি!

সূত্রঃ  http://satdin.in/?p=3392