আদিবাসীদের কমিউনিস্ট স্কুল উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তের

2-communist-party-philippines-ndf-filipino-children

বোমা মেরে লুমাড নামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্কুল উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন ফিলিপাইনের বহুল বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে। শিক্ষকরা স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহী হওয়ার শিক্ষা দেন; এমন অভিযোগ তুলে স্কুলে বোমা হামলার হুমকি দেন তিনি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দুয়ার্তের এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি মাসেই আইএস-এর পর মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের নিশানা করবেন বলে জানিয়েছিলেন ফিলিপাইনের এই বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট।

সোমবার টেলিভিশনে প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশজুড়ে সেতু আর স্কুল ধ্বংসের নিন্দা জানান দুয়ার্তে। তবে লুমাডদের স্কুল সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, স্কুলগুলো সরকার নয়, পরিচালিত হয় কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের কথায়। দুয়ার্তে ওই বক্তৃতায় বলেন, ‘লুমাড জনগোষ্ঠীকে বলছি, এইসব ছাড়ুন। আপনাদের অবকাঠামোসহ সবকিছু আমি বোমা মেরে উড়িয়ে দেব’।

উল্লেখ্য অস্ত্রভক্তির জন্য দুয়ার্তের পরিচিতি রয়েছে। গত বছর নভেম্বরে নিজ হাতে গুলি করে হত্যার কথাও স্বীকার করেন দুয়ার্তে। তখন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-কে তিনি জানান, দাভাও শহরের মেয়র থাকাকালে তিনি তিন সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন। ওই শহরে দুয়ার্তে ২০ বছর ধরে নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। চলতি মাসে দুয়ার্তে মারাউই সিটির একটি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সেনাদের উদ্দেশে বলেন, আইএসের সঙ্গে জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে লড়াইয়ের পর তারা কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের দমনে যুদ্ধে নামবেন।

সূত্রঃ banglatribune


বস্তারে আদিবাসীদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় জেলের ডেপুটি সুপার ‘সাসপেন্ডেড’

v

বস্তারে আদিবাসীদের উপর পুলিস –আধা সেনাদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় শনিবার সাসপেন্ড করা হল  রায়পুর সেন্ট্রাল জেলের ডেপুটি সুপার বর্ষা ডোঙ্গরেকে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি সরকারি চাকরির শৃঙ্খলাভঙ্গ  করেছেন বলেই তাকে ছত্তিশগড় সরকার সাসপেন্ড করেছে। ফেসবুকে বর্ষা কী এমন লিখেছিলেন যাতে শৃঙ্খলাভঙ্গ হল?

”থানায় আদিবাসী কিশোরীদের নগ্ন করে  স্তনে  ও কবজিতে বিদ্যুতের শক দিতে দেখিছি আমি”। চমকে উঠলেও এই বক্তব্য ছত্তিশগড়ের রায়পুর  সেন্ট্রাল  জেলের ডেপুটি সুপার বর্ষা ডোঙ্গরের। দ্য ওয়ার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী মাওবাদী দমনের নামে সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আদিবাসীদের উত্খাতের বিরুদ্ধে নিজের মতামত পোস্ট করেন বর্ষা। অবশ্য পরে তা সরিয়ে নেন তিনি। দ্য ওয়ারে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী বর্ষা লিখেছেন আদিবাসীদের উপর পুঁজিবাদী ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গ্রাম জ্বালিয়ে, আদিবাসী মহিলাদের ধর্ষণ করে গ্রাম থেকে তাঁদের উচ্ছেদ করে জঙ্গলের দখল নেওয়া হচ্ছে। মাওবাদী সন্দেহে মহিলাদের স্তন টিপে দেখা হচ্ছে তাতে দুধ আছে কিনা।

জঙ্গলের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদকে পুঁজিপতিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য জঙ্গল থেকে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করতে হবে। বর্ষা মনে করেন জঙ্গল আদিবাসীদের জন্মভূমি. তারা তা ছাড়বেন না। আদিবাসীরাও নকশালপন্থার শেষ চায়। কিন্তু যেভাবে  দেশের রক্ষকরাই তাদের মহিলাদের ধর্ষণ করছে, গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। মিথ্যে মামলায় জেলে পুরে দিচ্ছে, তাতে সুবিচারের আশায় কার কাছে যাবেন তাঁরা? প্রশ্ন বর্ষার।

ছত্তিশগড়ে মাওবাদী- নিরাপত্তারক্ষীদের লড়াইয়ে উভয় দিকের  যারা মারা যাচ্ছেন তারা সবাই দেশের সন্তান। এই সব মৃত্যু মন ব্যথিত করে। বর্ষা মনে করেন মন্থনের প্রয়োজন। তাতেই সত্যিটা বেরিয়ে আসবে।

আগাগোড়া একরোখা মনের এই সরকারি আধিকারিক মামলায় রাজ্য সরকারকে পরাস্ত করে রায়পুর সেন্ট্রাল জেলের ডেপুটি সুপার হন।

সূত্রঃ satdin.in

 


থানায় আদিবাসী কিশোরীদের নগ্ন করে ‘শক’ দেওয়ার কথা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট জেলের ডেপুটি সুপারের

Varsha-Dongre-post-300x169

”থানায় আদিবাসী কিশোরীদের নগ্ন করে  স্তনে  ও কবজিতে বিদ্যুতের শক দিতে দেখিছি আমি”। চমকে উঠলেও এই বক্তব্য ছত্তিশগড়ের রায়পুর  সেন্ট্রাল  জেলের ডেপুটি সুপার বর্ষা ডোঙ্গরের। দ্য ওয়ার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী মাওবাদী দমনের নামে সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আদিবাসীদের উত্খাতের বিরুদ্ধে নিজের মতামত পোস্ট করেন বর্ষা। অবশ্য পরে তা সরিয়ে নেন তিনি। দ্য ওয়ারে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী বর্ষা লিখেছেন আদিবাসীদের উপর পুঁজিবাদী ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গ্রাম জ্বালিয়ে, আদিবাসী মহিলাদের ধর্ষণ করে গ্রাম থেকে তাঁদের উচ্ছেদ করে জঙ্গলের দখল নেওয়া হচ্ছে। মাওবাদী সন্দেহে মহিলাদের স্তন টিপে দেখা হচ্ছে তাতে দুধ আছে কিনা।

জঙ্গলের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদকে পুঁজিপতিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য জঙ্গল থেকে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করতে হবে। বর্ষা মনে করেন জঙ্গল আদিবাসীদের জন্মভূমি, তারা তা ছাড়বেন না। আদিবাসীরাও নকশালপন্থার শেষ চায়। কিন্তু যেভাবে  দেশের রক্ষকরাই তাদের মহিলাদের ধর্ষণ করছে, গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। মিথ্যে মামলায় জেলে পুরে দিচ্ছে, তাতে সুবিচারের আশায় কার কাছে যাবেন তাঁরা? প্রশ্ন বর্ষার।

ছত্তিশগড়ে মাওবাদী- নিরাপত্তারক্ষীদের লড়াইয়ে উভয় দিকের  যারা মারা যাচ্ছেন তারা সবাই দেশের সন্তান। এই সব মৃত্যু মন ব্যথিত করে। বর্ষা মনে করেন মন্থনের প্রয়োজন। তাতেই সত্যিটা বেরিয়ে আসবে।

আগাগোড়া একরোখা মনের এই সরকারি আধিকারিক মামলায় রাজ্য সরকারকে পরাস্ত করে রায়পুর সেন্ট্রাল জেলের ডেপুটি সুপার হন। ফেসবুকে এই ‘মারাত্মক’ পোস্টের পর এবার তাঁর উপর শাস্তিমূলক কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেদিকে নজর থাকবে আমাদেরও।

সূত্রঃ satdin.in

 


আদিবাসীদের পাশে থাকতেই মাওবাদী গেরিলাদের হানা

ওড়িশা’র আদিবাসী জনগণ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওড়িশা সফরের আগে নিজেদের শক্তি জাহির করা তো আছেই। সেই সঙ্গে ওড়িশায় নিয়মগিরি পার্বত্য অঞ্চলে বক্সাইট খনি প্রকল্পের বিরোধী আদিবাসীদের পাশে যে তারা আছে, সেটা দেখাতেও রায়গড়ার দইকালু রেল স্টেশনে মাওবাদীরা হামলা চালিয়েছে বলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি।

আগামী ১৫ ও ১৬ এপ্রিল ভুবনেশ্বরে বিজেপি-র জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক হওয়ার কথা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্তা বলেন, ‘‘বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারকে বার্তা দিতে ভুবনেশ্বর থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দূরে দইকালু স্টেশনে মাওবাদীদের শক্তি জাহির করার দরকার ছিল না। বৃহস্পতিবার রাতে পরিকল্পনা করেই হামলাস্থল বেছেছিল মাওবাদীরা।’’

নিয়মগিরি পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীরা এক দশক যাবৎ সেখানে বক্সাইট খনি প্রকল্পের বিরেোধিতা করছেন। ওখানে প্রায় আট হাজার মানুষের বসবাস। তাঁরা বিলেতের একটি সংস্থার খনি প্রকল্প এখনও আটকে রেখেছেন। মাওবাদীরা আগেই বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, এটা জল-জঙ্গল-জমিনের লড়াই। তাই তাঁরা আদিবাসীদের পাশেই আছেন। গত এক বছর ধরে মাওবাদী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে সেখানকার বেশ কয়েক জন আদিবাসী যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ২০ বছরের এক যুবক মারা গিয়েছে পুলিশের গুলিতে।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্তার দাবি, দইকালুতে মাওবাদী হামলার জন্য মেন লাইনে ট্রেন চলাচল শুক্রবার প্রায় দুপুর পর্যন্ত বন্ধ থাকে। ওই লাইনে যাত্রীবাহী ট্রেন বেশি চলে, মালগাড়ি কম। যাত্রীরা কেউ হতাহত হয়নি। অথচ ওই লাইনের যাত্রীদের কাছে বার্তা পৌঁছল যে, মাওবাদীরা একটা কাণ্ড ঘটিয়েছে। আবার লাইনে বিস্ফোরণ মাওবাদীরা ঘটায়নি। শুধু তারা স্টেশনটা তছনছ করেছিল। অর্থাৎ সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেছিল, কিন্তু সাধারণ মানুষের সরাসরি ক্ষতি করেনি।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ওই অফিসারের কথায়, ‘‘দইকালুতে মাওবাদীরা তাদের শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি এই বার্তাও দিয়েছে, তারা সাধারণ মানুষের ক্ষতি করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। এমনকী, স্টেশন মাস্টার ও এক রেলকর্মীকে তারা আটকে রাখলেও তেমন মারধর করেনি।’’ ওই অফিসারের মতে, এটা এক ধরনের প্রতীকী হামলা। যেখানে মূল বার্তাটা দেওয়া হয়েছে, বক্সাইট খনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে নিয়মগিরি পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীদের লড়াইয়ে মাওবাদীরা আছে।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/national/suspicion-of-maoist-attack-on-narendra-modi-s-visit-to-orissa-1.590567#popup


প্রগতিশীল কলমযোদ্ধা মহাশ্বেতা দেবীঃ আদিবাসী ও নিপীড়িতদের স্বপক্ষে ছিলেন আমৃত্যু অবিচল

 

বৃটিশ বিরোধী “কল্লোল সাহিত্য আন্দোলন” ও তৎকালীন “গণনাট্য সংঘে”র সামনের সারিতে থাকা শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পন্ন এক মধ্যবিত্ত শিক্ষিত পরিবারে মহাশ্বেতা দেবীর জন্ম। তিনি ১৯২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মনীষ ঘটক কল্লোল সাহিত্য আন্দোলন ও গণনাট্য সংঘে’র সুপরিচিত কবি ছিলেন। সেই সূত্রে মহাশ্বেতা দেবীও গণনাট্য সংঘের সাথে যুক্ত ছিলেন। ভারতের বাংলাভাষাভাষী এই প্রগতিশীল লেখক সম্প্রতি বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন।

মহাশ্বেতা দেবীর সাহিত্যের প্রধানতম ক্ষেত্র ছিল আদিবাসী, দলিত ও নিপীড়িত জনগণ- যার এক বিরাট অংশ জুড়ে ছিল নারী। যারা নিজেদের অধিকারের জন্য বৃটিশের বিরুদ্ধে, ভারতের শাসকশ্রেণির বিরুদ্ধে ও উঁচুজাতের জোতদার, মহাজনদের বিরুদ্ধে নিরন্তর বীরত্বপূর্ণ লড়াই-সংগ্রামে জড়িত। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ের গ্রামাঞ্চলে আদিবাসীদের মধ্যে বছরের পর বছর থেকেছেন, মিশেছেন। তাদের দুঃখ-কষ্ট-সংগ্রাম-আত্মবলিদান-সাহসী অধ্যবসায় প্রভৃতিকে গভীর উপলব্ধিতে ধারণ করেছেন। একে সাহিত্যে জীবন্তভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি বলেছেন- তার গল্পের কাহিনী তিনি তৈরি করেননি- এগুলো জনগণেরই জীবন এবং তাদেরই সৃষ্টি। আদিবাসীদের জীবন ও সংগ্রামকে ঘিরে তার এমনি এক অসাধারণ উপন্যাস “চোট্টিমুন্ডা ও তার তীর”।

তিনি সারা জীবন আদিবাসীদের ন্যায্য দাবি ও সংগ্রামের পক্ষে থেকেছেন। সেজন্যই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লালগড় ও নন্দীগ্রামের আদিবাসীদের জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিলেন তিনি। আদিবাসী ছাড়াও তিনি শাসকশ্রেণির রক্তচক্ষু ও হুমকিকে উপেক্ষা করে শ্রমিক-কৃষকসহ নিপীড়িত জাতিসত্তা ও জনগণের আন্দোলন-সংগ্রামের পক্ষেও বলিষ্ঠভাবে দাঁড়িয়েছেন, সাহসী প্রতিবাদ করেছেন, কলম ধরেছেন। এরই অংশ হিসেবে ভারতে মাওবাদীদের নির্মূল করতে শাসকশ্রেণির নির্বিচার গণহত্যা ও নিষ্ঠুর নির্যাতনের সামরিক অভিযান “অপারেশন গ্রিনহান্টে”র বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছেন। উল্লেখ্য, ৬০-এর দশকে ভারতে মাওবাদীদের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক নক্সালবাড়ি আন্দোলন তাকে প্রভাবিত ও আলোড়িত করেছিল। তখনও তিনি “নক্সালদের” উচ্ছেদে শাসকশ্রেণি ও তার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে উন্মোচন করে রচনা করেছিলেন উপন্যাস “হাজার চুরাশির মা”। তিনি তার প্রথম উপন্যাস “ঝাঁসির রাণী”তে বৃটিশের বিরুদ্ধে এক যুদ্ধে নারী নেতৃত্ব লক্ষ্মীবাঈসহ অনেকের বীরত্বপূর্ণ লড়াই ও আত্মত্যাগকে অত্যন্ত নিপুণ হাতে তুলে ধরেছেন। সুদীর্ঘ ৬০ বছরের সাহিত্য সাধনার ফসল হিসেবে তিনি বাংলাভাষায় ১০০টিরও বেশি উপন্যাস এবং ২০টি গল্প সংকলন রচনা করেছেন এবং অসংখ্য সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। উল্লিখিত উপন্যাসগুলো ছাড়াও মহাশ্বেতা দেবীর উল্লেখযোগ্য আরো উপন্যাস হচ্ছে- তিতুমীর, অরণ্যের অধিকার, অগ্নিগর্ভ প্রভৃতি এবং গল্প- রোদালী, দ্রৌপদী, স্তন্যদায়িনী, ভাত ইত্যাদি। তার প্রগতিশীল রচনাসমূহ প্রগতিবাদীদের সাহিত্যকর্মের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এবং দৃষ্টান্ত। যা শ্রমিক-কৃষক সহ সকল নিপীড়িত জনগণের আন্দোলন-সংগ্রামের পক্ষে তাদের লেখালেখিতে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে, সাহস যোগাবে।

মহাশ্বেতা দেবীর উল্লিখিত অগ্রসর দিক সত্ত্বেও তার গুরুতর দুর্বল দিক সম্পর্কে কিছু না বললেই নয়। তিনি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সংস্কারের দাবিতে আটকে থেকে বুর্জোয়া রাজনীতির বেড়াজালে বিভ্রান্ত হয়েছেন। যেমন, তার বুর্জোয়া প্রতিক্রিয়াশীল পার্টি তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করা। একই কারণে শেখ মুজিব-হাসিনার আওয়ামী রাজনীতির প্রতিক্রিয়াশীলতাকে বুঝতে না পারা। সর্বোপরি নিপীড়িত জনগণের মুক্তির জন্য বিপ্লবী রাজনীতি-মতাদর্শ সম্পর্কে তার দুর্বলতা।

মহাশ্বেতা শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী থেকে ইংরেজিতে সম্মান এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৪ সালে বিজয়গড় কলেজে শিক্ষকতা করেন। তার যোগদানের পর থেকে তারই প্রচেষ্টায় এই কলেজটি শ্রমজীবী নারী ছাত্রীদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষকতার চাকুরি ছেড়ে লেখালেখিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। আমৃত্যু লেখালেখিই ছিল পেশা। ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই তিনি মারা যান। 

সূত্রঃ নারী মুক্তি, মার্চ ২০১৭ সংখ্যা


মেক্সিকোর আদিবাসী ‘জাপাতিস্তা’ আন্দোলন নিয়ে কবিতা

philip-michel-700x375-1

(ফিল গোল্ডবার্গ আদতে আমেরিকার মানুষ। সেখানকার ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৯৩৪ সালে তাঁর জন্ম। আর মৃত্যুবরণ করেছেন ২০০৪ সালে। জাপাতিস্তা আন্দোলনের পটভূমিকায় তিনি বেশ কিছু কবিতা লিখেছেন। ছিলেন জাপাতিস্তা সলিডারিটি কনসলিডেশনের অন্যতম সংগঠক।)

We have nothing to lose, absolutely nothing

জাপাতিস্তা ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (EZLN)

লাকান্দোন অরণ্যের ঘোষণা, ১৯৯৩

ভাষান্তর : মৃন্ময় চক্রবর্তী

……………………………………………………

হারানোর কিছু নেই—সত্যিই কিছু নেই—সব চলে গেছে,

অদৃশ্য হয়েছে উত্তরের কোনো গোপন কক্ষে

লোভী চোখের পাহারায়—তাই ন্যায় বিচারের দেখা নেই

নিপীড়ন—তীব্র বঞ্চনা

এখানে কোনো বিদ্যালয় নেই—মৃত্যুর শ্রেণীকক্ষগুলো ছাড়া

যেখানে শিশুরা শেখে কেমন করে মরতে হয়

খিদের জ্বালায়—অথবা কোনো কমজোরি পোকার মতো,

কোনো জমি নেই এখানে—কেবল এবড়োখেবড়ো পাথর

এমন করে নিঙ্‌ড়ে নেওয়া যার আর দেওয়ার কিছুই নেই

আর আছে বন্ধ্যা প্রতিশ্রুতির—কাগুজে ভূচিত্রগুলো

এখানে কোনো ঘর নেই—শুধু পাতলা কাঠের আবরণ

বাতাসকে বোকা বানানোর জন্য,

যে জানে আমরা ধর্ষিত হয়েছি—আর পড়ে আছি ক্ষতবিক্ষত হয়ে,

আবরণহীন পা-জোড়া শীতের দিকে বাড়িয়ে,

কোনো পরিকল্পনা নেই—ধনীদের মধ্যকার মুক্তবাণিজ্য ছাড়া,

যখন এসবের বিরুদ্ধে আমাদের নাক কুঁচকে ওঠে

তখন শস্যরাঙানো জানালাগুলোয় আঠার মতো লেগে থাকে

আমাদের পুয়েবলোর শুকনো রক্ত—আমাদের পূর্বপুরুষের,

এখানে কোনো ন্যায়বিচার নেই—বন্ধ আদালত,

বিচারপতির হাতুড়ি গুঁড়ো করে দেয় আমাদের মাথা,

আমাদের হাড় আর্তনাদ করে—বাস্তা—বাস্তা—বাস্তা

তারা আর্তনাদ করে—আমাদের হারাবার কিছু নেই।


বাস্তার নিয়ে সাংবাদিকের রিপোর্টের দায় নিতে নারাজ NDTV

maya-mirchandani_650x400_41425720255

বাস্তারে আদিবাসী মহিলাদের স্তনে হাত দিয়ে নিরাপত্তারক্ষীরা পরীক্ষা করে দেখছে স্তনে দুধ রয়েছে কি না, যদি দুধ থাকে তাহলে সে বিবাহিত আর তা হলেই সে মাওবাদী নয়। এই ভয়ঙ্কর খবর আজ আর অনেকেরই অজানা নয়। ইতিপূর্বে এ বিষয়টি নিয়ে বাংলায় প্রথম সংবাদ প্রকাশ করেছিল লাল সংবাদ । এছাড়াও অজানা নয় ভুয়া সংঘর্ষে গত কয়েক মাসে বাস্তারে অন্তত ১০০জনের হত্যার খবরও।  মূল ধারার বড় বড় মিডিয়া হাউসগুলো  এই খবরগুলোকে সাধারণত এড়িয়েই চলে। তবে সম্প্রতি NDTV এর সাংবাদিক মায়া মিরচান্দানি বাস্তার সফর করে এরকমই খবর জানিয়েছেন তাঁর সংস্থাকে। NDTV এর ওয়েবসাইটে তা আপলোডও করা হয়েছে। তবে সতর্কীকরণ সহ। জানান হয়েছে রিপোর্টে যা বলা হয়েছে তা মায়ার ব্যক্তিগত মত এর দায়  NDTV -এর নয়।

রিপোর্টটি পড়ার জন্যে নীচে ক্লিক করুন –

How Breastfeeding Women Are Abused In Bastar – And Other Horror Stories