ভারতঃ আসাম- মাওবাদী দমনে আধা সেনার বিজ্ঞপ্তি লক্ষীপুরে

download

 

assam

 

সুত্রঃ  http://samayikprasanga.in/epaper.php?pn=2

Advertisements

ভারতঃ নাগাল্যান্ডে চ্যানেল তৈরীর চেষ্টা করছে সিপিআই (মাওবাদী)

Indian-Maoists

বুধবার রাজ্য সভায় রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হরিভাই পরাথিভাই চৌধারি বলেন, অস্ত্র সংগ্রহের উৎস্ তৈরীর লক্ষ্যে সিপিআই (মাওবাদী) নাগাল্যান্ডে একটি পৃথক চ্যানেল স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা মণিপুরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কিছু চরমপন্থী দল রেভলিউশনারি পিপলস ফ্রন্ট (RPF) ও পিপলস লিবারেশন আর্মি ((PLA) এর সাথেও ঘনিষ্ঠ ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। প্রশিক্ষণ প্রদান, অর্থসংস্থান, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ ইত্যাদি বিষয়ে উভয় সংগঠন পারস্পরিক সম্মতি প্রদান করেছে।

চৌধারি আরো বলেন, সিপিআই (মাওবাদী) তাদের সামরিক প্রয়োজনে অন্যান্য চরমপন্থী দলের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সাংগঠনিক ভিত্তি স্থাপন করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, সিপিআই (মাওবাদী) এর UALC (Upper Assam Leading Committee) বর্তমানে আসাম ও অরুণাচল প্রদেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে। সেখানে তারা অস্ত্র লুটসহ গ্রামবাসীদের থেকে চাঁদাবাজির বিভিন্ন ঘটনার সাথে জড়িত।

UALC আসামে সিপিআই (মাওবাদী) এর জন্য কর্মী নিয়োগ ও ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ প্রদানে জড়িত রয়েছে। আসামের বড় বড় বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে এই ক্যাডারদের কাজে লাগানো হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, আসাম-অরুণাচল সীমান্ত মাওবাদী কর্মকাণ্ডের আরেকটি এলাকা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একইভাবে, দক্ষিণ ভারতে বিশেষত তামিলনাড়ু, কেরালা ও কর্ণাটকের ত্রিজংশনেও সিপিআই (মাওবাদী) তাদের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চৌধারী বলেন, কেরালা ও কর্ণাটকের সীমান্তে একটি ঘাঁটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

সিপিআই (মাওবাদী) উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কার্যক্রম গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, গণমাধ্যম ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের এমন খবরের প্রেক্ষাপটে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিবৃতি প্রদান করেন। ২০১২ সালে প্রতিরক্ষা শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের Institute for Defense Studies and Analysis (IDSA) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত কয়েকজন মাওবাদী জানিয়েছে চীনা ও ইউরোপীয় অস্ত্র সংগ্রহের জন্য  সিপিআই (মাওবাদী) দিমাপুর, নাগাল্যান্ডের অস্ত্র পাচারকারীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সালে ডিএনএ (DNA) প্রদত্ত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, মাওবাদীরা উত্তর-পূর্বে বিশেষ করে চা বাগানের আদি্বাসীদের ভেতর সক্রিয় হবার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

 

সূত্রঃ http://www.northeasttoday.in/cpi-maoist-trying-to-establish-a-channel-in-nagaland/


ভারতঃ আত্মসমর্পণকারী ৫১৪ জন মাওবাদীদের আসল গল্প

mao

 

সুত্র – http://samayikprasanga.in/epaper.php?pn=9


মাওবাদীদের সঙ্গ ছাড়েনি অসমের আদিবাসী সশস্ত্র সংগঠন আনলা

300px-Prepak_Cadres

ভারত –

আত্মসমর্পণ করে মূলস্রোতে ফেরার পরও মাওবাদীদের সঙ্গ ছাড়েনি অসমের আদিবাসী সশস্ত্র সংগঠন Adivasi National Liberation Army (ANLA)-আনলা এমনই দাবি করল পুলিশ।

তদন্তকারীদের বক্তব্য, ওই সংগঠনের সেনাধ্যক্ষ নির্মল ওরফে ডেভিড তির্কে অসমের কয়েকটি জেলার যুবকদের বাছাই করে প্রশিক্ষণের জন্য ছত্তীসগঢ়ে মাওবাদী শিবিরে পাঠানোর ছক কষেছিল। গত রাতে নির্মল ও তার ৩ সঙ্গী সঞ্জয় সিংহ গড়, পদ্মেশ্বর ঘাটোয়ার ও বোবাই ঘাটোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, জেরায় নির্মল জানিয়েছে, আদিবাসীদের লড়াই বাঁচাতেই সে ওই কাজ করছিল।

পুলিশ সূত্রের খবর, নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারির জন্য উত্তর-পূর্ব থেকে প্রশিক্ষণ শিবির আগেই সরিয়ে নিয়েছিল আনলা। সংগঠন মজবুত করতে ঝাড়খণ্ড, ছত্তীসগঢ়ের মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্মলরা। উদালগুড়ি, নগাঁও ও গোলাঘাট থেকে আদিবাসী যুবকদের ভিন্রাজ্যের মাও-শিবিরে প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানোর দায়িত্ব ছিল উদালগুড়ির সঞ্জয়, মেরাপানির পদ্মেশ্বরের। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই অসমের ৩০ জন আদিবাসী যুবক ছত্তীসগঢ়ের প্রশিক্ষিণ শিবিরে পৌঁছেছে। আরও ২০ জনকে সেখানে পাঠানোর চেষ্টা চলছিল। তার আগেই আনলা নেতারা পুলিশের জালে ধরা পড়ে। গ্রেফতার হওয়ার পর নির্মল সাংবাদিকদের বলে, “আদিবাসীদের সমস্যা নিয়ে সরকার চিন্তিত নয়। বাধ্য হয়েই আন্দোলন চালিয়ে যেতে হচ্ছে।” আজ নির্মলের মেরাপানি নাহরতলির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ৪টি পিস্তল উদ্ধার করে।

শিক্ষকতা ছেড়ে ২০০৩ সালে আনলা গঠন করেছিল নির্মল। ২০০৮ সালের নভেম্বরে ঝাড়খণ্ডের গুমলা থেকে ১০ সঙ্গী-সহ ওই নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০০৭ সালে চুংগাজানে রাজধানী এক্সপ্রেসে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ছিল নির্মল। শতাধিক মামলায় অভিযুক্ত নির্মলকে গ্রেফতার করে অসমে নিয়ে আসার পরও ফের রাজধানীকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটায় আনলা। ২০০৯-এর জানুয়ারিতে ওই সশস্ত্র সংগঠনের ২০ জন নেতা আত্মসমর্পণ করে। জামিন পেয়ে নির্মলও আত্মসমর্পণকারীদের দলে নাম লেখায়। ২০১১ সাল থেকে আনলা সংঘর্ষবিরতিতে রয়েছে। কিন্তু এ বার প্রকাশ্যে এল তাদের সঙ্গে মাওবাদীদের যোগাযোগের বিষয়টি।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালেই আইবি জানিয়েছিল, আনলার সাহায্য নিয়ে মাওবাদীরা গোলাঘাট ও নাগাল্যান্ডের ওখায় প্রশিক্ষণ শিবির চালাচ্ছে। সেখানে প্রায় শ’তিনেক সদস্য রয়েছে। সেই সময় থেকেই গোলাঘাট ও উজানি অসমে মাওবাদীদের উপস্থিতি বাড়ে। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে নাগাল্যান্ডের রালান এলাকার বাসিন্দারা আনলা ও মাওবাদীদের যৌথ শিবিরে হানা দিয়ে সেটি উৎখাত করেন।

 সুত্র – আনন্দবাজার পত্রিকা