‘আসুন জলবায়ু পরিবর্তনকে মোকাবেলা করি’ – পূর্ববাংলার ও ফ্রান্সের মাওবাদী পার্টির যৌথ বিবৃতি

Maoist-Flag

যৌথ বিবৃতিঃ

নভেম্বর ৭, ২০১১

আসুন জলবায়ু পরিবর্তনকে মোকাবেলা করি!

 

আজ পৃথিবীর জনগণ এক গুরুত্বপুর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছেনঃ জলবায়ু পরিবর্তন।  পুঁজিবাদী, ঔপনিবেশিক ও আধা ঔপনিবেশিক বিকাশ পৃথিবীকে আকৃতি দান করেছে উৎপাদিকা শক্তিসমূহ উন্নীত করে সেইসাথে প্রকৃতিকে বাঁধাগ্রস্থ ও ধ্বংস করে।
দ্বান্দ্বিকভাবে দেখলে, একদিকে পুঁজিবাদ বিশ্বের জনগণকে এনে দিয়েছে তুলনামূলক ভাল জীবনের সম্ভাবনা আর অন্যদিকে গ্রহটিকে ধ্বংস করছে।
মার্কস ও এঙ্গেলস এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন ছিলেন, এঙ্গেলস শহর ও গ্রামের মধ্যকার দ্বন্দ্বকে গুরুত্ব দিয়েছেন। শহরাঞ্চল বুর্জোয়াদের সাথে জন্ম নিয়েছে, তার মৃতু্যও তাদেরই সাথে। চীনে গড়ে ওঠা গণকমিউনগুলো এই পথ প্রদর্শন করে।
আমাদের নিজ নিজ দেশে বিকাশ একে প্রদর্শন করে এক তাৎপর্যপুর্ণ উপায়ে।
বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ পেয় পানিতে আর্সেনিক দূষণ মোকাবেলা করছেন যার কারণ হ্েচছ ভূগর্ভস্থ পানির অবৈজ্ঞানিক অপব্যবহার।  উপনিবেশবাদ ও আধা-উপনিবেশবাদ শোষণের এক অন্ধ বিকাশের প্রক্রিয়ার দিকে ধাবিত করেছে এর এক মুল্য হিসেবে প্রকৃতির ভারসাম্য ধ্বংস করে।
ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, কলেরা ও হেপাটাইটিসের মতো রোগগুলি কোনভাবেই ‘প্রাকৃতিক’ রোগ নয় বরং তাহচ্ছে স্রেফ উৎপাদিকা শক্তিগুলির অবৈজ্ঞানিক বিকাশের ফল।
বাংলাদেশের্ ঔপনিবেশিক ও আধা-ঔপনিবেশিক বিকাশ জনগণকে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় অক্ষম করে তুলেছে আর যে-উৎপাদন জনগণের সেবায় নয় বরং সাম্রাজ্যবাদী কোম্পানীসমূহের ও তাদের বুর্জোয়া দালালদের সেবায় নিয়োযিত তার ফল হিসেবে নদীগুলোকে ব্যাপক দূষণের মাধ্যমে জৈবিক মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে আর একদা গহীন অরণ্য এই দেশকে করেছে বনশুণ্য।
সেইসব সাম্রাজ্যবাদী কোম্পানীসমূহ, উদাহারণস্বরূপ যারা ফ্রান্সে সস্তা দরে পোষাক বিক্রী করছে।  এক শক্তিশালি বুর্জোয়া রাষ্ট্রসহকারে ফ্রান্স এক পুঁজিবাদী দেশ। সে বাংলাদেশের বাস্তবতা জানেনা। সে একটা শক্তিশালি সমাজ গণতন্ত্র সহযোগে সাম্রাজ্যবাদী বেলুনের মধ্যে বাস করে–বাংলাদেশ যা থেকে অনেক দুরে।
কিন্তু রকমফের থাকলেও বস্তুত একই সমস্যা লক্ষ্য করা যায়।
প্যরিস শহরের জন্ম ফরাসী বুর্জোয়াদের শহর হিসেবে; আর ঊনিশ শতকের শেষে বুর্জোয়া ধ্রুপদীবাদ ও রোমান্টিকতাবাদে পুর্ণ এক সাধারণ চরিত্র প্রদান করে ব্যারন হফম্যান শহরটিকে পুননির্মণ করেন।
এই প্রক্রিয়ায় প্যরিস সারা দেশের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক রক্ত শুষে নিয়েছে এবং এখনো বাড়ছে দরিদ্রতমদের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে শহরতলীতে ঠেলে দিয়ে, অন্য বড় শহরগুলিকে ৩০০ কিলেমিটার দুরে আটকে দিয়ে–যারা কিনা একই পথ অনুসরণ করছে তাদের জন্য মডেল হয়ে।
সবকিছুকে এই প্রক্রিয়ার জন্য নিবেদন করা হয়েছে।  ফ্রান্স নিজেকে রূপান্তর করছে প্যারিসীয় কেন্দ্রসমেত অন্য বড় শহরগুলিকে নিয়ে এক বৃহৎ শহরাঞ্চলে, আর তারপর রয়েছে সড়ক ও আধা শহরীকৃত এলাকা, বিচ্ছিন্ন বিপ্তি শিল্প কারখানার এক পুরো দেশ। প্রকৃতিকে মূল্যহীন বিবেচনা করা হয়েছে, এক মনুষ্য জীবনের প্রকাশের অসম্ভাবনা হতাশা আনে, জঙ্গী রোমান্টিকতাবাদ হিসেবে ফ্যাসিবাদ আনে-একটা মতাদর্শ যা দৈহিক ও মানসিক পরিবর্তনের ভাণ করে।
রকমফের সত্ত্বেও, এই ধরণের সমস্যাগুলো বাংলাদেশ ও ফ্রান্সে চুড়ান্ততঃ একই যা হচ্ছে পুঁজিবাদী, সাম্রাজ্যবাদী, ঔপনিবেশিক ও আধা ঔপনিবেশিক বিকাশের ফল।
বিশ্বজনগণ শান্তিপুর্ণ ও প্রগতিশীল জীবন চান, যেখানে তারা সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান বিকশিত করতে পারবেন, তাঁরা এক মানবীয় সভ্যতার দাবী করেন।
আর তারা জানেন যে এর জন্য তাদের সংগ্রাম করতে হবে, তাদের প্রয়োজন নিপীড়ণ ও শোষণের বিরুদ্ধে এক গণযুদ্ধের। বিশ্বজনগণ পুঁজিবাদী শোষণ ও এর দূষণ কর্তৃক এই গ্রহের রূপান্তর হতে দেবেন না।
তাঁরা চান সুন্দরবনের সু্ন্দরী ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল বেঁচে থাক, তাঁরা চান প্যারিসের আকাশে তারা দেখতে, ‘আলোঝলোমল শহর’ কৃত্রিম মরীচিকা ও লোভে পুর্ণ বুর্জোয়া জীবনের সেবাকারী সেই প্যারিস শহর নয়।
আসুন বিশ্ব বিপ্লবের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনকে মোকাবেলা করি!

ফ্রান্সের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী)
পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি (মাওবাদী একতা গ্রুপ)

 

সূত্রঃ http://sarbaharapath.com/?p=100