এনআরসি-র বিরুদ্ধে মাওবাদীদের সশস্ত্র প্রতিরোধের ডাক

জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) কার্যকর করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে ‘সশস্ত্র প্রতিরোধ’ গড়ে তোলার ডাক দিল মাওবাদীরা। কিছু দিনের মধ্যেই এনআরসি-র বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনে নামার কথা ঘোষণা করেছে তারা। সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্বাঞ্চলীয় ব্যুরোর তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘এনআরসি-র মাধ্যমে ভারতের জনগণকে আধুনিক যুগের ক্রীতদাসে পরিণত করার চক্রান্তকে পরাস্ত করতে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’। এনআরসি-র বিরুদ্ধে বিজেপি-বিরোধী অন্যান্য দলগুলি যে সব যুক্তি দিচ্ছে, সেগুলি দেওয়ার পাশাপাশি অন্য একটি দিক থেকেও কেন্দ্রের এই নীতিকে নিশানা করছে মাওবাদীরা। তাদের ব্যাখ্যা, কেন্দ্র জানিয়েছে, এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সুতরাং, ওই তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিদের বাংলাদেশে পাঠানোর সুযোগ নেই। তা  সত্ত্বেও এনআরসি কার্যকর করার উদ্দেশ্য— বিশাল সংখ্যক ভারতবাসীকে রাষ্ট্রহীন করে দিয়ে, সংবিধান স্বীকৃত সমস্ত আইনি অধিকার কেড়ে নিয়ে তাঁদের যৎসামান্য বেতন বা মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য করা। আর যাঁরা নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পাবেন, অর্থনীতির চাহিদা ও জোগানের নিয়ম অনুযায়ী, তাঁদেরও বেতন বা মজুরি কমে যাবে। এই প্রেক্ষিতেই এনআরসি ঠেকাতে ‘সশস্ত্র প্রতিরোধ’-এর ডাক দিয়েছে মাওবাদীরা। 

সূত্রঃ https://www.anandabazar.com/state/cpi-maoist-calls-for-armed-resistance-to-nrc-1.1059215


আসামের মানুষ বাঙালিবিরোধী নয়, দাবি উলফার

AssamD

আসামের মানুষ বাঙালি বা বাংলাদেশের বিরোধী নয়—এমন দাবি করেছেন সংযুক্তি মুক্তি বাহিনী আসামের (উলফা) চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়ার। উলফার এই আলোচনাপন্থী নেতা আগরতলায় প্রথম আলোর কাছে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগও করেন।

জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন তালিকা (এনআরসি) আর নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে উত্তাল আসামের রাজনীতি। অভিযোগ, বাঙালিবিদ্বেষ থেকেই আসামের নাগরিকেরা ৪০ লাখেরও বেশি ভারতীয়র নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে চাইছে।

ত্রিপুরার সাবেক কট্টর সশস্ত্র সংগঠন অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্সের (এটিটিএফ) প্রধান সুপ্রিমো রঞ্জিত দেববর্মার ডাকে ত্রিপুরায় এসেছিলেন উলফার আলোচনাপন্থীদের নেতা অরবিন্দ। আগরতলা থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে এসরাই গ্রামে দুই নেতাই ভারত সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগ করেন।

উলফা চেয়ারম্যানের দাবি, ‘আমরা মোটেই বাঙালিবিদ্বেষী নই। আসামের নাগরিকেরা বরং বাঙালিদের বন্ধু বলে মনে করেন।’ একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ‘আমাদের (আসামের নাগরিক ও বাঙালিদের) লড়াই লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ব্রিটিশ আমলেই শুরু হয়েছিল এই দ্বিজাতি তত্ত্ব। এখনো সেটাই অব্যাহত।’

একই সঙ্গে সম্প্রতি আসামের তিনসুকিয়ায় পাঁচ বাঙালি হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অরবিন্দ রাজখোয়ার। তিনি মনে করেন, এর পেছনে গভীর রহস্য রয়েছে। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওঁরা কিসের বাঙালি! গরিব মানুষ। খেতে পান না। নিজেদের মধ্যে কথাও বলেন আসামের ভাষায়। রাজনৈতিক লাভের প্রশ্নেই প্রাণ দিতে হয়েছে তাঁদের। উলফা করেনি। তাহলে করল কে? কে খুন করল তাঁদের?’ তাঁর অভিযোগ, ভারত সরকার ঘটা করে তাঁদের আলোচনার টেবিলে ডেকে আনলেও শান্তি আলোচনা সঠিক পথে এগোচ্ছে না। প্রতারণা করা হচ্ছে। কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁদের এই শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চল ফের অশান্ত হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন অরবিন্দ রাজখোয়ার।

এদিকে অরবিন্দের বক্তব্যকে সমর্থন করে সুপ্রিমো রঞ্জিত দেববর্মা বলেন, ত্রিপুরাতেও একই ছবি। আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে বলেও জানান তিনি।

অস্ত্র ছাড়লেও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাবেক দুই নেতা বলেন, নিজেরা সংঘবদ্ধ হয়ে দাবি আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে আর অস্ত্র হাতে নয়, শান্তিপূর্ণভাবেই লড়াই করবেন নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায়।