কেন্দ্রীয় অধ্যয়ন ক্লাশে রিপোর্ট — ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন (ধারাবাহিক-৩য় ও শেষ পর্ব)

কেন্দ্রীয় অধ্যয়ন ক্লাশে রিপোর্ট

ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন

(১৪ জানুয়ারি ১৯৭৪)

 

ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন

ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন

 

বাংলায় অনুবাদ ৩য় শেষ পর্ব

 

revolutionarycommittee-300x208

আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গী রয়েছে যা লিন পিয়াওয়ের সংশোধনবাদী লাইনকে সারবস্তুতে “অতিবাম” মনে করে। বস্তুত তার লাইন “অতিবাম” নয় বরং “অতি ডান”, আর যত ডান হওয়া যায়। কোন এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেউ একজন অতি সম্প্রতি বলল যে, “অতিবামকে যখন সমালোচনা করা হয়না, ডান ও ভুল গুলিয়ে যায়।” এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে সে নিবেদেন করে যে সতের বছরের [সাংস্কৃতিক বিপ্লবের আগের] দোষগুণ কেউই কখনো মূল্যায়ন করেনি।

তা মূল্যায়ন করা হয়েছে। মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে বহু বৃহদাকার পোস্টার আর কেন্দ্রীয় কমিটির ডাকা কর্মে প্রেরিত যুবদের শিক্ষা সম্মেলনের সারাংশে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। উপসংহার বলে যে সতের বছর যাবত শিক্ষা ফ্রন্ট মূলত সভাপতি মাওয়ের লাইন বাস্তবায়ন করেনি বরং সংশোধনবাদীদের একনায়কত্ব দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। চিয়াঙ চিঙের প্রতি পত্রে সভাপতি মাও বলেন, “পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় আর সিঙ হুয়া বিশ্ববিদ্যালন গভীর শিকরযুক্ত ভ্রান্ত ঘোঁট।“ এখন কেউ একজন বলল যে “সারাংশ” আর সঠিক নয় অথবা তা অতিবামের ফসল। আর এই মন্তব্য সর্বত্র ছড়ানো হয়েছে। কিছু লোকের কাছে অতিবাম ও লিন পিয়াওয়ের সমালোচনা হচ্ছে অবাস্তব আর তাদের সত্যিকার নিশানা হল মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব।

আমাদের উপসংহার হচ্ছে, “যখন অতিডানকে সমালোচনা করা হয়না, ডান ও ভুল গুলিয়ে যায়।” বর্তমান স্তরে, মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফলগুলিকে সংহত করতে লিন পিয়াওয়ের সংশোধনবাদী লাইনের অতি ডান সারকে সমালোচনা করা প্রয়োজন। এটা করা ছাড়া মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের বিরাট ফল সংহত ও বিকশিত করা সম্ভব নয়। গত বছর একটা ইউনিট একটা নিবন্ধ লেখে, বলে যে ঐ ইউনিটের সবাই অতি ডান ছিল, আর তাদের সকলকে খারাপ বর্ণনা করে ইত্যাদি ইত্যাদি। যদি এটাই হয় ঘটনা, চীন বিপ্লবের আশা কোথায়? আমাদের সফল করতে আমরা কাদের উপর নির্ভর করতে পারি? প্রাদেশিক যুবলীগ কংগ্রেসের আহবানের অনুরোধ সংক্রান্ত প্রশ্নে কেন্দ্রীয় কমিটি নির্দেশনা দেয়ঃ অধিকাংশ তরুণই ভাল, অন্যথায় আমাদের বিপ্লবের কোন ভবিষ্যতই থাকবেনা অথবা তা হবে অন্ধকার। গুরুত্বের সাথে লক্ষনীয় যে কিছু এলাকায় প্রতিবিপ্লবী গুজব ছড়ানো হয়েছে যেমন “মন্দির পরিষ্কার কর, প্রকৃত ঈশ্বরকে আমন্ত্রণ জানাও, পুরোনো সেনাধ্যক্ষদের তাদের পদে ফেরত যেত হবে; ক্ষুদে সৈন্যদের তাদের ব্যারাকে ফিরে যেতে হবে।” সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে শেষের দুই লাইন “পুরোনো সেনাধ্যক্ষদের তাদের পদে ফিরে যেতে; ক্ষুদে সৈনিকদের ব্যারাকে ফিরে যেতে হবে।” তারা অর্থ করে যে লিউ শাউচিসহ সকল বেঈমান, শত্রু এজেন্ট ও পুঁজিবাদী পথিকরা তাদের পদে ফেরত যাবে আর মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নবজাত জিনিসগুলি বিলুপ্ত হবে। এটা হচ্ছে পুরাতনের টিপিক্যাল পুনপ্রতিষ্ঠা, একটা পাল্টা আক্রমণ অথবা বিলোপ। এই গুজব সামরিক ইউনিটের দুই উচ্চ পদস্থ ক্যাডার প্রথম ছড়ায়। এই ধরণের জিনিস ছড়ানো খুবই ক্ষতিকর। আরেকটি উদাহারণ হচ্ছে কিয়াংসী প্রদেশের [কেডাররা] সভাপতি মাওয়ের নির্দেশনা প্রশ্নে লিউ শাউচির প্রতিবিপ্লবী গুজব গ্রহণ করে আর ক্যাডার সম্মেলনে কোটি কোটি মানুষের মধ্যে প্রচার করে। যাহোক, এটা আশ্চর্য নয়। আমাদের কোন কোন কেডারের মস্তিষ্ক হচ্ছে গুজবের বাজার। দ্রব্য পাওয়া মাত্রই তারা গুজব বিক্রী করে বাজারে। শ্রেণী দৃষ্টিকোণ থেকে এটা আশ্চর্য নয়।

কিছু লোক আছে যারা খারাপ নয়, কিন্তু ইতিমধ্যে মতাদর্শিকভাবে নিরস্ত্র হয়েছে আর বিষাক্ত আগাছা থেকে সুগন্ধী ফুল আলাদা করার ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করেছে নিজেকে। সভাপতি মাও এই প্রতিবিপ্লবী গুজবকে মারাত্মকভাবে সমালোচনা করেছেন, আর একে পরিবর্তন করে এভাবে পড়তে বলেছেনঃ “মন্দিরকে পরিষ্কার কর, প্রকৃত দেবতাকে আমন্ত্রণ কর; পুরোনো সেনাধ্যক্ষ্যরা লাইনে ফিরে এসো; ক্ষুদে সৈনিকেরা এগিয়ে যাও।” সভাপতি মাওয়ের নির্দশনাসমূহ ক্যাডার প্রশ্নে পর্যাপ্তভাবে বিপ্লবী লাইনকে প্রতিফলিত করে। পুরোনো প্রজন্মের সর্বহারা বিপ্লবীদের দক্ষতাকে ব্যবহার করা গুরুত্বপুর্ণ, আর একইসাথে এক দুই জন নয়, হাজার হাজার সর্বহারা উদ্যোগের উত্তরাধিকার প্রশিক্ষিত করে তোলার বিরাট প্রচেষ্টা দরকার। ভেটারান কেডারদের প্রতিভাকে কাজে না লাগানো ভুল হবে, আর এটাও ভুল হবে বাস্তব শ্রেণীসংগ্রামে কর্মতৎপরতা নির্বিশেষে অভিজ্ঞতা ও বয়সের ভিত্তিতে তাদের পদ নির্ধারণ করা। অতীতে উত্তর ও দক্ষিণে তাদের যুদ্ধ ক্ষমতা গুরুত্বপুর্ণ, কিন্তু তাদের সচেতনতা ও বাস্তব শেণীসংগ্রামে তাদের কর্মতৎপরতাও আমাদের দেখা উচিত। তাদের চিন্তা যদি সংশোধনবাদী হয়, তারা কি সর্বহারা শ্রেণীর জন্য লড়তে পারেন? আমরা বিশ্বাস করি, বিশেষত বর্তমান বিরাট মোড় ফেরায়, কেডারদের মূল্যায়ন কেবল ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে ও বর্তমান ঘটনা ব্যতীত করা উচিৎ নয়, বরং প্রাথমিক গুরুত্ব দিতে হবে লাইন সংগ্রামে তাদের সচেতনতার উপর। এটা স্থানীয়, সামরিক, পুরোনো অথবা নতুন নির্বিশেষে সকল কেডারদের প্রতি প্রযোজ্য হবে।

পুরোনো প্রবীণ (ভেটারান) আর তরুণ কেডারদের কৃত ভুল প্রশ্নে, “দেখা ও সাহায্য করা” গ্রহন করতে হবে আর কেডারদের তাদের ভুল সংশোধনে অনুমোদন দিতে হবে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে, পুরোনো প্রবীণ (ভেটারান) কেডারদের তাদের কৃত ভুল সংশোধনে সুযোগ দেয়া হয়েছে “লক্ষ্য রাখা ও সাহায্য করা”র মাধ্যমে, যেখানে তরুণ কেডাররা একবার ভুল করলেই শোচনীয় নিন্দা জানানো হচ্ছে। কেন ভুল করছে যে ভেটারান কেডাররা তারা শিক্ষিত হতে পারবে আর তরুণ কেডাররা পারবেনা? এটা ভাল নয়। এটা পার্টি ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর। সভাপতি মাও অনেক লোককে সমালোচনা করেছেন শিশুদের বাহিনীতে খাটো করে দেখানোর কারণে আর এই মন্তব্য করার কারণে যে “কীভাবে তোমরা কিশোর কিশোরীরা আর কুড়ি বছর বয়সীরা এত স্মার্ট হতে পারবে?” তরুন কেডারদের অবশ্যই বিনয়ী ও বিচক্ষণ হতে হবে, আত্ম অহংকার ও উদ্ধত স্বভাবের বিরুদ্ধে পাহাড়া দিতে হবে, ভেটারান কেডারদেরকে সম্মান করতে হবে ও তাদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। অপরদিকে ভেটারান কেডারদেরকে তরুন কেডারদের শিক্ষা, সাহায্য ও নেতৃত্ব দিতে হবে। তাদেরকে শিক্ষাদান, সাহায্য করা আর নেতৃত্বও প্রদান করার কথা মনে রাখতে হবে তরুন কেডারদের বোঝাপড়া করার সময়।

সর্বহারা বিপ্লবের উদ্যোগের কোটি কোটি উত্তরাধিকার জন্ম দেয়া হচ্ছে এক মহান রণনৈতিক মানদন্ড আর এক শতকের দীর্ঘ সময়সীমার পরিকল্পনা। আমাদেরকে এই মহান কাজকে আঁকড়ে ধরতে হবে আর বিবিধ স্তরে উত্তরাধিকার প্রশিক্ষিত করতে হবে। উত্তরাধিকার প্রশিক্ষণ স্থানীয় এলাকাসমূহে কিছু বাঁধাবিপত্তি মোকাবেলা করেছে কিন্তু সামরিক ক্ষেত্রে বেশি। আমি সবসময় এই পরামর্শ দেই যে বৃহৎ সামরিক এলাকাসমূহের জন্য ত্রিশের কোঠার বয়সী কিছু লোককে কমান্ডার বানানোর জন্য খুঁজে বের করা দরকার।

মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব—এটা কি ভাল না মন্দ? বিপ্লবের সমগ্র প্রক্রিয়া জুড়ে প্রশ্নটি বিতর্কিত হয়ে আসছে। পেঙ চেঙের ফেব্রুয়ারি রূপরেখা আর লিউ শাউচির বুর্জোয়া প্রতিক্রিয়াশীল লাইন সবই মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ধ্বংসের নকশা। সারবস্তুতে লিন পিয়াও লিউ শাউচির মত একই রকমের এক ঝাঁক সংশোধনবাদী লাইন তুলে ধরে। একটা বৈধ দৃষ্টিকোণের দ্বারা মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ওপর পালটা আক্রমণ ও তাকে বিলোপ করার এক প্রচেষ্টায় নবম কংগ্রেসের পূর্বে চেন পোতার সাথে মিলে এক রাজনৈতিক রিপোর্ট তৈরি করে, উৎপাদন প্রথম একথা তুলে ধরে লিন পিয়াও একথা বলে যে নবম কংগ্রেসের পর প্রথম কাজ হবে উৎপাদন বাড়ানো। সভাপতি মাও এই রাজনৈতিক রিপোর্টকে নেতিকরণ করেন আর ব্যক্তিগতভাবে সূত্রায়িত করেন নবম কংগ্রেসের লাইন যা সর্বহারা একনায়কত্বধীনে অব্যাহত বিপ্লবের আকারে টিকে থাকে। নবম কংগ্রেসের পর সভপতি মাওয়ের বিপ্লবী লাইনের পরিচালনাধীনে লিন পিয়াও পার্টিবিরোধী চক্রকে ধ্বংসের এক বিরাট বিজয় অর্জিত হয় আর সংগ্রাম-সমালোচনা-রূপান্তর অভিযানকে ক্রমান্বয়ে অধিকতর গভীরভাবে বিকশিত করা হয়। যাহোক, মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব খুব ভাল না মন্দ তা এখনো বিতর্কিত। কেন্দ্রীয় দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের পর এখানে সেখানে বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্তভাবে উদ্ভুত হয় এক ডানপন্থী জোয়ার। এই জোয়ারের সাথে জড়িত ছিল উদাহারণস্বরূপ সিং কিয়াঙের লুঙ শুন-চিন, সেচুয়ানের লিয়াঙ [লিয়াঙ সিংচু] ও চেন [চেন জেন-চি] আর হুনানের কেডাররা। মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উপর পাল্টা আক্রমণ ও একে বিলোপের জন্য তারা লিন পিয়াওকে সমালোচনার সংগ্রামের সাধারণ ধারাকে বদলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তারা যা করছিল তা হচ্ছে দুই শ্রেণীর মধ্যে ও দুই লাইনের মধ্যে সংগ্রাম, সংগ্রামের এক ধারাবাহিকতা। ভবিষ্যতে এই সংগ্রাম পুনরায় আবির্ভূত হবে। সভাপতি মাও সম্প্রতি বলেন, “মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রশ্নে, আমাদের আরেক দশ বছরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ও দেখতে হবে।” এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমাদেরকে দীর্ঘ মেয়াদী সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। কমরেডগণ, আপনারা নিশ্চয় লিন পিয়াও ও কনফুসিয়াসের ওপর সাম্প্রতিক সমালোচনামূলক প্রবন্ধসমূহ পড়েছেন। আর অবশ্যই জেনেছেন যে চিন শিহ উয়াঙ ২০০০ বছরের জন্য অভিশাপপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এক শোষণমূলক ব্যবস্থাকে আরেক শোষণমূলক ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিস্থাপন করার কারণে। আমাদের মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব কি অভিশাপ প্রাপ্ত হবে? নিশ্চিতভাবে কিছু লোক একে শাপ দেবে। আর এমনকি দশ বছর অথবা কয়েক দশক পরেও, কিছু লোক থাকবে যারা একে অভিশাপ দেবে আর লিউ শাউচি ও লিন পিয়াওয়ের ওপর সঠিক রায়কে উল্টিয়ে দিতে চেষ্টা করবে। কনফুসিয়াস মারা গেছে কয়েক হাজার বছর আগে, তথাপি কিছু লোক এখনো তাকে পুঁজা করে। কিন্তু চিন শিহ হুয়াঙ, যিনি একজন বিপ্লবী ছিলেন সেসময়, তিনি ২০০০ বছরের শাপ পেয়েছিলেন।

মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে বিরোধিতা করা মানে নবম ও দশম কংগ্রেসকে বিরোধিতা করা, কিন্তু এটা কোন সহজ সরল প্রশ্ন নয়। তা হচ্ছে পুঁজিবাদ পুনপ্রতিষ্ঠা করা ও সংশোধনবাদ অনুশীলন। আমার উপলব্ধি হচ্ছেঃ যারা মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব বিরোধিতা করে তাদেরকে অবশ্যই একটা পুঁজিবাদী একনায়কত্বের কথা বলতে হবে। কমরেডগণ, আমাদের মনে করা উচিত নয় যে, পুঁজিবাদের পথিক আর নেই, অথবা এমনকি পুঁজিবাদের পথিকদের ব্যাপারটা উল্লেখের প্রয়োজন নেই। কিছু এলাকা রাষ্ট্র ও পার্টির সংবিধান সংশোধন আলোচনায় “পুঁজিবাদের পথিক” শব্দ অন্তর্ভুক্ত করতে চায়নি। কী অদ্ভূত কথা! যতদিন শ্রেণীসংগ্রাম থাকবে বুর্জোয়ারা আমাদের পার্টিতে ছায়া বপন করবে আর পুঁজিবাদের পথিক আবির্ভূত হবে। যদি কোন পুঁজিবাদের পথিক না থাকতো অতীতের সকল অভিযানকেই নেতিকরণ করতে হতো। তিন বিরোধী ও পাঁচ বিরোধী অভিযান, ১৯৫৭র ডান বিরোধী অভিযান আর চার পরিষ্কারকরণ অভিযান সকলই নেতিকরণ করতে হতো। পার্টি সংবিধানে তাদের নিয়ে লেখার এটাই কারণ। এগুলো ছিল বিরাট ঘটনা, ছোট নয়। কিছু ব্যক্তি পুঁজিবাদের পথ গ্রহণ করার ভুল করেন, কিন্তু তাদেরকে আমাদের সহায়তা দ্বারা সংশোধন করা হচ্ছে। সংশোধন ভাল। যাহোক, আমরা বলতে পারিনা যে সংশোধনের পর পুঁজিবাদের পথিকরা আর অস্তিত্বশীল নয়। পুঁজিবাদের পথিকরা শুধু যে অতীতে অস্তিত্বশীল ছিল তাই নয়, ভবিষ্যতেও থাকবে। অল্প কিছু লোক এখনো জনগণের উপর বুর্জোয়া একনায়কত্ব অনুশীলন করছে অথবা এমনকি বলছে যে বিদ্রোহীদের মধ্যে কোন ভাল মানুষ নেই। তাদের মন্তব্য কোন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যের পরিচায়ক নয়। “মার্কসবাদে হাজারো সত্য রয়েছে, সেগুলোকে একটি বাক্যে সংক্ষেপিত করা যায়ঃ বিদ্রোহ করা ন্যায়সঙ্গত।” আমাদের পুরোনো পিতা মার্কস আমাদের বিদ্রোহে চালিত করেছেন। বিদ্রোহে জেগে ওঠার কারণে কিছু লোক আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত। বিদ্রোহ খারাপ কী? সভাপতি মাওয়ের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের মাধ্যমেই চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যগণ বিপ্লবে বিজয় অর্জন করেন আর রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলে সফল হন। মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে আমরা বুর্জোয়া ও সকল শোষক শ্রেণীসমূহের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করি আর সর্বহারা একনায়কত্বকে সংহত করি। এতে ভুল কোথায়? কিছু লোক অতীতে বিদ্রোহী ছিল, কিন্তু এখন বিদ্রোহীদের অভিশাপ দেয়। তারা প্রমাণ করে যে তাদের চিন্তা পরিবর্তিত হয়েছে আর তারা অতীত ভুলে গেছে। অতীতে যখন আমরা স্থানীয় ভদ্রলোকেদের অপসারণ করে ভুস্বামীদের জমি ভাগ করেছিলাম তা কি একটা বিদ্রোহ ছিলনা? আর চিয়াঙ কাইশেকের বিরুদ্ধে আমরা যখন লড়েছিলাম তা কি একটা বিদ্রোহ ছিলনা? কিছু লোক এগুলো ভুলে গেছে। অবশ্যই মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে মাছও ঢুকে থাকবে ড্রাগনও ঢুকে থাকবে; কাঁদা ও বালি দুইই ঢুকে থাকবে। এটা আশ্চর্য নয় যে বিদ্রোহীদের মধ্যে কিছু খারাপ লোক অনুপ্রবেশ করে থাকবে। যখন আমরা প্রথম লাল ফৌজ গঠন করি, তখন আমাদের বাহিনী কি খুব খাঁটি ছিল? অসম্ভব। এটা একটা এড়ানোর অযোগ্য ব্যাপার। আমরা কিভাবে বলতে পারি যে বিদ্রোহীদের মধ্যে কোন ভাল মানুষ নেই? যে এই কথা বলে যে বিদ্রোহীদের মধ্যে কোন ভাল মানুষ নেই সে বস্তুত নিজেকে নেতিকরণ করছে। তিনি ভুলে গেছেন কে আমাদের বিদ্রোহে চালিতে করেছে আর ভুলে গেছেন বিদ্রোহীদের পুরোনো পিতাকে।

একজন কমিউনিস্ট যদি পুঁজিবাদী পথিকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করে তাহলে সে কী করবে? একজন কমিউনিস্টের ঐ ধরণের বিবৃতি দেয়া মানে কমিউনিজমের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা। আমদের কমিউনিস্টদের অবশ্যই বুর্জোয়াদের ও শোষক শ্রেণীসমূহের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে হবে। যেসব লোকেরা প্রশ্নের সম্মুখীন তারা আমাদের আভ্যন্তরীণ সমস্যা বোঝাপড়া ও সেসব সমস্যা বিশ্লেষণ থেকে আবিষ্কৃত। সভাপতি মাওয়ের নির্দেশনাসমূহ ও দশ মহান ভাবমানস অধ্যয়ন করে তারা নিজেদের সংস্কার করতে পারেন। ইতিমধ্যে তাদের নিজেদের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তনের কথাও ভাবতে হবে, আর তাদের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গীকে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ও সভাপতি মাওয়ের চিন্তাধারার সাহায্যে রূপান্তর ঘটাতে হবে। অল্প কিছু লোক রূপান্তরিত না হতে পারে। দ্বন্দ্ব দুইভাবে পরিবর্তিত হতে পারেঃ কেউ ভালর জন্য পরিবর্তিত হবে আর কেউ খারাপের জন্য। কিছু পার্টি সদস্য সমস্যা থেকে শিক্ষা নিতে পারেন আর ভালর জন্য পরিবর্তিত হবেন অথবা পূর্ণাঙ্গভাবে পরিবর্তিত হবেন। এভাবে, শত্রু ও আমাদের মধ্যকার কিছু দ্বন্দ্ব জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্বে পরিবর্তিত হতে পারে; আর জনগণের মধ্যকার কিছু দ্বন্দ্ব শত্রু ও আমাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বে পরিবর্তিত হতে পারে।

কিছু কমরেডের মনে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব মুক্তির পর থেকে চলমান শ্রেণীসংগ্রামের ফল হিসেবে প্রতিভাত হয়না। বরং একে সকালের পরিষ্কার আকাশে এক বজ্র নির্ঘোষ হিসেবে দেখা হয়। কিছু লোক এমনকি একে এক বিরাট ভুল বোঝাবুঝি, খুবই প্রতিক্রিয়াশীল প্রকৃতির হিসেবে বর্ণনা করেন। তাদের একটা কথা আছেঃ “ভেটারান কেডাররা তাদের পদে ফেরত যাক, তরুন কেডাররা তাদের দপ্তরে ফেরত যাক, আর যারা বামেদের সমর্থন করে তারা ইউনিটে ফেরত যাক। মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব হচ্ছে একটা বিরাট ভুল বোঝাবুঝি।” এই বিচ্যুতি হচ্ছে এক মতাদর্শিক সমস্যা, চরিত্রগতভাবে ভাববাদকে প্রতিফলিত করে। যেহেতু মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে তারা অস্তিত্বশীল প্রতিটি জিনিসের প্রতি অসন্তুষ্ট, উদ্বেগের সাথে অপেক্ষা করছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার জন্য। বিকাশকে একটা সর্পিল প্রকৃতির হিসেবে দেখার বদলে একে একটা বৃত্তের মধ্যে ঘুরপাক হিসেবে দেখে। কারখানায় তারা অনুশীলন করে নিয়ন্ত্রণ-বিধিনিষেধ-চাপ; বিদ্যালয়ে তারা বুদ্ধিবৃত্তিক শিক্ষাকে সামনে রাখে আর সবকিছুকে এক পুরোনো কাঠামোতে ঢুকিয়ে রাখে। কী এই মতাদর্শ? এটা হচ্ছে টিপিক্যাল বিবর্তনের স্থূল তত্ত্ব। মার্কসবাদী বস্তুবাদী দ্বন্দ্বতত্ত্ব অনুসারে, সব জিনিসই সামনের দিকে এগুচ্ছে আর অব্যাহতভাবে বিকশিত হচ্ছে। এসব লোকেরা পুরোনোর সাথে বাঁধা, মুখে দ্বন্দ্ববাদের সত্যতাকে স্বীকার করে কিন্তু কাজে বিরোধিতা করে। ব্যবসা প্রশাসনের ক্ষেত্রেও তারা পুরোনো নিয়ম কানুনের পুনপ্রতিষ্ঠা চায় যা জনগণ কর্তৃক বাতিল হয়েছে। তারা ঘন্টা হিসেবে মজুরি দিতে আর সময় হিসেবে পুরষ্কার দিতে আগ্রহী, একথা বলে যে এটা করার মাধ্যমে কাজকর্ম এগিয়ে যাবে। যাহোক, অতীত দশকগুলোতে বিপ্লবের জন্য যার ওপর আমরা নির্ভর করেছি তাকে তারা প্রতিফলন করেনা। আমরা কি আর্থিক পুরষ্কারের ওপর নির্ভর করেছি, ঘন্টা অথবা সময় ভিত্তিক মজুরির ওপর? না, আমরা সভাপতি মাওয়ের বিপ্লবী লাইনের ওপর নির্ভর করেছি, কোটি কোটি বিপ্লবী জনগণ, যব আর রাইফেলের উপর। বৈষয়িক প্রণোদনার কথা বলতে গেলে, সোভিয়েত সংশোধনবাদীরা সেগুলোকে জোরালোভাবে প্রয়োগ করেছে, কিন্তু তারা তাদের শিল্পকে স্থবিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে আর দেশে বিদেশে প্রতিকুলতা নিয়ে এসেছে। যদি সেগুলো কার্যকর হয়ে থাকে, লেনিনগ্রাদের শ্রমিকরা কেন বিদ্রোহ করতে চায়? মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব কি বৈষয়িক প্রনোদনার ওপর নির্ভর করেছে নাকি জনগণের সচেতনতার উপর? এটা কি সভাপতি মাওয়ের বিপ্লবী লাইনের উপর নির্ভর করেনি জনগণকে সমাবেশিতকরণে? নিশ্চিতভাবে, আমরা জনগণের জীবনকে নেতিকরণ করার অর্থ করিনা। কিন্তু জনগণের জীবনের যত্ন নেয়া এক জিনিস আর বৈষয়িক প্রণোদনার উপর জোর দেয়া অন্য জিনিস। শ্রমের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, আমাদেরকে প্রযুক্তিবিদ্যার নবরূপায়ন ও যান্ত্রিকীকরণের জন্য কিছু করতে হবে। জনগণের জীবনযাত্রাকে যথাযথভাবে উচ্চে উঠানো দরকার, কিন্তু আমরা যদি যাকে বলে ঘন্টা অনুযায়ী মজুরী আর আর্থিক পুরষ্কারকে অনুশীলন করি তা হবে শ্রমিকশ্রেণীর প্রতি এক বিরাট অপমান, জনগণের জীবনের জন্য কোন লাভ নয়। আমাদের রেলপথ বাহিনী অনেক রেলপথ নির্মাণ করেছে। আমরা কি ঘন্টা হিসেবে মজুরীর ওপর নির্ভর করেছি? সৈন্যবাহিনীর তালিকাভুক্ত লোকেরা প্রতিমাসে আট ইউয়ান পেত কোন বাড়তি আর্থিক পুরষ্কার ছাড়া। আমরা সমগ্রভাবে সভাপতি মাওয়ের চিন্তাধারার উপর নির্ভর করেছি। এই সমস্যাগুলি সবাইকে জড়িত করেনা। কেন্দ্রীয় কমিটির দুটি বিভাগ আছে যারা এই লাইনকে এগিয়ে নিয়েছে। তারা সাংহাইয়ে একটা পরীক্ষা চালিয়েছে কিন্তু শ্রমিকদের দ্বারা দূরীভূত হয়েছে। সমস্যাটি সরাসরি মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সাথে সম্পর্কিত। আজকে আমরা এখানে আলোচনা করছি এই আশায় যে অধ্যয়ন ক্লাশে আমাদের কমরেডরা তাদের ইউনিটে ফিরে গেলে এই সমস্যাকে দেখতে পাবেন আর সাহসের সাথে সংগ্রামে নিয়োযিত হবেন, অথবা অন্তত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতি পরিস্থিতি রিপোর্ট করবেন। কিছু এলাকা প্রশ্ন করে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের আগে গৃহীত নিয়মকানুন তারা অব্যাহত রাখবে কিনা। এক পরিকল্পনা কর্ম সম্মেলনে একজন শ্রমিক পরিষ্কার জবাব দিলেনঃ “না”। তিনি তিন শর্ত উল্লেখ করেনঃ প্রথম, আমরা নিয়ন্ত্রণ-বিধিনিষেধ-চাপ চাইনা; দ্বিতীয়ত আমরা মাসিক মজুরীর পূর্ণ প্রদান বিরোধিতা করি; তৃতীয়ত অতীতে যেগুলো সঠিক ছিল তা এখন হুবুহু প্রয়োগ করা যায়না কারণ আমাদের উৎপাদন এখন বৃদ্ধি পেয়েছে যেমন একজন বালক বড় হয়ে আর পুরোনো কাপড় পরতে পারেনা। শ্রমিকটির কথাবার্তা ছিল দ্বন্দ্ববাদী। তিনি সঠিকঃ সবকিছু বিকশিত হয়েছে, আর নেতাদের চিন্তাচেতনা নতুন পরিস্থিতির সাথে সাথে এগুনো দরকার। আমরা দৃঢ়ভাবে অতীতমুখী আন্দোলনকে বিরোধিতা করি। সভাপতি মাও আমাদের শিক্ষা দেনঃ “আমাদেরকে আবিষ্কার, উদ্ভাবন, সৃজনশীলতায় ও এগিয়ে যেতে সচেষ্ট হতে হবে। স্থবিরতা, হতাশাবাদ, ঔদ্ধত্য, আত্মপ্রসাদের চিন্তা–এসবকিছুই ভুল।“ লিনপিয়াওকে সমালোচনা আর কাজের রীতির শুদ্ধিকরণ অভিযানকে গভীরতর করতে হবে, লিন পিয়াও ও কনফুসিয়াসের সমালোচনার আন্দোলনকে গুরুত্বপুর্ণ করতে হবে এবং কনফুসিয়াসের ওপর সমালোচনাকে একীভূত করতে হবে।

লিন পিয়াওয়ের বিষাক্ত প্রভাবকে সমালোচনা করতে আমাদেরকে অবশ্যই কনফুসীয় দোকানকে উচ্ছেদ করতে হবে। কনফুসিয়াস ছিল চীনা ইতিহাসের প্রথম চিন্তাবিদ যে সুব্যবস্থিতভাবে ও সমগ্রভাবে ভাববাদের কথা বলেন। পুরোনো সাথে জড়িত সবকিছুই তার মহিমা কীর্তন করে। লিন পিয়াও হচ্ছে আধুনিক যুগের কনফুসিয়াস। তাই লিন পিয়াওয়ের উপর সমালোচনা আর কনফুসিয়াসের ওপর সমালোচনাকে একীভূত করতে হবে আমাদের মন থেকে কনফুসিয়াসের দোকানকে উচ্ছেদ করতে। দাস ব্যবস্থা থেকে সামন্ত ব্যবস্থার উত্তরণের সময় কনফুসিয়াস বাস করত। সে সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তনকে ঘৃণা করেছে, একগুঁয়েভাবে দাস ব্যবস্থাকে রক্ষা করেছে আর ইতিহাসের চাঁকাকে থামানোর প্রচেষ্টায় সামন্ত ব্যবস্থাকে বিরোধিতা করেছে। সে লু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সাত দিন পরেই একজন বিপ্লবী শাও চেঙ-মাওকে হত্যা করে। যখন সে দেখতে পেল জান ইউ নামের তার এক ছাত্র বিকাশের চিন্তাধারা গ্রহণ করছে, সে তার কিছু ছাত্রকে প্ররোচিত করে তার উপর আক্রমণ করতে। তাই, সভাপতি মাও বলেছেন, “কনফুসিয়াসের কাজের রীতির সাথে উৎপীড়ক আর ফ্যাসিবাদের কাজের রীতির খুব মিল।” তার বিকৃত কর্মকান্ডের কারণে, তার পদ থেকে তিন মাস পর সে নেমে যায়। যদিও সে দপ্তরে ছিলনা, কিন্তু পুনপ্রতিষ্ঠার জন্য তার হৃদয় কখনো মরেনি। সে তার ভাবধারা সর্বত্র প্রচার করতে লাগলো আর যখনই সে দেখেছে পরিস্থিতি ভালর দিকে যাচ্ছে তখনই সে পরিস্থিতির ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে চিৎকার করে উঠেঃ মালিকানা ধ্বংস হয়ে গেল! সংগীত ধ্বংস হয়ে গেল!” গতকাল পিপলস ডেইলি চে চুনের একটা নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। নিবন্ধটি খুব সুন্দরভাবে রচিত। আশা করি আপনারা সবাই এটা যত্নসহ পড়বেন।

কিছু লোকের মার্কসবাদ-লেনিনবাদের প্রতি কোন দরদ নেই কিন্তু চরম দরদে তারা সংশোধনবাদের পেছনে ছোঁটে। তারা মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নবজাত জিনিস দেখতে অভ্যস্ত নয়, বরং পুরোনো জিনিসের প্রতি লালায়িত।

সভাপতি মাও বলেছেন, “পুঁজিবাদ আর পুঁজিবাদী ব্যবস্থা অস্তগামী সূর্য, সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে, আর যে কোন মুহুর্তে প্রাণ ত্যাগ করতে পারে।” অন্যদিকে কমিউনিজম ও কমিউনিস্ট সমাজ ব্যবস্থা সারা দুনিয়ায় বিস্তৃত হচ্ছে প্রবল ঢেউ ও বজ্রের মতো আর সজীবতার চমৎকার তারুণ্যে রয়েছে।“ কেন সাম্যবাদের লক্ষ্যযুক্ত একজন সাম্যবাদী পুরোনো জিনিসের প্রতি লালায়িত হয়? এটা একটা প্রশ্ন যা আজকে উপস্থিত সকল কমরেডকে যত্ন সহকারে অধ্যয়ন করতে হবে।

আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের কমরেডদের আহবান করা মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের শুরু থেকে সভাপতি মাও যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলি দিয়েছেন তা অধ্যয়ন করা, আর মার্কসবাদ অনুশীলন কর, সংশোধনবাদ নয়—এর তিন নীতিকে মনে রাখবেন। কেবল সম্প্রতি সভাপতি মাও আমাদের সতর্ক করেন, “কমরেডগণ, সতর্ক হোন! শীঘ্রই চীনে সংশোধনবাদ আবির্ভুত হবে।” তিনি আরো তুলে ধরেন যে কিছু লোক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর জ্ঞান ছাড়াই রাজনীতিকে সমালোচনা করে, আর সামরিক কমিশন না সামরিক না রাজনীতি বুঝে। এই নির্দেশনা প্রযোজ্য সকল এলাকার সরকারী শ্রমিক, সৈনিক ও ছাত্রদের ওপর। তারা আমদের বলে প্রধান প্রধান ঘটনাগুলি অধ্যয়নের জন্য আঁকড়ে ধরতে। সংশোধনবাদ যদি ভবিষ্যতে দেখা যায় তা উপরিকাঠামোতে দৃশ্যমান হবে।

সভাপিত মাও সম্প্রতি এই নির্দেশনাও দিয়েছেন যে আমাদেরকে তিনটি বৃহৎ শৃংখলা ও মনোযোগ দেবার আটটি ধারার গান গাইতে হবে। প্রধানভাবে তিনি চান যে আমরা মনে রাখি যে কেবল ঐক্যই আমাদের বিজয়ে চালিত করতে পারে। সভাপতি মাওয়ের নির্দেশনার ওপর আমাদের একটা সঠিক উপলব্ধি ও ব্যাখ্যা থাকতে হবে যাতে “দশম কংগ্রেস”-এর ভাবমানস এগিয়ে নেয়া যায় আমরা আরো বৃহত্তর সংগ্রামের জন্য আরো ভালভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে পারি।

(শেষ)

সূত্রঃ http://sarbaharapath.com/?p=1541

Advertisements

কেন্দ্রীয় অধ্যয়ন ক্লাশে রিপোর্ট — ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন (ধারাবাহিক-২য় পর্ব)

কেন্দ্রীয় অধ্যয়ন ক্লাশে রিপোর্ট

ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন

(১৪ জানুয়ারি ১৯৭৪)

 

ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন

ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন

বাংলায় অনুবাদ ২য় পর্ব

২। সর্বহারা শ্রেণীর মহান বিজয়

 

ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন

ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন

সভাপতি মাওয়ের এক ঝাঁক নির্দেশনার থেকে যে কেউ দেখতে পাবে যে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব প্রজ্বলিত ও পরিচালিত করতে সভাপতি মাও বিরাট উদ্যোগ নিলেন। এখন বিপ্লব এক বিরাট বিজয় অর্জন করল লিউ শাউচির নেতৃত্বাধীন বুর্জোয়া সদর দপ্তরগুলি প্রথমে ধ্বংস করে। এটা ছিল বৃহত্তম বিজয়। পাশাপাশি, ব্যাপক কেডার ও জনগণকে বিপ্লব প্রশিক্ষিত করে তুলল, উপরিকাঠামোতে বিপ্লব, আর শিল্প কারখানা ও কৃষি উৎপাদনের বিকাশকে এগিয়ে নিল আর উৎপাদনশীলতাকে বিরাটভাবে মুক্ত করল। অনেক কমরেডই দেখেছেন (এই অর্জনগুলি), কিন্তু অনেকেই দেখেননি। খুব শীঘ্রই, দেশে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাও সেতুঙ চিন্তাধারাকে জনপ্রিয়করণের এক গণ আন্দোলন আবির্ভূত হবে। এখন এই আন্দোলন ক্রমান্বয়ে বিকশিত হচ্ছে। বিগত আট বছরের অনুশীলন পর্যাপ্তভাবে সভাপতি মাওয়ের এই নির্দেশনাকে প্রমাণ করেঃ “মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব সম্পূর্ণভাবে প্রয়োজনীয় ও সময়োচিত, সর্বহারা একনায়কত্বকে সংহত করতে ও সমাজতন্ত্রকে বিনির্মাণে।” বিপ্লবে এটা না থাকলে আমাদের দেশের কী হত? সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কমিটি লিন পিয়াও আর কনফুসিয়াস ও মেনশিয়াসের মতবাদের সমালোচনা করতে সমগ্র পার্টি সামগ্রী বন্টন করার প্রস্তুতি নিয়েছে। লিন পিয়াও, তার স্ত্রী ইয়েহ চুন আর চেন পো-তা সমাজতন্ত্রের বিরাট বিরোধী ছিল। যখন আমার দপ্তরে আমার সহকর্মীদের সাথে উপরোক্ত বস্তু সামগ্রীর ব্যাপারে আলাপ করি, আমরা সবাই ক্রুদ্ধ হয়েছিলাম। দেশে বিদেশে শ্রেণীশত্রু এই বিপ্লবের বদনাম করবে তা আশ্চর্য কিছু নয়। চিয়াং কাইশেক মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে পুনপ্রমাণ করেছে; সোভিয়েত সংশোধনবাদী রেডিও ও সংবাদপত্র একে সাত আট বছর যাবত অভিশাপ দিচ্ছে। লিন পিয়াওও তার “প্রজেক্ট ৫৭১-এর রূপরেখা”-এর রাজনৈতিক ক্যুর প্রতিবিপ্লবী কর্মসূচিতে সোভিয়েতের ভাষায় আমাদের অভিশাপ দিয়েছে। সভাপতি মাও আমাদের বলেছেন, “শত্রু যাকে বিরোধিতা করে তা খারাপ নয়, ভাল।” এটা প্রমাণ করে যে আমাদের মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব সঠিক। যখন লিন পিয়াও ও কনফুসিয়াসের ওপর আমাদের সমালোচনা গভীরভাবে বিকশিত হয়েছে, তখন চিয়াং কাইশেক, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ ভিয়েতনাম ও সোভিয়েত সংশোধনবাদসহ সকলেই কনফুসিয়াসের ওপর আমাদের আলোচনাকে আক্রমণ করে। শ্রেণীদৃষ্টিকোন থেকে এটা আশ্চর্য নয়। সমস্যা হচ্ছে পার্টি সদস্য অসদস্য নির্বিশেষে আমাদের সারির কিছু কমরেড এখনও পুরোপুরি বোঝেননা আর সাত আট বছর আগে যেমন করেছিলেন তেমনভাবে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে গুরুত্বসহকারে ও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করেননা। কেউ কেউ এমনকি সঠিক ও ভুলকে গুলিয়ে ফেলেন, সবকিছু উল্টিয়ে ফেলেন অথবা মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে অন্ধকার রাত হিসেবে অথবা সর্বগ্রাসী বন্যা ও বর্বর পশু হিসেবে বর্ণনা করেন। এখনও অন্য কেউ কেউ বলে যে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কথা শুনে তাদের মাথার চুল খাঁড়া হয়ে যায়। পার্টি সংবিধান ও দশম পার্টি কংগ্রেসের সিদ্ধান্তবলী উভয়ই বলে যে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব আরো কয়েকবার পরিচালনা করা হবে। কিন্তু কেউ কেউ বলে যে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ছিল ও আছে আর তাই তাকে চালানো উচিত ছিলনা বা আর চালানো উচিত নয়। নির্দিষ্টভাবে, সিনিয়র ও মাঝারি স্তরের কেডাররা একেকভাবে বিপ্লবের কথা বলেন। তাদের কেউ কেউ বলে “মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব সারা দেশে বিরাট বিজয় অর্জন করেছে কিন্তু এখানে আমরা তা দেখিনা।” তারা যে অর্থ করেন তা হল এই যে বিজয়কে যেখানে সেখানে দেখা যায়না, তাই যুক্ত করা যায় যে সারা দেশে এটা দেখা যেতে পারেনা। তাহলে কেন এটা প্রয়োজনীয়? যেমনটা আমি আগেই উল্লেখ করেছি, মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব দুটি বুর্জোয়া সদর দপ্তরকে পরাজিত করেছে, যা ছিল বিরাটতম বিজয়। কেন তারা তা দেখতে পায়না? যদি তারা বলে যে তারা এটা দেখতে পায়নি তাহলে তারা অবশ্যই নিজেদের পার্টির ও সমগ্র জনগণের বাইরে স্থাপন করেছে। যদি লিউ শাউচি ও লিন পিয়াও ক্ষমতায় আসত, পুঁজিবাদ ফিরে আসতো, চীনা সমাজ আধা সামন্তবাদী ও আধা উপনিবেশিক সমাজে ফিরে যেত অথবা সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের উপনিবেশে পরিণত হতো আর হাজার হাজার জনগণের শিরচ্ছেদ করা হতো। তখনো কি আপনারা বলতেন যে আপনারা তা দেখতে পাননা? আমরা যখন বলি যে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব সমগ্র দেশের জন্য প্রয়োজনীয় ও সময়োচিত, আমরা অর্থ করি যে এটা একটা স্কুল, কারখানা অথবা একটা ইউনিটের জন্যও প্রয়োজনীয় ও সময়োচিত। সভাপতি মাও বলেন, “লাইন মতাদর্শিক ও রাজনৈতিকভাবে সঠিক কিনা তা সবকিছু নির্ধারণ করে।” লিউ শাউচি ও লিন পিয়াওয়ের লাইনের প্রভাব পড়েছে প্রতিটি ইউনিটে বিভিন্ন মাত্রায়। অধিকাংশ এলাকায় সভাপতি মাওয়ের লাইন প্রাধান্যকারী, যেখানে কিছু এলাকায় সংশোধনবাদী লাইন বরং প্রভাবশালী। উদাহারণস্বরূপ, দুই গুরুত্বপুর্ণ বিভাগ—পুরোনো কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক বিভাগ আমাদের হাতে ছিলনা। এমনকি শিল্পফ্রন্টেও সংশোধনবাদী লাইনের গভীর প্রভাব ছিল। আর সাংস্কৃতিক ফ্রন্টের কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যা বুর্জোয়া একনায়কত্বের অধীন ছিল বহু বছর ধরে। মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরুর পর হতে পরিস্থিতির বিরাটাকারে উন্নতি হয়েছে। দক্ষদের প্রশাসন, নিয়ন্ত্রণ-বিধি নিষেধ-চাপ ও বিদেশী জিনিসের প্রতি দাসত্বের দর্শন দূর না করে কীভাবে শ্রমিক শ্রেণী কারখানার প্রভু হতে পারে? ঠিক সংশোধনবাদী লাইনের হস্তক্ষেপের কারণেই আমাদের ইস্পাত শিল্প স্থবির হয়ে রয়েছে দশ বছর ধরে। কিছু সংস্থা ছিল নামে আমাদের হাতে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা ছিল বুর্জোয়াদের ছায়ার হাতে আর কিছুতো পুঁজিপতিদের হাতেই ছিল (সাংহাইয়ের কিছু কারখানায় প্রকৃতপক্ষে উৎপাদন ব্যবস্থাপক হিসেবে পুঁজিপতিরা ছিল)। এমন একটা বিপ্লব ছাড়া, এসব ইউনিট কী হত? আর কীভাবে আমরা সর্বহারা শ্রেণীর হাতে নেতৃত্ব নিয়ে আসতে পারতাম? সভাপতি মাও দূরদর্শীভাবে এক মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব করে সমস্যার সমাধান করেন। কিন্তু শুধু এই বিপ্লবই যথেষ্ট নয়। বর্তমানে কিছু প্রদেশ ও পৌর এলাকায় [এখনো সমস্যা আছে], যার চাবিকাঠি হচ্ছে নেতৃত্ব। আমরা জনগণকে দোষারোপ করতে পারিনা অথবা বলতে পারিনা যে তারা ভাল নয়। এটাও বলতে পারিনা যে যারা [এই সমস্যা সৃষ্টি করেছে] সবাই খারাপ মানুষ। কারণ কিছু লোক আছে যারা ভাল মানুষ, কিন্তু কেবল মতাদর্শিকভাবে তারা সংশোধনবাদী ও পুঁজিবাদী, আর একবার তাদের সমস্যা চিহ্নিত হলে তারা তাদের ভুল সংশোধন করবে। যেহেতু সাংস্কৃতিক বিপ্লব সাত আট বছর আগে শুরু হয়েছিল, কিছু এলাকার সমস্যা সমাধান করতে হবে। সমস্যা সমাধান করতে প্রথমে আমাদেরকে কারণ বের করতে হবে যাতে সঠিক পথ প্রয়োগ করতে পারি। কিছু লোক নির্বিচারভাবে কোনকিছু বোঝাপড়া করেন; কিছু লোক মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উপর সকল খারাপ জিনিস আরোপ করেন অথবা এগুলোকে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উপজাত হিসেবে নেন। এটা ভুল। যেহেতু তারা হচ্ছে সংশোধনবাদের উপজাত, তাদেরকে আমরা কীভাবে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উপজাত বলে মনে করতে পারি? এই সমস্যা ঠিক ঠিক নির্দেশ করে যে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব ছিল পরমভাবে প্রয়োজনীয়। যেখানে লাইন সঠিক নয়, সেখানে ঐক্য থাকবে না, আর ক্যাডারদের ও জনগণকে খারাপ মানুষদের চিহ্নিত করে আলাদা করতে হবে। কিছু এলাকায় লিন পিয়াও ও কনফুসিয়াসের সমালোচনা পরিচালিত হচ্ছেনা। সম্প্রতি সেচুয়ান প্রদেশে বারটি কারখানা সমস্যা মোকাবেলা করেছে। তাদের সমস্যা কী ছিল? তারা লিন পিয়াওয়ের সমালোচনা গভীর করেনি, যা ছিল চাবিকাঠি। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা যদি মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ভাবমানসে বিষয়গুলি বোঝাপড়া করি তাহলে সমস্যাগুলো সমাধান হবে। তাংতুং ট্যাংক কারখানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল আট বছর ধরে। কিন্তু এবার সমস্যাকে দুই মাসের মধ্যে সমাধান করা হল। ঐসব সমস্যার মুখ্য কারণ ছিল ভ্রান্ত লাইন। নিশ্চিতভাবে আমরা অস্বীকার করবনা যে কিছু ইউনিটে খারাপ লোকেরা বিশৃংখলা বাঁধায়। পুনরায় জনগণকে সমাবেশিত করা দরকার খারাপ লোকেদের চিহ্নিত করে বের করে আনার জন্য। এসব সমস্যাকে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উপজাত মনে করা মানে হচ্ছে কার্যত বিপ্লবের পূর্বে পরিস্থিতিকে পুনপ্রতিষ্ঠিত করা কেবল আরো বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে। কিয়াংসি প্রদেশের কোন এক কেডার সম্মেলনে কেউ একজন এই প্রতিবিপ্লবী গুজব ছড়াচ্ছিলঃ “মন্দিরকে পরিষ্কার কর, প্রকৃত দেবতাকে আমন্ত্রণ জানাও; পুরোনো সেনাধ্যক্ষদের অবশ্যই তাদের পদে ফেরত আসতে হবে; ক্ষুদে সৈনিকদের অবশ্যই তাদের ব্যারাকে ফিরে যেতে হবে।” সে সকল ক্ষুদে সৈনিকদের নিপীড়ণ করতে চায়। এক সাম্প্রতিক টেলিগ্রাম হেকে আমি জানতে পারি যে ক্ষুদে সৈনিকদের একটি দল দুই ঘন্টা ধরে বিদ্রোহে জেগে উঠেছেন এক বিরাট আলোড়ন তৈরি করে। তারা দাবিয়ে দিতে দ্বিধা করেনি, আর বিশ্বাস করেছিল যে তারা যা করেছে তা ছিল সত্য। কিয়াংসীতে আমি কিছু কমরেডকে বলি যে তারা যা করছিল তা হচ্ছে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সঠিক রায়কে উল্টিয়ে দেয়া। দশম কংগ্রেসের আগে আমি তাদেরকে বলেছি যে এটা কোন কাজে দেবেনা। আর পুনরায় আমি দশম কংগ্রেসেও বলেছি এটা কোন কাজে দেবেনা। কিন্তু এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়োনা, কারণ কেন্দ্রীয় কমিটি এ বিষয়গুলি ভালভাবে জানে (নোটঃ উচ্চ পর্যায়ে কোন শ্রদ্ধাভাজন কেডার নেই)।

এখনো অন্যরা মন্তব্য করে যে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব ছিল ভাল। কিন্তু আমাদের ঐভাবে করা উচিত ছিলনা। অন্য ভাষায়, আমাদের “বিরাট প্রস্ফুটিতকরণ, বিরাট প্রতিযোগিতা, বিরাট আকৃতির পোস্টার ও বিরাট বিতর্ক” করা উচিত ছিলনা। কর্তৃপক্ষীয় যারা পুঁজিবাদের পথ গ্রহণ করেছে তাদের কাছ থেকে লক্ষ কোটি বিপ্লবী জনগণ ও ঐক্যবদ্ধ সর্বহারারা ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে এটা তারা মানতে পারেনি। ঠিক এই জিনিসটাকেই তারা বিরোধিতা করে কারণ একে নেতিকরণ করতে পারলে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবকেই নেতিকরণ করা যাবে। ১৯৬৭ সালে এক কথোপকথনে সভাপতি মাও বলেনঃ “অতীতে আমরা গ্রামে, কারখানায় ও সাংস্কৃতিক চক্রে সংগ্রামে নিয়োযিত হয়েছি, সমাজতান্ত্রিক শিক্ষা অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু সমস্যা সমাধানে সক্ষম হইনি। এই ব্যর্থতার কারণ ছিল এই যে আমাদের অন্ধকার দিককে উন্মোচন করতে জনগণকে উপর থেকে নীচ পর্যন্ত প্রকাশ্যে ও সার্বিকভাবে সমাবেশিত করতে এক সূত্র অথবা পদ্ধতি বের করতে না পারা। আমরা এখন সমাধান খুঁজে পেয়েছিঃ মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব।” সততার সাথে বলতে গেলে, মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব ছাড়া কীভাবে আমরা লিউ শাউচিকে খুঁড়ে বের করতাম, এক বিশ্বাসঘাতক যে এত গভীরভাবে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে ছিল? অতীতে লিউ শাউচির বিশ্বাসঘাতক চরিত্রকে আমরা পুরোপুরি আত্মস্থ করতে পারিনি, বিশেষত ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিতভাবে। মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে রেড গার্ড (লাল প্রহরী)রা ব্যাপক তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি খুঁজে পায়। (অবশ্য সে যা প্রকাশ করেছিল সেসব সংশোধনবাদী জিনিস আমরা আত্মস্থ করেছিলাম)। তাছাড়া মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূত্র ছাড়া কীভাবে আমরা পেতাম এক ঝাঁক নবজাত জিনিস যেমন বিপ্লবী কমিটি, ৭ম কেডার স্কুল আর শিক্ষিত যুব তরুণদের গ্রামে যাওয়া? তা অসম্ভব হত। শিল্প ও কৃষি উৎপাদনও এত দ্রুত বিকশিত করা সম্ভব হতোনা। মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব ছাড়া এত বড় মাত্রার গণ আন্দোলন আর মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ও মাও সেতুঙ চিন্তাধারাকে জনপ্রিয়করণ করা সম্ভব হতো না। অবশ্য মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব নিজেই এক নবজাত জিনিস যার রয়েছে বিকাশের এক আদর্শ প্রক্রিয়া। সভাপতি মাও বলেছেন, “ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া মনোযোগ দাবী করে; জনগণের কাছে লাইন ও দৃষ্টিকোণকে নিয়মিতভাবে ও বারংবার ব্যাখ্যা করতে হবে। কেবল অল্পসংখ্যক লোকের কাছে নয়।” এখন সভাপতি মাও ও কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা কিছু এলাকা ও কিছু ব্যক্তির কাছে চাপ মনে হয় যারা জনগণের কাছে এসব ব্যক্ত করেনা, আর করলেও স্পষ্ট করেনা কোনটা সভাপতি মাওয়ের, কোনটা কেন্দ্রীয় কমিটির আর কোনটা তাদের নিজেদের।

কিছু লোক মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে “প্রশংসা” করে, বলে যে বিপ্লবে জনগণ অনুগত ছিলনা, চাপে খেয়ালখুশিমত বৃহদাকৃতি পোস্টার লিখেছে আর সভায় তারা বাঁচাল ছিল। এখানে সমস্যা কোথায়? আসলে এটা ছিল মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব কর্তৃক নিয়ে আসা অন্যতম অর্জন।

সভাপতি মাও অনেকবার বলেছেন, “পার্টির মধ্যে আমাদের কাজ হতে হবে জীবন্ত, সক্রিয় ও সজীব; চেতনাহীন ও অলস নয়।” সভাপতি মাও একবার ওয়াঙ হেই-ইউঙকে বলেন যে “ছাত্রদের শ্রেণীকক্ষে ঘুমাতে আর উপন্যাস পড়তে অনুমতি দিতে হবে।” অনেক লোক এই কথার মানে একদমই বুঝতে পারেননা। আমার ব্যাখ্যা হচ্ছে ছাত্রদের এত অসেচেতন বানানো আমাদের উচিত নয় আর তাদের আহবান করা উচিত সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে।

একই সমস্যা বাহিনী ইউনিটেও বিদ্যমান। সৈনিকদের বলা হয় নিঃশর্তভাবে ও পরমভাবে আদেশ পালন করতে। আমাদের জানা উচিত যে তাদের আদেশ পালন করা দরকার শর্তযুক্তভাবে, নিঃশর্তভাবে নয়। মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ও মাওসেতুঙ চিন্তাধারার সাথে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ তাকে তাদের মানতে হবে আর যা তা নয় তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে হবে। আমরা কমিউনিস্ট পার্টির সকল সদস্য উচ্চস্তরের নির্দেশনা পালন করি আত্মসচেতনতার ভিত্তিতে। নির্দেশ প্রতিফলিত করে যে লাইন তার সঠিকতাকে আমাদের বিচার করতে হবে। আমরা কেবল সঠিক লাইনকে ও সঠিক নির্দেশকে কার্যকর করি। সেগুলো যদি সঠিক না হয় তাহলে তা প্রয়োগ করা হবেনা। অনেক লোকই এই রীতির সাথে অভ্যস্ত নন। তারা অভিযোগ দেয় যে তালিভুক্ত লোকদের শাসন করা কঠিন আর তারা মত পেশ করতে ভালবাসে। এটা খুব স্বাভাবিক। সামরিক ইউনিটে সাম্প্রতিক অনেক রাজনৈতিক দুর্ঘটনাই ঘটেছে খারাপ ও নিষ্ঠুর প্রশাসন আর সুন্দর রাজনৈতিক-মতাদর্শিক কাজের ব্যর্থতার কারণে, এর ফল হল সমস্যার স্তুপ, আর দ্বন্দ্বের অবনতি। পুনরায় চাবিকাঠি হচ্ছে লাইনের প্রশ্ন, যেমন কীভাবে জনগণকে বোঝাপড়া করা হবে। পরিস্থিতি এখন ভিন্ন এক স্তরে বিকশিত হয়েছে। কীভাবে মতাদর্শিক কাজ করতে হবে তা আমাদের অধ্যয়ন করতে হবে। পুরোনো রীতি যদি সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত থাকে তা কাজ করবে না।

পরিস্থিতি আমাদের কাছে ভাল হলেও অন্য কিছু লোকের কাছে তা নয়। আমাদের দেশ যা কিনা সমাজতন্ত্র অনুশীলন করছে, আমদের ভোলা যাবেনা যে এখানে শ্রমিক, কৃষক আর সৈনিকেরা হচ্ছে প্রভু। দশম কংগ্রেসের রিপোর্টসমূহ ব্যাখ্যা করে যে আমাদেরকে স্রোতের বিপরীতে যাওয়ার বিপ্লবী ভাবমানস থাকতে হবে। সম্প্রতি সংবাদপত্র দুই ক্ষুদে ছাত্রের রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, একজনের নাম হুয়াঙ শুয়েই আর অপরজন কুয়াঙ তোং প্রদেশ থেকে। তারা পিপলস ডেইলির কাছে এক পত্র লেখে সমর্থন চেয়ে। তাদের চিঠি উচ্চ পর্যায়ের সংস্কৃতিকে নির্দেশ করে, আর তা ভাবাবেগে পুর্ণ ছিল। এটা পড়ার পর আমরা অনুভব করি যে তাদের সমর্থন করা উচিত।

সভাপতি মাও সম্প্রতি অনুসন্ধান করেছেন, “কেন মহিষের দুই শিং রয়েছে? সংগ্রামের জন্য এটা তাদের প্রয়োজন হয়।” এই মন্তব্য প্রথম করা হয় ১৯৫৫ সালে। তিনি আমাদের উপদেশ দেন “আমরা সবাই যেহেতু কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য, কেন আমরা বক্তব্য দিতে দ্বিধা করব?” আমাদের আত্মগর্ব কম করতে হবে, আর সমালোচনা বেশি করতে হবে; আমাদেরকে ব্যাপক শ্রমিক, কৃষক ও সৈনিকের উপর নির্ভর করতে হবে যাদের মাথায় শিং আছে আর সংশোধনবাদী লাইনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার সাহস আছে। কিছু ইউনিট চার বিরাট [বিরাট প্রস্ফুটন, বিরাট প্রতিযোগিতা, বিরাট বৃহদাকার পোস্টার ও বিরাট বিতর্ক]-কে ভয় পায় দশম কংগ্রেসে যার পক্ষে বলা হয়েছিল। তারা “চার বিরাট”-এর ব্যাপারে এতটাই ভীত যে এখন পর্যন্ত তারা জনগণকে অধ্যয়নের জন্য সমাবেশিত করতে সাহস করেনি। জনগণের “চার বিরাট” অনুশীলনকে আর স্রোতের বিপরীতে যাওয়াকে আমাদের অনুমোদন দিতে হবে। কেন আমরা তাদের ভয় পাব? যারা সংশোধনবাদ বাস্তবায়ন করছে তারা “চার বিরাট”কে ভয় পাবে, আর যারা মার্কসবাদ-লেনিনবাদ বাস্তবায়ন করছে তাদের বিপ্লবী জনগণের বিদ্রোহী ভাবমানসকে সমর্থন করা উচিত। সভাপতি মাও আমাদের শিক্ষা দেনঃ “আমরা এমনকি সাম্রাজ্যবাদকে ভয় পাইনা, কেন আমরা জনগণকে ভয় পাব? যারা জনগণকে ভয় পায় অথবা বিবেচনা করে যে জনগণকে উদ্বুদ্ধ নয় বরং যুক্তির বাইরে, তাদেরকে কেবল নিপীড়ণ করা যাবে তারা কমিউনিস্ট পার্টির সত্যিকার সদস্য নয় অথবা প্রকৃত কমিউনিস্ট নয়।“ কিছু লোক সভাপতি মাওয়ের এই শিক্ষাকে গ্রহণ করেনা। তারা নিপীড়ণ করতে পছন্দ করে অথবা গ্রেফতার করতে যায় যখন নিপীড়ণ কোন কাজে দেয় না।

কেউ একজন বলে, “অতীতে ভেটারান কেডাররা যুদ্ধ করেছে উত্তরে ও দক্ষিণে কিন্তু মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে লক্ষ্যহীনভাবে লড়েছে।” এই বিবৃতি সঠিক নয়; আর তা ভেটারান কেডারদের আকাঙ্খার সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটা বলা দরকার যে ভেটারান কেডাররা আমাদের পার্টির মূল্যবাণ সম্পদ। উত্তর ও দক্ষিণে যুদ্ধ করার সময় তাদের কেউ কেউ আহত হয়েছিলেন, কিন্তু তারা মনে করেননি যে তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারেন অথবা আমলাতন্ত্রের অহংকারী হতে পারেন। বরং তারা সক্রিয়ভাবে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেন আর নিজেদের সীমাবদ্ধতা অথবা ভুল খুঁজে পেলে আত্মসমালোচনা করেন। এভাবে তারা মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে গুণাবলী অর্জন করেন। এ ধরণের ভেটারান কেডারদের সংখ্যা এক বা দুই জন নয় বরং অজস্র। পুরোনো প্রজন্মের সর্বহারা বিপ্লবীদের তারা সত্যিই প্রতিনিধিত্ব করেন। কিছু [ভেটারান] কেডার বেশী আক্রমণের স্বীকার হয়েছেন মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে এর বিস্তারিত বিশ্লেষণ আবশ্যক। তিন বৃহৎ এলাকায় তাঁর পরিদর্শনকালে সভাপতি মাও বলেনঃ “কেন কিছু কেডার জনগণ দ্বারা সমালোচিত ও সংগ্রামের মুখে পড়েছেন? একটা কারণ হচ্ছে—তাদের দ্বারা প্রতিক্রিয়াশীল বুর্জোয়া লাইনের প্রয়োগ যা জনগণকে প্ররোচিত করেছে। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে—তাদের নিজেদের গুরুত্বের ব্যাপারে অহংকার আছে যেহেতু তারা উচ্চ বেতনভুক্ত উচ্চ পদস্থ অফিসার হয়েছেন। ফলে, তারা কর্তৃপক্ষীয় অহংকারের চাঁদর গায়ে, জনগণের সাথে পরামর্শ করেননি, অন্যদের অসমান চোখে দেখেন, গণতন্ত্রকে হেলা করেন, অন্যদের দোষ অথবা অভিশাপ দিয়েছেন আর মারাত্মকভাবে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এই কাজগুলি জনগণকে সমালোচনায় আমন্ত্রণ করেছে যাদের সুযোগ নেই শান্তির সময় [কেডারদের উপর প্রতিশোধ নেয়ার]। মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব উদ্ভুত হলে কেডাররা ঝামেলায় পড়েন।” সভাপতি মাও যাদের নির্দেশ করেছেন তাদের সমালোচনা করা উচিত কি? আপনি অন্যদের দোষ দিতে পারেন। কেন জনগণ আপনাদের সমালোচনা করতে পারবে না? সভাপতি মাওয়ের এই নির্দেশিকা সবার কাছে পরিচিত, তবু কিছু লোক এটা ভুলে গেছে। উপরোক্ত কেডাররা যারা ঝামেলায় পড়েছেন তাদেরও দুই বর্গে ভাগ করা যায়ঃ ১ম হচ্ছে তারা যারা সক্রিয় পক্ষের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা গ্রহণ করেছেন আর ভেটারান কেডারে পরিণত হয়েছেন, তারা জনগণের সত্যিই বিশ্বাসভাজন। এরকম বহু ভাল কেডার রয়েছে। উদাহারণস্বরূপ, সাংহাইয়ে কমরেড মা তিয়েন-শুই যে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পর নয়া ভাবমানসযুক্ত চেহারা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন, জনগণের গভীরে কাজ করেন আর তার লাইনকে সংশোধন করে নিয়েছেন। অন্য বর্গে রয়েছেন তারা যারা নিষ্ক্রিয় পক্ষের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার সারসংকলন করেছেন, ভাসাভাসা ও দ্বিধাযুক্ত হয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে তারা ভিন্ন আকারে জনগনের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন।

এখনো অন্যরা দুই বুর্জোয়া সদর দপ্তরের উচ্ছেদে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সাফল্যের কথা সম্পূর্নভাবে ভাবেন না, যে ঘটনা হচ্ছে দেশের রঙ পরিবর্তেনের সাথে সম্পর্কিত। যাহোক, তারা জনগণের আক্রমণ দ্বারা গভীরভাবে আক্রান্ত। একবার মুক্ত হলে আর ক্ষমতায় গেলে তারা জনগণকে উচ্ছেদের প্রতিটি সুযোগ খোঁজে। এই জিনিসটাই কিয়াংসীর কেডাররা করছে। ফল হচ্ছে এই যে উলটো তারাই উচ্ছেদ হবে। তিন ছি [তিন অনাকাংখিত দৃষ্টিকোনের কথা বলা হচ্ছেঃ দ্বিধা, হতাশা ও ঘৃণা]র সংশোধন না করলে যে কেউ ব্যর্থ হবে। আর এই সমস্যার সমাধান না করলে, কেউ এখন মুক্ত হলেও, সে পুনরায় উচ্ছেদ হবে।

কেউ একজন বললঃ মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় যারা আমাদের বিরুদ্ধে লড়েছে তাদের সাথে হিসেব চুকানো প্রয়োজন। তাদেরকে মৃদু গণ্য করতে হবে যারা আমাদের বিরুদ্ধে কোন স্বার্থ ছাড়া লড়েছে। কলজেতে লাগানোয় ভুল কোথায়?” এমন কমরেডকে আমরা সতর্কবাণী শোনাবঃ এটা খুবই বিপজ্জনক; জনগণ আপনাদের কাছে কী পাওনা আছে? সভাপতি মাও বলেনঃ “কে আমাদের কর্তৃত্ব দিয়েছে? শ্রমিক শ্রেণী, গরীব ও নিম্নমাঝারি কৃষক অথবা মেহনতী ব্যাপক জনগণ যারা জনগণের শতকরা নব্বই ভাগ। জনগণ আমাদের সমর্থন করবে যদি আমরা সর্বহারা শ্রেণী ও ব্যাপক জনগণের পক্ষে দাঁড়াই আর জনগণের শত্রুকে উচ্ছেদ করি। কমিউনিস্ট পার্টির সর্বাধিক মৌলিক নীতি হচ্ছে ব্যাপক বিপ্লবী জনগণের উপর নির্ভর করা।” আপনি যদি জনগণের সাথে হিসেব চুকাতে যান, জনগণের অধিকার আছে আপনার কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার।

(চলবে)