চেয়ারম্যান গনসালো এর বক্তৃতা (ইংরেজি সাবটাইটেল সহ)


পেরু কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান কমরেড গনসালোর শিক্ষাঃ চিন্তাধারা থেকে গণযুদ্ধ

764x480

কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী ফ্রান্স দলিল

গনসালোর শিক্ষাঃ চিন্তাধারা থেকে গণযুদ্ধ

১।  গনসালো ও বিপ্লবী আশাবাদ                                   

যখন একটি শ্রেণী ক্ষমতা দখলের পথে ধাবিত হয়, তাকে সকল ক্ষেত্রে শক্তিশালি সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে, অবশ্যই শ্রমিক শ্রেণীর ক্ষেত্রে এটা আরো বেশি সত্য, যার অবশ্যই সমাজের সকল দিক বুঝতে ও বিপ্লবীকরণ অনুমোদন করে এমন সর্বশক্তিমান সাংস্কৃতিক ও মতাদর্শিক ব্যবস্থা থাকতে হবে।

একে বোঝার অনুমোদন করায় গনসালো এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। তিনি জোর দেন যে বিপ্লবীদের অবশ্যই পরম আশাবাদ তুলে ধরতে হবে; “আইএলএ-৮০” দলিল যা ১৯৮০তে সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালনাকে ব্যাখ্যা করে, তাতে তিনি ব্যাখ্যা করেনঃ

“আমাদের প্রচুর আশাবাদ দরকার এবং তার একটা কারণ রয়েছে। আমরা আগামীর প্রস্তুতকারক। আমরা শ্রেণীর অপরাজেয় বিজয়ের পথপ্রদর্শক গ্যারিসন। তাই, আমরা আশাবাদী।

আমরা প্রাকৃতিকভাবেই উদ্দীপনাময়। আমরা আমাদের শ্রেণীর মতাদর্শের দ্বারা পূর্ণ: মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওসেতুঙ চিন্তাধারা। আমরা শ্রেণীর জীবন যাপন করি। আমরা এর বীরত্বব্যাঞ্জক কর্মে অংশ নেই। আমাদের জনগণের রক্ত আমাদের মধ্যে বাহিত ও ফুটন্ত।

আমরা শক্তিমত্ত স্পন্দিত রক্তের মত। আসুন অভঙ্গুর লোহা ‍ও ইস্পাতকে গ্রহণ করি, শ্রেণীকে গ্রহণ করি, একে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাও চিন্তাধারার চির জ্বাজল্যমান আলোর সাথে মিশিয়ে ফেলি।”

২।  প্রত্যেক বিপ্লবী শ্রেণী মহাকাব্যিক সংগ্রামের ডাক দেয়

উনিশ শতকের শেষে যখন ফরাসী বিপ্লব উত্থিত হয়, জনগণের মহাকাব্যিক সমাবেশিতকরণের ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা ছিল। বুর্জোয়ারা অতীতে ঝাঁপ দিল তাদের প্রয়োজনের কাছাকাছি কিছু একটা পেতে, তাদের সংগ্রামকে স্ফটিকীকরণ করতে যা হবে তাদের নকশা, সেটা ছিল রোমান প্রজাতন্ত্র।

একজন রোমান জেনারেল থেকে সাম্রাজ্যবাদী সিজারের রূপ নেওয়া নেপলিয়ন ছিল ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার একটা খেলনা, সে ফরাসী বুর্জোয়াদের প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিল, যে ফরাসী বুর্জোয়ারা ক্ষমতা জয় করতে নিজেকে পূর্ণ বিকশিত করতে চাইছিল।

মতাদর্শিক কুয়াশা আর বুর্জোয়াদের শেষ ও সামগ্রিক বিপ্লবের ভাণকে অপসারণ করে কার্ল মার্কস ও ফ্রেডারিক এঙ্গেলস ব্যাখ্যা করেন এই মতাদর্শিক প্রশ্ন। কিন্তু তারা এই মতাদর্শিক-সাংস্কৃতিক প্রশ্নকে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রে একীভূত করেননি, কারণ তাদের সময় পৃথিবীতে কোন নয়াগণতান্ত্রিক/সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ছিলনা।

৩।  চিন্তাধারা বস্তুর গতির প্রকাশ

রশিয়ায় ১৯১৭ অক্টোবরে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব এবং ১৯৪৯-এ চীনে নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের বিজয়ের সাথে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ বৈজ্ঞানিকভাবে সূত্রায়িত করে অগ্রবাহিনী তথা বিপ্লবী পার্টির প্রশ্ন।

বিপ্লবী মতাদর্শ বিপ্লবী প্রক্রিয়াকে নেতৃত্ব দেয়; খোদ বিপ্লবী পার্টির মধ্যে দুই লাইনের সংগ্রাম প্রক্রিয়ায় জন্ম নেয়; কমিউনিস্ট পার্টির জীবনও দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের নিয়ম পালন করে।

আর, চিন্তাধারাও তাই, যেহেতু তা বিশ্বকে প্রতিফলন ঘটায়, দ্বান্দ্বিক গতিতে বস্তুকে, খোদ মহাবিশ্বের মাত্রায়।

সিপিএমএলএম ফ্রান্স “জীবন,বস্তু, মহাবিশ্ব, ৭ম অংশঃ চিন্তাধারা কী?”-এর দলিলে এটা ব্যাখ্যা করেছেঃ

“চিন্তাধারা মস্তিষ্কে আণবিক ও রাসায়নিক গতির দ্বারা গঠিত হয়, গতি হচ্ছে বস্তু, অবয়বের বাইরের বস্তুর গতির ফল অর্থাৎ উপরিভাগের গতিকে অনুভব করা হয়।

অনুভবের এই গতিতে, ধুসর বস্তু নিজেকে বিকশিত করে। এটা বস্তুর দ্বান্দ্বিক গতির সংশ্লেষণ উপলব্ধিতে আনে। তারপর, প্রকাশ্যে এটা গতিতে বস্তুর প্রকাশে পরিণত হয়।”

৪।  স্বতন্ত্র ব্যক্তি চিন্তা করেনা

১৩ শতকে ফরসী প্রতিক্রিয়াকে প্যারিসের বিশ্ববিদ্যালয়ে বস্তুবাদী থিসিসের সাথে সংগ্রাম করতে হয়েছে। ঐ সকল থিসিস ছিল এভেররস (১১২৬-১১৯৮)-এর চিন্তাধারার যৌক্তিক উপসংহার, যিনি ছিলেন আরবীয়-পারস্য দর্শন ফালসাফার মহান চিন্তাবিদ।

চার্চ ১২৭০ সালে ১৩টি থিসিস নিষিদ্ধ করেছিল, তার মধ্যে রয়েছেঃ “প্রস্তাবনাঃ ‘মানুষ চিন্তা করে’ ভুল অথবা বেঠিক”, “মুক্ত চিন্তা হচ্ছে পরোক্ষ শক্তি, সক্রিয় নয়। এটা আকাঙ্খার প্রয়োজন দ্বারা পরিচালিত”, “মানুষ প্রয়োজন দ্বারা আকাঙ্কিত হয় ও পছন্দ করে;, “কখনো কোন প্রথম মানব ছিলনা”, “বিশ্ব হচ্ছে শ্বাশ্বত”, “কেবলমাত্র একটি বুদ্ধিমত্তা সকল মানুষের জন্য সংখ্যাসূচকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ’।

এই থিসিসগুলো সঠিক এবং বস্তুবাদের প্রকাশ।

যখন একটা চিন্তাধারার কথা বলা হয়, তখন এক স্বতন্ত্র ব্যক্তির চিন্তাধারার কথা বলা হয়না, যদি একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি প্রকাশ করেও। স্বতন্ত্র ব্যক্তি চিন্তা করেনা। মানব জাতি গতির মধ্যে বস্তু, চিন্তাধারা হচ্ছে স্রেফ গতির প্রতিফলন। কোন স্বতন্ত্র ব্যক্তি চিন্তাধারা হতে পারেনা, স্বতন্ত্র ব্যক্তি যা চিন্তা করে তা হচ্ছে আকাঙ্কা ও প্রয়োজনের প্রকাশ।

৫।  প্রতিটি দেশে বিপ্লবের সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক হাতিয়ার হিসেবে চিন্তাধারা

গনসালো কেবল বিপ্লবী আশাবাদের প্রতি আহ্বানই জানাননি কারণ মহাকাব্যিক সংগ্রামের প্রয়োজন ছিল। শুধু ভবিষ্যতের দিকে তাকানো, অতীতের দিকে নয়হবে আত্মমুখী এবং কমিউনিস্ট মতাদর্শের সাথে অসমাঞ্জস্যপূর্ণ।

তাই উদ্দীপনার জন্য ডাকের পথ ধরে তিনি সূত্রায়িত করেন যে প্রতিটি দেশে এক বিপ্লবী চিন্তাধারা জন্ম নেয় সমাজকে সংশ্লেষিত করে এবং সামাজিক দ্বন্দ্বকে সমাধা করার সঠিক পথকে ইতিকরন করে।

ইতিহাস গতিতে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং জনগণের,অগ্রবাহিনী, বিপ্লবী নেতৃত্বেরচিন্তাধারায় বাস্তবতার সঠিক উপলব্ধির।

পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির “গনসালো চিন্তাধারা সম্পর্কে” দলিলে ব্যাখ্যাত হয়েছেঃ

“বিপ্লব এক চিন্তাধারা জন্মদেয় যা তাদের পরিচালনা করে,যা হচেছ প্রতিটি বিপ্লবের মূর্ত বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক সর্বহারা শ্রেণীর মতার্দশের সার্বজনীন সত্যের প্রয়োগের ফলাফল, একটা পথনির্দেশক চিন্তাধারা, বিজয়ে পৌছাতে আর রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলে অপরিহার্য; বিপ্লবকে অব্যাহত রাখতে আর একমাত্র মহান লক্ষ্য কমিউনিজমের পথে প্রক্রিয়াকে বজায় রাখতে অপরিহার্য”

৬।  সমাজের সংশ্লেষণ হিসেবে চিন্তাধারা

প্রতিটি জাতীয় সমাজ দ্বন্দ্বকে চেনে যাকে কমিউনিস্ট চিন্তাধারা বিশ্লেষণ করে বিপ্লবী সংশ্লেষণ সৃষ্টি করে যা গঠন করে বিপ্লবী কর্মসূচি এবং তা বাস্তবায়নের পদ্ধতি।

রাশিয়া ও চীনে লেনিন ও মাও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেই শুধু জানতেন না অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক দিককেও। প্রায়ই তারা সাহিত্য কর্ম উদ্ধৃত করেছেন তাদের নিজ সংস্কৃতি এবং জনগণের সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক পরিস্থিতি (উদাহারণস্বরূপ গ্রামাঞ্চলে কর্তৃত্বের সম্পর্ক, গ্রামে পুঁজিবাদের উদ্ভব হওয়া বা না হওয়া প্রভৃতি)।

বহু অন্য পরিস্থিতিতে বিপ্লবী নেতারা চিন্তাধারা জন্ম দিয়েছেন, নিজ বাস্তবতার সংশ্লেষণ।

পেরুতে হোসে কার্লোস মেরিয়েতেগুই ১৯২৮ সালে লেখেন তাঁর দেশের ইতিহাসের পূর্ণ বিশ্লেষণঃ “পেরুর বাস্তবতার সাতটি ব্যাখ্যামূলক রচনা” যা ঔপনিবেশিকীকরণের ইতিহাস, গ্রামাঞ্চলের অবস্থা এবং কায়েচুয়া ইণ্ডিয়ানদের অবস্থা ইত্যাদি ব্যাখ্যা করে।

ইতালিতে এন্তানিও গ্রামসি ১৯২৬-এ কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, একইভাবে সেদেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অধ্যয়ন করেন, ইতালিয় রাষ্ট্রের প্রকৃতি উপলব্ধি করে এবং দেশের উত্তর ও দক্ষিণ (মেজেসিরোনো)-এর ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বকে।

আলফ্রেড ক্লাহর ছিলেন অস্ট্রিয়ার প্রথম তাত্ত্বিক যিনি ব্যাখ্যা করেন যে তাঁর দেশ অস্ট্রিয়া ছিল একটা জাতি (“অস্ট্রিয়ার জাতি প্রশ্নে”,১৯৩৭) এবং কীভাবে জার্মানী নাতসিবাদ সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিই শুধু নয় বরং জাঙ্কারদের (f~¯^vgx‡`i)ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল।

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া ১৯৪৯ সালে জন্ম নেন এবং ১৯৭৩ সালে তুর্কী রাষ্ট্র কর্তৃক নিহত হন। মুস্তাফা কামালের “বিপ্লব” সংক্রান্ত এবং কামালবাদী মতাদর্শের এক সার্বিক অধ্যয়ন সৃষ্টি করেন তুরস্কের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক প্রকৃতির সঠিক উপলব্ধির পথ ধরে।

উলরাইখ মেইনহফ পশ্চিম জার্মানীর অধীনতা প্রকৃতি অধ্যয়ন করেন। যা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন; ১৯৪৫ পরবর্তীতে অর্থনৈতিক গতি দেখে তিনি তরুণদের মধ্যকার দরিদ্রতমদের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদী গণযুদ্ধের রণনীতি এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী উপস্থিতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম প্রস্তাব করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি বন্দী অবস্থায় খুন হন।

আরেকজন মহান বিপ্লবী যিনি একটা চিন্তাধারা সৃষ্টি করেন তিনি হলেন পূর্ববাংলায় সিরাজ সিকদার। ১৯৪৪-এ জন্ম গ্রহণকারী সিরাজ সিকদার উভয়ত পাকিস্তানী ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদকে উপলব্ধি করেন, জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনে কৃষি বিপ্লবের পথ প্রস্তাব করেন। ১৯৭৫-এ বন্দী অবস্থায় তাকে হত্যা করা হয়।

৭. চিন্তাধারার ফসল হিসেবে গণযুদ্ধ

গনসালোর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী শিক্ষা অনুসারে, প্রতিটি দেশে কমিউনিস্টদের করণীয় রয়েছে নিজ জাতীয় পরিস্থিতির সংশ্লেষণ সৃষ্টি করা কারণ এই কাঠামোয় বিপ্লবী দ্বন্দ্ব সমাধা করতে হবে।

গণযুদ্ধ কোন “পদ্ধতি” অথবা কাজের স্টাইল নয়, এটা হচেছ চিন্তাধারার বস্তুগত ফসল অর্থাত পুরোনো রাষ্ট্র ও প্রতিক্রিয়াশীল শ্রেণীসমূহের সাথে বিপ্লবী সম্মুখ যুদ্ধ, একটা রণনীতি চিন্তাধারার ভিত্তিতে একটি দেশের ব্যবহারিক অধ্যয়ণে বিপ্লবী সংশ্লেষণের ভিত্তিতে।

যখন একটা প্রকৃত বিপ্লবী চিন্তাধারা সৃষ্টি হয় তা পুরনো সমাজের সাথে মোকাবেলা আকাঙ্খা করে সকল স্তরে। গণযুদ্ধ অর্থ কেবল সশস্ত্র সংগ্রাম নয়, বরং পুরনো সমাজের মুল্যবোধসমূহের সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক নেতিকরণও। যদি বিপ্লবীরা সকল ক্ষেত্রে সংগ্রামকে নেতৃত্ব করার স্তরে না থাকে, বিপ্লবে তারা জয়ী হতে পারবেনা এবং পুরনো সমাজের পুনপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে মোকাবেলা করতে পারবেনা।

এই উপলব্ধি হচ্ছে সংস্কৃতি ও মতাদর্শ সম্পর্কে মাওসেতুঙের শিক্ষার এবং মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রত্যক্ষ ফল।

৮. “প্রধানত প্রয়োগ করুন”

গনসালো বিবেচনা করেন যে আমাদের মতাদর্শ শুধু মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ নয় বরং, মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, প্রধানত মাওবাদ। তিনি দেখাতে চান যে আমাদের মতাদর্শ হচেছ একটা সংশ্লেষণ এবং স্রেফ শিক্ষামালার সংযোজন নয়।

একইভাবে তিনি বিবেচনা করেন যে প্রতিটি দেশে মতাদর্শ ছিল মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ এবং চিন্তাধারা, প্রধানত চিন্তাধারা (উদাহারণস্বরূপ পেরুতে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, গনসালো চিন্তাধারা, প্রধানতঃ গনসালো চিন্তাধারা)।

এর কারণ হচ্ছে চিন্তাধারা মানে হচ্ছে এক মূর্ত পরিস্থিতিতে সংশ্লেষণ তার প্রয়োগসহ। একইভাবে, আমাদের নীতি হচ্ছে “ঊর্ধ্বে তুলে ধর, রক্ষা কর ও প্রয়োগ কর, প্রধানত প্রয়োগ কর।”

“চিন্তাধারা” হচ্ছে সত্যিকার এবং সঠিক পথ যদি কেবল তা পুরনো সমাজের সকল দিকের সাথে সত্যিকার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, প্রধান দিক থাকবে সামনের সারিতে।

৯. চিন্তাধারা ও গণযুদ্ধ পৃথক ধারণা নয়

১৯৯০ দশক থেকে ২০০০ দশক জুড়ে পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির বৈদেশিক পার্টি কাজের জন্য সৃষ্ট পেরুর গণ আন্দোলন (এমপিপি) মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ প্রতিষ্ঠায় এক গুরুত্বপূর্ণ কাজে নেতৃত্ব দেয়।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ব্যবহারিক জাতীয় দিকে গেলে এমপিপি কেবলে পরুর উদাহারণ অনুসরণ করতে বলে এবং কমিউনিস্টদেরকে নিজ পরিস্থিতির একটা সংশ্লেষণ সৃষ্টিতে সাহায্য করতে কখনো সক্ষম হয়নি।

এমপিপি কখনোই জাতীয় বাস্তবতার অধ্যয়নের ডাক দেয়নি, বরং একঘেঁয়ে কাজের স্টাইল সৃষ্টি করে বিমূর্ত আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন তুলে ধরার মাধ্যমে। মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদে প্রকৃত বিপ্লবী শক্তিসমূহকে সাথে নেয়ার পরিবর্তে এমপিপি মধ্যপন্থীদের সমর্থন করার জায়গায় আসে যেহেতু তারা কথায় মাওবাদকে স্বীকৃতি দিচ্ছিল। এটা প্রধান দিককে ভুল বোঝার ক্ষেত্রে একটা উদাহারণ। যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হল, গণযুদ্ধকে বিমূর্ত পথে ধারণ না করা বরং চিন্তাধারার ভিত্তিতে গণযুদ্ধ। নেপালে সংশোধনবাদ একটা ভাল উদাহারণঃ “গণযুদ্ধ” কে ধারণ করা সত্ত্বেও যাকে “প্রচণ্ড পথ” বলা হয়েছে তার কখনোই উচ্চ সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক স্তর ছিলনা, যেখানে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের মূলনীতিমালার দিক থেকে এর ইতিমধ্যেই ছিল বহুবিধ ভুলভ্রান্তি।

১০. আমাদের দিগন্ত চিন্তাধারা জন্ম দেয় ও ফ্যাসিবাদকে প্রত্যাখান করে

আমাদের দিগন্ত হচ্ছে নিম্নরূপঃ প্রত্যেক দেশে কমিউনিস্ট চিন্তাধারা জন্ম হতে হবে, সমাজের সংশ্লেষণ হিসেবে, দ্বন্দ্বসমূহের সমাধানের পথ প্রদর্শন করে। উচ্চস্তরের সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক না থাকলে কমিউনিস্টরা নিজ দেশে বিপ্লব করতে পারেনা।

জনগণ সংগীত, সিনেমা ও সাহিত্যে পুর্ণ একটা সংস্কৃতিতে বাস করেন; মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের শিক্ষা এই ক্ষেত্রে সংগ্রামের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। দুনিয়ার কমিউনিস্টদেরকে তাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময় করতে হবে; বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচালনার জন্য তাদের রয়েছে একই সংগ্রাম।

যদি কমিউনিস্টরা তা করতে সক্ষম না হন, প্রতিক্রিয়াশীল শাসকশ্রেণীসমূহ অতীতে ঝাঁপ দিয়ে একটা মতাদর্শ সৃষ্টি করবে সমাজকে “পুনর্সৃষ্টি” করতে, একটা ভ্রান্ত “সমাজতন্ত্র”, যা হচ্ছে ফ্যাসিবাদ।

প্রতিটা চিন্তাধারা তাই ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন। এটা হচ্ছে গণযুদ্ধের ভিত্তি। প্রতিটি চিন্তাধারা গণযুদ্ধকে পরিচালনায় অনুমোদন দেয় যা পুরনো রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে, এবং যেহেতু এই প্রক্রিয়া নিজেকে সাধারণীকরণ করে, তা বিশ্বগণযুদ্ধে পরিণত হয়। তখন চিন্তাধারা বিশ্ব সমাজের সংশ্লেষণে পরিণত হয় যা সাম্রাজ্যবাদে ছাইয়ের ওপর জন্ম নেয়, বিশ্ব কমিউনিস্ট সমাজের গঠনের জন্য পথে এগিয়ে যায়।


মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবঃ কমরেড গণজালো, সিরাজ সিকদার, ইব্রাহীম কায়পাক্কায়া ও আকরাম ইয়ারি’র অবস্থান

vv

 

মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব

 

কমরেড আকরাম ইয়ারি কি নিজেকে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফসল হিসেবে বিবেচনা করেছেন?

পিওয়াইও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ঝড়ো বছরগুলিতে সক্রিয় ছিল।  আফগানিস্তানের কমরেড আকরাম ইয়ারি সর্বহারা বিপ্লব এবং মার্কসবাদ-লেনিনবাদে চেয়ারম্যান মাওসেতুঙের অবদানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান এবং একে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওসেতুঙ চিন্তাধারা হিসেবে গ্রহণ করেন আফগানিস্তানের মূর্ত নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য হিসেবে।

তিনি মাওসেতুঙ চিন্তাধারাকে আধুনিক সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে বিশ্ব সর্বহারার আন্তর্জাতিক ব্যানার হিসেবে বিবেচনা করেন।তিনি ক্রুশ্চেভের “তিন শান্তিপূর্ণ” ও “দু্ই সমগ্র” সম্পূর্ণভাবে বর্জন করেন।

তিনি পূর্ণত উপলব্ধি করেন যে পিওয়াইও নিশ্চিতভাবে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পথনির্দেশের লড়াকু ফ্রন্ট লাইন হতে পারে যাতে সে ক্রুশ্চেভপন্থী সংশোধনবাদী পার্টি “আফগানিস্তানের জনগণতান্ত্রিক পার্টি”র বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে পারে।

কমরেড ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া কি নিজেকে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফসল হিসেবে বিবেচনা করেছেন?

টিআইআইকেপির কর্মসূচির সমালোচনাতে ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া ব্যাখ্যা করেন: “আমাদের আন্দোলন হচ্ছে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফল।”

কমরেড সিরাজ সিকদার কি নিজেকে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফসল হিসেবে বিবেচনা করেছেন?

সিরাজ সিকদার চিন্তাধারা ছিল মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব ভিত্তিক। একটি সর্বহারা শ্রেণীর পার্টি গড়ে তোলার মতাদর্শিক প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সিরাজ সিকদার ১৯৬৭ সালে মাও সেতুঙ গবেষণাগার গঠন করেন এবং মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাও সেতুঙ চিন্তাধারাকে মার্কসবাদের তৃতীয় স্তর ঘোষণা করেন। তিনি মস্কোপন্থী ও পিকিংপন্থী নির্বিশেষে সকল ধরণের ভ্রান্ত ধারার বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম পরিচালনা করেন। চীনা রাষ্ট্র পাকিস্তান রাষ্ট্রের সাথে ১৯৭১-এ আপোষ করে যখন সিরাজ সিকদার পাকিস্তান ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গণযুদ্ধ পরিচালনা করছিলেন। তিনি চীনপন্থী বা চীনের রাষ্ট্রের যে কোন ততপরতাকেই মাওবাদী বিবেচনা করেননি। এটা ছিল মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের তার গভীর উপলব্ধি যা তাকে চালিত করেছে যে কোন ধরণের সংশোধনবাদকে বর্জন করতে তার নাম ও রূপ যাই হোক না কেন।

কমরেড গনসালো কি নিজেকে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফসল হিসেবে বিবেচনা করেছেন?

হ্যাঁ, তার ১৯৮৮-র সাক্ষাতকারে, গনসালো ব্যাখ্যা করেন কীভাবে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব তাকে হোসে কার্লোস মেরিয়েতেগুইকে সত্যিকারভাবেবুঝতে সক্ষম করেছে।

“হ্যাঁ, আমি চীনে ছিলাম। চীনেআমার সৌভাগ্য হয়েছিল একটা স্কুলে শিক্ষা নিতে যেখানে আন্তর্জাতিক প্রশ্ন থেকে মার্কসবাদী দর্শন পর্যন্ত রাজনীতি শিক্ষা দেয়া হয়েছে।

পরীক্ষিত ও উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন মহান শিক্ষক বিপ্লবীগণ পাণ্ডিত্যপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করেন। তাদের মধ্যে আমার মনে আছে আমাদের প্রকাশ্য ও গোপন কাজ সম্পর্কে শিক্ষা দেন এক শিক্ষক যিনি তার সমগ্র জীবন পার্টির জন্য, কেবলপার্টিরজন্য জীবন উতসর্গ করেছেন বহু বছর ধরে – এক জীবন্ত উদাহারণ ও অসাধারণ শিক্ষক।

তিনি আমাদের বহু জিনিস শিক্ষা দিয়েছেন, এবং তিনি আমাদের আরো অনেক কিছু শিখাতে চেয়েছেন কিন্তু কেউ কেউ তা গ্রহণ করেনি, সবচেয়ে বড় কথা এই জীবনে বহু ধরণের মানুষ আছে। পরে তারা আমাদের সামরিক বিষয়ে শিক্ষা দেন। কিন্তু এখানেও তারা রাজনীতি থেকে শুরু করে গনযুদ্ধ, তারপর সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা, রণনীতি ও রণকৌশল শেখান। তারপর তার সাথে যে ব্যবহারিক দিক যেমন, এ্যামবুশ, আক্রমণ, সামরিক চলাফেরা এবং বিস্ফোরক তৈরি করা।

যখন আমরা বিপজ্জনক রাসায়নিক নাড়াচাড়া করছিলাম তারা আমাদের আহ্বান জানান সর্বদাই মতাদর্শকে প্রথম ও সর্বাগ্রে রাখতে, কারণ তা আমাদের সক্ষম করবে যে কোন কিছুই করতে, ও ভালভাবে করতে।

আমরা শিখলাম আমাদের প্রথম বিস্ফোরণ ঘটাতে।আমার জন্য এটা একটা স্মরণীয় উদাহারণ ও অভিজ্ঞতা, এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, আমার বিকাশে এক বড় পদক্ষেপ দুনিয়ার অভূতপুর্ব উচ্চতম স্কুলে ট্রেনিং নেওয়া।

আচ্ছা আপনি যদি একটা উপাখ্যান চান, এখানে তা। আমরা যখন বিস্ফোরক সংক্রান্ত পাঠ শেষ করলাম, তারা আমাদের বললেন যে সবকিছুই বিস্ফোরিত হতে পারে।

তাই, পাঠের শেষে আমরা একটা কলম নিলাম, তা বিস্ফোরিত হল, যখন আমরা আসন গ্রহণ করলাম, তা বিস্ফোরিত হল। এটা ছিলসাধারণ আগুণে কার্যকলাপ প্রদর্শন।

এগুলো ছিল নিখাদ হিসেবকৃত ‍উদাহারণ, আমাদের দেখাতে যে সবকিছুই বিস্ফোরিত হতে পারে যদি আপনি ঠিক করেন কীভাবে করবেন। আমরা অব্যাহতভাবে প্রশ্ন করি, “কীভাবে করলেন?কীভাবে করলেন?” তারা আমাদের বললেন, ব্যস্ত হয়োনা, ব্যস্ত হয়োনা, তোমরা ইতিমধ্যেই অনেক কিছু শিখেছ। মনে রেখ, জনগণ কী করতে পারে, তাদের রয়েছে অফুরন্ত সৃজনশীলতা, আমরা তোমাদের যা শেখালাম তা জনগণ করবে এবং তোমাদের সবকিছুই আবারো শেখাবে। এসবই তারা আমাদের বলেছেন। ঐ স্কুল আমার বিকাশে বিরাট অবদান রেখেছে এবং চেয়ারম্যান মাওসেতুঙের মূল্য বুঝতে শুরু করায় সাহায্য করেছে।

পরবর্তীতে আমি আরো কিছু অধ্যয়ন করি এবং আমি তা প্রয়োগ করতে চেষ্টা করি। আমার মনে হয়, চেয়ারম্যান মাওসেতুঙ, মাওবাদ এবং মাওয়ের অনুশীলন থেকে আমার এখনো প্রচুর শেখার আছে।

এটা এইনা যে আমি তার সাথে আমার নিজেকে তুলনা করছি, সরলভাবে এটা হচ্ছে আমার লক্ষ্য অর্জন করতে উচ্চতম শিখরকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা। চীনে আমার অবস্থান ছিল স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা।

আমি সেখানে আরেক সময় ছিলাম যখন মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হচ্ছিল। আমরা তাদের কাছে মাওসেতুঙ চিন্তাধারা বলে যা বলা হয়েছে তার ব্যাখ্যা করতে বললাম। তারা আমাদের বেশিকিছু শেখালেন যা আমাকে বুঝতে সাহায্য করেছে, আমি বলব একটু বেশি, একটাযোগসূত্র যে যতবেশি আমি মাওসেতুঙকে বুঝি ততই আমি মেরিয়েতেগুইকে প্রশংসা করি ও মুল্য দেই।

যেহেতু মাও আমাদের আহ্বান জানান সৃজনশীলভাবে প্রয়োগ করতে, আমি ফিরে যাই ও মেরিয়েতেগুইকে পুনরায় অধ্যয়ন করি, আর দেখি যে তিনি ছিলেন আমাদের প্রথম সারির মার্কসবাদী-লেনিনবাদী যে আমাদের সমাজকে সমগ্রভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।  এটা কঠিন সত্য।