পেরুর গণযুদ্ধের ৩৮তম বার্ষিকীতে লাল সালাম – চেয়ারম্যান গণসালো লাল সালাম


পেরুর মহান মাওবাদী নেতা কমরেড গনজালো’র জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষায় এগিয়ে আসুন!

পেরুর এক নৌ আদালত, ১৯৯২ সালে পেরুর লিমায় এক গাড়ী বোমা বিস্ফোরণের মামলায় মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে ও পেরুর রাষ্ট্র উৎখাতের চেষ্টায় শাইনিং পাথ এর নেতৃত্বে রাখার জন্য পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান কমরেড গনজালো(৮২)কে গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২য় বার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।

এসময় আদালতের শুরুতে কমরেড গনজালো শুধুমাত্র তার চিকিৎসার জন্যে ব্যবস্থা নিতে বক্তব্য রাখেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে তার বিরুদ্ধে চলমান বিচারের সময়েও বরাবরের মতো এবারো তিনি ধারালো ও সুউচ্চ কণ্ঠে কমিউনিজমের প্রশংসা করেন বক্তব্য রাখেন, যখন তাকে সন্ত্রাসবাদে দোষী সাব্যস্ত করা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় ।

এসময়, গুজমানের এটর্নি আলফ্রেডো ক্রেসপো, উক্ত অভিযোগে গনজালোর জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

অথচ, ঐ সময় কমরেড গনজালো’কে গাড়ী বোমা বিস্ফোরণের মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্তকারী তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফুজিমোরী তার স্বৈরাচারী শাসনামলে দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।

(কমরেড গনজালো’র সর্বশেষ প্রাপ্ত ছবি– ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ পেরুতে বিচার কার্যের সময় তোলা)

 

 

 


পেরু কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান কমরেড গনসালোর শিক্ষাঃ চিন্তাধারা থেকে গণযুদ্ধ

764x480

কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী ফ্রান্স দলিল

গনসালোর শিক্ষাঃ চিন্তাধারা থেকে গণযুদ্ধ

১।  গনসালো ও বিপ্লবী আশাবাদ                                   

যখন একটি শ্রেণী ক্ষমতা দখলের পথে ধাবিত হয়, তাকে সকল ক্ষেত্রে শক্তিশালি সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে, অবশ্যই শ্রমিক শ্রেণীর ক্ষেত্রে এটা আরো বেশি সত্য, যার অবশ্যই সমাজের সকল দিক বুঝতে ও বিপ্লবীকরণ অনুমোদন করে এমন সর্বশক্তিমান সাংস্কৃতিক ও মতাদর্শিক ব্যবস্থা থাকতে হবে।

একে বোঝার অনুমোদন করায় গনসালো এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। তিনি জোর দেন যে বিপ্লবীদের অবশ্যই পরম আশাবাদ তুলে ধরতে হবে; “আইএলএ-৮০” দলিল যা ১৯৮০তে সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালনাকে ব্যাখ্যা করে, তাতে তিনি ব্যাখ্যা করেনঃ

“আমাদের প্রচুর আশাবাদ দরকার এবং তার একটা কারণ রয়েছে। আমরা আগামীর প্রস্তুতকারক। আমরা শ্রেণীর অপরাজেয় বিজয়ের পথপ্রদর্শক গ্যারিসন। তাই, আমরা আশাবাদী।

আমরা প্রাকৃতিকভাবেই উদ্দীপনাময়। আমরা আমাদের শ্রেণীর মতাদর্শের দ্বারা পূর্ণ: মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওসেতুঙ চিন্তাধারা। আমরা শ্রেণীর জীবন যাপন করি। আমরা এর বীরত্বব্যাঞ্জক কর্মে অংশ নেই। আমাদের জনগণের রক্ত আমাদের মধ্যে বাহিত ও ফুটন্ত।

আমরা শক্তিমত্ত স্পন্দিত রক্তের মত। আসুন অভঙ্গুর লোহা ‍ও ইস্পাতকে গ্রহণ করি, শ্রেণীকে গ্রহণ করি, একে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাও চিন্তাধারার চির জ্বাজল্যমান আলোর সাথে মিশিয়ে ফেলি।”

২।  প্রত্যেক বিপ্লবী শ্রেণী মহাকাব্যিক সংগ্রামের ডাক দেয়

উনিশ শতকের শেষে যখন ফরাসী বিপ্লব উত্থিত হয়, জনগণের মহাকাব্যিক সমাবেশিতকরণের ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা ছিল। বুর্জোয়ারা অতীতে ঝাঁপ দিল তাদের প্রয়োজনের কাছাকাছি কিছু একটা পেতে, তাদের সংগ্রামকে স্ফটিকীকরণ করতে যা হবে তাদের নকশা, সেটা ছিল রোমান প্রজাতন্ত্র।

একজন রোমান জেনারেল থেকে সাম্রাজ্যবাদী সিজারের রূপ নেওয়া নেপলিয়ন ছিল ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার একটা খেলনা, সে ফরাসী বুর্জোয়াদের প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিল, যে ফরাসী বুর্জোয়ারা ক্ষমতা জয় করতে নিজেকে পূর্ণ বিকশিত করতে চাইছিল।

মতাদর্শিক কুয়াশা আর বুর্জোয়াদের শেষ ও সামগ্রিক বিপ্লবের ভাণকে অপসারণ করে কার্ল মার্কস ও ফ্রেডারিক এঙ্গেলস ব্যাখ্যা করেন এই মতাদর্শিক প্রশ্ন। কিন্তু তারা এই মতাদর্শিক-সাংস্কৃতিক প্রশ্নকে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রে একীভূত করেননি, কারণ তাদের সময় পৃথিবীতে কোন নয়াগণতান্ত্রিক/সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ছিলনা।

৩।  চিন্তাধারা বস্তুর গতির প্রকাশ

রশিয়ায় ১৯১৭ অক্টোবরে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব এবং ১৯৪৯-এ চীনে নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের বিজয়ের সাথে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ বৈজ্ঞানিকভাবে সূত্রায়িত করে অগ্রবাহিনী তথা বিপ্লবী পার্টির প্রশ্ন।

বিপ্লবী মতাদর্শ বিপ্লবী প্রক্রিয়াকে নেতৃত্ব দেয়; খোদ বিপ্লবী পার্টির মধ্যে দুই লাইনের সংগ্রাম প্রক্রিয়ায় জন্ম নেয়; কমিউনিস্ট পার্টির জীবনও দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের নিয়ম পালন করে।

আর, চিন্তাধারাও তাই, যেহেতু তা বিশ্বকে প্রতিফলন ঘটায়, দ্বান্দ্বিক গতিতে বস্তুকে, খোদ মহাবিশ্বের মাত্রায়।

সিপিএমএলএম ফ্রান্স “জীবন,বস্তু, মহাবিশ্ব, ৭ম অংশঃ চিন্তাধারা কী?”-এর দলিলে এটা ব্যাখ্যা করেছেঃ

“চিন্তাধারা মস্তিষ্কে আণবিক ও রাসায়নিক গতির দ্বারা গঠিত হয়, গতি হচ্ছে বস্তু, অবয়বের বাইরের বস্তুর গতির ফল অর্থাৎ উপরিভাগের গতিকে অনুভব করা হয়।

অনুভবের এই গতিতে, ধুসর বস্তু নিজেকে বিকশিত করে। এটা বস্তুর দ্বান্দ্বিক গতির সংশ্লেষণ উপলব্ধিতে আনে। তারপর, প্রকাশ্যে এটা গতিতে বস্তুর প্রকাশে পরিণত হয়।”

৪।  স্বতন্ত্র ব্যক্তি চিন্তা করেনা

১৩ শতকে ফরসী প্রতিক্রিয়াকে প্যারিসের বিশ্ববিদ্যালয়ে বস্তুবাদী থিসিসের সাথে সংগ্রাম করতে হয়েছে। ঐ সকল থিসিস ছিল এভেররস (১১২৬-১১৯৮)-এর চিন্তাধারার যৌক্তিক উপসংহার, যিনি ছিলেন আরবীয়-পারস্য দর্শন ফালসাফার মহান চিন্তাবিদ।

চার্চ ১২৭০ সালে ১৩টি থিসিস নিষিদ্ধ করেছিল, তার মধ্যে রয়েছেঃ “প্রস্তাবনাঃ ‘মানুষ চিন্তা করে’ ভুল অথবা বেঠিক”, “মুক্ত চিন্তা হচ্ছে পরোক্ষ শক্তি, সক্রিয় নয়। এটা আকাঙ্খার প্রয়োজন দ্বারা পরিচালিত”, “মানুষ প্রয়োজন দ্বারা আকাঙ্কিত হয় ও পছন্দ করে;, “কখনো কোন প্রথম মানব ছিলনা”, “বিশ্ব হচ্ছে শ্বাশ্বত”, “কেবলমাত্র একটি বুদ্ধিমত্তা সকল মানুষের জন্য সংখ্যাসূচকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ’।

এই থিসিসগুলো সঠিক এবং বস্তুবাদের প্রকাশ।

যখন একটা চিন্তাধারার কথা বলা হয়, তখন এক স্বতন্ত্র ব্যক্তির চিন্তাধারার কথা বলা হয়না, যদি একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি প্রকাশ করেও। স্বতন্ত্র ব্যক্তি চিন্তা করেনা। মানব জাতি গতির মধ্যে বস্তু, চিন্তাধারা হচ্ছে স্রেফ গতির প্রতিফলন। কোন স্বতন্ত্র ব্যক্তি চিন্তাধারা হতে পারেনা, স্বতন্ত্র ব্যক্তি যা চিন্তা করে তা হচ্ছে আকাঙ্কা ও প্রয়োজনের প্রকাশ।

৫।  প্রতিটি দেশে বিপ্লবের সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক হাতিয়ার হিসেবে চিন্তাধারা

গনসালো কেবল বিপ্লবী আশাবাদের প্রতি আহ্বানই জানাননি কারণ মহাকাব্যিক সংগ্রামের প্রয়োজন ছিল। শুধু ভবিষ্যতের দিকে তাকানো, অতীতের দিকে নয়হবে আত্মমুখী এবং কমিউনিস্ট মতাদর্শের সাথে অসমাঞ্জস্যপূর্ণ।

তাই উদ্দীপনার জন্য ডাকের পথ ধরে তিনি সূত্রায়িত করেন যে প্রতিটি দেশে এক বিপ্লবী চিন্তাধারা জন্ম নেয় সমাজকে সংশ্লেষিত করে এবং সামাজিক দ্বন্দ্বকে সমাধা করার সঠিক পথকে ইতিকরন করে।

ইতিহাস গতিতে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং জনগণের,অগ্রবাহিনী, বিপ্লবী নেতৃত্বেরচিন্তাধারায় বাস্তবতার সঠিক উপলব্ধির।

পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির “গনসালো চিন্তাধারা সম্পর্কে” দলিলে ব্যাখ্যাত হয়েছেঃ

“বিপ্লব এক চিন্তাধারা জন্মদেয় যা তাদের পরিচালনা করে,যা হচেছ প্রতিটি বিপ্লবের মূর্ত বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক সর্বহারা শ্রেণীর মতার্দশের সার্বজনীন সত্যের প্রয়োগের ফলাফল, একটা পথনির্দেশক চিন্তাধারা, বিজয়ে পৌছাতে আর রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলে অপরিহার্য; বিপ্লবকে অব্যাহত রাখতে আর একমাত্র মহান লক্ষ্য কমিউনিজমের পথে প্রক্রিয়াকে বজায় রাখতে অপরিহার্য”

৬।  সমাজের সংশ্লেষণ হিসেবে চিন্তাধারা

প্রতিটি জাতীয় সমাজ দ্বন্দ্বকে চেনে যাকে কমিউনিস্ট চিন্তাধারা বিশ্লেষণ করে বিপ্লবী সংশ্লেষণ সৃষ্টি করে যা গঠন করে বিপ্লবী কর্মসূচি এবং তা বাস্তবায়নের পদ্ধতি।

রাশিয়া ও চীনে লেনিন ও মাও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেই শুধু জানতেন না অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক দিককেও। প্রায়ই তারা সাহিত্য কর্ম উদ্ধৃত করেছেন তাদের নিজ সংস্কৃতি এবং জনগণের সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক পরিস্থিতি (উদাহারণস্বরূপ গ্রামাঞ্চলে কর্তৃত্বের সম্পর্ক, গ্রামে পুঁজিবাদের উদ্ভব হওয়া বা না হওয়া প্রভৃতি)।

বহু অন্য পরিস্থিতিতে বিপ্লবী নেতারা চিন্তাধারা জন্ম দিয়েছেন, নিজ বাস্তবতার সংশ্লেষণ।

পেরুতে হোসে কার্লোস মেরিয়েতেগুই ১৯২৮ সালে লেখেন তাঁর দেশের ইতিহাসের পূর্ণ বিশ্লেষণঃ “পেরুর বাস্তবতার সাতটি ব্যাখ্যামূলক রচনা” যা ঔপনিবেশিকীকরণের ইতিহাস, গ্রামাঞ্চলের অবস্থা এবং কায়েচুয়া ইণ্ডিয়ানদের অবস্থা ইত্যাদি ব্যাখ্যা করে।

ইতালিতে এন্তানিও গ্রামসি ১৯২৬-এ কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, একইভাবে সেদেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অধ্যয়ন করেন, ইতালিয় রাষ্ট্রের প্রকৃতি উপলব্ধি করে এবং দেশের উত্তর ও দক্ষিণ (মেজেসিরোনো)-এর ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বকে।

আলফ্রেড ক্লাহর ছিলেন অস্ট্রিয়ার প্রথম তাত্ত্বিক যিনি ব্যাখ্যা করেন যে তাঁর দেশ অস্ট্রিয়া ছিল একটা জাতি (“অস্ট্রিয়ার জাতি প্রশ্নে”,১৯৩৭) এবং কীভাবে জার্মানী নাতসিবাদ সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিই শুধু নয় বরং জাঙ্কারদের (f~¯^vgx‡`i)ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল।

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া ১৯৪৯ সালে জন্ম নেন এবং ১৯৭৩ সালে তুর্কী রাষ্ট্র কর্তৃক নিহত হন। মুস্তাফা কামালের “বিপ্লব” সংক্রান্ত এবং কামালবাদী মতাদর্শের এক সার্বিক অধ্যয়ন সৃষ্টি করেন তুরস্কের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক প্রকৃতির সঠিক উপলব্ধির পথ ধরে।

উলরাইখ মেইনহফ পশ্চিম জার্মানীর অধীনতা প্রকৃতি অধ্যয়ন করেন। যা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন; ১৯৪৫ পরবর্তীতে অর্থনৈতিক গতি দেখে তিনি তরুণদের মধ্যকার দরিদ্রতমদের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদী গণযুদ্ধের রণনীতি এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী উপস্থিতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম প্রস্তাব করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি বন্দী অবস্থায় খুন হন।

আরেকজন মহান বিপ্লবী যিনি একটা চিন্তাধারা সৃষ্টি করেন তিনি হলেন পূর্ববাংলায় সিরাজ সিকদার। ১৯৪৪-এ জন্ম গ্রহণকারী সিরাজ সিকদার উভয়ত পাকিস্তানী ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদকে উপলব্ধি করেন, জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনে কৃষি বিপ্লবের পথ প্রস্তাব করেন। ১৯৭৫-এ বন্দী অবস্থায় তাকে হত্যা করা হয়।

৭. চিন্তাধারার ফসল হিসেবে গণযুদ্ধ

গনসালোর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী শিক্ষা অনুসারে, প্রতিটি দেশে কমিউনিস্টদের করণীয় রয়েছে নিজ জাতীয় পরিস্থিতির সংশ্লেষণ সৃষ্টি করা কারণ এই কাঠামোয় বিপ্লবী দ্বন্দ্ব সমাধা করতে হবে।

গণযুদ্ধ কোন “পদ্ধতি” অথবা কাজের স্টাইল নয়, এটা হচেছ চিন্তাধারার বস্তুগত ফসল অর্থাত পুরোনো রাষ্ট্র ও প্রতিক্রিয়াশীল শ্রেণীসমূহের সাথে বিপ্লবী সম্মুখ যুদ্ধ, একটা রণনীতি চিন্তাধারার ভিত্তিতে একটি দেশের ব্যবহারিক অধ্যয়ণে বিপ্লবী সংশ্লেষণের ভিত্তিতে।

যখন একটা প্রকৃত বিপ্লবী চিন্তাধারা সৃষ্টি হয় তা পুরনো সমাজের সাথে মোকাবেলা আকাঙ্খা করে সকল স্তরে। গণযুদ্ধ অর্থ কেবল সশস্ত্র সংগ্রাম নয়, বরং পুরনো সমাজের মুল্যবোধসমূহের সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক নেতিকরণও। যদি বিপ্লবীরা সকল ক্ষেত্রে সংগ্রামকে নেতৃত্ব করার স্তরে না থাকে, বিপ্লবে তারা জয়ী হতে পারবেনা এবং পুরনো সমাজের পুনপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে মোকাবেলা করতে পারবেনা।

এই উপলব্ধি হচ্ছে সংস্কৃতি ও মতাদর্শ সম্পর্কে মাওসেতুঙের শিক্ষার এবং মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রত্যক্ষ ফল।

৮. “প্রধানত প্রয়োগ করুন”

গনসালো বিবেচনা করেন যে আমাদের মতাদর্শ শুধু মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ নয় বরং, মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, প্রধানত মাওবাদ। তিনি দেখাতে চান যে আমাদের মতাদর্শ হচেছ একটা সংশ্লেষণ এবং স্রেফ শিক্ষামালার সংযোজন নয়।

একইভাবে তিনি বিবেচনা করেন যে প্রতিটি দেশে মতাদর্শ ছিল মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ এবং চিন্তাধারা, প্রধানত চিন্তাধারা (উদাহারণস্বরূপ পেরুতে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, গনসালো চিন্তাধারা, প্রধানতঃ গনসালো চিন্তাধারা)।

এর কারণ হচ্ছে চিন্তাধারা মানে হচ্ছে এক মূর্ত পরিস্থিতিতে সংশ্লেষণ তার প্রয়োগসহ। একইভাবে, আমাদের নীতি হচ্ছে “ঊর্ধ্বে তুলে ধর, রক্ষা কর ও প্রয়োগ কর, প্রধানত প্রয়োগ কর।”

“চিন্তাধারা” হচ্ছে সত্যিকার এবং সঠিক পথ যদি কেবল তা পুরনো সমাজের সকল দিকের সাথে সত্যিকার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, প্রধান দিক থাকবে সামনের সারিতে।

৯. চিন্তাধারা ও গণযুদ্ধ পৃথক ধারণা নয়

১৯৯০ দশক থেকে ২০০০ দশক জুড়ে পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির বৈদেশিক পার্টি কাজের জন্য সৃষ্ট পেরুর গণ আন্দোলন (এমপিপি) মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ প্রতিষ্ঠায় এক গুরুত্বপূর্ণ কাজে নেতৃত্ব দেয়।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ব্যবহারিক জাতীয় দিকে গেলে এমপিপি কেবলে পরুর উদাহারণ অনুসরণ করতে বলে এবং কমিউনিস্টদেরকে নিজ পরিস্থিতির একটা সংশ্লেষণ সৃষ্টিতে সাহায্য করতে কখনো সক্ষম হয়নি।

এমপিপি কখনোই জাতীয় বাস্তবতার অধ্যয়নের ডাক দেয়নি, বরং একঘেঁয়ে কাজের স্টাইল সৃষ্টি করে বিমূর্ত আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন তুলে ধরার মাধ্যমে। মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদে প্রকৃত বিপ্লবী শক্তিসমূহকে সাথে নেয়ার পরিবর্তে এমপিপি মধ্যপন্থীদের সমর্থন করার জায়গায় আসে যেহেতু তারা কথায় মাওবাদকে স্বীকৃতি দিচ্ছিল। এটা প্রধান দিককে ভুল বোঝার ক্ষেত্রে একটা উদাহারণ। যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হল, গণযুদ্ধকে বিমূর্ত পথে ধারণ না করা বরং চিন্তাধারার ভিত্তিতে গণযুদ্ধ। নেপালে সংশোধনবাদ একটা ভাল উদাহারণঃ “গণযুদ্ধ” কে ধারণ করা সত্ত্বেও যাকে “প্রচণ্ড পথ” বলা হয়েছে তার কখনোই উচ্চ সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক স্তর ছিলনা, যেখানে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের মূলনীতিমালার দিক থেকে এর ইতিমধ্যেই ছিল বহুবিধ ভুলভ্রান্তি।

১০. আমাদের দিগন্ত চিন্তাধারা জন্ম দেয় ও ফ্যাসিবাদকে প্রত্যাখান করে

আমাদের দিগন্ত হচ্ছে নিম্নরূপঃ প্রত্যেক দেশে কমিউনিস্ট চিন্তাধারা জন্ম হতে হবে, সমাজের সংশ্লেষণ হিসেবে, দ্বন্দ্বসমূহের সমাধানের পথ প্রদর্শন করে। উচ্চস্তরের সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক না থাকলে কমিউনিস্টরা নিজ দেশে বিপ্লব করতে পারেনা।

জনগণ সংগীত, সিনেমা ও সাহিত্যে পুর্ণ একটা সংস্কৃতিতে বাস করেন; মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের শিক্ষা এই ক্ষেত্রে সংগ্রামের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। দুনিয়ার কমিউনিস্টদেরকে তাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময় করতে হবে; বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচালনার জন্য তাদের রয়েছে একই সংগ্রাম।

যদি কমিউনিস্টরা তা করতে সক্ষম না হন, প্রতিক্রিয়াশীল শাসকশ্রেণীসমূহ অতীতে ঝাঁপ দিয়ে একটা মতাদর্শ সৃষ্টি করবে সমাজকে “পুনর্সৃষ্টি” করতে, একটা ভ্রান্ত “সমাজতন্ত্র”, যা হচ্ছে ফ্যাসিবাদ।

প্রতিটা চিন্তাধারা তাই ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন। এটা হচ্ছে গণযুদ্ধের ভিত্তি। প্রতিটি চিন্তাধারা গণযুদ্ধকে পরিচালনায় অনুমোদন দেয় যা পুরনো রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে, এবং যেহেতু এই প্রক্রিয়া নিজেকে সাধারণীকরণ করে, তা বিশ্বগণযুদ্ধে পরিণত হয়। তখন চিন্তাধারা বিশ্ব সমাজের সংশ্লেষণে পরিণত হয় যা সাম্রাজ্যবাদে ছাইয়ের ওপর জন্ম নেয়, বিশ্ব কমিউনিস্ট সমাজের গঠনের জন্য পথে এগিয়ে যায়।


নিজের বিপ্লবী জীবনের শুরু নিয়ে কমরেড গনজালো’র সাক্ষাৎকার

Shining Path guerrilla leader Abimael Guzman is pictured in jail after his capture in Lima in this September 24, 1992 file photograph. REUTERS/Anibal Solimano/File

১৯৯২ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর পেরুর লিমা থেকে শাইনিং পাথ প্রধান কমরেড গনজালো’র গ্রেফতার হওয়ার পর কারাগারে তোলা ছবি– 

১৯৩৪-এ জন্ম নেয়া গনসালো ১৯৮৮-এর সাক্ষাতকারে ঘটনাসমূহ বর্ণনা করেন যা তার জীবনকে চিত্রিত করে:

“আমি বলব রাজনীতিতে যাওয়ার পেছনে যা আমাকে সবচেয়ে প্রভাবিত করেছে তা হচ্ছে জনগণের সংগ্রাম। ১৯৫০-এ আরেকুইপাতে উত্থানের সময় আমি জনগণের যুদ্ধ উদ্যম দেখেছি-তরুণদেরকে বর্বর গণহত্যার জবাবে কীভাবে জনগণ অপরিমেয় ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে লড়েছেন।

আর আমি দেখেছি কীভাবে তারা সৈন্যবাহিনীকে লড়েছেন তাদের ব্যারাকে পশ্চাদপসারণ করতে বাধ্য করে।  আর অন্য এলাকা থেকে বাহিনী আনা হয়েছে জনগণকে ধ্বংস করতে।  এটা একটা ঘটনা যা আমাদের স্মৃতিতে ভাস্বর হয়ে রয়েছে।

কারণ সেখানে, লেনিনকে বোঝার পর, আমি বুঝলাম কীভাবে জনগণ, আমাদের শ্রেণী, যখন তারা, রাস্তায় অবস্থান নেয় ও এগিয়ে যায় প্রতিক্রিয়াশীলদের সমস্ত ক্ষমতা সত্ত্বেও তাদের কাঁপিয়ে তোলে।

আরেকটি জিনিস ছিল ১৯৫৬-এর সংগ্রাম, যখন জনগণ লড়েন, অন্যরা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলেও-যা সুবিধাবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীলরা করে থাকে, কিন্তু জনগণ লড়াই করল এবং সেই দিনটিকে বহন করল, আর গণআন্দোলন সংঘটিত হল, খুবই শক্তিশালি।  এই ঘটনাসমূহ, উদাহারণস্বরূপ, আমাকে সাহায্য করল জনগণের ক্ষমতা বুঝতে: এই যে তারা ইতিহাস সৃষ্টি করে।

আরেকটু পেছনে যাই। আমার কাল্লাওয়ে ১৯৪৮-এ জনগণ দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল, জনগণের সাহসিকতা নিজের চোখে দেখেছি, কীভাবে জনগন বীরত্বে উদ্বেল, কীভাবে নেতৃত্ব বিশ্বাসঘাতকতা করল।”

সাক্ষাতকারে তিনি ব্যাখ্যা করেন কীভাবে এসব গণসংগ্রাম তাকে সাম্যবাদে নিয়ে এসেছে:

“উচ্চস্কুল জীবনের শেষে আমার রাজনীতিতে আগ্রহ বিকশিত হয় ১৯৫০-এর ঘটনাসমূহের ওপর ভিত্তি করে।

পরবর্তী বছরগুলিতে; আমার স্কুলের সহপাঠীদের নিয়ে একটা গ্রুপ গঠন করার কথা আমার মনে আছে রাজনৈতিক ভাবধারা অধ্যয়ন করতে।  সকল ধরণের রাজনৈতিক অধ্যয়নে আমরা খুবই আগ্রহী ছিলাম।  সম্ভবত আপনি বুঝবেন সেটা কী ধরণের সময় ছিল।  এটা ছিল আমার জন্য সূচনা।

তারপর কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামে আমি দেখলাম প্রত্যক্ষ ধর্মঘট, আপ্রিস্টা ও কমিউনিস্টদের মধ্যে সংঘাত ও বিতর্কসমূহ।  তাই বইয়ের প্রতি আমার আগ্রহ জ্বলে উঠলো।কেউ একজন আমাকে একটা বই ধার দেওয়া যায় মনে করলো।  আমি বিশ্বাস করি এটা ছিল “এক কদম আগে, দুই কদম পেছনে”, আমি এটা পছন্দ করলাম, আমি মার্কসবাদী বই অধ্যয়ন শুরু করলাম।  তখন কমরেড স্তালিনের ব্যক্তিত্ব আমার ওপর বড় প্রভাব সৃষ্টি করলো। সেসময় জনগণ যারা সাম্যবাদে এসেছে, পার্টি সদস্য হয়েছে তাদের লেনিনবাদের সমস্যা ব্যবহার করে ট্রেইন করা হয়েছে।

এটা ছিল আমাদের প্রধান অবলম্বন, এর গুরুত্ব লক্ষ্য করে, আমি এটা অধ্যয়ন করি যেহেতু এটা পড়ার মতই সিরিয়াস।  স্তালিনের জীবন আমাকে আকৃষ্ট করল। তিনি ছিলেন আমাদের জন্য বিপ্লবের উদাহারণ।

কমিউনিস্ট পার্টিতে ঢুকতে আমার সমস্যা হল।  তাদের ছিল একটা উদ্ভট মানদন্ড, সদস্য হতে হলে আপনাকে একজন শ্রমিকের ছেলে বা মেয়ে হতে হবে, যা আমি ছিলামনা।  কিন্তু অন্যদের ছিল ভিন্ন মানদন্ড,তাই পার্টিতে যোগ দিতে সক্ষম হই।  আমি স্তালিনকে রক্ষায় অংশ নেই।  সেসময় স্তালিনকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া মানে আমাদের আত্মাকে কেড়ে নেয়া।  সেই দিনগুলিতে, স্তালিনের রচনা লেনিনের চাইতেও বেশি প্রচারিত ছিল।সেসময়টা এমনই ছিল।

পরে আমি কাজের উদ্দেশ্যে আয়াকুচোতে ভ্রমনে যাই।  আমি ভেবেছিলম এটা সংক্ষিপ্ত অবস্থান হবে। কিন্তু তা বছর বছর হয়ে যায়।  আমি ভেবেছিলাম এটা স্রেফ এক বছরের হবে, কারণ পরিকল্পনাটা তেমনই ছিল।  আমার ছিল আমার পরিকল্পনা, সর্বহারা শ্রেণীর ছিল তার পরিকল্পনা।

জনসাধারণ আমাদের বহুভাবে পরিবর্তন করেন। আয়াকুচো কুষক জনগণকে আবিষ্কার করতে সাহায্য করেছে। সেসময়, আয়াকুচো ছিল খুবই ছোট শহর, প্রধানত: গ্রাম।  আপনি যদি গরীব অংশে যান, এমনকি আজও সেখানে কৃষক দেখতে পাবেন।  আপনি যদি শহরতলীর দিকে যান, পনের মিনিটেই আপনি গ্রাম পেয়ে যাবেন।  সেখানেও আমি মাওসেতুঙকে বুঝতে শুরু করলাম।  আমি মার্কসবাদ বুঝতে অগ্রসর হলাম।  মার্কসবাদ ও সংশোধনবাদের মধ্যে সংঘাত ছিল আমার বিকাশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

দুরভাগ্যবাণ কেউ আমাকে এক চীনা পত্র “আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের সাধারণ লাইনের ওপর একটি প্রস্তাবনা” ধার দিয়েছিল। সে আমাকে ফেরত দেবার শর্তে ধার দিয়েছিল।নিশ্চিতভাবে এটা ছিল একটা বুঝে শুনে চুরি করা।  পত্রটি মার্কসবাদ ও সংশোধনবাদের মধ্যকার মহান সংগ্রামে গভীরভাবে ঢুকতে আমাকে চালিত করে।আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলাম পার্টির মধ্যে কাজ করতে এবং সংশোধনবাদকে উতপাটন করতে।  আমি বিশ্বাস করি, অপরাপর কমরেডদের সাথে মিলে আমরা এটা অর্জন করেছি। আমরা দুএকজনকে ত্যাগ করেছি যারা সংশোধনবাদের রঙে রঙীন হয়ে অনেক দূর গেছিল।

আয়াকুচো আমার জন্য প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এর সাথে বিপ্লবী পথ ও চেয়ারম্যান মাওয়র শিক্ষা জড়িত ছিল।  এই সমগ্র প্রক্রিয়ায় আমি একজন মার্কসবাদীতে পরিণত হলাম।  আমি বিশ্বাস করি, পার্টি আমাকে গড়ে তুলেছে দৃঢ়তা ও ধৈর্য সহকারে।


গনসালো চিন্তাধারা হচ্ছে আজকের দিনের কমিউনিস্টদের জন্য তাত্ত্বিক ভিত্তি

5-11-2004 juicio a abimael guzman en la base naval.callao. tambiem aparecen...margie calvo,elena iparraguirre,victor zavala,angelica salas,feliciano entre otros. OPSE 2004NOV06 PERU TERRORISMO PRIMER DIA DE NUEVO JUICIO A ABIMAEL GUZMAN   Y OTROS CABECILLAS DE SENDERO LUMINOSO EN LA IMAGEN GUZMAN LEVANTANDO EL PUNO GESTOS ARENGAS  CREDITO ENRIQUE CUNEO  EL COMERCIO PERU 2004NOV06 AFD

 কমরেড গনসালো, ০৫-১১-২০০৪

গনসালো চিন্তাধারা হচ্ছে আজকের দিনের কমিউনিস্টদের জন্য তাত্ত্বিক ভিত্তি

–    পেরুর গণ আন্দোলন(এমপিপি)

নভেম্বর ২০০৬

মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ হচ্ছে সর্বহারাশ্রেণীর একমাত্র, অপরাজেয় ও চির অম্লান মতাদর্শ এবং ইতিহাসের সবচেয়ে অগ্রসর ও চূড়ান্ত শ্রেণী মতাদর্শ। এখানে চাবিকাঠি প্রশ্ন হচ্ছে চেয়ারম্যান গনসালো কিভাবে মাওবাদ-কে তৃতীয়, নতুন ও উচ্চতর স্তর হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন; এটা এক অতি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, কেননা শুধুমাত্র এভাবেই আমাদের পার্টি মাওবাদকে উপলব্ধি করে, আমাদের পার্টি বোঝাতে চায়mpp3 যে মাওবাদের আছে তিনটি স্তরঃ লেনিনবাদ মার্কসবাদের উপর নিজেকে দাঁড় করায় এবং মাওবাদ নিজেকে পূর্ববর্তী দুটির উপর দাঁড় করায়, কিন্তু তাদের বিকাশ সাধন করে। সুতরাং মাওবাদ হচ্ছে নতুন ও তৃতীয় এবং যেহেতু এটা মার্কসবাদ-কে একটা উচ্চতর স্তরে বিকশিত করেছে, মাওবাদ হচ্ছে অধিকতর উচ্চতর (Superior)।

এই চাবিকাঠি প্রশ্ন থেকেই যাত্রা শুরু করে পার্টির প্রথম কংগ্রেসে প্রতিষ্ঠিত গনসালো চিন্তাধারা হচেছ্ পেরুর সমাজ ও আজকের দুনিয়ার মূর্ত নির্দিষ্ট বাস্তবতায় মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, প্রধানত মাওবাদের সার্বজনীন সত্যের প্রয়োগ। সেই কারণে আমরা বলি যে গনসালো চিন্তাধারার সবচেয়ে পূর্ণতর ও সর্বাধিক বিকাশ পার্টির সাধারণ রাজনৈতিক লাইনে পাওয়া যায় এবং মার্কসবাদে গনসালো চিন্তাধারার অবদান ও বিকাশও সেখানে সুনির্দিষ্ট। এমনকি তদপেক্ষা, গনসালো চিন্তাধারা গণযুদ্ধের নয়া সমস্যাবলীর সমাধান দেয় এবং বিশ্ববিপ্লবের জন্য রণনীতি ও রণকৌশলের ভিত্তিসমূহের বিকাশ সাধন করেছে; এটা প্রতিষ্ঠা করেছে এর তিনটি স্তর বা পর্যায়কালকে, বিশ শতকের ১৯৮০র দিকে তৃতীয় পর্যায়কালে আমাদের অনুপ্রবেশকে এটা সঠিকভাবে নিরূপন করেছে; ১৯৯২ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান গনসালো তাঁর কর্তৃত্বব্যঞ্জক বক্তব্যে দিক নির্দেশ দিয়েছিলেন যে বিশ্ব সর্বহারা বিপ্লবের এক নয়া মহাতরঙ্গে আমরা প্রবেশ করছি। পার্টির ভিতরকার বিরুদ্ধ ডানপন্থী মতাবস্থানসমূহ ও লাইনকে মোকাবেলা করে ও তাকে চূর্ণ করে, (এবং পরবর্তীতে রিম-এর হৃতপিন্ডের ভিতর গণযুদ্ধের শক্তিশালী অগ্রগতিসহ), চেয়ারম্যান গনসালো সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও আগ্রাসনকে সাহসের সাথে মোকাবেলা ও বিপ্লব সংঘটিত করার জন্য  পেরুসহ দুনিয়ায় গণযুদ্ধের সূচনা ও বিকাশের আশু প্রয়োজন, সুযোগ ও সম্ভাবনাকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন-এই বাস্তবতা থেকে যাত্রা করে যে বর্তমান বিশ্বে বিপ্লব প্রধান ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে এবং পেরু ও সমগ্র বিশ্বে এক বিপ্লবী পরিস্থিতির অসমান বিকাশের অস্তিত্বমানতা, শোষিত দেশসমূহ হচ্ছে বিশ্ববিপ্লবের ভিত্তি কেননা সেখানেই বিশ্বজনগণের বৃহত্তর অংশ কেন্দ্রিভূত আর বিপ্লব অধিকতর শক্তি নিয়ে ফুটন্ত অবস্থায় বিরাজ করছে-সংশোধনবাদের ধূর্তামী চূর্ণ করেছেন কারণ তারা বিশ্বের বিপ্লবী পরিস্থিতির অস্তিত্বমানতা অস্বীকার করে, বিপ্লবী সংকটের সাথে বিপ্লবী পরিস্থিতিকে জড়িয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কমিউনিস্ট পার্টিগুলোর পুনর্গঠন, এর সামরিকীকরণ ও সমকেন্দ্রিক বিনির্মাণের প্রয়োজনীয়তাকে চেয়ারম্যান গনসালো প্রতিষ্ঠা করেছেন, এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য নির্ধারক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত মার্কসীয় রাজনৈতিক অর্থনীতির তিনি বিকাশ সাধন করেছেনঃ এর আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদকে, একে সাধারণীকরণ করে এবং এর বিকাশের নিয়ম ও স্তরসমুহের প্রতিষ্ঠা করেছেন, সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে বিপ্লবের জন্য পরিস্থিতিকে এটা পরিপক্ক করে। বিশ্ব বিপ্লবে চেযারম্যান গনসালো কিভাবে অবদান রেখেছেন এগুলো হচ্ছে তার অল্পকিছু উদাহারণ। আর এভাবেই মার্কসবাদ বিকশিত হচ্ছে। রিম গঠনকারী পার্টি ও সংগঠনসমূহ, RCP সহ, সেই কারণে এর চেয়ারম্যান কম. এভাকিয়ান, ১৯৯৩ সালের তাদের এই ঘোষণাঃ মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ দীর্ঘজীবি হোক!, কে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন, যেখানে এই ঘোষণার সূচনাতে পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির পরিপূর্ণ ভূমিকা পালন এবং গণযুদ্ধে এর নেতৃত্ব উল্লেখ করা হয়েছে, যা মাওবাদের স্বীকৃতিদানের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে রিম-কে সহায়তা করেছিল, ১৯৮৪ সালে যাকে বাতিল করা হয়েছিল। এটাই এখানে বড় হরফে রয়েছে: তত্ত্ব ও অনুশীলনের ক্ষেত্রে এই অগ্রগতিসমূহ (পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বাধীন গণযুদ্ধ-আমাদের নোট) সর্বহারার মতাদর্শের আমাদের আত্মস্থকরণ অধিকতর গভীর করতে এবং এই ভিত্তির উপর মার্কসবাদের নতুন, তৃতীয় ও উচ্চতর স্তর হিসেবে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের স্বীকৃতিদানে এক সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নিতে আমাদেরকে সমর্থ করে তুলেছে।

চেয়ারম্যান গনসালো, গনসালো চিন্তাধারা জন্ম দিয়েছেন যা আজকের পেরু এবং বিশ্বের কমিউনিস্টদের অনুশীলনের জন্য, গণযুদ্ধের জন্য তত্ত্বগত ভিত্তি স্বরূপ, যখন আমরা বিশ্বসর্বহারা বিপ্লব বিকাশের এক মহাতরঙ্গে প্রবেশ করেছি তখন গনসালো চিন্তাধারাই হচ্ছে আজকের বিশ্ববিপ্লবের তাত্ত্বিক ভিত্তি। এভাবেই গনসালো চিন্তাধারা মার্কসবাদের বিকাশে অবদান রাখছে এবং না সাম্রাজ্যবাদ না প্রতিক্রিয়া এটা চায়-সংশোধনবাদীদের অবস্থা এর চেয়ে নিম্নমানের। তারা চায়না চেয়ারম্যান গনসালোর মতো একজন তাত্ত্বিক বা ‘নেতা’ কে যিনি চেয়ারম্যান মাওয়ের তুলে ধরা চাহিদাকে পূরণ করেনঃ তত্ত্বগত দৃঢ়তা, ইতিহাসের উপলব্ধি এবং রাজনীতির উত্তম ব্যবহারিক পরিচালনা, তাই তারা তাকে মেরে ফেলতে চায় যাতে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, প্রধানত মাওবাদের বিকাশ সাধনকারীর অনুপস্থিতিমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এটা স্বীকৃত যে, কম, এভাকিয়ান ও অন্যরা শুধুমাত্র প্রতিক্রিয়ার সাথে পরিপূর্ণভাবে সমকেন্দ্রিকই হয় নি বরং তারা চেয়ারম্যান গনসালোর এই আবদ্ধাবস্থা কামনা করে এবং গোঁড়ামীবাদী-সংকীর্ণতাবাদী সংশোধনবাদী হিসেবে অভিয্ক্তু করে তারা তাকে আক্রমণ করে, অপমান করে, তারা ভুলে যায় তাদের দ্বারা লিখিত, স্বাক্ষরকৃত ও স্বীকৃত ১৯৯৩ সালের রিমের ঘোষণায় রয়েছে মার্কসবাদে চেয়ারম্যান গনসালোর সীমাতিক্রমকারী অবদানের স্বীকৃতি।

এভাবে দেখা যাচ্ছে, মতাদর্শিক সংগ্রাম আরো শক্তি অর্জন করে এবং তাই আমরা যখন সত্যগুলোকে ও বিষয়গুলোকে খোলাখুলিভাবে বলি তখন তা রিমভুক্ত কিছূ পার্টি ও সংগঠনের কিছু কমরেডদের আঘাত লাগে। নির্দিষ্টভাবে, কমরেড এভাকিয়ান একটা বিষয়ের জন্য, মাওবাদকে সংজ্ঞয়িত করার জন্য চেয়ারম্যান গনসালোকে ক্ষমা করতে পারেননা। রিমের জন্ম থেকেই চেয়ারম্যান গনসালো এভাকিয়ানের মতাবস্থানগুলোকে ; মাওবাদ ও গণযুদ্ধের বিরোধিতাকে তীব্র সমালোচনামূলকভাবে চিহ্নিত করেছেন এবং রিমের অভ্যন্তরে তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে উন্মোচন করেছেন। সেই কারণে আরসিপি চেয়ারম্যান সর্বদাই তার মতাবস্থানগুলোকে মধ্যবর্তী মাধ্যমের সাহায্যে উপস্থাপন করতে চেষ্টা করেন এবং মুখোমুখিভাবে দুই লাইনের সংগ্রাম পরিচালনায় অবতীর্ণ হননা।

আমরা জানি যে ডান ও তার মাথাকে চূর্ণ করাই প্রয়োজন এবং পরবর্তী সময়ে যারাই ডানপন্থী অবস্থানকে গ্রহণ করবে তাদেরকেই শেষে চূর্ণ করতে হবে; কারণ, দ্বান্দ্বিক গতিবিদ্যার নিয়মে সর্বদাই বিপরীতের সংগ্রাম চলবে। চেযারম্যান গনসালো সর্বদাই আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছেন; এটা হচ্ছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের অভিজ্ঞতা। পেরুতেও এরকমটা ছিল, যেই একে (ডানপন্থী অবস্থান) ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছিল তার বিরুদ্ধেই এটা (চূর্ণ) করা হয়েছিল, যে মুখ খুলেছে তার বিরুদ্ধে নয়। অন্যেরা পদের জন্য তাদের প্রাণপন চেষ্টার কারণে অতিকথন করছেন, তারা রিমে একজন ‘নেতা’ খোজার চেষ্টা করছেন। আমরা ভুলি নাই ঘৃণ্য তেং এর কার্যকলাপকে, সেও অন্যদের ব্যবহার করত পরবর্তীকালে পর্দার অন্তরালের স্রষ্টা হিসেবে নিজেকে জাহির করার জন্য, যার জন্য ইয়াংকি সাম্রাজ্যবাদের কাছে সে নিজের আত্মাকে বিক্রি করেছে। আজকে অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে আরো বেশী প্রয়োজন যা চেয়ারম্যান গনসালো বলেছেনঃ মৃত্যু অবধি সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম। পার্টি অভিজ্ঞতা আমাদের অনুমতি দেয় এই সকল বিষয়কে বুঝতে যাতে এর (দক্ষিণপন্থী অবস্থান) ছদ্মবেশী আবরণকে খুলে দিতে পারি।

কেউ কেউ এক গণযুদ্ধের বিরুদ্ধে অন্য গণযুদ্ধকে স্থাপন করতে চেষ্টা করে, যেমন পেরুর গণযুদ্ধের বিরুদ্ধে নেপালের গণযুদ্ধকে এবং তারা বলে যে নেপালের গণযুদ্ধ যদি পেরুর গণযুদ্ধের চেয়ে “অধিকতর অগ্রসর” হয়, এবং দ্বিতীয়টি জটিল ও কঠিন পরিস্থিতির ভিতর দিয়ে যাচ্ছে, এটার কারণ হচ্ছে একটার ‘পথ’ অন্যটার ‘চিন্তাধারা’র চেয়ে উতকৃষ্টতর, এভাবে যুদ্ধে জনগণের বিস্ফোরক অগ্রগতি নিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে, গণতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত করার পরিবর্তে যৌথ একনায়কত্বকে সংস্থাপন করা হচ্ছে; এভাবে তারা বিতর্ক এড়ানোর চেষ্টা করে এবং নিছক এটা বলে যেঃ আমাদের অনেক শক্তি আছে, আমাদের অনেক সম্পদ (Resource) আছে।

এই মতাদর্শিক সংগ্রামকে আমরা মহান দায়িত্বরূপে ধারণ করি; আমরা পরিষ্কার যে আমরা কি চাই, কারণ মুক্ত প্রতিজ্ঞাসহ দৃঢ় প্রত্যয় দ্বারা আমরা এটা ধারণ করি। আমাদের অবশ্যই সর্বদা দূরপানে তাকাতে হবে; আমরা এটাকে দৃঢ়ভাবে ধারন করি। যখন ২০০৪ইং এর নভেম্বরে আমাদের পার্টি আমাদের সতর্ক করেছিল যে আরো বিশোধিত মতাদর্শিক সংগ্রাম হবে, এবং আমাদের অতি অবশ্যই গনসালো চিন্তাধারাকে রক্ষা করতে হবে। অতঃপর আমরা প্রতিক্রিয়ার সকল চালাকির অসারতা প্রমাণ করি, যেমন ‘সাধারণ ক্ষমা’র নয়া প্রতিক্রিয়াশীল প্রতারণা যা চেয়ারম্যান গনসালোর বিরুদ্ধে ‘বিচার’-এর প্রতারণা (Hoax) সাথে অবিচ্ছেদ্য, কাজেই পুরনো রাষ্ট্র, প্রতিক্রিয়া, সি.আই.এসহ সংশোধনবাদী ও আত্মসমর্পণকারী ROL (ডান সুবিধাবাদী লাইন) এর চামচাদের দ্বারা সরবরাহকৃত প্রমাণ ছাড়া দুনিয়ার নতুন-পুরাতন সংশোধনবাদীদের হাতে আর কোন যুক্তি প্রমাণ নেই।

আমরা পেরুর গণআন্দোলন (এমপিপি), যেমন পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি জনসম্মুখে ঘোষণা দিয়েছে, চেয়ারম্যান গনসালো ও তাঁর সর্বশক্তিমান চিন্তাধারাকে রক্ষার আমাদের প্রতিশ্রুতিকে আমরা ধারন করি, বিশ্ববিপ্লব ও গণযুদ্ধকে সেবা করার মাধ্যমে, এটা আমরা নিরন্তরভাবে পালন করি, সর্বদাই এই নিশ্চয়তা সহকারে যে এমপিপি জীবনের মূল্যে হলেও এরকম উচ্চ ভূমিকা পালন করে। অপরপক্ষে, ঐসকল লোকদের পরিণতি কি হল? ইউরোপের ঐসকল সিএসআরপি ও ইউএসের লোকেদের অথবা ঐসব বাজে সাংবাদিকদের? যখন ‘পত্রগুলো’ আবির্ভূত হল, প্রথম তারা বলেছিলঃ হয় তিনি অথবা তিনি নন? সম্ভবতঃ হ্যাঁ অথবা সম্ভবতঃ না; কোরিম (রিম কমিটি) পর্যায়ে প্রকাশিত সংশোধনবাদী অবস্থানের সাথে হয় এভাবে নয় ওভাবে পরিশেষে তারা এক কাতারে মিলিত হতে এই অবস্থানকে তারা ব্যক্ত করল যে তারা সংগ্রামরত; স্ফটিকের মতো স্বচ্ছভাবে বিষয়গুলো যখন আমরা তাদের বললাম, ঐ মতাবস্থানের প্রতিনিধিদের তা আঘাত করলো। শুধুমাত্র আমরাই তাদের মনে করিয়ে দিলাম যে রিমের একেবারে প্রথম মুহুর্ত থেকে চেয়ারম্যান গনসালো তীব্র সমালোচনামুলকভাবে চিহ্নিত করেছেন কমরেড এভাকিয়ানকে।

দুই লাইনের সংগ্রামের বিকাশের প্রশ্নে নয়া প্রজাতন্ত্র, ঘাঁটি, নয়া ক্ষমতা-কে আমরা কিভাবে উপলব্ধি করি, আমরা অবিরামভাবে আমাদের সেই মতাবস্থানকে প্রতিষ্ঠা করছি, মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, গনসালো চিন্তাধারার প্রয়োগে, কীভাবে এটা আমাদের সৃষ্টি ও ধ্বংসের অনুমতি দেয়, বিপ্লবের তিন হাতিয়ারের সমকেন্দ্রিক বিনির্মাণ, এক নয়া অর্থনীতি, নয়া সংস্কৃতির নির্মান, ইত্যাদি এবং সর্বহারা একনায়কত্বের একটা প্রকাশ হিসেবে যৌথ একনায়কত্বে পুরোনো রাষ্ট্র, এর পেটি-পার্টিসমূহ, চার্চ, এর ‘প্রতিবিধান’ ও এর এন.জি.ওসমূহের ধ্বংস সাধন। এসমস্ত সকল নয়া বিষয়সমূহ, নয়া ক্ষমতাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা, রক্ষা করা এবং বিকাশ করা হয়েছে বাহিনী সহকারেঃ মিলিশিয়া, স্থানীয় বাহিনী, প্রধান বাহিনী; বিকশিত করা হয়েছে এক উচ্চতর চলমান গণযুদ্ধের মাধ্যমে। মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের প্রয়োগে আমাদের অভিজ্ঞতাকে আমরা পার্টি ও সংগঠনসমূহের কাছে ব্যাখ্যা করছি এবং যারা নিজেদের এর নীতিসমূহ থেকে দূরে রাখছে যেমন ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’ ওয়ালারা, তারা পার্টি, নয়া ক্ষমতা, দখলীকৃত অর্জনগুলোকে বিলোপ করায় নেতৃত্ব দিচ্ছে, এখানে দুইটি পরিপ্রেক্ষিত, এক, দীপ্তিময় গণযুদ্ধে অটল থাকা, যা আমরা করছি এবং অন্যটি হচ্ছে কালো আঁধার, বিশ্বাসঘাতকতা, যদি কেউ গণযুদ্ধে অটল না থাকে, যদি কেউ এর থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখে। পেরুর কমিউনিস্ট পার্টি, বিদেশে তার পার্টির কাজের অঙ্গ এমপিপি, সকল মাওবাদী এবং সকল মাওবাদী পার্টি ও সংগঠনসমুহের সাথে একত্রে এই সংগ্রামকে বহন করে যাচ্ছে। কারণ আমাদের প্রয়োজন মাওবাদের মূর্ত প্রকাশ, এবং এটাই বিশ্ব সর্বহারা বিপ্লবের নয়া মহাতরঙ্গ পরিচালনা, নেতৃত্ব দিতে কমিউনিস্ট পার্টিসমূহ সৃষ্টি করার কাজ চালিয়ে যায় এবং আপোষ ও দ্বন্দ্বে নেতৃত্ব দেয়া একচ্ছত্র আধিপত্যবাদী পরাশক্তি হিসেবে ইয়াংকী সাম্রাজ্যবাদ-নেৃতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদ, প্রতিক্রিয়া ও সংশোধনবাদী সাধারণ প্রতিবিপ্লবী আক্রমণ চূর্ণ করে।

মাওবাদ জিন্দাবাদ!

চেয়ারম্যান মাও সেতুঙ জিন্দাবাদ!

বর্তমান দুনিয়ার মহানতম জীবিত মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী চেয়ারম্যান গনসালা জিন্দাবাদ!                                     

দুনিয়ার সর্বহারা এক হও!