এল সালভাদরের কমিউনিস্ট কবি ‘রোকে ডালটন-এর ৩টি জনপ্রিয় কবিতা

Rdalton475x300

রোকে ডালটন– লাতিন আমেরিকার-এল সালভাদরের-লড়াকু কম্যুনিস্ট কবি

রোকে ডালটন লাতিন আমেরিকার-এল সালভাদরের-লড়াকু কম্যুনিস্ট কবি। জন্ম ১৯৩৫ সালে। তিনি পড়াশোনা করেন শুধু এল সালভাদরেই নয়; মেক্সিকো এবং চিলিতেও পড়াশুনার জন্য তার কিছু সময় কাটে। ১৯৫৫ সালে নিজ দেশে তিনি কম্যুনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। মারা যান ১৯৭৫ সালে। আসলে তাকে মেরে ফেলা হয় এক বিছিন্নতাবাদী কোন্দলের ভেতর দিয়েই। রোকে ডালটনের বেশ কয়েকটি কবিতার বই আছে- যেগুলো লাতিন আমেরিকার সাহিত্যে একাধিক অর্থেই বিপ্লবী কাজের দৃষ্টান্ত হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আছে। খোদ মার্কস একবার লেখকদের পরামর্শ দিয়েছিলেন এই বলে, ‘তোমরা তোমাদের জমাটবাধা ধারণাগুলোকে একসঙ্গে এমনভাবে ঘঁষতে থাকো যাতে আগুন ধরে!’ মার্কসের এই পরামর্শটাকেই যেন রোকে ডালটন তাঁর মতো করেই গ্রহণ করেছিলেন আর কবিতার স্পেসেই তৈরি করেছিলেন অগ্নিঝরা, জীবন ও জগৎ বদলানো, লিপ্ত ‘ডায়ালেকটিকস্’, ভাষার আর সৌন্দর্যের সম্ভাবনাকে সম্প্রসারিত করেই।

কেবল তো শুরু

এক বন্ধু, এক ধরনের কবিও,
মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবীর হা হুতাশকে
এভাবে বর্ণনা করলেন:
‘আমি তো বুর্জোয়ার কয়েদবন্দী
যা আমি তা ছাড়া আর কীই বা হতে পারি।’
আর মহান বের্টোল্ট ব্রেখট,
কম্যুনিস্ট, জর্মন নাট্যকার ও কবি
(ক্রমটা ঠিক তাই) লিখেছিলেন:
‘ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অপরাধের তুলনায়
একটা ব্যাংক ডাকাতি তেমন কি আর মন্দ কাজ?’
এ থেকে আমি যে উপসংহার টানি
তা হলো: যদি নিজেকে অতিক্রম করতে গিয়ে
মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী
ব্যাংক ডাকাতি করেই ফেলে
তখন পর্যন্ত সে কিছুই করে নাই
কেবল নিজেকে একশ’ বছরের ক্ষমা
পাইয়ে দেওয়া ছাড়া।

উপদেশ

কখনো ভুলিও না
ফ্যাসিস্টদের মাঝে
সবচাইতে কম ফ্যাসিস্টও
ফ্যাসিস্ট।

উদ্বৃত্ত মূল্যের উপর, 
অথবা মালিক দুইবার ডাকাতি করে প্রতিটি শ্রমিককে

নারীর গার্হস্থ্যশ্রম
পুরুষের জন্য সময় বের করে
যাতে সে সামাজিকভাবে প্রয়োজনীয় কাজটা
সারতে পারে
যার জন্য সে আবার পুরা মজুরিটাও পায় না
(তার বড় অংশের মূল্যকে
পুঁজিপতি ডাকাতি করে নিয়ে যায়)
পায় ততোটুকু
যাতে সে বেঁচেবর্তে থাকে আর কাজ
করে যেতে পারে
সেই মজুরি নিয়েই
পুরুষ বাড়ি ফেরে
আর বউকে বলে:
দ্যাখো, টাইনাটুইনা চালায়া নিতে পারো কিনা
যাতে ঘরের কাজের সকল খরচাপাতি
মিটাইতে পারো।

[লেখাটি সাহিত্য পত্রিকা ওঙ্কার-এর ২০১৫-ফাল্গুন সংখ্যায় প্রকাশিত]