কলম্বিয়ার বামপন্থী গেরিলা দল ELN এর সঙ্গে ফের আলোচনা শুরু

1495010000_0

কলম্বিয়া সরকার ও বামপন্থী ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি গেরিলাদের মধ্যে মঙ্গলবার আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির নিত্যদিনের সংঘাত বন্ধে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তারা এ আলোচনা শুরু করে বলে জানায় বার্তা সংস্থা এএফপি।

কলম্বিয়ার অর্ধ শতাব্দী ধরে চলা সংঘাত নিরসনের লক্ষে ইকুয়েডরের রাজধানীতে উভয় পক্ষ আবারো আলোচনার টেবিলে ফিরে যায়। উল্লেখ্য, দীর্ঘ চার বছর ধরে আলোচনার পর গত নভেম্বর মাসে কলম্বিয়ার বৃহত্তম মার্কসবাদী গেরিলা দল ফার্ক সরকারের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে।

ফার্কের মতো ইএলএনের সঙ্গে একই শান্তি চুক্তি করার লক্ষ্যে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়ার আমন্ত্রণে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোসের প্রতিনিধি দল ও ইএলএনের মধ্যে আবারো আলোচনা শুরু করা হলো। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

ইএলএনের শান্তি আলোচক পাবলো বেলট্রান বলেন, ‘আমি আশা করছি আলোচনার মাধ্যমে দ্বি-পাক্ষিক অস্ত্র বিরতির ব্যাপারে আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবো।’

এদিকে সরকারও দেশটির সংঘাত নিরসনের অঙ্গীকার করেছে। গ্রামাঞ্চলের ভূমি অধিকারের জন্য ফার্ক ও ইএলএন অস্ত্র হাতে তুলে নেয়ায় ১৯৬৪ সালে কলম্বিয়ায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এ সংঘাতে দেশটিতে কমপক্ষে ২ লাখ ৬০ হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছে এবং ৭০ লাখেরও বেশী লোক গৃহহীন হয়েছে। এএফপি।

 

Advertisements

কলম্বিয়ায় বামপন্থি গেরিলা দল ELN এর সর্বশেষ নেতা নিহত

ইএলএন গেরিলা

কলম্বিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর এক অভিযানে কলম্বিয়ার বামপন্থি গেরিলা দল ‘ লিবারেশন আর্মি-ELN’ এর সর্বশেষ নেতা নিহত হয়েছেন।  ২৩শে মার্চ, বৃহস্পতিবার, দেশটির প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস একথা জানিয়েছেন।

সান্টোশ টুইটারে লিখেন, ‘ইএলএন এর জোসে এন্তনিও গালান ফ্রন্টের প্রধান নেতা আলভারো গেলভেস ওর্তেগা ওরফে জাইরোকে দমন করায় আমি আমাদের পাবলিক ফোর্সকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

কলম্বিয়ার জাতীয় পুলিশের পরিচালক জেনারেল জর্জ নিয়েতো টুইটারে লিখেন দেশের উত্তরাঞ্চলীয় বলিভার এলাকার উত্তরে এই অভিযান চালানো হয়। এতে ওর্তেগা নিহত হয়েছেন।

বামপন্থী ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) ও সান্টোশ সরকারের মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শান্তি আলোচনা চলছে।

উভয়পক্ষের মধ্যে অস্ত্রবিরতি হয়নি। এর মধ্যেই সান্টোশ আলোচনার মাধ্যমে দেশে ‘সম্পূর্ণ শান্তি’ স্থাপনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কলম্বিয়া সরকারের একদিকে শান্তি প্রচেষ্টার নাম, আর অপরদিকে হত্যা করা হয়েছে এই বামপন্থি গেরিলা নেতাকে।

অথচ শান্তির জন্যেই প্রেসিডেন্ট সান্টোশকে নোবেল দেয়া হয়েছিল। আর তিনিই কিনা শান্তি আলোচনার নামে এই বামপন্থি গেরিলা নেতাকে হত্যার নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

সূত্রঃ http://www.gulf-times.com/story/539739/ELN-leader-killed-by-Colombian-security-forces


কলম্বিয়াঃ অস্ত্র কেনা বন্ধ করেছে মার্কসবাদী গেরিলা দল ফার্ক

download

কলম্বিয়ার বামপন্থী মার্কসবাদী গেরিলা দল ফার্কের নেতা অস্ত্রশস্ত্র কেনা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, টিমোচেনকো নামে পরিচিত রডরিগো লন্ডোনো একহেভেরি সেপ্টেম্বরেই এই নির্দেশ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাত বন্ধে ফার্কের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন টিমোচেনকো। প্রায় তিন বছর ধরে কলম্বিয়া সরকারের সঙ্গে দেশটির বামপন্থি ফার্ক গেরিলা দলের শান্তি আলোচনা চলছে। উভয়পক্ষই জানিয়েছে,আসছে মার্চে একটি শান্তিচুক্তিতে সই করতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা। ২০১২ সালের নভেম্বরে কিউবা সরকারের উদ্যোগে দেশটির রাজধানী হাভানায় কলম্বিয়া সরকার ও ফার্ক নেতৃবৃন্দের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়।

গত জুলাইয়ে গেরিলাদের পক্ষ থেকে কলম্বিয়া সরকারকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও তাদের ওপর স্থল অভিযান অব্যাহত রাখে দেশটির সেনাবাহিনী। যদিও ওই প্রস্তাবের পর বিমান হামলা বন্ধ রাখে দেশটির সরকার। দীর্ঘদিনের আলোচনায় চারটি মূল বিষয়ে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।

সূত্রঃ  http://www.bbc.com/news/world-latin-america-34784029


কলম্বিয়াঃ হাজার হাজার সাধারণ নাগরিকদের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সেনাবাহিনীর জেনারেলদের দাবী, নিহতরা সকলে ছিল মার্কসবাদী ফার্কের গেরিলা সদস্য

0248

বুধবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচডগ প্রকাশিত “পর্যবেক্ষণঃ কলম্বিয়ায় ‘False positive’ হত্যাকাণ্ড চালানোর ঘটনায় উর্ধ্বতন আর্মি অফিসারদের দায়ভারের প্রমাণ মিলেছে” শিরোনামে ৯৫ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এধরনের অন্তত ৩,০০০ ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে প্রসিকিউটররা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচডগ এর প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এক্সিকিউটিভ আমেরিকার ডিরেক্টর জোসে মিগুয়েল ভিভানকো বলেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিমা গোলার্ধে গণহত্যার জঘন্যতম অধ্যায়ের অন্যতম হল “False positive” হত্যাকাণ্ড আর এ হত্যাকাণ্ডের জন্য অনেক উর্ধ্বতন আর্মি অফিসাররা দায়ী।”

এই কথিত “False positive” হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটরদের কাছে মিলিটারি সদস্যদের দেয়া সাক্ষ্য প্রমাণের রেকর্ড ও কাগজপত্র, অন্যান্য প্রসিকিউটরদের প্রদত্ত অফিসিয়াল তথ্য, ক্রিমিনাল কেস ফাইল এবং সাক্ষী, নিহতদের পরিবার ও তাদের আইনজীবীদের সাক্ষাৎকারের উপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরী করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াচডগ।

ওয়াচডগ প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, সৈনিকরা জানিয়েছে যে জেনারেল ও কর্ণেল সহ তাদের উর্ধ্বতন অফিসাররা তাদের উপর এই সব অপরাধ সংঘটিত করার হুকুম জারী করত এবং তাতে সহযোগিতা করত।

ভিভানকো আরো জানান, “এরপরেও হত্যাকাণ্ডের সময় অভিযুক্ত আর্মি অফিসাররা বিচারকে ফাঁকি দিয়ে মিলিটারি কমান্ডের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছে, এমনকি আর্মি ও সশস্ত্র বাহিনীর বর্তমান প্রধান পদগুলোতে তারা রয়েছে।”   

প্রসিকিউটররা অনুসন্ধান করে জানিয়েছেন যে ২০০২ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সেনাবাহিনীর ১৮০টিরও বেশী ব্যাটেলিয়ন ও অন্যান্য ইউনিট এইসব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং নিহতদেরকে কলম্বিয়ার মার্কসবাদী বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী-গণ বাহিনী (ফার্ক) (FARC) এর গেরিলা বলে দাবী করেছে।  

ভিভানকো বলেন, “প্রসিকিউটররা তাদের মামলা চালাতে বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন; মামলার প্রধান সাক্ষীদের উপর প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে, এছাড়া মিলিটারি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার অভাব রয়েছে।”  তিনি আরো বলেন, “শত শত ‘false positive’ হত্যাকাণ্ডের মামলা মিলিটারিদের বিচার ব্যবস্থায় রয়েছে, যে ব্যবস্থা বাস্তবসম্মত উপায়ে অভিযুক্তদেরকে শাস্তি থেকে রেহাই দেয়ার গ্যারান্টি দেয়।”   

সূত্রঃ

http://www.systemiccapital.com/colombian-generals-killed-thousands-of-civilians-claimed-they-were-farc/


কলম্বিয়ায় বিমান হামলায় মার্কসবাদী ফার্ক সংগঠনের ১৮ গেরিলা নিহত

images

কলম্বিয়ায় সেনাবাহিনীর এক বিমান হামলায় ১৮ ফার্ক গেরিলা নিহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এ হামলা চালানো হয়। প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সান্টোস গত মাসে মার্কসবাদী সংগঠনটির ওপর বিমান হামলার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর এটাই সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা। খবর এএফপি।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘১৫ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট সান্টোস গেরিলাদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরুর নির্দেশ দেয়ার পর এটাই ফার্ক বিদ্রোহীদের ওপর প্রথম বড় আঘাত।’ তিনি আরও জানান যে,শান্তি প্রক্রিয়া সফল না হওয়া পর্যন্ত এমন হামলা চলতেই থাকবে। সরকারি এক টুইটার বার্তাতেও এ বক্তব্য সমর্থন করা হয়েছে। দেশটির পুলিশ ও সেনাবাহিনী সম্মিলিতভাবে এ বিমান হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, সাম্প্রতিক এই হামলা সরকার ও বিদ্রোহী পক্ষের মাঝে চলমান শান্তি আলোচনায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে। কারণ বিমান হামলা এমন সময় চালানো হয়েছে, যেদিন এই দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুণরায় শুরু হয়েছে। গত বছর ফার্ক বিদ্রোহীরা শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি আনতে একতরফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল। তবে যুগপত্ভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিতে রাজি ছিল না কলম্বিয়ার সরকার। অবশ্য বিমান হামলা কিছুদিনের জন্য বন্ধ করা হয়েছিল।

images (1)

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে কলম্বিয়ার সরকার ও ফার্ক বিদ্রোহীদের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়। তবে দুই পক্ষের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে প্রায়শই এ আলোচনা স্থগিত হয়ে গেছে। প্রায় এক দশক ধরে চলা এ সংঘর্ষে দেশটিতে প্রায় ২ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে।

সুত্রঃ http://www.theguardian.com/world/2015/may/22/colombian-army-kills-18-farc-rebels