কাস্ত্রোর তিনটি প্রবন্ধ

1429204323

জৈব জ্বালানী (১)

মাত্র পাঁচ-শ বছর আগের কথা। ক্রিস্টোফার কলম্বাসের সময়। আজকের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু নগর ছিলই না তখন। আর, কয়েকটি নগরের জনসংখ্যা কয়েক লাখের বেশী হবে না। কারো বাড়িতেই তখন আলো জ্বালাতে এক কিলোওয়াট বিদ্যুৎও খরচ হতো না। তখন পৃথিবীর জনসংখ্যা সম্ভবত ৫০ কোটির বেশী ছিল না। বিশ্বের জনসংখ্যা শত কোটির কোঠায় প্রথমবারের মত পৌঁছালো ১৮৩০ সালে। এর একশ ত্রিশ বছর পরে সেই সংখ্যা তিন গুণ বেড়ে গেলো। এর ছেচল্লিশ বছর পরে এই গ্রহে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ালো সাড়ে ছয়শ কোটিতে। এই জনসংখ্যার বিপুল অংশ গরিব। এদেরকে পশুর সাথে খাদ্য ভাগ করে নিতে হয়। আর এখন ভাগ বসাতে হচ্ছে জৈব — জ্বালানীতে বা বায়োফুয়েলে।

আজ কম্পিউটার আর যোগাযোগ মাধ্যম ক্ষেত্রে যেসব অগ্রগতি ঘটেছে, সেদিন মানুষ জাতির সেসব হয় নি। তবে দুটি বিশাল মানব বসতির ওপর ততদিনে প্রথমবারের মত আণবিক বোমা ফেলা হয়ে গেছে। সেটা ছিল প্রতিরাষ্ট্র ব্যবস্থাহীন বেসামরিক জনসাধারণের বিরুদ্ধে এক নির্মম সন্ত্রাসবাদী কাজ। যে কারণে এমন কাজ করা হলো, তা একেবারেই রাজনৈতিক।

আজ, পৃথিবীতে আছে হাজার হাজার পারমাণবিক বোমা। এসব বোমা প্রথমবারের মত ফেলা আণবিক বোমার চেয়ে পঞ্চাশ গুণ শক্তিশালী। এসব বোমা বহনের যে ব্যবস্থা, সে বাহনগুলোর গতি শব্দের গতির চেয়ে কয়েক গুণ বেশী। এগুলো নিশানায় একেবারে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারে। এগুলো দিয়ে অগ্রসর প্রজাতি নিজেকেই ধ্বংস করতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণ লড়াই করেছেন। সেই বিশ্বযুদ্ধশেষে উত্থান হলো এক নতুন শক্তির। সেই শক্তি গোটা দুনিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিলো। আর চাপিয়ে দিলো নিরঙ্কুশ পদ্ধতির নিষ্ঠুর এক ব্যবস্থা। আজো জনগণ সেই ব্যবস্থার মধ্যেই বাস করছেন।

বুশের ব্রাজিল সফরের আগেই এই সাম্রাজ্যের নেতা সিদ্ধান্ত নিলেন যে, জৈবজ্বালানী তৈরীর জন্য শস্য ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যই হবে উপযুক্ত কাঁচামাল। ব্রাজিলের নেতা লুলা বললেন যে, আখ থেকে তৈরী জৈবজ্বালানীর যতটুকু দরকার, তার সবটুকুই ব্রাজিল যোগাতে পারবে। তিনি এই ফর্মুলার মধ্যে তৃতীয় বিশ্বের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা দেখলেন। সমস্যা কেবল থাকলো আখ ক্ষেতের মজুরদের জীবনমান উন্নত করার। তিনি একটি বিষয়ে ভালভাবেই সজাগ ছিলেন। তিনি বললেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে ইথানল রফতানিতে বাধা দিচ্ছে যেসব শুল্ক বিধিনিষেধ ও ভর্তুকি, সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে তুলে নিতে হবে।

বুশ জবাবে জানালেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশে শুল্ক বিধিনিষেধ ও উৎপাদকদের দেয়া ভর্তুকি এমনই বিষয়, যেগুলোতে হাত দেয়া যায় না। শস্য থেকে ইথানল উৎপাদক দেশ ত’ যুক্তরাষ্ট্রও।

হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করে বিপুল গতিতে এই জৈবজ্বালানী তৈরী করে যেসব বিশাল আমেরিকান ট্রান্সন্যাশনাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, তারা মার্কিন বাজারে প্রতি বছর তিন হাজার পাঁচ শ কোটি গ্যালন জৈবজ্বালানী বিপণন করতে দেয়ার জন্য সাম্রাজ্যের নেতার কাছে দাবী জানালো। সংরণমূলক শুল্ক সুবিধা ও ভর্তুকি মিললে এই পরিমাণ দাঁড়াবে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার কোটি গ্যালনে।

এ সাম্রাজ্যের চাহিদার শেষ নেই। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জ্বালানী — ভোক্তা এই সাম্রাজ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সাম্রাজ্যকে তেল — গ্যাসের জন্য অন্যান্য দেশের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত করতে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিল জৈবজ্বালানী তৈরীর স্লোগান।

Read the rest of this entry »

Advertisements