পশ্চিমবঙ্গে কিষেনজি’র স্মরণে শিল্পাঞ্চলে মাওবাদীদের পোস্টার

201711251711552286_Maoist-poster-recovered-in-Durgapur_SECVPF

দীর্ঘদিন পর ফের মাওবাদীদের পোস্টার পড়ল পশ্চিমবঙ্গে। তবে, জঙ্গলমহলে নয়, মাওবাদীদের এই পোস্টার দেখা যায় রাজ্যের শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত, পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে। জঙ্গলমহলে নিহত মাওবাদী নেতা কিষেনজি’র স্মৃতিতেই ছিল এই পোস্টার। ২০১১-র ২৪ নভেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুরের বুড়িশোলের জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছিলেন ভারতে মাওবাদী আন্দোলনের অতি পরিচিত মুখ কিষেনজি। পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্গাপুরের ব্যস্ততম শপিং মল সিটি সেন্টারে এই পোস্টার সাঁটা হয়েছিল।

আজকের এই পোস্টারগুলোতে বলা হয়েছে যে, ভুয়ো এনকাউন্টারেই কিষেনজিকে মারা হয়েছিল। একই সাথে রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির বিরুদ্ধে তোপ দাগা হয়েছে। একইসঙ্গে সশস্ত্র কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমে নয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম ও মাওবাদী নেতা ও কর্মীদের খুনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করার ডাক দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শহীদ কমরেড আজাদ, শশধর, যুধিস্টির, কিষেনজি সহ সকল শহীদের প্রতি লাল সালাম জানানো হয়েছে।

ইদানীং ঘনঘন মাওবাদীদের উপস্থিতির খবর শোনা যাচ্ছে দুর্গাপুর-আসানসোলে। অতিসম্প্রতি ইসিএলের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে হুমকি দিয়ে, মাওবাদী পোস্টার পড়ে বালিজুরি গ্রামে। তবে, পোস্টারটি আদৌ মাওবাদীদের কি না, সে বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্রঃ https://eisamay.indiatimes.com/bardhaman/durgapur/after-a-lull-maoist-posters-make-a-comeback-in-west-bengal/articleshow/61798183.cms


ভারতঃ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ায় ‘কিষেণজি হত্যার প্রতিবাদে’ মাওবাদী পোস্টার

বারিকুলের শুশুনিয়া গ্রামে রবিবার সকালে তোলা ছবি।

বারিকুলের শুশুনিয়া গ্রামে রবিবার সকালে তোলা ছবি

বেলপাহাড়ির পরে বাঁকুড়া। ‘কিষেণজিকে হত্যার প্রতিবাদে’ এ বার পোস্টার মিলল বাঁকুড়ার বারিকুলে। এক সময়কার মাওবাদী প্রভাবিত বাঁকুড়ার বারিকুলে রবিবার সকালে মাওবাদীদের নামাঙ্কিত এমনই বেশ কিছু পোস্টার পড়ে। পোস্টারে ‘কিষেনজিকে হত্যার প্রতিবাদে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’ বলে আহ্বান জানানো হয়েছে।

ওই পোস্টার পড়ার খবর পেয়েই এ দিন সকালে পুলিশ তা সরিয়ে নিয়ে যায়। এ দিকে ‘কিষেণজি জিন্দাবাদ, কিষেণজি অমর রহে’— লেখা এই পোস্টার ও ব্যানারকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পোস্টারে ২৮ জুলাই থেকে ৩ অগস্ট উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে শহিদ সপ্তাহ পালনের ডাক দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, এ দিন সকালে বারিকুল থানা, মণ্ডলডিহা ফাঁড়ির পাশে, শুশুনিয়া, রসপাল, ভেলাবাঁধি, সুতান, মাজগেড়িয়া, ঝিলিমিলি-সহ কয়েকটি গ্রামের দেওয়ালে ও গাছে মাওবাদীদের পোস্টার-ব্যানার দেখা যায়। বাঁকুড়ার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার অনুপ জায়সবালের সঙ্গে এ দিন দুপুরে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে জেলা পুলিশের এক পদস্থ কর্তা ওই পোস্টার ও ব্যানারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, “ওই সব পোস্টার আদৌ মাওবাদীরা দিয়েছে, নাকি ওদের নাম দিয়ে এলাকাকে ফের সন্ত্রস্ত্র করার জন্য অন্য কেউ করছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/maoist-poster-at-bankura-for-protest-of-kishenji-murder-1.182587


কলকাতাঃ আজ দুপুর ২.৩০মিনিটে কলেজ স্ট্রিট থেকে ‘শহিদ’ কিষেণজির জন্য মিছিল

mao kishenji

images

1336263185

কলকাতাঃ আজ দুপুর ২.৩০মিনিটে ‘শহিদ’ কিষেনজী হত্যার তদন্ত পুনরায় চালুর দাবীতে ও রাষ্ট্রের নিপীড়নের বিরুদ্ধে কলেজ স্ট্রিট থেকে  শুরু হওয়া র‍্যালীতে যোগদা্ন করুন- APDR

সেই ‘শহিদ’-এর নাম?

মাওবাদী শীর্ষনেতা মালোজুলা কোটেশ্বর রাও। এই নামটা খুব বেশি মানুষ জানে না। কিন্তু কিষেণজি বললে এক ডাকে চিনবে।

কিষেণজির নাম তাঁর মৃত্যুর তিন বছর আট মাসের মাথায় ফের বহুল ভাবে চর্চিত হচ্ছে তৃণমূল নেতা ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যের জেরে। অভিষেক বলেছেন, কিষেণজিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার খুন করেছে!

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, মাওবাদীদের গণ সংগঠনগুলো এবং মাওবাদীদের প্রতি সহানুভূতিসম্পন্ন বিদ্বজ্জনেরা তো বটেই, এমনকী রাজনীতির মূলস্রোতে থাকা বিরোধী দলগুলো এতে যেন পুরনো একটা অস্ত্র হাতে পেয়ে গিয়েছে পুরোদস্তুর নতুন ও ধারালো চেহারায়। বেরিয়ে এসেছে শাসক শ্রেণীর গোপন চেহারা।

ফের কিষেণজির নাম খবরের শিরোনামে চলে আসায় সাংবাদিক-চিত্র সাংবাদিকদেরও অনেকের মনে উঁকি দিচ্ছে পুরনো স্মৃতি। বিশেষ করে যাঁরা তাঁর সাক্ষাৎকার পেয়েছেন, সামনাসামনি বসে কথা বলেছেন কিংবা কিষেণজির সঙ্গে টেলিফোনে যাঁদের কথা বলার সুযোগ হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ-প্রশাসন-মন্ত্রী-রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের একটা বড় অংশ খামোখা মিডিয়াকে চটিয়ে ফেলেন, এটা বাজারে বহু দিন ধরেই চালু। বিশেষ করে অভিযোগটা ওঠে প্রশাসন ও পুলিশের কর্তাদের ক্ষেত্রে। অনেক সময়েই মনে হয়, এঁরা সাংবাদিকদের সঙ্গে ঠিকঠাক ব্যবহার করতে পারেন না।

আর এই বিদ্যেটাই তাঁরা ভাল করে শিখতে পারতেন কিষেণজির কাছে।

মিডিয়াকে কী ভাবে নৈপুণ্যের সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়, কোন কথাটা বললে হেডলাইন হয়, কোন চ্যানেলকে কোন ব্রেকিং নিউজটা খাওয়াতে হবে, একই সংস্থার দু’জন রিপোর্টারের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে ‘স্কুপ’ নিউজগুলো তাঁদের মধ্যে কী ভাবে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে দিতে হবে, এ সবই ছিল তাঁর করায়ত্ত।

কোন সাংবাদিককে কখন কোন কথাটা বলতে হয়, সেটা কিষেণজি জানতেন বিলক্ষণ। কোনও সাংবাদিককে ভুল বুঝে থাকলে পরে সেটা সংশোধন করে নিতেও তাঁর কুণ্ঠা ছিল না।

জঙ্গলমহলের সেই উত্তাল সময়ে এক সাংবাদিকের বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে। কিষেণজি তাঁকে ফোন করে সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন, টাকা পয়সার প্রয়োজন আছে কি না। এমনকী, কোনও সাংবাদিককে মেরি ক্রিসমাস বা হ্যাপি নিউ ইয়ার-ও বলেছেন কিষেণজি।

২০১১-র ২৪ নভেম্বর অবশ্য সেই অধ্যায়ের ইতি। কিন্তু সে দিন কিষেণজি, সরকারের দাবি মতো, সত্যিই লড়াই করতে করতে মারা গিয়েছিলেন না কি তাঁকে আগেই পাকড়াও করে সে দিন প্রকৃত অর্থে হত্যা করা হয়েছিল, এখন নতুন করে সেই বিতর্ক চেগে উঠেছে।

এপিডিআর যেমন পুরনো সেই মামলার তদন্ত নতুন ভাবে করার দাবি জানাচ্ছে, তেমনই প্রয়োজনে তারা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য তুলে ধরে নতুন একটি মামলা করারও প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত কী হবে, কী জানা যাবে, সেটা পরের কথা। আপাতত এটা নিয়ে খবর করতে পারছেন সাংবাদিকেরা।

কিষেণজির জীবৎকালে তাঁর জন্য, তাঁকে নিয়ে সাংবাদিকেরা প্রচুর খবর করতে পেরেছেন। এখনও পারছেন। নিহত হওয়ার প্রায় চার বছর পরেও কিষেণজিকে নিয়ে খবর করার সুযোগ করে পাচ্ছেন সাংবাদিকরা।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/apdr-called-rally-for-kishenji-1.179774#