কৃষক সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কতিপয় সমস্যা

কৃষক

কৃষক সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কতিপয় সমস্যা

আমাদের দেশে বিপ্লবী ধারায় কৃষকদের কোন গণসংগঠন নেই।  বড় ধনীদের পার্টি আওয়ামী লীগ, বিএনপি প্রভৃতি তাদের ভোটের রাজনীতির স্বার্থে কৃষকদের নামকাওয়াস্তে সংগঠন রাখে, যেগুলো কৃষকদের কোনরকম স্বার্থকেই প্রতিনিধিত্ব করে না।  অন্যদিকে কিছু কিছু এনজিও কৃষকদেরকে সংগঠিত করে থাকে তাদেরকে কৃষকের স্বার্থে সমাজ পরিবর্তনের বিপ্লব থেকে দূরে রাখবার পরিকল্পিত উদ্দেশ্যে।  এদের বাইরে বিভিন্ন বামপন্থী ধারার পার্টির নেতৃত্বে যেসব কৃষক সংগঠন রয়েছে সেগুলো হচ্ছে দাবি-দাওয়া ভিত্তিক সংস্কারবাদী কৃষক সংগঠন।  যে সংগঠনগুলো কৃষকদের সামগ্রিক মুক্তির কোন বিপ্লবী কর্মসূচি না এনে চলতি কিছু দাবিদাওয়াকে শুধু তুলে ধরে।
এই সব সংগঠন পরিচালিত হয় শহরকে কেন্দ্রে রেখে।  যে কারণে তেভাগা-হাজং বিদ্রোহের পর মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত কিছু কৃষক আন্দোলন ছাড়া আমাদের দেশে গ্রাম-ভিত্তিক বড় ধরনের কোন কৃষক আন্দোলন গড়ে উঠেনি।
“কৃষক মুক্তি সংগ্রাম” গঠন করা হয়েছে কৃষকদের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যকে কেন্দ্রে রেখে।  আমাদের লক্ষ্য গ্রামকেন্দ্রীক কৃষক সংগঠন ও কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলা।  যাকে শহরের সাথে অবশ্যই যুক্ত থাকতে হবে, কিন্তু যার ভিত্তি হবে গ্রাম, এবং গ্রামকেন্দ্রীক পরিচালনা।  যেজন্য এই সংগঠনের অফিস উপজেলা-জেলা সদরের চেয়ে গ্রামভিত্তিক গড়ে তুলতে হবে।  সংগঠকগণও প্রধানত গ্রামে কৃষকদের উপর নির্ভর করে পারস্পরিক যোগাযোগসহ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রামাঞ্চলে কৃষকদের মধ্যে আমাদের সংগঠনের প্রাথমিক ধরনের চ্যানেল/সংযোগ/সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে উঠেছে।  কোথাও কোথাও তা একটি পর্যায়ে বিকশিত হয়ে কিভাবে তাকে আরো এগিয়ে নেয়া হবে তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে ও হচ্ছে।  এখানে সেইসব সমস্যাকে মাথায় রেখে কিছু আলোচনা করা হচ্ছে।
আমাদের সংগঠকগণ কৃষকদের সংগঠিত করতে গিয়ে দেশে অনুশীলিত প্রচলিত ধারার আশু দাবিদাওয়ার ভিত্তিতে আগানোর চেষ্টা করেন। সেটা কৃষকদেরকে বুঝানো সহজও বটে। তাতে সংগঠনের কিছুটা বিকাশও হয়। কিন্তু তারপর তা একই বৃত্তে ঘুরতে থাকে।  নতুন বিপ্লবী রাজনীতি, অর্থাৎ কৃষকদের সামগ্রিক মুক্তির কর্মসূচি নিয়ে আসা ছাড়া এই বৃত্ত থেকে বেরুনো সম্ভব নয়।
আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, তথা কৃষি অবস্থা সনাতনী স্থানীয়-ভিত্তিক সামন্তীয় ব্যবস্থায় নেই। অন্যদিকে তা স্বাধীন পুঁজিবাদী ব্যবস্থা হিসেবেও গড়ে ওঠেনি।  এখানে এখন সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।  ফলে কৃষকের শ্রমের ফল বিভিন্ন উপায়ে ও বিভিন্ন ধরনের হাত ঘুরে সাম্রাজ্যবাদ- সম্প্রসারণবাদ ও তাদের দালাল বড় ধনীদের ঘরেই জমা হচ্ছে।  তার ভাগ পাচ্ছে মফস্বল-কেন্দ্রীক তাদের দালালেরা, যারা ব্যবস্থার স্থানীয় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর এই উৎপাদন ব্যবস্থা কিভাবে আমাদের কৃষকদের ও কৃষির প্রকৃত উন্নয়নের প্রতিবন্ধক তা কৃষকদের মাঝে কাজ করতে হলে তাদের কাছে বিশ্লেষণ করতে হবে এবং তা থেকে মুক্তির কর্মসূচি আনতে হবে। কৃষকদেরকে বুঝাতে হবে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষের ফলে আগের তুলনায় বেশি ফসল উৎপাদন হলেও কৃষক তার উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তুলতে পারছে না কেন।
এক্ষেত্রে আমাদের সংগঠকগণ সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নকে সামনে অনেন ঠিকই, কিন্তু একইসাথে এ থেকে যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এবং সে প্রশ্নে যে পাল্টা বিপ্লবী অর্থনৈতিক কর্মসূচি আনতে হবে তা সঠিকভাবে তাদের আলোচনায় আসে না বা আসলেও জোর কম পড়ে।
বিশ্লেষণ করতে হবে কৃষকদের উন্নয়নের নামে কিভাবে সমগ্র কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে সাম্রাজ্যবাদ নির্ভরশীল করে তোলা হয়েছে। এই উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে কিভাবে বিপ্লবীকরণ করতে হবে সেই বিপ্লবী কৃষি কর্মসূচি তুলে ধরতে হবে।
যেসব অঞ্চলে আঁখ, তামাক, মৎস্য, চিংড়ী প্রভৃতি খামার পদ্ধতি গড়ে উঠেছে তাকে বিশ্লেষণ করে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি আনতে হবে।
খাসজমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে বণ্টন, “খোদ কৃষকের হাতে জমি”- এই নীতির ভিত্তিতে বিপ্লবী ভূমি-সংস্কার, জলাভূমি মৎস্যজীবীদের মালিকানায় বা অধিকারে আনা, সুদী শোষণ উচ্ছেদের লক্ষ্যে তার শোষণ কমানো, ইজারা প্রথার উচ্ছেদসহ সামন্তবাদ বিরোধী কর্মসূচি তুলে ধরতে হবে।
জমির মালিকানার প্রশ্নে নারী-পুরুষের মধ্যে যে বৈষম্য তা দূর করে জমিতে সমঅধিকারের বিষয় আনতে হবে।
এছাড়া সমতল ও পাহাড়ে আদিবাসী কৃষক জনগণ যারা বছরের পর বছর জমি/ভিটেবাড়ী ভোগ করলেও তাদেরকে মালিকানা দেয়া হয়নি তা তুলে ধরতে হবে।

সংগঠন গড়ে উঠবে কি প্রক্রিয়ায়? তার কাঠামো কী হবে?
এ ক্ষেত্রেও প্রচলিত প্রশাসনিক কাঠামাকে অনুসরণের প্রবণতা দেখা যায়।  আমাদের সংগঠন সম্পূর্ণ নতুন ধরনের। তাই, এই সংগঠন গড়ার প্রক্রিয়া ও কাঠামোও নতুন।  প্রথমে ৩/৫/৭…….জনকে নিয়ে গ্রুপ গঠন করে এই নতুন রাজনীতির শিক্ষা নিতে হবে।  তারপর কমিটি গঠনের পদক্ষেপ নেয়া যায়। সে কমিটি হবে প্রশাসনিক কাঠামো এবং সংগঠনের লক্ষ্য ও আত্মগত অবস্থার ভিত্তিতে সৃজনশীল সমন্বয় সাধন করে।
শহর-বন্দরকেন্দ্রীক মিটিং করার পুরনো পদ্ধতির বদলে পাড়া বৈঠক/গ্রাম বৈঠক/উঠান বৈঠক/হাটসভা/বাজারসভা প্রভৃতি চালু করতে হবে।  এসব সভা করার ক্ষেত্রে কৃষকগণ কখন কাজ থেকে অবসর থাকেন তা বিবেচনায় আনতে হবে।
সংগঠন পরিচালনার জন্য অর্থের প্রয়োজন।  এজন্য সদস্যদের চাঁদা ছাড়া মৌসুমী ফসল সাহায্য, হাট-বাজারে গণসাহায্যসহ বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা যায়।
দেশব্যাপী কৃষক সংগঠনের বহু সংখ্যক এলাকা গড়ার পাশাপাশি কিছু কিছু অঞ্চলে লাগাতার ও বিস্তৃত কৃষক এলাকা গড়ে তুলতে হবে।  এই ধরনের অঞ্চলে পারস্পরিক সংযোগ-সমন্বয়ের জন্য সার্বক্ষণিক সংগঠক গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সংগঠন-সংগ্রাম বিকাশের প্রক্রিয়ায় গণশত্রুরাও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই সমস্যা মোকাবেলার জন্য তরুণ-যুব কৃষকদের নিয়ে কৃষক আত্মরক্ষী দল গঠনের লক্ষ রাখতে হবে।
এখানে কিছু বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া হয়েছে মাত্র। বাস্তব অনুশীলন থেকে উত্থাপিত সমস্যাবলী নিয়ে সংগঠকদের মধ্যে পারস্পরিক মত বিনিময় ও অব্যাহত আলোচনা-পর্যালোচনা চালাতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় কৃষক সংগঠন ও কৃষক আন্দোলন গড়ার মূর্ত সাংগঠনিক লাইন গড়ে উঠবে।

সূত্রঃ কৃষক সমস্যা ও কৃষক সংগঠন সম্পর্কে, কৃষক মুক্তি সংগ্রাম কর্তৃক প্রকাশিত

Advertisements

১৩০তম মহান মে দিবসে কৃষক মুক্তি সংগ্রাম, হাওর আঞ্চলিক শাখা’র আহবান

peasants-launch-manifesto-for-agrarian-reform-after-historic-meeting

১৩০ তম মহান মে দিবসের ডাক

কৃষকের সার্বিক মুক্তি ও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবী রাজনীতিকে শক্তিশালী করুন!

কৃষকের উপর পুঁজিবাদী-সামন্ততান্ত্রিক শোষণ উচ্ছেদে কৃষি বিপ্লবী কর্মসূচিকে আঁকড়ে ধরুন!

 

বন্ধুগণ,

১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস।

১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগোতে হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা শ্রমের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ হলে পুলিশ তাদের উপর গুলি চালায়।  শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত হয় শিকাগোর রাজপথ। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ শ্রমিকদের আন্দোলনের কাছে শাসক শ্রেণি ও মালিকরা মাথা নত করতে ও শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।  এর পর থেকে আন্তর্জাতিভাবে ১লা মে শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।  আমাদের দেশে ৮ঘণ্টা শ্রম দিবস আজও কার্যকর হয়নি।  গার্মেন্টস শ্রমিকদের এখনো ১২/১৬ ঘণ্টা খাটানো হচ্ছে।  তাদের ন্যূনতম বেসিক মজুরি ৮,০০০ টাকা করার দাবিতে আন্দোলন মালিক পক্ষ পুলিশ-মাস্তান দিয়ে দমন করলেও মজুরি কিছু বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়।  ইতিহাসে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ এবং লাগাতার আন্দোলন ছাড়া তাদের কোনো দাবিই আদায় হয়নি।  তাই, মে দিবসে রং মেখে নৃত্য করার দিন নয়।  শ্রমিকদের সার্বিক মুক্তি ও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার দৃপ্ত শপথ নেওয়ার দিন।  বড় ধনী শোষক শ্রেণি মে দিবসের চেতনাকে বিপথগামী করে উৎসবের দিন হিসেবে প্রচার করছে।

এই শ্রমিকশ্রেণির সার্বিক মুক্তি তার একার পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজে প্রধান নিপীড়িত-শোষিত কৃষকদেরকেও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।  সেজন্য গ্রামে কৃষকদের মাঝে মে দিবস পালন ও তার রাজনৈতিক শিক্ষা প্রচারে জোর দিতে হবে।  শ্রমিক-কৃষকের দৃঢ় ঐক্য গড়তে হবে।

বন্ধুগণ,

আপনারা জানেন নয়া বাকশালী কায়দায় আওয়ামী ফ্যাসীবাদ জনগণের ঘাড়ে দৈত্যের মতো জেঁকে বসেছে, এবং একে স্থায়ী করার জন্য নানা ষড়যন্ত্রে-চক্রান্তে তারা লিপ্ত রয়েছে।  সংবিধান, আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া প্রভৃতি দলীয়করণ করেছে।  আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনকে পাকাপোক্ত করতে মরিয়া এ সরকার বিগত পৌর ও চলমান ইউপি নির্বাচনেও ব্যাপক সন্ত্রাস ও পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবহার করে চলেছে।  এভাবে এরা এদের  বুর্জোয়া নির্বাচনী ব্যবস্থাকেও পুরোপুরি ধ্বংস করেছে।  গ্রেপ্তার, খুন, ধর্ষণ, গুম, মিথ্যা মামলা দিনকে দিন বেড়েই চলছে।  বিগত চার মাসে এক হাজারের বেশি হত্যাকা- ঘটেছে।  সেনা বাহিনীর আবাসিক এরিয়ায় কলেজছাত্রী তনু হত্যাকে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো সরকার আড়াল করার চেষ্টা করছে।

এই সরকার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সহ উন্নয়নের নামে কৃষি জমি ও গ্রামকে গ্রাম বসতবাড়ি দখল, বস্তি উচ্ছেদ এবং মানুষ খুন করে চলেছে।  বাঁশখালী, হবিগঞ্জ এবং রামপালের  ঘটনা এর সাম্প্রতিক উদাহরণ।

কৃষিক্ষেত্রে পুঁজিবাদী ও সামন্ততান্ত্রিক শোষণের কারণে কৃষকদের অবস্থা আজ আরো সংকটাপন্ন। বীজ, সার, কীটটনাশক, ডিজেল, বিদ্যুৎসহ কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধির ফলে কৃষক জনগণ কৃষিকাজে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছেন।  প্রতিমণ ধান উৎপাদনে যা খরচ হয় তার চেয়ে অনেক কমে ধান বিক্রি করতে হয়।  অনেকেই অন্য ফসল উৎপাদনে ঝুঁকছেন।  মাছ, মাংস ও সবজি চাষীরাও ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।  মধ্যসত্ত্বভোগী দালাল ফরিয়ারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে- যাদের বিরাট অংশই সরকারি দলের নেতা-কর্মী- বাজারদর নিয়ন্ত্রণ করে কৃষককে তার উৎপাদিত পন্য কম দামে বেচতে বাধ্য করছে।

সংগ্রামী হাওরবাসী,

কৃষি ও মাছ নির্ভর হাওর অঞ্চলের কৃষক ও জেলেদের নানাবিধও সমস্যা রয়েছে।  দুর্বল ফসলরক্ষা বাঁধ অথবা কোথাও তা না থাকার কারণে প্রতি বছরই পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যায়।  জোতদার-মহাজনী-এনজিও চড়া সুদের শোষণে কৃষকদের অনেকে ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে শহরে পাড়ি জমিয়েছে।  অনেকে কৃষির বদলে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।  নিম্ন মাঝারি কৃষকেরা কোনরকমে টিকে রয়েছে।  জেলেরা মাছ ধরার অধিকার থেকে বঞ্চিত।  নদী-বিল-ফিসারী মুনাফা লোভী ইজারাদারদের নিয়ন্ত্রণে।  জেলেদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এসবের বিরুদ্ধে “কৃষক মুক্তি সংগ্রাম” কৃষক ও জেলেদের আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাদেরকে সংগঠিত করে চলেছে।  এবং মূল কর্মসূচি কৃষকদের বিপ্লবী কৃষি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে সক্রিয় রয়েছে।  আপনারা দলে দলে এ সংগঠনে যোগ দিন।

আওয়াজ তুলুনঃ

– সকল শ্রম ক্ষেত্রে ৮ ঘণ্টা শ্রমদিবস কার্যকর করতে হবে!

– নারী-পুরুষের সমশ্রমে সম মজুরি দিতে হবে!

– “খোদ কৃষকের হাতে জমি”- এই নীতির ভিত্তিতে ভূসি সংস্কারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হোন, সংগ্রাম গড়ে তুলুন!

– প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে খাসজমি বণ্টন- এই নীতি প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলুন!

– ছাত্র-বুদ্ধিজীবীগণ, “গ্রামে চলো” কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকদের সাথে একাত্ম হোন!

– মাছ ধরবেন যিনি, জলার মালিক তিনি- বাস্তবানের জন্য আন্দোলন করুন!

– কৃষক মুক্তি সংগ্রাম- জিন্দাবাদ!

কৃষক মুক্তি সংগ্রাম, হাওর আঞ্চলিক শাখা ॥ মে,  ২০১৬।

 


বাংলাদেশঃ কৃষক মুক্তি সংগ্রামের রাজবাড়ী জেলা কমিটি গঠিত

12119019_1480229442284675_1978323432388119080_n

কৃষক মুক্তি সংগ্রাম
রাজবাড়ী জেলা শাখা

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ
কৃষক মুক্তি সংগ্রামের রাজবাড়ী জেলার প্রথম প্রতিনিধি সম্মেলনের মধ্য দিয়ে জেলা কমিটি গঠিত।

১৬ অক্টোবর শুক্রবার রাজবাড়ি জেলার সদর উপজেলার উড়াকান্দা বাজার প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন প্রথম প্রতিনিধি সম্মেলনের মধ্য দিয়ে কৃষক মুক্তি সংগ্রাম রাজবাড়ি জেলা কমিটি গঠিত হয়েছে।সম্মেলন উদ্বোধন করেন নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার জাতীয় কমিটির সভাপতি জাফর হোসেন।সম্মেলন পরিচালনা করেন বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সহ-আহ্বায়ক জাকি সুমন।সভার শুরুতে দেশে বিদেশে জনগণের জন্যে লড়াইয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন করা হয়।
এরপর আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনা করেন,কৃষক মুক্তি সংগ্রামের নেতা সামসুল হক,কৃষক নেতা আজিজুর রহমান মাস্টার,বাবু।এছাড়াও বন্ধু সংগঠন জাতীয় গণফ্রন্টের জেলা কমিটির সমন্বয়ক সেকেন্দার আলী,সদস্য তোফাজ্জল হোসেন ও আতাউর রহমান শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
আলোচক বৃন্দ কৃষকের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে বিপ্লবী গণ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী রাজনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কৃষক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে বলেন।আর সে লক্ষ্যে শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ ও তার এদেশীয় দালাল শাসকগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করে গ্রাম ভিত্তিক কৃষি বিপ্লবকেই জনগণের সার্বিক মুক্তির পথ বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। কৃষকের সামগ্রিক সংকট মোকাবেলায় কৃষক সংগঠন,কৃষক মুক্তি সংগ্রাম-কে সাড়া দেশব্যাপী আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলার প্রশ্নে জোর দেন।
আলোচনা শেষে ভোটাভোটির মাধ্যমে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়।কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন ইসাহাক সরদার।

বার্তা প্রেরক
সামসুল হক
প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক
কৃষক মুক্তি সংগ্রাম

মোবাইলঃ০১৭৪৭১৯৮০৭৫

12115711_1480229438951342_3536604166616420735_n


বাংলাদেশঃ কৃষক মুক্তি সংগ্রাম, হাওর আঞ্চলিক শাখার ঘোষণা –

12010770_1700470710164554_5423640056943255023_o


বাংলাদেশঃ “কৃষক মুক্তি সংগ্রামের হাওর আঞ্চলিক কমিটি গঠিত”

প্রেস রিলিজ

কৃষক মুক্তি সংগ্রাম

হাওর আঞ্চলিক কমিটি

মোবাইলঃ০১৮৭৫৬৯১৩৩৮

 

11903436_407263666123452_463936707_n

“কৃষক মুক্তি সংগ্রামের হাওর আঞ্চলিক কমিটি গঠিত”

১৪ আগস্ট’১৫, শুক্রবার কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলে দিনব্যাপী কৃষক মুক্তি সংগ্রামের প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রতিনিধিদের ভোটাভুটির মাধ্যমে মোস্তাক আহমেদ মনিকে সভাপতি করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট হাওর আঞ্চলিক কমিটি গঠন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পূর্ববর্তী কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হক খোকন, পরিচালনা করেন কৃষক মুক্তি সংগ্রামের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তৌহিদুল ইসলাম। সম্মেলনে হবিগঞ্জ,সুনামগঞ্জ,ব্রাহ্মণবাড়ীয়া,নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার প্রতিনিধি,পর্যবেক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় কৃষক মুক্তি সংগ্রামের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন কৃষক মুক্তি সংগ্রামের বন্ধুপ্রতিম সংগঠন বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সুজন মিয়া ও নয়া গনতান্ত্রিক গণমোর্চার নেতৃবৃন্দ। বক্তারা প্রতি বছর কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি ও কৃষি পণ্যের ব্যয়ের সাথে সঙ্গতি না রেখে মূল্য নির্ধারণের ফলে হাওরাঞ্চলসহ দেশব্যাপী কৃষকের দূরাবস্থার জন্য এই দালাল শাসক শ্রেণির লুটেরা বৈশিষ্টকেই দায়ী করেন। একই সাথে হাওরের জমির ও জলের উপর কৃষকের ও মৎস্যজীবীদের অধিকার না থাকা, অতি উৎপাদনের কথা বলে কৃষির বিদেশমুখিতার জন্য মুনাফাখোরী শাসন ব্যবস্থাকেই প্রধানভাবে দায়ী করেন।পাশাপাশি আরও বলেন,স্থানীয়ভাবে হাওরাঞ্চলে মহাজনী বা দেড়ী সুদ ও এনজিওদের সুদি কার্যক্রমে হাওরাঞ্চলে কৃষক আজ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। নেতৃবৃন্দ হাওরাঞ্চলে কৃষকের এ দূরাবস্থার থেকে মুক্তির জন্য “মাছ ধরবেন যিনি,জলার মালিক তিনি”-এই নীতির ভিত্তিতে জলার ইজারাদারী ব্যবস্থা উচ্ছেদের দাবি তোলেন। কৃষকের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে কৃষক-শ্রমিকের গণক্ষমতা প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী রাজনীতির উপরও জোর দেন তারা।