কৃষক নারীদের জীবন

Special-NRF--(6)20150505115316

 

কৃষক নারীদের জীবন

আমাদের দেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক হচ্ছেন নারী।  এই নারী সমাজের শতকরা প্রায় ৭০ ভাগই গ্রামীণ কৃষক নারী।বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় গ্রামীণ কৃষক নারীরা সবচাইতে বেশি নিপীড়িত-নির্যাতিত অংশ।  শহরের শ্রমিক নারী ও অন্যান্য শ্রেণির নারীরা কিছুটা সুযোগ-সুবিধা পেলেও গ্রামীণ কৃষক নারীরা এখনো মধ্যযুগীয় সামন্ততান্ত্রিক বহু শৃংখলে ব্যাপকভাবে বাঁধা পড়ে আছেন।  পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পুঁজিবাদের শোষণ-নিপীড়নও তাদের উপর রয়েছে।
নারীরা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় বিধানমতে জমি-সম্পত্তির অধিকার পান না, বা অর্ধেক পান।  কিন্তু গ্রামীণ নারীদের অধিকাংশ তাদের এই অর্ধেক সম্পত্তির অধিকারও প্রায় ক্ষেত্রেই ভোগ করতে পারেন না।  এই অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার কারণে নারীদেরকে বাল্যকালে পিতার, বিয়ের পরে স্বামীর, এবং বৃদ্ধ বয়সে ছেলের অধীন থাকতে হয়।  সারা জীবন নারীকে কোনো না কোনো পুরুষের কর্তৃত্ব মেনে অর্থাৎ অধীনস্থ হয়ে থাকতে হয়।  ফলে তাদের মত প্রকাশের বা তা প্রতিষ্ঠারও সত্যিকার কোন স্বাধীনতা থাকে না।
প্রচলিত সমাজের এই নীতি অনুযায়ী নারীর উপর শোষণের আরেকটি হাতিয়ার হচ্ছে যৌতুক প্রথা।  গরীব কৃষক বা দরিদ্র শ্রেণীর মেয়েদের বিয়ে দিতে দরিদ্র পিতাকে হিমশিম খেতে হয়।  ভিটেবাড়ি বিক্রি করে বা ভিক্ষা করে যৌতুক দিতে হয়।  পুরুষের জন্য একত্রে একাধিক স্ত্রী রাখার বিধান রাখা হয়েছে।  যখন-তখন তালাক দেয়ার অধিকার পুরুষকে দেয়া হয়েছে।  অথচ নারী যখন দ্বিতীয় বিয়ে করতে যান সমাজে তাকে বহু কটু কথা শুনতে হয়।  কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমাজচ্যুতও করা হয়।
সন্তানের প্রতিও নারীর সত্যিকার অধিকার নেই।  সন্তানের প্রতি একচ্ছত্র অধিকার রাখা হয়েছে পুরুষের।  সন্তান ধারণ, লালন-পালন থেকে যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেন নারী, আর সন্তান পরিচিত হয় পিতার নামে।  নারী নিজেও পরিচিত হন স্বামীর পরিচয়ে, বা ছেলে সন্তানের পরিচয়ে।  স্বামী-স্ত্রীর তালাক হয়ে গেলে স্ত্রী চাইলেও সন্তান প্রায় ক্ষেত্রেই নিজের কাছে নিতে পারেন না।  বিশেষত তা যদি হয় ছেলে-সন্তান।  বুর্জোয়া শ্রেণির সরকার ইদানীং নারী অধিকারের ভড়ং দেখাতে সন্তানের পরিচয়ে পিতার নামের পাশে মা’র নাম দেয়ার নিয়ম চালু করেছে।  যা সত্যিকার অর্থে পিতৃতান্ত্রিকতার কোনো পরিবর্তন ঘটায় না।
কৃষক নারীরা গৃহে সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করলেও তাদের শ্রমের কোন মর্যাদা দেয়া হয় না।  তারা ঘরে রান্না-বান্না ও সন্তান প্রতিপালনের কাজ ছাড়াও সংসারের কৃষি-কাজেও অংশ নেন।  এভাবে তাদেরকে কার্যত দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়।  কিন্তু খাওয়া-খাদ্যের ভাল অংশটুকু তাদের ভাগ্যে জোটে না; সেগুলো স্বামী ও ছেলে-সন্তানের জন্যই রেখে দিতে হয়।
ক্ষেতে-খামারে, কৃষি কাজে মজুরী খাটা নারী, মাটিকাটা, ইটভাঙা, রাস্তা মেরামতী, যোগালীর কাজে নারীরা সমশ্রমে সমমজুরী পান না।
ব্যক্তিমালিকানাধীন শ্রেণি বিভক্ত সমাজে তারা শ্রেণি-শোষণের যাঁতাকালে নিস্পেষিত-তো হচ্ছেনই, তার উপর তাদের উপর চেপে বসে আছে উপরোক্ত ধরনের বহুবিধ পুরুষতান্ত্রিক শোষণ-নিপীড়ন।  কৃষক নারী সমাজ এই দ্বৈত শোষণে জর্জরিত হয়ে দিনাতিপাত করছেন।  তাদের জীবনে নেই কোন স্বাধীনতা, মত প্রকাশ ও প্রতিষ্ঠার অধিকার, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বা বিনোদন।  সমাজ-সভ্যতার পর ব্যক্তিমালিকানাধীন সমাজের উদ্ভব থেকেই তাদের জীবনে এই চরম দুর্দশা নেমে আসে।  ব্যাপক কৃষক নারীদের এই চরম দুর্দশা থেকে মুক্তি দিতে পারে একমাত্র সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থা।  যেখানে নারীর সাথে সাথে সকল নিপীড়িত পুরুষও মুক্তি পাবেন শ্রেণি-বিভক্ত সমাজের শোষণ-বঞ্চনা থেকে।
সেজন্য কৃষক নারীদেরকে পুরুষের পাশাপাশি সচেতন ও সংগঠিত হতে হবে। কৃষকের শত্রু  সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ, আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ ও সামন্ততন্ত্র উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে কৃষকদের নিজস্ব সংগঠন “কৃষক মুক্তি সংগ্রাম”-এ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এবং সংগ্রামে এগিয়ে আসতে হবে।
– ৩০/০১/’১০

সূত্রঃ কৃষক সমস্যা ও কৃষক সংগঠন সম্পর্কে, কৃষক মুক্তি সংগ্রাম কর্তৃক প্রকাশিত

 

Advertisements

ইথিওপিয়ায় সেনা-পুলিশের গুলিতে ৭৫ জনের মৃত্যু

CWWm-oRWUAAoHSz

কৃষি জমিতে নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত বছর থেকেই আন্দোলন করে আসছে ইথিওপিয়ার জনগণ। এ আন্দোলন নতুন মাত্রা পায় কৃষিজমি ইজারা দেয়ার পর। আন্দোলন এখন ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায়।

গত কয়েক সপ্তাহে সেনা-পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৭৫ জনের। আহত হয়েছেন শতাধিক। তবুও বন্ধ হয়নি ইথিওপিয়ার বিক্ষোভ। শনিবার এমনই দাবি জানাল মানবাধিকার পর্যবেক্ষক (এইচআরডব্লিউ)। যে ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে তারা সকলেই বিক্ষোভকারী এবং এতজনের মৃত্যুর পরেও আদ্দিস আবাবা নীরব বলে এইচআরডব্লিউ-এর তরফে জানানো হয়েছে।

সেনা-পুলিশের গুলিতে যে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, সেকথা ইথিওপিয়া সরকারও স্বীকার করে নিয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীরা ‘সন্ত্রাসী নাগরিক’ বলে মন্তব্য করেছেন ইথিওপিয়া সরকারের মুখপাত্র গেটাচিউ রেডা। তিনি বলেন, গত মাসে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, কিন্তু পরে সেটি হিংসার রূপ নেয়। এই বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।

জানা গিয়েছে, গত নভেম্বরে দেশের একটি জঙ্গল কাটা নিয়েই এই বিক্ষোভের শুরু। ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবার দক্ষিণে ৮০ কিলোমিটার দূরে ছোট শহর গিঞ্চিতে একটি প্রকল্প করার কথা ভেবেছিল ইথিওপিয়া সরকার। সেই প্রকল্পের জন্য গিঞ্চি শহরের বিরাট জঙ্গল সাফ করতে যায় সরকারের প্রতিনিধিরা। কিন্তু গিঞ্চির বাসিন্দারা জঙ্গল কাটার ব্যাপারে সরকারকে বাধা দেয়। যদিও ইথিওপিয়া সরকার জনগণের কথায় তোয়াক্কা করেনি। তখনই বিক্ষোভের পথ বেছে নেন গিঞ্চির বাসিন্দারা। তারপর অল্প সময়ের মধ্যে পুরো ওরোমিয়া অঞ্চলে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে কৃষক থেকে সাধারণ মানুষ, সকলেই এই বিক্ষোভে শামিল হন। দক্ষিণ আদ্দিস আবাবা থেকে পশ্চিমাঞ্চলেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সরকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিশের সঙ্গে সেনা নামায় আদ্দিস আবাবা সরকার। বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সেনা-পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে বলেও এইচআরডব্লিউ-র তরফে জানানো হয়েছে। এই গুলিতেই গত দু’মাসে ৭৫ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। কেবল শেওয়া এবং ওল্লেগা এক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। কিন্তু এতগুলো মানুষের মৃত্যুতে এতটুকু অনুশোচনা নেই ইথিওপিয়া সরকারের। বরং তাদের দাবি, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হিংসায় পরিণত হয়েছে এবং এর পিছনে জঙ্গিদের হাত রয়েছে। এর তীব্র নিন্দা করেছে এইচআরডব্লিউ।

 12_15


ভারতের ছত্তিশগড়ে ১০০ জন মাওবাদীর হামলায় ৭ পুলিশ নিহত, আহত ১২

abuhmarh

embed1

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে মাওবাদীদের হামলায় পুলিশের সাত এসটিএফ জওয়ান নিহত হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্য ১২ জন পুলিশ।

আজ (শনিবার) ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলার চিন্তাগুফার পিড়মেল-পোলামপল্লি এলাকায় পেডমাল জঙ্গলে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

ছত্তীসগঢ় পুলিশের নকশাল দমন শাখার প্রধান, অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল আর কে ভিজ জানিয়েছেন, পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের একটি দল শনিবার সুকমা জেলার চিন্তাগুফার পিড়মেল-পোলামপল্লি এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন। রাজ্য পুলিশের বিশেষ বাহিনীর (এসটিএফ) ৬১ জন জওয়ানদের ওই  দলটি পিডমেল জঙ্গল হয়ে দরনাপাল অঞ্চলের দিকে যাচ্ছিলেন । অন্ধ্র প্রদেশের সীমানা এলাকায়  অপারেশনের জন্য রওনা হয়েছিলেন তারা। খবর পেয়ে অতর্কিত হামলা চালায় মাওবাদীরা, এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে সশস্ত্র মাওবাদীরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মৃত্যু হয় ওই জওয়ানদের। জওয়ানরা পাল্টা জবাব দিলেও গভীর জঙ্গলের আড়ালে পালাতে সক্ষম হয় মাওবাদীরা। আহত জওয়ানদের আকাশপথে চপারে করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশের এডিজি (অ্যান্টি মাওয়িস্ট অপারেশন) আর কে ভিজ জানিয়েছেন।

জঙ্গলে তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় প্রায় ১০০ জন মাওবাদী তাদের উপর হামলা চালায়। এই সময় এসটিএফ জওয়ানদের সঙ্গে মাওবাদীদের মধ্যে প্রায় টানা দু’ঘন্টা ধরে বন্দুক যুদ্ধ চলে। নিহত সাত পুলিশ কর্মীরা হল, প্লাটুন কমান্ডার শঙ্কর রাও, হেডকনস্টেবল রোহিত সোধি এবং মনোজ বাঘেল, কনস্টেবল মোহন ভিকে, রাজকুমার মারকাম, কিরণ দেশমুখ এবং রঞ্জন টিকাম।

২০১০ সালের এপ্রিলে ছত্তিশগড়ের সুকমাতে নকশালপন্থীদের হামলায় ৭৪ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হয়। ২০১৩ তে রাজ্যে কয়েকজন শীর্ষ কংগ্রেস নেতাসহ ২৫ জনকে হত্যা করে মাওবাদীরা।

সুত্র – http://indianexpress.com/article/india/india-others/seven-stf-personnel-killed-11-injured-in-maoist-attack-in-chhattisgarh/


ফের দাসত্বের কবলে নেপালের কৃষি শ্রমিকরা

poverty sends nepal 2_55993_1

২০০৮ সালে মাওবাদীদের নেতৃত্বাধীন নেপাল সরকার দেশটি থেকে বন্ধকী শ্রম প্রথা উৎখাত করে। সেসময় সরকার ওই প্রথার শিকারদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল।
সরকারের ওই পদক্ষেপে হরিলাল পারিয়ারের মতো আরো অনেকেই বন্ধকী শ্রমের নামে কার্যত দাসত্বের জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ আর পাননি তারা। ফলে পারিয়ারকে ফের তার ভুমি প্রভুর কাছেই ফিরে যেতে হয়।

৩৮ বছর বয়সী পারিয়ার বার্তা সংস্থা এএফপির সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, গত ছয় বছরে কিছুই বদলায়নি। জন্মের পর থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত আমার ভুমি প্রভুই আমার জীবনের মালিক আছেন।

download

নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার ছয় বছর পরও নেপালে বন্ধকী শ্রম প্রথা এখনো পুরো মাত্রায় বিরাজমান। হালিয়া নামে পরিচিত দেশটির ভুমিহীন কৃষি শ্রমিকরাই প্রধানত এই প্রথার শিকার। হালিয়ারা বন্ধকী শ্রমিক হিসেবেই জন্মগ্রহণ করেন। এরপর এক প্রজন্মের ভুমি প্রভুর হাত থেকে অন্য প্রজন্মের ভুমি প্রভুর কাছে হস্তান্তরিত হন।

২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালের সাবেক মাওবাদী বিদ্রোহীদের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার হালিয়াদেরকে বন্ধকী শ্রম থেকে মুক্তি দেয়ার পদক্ষেপ নেয়ার পর অনেকেই নিজের জীবনে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। মাওবাদীরা ক্ষমতায় আসার কয়েকমাস পরই নেপালের আড়াইশো বছরের পুরোনো রাজতন্ত্র উৎখাত করে এবং নেপালকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে।

মাওবাদীরা শত বছরের আর্থ-সামাজিক বৈষম্যের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। যে দেশের নাগরিকদের প্রতি চারজনের একজন দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করেন (দৈনিক আয় ১.২ ডলার বা ১০০ টাকারও নিচে) এমন একটি দেশের মানুষদের ভাগ্য বদলানোর জন্য একটি নুতন সংবিধান প্রণয়নেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মাওবাদীরা।

download (1)

কিন্তু নতুন সংবিধান বা রাষ্ট্র গঠনতন্ত্র নিয়ে বছরের পর বছর ধরে নেপালের আইন প্রণেতাদের অব্যাহত কলহে দেশটির হালিয়া বা ভুমিহীন শ্রমিক শ্রেনীসহ কোটি কোটি নেপালি হতাশার অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হয়ে পড়েন।

মাওবাদীদের পতনের পরবর্তী সরকারগুলোও হালিয়াদের ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতি আজও পূরণ করা হয়নি। আর বহুদিনের প্রতিশ্রুত ভুমি মালিকানার সংস্কার কর্মসুচিও এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে হালিয়াদের জীবন আজও ভুমি প্রভুদের দয়ার উপরই নির্ভরশীল রয়ে গেছে।

লাঙ্গল টানতে টানতে পারিয়ারের হাতে কড়া পড়ে গেছে আর কাঁধে সৃষ্টি হয়েছে দূরারোগ্য ব্যাথা। ছয় পুরুষ আগে থেকে পারিয়ারদের এই বন্ধকী শ্রমিকের জীবনের সূত্রপাত ঘটে। মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকে দৈনিক ১৫ ঘন্টা করে কাজ করা শুরু করেন পারিয়ার। বিনিময়ে তার জন্য খাদ্য ও বাসস্থানের বন্দোবস্ত করেন তার ভুমি প্রভু।

পারিয়ার বলেন, ‘আমরা ভুমি প্রভুর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির মতোই। আমার দাদা তার জন্য কাজ করতেন এরপর আমার বাবাও তার হালিয়া ছিলেন। আর এখন আমি তার জমি চাষবাস করি।’

হিমালয় উপত্যকার তিহি নামের একটি গ্রামে পারিয়ারের বসবাস। বিদ্যুৎ ও পানিহীন গ্রামটিতে আরো কয়েকটি হালিয়া পরিবার ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করে।

পারিয়ারের মতো বেশির ভাগ হালিয়াই হিন্দু সম্প্রদায়ের দলিত বা অচ্ছুৎ বর্ণের সদস্য। গ্রামের উচ্চ বর্ণের বাসিন্দাদের ঘর, উপাসনালয় ও জলাধারে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। এমনকি উচ্চ বর্ণের লোকদের গৃহপালিত পশুর বসত ঘর এবং ব্যবহৃত জলাধার মাড়ানোর অধিকারও নেই তাদের! শুধুমাত্র জমিতে কাজ করার সময়ই ভুমি প্রভুরা সামান্য মানবিক মর্যাদা দিয়ে থাকেন দলিত ও অচ্ছুৎদের। তাদের নেই কোনো ভুমি, নেই কোনো বাসস্থান এবং শিক্ষার সুযোগ।

দুই একজন যদিও বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় কিন্তু শ্রেণিকক্ষেও তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়। নিম্নবর্ণের শিশুদেরকে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে নয় বরং মেঝেতে বসতে দেয়া হয়।
নেপালের সংবিধান লেখা হয়েছে পুরোপুরি দেশটির উচ্চ বর্ণের ভুমি প্রভুদের স্বার্থের অনুকুলে। দেশটির সব ভুমিই উচ্চ বর্ণের কব্জায়। ফলে হালিয়াদেরকে বেঁচে থাকার জন্য ভুমি প্রভুদের চাপিয়ে দেয়া শর্ত মেনে নেয়া ছাড়া সামনে আর কোনো উপায় থাকে না।

হালিয়াদের পুনর্বাসনের দায়িত্বে থাকা লক্ষণ কুমার হামাল নামের এক সরকারি কর্মকর্তা অবশ্য অর্থের অভাবে হালিয়াদের পুনর্বাসন করা যাচ্ছে না বলেই জানান। তিনি বলেন, অর্থের অভাবে হালিয়াদের পুনর্বাসনের জন্য একবারেই প্রয়োজনীয় সব জমি কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

images (1)

২০০৬ সালে মাওবাদি বিদ্রোহী ও নেপাল রাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তিতেও ভুমি মালিকানায় সামন্ত প্রথা উৎখাতের জন্য একটি বৈজ্ঞানিক ভুমি সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলা হয়। কিন্তু এরপর থেকে আজও পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলই ভুমি প্রভুদেরকে হালিয়াদের মাঝে জমি বন্টনের তাগিদ দেয়নি।

সরকার কর্তৃক চিহ্নিত ১৯ হাজার হালিয়া পরিবারের মধ্যে মাত্র ৮০টি পরিবারকে কিছু ভুমির মালিকানা দেয়া হয়েছে।

এক শীতের সকালে পারিয়ার তার ভুমি প্রভুর একখণ্ড পাহাড়ী জমিতে চাষ দিতে দিতে বলছিল এই দাস প্রথার অবসানের চেয়ে আর অন্য কোনো কিছুই তাকে বেশি সুখী করতে পারবে না। অথচ এই বন্দিশালা থেকে বের হয়ে একটি দিন কাটানোর স্বপ্নও আমি আর এখন দেখতে পারছি না।

সুত্র – dhakatimes24.com