মুক্তির ৪ দিনের মাথায় মাওবাদী নেতা কোবাদ গান্ধীকে গ্রেফতার করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ

patiala-district-patiala-bhushan-hindustan-maoist-leader_b198027a-e263-11e7-814a-000c05070a4c

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশাখাপত্তনম কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর, ঝুলে থাকা মামলায় ঝাড়খণ্ড পুলিশ আজ আবার গ্রেফতার করল মাওবাদী তাত্ত্বিক নেতা কোবাদ গান্ধীকে।  

মঙ্গলবার ৫টি মামলায় জামিন পাওয়া গান্ধী, আমরাবাদ থানায় মাওবাদীদের হামলা সংক্রান্ত একটি মামলার ট্রায়ালে যোগ দিতে আজ তেলেঙ্গানার নাগারকুরনুল জেলার আচাম্পেটে জুনিয়র ফার্স্ট ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এসেছিলেন। মাওবাদীদের বিস্ফোরক দিয়ে সাহায্যের জন্যে তাকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। মামলাটি ২০১০ সাল থেকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

আদালত থেকে বেরিয়ে আসার পরই ঝাড়খন্ড পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এরপর পুলিশ তাকে হায়দ্রাবাদে নিয়ে গিয়ে নামপল্লী ফৌজদারী আদালতে হাজির করে। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর, গান্ধীকে বোকারো’তে নেয়া হয়, যেখানে ২০০৭ সালে তাকে একটি মামলার মুখোমুখি হতে হয়।

সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে। কিন্তু, তিনি তিনটি মামলায় নির্দোষ ছিলেন।

বিপ্লবী লেখক সমিতি ও সিভিল লিবার্টিজ কমিটি কোবাদ গান্ধী’র ‘অনৈতিক গ্রেফতার’ এর নিন্দা জানিয়েছেন।

সূত্রঃ http://www.hindustantimes.com/india-news/days-after-release-maoist-ideologue-kobad-ghandy-arrested-by-jharkhand-police/story-FjPWUMqmDHtvofm0yZbYYO.html

Advertisements

জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর মাওবাদী নেতা ‘কোবাদ গান্ধী’র প্রথম সাক্ষাৎকার

kobad

জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মুম্বাইয়ের নিজ বাড়ীতে মাওবাদী তাত্ত্বিক ‘কোবাদ গান্ধী’

মুক্ত হতে পেরে খুশি, কিন্তু এটি কেবল অর্ধ-স্বাধীনতা: মাওবাদী তাত্ত্বিক কোবাদ গান্ধী

“অনেক বছর পরে মুক্ত হওয়ার পর ভাল লাগছে” বলছেন মাওবাদী তাত্ত্বিক কোবাদ গান্ধী, যিনি ৮ বছর জেলে আটকে থাকার পর মঙ্গলবার রাতে বিশাখাপত্তনম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। “আমি পার্সি খাবারগুলোকে খুব মিস করি। অনেক বছর ধরে আমার প্রিয় খাবারের স্বাদ নিতে পারিনি।”

২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সিপিআই(মাওবাদী) সদস্যের অভিযোগ এনে কোবাদ গান্ধী’কে গ্রেফতার করা হয় এবং বেআইনী কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের অধীনে অভিযুক্ত করা হয়। গত বছর মামলায় তাকে খালাস দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে এবং দিল্লির তিহার এবং হায়দরাবাদের চেরপালাপাল্লি সহ বিভিন্ন কারাগারে তাকে ৮ বছর কাটাতে হয়েছে।

৭১ বছর বয়সী গান্ধীকে মুম্বাই যাওয়ার আগে আরও দুটি আদালতে উপস্থিতি হতে হয়েছে –যে শহরে তিনি এবং তার বোন মাহরুখ বড় হয়েছিলেন, ২১ বছর আগে এই শহর তার বাড়ি ছিল, লন্ডনে চার্টার্ড একাউন্টেন্সী পড়তে যাওয়ার আগে এবং ১৯৭০ সালে বামপন্থী আন্দোলনের আদর্শবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে একজন পরিবর্তিত মানুষ হিসাবে লন্ডন থেকে এই শহরেই ফিরে আসেন তিনি।

ফিরে আসার পর, ধনী পারসী দম্পতি- নার্গিস এবং আদি গানি’র পুত্র গান্ধী, ১৯৭৮ সালে জরুরী অবস্থা পরবর্তী নাগরিক স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি মনোযোগ দেন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই মুম্বাইয়েই হবু স্ত্রী, এলফিনস্টোন কলেজের এমফিলের ছাত্রী অনুরাধা শানবাগ’র সাথে তার দেখা হয়। ২০০৮ সালে এই দম্পতি আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়, ম্যালেরিয়ায় অনুরাধার মৃত্যু হয়। এর এক বছর পর, গান্ধীকে গ্রেফতার করা হয়।

“মুম্বাইতে যাওয়ার জন্য আমি আর অপেক্ষা করতে পারি না। আমার বোন, শাশুড়ি, শ্যালক সুনিল (শানবাগ, থিয়েটারের ব্যক্তিত্ব)… তারা সবাই আমাকে দেখার জন্যে অপেক্ষা করছে। প্রাথমিকভাবে, তারা আমার শাশুড়িকে বলেনি যে, আমি মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু তিনি খবরের কাগজে পড়েছেন। সুতরাং যখন আমি সেখানে যাব, এটি একটি বিস্ময়কর ব্যাপার হবে,” তিনি বলেন। তার মুক্তির সময়ে ফোনে কথা বলার মুহুর্তে আনন্দ প্রকাশ ছাড়াও তিনি তার বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা মামলার কথা বলেন।

“এখনও পর্যন্ত ৭টি’র মত মামলা আছে, ১০-১৫ বছর পুরনো এই মামলাগুলোর এখনো কোনো  অভিযোগপত্র তারা(পুলিশ) দাখিল করেনি। তাই আমি উদ্বিগ্ন যে, মামলাগুলো তারা হঠাৎ করেই আবার পুনরুজ্জীবিত করবে। তারপর রয়েছে গুজরাটের মামলা, যেখানে পুলিশ নাগপুর থেকে এই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে (নকশাল কার্যকলাপের জন্যে আগস্টে তুষার ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এই মামলায় কোবাদকেও অভিযুক্ত করা হয়)। এই বয়সে, এই সব বিষয় টেনশনের উৎস … তবে হ্যাঁ, আমি মুক্ত হতে খুশি, কিন্তু এটি শুধুমাত্র আধা-স্বাধীনতা” তিনি বলেন। “আমি সত্যিই বিরক্ত হয়েছি যে, যখন পুলিশ চার্জশিট দাখিল করার কোন উদ্দেশ্য না থাকা সত্ত্বেও এতদিন ধরে আমাকে কারাগারে আটকে রেখেছিল”।

এমন কিছু বিষয় আছে যা তাকে বিরক্ত করে। “গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে অনেক বিষয় পরিবর্তিত হয়েছে। প্রযুক্তিটি এতটাই বদলে গেছে যে, স্মার্টফোন ব্যবহার করা সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই” তিনি শুকনো কণ্ঠে বলেন।

“প্রায় ৮ বছর পর কারাগার থেকে বের হতে পেরে ভালোই লাগছে। আমি চাইতাম আমার স্বাস্থ্য একটু ভাল থাক”। গান্ধী বলেন যে, ‘তিনি হালকা বুকের ব্যথার চিকিৎসার পাওয়ার জন্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে জামিনের জন্যে আবেদন করেন’।

“ভারাভারা রাও মত পুরানো বন্ধুদের সাথে দেখা পেয়ে ভাল লাগছে। তিনি আমাদের পুরনো সুখস্মৃতির কাহিনী দিয়ে আমাকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। আমরা ‘সিভিল লিবারিটিজ মনিটরিং কমিটি’তে আমাদের ঐ দিনগুলোতে ফিরে যাই। তবে, কয়েক দশক আগের অনেক কিছু আমি এখন স্মরণ করতে পারিনা”।

নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি ভবিষ্যতের কথা এখনো ভাবিনি, আমি জানি না আমি কী করব। এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার দিচ্ছি আমার পরিবারকে এবং মুম্বাইতে নিজের ভাল চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।”

সূত্রঃ http://indianexpress.com/article/india/happy-to-be-free-but-this-is-only-semi-freedom-maoist-ideologue-kobad-ghandy-4983420/


মাওবাদী নেতা কোবাদ গান্ধী মুক্তি পেয়েছেন

kobad-gandhi

মাওবাদী নেতা কোবাদ গান্ধী গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশাখাপত্তনম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মাওবাদী কার্যকলাপের জন্যে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক বহনের অভিযোগ এনে ভিজাগ পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল। এই বছরের ৪ঠা এপ্রিল থেকে তিনি বিশাখাপত্তনম কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা সকল মামলা মাওবাদী কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত।

সূত্রঃ https://www.sakshi.com/news/andhra-pradesh/bail-maoist-leader-kobad-ghandy-960792


কোবাদ গান্ধী ও অন্যান্য রাজবন্দীদের মুক্ত করুন!

kobad


অধিকার ও মর্যাদার খেলাপ

kobad 1

ছয় বছর ধরে কারাবন্দী ৬৮ বছর বয়সী রাজবন্দী কোবাদ গান্ধীর স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটছে। যদিও তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার কাজ এখনো আদালতে শুরু হয়নি। পেটের সমস্যা, মাথা ঘোরা, বমি, গুরুতর কিডনির সমস্যাসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। এর জন্য তিনি All India Institute of Medical Sciences থেকে সময়ে সময়ে চিকিৎসা নিয়ে আসছিলেন। হৃদযন্ত্রের গুরুতর ব্যাধি ও নাড়ীর গতি অস্বাভাবিক হ্রাস পাওয়ায় তার শরীরে পেসমেকার বসাতে বলা হয়েছে।

তিহার জেলের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে বন্দী অবস্থায় তাকে তীব্র ধকলের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তিনি দ্রুত বিচার অথবা চিকিৎসার জন্য জামিনে মুক্তি প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছেন। কোবাদ গান্ধীর হাইপারটেনশন, ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তি, পায়ের নখে ক্ষত, প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া ও সারভিকাল স্পনডিলাইটিস ব্যাধিগুলোর কথা উল্লেখ করে সেপ্টেম্বর মাসে কারা সুপারিন্টেনডেন্ট একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিচার চলাকালীন তার স্বাস্থ্যের অবলতি পর্যবেক্ষণ করে অতিরিক্ত দায়রা জজ তার তিন মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। কিন্তু আরো কিছু মামলা ঝুলে থাকার কারণে তাকে কারাগারেই রাখা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক জামিনের বন্ড দাখিলের পূর্বেই তাকে গ্রেফতার করার জন্য অন্যান্য রাজ্যের পুলিশেরা অপেক্ষায় আছে।

সুপ্রিম কোর্টে দাখিলকৃত একটি এফিডেভিট অনুযায়ী অন্ধ্র প্রদেশ সরকার জানিয়েছে যে তার বিরুদ্ধে অন্ধ্র, তেলেঙ্গানা, দিল্লি, সুরাট, পাতিয়ালা, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খন্ডে মোট ১৪ মামলা রয়েছে। ভারতীয় পেনাল কোড ও Unlawful Activities (Prevention) Act (UAPA) এর বিভিন্ন ধারায় এইসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। দিল্লির মামলা প্রায় শেষ হয়ে আসছে এই অবস্থায় দেশ জুড়ে য়ারো গুরুতর সব মামলার সম্মুখীন হতে হবে তাকে। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগগুলো হল- তিনি সিপিআই (মাওবাদী) এর কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরোর সদস্য; তিনি এর আন্তর্জাতিক বিভাগ, গণ সংগঠনের উপকমিটি, কেন্দ্রীয় প্রকাশনা ব্যুরো ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ব্যুরোর দায়িত্বে রয়েছেন।

(সংক্ষেপিত অনুবাদ)

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.frontline.in/cover-story/denial-of-dignity-and-rights/article8017713.ece


জরুরী ভিত্তিতে জামিনে মুক্তির আবেদন কোবাদ গান্ধীর

12299229_1718015231755204_2719172647013927682_n

শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর, ২০১৫

বয়স ও গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার পরিপ্রেক্ষিতে জরুরী ভিত্তিতে জামিনে মুক্তির আবেদন কোবাদ গান্ধীর

২০১৫ সালের ১০ই নভেম্বর কোবাদ গান্ধী এই লেখাটি যত দ্রুত সম্ভব প্রকাশের উদ্দেশ্যে আমাদের কাছে পাঠান। ২১শে নভেম্বর লেখাটি আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়। আমাদের সাম্প্রতিক সংখ্যায় লেখাটি আমরা প্রকাশ করছি যাতে করে পাঠকগণ তার আহ্বানে জরুরী ভিত্তিতে সাড়া দিতে পারেন।সম্পাদক ( mainstreamweekly)

RTI(Right To Information) এর জবাবে আমাকে ঝাড়খন্ড FIR এর একটি কপি পাঠানো হয়। ২০০৯ সালে আমাকে গ্রেফতার করার পর এই মামলায় আমাকে জড়ানো হয়। এতে বলা হয়, ২০০৭ সালে বোকারোতে প্রায় ৫০০ এর মত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি একট পুলিশ ক্যাম্পে হামলা করে। এতে অংশ নেয়া তো দূরের কথা এই হামলার কথা আমি এই প্রথম শুনলাম। এই দুর্ঘটনা যখন ঘটে সে সময় আমার নামে কোন FIR করা হয়নি। আর আজ ঘটনার নয় বছর পর ঝাড়খণ্ড পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করতে আসে।

অন্ধ্র প্রদেশে পুলিশ একটি ভুয়া জবানবন্দী তৈরি করে (তেলেগু ভাষায়, যে ভাষাটি আমি জানিনা) এবং এর ভিত্তিতে ১৯৯০ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত প্রায় ১৫টি মামলায় আমার নাম যুক্ত করে। এই মামলায় আমার নাম জড়ানোর জন্য এই ধরনের কোন ‘জবানবন্দী’ ঝাড়খণ্ড পুলিশের কাছ থেকে কখনো আসেনি। এর আইনী সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ।

পশ্চিমবঙ্গের মামলা, পাতিয়ালা ও সুরাটের মামলার বিষয়গুলিও একইরকম (এখনো এর FIR আমি পাইনি)। পাতিয়ালার মামলায়, প্রাতঃকালীন ভ্রমণে বেরিয়ে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভাষাটা তারা উল্লেখ করেনি, আর আমি পাঞ্জাবি জানিনা) মাঠে দুইজন ব্যক্তি আপাতদৃষ্টিতে একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে ‘জ্বালাময়ী’ ভাষণ দিতে দেখেছে। সেই সময় ঐ ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ ব্যক্তিটির বিরুদ্ধে কোন FIR করা হয়নি। কিন্তু আমি তিহারে আসার পাঁচ মাস পর ২০১০ এর ফেব্রুয়ারি মাসে আমার বিরুদ্ধে FIR কর হয়। কোন প্রমাণ ছাড়াই কেবল গুজবের উপর ভিত্তি করে গুরুতর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দিল্লির LG (Lieutenant Governor) আমার বিরুদ্ধে ২৬৮ ধারা জারী করেছে, তাই দিল্লির মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি এই মামলাগুলোতে উপস্থিত হতে পারব না; দ্রুত বিচার পাওয়ার যে সাংবিধানিক অধিকার আমার আছে সেটি থেকে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কারাগারে ছয় বছর কাটানোর পরেও এই মামলাগুলোর একটিও শুরু হয়নি।

এখন দিল্লির মামলাটি শেষ হলে আমাকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে আর তা হতে হবে ৬৯ বছর বয়সে গুরুতর হৃদরোগ, কিডনি ও আর্থরাইটিসের সমস্যার মধ্য দিয়ে। কার্ডিওলজিস্ট মনে করেন আমার নাড়ীর গতি ৪০ এর নিচে নেমে এলে আমার হয়তো একটি পেস মেকারের প্রয়োজন হতে পারে।

দিল্লির বিচার কাজ প্রায় শেষ হয়ে আসছে এমন সময় বিজ্ঞ বিচারক ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে আমার শারীরিক অবস্থাকে গুরুতর বিবেচনা করে তিন মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। এই জামিনে যথাযথ চিকিৎসা (যা কিনা কারাগারে অসম্ভব) তো দূরের কথা, আমাকে এখন সারা দেশে এক আদালত/কারাগার থেকে আরেকটিতে নেয়া হবে যা আমাকে হত্যার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

উপরে উল্লেখিত সবগুলো ‘মামলাগুলোর’ (কেবল দিল্লির মামলাটি ছাড়া) প্রশ্নবিদ্ধ আইনী প্রক্রিয়া, দ্রুত বিচারের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং সর্বোপরি, আমার বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয় বিবেচনা করে স্বাস্থ্য/মানবিক কারণে আমাকে জামিনে মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের কাছে জরুরী ভিত্তিতে একটি আবেদন পাঠানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। অনুগ্রহ করে বিষয়টিকে জরুরী বিবেচনা করবেন।

কোবাদ গান্ধী

তিহার জেল ৩

উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড

হরি নগর

নয়া দিল্লি-১১০৬৪

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.mainstreamweekly.net/article6110.html


নকশাল তাত্ত্বিক কোবাদ গান্ধীকে ৩ মাসের জামিন দিয়েছে আদালত

Kobad-Ghandi

সাংগঠনিক ভিত্তি দাঁড় করানোর অভিযোগে অভিযুক্ত সিপিআই(মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় সদস্য, মাওবাদী তাত্ত্বিক কোবাদ গান্ধী শর্ত সাপেক্ষে ৩ মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেলেন । কোবাদ গান্ধীর স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় চিকিত্সার জন্যই দিল্লির আদালত তাঁর এই জামিন মঞ্জুর করেছে।

৬৫ বছর বয়সী মাওবাদী এই তাত্ত্বিক নেতা ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিহার জেলে বন্দি রয়েছেন। কোবাদ গান্ধী মুম্বাইয়ের নামকরা দুন স্কুল এবং সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ও অক্সফোর্ড থেকে পড়াশুনা করেছেন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ২০টির অধিক সাজানো মামলা দাঁড় করিয়েছে, যা বিচারাধীন রয়েছে।

সূত্রঃ  http://zeenews.india.com/news/delhi/court-grants-3-month-bail-to-naxal-leader-kobad-ghandy_1803860.html