মুক্তির ৪ দিনের মাথায় মাওবাদী নেতা কোবাদ গান্ধীকে গ্রেফতার করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ

patiala-district-patiala-bhushan-hindustan-maoist-leader_b198027a-e263-11e7-814a-000c05070a4c

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশাখাপত্তনম কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর, ঝুলে থাকা মামলায় ঝাড়খণ্ড পুলিশ আজ আবার গ্রেফতার করল মাওবাদী তাত্ত্বিক নেতা কোবাদ গান্ধীকে।  

মঙ্গলবার ৫টি মামলায় জামিন পাওয়া গান্ধী, আমরাবাদ থানায় মাওবাদীদের হামলা সংক্রান্ত একটি মামলার ট্রায়ালে যোগ দিতে আজ তেলেঙ্গানার নাগারকুরনুল জেলার আচাম্পেটে জুনিয়র ফার্স্ট ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এসেছিলেন। মাওবাদীদের বিস্ফোরক দিয়ে সাহায্যের জন্যে তাকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। মামলাটি ২০১০ সাল থেকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

আদালত থেকে বেরিয়ে আসার পরই ঝাড়খন্ড পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এরপর পুলিশ তাকে হায়দ্রাবাদে নিয়ে গিয়ে নামপল্লী ফৌজদারী আদালতে হাজির করে। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর, গান্ধীকে বোকারো’তে নেয়া হয়, যেখানে ২০০৭ সালে তাকে একটি মামলার মুখোমুখি হতে হয়।

সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে। কিন্তু, তিনি তিনটি মামলায় নির্দোষ ছিলেন।

বিপ্লবী লেখক সমিতি ও সিভিল লিবার্টিজ কমিটি কোবাদ গান্ধী’র ‘অনৈতিক গ্রেফতার’ এর নিন্দা জানিয়েছেন।

সূত্রঃ http://www.hindustantimes.com/india-news/days-after-release-maoist-ideologue-kobad-ghandy-arrested-by-jharkhand-police/story-FjPWUMqmDHtvofm0yZbYYO.html


জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর মাওবাদী নেতা ‘কোবাদ গান্ধী’র প্রথম সাক্ষাৎকার

kobad

জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মুম্বাইয়ের নিজ বাড়ীতে মাওবাদী তাত্ত্বিক ‘কোবাদ গান্ধী’

মুক্ত হতে পেরে খুশি, কিন্তু এটি কেবল অর্ধ-স্বাধীনতা: মাওবাদী তাত্ত্বিক কোবাদ গান্ধী

“অনেক বছর পরে মুক্ত হওয়ার পর ভাল লাগছে” বলছেন মাওবাদী তাত্ত্বিক কোবাদ গান্ধী, যিনি ৮ বছর জেলে আটকে থাকার পর মঙ্গলবার রাতে বিশাখাপত্তনম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। “আমি পার্সি খাবারগুলোকে খুব মিস করি। অনেক বছর ধরে আমার প্রিয় খাবারের স্বাদ নিতে পারিনি।”

২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সিপিআই(মাওবাদী) সদস্যের অভিযোগ এনে কোবাদ গান্ধী’কে গ্রেফতার করা হয় এবং বেআইনী কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের অধীনে অভিযুক্ত করা হয়। গত বছর মামলায় তাকে খালাস দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে এবং দিল্লির তিহার এবং হায়দরাবাদের চেরপালাপাল্লি সহ বিভিন্ন কারাগারে তাকে ৮ বছর কাটাতে হয়েছে।

৭১ বছর বয়সী গান্ধীকে মুম্বাই যাওয়ার আগে আরও দুটি আদালতে উপস্থিতি হতে হয়েছে –যে শহরে তিনি এবং তার বোন মাহরুখ বড় হয়েছিলেন, ২১ বছর আগে এই শহর তার বাড়ি ছিল, লন্ডনে চার্টার্ড একাউন্টেন্সী পড়তে যাওয়ার আগে এবং ১৯৭০ সালে বামপন্থী আন্দোলনের আদর্শবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে একজন পরিবর্তিত মানুষ হিসাবে লন্ডন থেকে এই শহরেই ফিরে আসেন তিনি।

ফিরে আসার পর, ধনী পারসী দম্পতি- নার্গিস এবং আদি গানি’র পুত্র গান্ধী, ১৯৭৮ সালে জরুরী অবস্থা পরবর্তী নাগরিক স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি মনোযোগ দেন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই মুম্বাইয়েই হবু স্ত্রী, এলফিনস্টোন কলেজের এমফিলের ছাত্রী অনুরাধা শানবাগ’র সাথে তার দেখা হয়। ২০০৮ সালে এই দম্পতি আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়, ম্যালেরিয়ায় অনুরাধার মৃত্যু হয়। এর এক বছর পর, গান্ধীকে গ্রেফতার করা হয়।

“মুম্বাইতে যাওয়ার জন্য আমি আর অপেক্ষা করতে পারি না। আমার বোন, শাশুড়ি, শ্যালক সুনিল (শানবাগ, থিয়েটারের ব্যক্তিত্ব)… তারা সবাই আমাকে দেখার জন্যে অপেক্ষা করছে। প্রাথমিকভাবে, তারা আমার শাশুড়িকে বলেনি যে, আমি মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু তিনি খবরের কাগজে পড়েছেন। সুতরাং যখন আমি সেখানে যাব, এটি একটি বিস্ময়কর ব্যাপার হবে,” তিনি বলেন। তার মুক্তির সময়ে ফোনে কথা বলার মুহুর্তে আনন্দ প্রকাশ ছাড়াও তিনি তার বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা মামলার কথা বলেন।

“এখনও পর্যন্ত ৭টি’র মত মামলা আছে, ১০-১৫ বছর পুরনো এই মামলাগুলোর এখনো কোনো  অভিযোগপত্র তারা(পুলিশ) দাখিল করেনি। তাই আমি উদ্বিগ্ন যে, মামলাগুলো তারা হঠাৎ করেই আবার পুনরুজ্জীবিত করবে। তারপর রয়েছে গুজরাটের মামলা, যেখানে পুলিশ নাগপুর থেকে এই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে (নকশাল কার্যকলাপের জন্যে আগস্টে তুষার ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এই মামলায় কোবাদকেও অভিযুক্ত করা হয়)। এই বয়সে, এই সব বিষয় টেনশনের উৎস … তবে হ্যাঁ, আমি মুক্ত হতে খুশি, কিন্তু এটি শুধুমাত্র আধা-স্বাধীনতা” তিনি বলেন। “আমি সত্যিই বিরক্ত হয়েছি যে, যখন পুলিশ চার্জশিট দাখিল করার কোন উদ্দেশ্য না থাকা সত্ত্বেও এতদিন ধরে আমাকে কারাগারে আটকে রেখেছিল”।

এমন কিছু বিষয় আছে যা তাকে বিরক্ত করে। “গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে অনেক বিষয় পরিবর্তিত হয়েছে। প্রযুক্তিটি এতটাই বদলে গেছে যে, স্মার্টফোন ব্যবহার করা সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই” তিনি শুকনো কণ্ঠে বলেন।

“প্রায় ৮ বছর পর কারাগার থেকে বের হতে পেরে ভালোই লাগছে। আমি চাইতাম আমার স্বাস্থ্য একটু ভাল থাক”। গান্ধী বলেন যে, ‘তিনি হালকা বুকের ব্যথার চিকিৎসার পাওয়ার জন্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে জামিনের জন্যে আবেদন করেন’।

“ভারাভারা রাও মত পুরানো বন্ধুদের সাথে দেখা পেয়ে ভাল লাগছে। তিনি আমাদের পুরনো সুখস্মৃতির কাহিনী দিয়ে আমাকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। আমরা ‘সিভিল লিবারিটিজ মনিটরিং কমিটি’তে আমাদের ঐ দিনগুলোতে ফিরে যাই। তবে, কয়েক দশক আগের অনেক কিছু আমি এখন স্মরণ করতে পারিনা”।

নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি ভবিষ্যতের কথা এখনো ভাবিনি, আমি জানি না আমি কী করব। এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার দিচ্ছি আমার পরিবারকে এবং মুম্বাইতে নিজের ভাল চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।”

সূত্রঃ http://indianexpress.com/article/india/happy-to-be-free-but-this-is-only-semi-freedom-maoist-ideologue-kobad-ghandy-4983420/


মাওবাদী নেতা কোবাদ গান্ধী মুক্তি পেয়েছেন

kobad-gandhi

মাওবাদী নেতা কোবাদ গান্ধী গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশাখাপত্তনম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মাওবাদী কার্যকলাপের জন্যে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক বহনের অভিযোগ এনে ভিজাগ পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল। এই বছরের ৪ঠা এপ্রিল থেকে তিনি বিশাখাপত্তনম কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা সকল মামলা মাওবাদী কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত।

সূত্রঃ https://www.sakshi.com/news/andhra-pradesh/bail-maoist-leader-kobad-ghandy-960792


কোবাদ গান্ধী ও অন্যান্য রাজবন্দীদের মুক্ত করুন!

kobad


অধিকার ও মর্যাদার খেলাপ

kobad 1

ছয় বছর ধরে কারাবন্দী ৬৮ বছর বয়সী রাজবন্দী কোবাদ গান্ধীর স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটছে। যদিও তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার কাজ এখনো আদালতে শুরু হয়নি। পেটের সমস্যা, মাথা ঘোরা, বমি, গুরুতর কিডনির সমস্যাসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। এর জন্য তিনি All India Institute of Medical Sciences থেকে সময়ে সময়ে চিকিৎসা নিয়ে আসছিলেন। হৃদযন্ত্রের গুরুতর ব্যাধি ও নাড়ীর গতি অস্বাভাবিক হ্রাস পাওয়ায় তার শরীরে পেসমেকার বসাতে বলা হয়েছে।

তিহার জেলের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে বন্দী অবস্থায় তাকে তীব্র ধকলের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তিনি দ্রুত বিচার অথবা চিকিৎসার জন্য জামিনে মুক্তি প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছেন। কোবাদ গান্ধীর হাইপারটেনশন, ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তি, পায়ের নখে ক্ষত, প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া ও সারভিকাল স্পনডিলাইটিস ব্যাধিগুলোর কথা উল্লেখ করে সেপ্টেম্বর মাসে কারা সুপারিন্টেনডেন্ট একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিচার চলাকালীন তার স্বাস্থ্যের অবলতি পর্যবেক্ষণ করে অতিরিক্ত দায়রা জজ তার তিন মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। কিন্তু আরো কিছু মামলা ঝুলে থাকার কারণে তাকে কারাগারেই রাখা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক জামিনের বন্ড দাখিলের পূর্বেই তাকে গ্রেফতার করার জন্য অন্যান্য রাজ্যের পুলিশেরা অপেক্ষায় আছে।

সুপ্রিম কোর্টে দাখিলকৃত একটি এফিডেভিট অনুযায়ী অন্ধ্র প্রদেশ সরকার জানিয়েছে যে তার বিরুদ্ধে অন্ধ্র, তেলেঙ্গানা, দিল্লি, সুরাট, পাতিয়ালা, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খন্ডে মোট ১৪ মামলা রয়েছে। ভারতীয় পেনাল কোড ও Unlawful Activities (Prevention) Act (UAPA) এর বিভিন্ন ধারায় এইসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। দিল্লির মামলা প্রায় শেষ হয়ে আসছে এই অবস্থায় দেশ জুড়ে য়ারো গুরুতর সব মামলার সম্মুখীন হতে হবে তাকে। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগগুলো হল- তিনি সিপিআই (মাওবাদী) এর কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরোর সদস্য; তিনি এর আন্তর্জাতিক বিভাগ, গণ সংগঠনের উপকমিটি, কেন্দ্রীয় প্রকাশনা ব্যুরো ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ব্যুরোর দায়িত্বে রয়েছেন।

(সংক্ষেপিত অনুবাদ)

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.frontline.in/cover-story/denial-of-dignity-and-rights/article8017713.ece


জরুরী ভিত্তিতে জামিনে মুক্তির আবেদন কোবাদ গান্ধীর

12299229_1718015231755204_2719172647013927682_n

শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর, ২০১৫

বয়স ও গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার পরিপ্রেক্ষিতে জরুরী ভিত্তিতে জামিনে মুক্তির আবেদন কোবাদ গান্ধীর

২০১৫ সালের ১০ই নভেম্বর কোবাদ গান্ধী এই লেখাটি যত দ্রুত সম্ভব প্রকাশের উদ্দেশ্যে আমাদের কাছে পাঠান। ২১শে নভেম্বর লেখাটি আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়। আমাদের সাম্প্রতিক সংখ্যায় লেখাটি আমরা প্রকাশ করছি যাতে করে পাঠকগণ তার আহ্বানে জরুরী ভিত্তিতে সাড়া দিতে পারেন।সম্পাদক ( mainstreamweekly)

RTI(Right To Information) এর জবাবে আমাকে ঝাড়খন্ড FIR এর একটি কপি পাঠানো হয়। ২০০৯ সালে আমাকে গ্রেফতার করার পর এই মামলায় আমাকে জড়ানো হয়। এতে বলা হয়, ২০০৭ সালে বোকারোতে প্রায় ৫০০ এর মত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি একট পুলিশ ক্যাম্পে হামলা করে। এতে অংশ নেয়া তো দূরের কথা এই হামলার কথা আমি এই প্রথম শুনলাম। এই দুর্ঘটনা যখন ঘটে সে সময় আমার নামে কোন FIR করা হয়নি। আর আজ ঘটনার নয় বছর পর ঝাড়খণ্ড পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করতে আসে।

অন্ধ্র প্রদেশে পুলিশ একটি ভুয়া জবানবন্দী তৈরি করে (তেলেগু ভাষায়, যে ভাষাটি আমি জানিনা) এবং এর ভিত্তিতে ১৯৯০ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত প্রায় ১৫টি মামলায় আমার নাম যুক্ত করে। এই মামলায় আমার নাম জড়ানোর জন্য এই ধরনের কোন ‘জবানবন্দী’ ঝাড়খণ্ড পুলিশের কাছ থেকে কখনো আসেনি। এর আইনী সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ।

পশ্চিমবঙ্গের মামলা, পাতিয়ালা ও সুরাটের মামলার বিষয়গুলিও একইরকম (এখনো এর FIR আমি পাইনি)। পাতিয়ালার মামলায়, প্রাতঃকালীন ভ্রমণে বেরিয়ে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভাষাটা তারা উল্লেখ করেনি, আর আমি পাঞ্জাবি জানিনা) মাঠে দুইজন ব্যক্তি আপাতদৃষ্টিতে একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে ‘জ্বালাময়ী’ ভাষণ দিতে দেখেছে। সেই সময় ঐ ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ ব্যক্তিটির বিরুদ্ধে কোন FIR করা হয়নি। কিন্তু আমি তিহারে আসার পাঁচ মাস পর ২০১০ এর ফেব্রুয়ারি মাসে আমার বিরুদ্ধে FIR কর হয়। কোন প্রমাণ ছাড়াই কেবল গুজবের উপর ভিত্তি করে গুরুতর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দিল্লির LG (Lieutenant Governor) আমার বিরুদ্ধে ২৬৮ ধারা জারী করেছে, তাই দিল্লির মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি এই মামলাগুলোতে উপস্থিত হতে পারব না; দ্রুত বিচার পাওয়ার যে সাংবিধানিক অধিকার আমার আছে সেটি থেকে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কারাগারে ছয় বছর কাটানোর পরেও এই মামলাগুলোর একটিও শুরু হয়নি।

এখন দিল্লির মামলাটি শেষ হলে আমাকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে আর তা হতে হবে ৬৯ বছর বয়সে গুরুতর হৃদরোগ, কিডনি ও আর্থরাইটিসের সমস্যার মধ্য দিয়ে। কার্ডিওলজিস্ট মনে করেন আমার নাড়ীর গতি ৪০ এর নিচে নেমে এলে আমার হয়তো একটি পেস মেকারের প্রয়োজন হতে পারে।

দিল্লির বিচার কাজ প্রায় শেষ হয়ে আসছে এমন সময় বিজ্ঞ বিচারক ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে আমার শারীরিক অবস্থাকে গুরুতর বিবেচনা করে তিন মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। এই জামিনে যথাযথ চিকিৎসা (যা কিনা কারাগারে অসম্ভব) তো দূরের কথা, আমাকে এখন সারা দেশে এক আদালত/কারাগার থেকে আরেকটিতে নেয়া হবে যা আমাকে হত্যার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

উপরে উল্লেখিত সবগুলো ‘মামলাগুলোর’ (কেবল দিল্লির মামলাটি ছাড়া) প্রশ্নবিদ্ধ আইনী প্রক্রিয়া, দ্রুত বিচারের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং সর্বোপরি, আমার বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয় বিবেচনা করে স্বাস্থ্য/মানবিক কারণে আমাকে জামিনে মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের কাছে জরুরী ভিত্তিতে একটি আবেদন পাঠানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। অনুগ্রহ করে বিষয়টিকে জরুরী বিবেচনা করবেন।

কোবাদ গান্ধী

তিহার জেল ৩

উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড

হরি নগর

নয়া দিল্লি-১১০৬৪

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.mainstreamweekly.net/article6110.html


নকশাল তাত্ত্বিক কোবাদ গান্ধীকে ৩ মাসের জামিন দিয়েছে আদালত

Kobad-Ghandi

সাংগঠনিক ভিত্তি দাঁড় করানোর অভিযোগে অভিযুক্ত সিপিআই(মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় সদস্য, মাওবাদী তাত্ত্বিক কোবাদ গান্ধী শর্ত সাপেক্ষে ৩ মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেলেন । কোবাদ গান্ধীর স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় চিকিত্সার জন্যই দিল্লির আদালত তাঁর এই জামিন মঞ্জুর করেছে।

৬৫ বছর বয়সী মাওবাদী এই তাত্ত্বিক নেতা ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিহার জেলে বন্দি রয়েছেন। কোবাদ গান্ধী মুম্বাইয়ের নামকরা দুন স্কুল এবং সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ও অক্সফোর্ড থেকে পড়াশুনা করেছেন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ২০টির অধিক সাজানো মামলা দাঁড় করিয়েছে, যা বিচারাধীন রয়েছে।

সূত্রঃ  http://zeenews.india.com/news/delhi/court-grants-3-month-bail-to-naxal-leader-kobad-ghandy_1803860.html


তিহার জেল-৩ থেকে বন্ধু ও আত্মীয়-পরিজনদেরকে লেখা কোবাদ গান্ধীর চিঠি

politics

(এই চিঠিটি বেশ দেরীতে আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। তাই দেরীতেই চিঠিটি আমরা প্রকাশ করছি পাঠক সাধারণ ও বিশেষ করে কোবাদ গান্ধীর বন্ধু ও আত্মীয় পরিজনদের উদ্দেশ্যে।)

তিন চার মাস অন্তর কারাগার স্থানান্তরের ফলে আমাকে যে হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছিল তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভাবে আপনারা যে সমর্থন দিয়েছেন তার জন্য আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।

নিয়মিত কারাগার স্থানান্তরের এই পদ্ধতিটা হয়রানি করার একটা কুখ্যাত অস্ত্র (এককালে শাস্তির অংশ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হত); বিশেষ করে আমার এই বয়সে, গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার মধ্যে। বলা যেতে পারে আমাকে পঙ্গু করে ফেলার জন্য কিংবা তার থেকেও খারাপ পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি হয়, আমি যাতে বেঁচে ফিরতে না পারি সেই উদ্দেশ্যে সচেতন কিংবা অসচেতন ভাবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। আর জেল-৮ এ পাঠানোর সিদ্ধান্ত ছিল প্রবাদের ভাষায় শেষ খড়কুটো; সমস্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কারাগারগুলোর মধ্যে জেল-৮ এর অবস্থা সবচেয়ে খারাপ (অন্যান্য নয়টা জেলের মধ্যে এটাতেই মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশী)।

যদিও আমার স্বাস্থ্যের অবস্থা ভঙ্গুর তারপরেও অনশনে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোন বিকল্প পথ ছিল না কারণ গত বছর থেকে এ সম্পর্কে আমার সব আবেদন অরণ্যে রোদনে পরিণত হয়েছিল (এবং তিন বছর ধরে সিনিয়র নাগরিক ওয়ার্ডে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করেও কোন ফল হয়নি)। আপনাদের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে আমার আগের সেলেই আমাকে রাখা হয়েছে।

জুনের ৬ তারিখ অনশনের ষষ্ঠ দিনে আমার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হল। ক্রমাগত মাথা ঘুরছিল, বমি বমি লাগছিল, রক্তচাপ করে গেল, ওজন ছয় কেজি কমে গেল, দুই বোতল ফ্লুইড দেয়ার পরেও সেদিন কোন কাজ হল না। সেই সন্ধ্যায় মনে হয়েছিল আমার স্বাস্থ্যের পক্ষে আর বোধহয় ধকল সহ্য করা সম্ভব নয়।

কিন্তু সৌভাগ্যবশত, সেই সন্ধ্যায় জেল-৮ (এখানকার সকল কর্মচারীরাই আমার ভগ্ন স্বাস্থ্যের প্রতি বিবেচনা দেখিয়েছেন) এর ডিএস জানালেন আমাকে শীঘ্রই জেল-৩ এ নিয়ে যাওয়া হবে। তখন রাত সাড়ে নয়টা। সেই সময়ই সতীর্থ কয়েদীদের দেয়া খাবার খেয়ে অনশন ভঙ্গ করলাম।

বাইরে থেকে আপনাদের এতটা সমর্থন না পেলে এই অমানবিক পরিস্থিতি কারা কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারত না আর এত দ্রুত সমস্যার সমাধানও হত না (ভবিষ্যতে স্থানান্তর করা হবে না এই নিশ্চয়তার ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই)। যদিও ডিজি(কারাগার) একজন মানবিক লোক বলেই মনে হয় (এক মাস আগে আমার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে এসএমও এর কাছে পাঠানো একটি অভিযোগে তিনি ইতিবাচক ভাবে সাড়া দিয়েছিলেন), কিন্তু এধরনের স্থানান্তর করার আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলো যন্ত্রের মতো কাজ করে যেখানে ব্যক্তিকে কোন বিবেচনার মধ্যে আনা হয় না; কেবল নম্বরই বিবেচ্য; কাজেই ২৫ বছরের একজন ছিঁচকে আসামীকে এবং আমাকে একই সাথে রাখা হয়।

আমার দ্রুত ফেরত আসার জন্য আমি আপনাদের সকলকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে সবার আগে তাদের প্রতি যারা তথ্যটা সকলকে জানিয়েছেন (সতীর্থ কয়েদী ও অন্যান্যরা); দ্বিতীয়ত আইনজীবীদের প্রতি যারা ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন; তৃতীয়ত, সাংবাদিকদের বিশেষ করে যারা খবরটিকে জাতীয় পর্যায়ে (আমাকে বলে হয়েছে) মানবিক ও সামাজিক গল্প হিসেবে প্রচার করেছেন; চতুর্থত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আত্মীয় পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবদের প্রতি যারা এতটা সংশ্লিষ্টতা দেখিয়েছেন যার দেখা সহজে মেলে না; এবং সব শেষে অনেক নীরব সমর্থকদের প্রতি ধন্যবাদ জানাই যারা এক বিন্দু সমর্থনকে এক সমুদ্র সহানুভূতিতে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছেন।

পরিশেষে, যদিও আমি জানি না বাইরে কী ঘটছে, তবু আমি PUDR (Peoples Union For Democratic Rights)  কে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই যারা কিছু চুক্তি বিষয়ে আলাপ আলোচনা চালিয়েছিলেন বলে জেনেছি। আমি অবশ্য জানি না কিছু সময়ের জন্য কী ঘটেছিল তবে আমি আবিষ্কার করলাম ওরা ১৫ দিনের জন্য আমার দেখা সাক্ষাৎ বন্ধ করে দিল (এই প্রথম বারের মতো) এবং PUDR এর একজন প্রতিনিধিকে মঙ্গলবার (৯ জুন) জেলখানার গেট থেকে ফিরে চলে যেতে হল। এটা ইতিবাচক লক্ষণ নয়, (পরদিন ফোনে জানতে পারলাম)কাজেই ভবিষ্যতে আপনাদের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু আপাতত একটি ঝামেলাপূর্ণ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে, পরে এ বিষয়ে আরো জানতে পারব।

ইতোমধ্যে, দিল্লির ঘটনা চলছেই, এর কোন শেষ হচ্ছে না; মারাঠি সিনেমা ‘কোর্ট’ (Court) থেকে হয়তো দিল্লির আদালত/আইনজীবীদের শিক্ষা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

কোবাদ গান্ধী

তিহাল জেল

তারিখঃ ১২ জুন ২০১৫, নয়াদিল্লি

বি:দ্রঃ ১১ জুন আইন কর্মকর্তা আমাদের ওয়ার্ডে আসেন এবং মৌখিকভাবে আমাকে নিশ্চয়তা প্রদান করেন যে আমাকে স্থানান্তর করা হবে না; কিন্তু এখানে মৌখিক নিশ্চয়তার স্বীকৃতি প্রয়োজন।

সূত্রঃ http://www.mainstreamweekly.net/article5815.html


ভারতঃ নকশাল তাত্ত্বিক কোবাদ গান্ধী অনশন ভঙ্গ করেছেন

SS-E2614-KobadG

k1

তিহার জেলে আটক বিচারাধীন ৬৮ বছর বয়সী নকশাল তাত্ত্বিক কোবাদ গান্ধী শুক্রবার অনশন ভঙ্গ করেছেন। আদালত থেকে কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি কোবাদ গান্ধীকে যথাযথ স্বাস্থ্য সুবিধা ও মৌলিক সুযোগ সুবিধা প্রদানের নির্দেশ আসার পরপরই তিনি অনশন ভঙ্গ করেন। কোবাদের আইনজীবী ভাভুক চৌহান সাংবাদিকদের বলেন, “এটি অত্যন্ত উপযোগী একটি নির্দেশ। আদালত তার (কোবাদের) বয়স ও প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করেছে।” মাওবাদী মতাদর্শবাদী তাত্ত্বিক হবার অভিযোগে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বাস্থ্যের যাতে অবনতি ঘটে সেই উদ্দেশ্যে তিহার কারা কর্তৃপক্ষ তাকে হয়রানি করছে এই অভিযোগে গত শনিবার থেকে কোবাদ অনশন শুরু করেন। এক কারাগার থেকে তাকে আরেক কারাগারে স্থানান্তর করা হলে ঔষধপত্র, গরম পানি, বিছানা ও কমোড ইত্যাদি মৌলিক সুবিধাগুলো থেকে তিনি বঞ্চিত হবেন; তাই মুলতঃ এই স্থানান্তরের প্রতিবাদে তিনি অনশন করেছিলেন। কোবাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিহার কারা কর্তৃপক্ষ একটি প্রতিবেদন পেশ করে, যাতে উল্লেখ করা হয় তাকে চিকিৎসা সেবা থেকে কখনো বঞ্চিত করা হয়নি। ‘অভিযুক্তকে যেসকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করার কথা সেগুলো যেন তাকে যথাযথ ভাবে প্রদান করা হয়’ সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে আদালত জেল সুপারিন্টেন্ডেন্টকে নির্দেশ দেয়। ১৫ মিনিটের শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেয়া হয়।

সুত্রঃ http://www.thehindu.com/news/national/ghandy-ends-hunger-strike/article7287551.ece


‘কোবাদ গান্ধী’ এক ব্যতিক্রমী মাওবাদী বিপ্লবী

SS-E2614-KobadG

বাবা বহুজাতিক কোম্পানিতে উচ্চবেতনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। কলেজপড়ুয়া ছেলে কোবাদের জন্য তিনি একদিন শখ করে সোনার চেইনওয়ালা একটি ঘড়ি কিনে দেন। ঘড়িটি বাবার দেওয়া শখের উপহারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পছন্দের ছিল তার। তাই ঘড়িটি সারাক্ষণ আগলে রাখত ছেলেটি। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই পরিবারের সদস্যরা লক্ষ করল, কোবাদের হাতে ঘড়িটি নেই। বাবা জিজ্ঞেস করলেন, ‘ঘড়িটি কি হারিয়ে ফেলেছ?’ কোবাদ শান্ত গলায় জবাব দিল, ‘ঘড়িটি আমি পাশের বাসার কাজের ছেলেটাকে দিয়ে দিয়েছি। ওর ওটা খুব পছন্দ হয়েছিল।’ ওই দিন কোবাদের এমন জবাব শুনে পরিবারের সবাই আকাশ থেকে পড়ে। তাদের আশঙ্কা, ছেলেটা হয়তো পাগল হয়ে যাচ্ছে! অথচ তারা জানত না গরিবের জন্য দরদি এই ছেলেটার মনে রয়েছে একজন মহান বিপ্লবী।

k

এতক্ষণ কোবাদ নামের যে ছেলেটার কথা বলা হলো, আসলে তিনি হলেন ভারতের নকশালপন্থী বিপ্লবী নেতা কোবাদ ঘেন্দি (৫৮)। ছেলে পাগল হয়ে যাচ্ছে—পরিবারের এমন আশঙ্কা অবশ্য শেষ পর্যন্ত সত্য হয়নি। তবে সেই কোবাদ মহাপাগল হয়েছিলেন। কোবাদের বন্ধুদের মতে, ওই মহাপাগল হতদরিদ্রদের অধিকার আদায়ে বিপ্লবের পথে নেমেছিলেন। ঘুণে ধরা সমাজে তিনি দেখেছেন কীভাবে ভূমিহীন আর দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ দিন দিন আরও দরিদ্র হচ্ছে, বিপরীতে ধনীরা কীভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ছে। তিনি দেখেছেন বঞ্চিত কৃষক কীভাবে ক্ষুধা আর দারিদ্র্যের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে, কীভাবে তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। সমাজের ওই উঁচুতলার মানুষজনই নিয়ন্ত্রণ করছে রাষ্ট্রকে। তারা শুধু গরিবের অধিকার আদায়ের কথা বলে, কিন্তু কাজ করে অভিজাত শ্রেণীর জন্যই। কোবাদ নিজেও ছিলেন উঁচুতলার মানুষ। তাই হয়তো হতদরিদ্রদের নিপীড়নের চিত্র খুব কাছ থেকে দেখতে পেয়েছিলেন। বিলাসী সুখের জীবন ত্যাগ করে তাই একদিন নাম লেখান ভারতের মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টিতে। কোবাদ চেয়েছিলেন, মহা ঝড় তুলে সমাজকে একেবারে গুঁড়িয়ে দেবেন। এরপর সেখানে আবার গড়া হবে নতুন এক সমাজ, যেখানে থাকবে সাম্য আর ন্যায়বিচার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারলেন না তিনি। ৩০ বছর গোপনে (আন্ডারগ্রাউন্ড) বিপ্লবের বীজ বুনে ২০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন এই বিপ্লবী। নকশালদের কাছে যে কোবাদ এক আদর্শের নাম!

k1

কোবাদদের পারসি পরিবারে অভাব বলতে কিছু ছিল না। সমাজের উঁচুতলার মানুষ বলতে যা বোঝায়, কোবাদরা তাই-ই। কোবাদের এক ভাই প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব সুনীল শনবাগ। সুনীল বলেন, ‘আমাদের পরিবারে কোবাদের প্রভাব স্পষ্ট। মাওবাদী রাজনীতিতে জড়ানোর পরও তাঁর জন্য আমাদের পরিবারের সমর্থনে কখনো ভাটা পড়েনি। কারণ আমরা ভালো করেই জানি, কোবাদ গণমানুষের জন্য মুক্তির সংগ্রামে নেমেছে।’

কোবাদ পড়ালেখা করেছেন অভিজাত দুন স্কুল এবং সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। এরপর উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন লন্ডনে। সেখানে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি পাস করেছেন ভালো ফল নিয়ে।

কোবাদের এক বন্ধু রাজনীতিক পি এ সেবাস্তিয়ান বলেন, মূলত ইংল্যান্ডে পড়ালেখার সময়ই তিনি দেশের রাজনীতি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেন। এরপর দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭৫-৭৭ সালে ইন্দিরা গান্ধীর সরকার জরুরি অবস্থা জারি করলে তিনি আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ওই সময় তিনি গড়ে তোলেন কমিটি ফর প্রটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইট (সিপিডিআর) নামের সংগঠন। আসগর আলী ইঞ্জিনিয়ারের মতো আরও অনেক রাজনীতিক তখন এই সিপিডিআরে নাম লেখান।

k3

আরেক বিপ্লবী এবং কোবাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু সুসান সেবাস্তিয়ান বলেন, ‘সমাজের অভিজাত শ্রেণী থেকে আসার পরও কোবাদের মধ্যে কখনো আভিজাত্যের ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। সদাহাস্য মানুষটি সাদামাটা জীবন যাপন করতেন। তাঁর স্ত্রী অনুরাধা শনবাগও ছিলেন যোগ্য সহযোদ্ধা। স্বামীর সঙ্গে তিনিও বেছে নিয়েছিলেন বিপ্লবের পথ। জঙ্গলে জঙ্গলে আর বনবাদাড়ে ঘুরতে ঘুরতে শরীরে ম্যালেরিয়া বাসা বেঁধেছিল তাঁর। এ অবস্থায় ২০০৮ সালে মারা যান তিনি। ২০০৮ সালে বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে কোবাদ বলেছিলেন, ‘ভারতে এখনকার সমাজব্যবস্থাটা হলো আধাসামন্ততান্ত্রিক ও আধা ঔপনিবেশিক। এ সমাজকে খাঁটি গণতান্ত্রিক পথে আনতে হবে। তাই আমাদের সংগ্রাম হলো ভূমিগ্রাসী আর গরিব-দুঃখীদের ব্যবহার করে যারা সম্পদের পাহাড় গড়ে তাদের বিরুদ্ধে। গ্রামের হতদরিদ্রদের অধিকার আদায়ের আগ পর্যন্ত এ সংগ্রাম চলবেই।’

মহারাষ্ট্র পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, নাগপুর ও চন্দ্রপুরে কোবাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অভিযোগ মেলেনি।

এরই মধ্যে কোবাদ ঘেন্দির মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন প্রচার শুরু করেছে। তারা বলেছে, কিছু কিছু গণমাধ্যম কোবাদ ঘেন্দিকে ভুলভাবে তুলে ধরছে। এমন একটি সংগঠনের এক নেতা বলেন, কোবাদ কোনো রক্তলোলুপ সন্ত্রাসী নন। তিনি একজন শান্তিকামী বিপ্লবী। অথচ অনেকে তাঁকে ভুলভাবে তুলে ধরার অপচেষ্টা করে। এটা বড় হতাশাজনক।

সমাজকর্মী ও লেখক জ্যোতি পুণ্যানী বলেন, ‘আমরা যখন দুন স্কুলে একসঙ্গে পড়তাম, তখন জানতামই না যে, কোবাদেরা এত বড়লোক। ওরলি এলাকায় তাঁদের বিশাল বাড়ি ছিল। পরে যখন বিদেশে পড়ালেখা করে দেশে আসে, তখন তাঁর কাঁধে থাকত কাপড়ের একটি ঝোলা। তাতে থাকত নানা ধরনের বই। একেবারে সাধারণ একজন মানুষ। অথচ ওই সাধারণ মানুষটাই সবার সঙ্গে করতেন অসাধারণ আচরণ। সবার মাঝে মিশে যেতেন তিনি অবলীলায়। করতেন হাসি-তামাশা। সব শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তাঁর। তাঁর স্ত্রীও গোটা জীবনটাই দিয়ে গেলেন হতদরিদ্র মানুষের মুক্তির সংগ্রামের পেছনে। কোবাদ সম্পর্কে এ মুহূর্তে শুধু একটি কথাই বলতে চাই, তিনি কোনো মনীষী নন, বরং একজন বড় মাপের ভাবাদর্শী। গ্রেপ্তার হলেও তাঁর ওই আদর্শের মৃত্যু হবে না। এতে অনুপ্রাণিত হবে পরিবর্তনপ্রত্যাশী ভারতের লাখো বিপ্লবী।’

kabodghandy_quoute

সর্বশেষঃ 

নকশাল বাদী হিসেবে ২০০৯ সাল থেকে নয়াদিল্লীর তিহার জেলে আটক কোবাদ গান্ধী কারা কর্তৃপক্ষের হয়রানির প্রতিবাদে গত শনিবার থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্যে অনশন শুরু করেছেন।

বর্তমানে কোবাদ গান্ধী(৬৮)কে যেখানে রাখা হয়েছে সেখানেই রাখার জন্য তার একাধিক অনুরোধ সত্ত্বেও কারা কর্তৃপক্ষ এখন তাকে ৮ নম্বর কারাগারে স্থানান্তর করছে । সীমিত পরিসরে হলেও এখানে তার মত শারীরিকভাবে অসুস্থ একজন সিনিয়র বন্দী নাগরিকের জন্য কিছু সুযোগ সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া, যাবতীয় বই পুস্তক জিনিসপত্র এক জেল থেকে বহুদূরে অবস্থিত অন্য জেলে টেনে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত শ্রম সাপেক্ষ বিষয় যা এ মুহূর্তে কোবাদের বর্তমান ভঙ্গুর শারীরিক অবস্থায় খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

এক বিবৃতিতে কোবাদ গান্ধী জানান, তিনি হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, বাত এবং আর্থরাইটিস, কিডনি সহ বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছেন। অথচ, এসব জেনেও কারা কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত তাকে হয়রানি করে যাচ্ছে।

যেহেতু এটা পরিস্কার যে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে স্থানান্তর করবেই; তার অসংখ্যবার অনুরোধের পরেও তার কোন কথা তারা কানে তুলছে না, এ পরিস্থিতিতে এই ধরনের অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে অনশনে যাওয়া ছাড়া কোবাদের সামনে আর কোন পথ খোলা নেই।

তিহার জেল থেকে লেখা কোবাদ গান্ধীর বিবৃতি 

Declaration Kobad Ghandy, June 1:

‘I have 68 years and I spent five and a half years in Tihar Jail in Delhi with the case almost buckled. Although routine transfers (every three to five months) of prisoners to the high-risk area of the prison to take place for four years, I did about that since August 2014. This is the third in nine months. Previously, transfers were carried out in prison that as a punishment. I have a heart condition, blood pressure, a sliding vertebral disc, ankylosing spondylitis, a kidney problem and many other health problems – and specifically all worsened after August 2014.

During our transfers, we must carry our bags ourselves (10-15 kilos), undergo various excavations of all our items, we are made to wait outside the gates of the prison for 4-5 hours waiting for a vehicle, packed like sardines with our luggage in one van and taken to the new prison door. Then two more thorough searches, and again carry all our stuff to the neighborhood, etc. We must pass the medical examination for any newcomer. Then a rush to the cells, the latecomers getting worst. Then, roughly 2 or 3 days pass clean the disgusting cell and storage of our business, without any help. In the new jail, all medical treatments are interrupted, medical plans and other permissions must be requested again, as was the bed and western toilet. This may take a few days to a few months. Furthermore, Vodafone equipment must also be started from scratch. No sooner are we installed and adapted to the new batch of criminals (some of which can be very bad) that occurs the next transfer, and the whole process starts again.

My transfer was made on 30 May in the middle of an examination for a heart problem at the GB Pant Hospital. Since the order of the High Court in 2012 asking the Tihar Jail to take better care of its senior citizens (aged 65 to read), I asked to be transferred in the area reserved for senior citizens, or that the I am given similar equipment in the high-risk area, but in vain. On the contrary, whereas at the beginning he never transferred me he employ it since August 2014, this clearly being a method of harassment and destruction of my health. Since all calls, both on legal grounds humanitarians were ignored, I, ultimately, had to put in an unlimited hunger strike since my last transfer on 30 May. ‘

Kobad Ghandy

Tihar Jail 8/9

High Risk Ward (Ward 5)

সুত্রঃ

http://archive.prothom-alo.com/print/news/9215

http://www.signalfire.org/2015/06/05/strike-declaration-by-kobad-ghandy-june-1/

http://zeenews.india.com/news/india/naxalite-kobad-ghandy-on-indefinite-hunger-strike-inside-tihar-jail_1606746.html