বিভিন্ন দেশে মাওবাদী কমরেড গনজালো’র জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষায় আন্তর্জাতিক প্রচারণা চলছে

 

ইকুয়েডর – 

 

ব্রাজিল – 

 

জার্মানী – 

Advertisements

পেরুর মহান মাওবাদী নেতা কমরেড গনজালো’র জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষায় এগিয়ে আসুন!

পেরুর এক নৌ আদালত, ১৯৯২ সালে পেরুর লিমায় এক গাড়ী বোমা বিস্ফোরণের মামলায় মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে ও পেরুর রাষ্ট্র উৎখাতের চেষ্টায় শাইনিং পাথ এর নেতৃত্বে রাখার জন্য পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান কমরেড গনজালো(৮২)কে গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২য় বার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।

এসময় আদালতের শুরুতে কমরেড গনজালো শুধুমাত্র তার চিকিৎসার জন্যে ব্যবস্থা নিতে বক্তব্য রাখেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে তার বিরুদ্ধে চলমান বিচারের সময়েও বরাবরের মতো এবারো তিনি ধারালো ও সুউচ্চ কণ্ঠে কমিউনিজমের প্রশংসা করেন বক্তব্য রাখেন, যখন তাকে সন্ত্রাসবাদে দোষী সাব্যস্ত করা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় ।

এসময়, গুজমানের এটর্নি আলফ্রেডো ক্রেসপো, উক্ত অভিযোগে গনজালোর জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

অথচ, ঐ সময় কমরেড গনজালো’কে গাড়ী বোমা বিস্ফোরণের মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্তকারী তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফুজিমোরী তার স্বৈরাচারী শাসনামলে দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।

(কমরেড গনজালো’র সর্বশেষ প্রাপ্ত ছবি– ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ পেরুতে বিচার কার্যের সময় তোলা)

 

 

 


নিজের বিপ্লবী জীবনের শুরু নিয়ে কমরেড গনজালো’র সাক্ষাৎকার

Shining Path guerrilla leader Abimael Guzman is pictured in jail after his capture in Lima in this September 24, 1992 file photograph. REUTERS/Anibal Solimano/File

১৯৯২ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর পেরুর লিমা থেকে শাইনিং পাথ প্রধান কমরেড গনজালো’র গ্রেফতার হওয়ার পর কারাগারে তোলা ছবি– 

১৯৩৪-এ জন্ম নেয়া গনসালো ১৯৮৮-এর সাক্ষাতকারে ঘটনাসমূহ বর্ণনা করেন যা তার জীবনকে চিত্রিত করে:

“আমি বলব রাজনীতিতে যাওয়ার পেছনে যা আমাকে সবচেয়ে প্রভাবিত করেছে তা হচ্ছে জনগণের সংগ্রাম। ১৯৫০-এ আরেকুইপাতে উত্থানের সময় আমি জনগণের যুদ্ধ উদ্যম দেখেছি-তরুণদেরকে বর্বর গণহত্যার জবাবে কীভাবে জনগণ অপরিমেয় ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে লড়েছেন।

আর আমি দেখেছি কীভাবে তারা সৈন্যবাহিনীকে লড়েছেন তাদের ব্যারাকে পশ্চাদপসারণ করতে বাধ্য করে।  আর অন্য এলাকা থেকে বাহিনী আনা হয়েছে জনগণকে ধ্বংস করতে।  এটা একটা ঘটনা যা আমাদের স্মৃতিতে ভাস্বর হয়ে রয়েছে।

কারণ সেখানে, লেনিনকে বোঝার পর, আমি বুঝলাম কীভাবে জনগণ, আমাদের শ্রেণী, যখন তারা, রাস্তায় অবস্থান নেয় ও এগিয়ে যায় প্রতিক্রিয়াশীলদের সমস্ত ক্ষমতা সত্ত্বেও তাদের কাঁপিয়ে তোলে।

আরেকটি জিনিস ছিল ১৯৫৬-এর সংগ্রাম, যখন জনগণ লড়েন, অন্যরা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলেও-যা সুবিধাবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীলরা করে থাকে, কিন্তু জনগণ লড়াই করল এবং সেই দিনটিকে বহন করল, আর গণআন্দোলন সংঘটিত হল, খুবই শক্তিশালি।  এই ঘটনাসমূহ, উদাহারণস্বরূপ, আমাকে সাহায্য করল জনগণের ক্ষমতা বুঝতে: এই যে তারা ইতিহাস সৃষ্টি করে।

আরেকটু পেছনে যাই। আমার কাল্লাওয়ে ১৯৪৮-এ জনগণ দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল, জনগণের সাহসিকতা নিজের চোখে দেখেছি, কীভাবে জনগন বীরত্বে উদ্বেল, কীভাবে নেতৃত্ব বিশ্বাসঘাতকতা করল।”

সাক্ষাতকারে তিনি ব্যাখ্যা করেন কীভাবে এসব গণসংগ্রাম তাকে সাম্যবাদে নিয়ে এসেছে:

“উচ্চস্কুল জীবনের শেষে আমার রাজনীতিতে আগ্রহ বিকশিত হয় ১৯৫০-এর ঘটনাসমূহের ওপর ভিত্তি করে।

পরবর্তী বছরগুলিতে; আমার স্কুলের সহপাঠীদের নিয়ে একটা গ্রুপ গঠন করার কথা আমার মনে আছে রাজনৈতিক ভাবধারা অধ্যয়ন করতে।  সকল ধরণের রাজনৈতিক অধ্যয়নে আমরা খুবই আগ্রহী ছিলাম।  সম্ভবত আপনি বুঝবেন সেটা কী ধরণের সময় ছিল।  এটা ছিল আমার জন্য সূচনা।

তারপর কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামে আমি দেখলাম প্রত্যক্ষ ধর্মঘট, আপ্রিস্টা ও কমিউনিস্টদের মধ্যে সংঘাত ও বিতর্কসমূহ।  তাই বইয়ের প্রতি আমার আগ্রহ জ্বলে উঠলো।কেউ একজন আমাকে একটা বই ধার দেওয়া যায় মনে করলো।  আমি বিশ্বাস করি এটা ছিল “এক কদম আগে, দুই কদম পেছনে”, আমি এটা পছন্দ করলাম, আমি মার্কসবাদী বই অধ্যয়ন শুরু করলাম।  তখন কমরেড স্তালিনের ব্যক্তিত্ব আমার ওপর বড় প্রভাব সৃষ্টি করলো। সেসময় জনগণ যারা সাম্যবাদে এসেছে, পার্টি সদস্য হয়েছে তাদের লেনিনবাদের সমস্যা ব্যবহার করে ট্রেইন করা হয়েছে।

এটা ছিল আমাদের প্রধান অবলম্বন, এর গুরুত্ব লক্ষ্য করে, আমি এটা অধ্যয়ন করি যেহেতু এটা পড়ার মতই সিরিয়াস।  স্তালিনের জীবন আমাকে আকৃষ্ট করল। তিনি ছিলেন আমাদের জন্য বিপ্লবের উদাহারণ।

কমিউনিস্ট পার্টিতে ঢুকতে আমার সমস্যা হল।  তাদের ছিল একটা উদ্ভট মানদন্ড, সদস্য হতে হলে আপনাকে একজন শ্রমিকের ছেলে বা মেয়ে হতে হবে, যা আমি ছিলামনা।  কিন্তু অন্যদের ছিল ভিন্ন মানদন্ড,তাই পার্টিতে যোগ দিতে সক্ষম হই।  আমি স্তালিনকে রক্ষায় অংশ নেই।  সেসময় স্তালিনকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া মানে আমাদের আত্মাকে কেড়ে নেয়া।  সেই দিনগুলিতে, স্তালিনের রচনা লেনিনের চাইতেও বেশি প্রচারিত ছিল।সেসময়টা এমনই ছিল।

পরে আমি কাজের উদ্দেশ্যে আয়াকুচোতে ভ্রমনে যাই।  আমি ভেবেছিলম এটা সংক্ষিপ্ত অবস্থান হবে। কিন্তু তা বছর বছর হয়ে যায়।  আমি ভেবেছিলাম এটা স্রেফ এক বছরের হবে, কারণ পরিকল্পনাটা তেমনই ছিল।  আমার ছিল আমার পরিকল্পনা, সর্বহারা শ্রেণীর ছিল তার পরিকল্পনা।

জনসাধারণ আমাদের বহুভাবে পরিবর্তন করেন। আয়াকুচো কুষক জনগণকে আবিষ্কার করতে সাহায্য করেছে। সেসময়, আয়াকুচো ছিল খুবই ছোট শহর, প্রধানত: গ্রাম।  আপনি যদি গরীব অংশে যান, এমনকি আজও সেখানে কৃষক দেখতে পাবেন।  আপনি যদি শহরতলীর দিকে যান, পনের মিনিটেই আপনি গ্রাম পেয়ে যাবেন।  সেখানেও আমি মাওসেতুঙকে বুঝতে শুরু করলাম।  আমি মার্কসবাদ বুঝতে অগ্রসর হলাম।  মার্কসবাদ ও সংশোধনবাদের মধ্যে সংঘাত ছিল আমার বিকাশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

দুরভাগ্যবাণ কেউ আমাকে এক চীনা পত্র “আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের সাধারণ লাইনের ওপর একটি প্রস্তাবনা” ধার দিয়েছিল। সে আমাকে ফেরত দেবার শর্তে ধার দিয়েছিল।নিশ্চিতভাবে এটা ছিল একটা বুঝে শুনে চুরি করা।  পত্রটি মার্কসবাদ ও সংশোধনবাদের মধ্যকার মহান সংগ্রামে গভীরভাবে ঢুকতে আমাকে চালিত করে।আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলাম পার্টির মধ্যে কাজ করতে এবং সংশোধনবাদকে উতপাটন করতে।  আমি বিশ্বাস করি, অপরাপর কমরেডদের সাথে মিলে আমরা এটা অর্জন করেছি। আমরা দুএকজনকে ত্যাগ করেছি যারা সংশোধনবাদের রঙে রঙীন হয়ে অনেক দূর গেছিল।

আয়াকুচো আমার জন্য প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এর সাথে বিপ্লবী পথ ও চেয়ারম্যান মাওয়র শিক্ষা জড়িত ছিল।  এই সমগ্র প্রক্রিয়ায় আমি একজন মার্কসবাদীতে পরিণত হলাম।  আমি বিশ্বাস করি, পার্টি আমাকে গড়ে তুলেছে দৃঢ়তা ও ধৈর্য সহকারে।


মহান মাওবাদী নেতা ও পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান কমরেড গনজালো’র গদ্য কবিতা প্রসঙ্গে

abimael

গনসালো কি কবিতা লিখেছেন?

না, তবে তিনি পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির বিখ্যাত কিছু পাঠ লিখেছেন খুবই উচ্চ স্তরের কাব্যিক গদ্যসম্পন্ন। সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে “১৯৮০তে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু কর”, সংক্ষেপে “আইএলএ-৮০”।

পতাকা”, ১৯৮০ থেকে কিছু অংশ:

“আমরা সবাই সেই ঝড়ের প্রতি নিবেদিত; বাতাস পাতা উড়িয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বীজ থেকে যায়। ১৯২৭-এ এক বিরাট ঝড় পেরুর কমিউনিস্ট পার্টি (পিসিপি) সৃষ্টিতে চালিত করেছে। সেই পার্টি এক ঝড়ের মধ্যে প্রবেশ করেছে, সব কিছুই বিস্ফোরিত হবে। অনেক দিন আমরা একটা মেরুকেন্দ্র হতে আকাঙ্খিত, এখন সময় এসেছে। আমরা যে পথ গ্রহণ করছি তা সঠিক, এবং যে সকল সমস্যা আমরা মোকাবেলা করি তা সমাধান হবে।

আজকে পতাকাকে স্বীকার করার দিন, কিন্তু আমাদেরটা একটা লাল পতাকা, একটা মূর্ত, হাতুড়ি ও কাস্তে খচিত। আমাদের পতাকা হচ্ছে পরম লাল; যারা বিদ্রোহ করে তাদের সবারই লাল পতাকা আছে।”

আইএলএ-৮০ থেকে:

“আমরা কমিউনিস্টরা এক নির্দিষ্ট ধাতের, এক বিশেষ জিনিস, আমরা কমিউনিস্টরা সবকিছুর জন্য তৈরি এবং আমরা জানি কোন জিনিসকে লড়তে হবে। আমরা ইতিমধ্যেই একে লড়েছি, কালকেও তাকে লড়বো।আগামীকাল যেমোকাবেলা হবে আজ তা শিশু, এটা কঠিনতর হবে, কিন্তু তারপর আমরা অতীতের দ্বারা পোড় খাব যেমনটা আজকে আমরা এগিয়ে নিচ্ছি। আমরা বিপ্লবের আগুণে আমাদের আত্মাকে পুড়িয়ে নেব, এটাই একমাত্র অগ্নিশিখা যা আমাদের সামনে এগিয়ে নিতে সক্ষম।

আমাদের প্রচুর আশাবাদ দরকার এবং তার একটা কারণ রয়েছে। আমরা আগামীর প্রস্তুতকারক। আমরা শ্রেণীর অপরাজেয় বিজয়ের পথপ্রদর্শক গ্যারিসন। তাই, আমরা আশাবাদী।

আমরা প্রাকৃতিকভাবেই উদ্দীপনাময়। আমরা আমাদের শ্রেণীর মতাদর্শের দ্বারা পূর্ণ: মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওসেতুঙ চিন্তাধারা। আমরা শ্রেণীর জীবন যাপন করি। আমরা এর বীরত্বব্যাঞ্জক কর্মে অংশ নেই। আমাদের জনগণের রক্ত আমাদের মধ্যে বাহিত ও ফুটন্ত।

আমরা শক্তিমত্ত স্পন্দিত রক্তের মত। আসুন অভঙ্গুর লোহা ‍ও ইস্পাতকে গ্রহণ করি, শ্রেণীকে গ্রহণ করি, একে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাও চিন্তাধারার চির জ্বাজল্যমান আলোর সাথে মিশিয়ে ফেলি।

উদ্দীপনা মানে দেবতাদের শক্তিতে অংশ নেয়া বোঝায়; তাই আমরা উদ্দীপনায় ভরপুর। আমরা অংশ নে্ই বাস্তব দুনিয়ার স্বর্গীয়তায়: জনগণ, শ্রেণী, মার্কসবাদ ও বিপ্লব। তাই আমাদের আছে অক্লান্ত উদ্যম। তাই আমাদের রয়েছে শক্তি, আশাবাদ আর উদ্দীপনায় ভরা সজীবতা।

১৯৮৮-এর সাক্ষাতকারে এই বিপ্লবী স্টাইলের লেখা সম্পর্কে গনসালো ব্যাখ্যা করেন:

“আমি বলব, অনেক সময় রাজনীতিতে আপনাকে এখানে যেতে হবে, যাতে ভাবাবেগ, গভীর অনুভূতি আমাদের প্রতিজ্ঞাকে শক্তিশালী করতে পারে।এমন সময়, তারা যেমন বলে, হৃদয় কথা বলে এবং আমি বিশ্বাস করি যুদ্ধের জন্য যে বিপ্লবী আবেগ দরকার তা নিজেকে প্রকাশ করে। এর সাহিত্যমুল্য কী আছে তা আমি জানিনা।”

কবিতা সম্পর্কে ১৯৮৮-এর সাক্ষাতকারে তিনি আরো উল্লেখ করেন:

“একসময় সঙ্কলিত বিশ্ব কবিতা সার্ভে করছিলাম। আমি এটা আগেও অধ্যযন করেছি-বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগারে কিছু রচনা ছিল যাতে আমার প্রবেশ ছিল। আমি কবিতা পছন্দ করি। চেয়ারম্যান মাওয়ের অন্যতম একটি দিক হচ্ছে এটা-যাকে আমি প্রশংসা করি। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ কবি। পেরুভিয়ান কবিতার ক্ষেত্রে ভ্যাল্লেখো আমার কাছে প্রিয়। হ্যাঁ, তিনি আমাদের, এবং পাশাপাশি, তিনি ছিলেন একজন কমিউনিস্ট।