শান্তিচুক্তির শর্ত বারবার লঙ্ঘন : কলম্বিয়া সরকারের সমালোচনা মার্কসবাদী ফার্কের

farc_tropa_tres

কলম্বিয়া সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে মার্কসবাদী গেরিলা দল ‘ফার্ক’। তাদের সাথে করা শান্তিচুক্তির শর্ত বারবার লঙ্ঘন করায় সরকারকে অভিযুক্ত করে অস্ত্র পরিত্যাগ বিলম্ব করার হুমকি দিয়েছে ফার্ক।

গত নভেম্বরে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির শর্ত সরকার বারবার লঙ্ঘন করায় তারা এ হুমকি দিয়েছে। খবর এএফপি’র। এক বিবৃতিতে ফার্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারের এই ধরণের দীর্ঘসূত্রিতা চলতে থাকলে তারা অস্ত্র পরিত্যাগের ক্ষেত্রে বিলম্ব করবে।

দলটির গেরিলা নেতা রদ্রিগো লন্ডনো এক টুইটার বার্তায় বলেন, সরকারের এমন আচরণের কারণে ফার্ক আন্তর্জাতিক মনিটরিংয়ের দাবি জানাতে যাচ্ছে। এর আগে তিনি গেরিলাদের অস্ত্র ত্যাগ স্থগিতের কথা বিবেচনা করেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী কলম্বিয়ার ২৬টি অঞ্চলের ৭ হাজার বিদ্রোহীর জাতিসংঘের কাছে অস্ত্র সমর্পণের কথা রয়েছে।

Advertisements

ছত্তিশগড়ে মাওবাদী গেরিলাদের হামলায় নিহত অন্তত ১২ CRPF জওয়ান

ছত্তিশগড়ে CRPF এর টহলদার বাহিনীর উপর মাওবাদী গেরিলাদের হামলায় নিহত অন্তত ১২জন CRPF জওয়ান। mint এ প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ সুকমায় ভেজ্জি ও কুট্টাচেরু এলাকার মাঝামাঝি স্থানে CRPF এর এক টহলদার বাহিনীর উপর অতর্কিতে হামলা চালায় মাওবাদীরা।  এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে গেরিলারা। CRPF এর আধিকারিকে উদ্ধৃত করে mint জানাচ্ছে বড় বড় বোল্ডারের আড়ালে জওয়ানরা আশ্রয় নিলেও পুরো এলাকাটায় মাইন পাতা থাকায় একের পর এক তা বিস্ফোরণ হতে থাকে। আর এতেই নিহত হন অন্তত ১২জন জওয়ান। জখম হন বেশ কয়েকজন। ১০টি অত্যাধুনিক অস্ত্র ও দুটি হাইফ্রিকোয়ান্সির রেডিও সেটি নিয়ে চম্পট দেয় মাওবাদী গেরিলারা। গত বছর অক্টোবর মাসে মালকানগিরিতে গ্রেহাউন্ডের হানায় ৩ মাওবাদী নেতা সহ ৩০জন মাওবাদী নিহত হন।

সূত্রঃ satdin.in


রিপোর্টঃ বিশ্বের সবচাইতে দ্রুততম ও সফল গেরিলা অপারেশনটি মাওবাদীদের

maxresdefault

অনূদিতঃ

বিশ্বের সবচাইতে দ্রুততম ও সফল গেরিলা অপারেশনটি ফিলিপাইনের মাওবাদীদের ।  ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টির(CPP) সশস্ত্র শাখা নিউ পিপলস আর্মির(NPA) মাওবাদী দশজন গেরিলা ২০০৮ সালের ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে ফিলিপাইনের কুইজন প্রাদেশিক কারাগারে প্রবেশ করে।   এসময় তারা ফিলিপাইন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির পোশাক পরা ছিল।  কুইজন কারাগারের কর্মকর্তারা গেরিলাদের ছদ্মবেশি ফাঁদে পা দেয়।  গেরিলারা ভেতরে ঢুকেই কারারক্ষীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে।  ঘটনার আকস্মিকতায় বোকা বনে যাওয়া ২৪জন কারারক্ষী ও প্রহরীরা কোনো প্রকার বাঁধা না দিয়েই আত্মসমর্পন করে। বাকি ২৬জন কারারক্ষী ও ডেপুটি প্রহরী তখন ম্যানিলায় একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করছিল।  স্বশস্ত্র নিউ পিউপলস আর্মি গেলিরারা কারারক্ষী ও প্রহরীদের একটি সেলে বন্ধী করে রাখে।  এরপর তারা কারাগারের বিভিন্ন অংশ থেকে তাদের ৭জন নেতাকে খুঁজে বের করে যারা এই কারাগারে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ভোগ করছিল। এরপর আগে থেকেই প্রস্তুত চারটি ভ্যানে গেলিরারা তাদের নেতাদের নিয়ে পালিয়ে যায়।

নিউ পিপলস আর্মির এই অপারেশনটি মাত্র ১৫মিনিট স্থায়ী হয়েছিল।  এই অপারেশনে কোনো গুলিবর্ষন ও রক্তপাত হয়নি।  কারাগার থেকে মাওবাদী বন্দী উদ্ধার করা অপারেশন এর থেকে দ্রুত গতিতে ও সার্থক ভাবে বিশ্বের কোন গেরিলা দল আগে করতে পারেনি।

১৯৬০ দশকে ফিলিপাইনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তরুণ ও ছাত্রদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের একটি জোয়ার দেখা যায়।  ওই রেঁনেসা বা জোয়ারের অংশ হিসেবে নিউ পিপলস আর্মি ১৯৬৯ সালের মার্চ মাসে গঠিত হয় যাদের উদ্দেশ্য ছিল মাওবাদী গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে সেই সময়ের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস শাসিত সরকারের পতন ঘটানো ও দেশে কমিউনিজম প্রতিষ্ঠা করা।  মার্কসবাদী আদর্শ ও মাওবাদী লাইন নিয়ে এই গ্রুপটি গঠন করা হয়।  ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত চীনের সরকার নিউ পিপলস আর্মিদের বিভিন্ন ধরণের সহযোগিতা দিয়েছিল।  এই সময়ে দলটি প্রচুর গেরিলা নিবন্ধন করে এবং বেশ কিছু বড় অপারেশন পরিচালনা করে।  কিন্তু ১৯৭৬ সালে চীন সরকার তাদের সব ধরণের সাহায্য-সহযোগিতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।  চীনের সমর্থন হারানোর পর নিউ পিপলস আর্মি বেশ খারাপ কয়েকটি বছর অতিক্রম করে। ১৯৮০ সালের মাঝামাঝিতে নিউ পিপলস আর্মির নেতারা পশ্চিমা কমিউনিস্ট পার্টি বিশেষ করে কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়ার নতুন উৎস তৈরি করে।  একই সময়ে তারা ফিলিপাইনের ধনীব্যক্তি ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ‘বিপ্লবী কর’ হিসেবে টাকা-পয়সা সংগ্রহ করতে শুরু করে।

নিউ পিপলস আর্মি তাদের অপারেশনে এম-১৬, এম-১৪, এম১ গারান্ডস, কার্বিনেস ও স্প্রিংফিল্ড রাইফেল, সি৪ এক্সপ্লোসিভ, বি৪০ এন্টি ট্যাংক রকেট এবং হাতে তৈরি গ্রেনেড ব্যবহার করে।

যদিও নিউ পিপলস আর্মিরা প্রাথমিকভাবে একটি গ্রাম্যভিত্তিক গেরিলা দল, কিন্তু তারা শহুরে অবকাঠামোর মধ্যেও কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে।  ১৯৮৫ সালে তারা শহর ভিত্তিক গেরিলা স্কোয়াড তৈরি করে।  নিরাপত্তা বাহিনী, রাজনীতিবিদ, বিচারক, সরকারি কর্মকর্তা ও অভিযুক্ত অপরাধীদের টার্গেট করা হয়।  নিউ পিপলস আর্মি মাওবাদী আদর্শের অনুসারী হওয়ায় শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ছিল তাদের অবস্থান। তাই ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের খবরদারির বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নেয় এবং আমেরিকার সামরিক ব্যক্তিদের তাদের প্রধান টার্গেট হিসেবে নেয়।  এক সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহীনির মেজর জেমস রোকে গুলি করে হত্যা করে যিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ‘সার্ভাইভাল, এভাসন, রেসিস্ট্যান্ট ও এস্কেপ স্কোয়াড প্রতিষ্ঠাতা।  ২০০২ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ২০০৫ সালের নভেম্বরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন মাওবাদীদের বৈদেশিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে।

বর্তমানে নিউ পিপলস আর্মির প্রতিষ্ঠাতা হোসে মারিয়া সিসন সহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তরা আত্মগোপনে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করেন।  এখন তাদের কার্যক্রম ফিলিপাইনের ৬০টি প্রদেশে রয়েছে।

 

সূত্রঃ https://page11.wordpress.com/2014/07/09/the-story-of-new-peoples-army/


“আসুন গণযুদ্ধের জন্য আমাদের জীবন উৎসর্গ করি” – তুরস্কের জেলবন্দী গেরিলা যোদ্ধা

maxresdefault

[নোট : নিচের বক্তব্যটি তুরস্কের সাগমাছিলার জেলখানায় TKP(ML)-এর একজন আমরণ অনশনকারী যোদ্ধার একটা অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতা। জেলবন্দিরা অনশন ধর্মঘটকে আমরণ অনশনে রূপান্তরিত করে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালানোর ঘোষণার প্রতীক “মাথায় লালপট্টি  বাধার পর অনুষ্ঠানটি করা হয়েছিল। বক্তৃতাটি “রেভ্যুলুশনারী ডেমোক্রেসি, নং-২২, ১৬-৩১ ডিসেম্বর, ২০০০ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছে। (নোট: ট্রেঞ্চ কমরেডগণ” বলতে রাজনৈতিক বন্দিদের যুদ্ধে যোগদানকারী অন্যান্য সংগঠনের কমরেডদের কথা বুঝানো হয়েছে) – এই নোটসহ সমগ্র লিটারেচারটি নেয়া হয়েছে ইংরেজিতে প্রকাশিত AWTW পত্রিকার ২০০১/২৭ সংখ্যা থেকে। যার বাংলা অনুবাদ করেছেন আমাদের একজন কমরেড। অনুবাদের বিষয়ে যে কোনো মতামত সাদরে গৃহীত হবে।]

         আন্তর্জাতিক সর্বহারা শ্রেণি বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের কাছ থেকে আমাদের সংগৃহীত শক্তিতে আমি আপনাদের সালাম জানাই। আমি আপনাদের সকলকে আমাদের বৈজ্ঞানিক মতাদর্শ মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ থেকে অর্জিত শক্তিতে সালাম জানাই। আন্দিজ পর্বতমালা, হিমালয় পর্বতমালা, নক্সালবাড়ি এবং মুঞ্জরস-এ উড্ডীন আমাদের আন্তর্জাতিক লাল পতাকায় আমি আপনাদের সকলকে সালাম জানাই। কমরেডগণ এবং ট্রেঞ্চ কমরেডগণ ; বিপ¬বের তুলনা চলে মায়ের তীব্র প্রসব বেদনার মধ্য দিয়ে সুন্দর লাল গোলাপের মতো শিশুর ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাথে। আমরা দীর্ঘ এবং বেদনাদায়ক বিপ্লবী যুদ্ধের শেষে সুন্দর লাল গোলাপের মতো শিশুটির জন্মগ্রহণ দেখতে পাবো, আর একটার পর একটা বিপ্লব, সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব সমূহের মধ্যে দিয়ে শিশুটিকে গড়ে তুলবো এবং এর বিকাশ নিশ্চিত করব… যতক্ষণ পর্যন্ত না শ্রেণিহীন, সীমান্তহীন, শোষণমুক্ত কমিউনিস্ট সমাজে আমরা পৌঁছতে না পারি ; সেটাই হচ্ছে সঠিক দুনিয়া, মানবজাতির স্বর্ণযুগ। আমরা বিপ্লবী যুদ্ধের একটা নতুন ও বেদনাদায়ক কাল অতিক্রম করছি ; এই কালে আমরা পুরোপুরি নিয়োজিত আছি এই স্বপ্নের বাস্তবায়নে। একই সাথে বর্তমান পর্যায়টি হচ্ছে এমনই একটা ক্রান্তিকাল যখন একজন নিজে প্রকৃত বিপ্লবী কিনা তা পুন:যাচাই-এর জন্য তাকে মতাদর্শগত, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যে কোনো বিপ্লবী, সংগঠন বা পার্টি এই ক্রান্তিকালের প্রয়োজন মিটাতে ব্যর্থ হলে, বর্তমান বিশ্বে যে বিপ্লবের ঢেউ জেগে উঠছে তার সাথে সঠিক তালে এগিয়ে যেতে পারবে না, ফলে হোচট খাবে এবং ব্যর্থ হবে বা এর পশ্চাতে টেনে-হেঁচড়ে চলবে। আমরা যারা কারাবন্দি যোদ্ধা আর রাজনৈতিক বন্দি তাদের এ পর্যন্ত পালন করা দায়িত্বটা এখন আরো বেড়ে গেছে সাম্রাজ্যবাদী ও ফ্যাসিবাদী একনায়কের রণনীতিগত পলিসির নীল নকশার সেল আক্রমণ পরিচালনার কারণে। কারাবন্দি যোদ্ধারা তাদের দায়িত্ব পালনে কখনো দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগেনি আর বর্তমানেও তাদের দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসছেন। গত বছরব্যাপী কয়েকটি ছোট-বড় লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এখন আমাদের লড়াইয়ের বিজয়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছি আমৃত্যু অনশনের আক্রমণ পরিচালনার মাধ্যমে। এই চূড়ায় আরোহণের লক্ষ্যে আমাদের পার্টিগুলো থেকে আমাদের কয়েকজনকে অগ্রভাগে যুদ্ধ করার কাজে দেয়া হয়েছে…। কমরেডগণ এবং ট্রেঞ্চ কমরেডগণ ; এই মুহূর্তে আমি যখন আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছি তখন আমি ঐ দিনের মতো আবেগ অনুভব করছি যেদিন প্রথম আমাকে এই কাজের ভার দেয়া হয়েছিল। আমি একজন গেরিলার উদ্দীপনা ও রোমাঞ্চ অনুভব করছি, একজন গণযোদ্ধা শত্রুর ওপর শত শত গুলি ছোড়ার পর তার রাইফেলের ব্যারেল কতটা উত্তপ্ত হয়েছে তা খেয়াল না করেই ব্যারেলটিতে লেহন করে জিভ পুড়িয়ে ফেলার রোমাঞ্চ আমি অনুভব করছি। যেখানে যে অবস্থাতেই আমরা থাকি না কেনো আমরা অনুভব করছি একজন গেরিলার উৎসাহ-উদ্দীপনার অনুভূতি ; যা হচ্ছে আমাদের সম্মিলিত আত্মিক গঠনের ফল। এই রোমাঞ্চ ও উদ্দীপনা হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক কর্তৃত্বের বিপ্লবী ঘাটি এলাকাগুলো শত্রুর দ্বারা পরিবেষ্টিত অবস্থায় তোলা আমাদের রণধ্বনির: “আসুন গণযুদ্ধের জন্য আমাদের জীবন উৎসর্গ করি”, ফ্যাসিবাদের আক্রমণগুলোকে প্রতিরোধ করি, কারণ এগুলো আমাদের আকাঙ্খিত রাজনৈতিক ক্ষমতা ধ্বংস করতে চায়। গেরিলা আর আমাদের একই অনুভূতি কাজ করছে, কারণ আমরা জানি যে আমরা শত্রুর একই অবস্থানে আঘাত করছি। আলেকজান্ডার দি গ্রেট যুদ্ধে তার সেনাবাহিনীর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছিলেন : আমার সৈন্যরা মরার জন্য লড়ছে না বরং জয়লাভের জন্য লড়ছে। একজন যোদ্ধার জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা যা আত্মস্থ করা দরকার। জেরোনিমো আমাদের হৃদয়ে এবং নিপীড়িত জনগণের হৃদয়ের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছেন, যদিও তিনি যুদ্ধের কৌশল বা যুদ্ধের ইতিহাসের ওপর কোনো বই লিখেন নি, তিনি নিম্নের উক্তিটি করেছেন: “জীবন প্রক্রিয়ায় মৃত্যুর দ্বার খোলা না থাকলে কোনো বিপ্লবও হতে পারে না।” এটাও একটা দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা যা একজন বিপ্লবী যোদ্ধার আয়ত্ব করা দরকার। অতএব বিপ্লবের জন্য মরার সাহস নিয়ে আত্মত্যাগ করতে হবে; মরার সাহস নিয়ে বিপ্লবী যুদ্ধ চালাতে জনগণকে পরিচালিত করতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায়, পেরুর রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা নির্জন অন্ধকার কারা প্রকোষ্ঠে আটক কমরেড গনজালো বলেছেন : “আঙ্গুলের মাথায় আমাদের জীবনকে বয়ে বেড়ানোর শিক্ষা আমাদেরকে অর্জন করতে হবে।” আর ঠিক এটাই আজ আমরা করছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে জয়লাভ করা, যুদ্ধ করে জয়লাভ করা…। আমরা বিপ্লবী, কমিউনিস্ট ; তাই আমরা বিপ্লব চাই, স্বাধীনতা চাই, নয়াগণতন্ত্র চাই, এবং সমাজতন্ত্র চাই। তাইতো আমরা সেলের বিরোধিতা করছি, আর দৃঢ়তার সাথে বিপ্লবী যুদ্ধ গড়ে তুলতে চাইছি। … চেয়ারম্যান মাও আমাদের শিখিয়েছেন যে হাজার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে মৃত্যুকে বরণ করতেও যে ভয় পায় না সে-ই সম্রাটকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পাওে ; সেহেতু আমাদের নেতা ও পথপ্রদর্শক ইব্রাহিম কায়াপাক্কায়া শিখিয়েছেন, শ্রেণিসংগ্রামের মহাসমুদ্রে সকল বাধা-বিপত্তি ডিঙ্গিয়ে এগিয়ে চলতে। এই সচেতনতা এবং সাহস নিয়ে আমি আমরণ অনশনের লড়াইয়ের পরীক্ষা অবতীর্ণ হচ্ছি।

আমার কমরেডসুলভ উষ্ণতায় এবং ট্রেঞ্চ কমরেডসুলভ অনুভূতির সাথে আমি আপনাদের সালাম জানাই। বিজয়পূর্ণ দিন অর্জনে আপনাদের সফলতা কামনা করছি।

আমাদের পার্টি দীর্ঘজীবী হোক!

আমাদের জয় হবে, জনগণের জয় হবে, গণযুদ্ধের জয় হবে!

TKP(ML)-এর আমরণ অনশন যোদ্ধা, সাগমাছিয়া জেল।

সূত্রঃ AWTW পত্রিকা, ২০০১/২৭ সংখ্যা


পেরুর মাওবাদী গেরিলা দল ‘শাইনিং পাথ/Shining Path’

Communist-Party-of-Peru-Shining-Path

সত্তর বা আশির দশকে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ল্যাতিন আমেরিকার যে কয়টি গেরিলা সংগঠন অদ্যবধি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাদের মধ্য কমিউনিস্ট পার্টি অব পেরু অন্যতম। এই মাওবাদী গেরিলা সংগঠনটিই সারা বিশ্বে শাইনিং পাথ নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত। নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে দক্ষিণ পেরুর স্যান ক্রিস্টোবাল হুমাংগা ন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি দর্শনের অধ্যাপক এবিমিয়েল গুজমানের হাত ধরেই এর যাত্রা শুরু। কার্ল মার্ক্সের ডিকটেটরশিপ অব দ্য প্রলিতারিয়েত বা শ্রমজীবী মানুষের ক্ষমতায় আরোহণ তত্ত্বের বাস্তবায়নই ছিল এ গেরিলা দলের মূল উদ্দেশ্য।

শাইনিং পাথ গেরিলা দলের ভাষ্য মতে, গণযুদ্ধের লাইন ছাড়া এখন বিশ্বে যেসব কমিউনিস্টপন্থি দল রয়েছে এরা সবাই সংশোধনবাদীতে পরিণত হয়েছে। বুর্জোয়া শ্রেণির ছত্রছায়ায় প্রত্যেকে ক্ষমতার ছায়াতলে থাকতে চায়। এ সব সুবিধাবাদী কমিউনিস্ট দলগুলোকে সরিয়ে সমগ্র বিশ্বে কমিউনিস্ট আন্দোলনকে বেগবান করাই ছিল এদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, এদের কর্মপন্থা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ভারতের মাওবাদী গেরিলা সংগঠন সিপিআই(মাওবাদী)’র মতো।

মাওবাদী গেরিলা দল শাইনিং পাথের কার্যক্রমকে সময়ের তিন অংশে ভাগ করা হয়। এর প্রথম পর্যায় হচ্ছে বিশ শতকের ১৯৬০ থেকে ১৯৯২ সাল। দ্বিতীয় পর্যায় ১৯৯২ থেকে ১৯৯৯ সাল এবং তারপর একবিংশ শতকের ২০০৩ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত। যদিও ধরে নেওয়া হয় শাইনিং পাথের উত্থান নব্বইয়ের দশকের শুরুতে, তবে এর প্রতিষ্ঠা কিন্তু আরো আগে ১৯৬০ সালে। শাইনিং পাথের প্রতিষ্ঠাতা এবিমিয়েল গুজমান, স্যান ক্রিস্টোবাল অব হুমাংগা ইউনির্ভাসিটিতে দর্শন শাস্ত্র পড়াতেন। ১৬৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়কে শাইনিং পাথের আতুরঘর বলা হয়। ধারণা করা হয়, দর্শনশাস্ত্রে বোদ্ধা গুজম্যান তার লেকচারের মাধ্যমে ছাত্রদের শাইনিং পাথে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হন। তবে শাইনিং পাথ প্রথম দৃশ্যপটে আসে ১৯৮০ সালের এপ্রিল মাসে। প্রায় এক যুগের অচলাবস্থার পর একই বছর পেরুর সামরিক শাসক শ্রেণি নির্বাচনের আয়োজন করে। তবে শুরু থেকেই যে কয়টি দল নির্বাচনের বিরোধিতা করে আসছিল তাদের মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টি অব পেরু বা শাইনিং পাথ অন্যতম। কিন্তু কোনোভাবেই কোনো প্রচেষ্টায় যখন নির্বাচন প্রতিহত করা যাচ্ছিল না, তখন শাইনিং পাথ সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নেয়। ১৯৮০ সালে এপ্রিল মাসের ১৭ তারিখে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে তারা দক্ষিণ আন্দিজ পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত সুসাই শহরের ভোটকেন্দ্রের ব্যালট বাক্স ও পেপার পুড়িয়ে দেয়। এটাই ছিল তাদের প্রথম প্রতিবাদ। তবে অগ্নিসংযোগকারীদের খুব দ্রুত ধরা হয়। এতে করে ঘটনাটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে জনসম্মুখে প্রকাশ পায়। এরপর  ১৯৮০ ও ১৯৮১ সালের পুরোটা সময় শাইনিং পাথ তাদের সদস্য সংগ্রহ ও বিভিন্ন এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করতে থাকে। এভাবে তারা দক্ষিণ পেরুর অনেকখানি অংশে তাদের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়। দক্ষিণ অঞ্চলে শাইনিং পাথ এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে ১৯৮১ সালের ২৯ ডিসেম্বর সরকার আন্দিজ পর্বতমালার পাদদেশীয় আয়েকচো হুয়ানক্যাভেলিকা ও অপুরিম্যাক অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করে তাদের দমনে সামরিক বাহিনী প্রেরণ করে। সামরিক বাহিনী, পুলিশ এবং রোন্ডাসের (স্থানীয় কৃষক সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে গঠিত ও সামরিক বাহিনী কতৃক প্রশিক্ষিত এন্টি রেবেল মিলিশিয়া) ত্রিমুখী লড়াই চলে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত।

শুরুতে কৃষকরা এর বিপক্ষে থাকলেও পরে তারা এর পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। শাইনিং পাথ গোটা দেশে বিদ্যুত বিপর্যয় ঘটানোর জন্য বিদ্যুতকেন্দ্রগুলোতে হামলা, কারখানায় বোমা বিস্ফোরণ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ওপর হামলা করত।

এভাবেই হামলা, পাল্টা হামলার মধ্যে দিয়েই কাটে প্রায় একযুগের ও বেশি সময়। আসে ১৯৯২ সাল। এ বছরটাই শাইনিং পাথ গেরিলাদের সবচেয়ে বিপর্যয়কর বছর হিসেবে বিবেচিত। এ বছরই পুলিশের হাতে গুজমানসহ শাইনিং পাথের প্রথম সারির অনেক নেতাই ধরা পড়ে। গুজমান ধরা পড়ার পর শাইনিং পাথ অনেকটাই নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে। কারণ তার বিকল্প কোনো নেতাই ছিল না যিনি গেরিলাদের নেতৃত্ব দেবে। তা ছাড়া গুজমান জেলে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় সরকার কর্তৃক সাজানো অতঃপর প্রচারিত যে গুজমানের সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনার ঘোষণা দেওয়া নিয়ে শাইনিং পাথ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একটি অংশ আত্মসমর্পণ করে। অপর একটি অংশ গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় এবং এই অংশের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন অস্কার রামিরেজ। রামিরেজ কিছু দিন নেতৃত্ব দেওয়ার পর ১৯৯৯ সালে সরকারি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন এবং শাইনিং পাথ আবার নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে।

অধ্যাপক এবিমিয়েল গুজমান

অধ্যাপক এবিমিয়েল গুজমান

তবে শাইনিং পাথ যেন ফিনিক্স পাখি। বারবার ধ্বংসের মধ্যে থেকে জেগে ওঠে। একবিংশ শতকের গোড়ার দিকে এই বাহিনীর সদস্যরা আবার একত্রিত হতে থাকে। এ সময় কমরেড আর্টিমিও এর হাল ধরে। আর্টিমিও নেতৃত্বে আসার পর শাইনিং পাথ বেশ কয়েকটি বড়বড় অপরেশন পরিচালনা করে। এরমধ্যে ২০০২ সালে পেরুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল লিমায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের বাইরে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ, ২০০৩ সালে আর্জেন্টাইন কোম্পানি টেকইনটের ৬৮ জনের মতো কর্মীকে ও তিনজন পুলিশ সদস্যকে অপহরণ, ২০০৫, ২০০৬ ও ২০০৯ সালে সরকারি বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ২০১২ সালে কমরেড আর্টিমিও গুরুতর জখম অবস্থায় সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। ২০১৩ সালের ৭ জুন আর্টিমিওর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, মাদকপাচারের অভিযোগ এনে পেরুর সরকার তাকে আজীবন জেল ও প্রায় ১৮৩ মিলিয়ন ইএস ডলার জরিমানা করে। তবে এত কিছুর পরও পেরু থেকে শাইনিং পাথ যে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি, সেটাই সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়। ২০১৫ সালে এ গেরিলা গোষ্ঠী আবার আলোচনায় এসেছে।

সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই আজো জারি রেখেছে শাইনিং পাথ।

1


তথ্য চিত্রঃ ভারতের নকশাল গেরিলা (ভিডিও)


মার্কসবাদী গেরিলা দল ZPRA পরিচিতি –

9_149491

জিম্বাবুয়ে আফ্রিকান পিপলস ইউনিয়নের আর্মড উইং জিম্বাবুয়ে পিপলস রেভ্যুলুয়েশন আর্মি। রোদশিয়ার গেরিলা এ দলটি সংক্ষেপে ZPRA/জেডপিআরএ নামে অধিক পরিচিত। মূল দলের সঙ্গে কিছুটা স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে গেরিলা দল জিম্বাবুয়ে পিপলস রেভ্যুলুয়েশন আর্মি মার্ক্সিস্ট-লেলিনিস্ট মতাদর্শে উজ্জীবিত। অন্যদিকে মূল রাজনৈতিক দল জিম্বাবুয়ে আফ্রিকান পিপলস ইউনিয়ন মাওবাদী মতাদর্শকে পাথেয় হিসেবে মেনে নিয়েছিল। রোদেশিয়ান সরকারের নৈরাজ্য আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়ে যাত্রা শুরু করে এ গেরিলা দলটি। নিজ দেশ এবং নিজস্ব গোত্রের অস্তিত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার্থে সোচ্চার হয়ে ষাটের দশকেই গেরিলা দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ZPRA/জেডপিআরএ। যাত্রার শুরু থেকেই আর্মড এ উইং গেরিলা ও মিলিটারি উভয় প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত হয় সুদক্ষভাবে। তবে স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় দলটি নিজেদের গুপ্ত ঘাঁটিতে বেশ বহাল তবিয়তেই ছিল। মূল রাজনৈতিক দল ছাড়াও স্থানীয় জনগণ ও এএমসির সহযোগিতা পেয়েছিল বরাবরই। ZPRA/জেডপিআরএ রোদেশিয়ান সরকারের সঙ্গে বেশ কয়েকটি গেরিলা হামলায় লিপ্ত হয়। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গেরিলা হামলা হিসেবে ধরা হয় রোদেশিয়ান বুশ ওয়্যার যুদ্ধ। এ যুদ্ধের পর পরই গেরিলা দল ZPRA/জেডপিআরএ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে পড়ে। আশির দশকের পর থেকে এ গেরিলা দলটির কোনো উপস্থিতি টের পাওয়া যায় না। জাতীয়তাবাদী নেতা জেসন মায়োর নেতৃত্বে গেরিলা এ দলটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে ১৯৬৮ সালে। দীর্ঘ ১২ বছরের স্থায়িত্বকালে গেরিলা এ দলটি সর্বাধিক সচল ছিল ১৯৭৯ সালে। এ সময়ে দলটির উল্লেখযোগ্য কমান্ডার ছিল আলফ্রেড নিকিতা ম্যাঙ্গেনা ও লুকাউট মাকুসু।

51YRXxpnZXL._SY344_BO1,204,203,200_