মাওবাদী ছকে গোর্খা আন্দোলন কলকাতা শহরেও!

Gorkha-Protests

গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন শুধু পাহাড়েই থেমে থাকবে এমন নয়, তা কলকাতা শহরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে রাজ্যকে সতর্ক করল কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যের মুখ্যসচিব মলয় দে-কে পাঠানো বার্তায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব রাজীব গৌবা বলেছেন, মাওবাদীদের কয়েকটি গণসংগঠন কলকাতার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে গোর্খাল্যান্ডের আওয়াজ তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে।

মাওবাদী কার্যকলাপ নিয়ে প্রতি ছ’মাসে রাজ্যকে কিছু পরামর্শ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সেই সূত্রেই গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের সঙ্গে মাওবাদীদের যোগসূত্রের কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্রসচিবের লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, মাওবাদীদের বিভিন্ন গণসংগঠন জাতিসত্তা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের কথা বলে কলকাতা শহরে দার্জিলিংয়ের পড়ুয়াদের একত্রিত করার চেষ্টা করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দার্জিলিং, সিকিম-সহ উত্তর পূর্ব থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ‘গোর্খা ডেমোক্রেটিক ফোরাম’ নামে সংগঠন গড়ে তুলেছে মাওবাদীরা। সেই সংগঠনের আড়ালেই গোর্খাল্যান্ডের সমর্থনে আন্দোলন শুরু হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা নর্থ ব্লকের।

মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, ২০১১ সালে ২৪ নভেম্বর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মাওবাদীদের অন্যতম শীর্ষ নেতা কিষেনজি মারা যাওয়ার পরে পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদী কার্যকলাপ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে আসে। কিন্তু সম্প্রতি নকশালবাড়ি আন্দোলনের ৫০ বছর পালনকে সামনে রেখে মাওবাদী আদর্শঘেঁষা বেশ কিছু গণসংগঠন ফের সক্রিয় হয়েছে। তাদের সঙ্গে তলায় তলায় যুক্ত হচ্ছে কয়েকটি বামপন্থী দলও। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক কর্তা জানান, কাশ্মীরে পাথর ছোড়া শুরুর পর দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ছাত্ররা ‘আজাদি’ আন্দোলন শুরু করেছিল। তার প্রভাব পড়ে দেশ জুড়ে। এ বার সেই ধাঁচে কলকাতার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও গোর্খা আন্দোলন শুরু হতে পারে।

নবান্নের এক কর্তার বক্তব্য, ‘‘কেন্দ্রের সতর্কবার্তা পেয়ে আমরা যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কয়েকটি কলেজের উপর নজর রাখছি। পাহাড়ের ছেলেমেয়েরা যে সব এলাকায় থাকে, সেই সব এলাকাতেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।’’ তা ছাড়া, পাহাড়ে মাওবাদীদের যুক্ত থাকার কিছু প্রমাণও ইতিমধ্যেই মিলেছে বলে রাজ্যের দাবি। পাহাড়ে পর পর যে ভাবে বিস্ফোরণ হচ্ছে তার সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে জঙ্গলমহলে নাশকতার ঘটনার মিল রয়েছে বলেও মনে করছেন রাজ্য গোয়েন্দারা। এখন দিল্লির সতর্কবার্তা আসায় বিশেষ নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানান নবান্নের কর্তারা।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/gorkhaland-movement-started-in-the-city-just-like-maoist-scheme-1.671214

Advertisements

গোর্খা জাতিসত্তার পক্ষে কলকাতা শহরে নকশালপন্থীদের কনভেনশন

gorkhaland-759

বাংলা ভাগ হতে দেবো না, বাংলা ভাগের চক্রান্ত ব্যর্থ করুন, এই চেনা স্লোগানের বিপরীতে অন্য স্বর শোনা গেল মঙ্গলবার ভারতসভা হলে। সিপিআই(এমএল) গোষ্ঠীর কয়েকটি পার্টি ও কিছু গণসংগঠনের ডাকে এদিন এক কনভেনশনে গোর্খা জাতিসত্তাকে সম্মান জানিয়ে তাদের পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্য গঠনের গণতান্ত্রিক দাবির সমর্থনে বক্তব্য রাখলেন একাধিক বক্তা। পাহাড়ে রাজ্য প্রশাসন যে ভাবে জুলুম নামিয়ে এনে সেখানকার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে চাইছে তার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানানো হয়। গোর্খাদের দীর্ঘ অর্থনৈতিক বঞ্চনা, তাদের জাতিসত্তাকে অবদমিত করে রাখার রাষ্ট্রীয় জুলুমবাজীর যৌক্তিক ও ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা করেন এদিনের কনভেনশনে আসা একাধিক ব্যক্তি। কনভেনশনে অবিলম্বে পাহাড়ে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন বন্ধের দাবি তোলা হয়। নকশালপন্থী সিপিআই এমএল, সিপিআই এমএল এসওসি, সিপিআই এমএল নিউ- ডেমোক্রেসি ছাড়াও গণসংগ্রাম মঞ্চ, শ্রমিক কৃষক সংগ্রাম কমিটি ছিল এই কনভেনশনের আহ্বায়ক। কনভেনশনে গৃহীত সদ্ধান্তের ভিত্তিতে গণসচেতনতা বাড়ানো ও আন্দোলনের রুপরেখা তৈরি করার কথা ঘোষণা করা হয়। ভারতসভা হলের এই কনভেনশন আবারও দেখিয়ে দিল এ শহর এখনও অন্য স্বরকে ধারণ করার ক্ষমতা ধরে।

সূত্রঃ satdin.in