কাশ্মীরের ঢঙেই এবার গোপন গোয়েন্দা পাঠিয়ে মাও দমন করবে ভারত ?

 

সম্প্রতি মাওবাদী হামলার ঘটনায় রীতিমত কপালে ভাঁজ পড়েছে কেন্দ্রের। এই বিষয়ে একটি রিভিউ মিটিংও হয়েছে। যেখানে ছিলেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। এবার তাই মাওবাদীদের রুখতে ছত্তিসগড়ের মত জায়গায় গোপনে গোয়েন্দা পাঠাতে হবে বলেই মনে করছে কেন্দ্র। ঠিক যেভাবে জঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করতে কাশ্মীরে ছদ্মবেশে গোয়েন্দা পাঠানো হয়, সেভাবেই মাওবাদীদেরও এবার কড়া হাতে দমন করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র।

গত ৮ মে ১০টি মাও অধ্যুষিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে কেন্দ্র। সিনিয়র সিকিউরিটি অ্যাডভাইসর কে বিজয় কুমার অন্তত আটটি মিটিং করেছেন। যার মধ্যে ছ’টিই ছত্তিসগড়ের অফিসারদের সঙ্গে।

এর আগে রাজনাথ বলেন, ‘সিলভার বুলেটে’ মাও দমন সম্ভব নয়। কোনও শর্ট কাটে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না। শর্ট টার্ম, মিডিয়াম-টার্ম ও লং-টার্ম সমাধান করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেছিলেন, বুলেটে সব সমস্যার সমাধান হয় না। গোয়েন্দাদের খুঁজে বের করতে হবে মাওবাদীদের টার্গেটগুলি। রাজ্যগুলিকেও মাওবাদী দমনের অপারেশনে যোগ দিতে হবে। মাও অধ্যুষিত জঙ্গলগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা, জল, খাবার দেওয়ার ব্যবস্থাতেও আরও জোর দেওয়ার কথা বলেন রাজনাথ।

সূত্রঃ https://www.kolkata24x7.com/on-government-priority-shadow-intelligence-officers-for-top-maoist-in-chattisgarh.html

Advertisements

ভারতঃ পশ্চিমবঙ্গের থানায় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে নিয়োগকৃত গোয়েন্দা চরদের(স্পেশ্যাল পুলিশ অফিসার-SPO) সম্মেলন, পরিচয় ফাঁসে উদ্বেগ-ভীতি

20492-jong300

জঙ্গলমহলে মাওবাদী অ্যাকশন নেই সাড়ে তিন বছর। কিন্তু মাওবাদীদের লুকনো আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলা-বারুদের একটা বড় অংশের সন্ধান এখনও মেলেনি। এর মধ্যে রয়েছে শিলদার ইএফআর ক্যাম্প থেকে লুঠ হওয়া কয়েকটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেলও। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, জঙ্গলমহলেরই কোথাও লুকনো রয়েছে এই অস্ত্রভাণ্ডার। আর তার সন্ধান পেতে মরিয়া পুলিশ এখন রীতি ভেঙে তাদের চরেদের বৈঠকে ডাকল থানায়। আর তাতেই পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে বিপন্ন বোধ করছেন এই চরেরা।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, জঙ্গলমহলে মাওবাদী কার্যকলাপ বেশ কিছুটা স্তিমিত হলেও বিকাশ, রঞ্জিত পালের মতো নেতারা এখনও অধরা। এরই মধ্যে লালগড়ের সিজুয়া, ধরমপুরের মতো পঞ্চায়েতে দুর্নীতি, স্বজনপোষণের অভিযোগকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে মানুষের ক্ষোভ। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে মাওবাদীরা ফের তৎপর হলে এবং লুকনো অস্ত্র পেলে জঙ্গলমহল অশান্ত হয়ে উঠবে।

maoists afp

জনগণের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে জঙ্গলমহলে নতুন করে আন্দোলন গড়ে তোলার, নাশকতা ঘটানোর ক্ষমতা মনসারাম হেমব্রম ওরফে বিকাশের রয়েছে বলে গোয়েন্দাদের একাংশ মনে করেন। গোয়ালতোড় এলাকার মাকলি গ্রামের বিকাশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের, সেটাও তাঁর বড় সুবিধে। ২০০৯-এর জুনে ধরমপুরে সিপিএম নেতা অনুজ পাণ্ডের বাড়ি ভাঙচুরের সময়ে বিকাশই কালাশনিকভ কাঁধে সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন। তাঁর স্ত্রী তারাও মাওবাদী নেত্রী। ফেরার অন্য নেতাদের মধ্যে অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ মূলত সংগঠক, রঞ্জিত পাল ওরফে রাহুল নাশকতামূলক কার্যকলাপে পারদর্শী।

বিকাশ ও মাওবাদী অস্ত্র ভাণ্ডারের হদিস চাওয়া হয়েছে স্পেশ্যাল পুলিশ অফিসার (এসপিও)-দের কাছে। পোশাকি নাম এসপিও হলেও ওঁরা আসলে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের চর হিসেবেই কাজ করেন। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে মোট এসপিও-র সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি, যাঁদের পরিচয় স্বাভাবিক ভাবেই গোপন রাখা হয়। মাসোহারা বাবদ এক জন এসপিও পান তিন হাজার টাকা, যা ব্যাঙ্ক অ্যকাউন্টে জমা পড়ে।

কিন্তু পুলিশের সৌজন্যে সেই গোপনীয়তাই আর রক্ষা করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ বহু এসপিও-র। পুলিশ সূত্রেই খবর, সোমবার লালগড় থানায় এলাকার এসপিও-দের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়। সিভিক ভলান্টিয়াররাও ছিলেন সেখানে। কারণ, রাজ্য পুলিশের শীর্ষ স্তরে খবর পৌঁছেছে, ছত্তীসগঢ় ও ঝাড়খণ্ডে পুলিশের সঙ্গে লড়াইয়ে জখম মাওবাদীরা চিকিৎসা করাতে ঢুকেছে লালগড়, বিনপুরের মতো তল্লাটে— যেখানে তাদের সহমর্মী লোকজন রয়েছেন। এই ব্যাপারে সতর্ক করতেই থানায় বৈঠক ডাকা হয়েছিল। এক এসপিও-র বক্তব্য, ‘‘বৈঠকে তো জেনে গেলাম, আমি ছাড়া অন্য এসপিও কারা আছে। তারাও জেনে গেল আমার কথা। এটা কিন্তু জানার কথা নয়।’’

আবার চলতি মাসেই একটি ফর্মে সই করানো হয় এসপিও-দের। এক এসপিও বলেন, ‘‘নিযুক্ত হওয়ার সময়ে সাদা পোশাকে এক অফিসার বাড়ি থেকে গোপনে সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্র ও ব্যাঙ্কের পাশবইয়ের প্রতিলিপি নিয়ে যান। ওই নথি যে কেউ পেতে পারে। কিন্তু সই করানোর বিষয়টি বিপজ্জনক। পুলিশের সঙ্গে যে আমার যোগসূত্র রয়েছে, ফর্মে সই করায় সেটা তো নথিবদ্ধ হয়ে গেল!’’

রাজ্য পুলিশের এক শীর্ষকর্তার যুক্তি, ‘‘ব্যাঙ্কের ইসিএস-এর জন্য এটা করা হয়েছে।’’ তবে পুলিশেরই অন্য সূত্রের খবর, এক শ্রেণির অফিসার ভুয়ো কিছু নাম নথিভুক্ত করেছিলেন এসপিও দেখিয়ে, সরকারি টাকা আসলে ঢুকছিল তাঁদের অ্যাকাউন্টেই। এটা বন্ধ করতেই এসপিও-দের পরিচয় নথিবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে। কিন্তু এক এসপিও-র বক্তব্য, ‘‘পুলিশের দুর্নীতির মাসুল আমরা কেন দেব? মাওবাদীরা আজ নেই, কিন্তু কাল যে ফিরে আসবে না, সেটা কে বলতে পারে? তখন তো সবার আগে আমরা বিপদে পড়ব।’’

মাওবাদীদের ফেরার আশঙ্কা যে তৈরি হয়েছে, সেটা অস্ত্রভাণ্ডার ও বিকাশের হদিস পেতে পুলিশের মরিয়া চেষ্টা থেকেই পরিষ্কার।

download

সূত্রঃ http://kuwaitnris.com/%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%9A%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A7%9F/


ভারতঃ আনাগোনা বাড়ছে মাওবাদীদের, ‘খোকাদা’কে নিয়ে বিভ্রান্ত পুলিশ

300845-naxals-6565

ছত্রধর মাহাতোর সাজাকে ঢাল করেই কি জঙ্গলমহলে ফের নিজেদের জমি তৈরির কাজে নেমে পড়ল মাওবাদীরা? গত তিন-চারদিনে জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় হঠাত্‍ করেই মাওবাদী তত্‍পরতা বেড়ে যাওয়ায় এমন আশঙ্কাই করছেন গোয়েন্দারা৷ এক সময় মাও অধ্যুষিত বেলপাহাড়ি, লালগড়ে এখন ঝাড়খণ্ড থেকে মাঝে মধ্যেই ঢুকছে ছয়-সাতজনের সশস্ত্র স্কোয়াড৷ এদের নেতৃত্বে থাকছেন মাওবাদী কমান্ডার রঞ্জিত পাল৷ দীর্ঘ সময় পুরুলিয়ার অযোধ্যা স্কোয়াডের দায়িত্বপ্রান্ত রঞ্জিত কাজও শুরু করেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন জঙ্গল এলাকায়৷

শুক্রবার এক গোয়েন্দা কর্তা জানান, ‘বর্ষা এগিয়ে আসছে, সুতরাং জঙ্গল আরও গভীর হচ্ছে৷ সেই সুযোগটা নেওয়ার চেষ্টা করছে মাওবাদীরা৷ শুধুমাত্র পশ্চিম মেদিনীপুরের অন্তত পাঁচ জায়গায় মাওবাদীদের আনাগোনার খবর জানতে পেরেছি আমরা৷ কিন্তু সব কটা খবরই এসেছে ওরা গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার পর৷ এটাই উদ্বেগের৷’ জানা গিয়েছে, গোয়েন্দাদের উদ্বেগ বেড়েছে একটি অজানা নামকে ঘিরেও৷ বেলপাহাড়ি এলাকায় ‘খোকাদা’ নামে ওডিশার বাসিন্দা এক ব্যক্তি এসে সংগঠন বাড়ানোর কাজ শুরু করেছেন মাসখানেক আগে৷

এক গোয়েন্দা কর্তার ব্যাখ্যা, ‘এই অজানা নামগুলিকে নিয়েই সমস্যা৷ কারণ অনেক পরে হয়তো জানা যাবে ওই ব্যক্তি আসলে কে? এমন ঘটনা ঘটেছিল ২০০০ সালের শুরুর দিকেও৷ সে সময় বেলপাহাড়ির পুকুরিয়া গ্রামে মাওবাদী নেতা কিষেণজি প্রথম সাংগঠনিক কাজ শুরু করেছিলেন ‘বিমলদা’ নাম নিয়ে৷ যখন আমরা জানতে পারি বিমলদাই আসলে কিষেণজি, ততদিনে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে৷’ জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগের মতো আর মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে না মাওবাদীরা৷ আবার তারা প্রথম দিকের মতো ক্যুরিয়ারের মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদান শুরু করেছে৷ গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, বেলপাহাড়ির ভূমিপুত্র হলেও মদন মাহাতোর কাজকর্মে মাওবাদী নেতৃত্ব খুশি নয়৷ ফলে তারা মদনকে সাংগঠনিক কাজ থেকে দূরে রেখেছে৷ ছত্তিসগড়ে গা ঢাকা দিতে চলে যাওয়া মহিলা নেত্রী তারাকেও ফিরিয়ে আনা হয়েছে ঝাড়খণ্ডে৷ এবং এই ঝাড়খণ্ডের সীমানাকেই ব্যবহার করা হচ্ছে এ রাজ্যে নতুন করে জমি তৈরির জন্য৷

শুক্রবার এক পুলিশ কর্তা বলেন, আসলে মাওবাদীরা জঙ্গলমহলে নতুন করে জল মাপতে চাইছে৷ বিভিন্ন পঞ্চায়েতে তৃণমূলের নিজেদের মধ্যে গোলমালকে কতটা কাজে লাগানো যায় তা দেখতে দিনের বেলা গ্রামে ঢুকে আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বেরিয়েও যাচ্ছে তারা৷ কমিটির বহু নেতা বাঁচার স্বার্থে তৃণমূলে যোগদান করলেও তাদের অনেকেই পুরোনো মনোভাব পাল্টাতে পারেনি৷ তাদের গতিবিধির উপরেও নজরদারি চলছে৷ যেমন, লালগড় অঞ্চলে জনসাধারণের কমিটির এক প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ বাঁশতলায় রাজধানী এক্সপ্রেস আটকানোর মতো ঘটনার পর সংগঠনের কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন৷ সরকার পরিবর্তনের পর তিনি ফিরে এসে শাসকদলে নাম লেখান৷ এ ধরনের লোকেদের বিরুদ্ধেও মাওবাদীরা কৌশলে প্রচার শুরু করেছে৷ খুব সম্প্রতি রামগড়ে এক ঠিকাদারের কাজে অসন্ত্তষ্ট হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটকে রেখেছিলেন৷ পরে পুলিশ খবর পেয়ে আসায় তাদের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়৷ দীর্ঘক্ষণ ঝামেলার পর সেই ঠিকাদারকে ছাড়া হয়৷ চলতি মাসের গোড়ায় বেলপাহাড়ির ভুলাভেদা পঞ্চায়েত অফিসে একশো দিনের কাজের টাকা না পেয়ে সরকারি কর্মীদের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে আটকে রাখেন গ্রামবাসীরা৷ এর পিছনেও মাওবাদীদের মদত থাকতে পারে বলে অনুমান পুলিশকর্তাদের৷

জানা গিয়েছে, ছত্রধর মাহাতোর সাজা হওয়ার বিষয়টি নিয়েও জঙ্গলমহলে প্রচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাওবাদীরা৷ তাদের স্ট্র্যাটেজি, গ্রামের লোকেদের মধ্যে প্রচার করতে হবে যে উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলন করায় ছত্রধরকে সাজা দেওয়া হয়েছে৷ অথচ সেই আন্দোলনের জেরে উন্নয়ন যখন শুরু হল তখন শাসকদলের কিছু নেতারাই সব লুটে নেওয়ার চেষ্টা করছেন৷ আপাতত দলের তরফে এই প্রচারের দায়িত্ব পেয়েছেন রঞ্জিত পাল৷ ইতিমধ্যেই আজনাশুলি, আগুইবনির মতো জঙ্গল এলাকাগুলিতে যাতায়াত শুরু করেছেন তিনি৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসীর কথায়, দিন পনেরো আগে রঞ্জিত পাল আরও কয়েকজনকে গিয়ে আজনাশোলে এসেছিল৷ গ্রামবাসীদের সঙ্গে বৈঠক করার প্রস্তাবও দেয়৷ কিন্তু দশ-বারোজনের বেশি গ্রামবাসী সেই বৈঠকে যাননি৷

শুক্রবার জঙ্গলমহলের কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক কর্তা বলেন, ‘৬ মাস আগে মাওবাদী নেতা বিকাশ ওদলচুয়ায় ঢুকেছে বলে আমরা জানতে পারি৷ রাতে সেখানেই হানা দিয়েছিলাম৷ তবে তার পাঁচ মিনিট আগেই সে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যায়৷ আগে এ সব খবর দ্রুত আমাদের কাছে চলে আসছিল৷ এখনও খবর আসছে ঠিকই, কিন্তু বড্ড দেরিতে৷ এটাই আমাদের চিন্তা বাড়িয়েছে৷’

সূত্রঃ

 http://banglaheadline.com/2015/05/17/%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0/