বেকসুর খালাস পেলেন মাওবাদী নেতা গৌর চক্রবর্তী

13734772_10210069030028189_699460768_n

বেকসুর খালাস পেলেন প্রবীণ মাওবাদী নেতা গৌর চক্রবর্তী।  আজ নগর ও দায়রা আদালতের অতিরিক্ত দ্বিতীয় বিচারক কুমকুম সিনহা এই রায় দেন।  গৌর চক্রবর্তী পশ্চিমবঙ্গের প্রথম UAPA র রাজনৈতিক বন্দী ।

২০০৯ সালে ২২ জুন তৎকালীন রাজ্য সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে মাওবাদীদের।  এর ঠিক পরের দিন পার্ক স্ট্রিটে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে যোগ দেন গৌর চক্রবর্তী।  সেদিনই ওই চ্যানেলের অফিস থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে।  তাঁর বিরুদ্ধে UAPA ধারায় মামলা করা হয়।  দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলার পর আজ তাঁকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

গৌর চক্রবর্তীর হয়ে আইনজীবী শুভাশিস রায় বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে রাজ্য সরকার।  তাই তাঁকে বেকসুর খালাসের রায় দেন বিচারক।

উল্লেখ্য যে, তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার তাকে গ্রেপ্তার করেছিল, ২০১১ তে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এসে নিঃশর্তে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দেয়ার পূর্ব প্রতিশ্রুতিকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।

Advertisements

তৃণমূলী আইনজীবীদের হুমকিতে মাওবাদী নেতা গৌর চক্রবর্তীর জামিনের শুনানি স্থগিত

মাওবাদী নেতা গৌর চক্রবর্তী

মাওবাদী নেতা গৌর চক্রবর্তী

আদালত চত্বরে ঢুকে সরাসরি বিচারপতিকেই বিচার প্রক্রিয়া বন্ধের ‘আদেশ’ দিলেন একদল আইনজীবী।  এরা সকলেই শাসকদলের ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ।  অভিযোগ শুক্রবার সিটি সেশন কোর্টে চলছিল ধৃত মাওবাদী নেতা গৌর চক্রবর্তীর(৭৮) জামিনের শুনানি।  সেই সময় সবুজ আবির মাথায় মেখে একদল আইনজীবী বিচার বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানাতে থাকেন।  শাসকদলের জয়ে বিজয় উত্সব পালনের জন্য আজ আদালতের কাজ বন্ধের দাবি জানাতে থাকেন।  বিচারক আইনজীবীদের আদালত কক্ষের বাইরে যেতে বললে উল্টে বিচারপতিকেই তাঁরা হুমকি দেন বলে অভিযোগ।  এর পর এজলাসে হুলুস্থুল বেধে গেলে পুলিসে এসে সামাল দেয়।  বিচারক বিরক্ত হয়ে শুনানি বন্ধ করে দিতে বাধ্যে হন।  পুলিসকে ঘটনার রিপোর্ট দিতে বলেছেন ক্ষুব্ধ বিচারক।  বিচারক চলে যাওয়ার পর তৃণমূলী আইনজীবীরা প্রবল পরাক্রমে বিচারকের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকেন।  অভিযোগ গৌর চক্রবর্তীর আইনজীবীকেও মারধর করা হয়।  সোমবার মামলার পরর্বতী শুনানি।

উল্লেখ্য যে, মাওবাদী রাজবন্দী গৌর চক্রবর্তী(৭৮) ২০০৯ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের কারাগারে রয়েছেন।  কলকাতার বাঙ্কশাল কোর্টে চলমান একটি মামলা ছাড়া বাকি সব মাম্লাতেই তিনি জামিন পেয়েছেন।


ভারতঃ পশ্চিমবঙ্গের প্রেসিডেন্সি কারাগারের ৩০ জন রাজনৈতিক বন্দী অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে

11911049_10207634939657451_992281949_n

মাওবাদীদের সাবেক মুখপাত্র গৌর চক্রবর্তী

ar

মাওবাদী নেতা অর্ণব দাম

কারা প্রশাসন কর্তৃক কারাবন্দীদের অধিকার সংকোচনের প্রতিবাদে মাওবাদীদের সাবেক মুখপাত্র গৌর চক্রবর্তী সহ পশ্চিমবঙ্গের প্রেসিডেন্সি কারাগারের ৩০ জন রাজনৈতিক বন্দী ২৮শে অগাস্ট ২০১৫ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন পালন করছেন। অনশন পালনরত সকল রাজনৈতিক বন্দীদের উপর প্রেসিডেন্সি কারা কর্তৃপক্ষ solitary confinement (২৪ ঘন্টার লক আপ) চাপিয়ে দিয়েছে। কারা কল্যাণ কর্মকর্তা অর্ণব দামকে (অনশনরত রাজনৈতিক বন্দীদের একজন) হুমকি দিয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোন ডাক্তার আসেনি কিংবা কোন মেডিকেল চেক আপ হয়নি। রাজনৈতিক বন্দীরা বলেছে, “যদি কোন অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি তৈরি হয়, তার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ ও পশ্চিমবঙ্গের  রাজ্য সরকার দায়ী থাকবে”। গৌর চক্রবর্তী, সদানল্লা রামকৃষনন, অখিল ঘোষ, সন্তোষ দেবনাথ, বিমল মল্লিক, বাপি মুদি, দীপক কুমার, দীনেশ ওয়াংখেদে, অর্ণব দাম, মোহন বিশ্বকর্মা, সুকুমার মণ্ডল, শম্ভু চরণ পাল সহ ৩০ জন রাজনৈতিক কারাবন্দী অনশন পালন করছেন।

তাদের সাথে সংহতি জানান।

বন্দী মুক্তি কমিটি


রাজ্য রাজি, তবু কেন্দ্রের আপত্তিতে আটকে ভারতের মাওবাদী মুখপাত্রের মুক্তি

 gour-655x360

কেন্দ্রের আপত্তি। তাই রাজ্য রাজি থাকলেও মুক্তি পাচ্ছেন না রাজনৈতিক বন্দি মাওবাদী মুখপাত্র গৌর চক্রবর্তী। বাম আমলের শেষের দিকে UAPA ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছিল স্বঘোষিত এই মাওবাদী মুখপাত্রকে। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক বন্দির স্বীকৃতি চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন গৌর চক্রবর্তী। হাইকোর্টে সেই আবেদনের বিরোধিতা করেছিল রাজ্য। কিন্তু, তারপর পরিস্থিতি বদলেছে,সম্প্রতি গৌর চক্রবর্তীর শারীরিক অবস্থা ও বয়সের কথা উল্লেখ করে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার আর্জি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেন তাঁর স্ত্রী। একই আর্জি জানিয়ে APDR-র তরফে  চিঠি দেন সুজাত ভদ্র।

গৌর চক্রবর্তী স্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে রাজ্য। কিন্তু, যেহেতু তাঁকে UAPA ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছিল তাই মুক্তি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অনুমতি চেয়ে চিঠি দেয়  রাজ্য সরকার। কিন্তু, রাজি হয়নি কেন্দ্র। কেন্দ্রের যুক্তি, UAPA তে আটক গৌর চক্রবর্তীকে ছেড়ে দিলে তেলেগু দীপক, ছত্রধর মাহাতোর মতো মাওবাদী নেতাদেরও মুক্তি দিতে হবে। যা কার্যত অসম্ভব। ফলে রাজ্যের সদ্দিচ্ছা থাকলেও, আপাতত জটিলতায় আটকে গৌর চক্রবর্তীর মুক্তি।

সুত্র – http://ntcn.in/