জঙ্গলমহলের যুবকদের আহবান জানিয়ে মাওবাদীদের পোস্টার

image

সাদা কাগজে লাল কালিতে হাতে লেখা পোস্টার। নীচে লেখা ন্যাশনাল নকশাল কমিটি ও সিপিআই (মাওবাদী)-র তরফে বরুণ ও মদনের নাম। শুক্রবার ঝাড়গ্রামের জামবনি থানার বেশ কয়েকটি এলাকায় মাওবাদী নামাঙ্কিত এমন পোস্টার মেলায় নড়ে বসেছে পুলিশ। মনে করা হচ্ছে, জঙ্গলমহলে নতুন করে তৎপর হচ্ছে নকশালপন্থী একাধিক সংগঠন। রাজ্য সরকার ও শাসকদলের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের চেষ্টা হচ্ছে। ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্ত বলেন, “কারা ওই পোস্টার দিয়েছে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিছু সূত্র মিলেছে। পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকে এসে কেউ ওই পোস্টার দিয়েছে কি না সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

এ দিন জামবনির বেলিয়া মোড়, চিল্কিগড়, বালিজুড়ি, মোহনপুর ও বড়শোলের জঙ্গলরাস্তায়, কালভার্টের গায়ে সাঁটানো ও ছড়ানো অবস্থায় মোট ১২টি পোস্টার উদ্ধার করেছে পুলিশ। সবক’টির বয়ান মোটামুটি একই। সেখানে লেখা হয়েছে— ‘নিরীহ মানুষের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে মানুষকে পূর্ণ স্বাধীনতা না দেওয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে মানুষের সামনে আমরা এগিয়ে এসেছি।’ জঙ্গলমহলে যদি সত্যি শান্তি ফেরে তাহলে যৌথ বাহিনী, সিআরপি ক্যাম্প তোলা হচ্ছে না কেন, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে পোস্টারে। যারা অত্যাচার করছে তাদের হুঁশিয়ার করার পাশাপাশি পোস্টারে আরও বার্তা— ‘জঙ্গলমহলের সমস্ত যুবক ভাইদের কাছে আমাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক দল বা পুলিশের ধমকানিতে ভয় পাবেন না। আমরা রুখে দাঁড়াব, আন্দোলন গড়ব।’

পোস্টারের এই বিষয়বস্তু গোয়েন্দাদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। তাঁদের ব্যাখ্যা, এই বক্তব্য মাওবাদীদের সাংগঠনিক বিশ্বাস। আর সেই মতো মানুষের ক্ষোভ উস্কে জনমত গঠনের চেষ্টা শুরু হয়েছে। একসময় মাওবাদী-জনসাধারণের কমিটি থেকে যাঁরা তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের কয়েকজন গোপনে মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে গোয়েন্দা সূত্রের খবর। তৃণমূলের একাংশও আড়ালে মানছেন, আদিবাসীদের একটি অংশকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলমহলে নতুন করে ঘর গোছাতে চাইছে মাওবাদীরা। ২০১১ সালের নভেম্বরে জামবনিরই বুড়িশোলের জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর গুলিতে নিহত হন মাও শীর্ষনেতা কিষেনজি। তারপর জঙ্গলমহলে মাওবাদী সংগঠন ধীর গতি হয়ে পড়ে। একের পর এক নেতা-নেত্রী আত্মসমর্পণ করেন। বাকিরা গ্রেফতার হন। আর মাওবাদী-কমিটির একাংশ তৃণমূলে ভেড়েন। গত ছ’বছর জঙ্গলমহলের ভোটেও তৃণমূলের জয়জয়কার। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন এলাকায় জনগণের ক্ষোভের চোরাস্রোত বইছে। পঞ্চায়েতে দুর্নীতি, শাসকদল ও পুলিশের একাংশের মদতে বেআইনি বালি লরির যথেচ্ছ চলাচল, প্রতিশ্রুতিমতো অলচিকিতে পঠনপাঠন শুরু না হওয়ার মতো বিষয় ঘিরে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশও হচ্ছে। গত জুনেই হয়েছে আদিবাসীদের ‘রেল রোকো’ ও ‘হুল দিবস বয়কট’। তারপর একলব্য স্কুলকে কাঠগড়ায় তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন ফেলা হয়। সম্প্রতি জামবনিতে সরকারি উদ্যান তৈরির বিরোধিতা করে বেরোয় সশস্ত্র মিছিল। এ সবের পিছনে মাওবাদীদের মদত রয়েছে বলেই মনে করছেন গোয়েন্দারা। তাই পোস্টারের বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/district/mednipore/people-are-in-fear-after-watching-a-maobadi-poster-1.667837


ভারতঃ জঙ্গলমহলে জল, জঙ্গল আর জমির অধিকার চেয়ে আন্দোলনে মাওবাদীরা

41690-5maoist

পুলিসি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটিকে সামনে রেখে জঙ্গলমহলে সংগঠিত হচ্ছে সিপিআই মাওবাদী। জেলবন্দি ছত্রধর মাহাতকে সামনে রেখেই চলছে মানুষের সমর্থনে সাংগঠনিক বিস্তৃতি। একইসঙ্গে এবার জল, জঙ্গল আর জমির অধিকার চেয়ে সরব জনসাধারণের কমিটি।

রাজ্যের জঙ্গলমহলে  মাওবাদীরা যে তত্‍পরতা বাড়াচ্ছে, নবান্নকে দেওয়া কেন্দ্রের গোয়েন্দা রিপোর্টে তা স্পষ্ট। সম্প্রতি জঙ্গলমহলের তিন জেলা থেকে উদ্ধার হয়েছে মাওবাদী পোস্টার। আর এবার প্রেস বিবৃতি। পরিবর্তনের পর এই প্রথম কোনও প্রেস বিবৃতি মিলল পুলিসি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটির নামে। বাম জমানায় এই জনসাধারণের কমিটির হাত ধরেই গড়ে উঠেছিল লালগড় আন্দোলন। যার নেতৃত্বে ছিলেন ছত্রধর মাহাত।

মূলত পুলিসি সন্ত্রাসকে সামনে রেখেই  শুরু হয়েছিল লালগড় আন্দোলন। এবার  কমিটির নামে যে প্রেস বিবৃতি মিলেছে, তাতে আদিবাসীদের জল, জঙ্গল আর জমির অধিকার সুরক্ষিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে। যা দেখে গোয়েন্দারা নিশ্চিত, পুলিসি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটিকে সামনে রেখেই জঙ্গলমহলে সংগঠন বাড়াতে চাইছে মাওবাদীরা। প্রেস বিবৃতিতে, কিষেণজিকে হত্যার অভিযোগে মমতার সরকারকে তুলোধোনা করেছে জনসাধারণের কমিটি।

সিঙ্গুরের প্রসঙ্গ টেনে শালবনিতে জিন্দালদের অধিগৃহীত জমি কৃষকদের ফেরানোর দাবি জানানো হয়েছে। পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে প্রস্তাবিত জলবিদ্যুত্‍ প্রকল্পের জন্য অধিগৃহীত জমিও কৃষকদের ফেরানোর দাবি তোলা হয়েছে প্রেস বিবৃতিতে। রাজবন্দিদের মুক্তি, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, যৌথ বাহিনী প্রত্যাহার। এমন সব দাবিকে সামনে রেখে জঙ্গলমহলবাসীর আস্থাভাজন হতে চাইছে মাওবাদীরা। জনসাধারণের কমিটির প্রেস বিবৃতিতে উঠে এসেছে ছত্রধর মাহাতোর মুক্তির দাবিও।

সূত্রঃ http://zeenews.india.com/bengali/zila/maoism-in-bengal_130811.html


ভারতঃ পশ্চিমবঙ্গে ফের মাওবাদী পোস্টার, সঙ্গে দু’টি কমিটির নাম

মাওবাদী পোস্টার

মাওবাদী পোস্টার

মাওবাদীরা বড়সড় হামলা চালাতে পারে, এর মধ্যেই ফের সাদা কাগজে লাল কালির লিখন জঙ্গলমহলে। এবং আবার পুরুলিয়ার সেই বলরামপুর ও বাঘমুণ্ডি এলাকার মধ্যবর্তী কয়েকটি গ্রামে।

এ বারের পোস্টারে শাসক দল তৃণমূলের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি— মাওবাদীরা বাংলার বুকে ফিরে এসেছে। শনিবার সকালে ডাভা, দেউলি, গড়গাঁ, নেকড়ে-র মতো গ্রামে কোথাও স্কুলের দেওয়ালে, কোথাও বন দফতরের অফিসের দেওয়ালে সাঁটা ওই পোস্টারগুলি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা।

কয়েকটি পোস্টারে সিপিআই (মাওবাদী)-এর নাম উল্লেখ করে লেখা— ‘টিএমসির দালালরা হুঁশিয়ার, বাংলার বুকে এসেছি আবার’, কোথাও আবার লেখা ‘টিএমসির দালালরা হুঁশিয়ার, জঙ্গলমহল কাঁপবে আবার’। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি প্রশ্ন তোলা হয়েছে— ‘জঙ্গলমহলের কোটি কোটি টাকা যাচ্ছে কোথায়, মমতাদিদি জবাব দাও’। সেই সঙ্গে ‘মমতা দিদি কিষাণজিকে কেন মারলেন, মমতা দিদি ছত্রধর মাহাতো সমেত ছ’জনকে সাজা দিলেন কেন’ এই সব প্রশ্ন তুলেও পোস্টার পড়েছে।

বলরামপুরের গড়গাঁ প্রাথমিক স্কুল চত্বরের একটি বেদিতে দেখা যায়, বাঁশের গায়ে কালো পতাকা টাঙানো। ওই স্কুলের জানলাতেও কালো পতাকা লাগানো ছিল। যারা পোস্টার সেঁটেছে, কালো পতাকা টাঙানো তাদেরই কাজ বলে পুলিশ মনে করছে। কিছু পোস্টারে স্বাধীনতা দিবস পালন করা নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে পোস্টার ও পতাকা খুলে নিয়ে যায়।

এ দিন উদ্ধার হওয়া পোস্টারগুলির মধ্যে কয়েকটি ‘জনগণের কৃষক কমিটি’ ও ‘জনগণের বিপ্লব কমিটি’র নামে পড়েছে। ওই দু’টি কমিটির নামে আগে কখনও পোস্টার দেখা যায়নি। ফলে, যে ভাবে পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনসাধারণের কমিটি-কে সামনে রেখে লালগড় আন্দোলন শুরু হয়েছিল, এখন ফের তেমনই কোনও কমিটিকে সামনে রেখে মাওবাদীরা জঙ্গলমহল মানুষের উপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে কি না, সেটা ভাবাচ্ছে পুলিশকে।

পোস্টারগুলিতে নাগাবাহিনী ও যৌথবাহিনীকে জঙ্গলমহল থেকে সরানোর দাবিও তোলা হয়েছে। গত ছ’বছর ধরে মাওবাদী ও তাদের গণ সংগঠনেরা এই দাবি নিয়ে সরব।

২০০৮-এর নভেম্বরে যখন জঙ্গলমহল উত্তাল, সেই সময়ে পুরুলিয়ায় কিন্তু জনসাধারণের কমিটির অস্তিত্ব সে ভাবে দেখা যায়নি। এখানে মাওবাদীদের গণ সংগঠন হিসেবে উঠে এসেছিল আদিবাসী মূলবাসী জনগণের কমিটি। রাজ্যে সরকার বদলের পরে ওই সংগঠনের সদস্যদের একটা বড় অংশ তৃণমূলে চলে আসেন। অনেকে এখন দলের বড় নেতাও হয়ে উঠেছেন।

পুরুলিয়ার জেলা পুলিশ সুপার রূপেশ কুমার এ দিন বলেন, ‘‘বলরামপুর ও বাঘমুণ্ডির সীমানা এলাকার কয়েকটি গ্রামে মাওবাদীদের নামাঙ্কিত কিছু পোস্টার পাওয়া গিয়েছে। কারা পোস্টারগুলি দিল, সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি।’’

জুলাই মাসের শেষেও বলরামপুর, বাঘমুণ্ডির কয়েকটি তল্লাটে মাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টার পড়েছিল। গত এক বছর ধরেই এই দু’টি এলাকায় যেন মাওবাদী পোস্টার পড়ার বিরাম নেই।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/%E0%A6%AB-%E0%A6%B0-%E0%A6%AE-%E0%A6%93%E0%A6%AC-%E0%A6%A6-%E0%A6%AA-%E0%A6%B8-%E0%A6%9F-%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%99-%E0%A6%97-%E0%A6%A6-%E0%A6%9F-%E0%A6%95%E0%A6%AE-%E0%A6%9F-%E0%A6%B0-%E0%A6%A8-%E0%A6%AE-1.193326


ভারতঃ স্বাধীনতা দিবসে কালো পতাকা তুলল মাওবাদীরা

b

মেদিনীপুর স্বাধীনতা দিবসের দিন জঙ্গলমহলে কালো পতাকা তুলল মাওবাদীরা। একইসঙ্গে পোস্টার ও লিফলেট দিয়ে তারা সরাসরি হুমকি দিল তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আজ শনিবার সকালে পুরুলিয়ার বলরামপুর থানার অযোধ্যাপাহাড় লাগোয়া গড়গা ও বাসীটা গ্রামে দেখা যায় এই পোস্টার ও লিফলেট।
অন্যদিকে, গড়গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কালো পতাকার দেখা মেলে। সন্দেহ, মাওবাদীরাই সেখানে কালো পতাকা রেখেছে। এ ছাড়া লালকালিতে লেখা পোস্টারে সরাসরি তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, বাংলায় আবার এসেছে মাওবাদীরা। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে জঙ্গলমহলের অনুন্নয়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। এবং জঙ্গলমহল থেকে নাগাবাহিনী ও যৌথবাহিনীকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও তোলা হয়।

সূত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/black-flag-host-maobadi.html


ভারতঃ জঙ্গলমহল ছেড়ে শহরে বাড়তে চায় মাওবাদীরা

saranda-maoist-1_647_0808150950051

কমরেড মাও সে তুং ৬৬ বছর আগে বলেছিলেন, সে কথা এখন বলছেন নতুন প্রজন্মের মাওবাদীরা।

১৯৪৯ সালে কমরেড মাও সে তুং ঘোষণা করেন— চিনে গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরার যে লড়াই ১৯২৭ থেকে তাঁরা চালাচ্ছিলেন, আন্দোলনের সেই পর্যায়ের ইতি ঘটল। পার্টির ভরকেন্দ্র এ বার গ্রাম থেকে সরিয়ে আনা হবে শহরে।

সম্প্রতি মাওবাদীরা জঙ্গলমহলে যৌথ বাহিনীর উপর বড় সড় হামলার ছক কষেছে বলে রাজ্যকে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। পাশাপাশি কলকাতা ও আশপাশের কয়েকটি মফস্বল শহরে মাওবাদীরা পুরনো ঘাঁটিগুলোয় নতুন ভাবে সংগঠন তৈরি করার কাজে নেমেছে বলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্ট এসেছে রাজ্যের কাছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্টে বলা হয়েছে, সরকারের কাজে বিক্ষুব্ধ মানুষদের থেকে নতুন ক্যাডার নিয়োগের কৌশল নিয়েছে মাওবাদীরা। পাশাপাশি বসে যাওয়া সদস্য-সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফের কাজকর্ম শুরুর আর্জি জানাচ্ছেন মাওবাদী নেতৃত্ব।চিনের সেই বিপ্লবী নেতার লাইন ধরে চলা ভারতের মাওবাদী দলটির নেতৃত্বেরও এখন একই উপলব্ধি। তবে পার্থক্যটা হল- মাও সে তুং গ্রামে পোক্ত সংগঠন গড়ার সাফল্যকে শহরে ছড়িয়ে দিতেই এই কৌশল পরিবর্তন করেছিলেন। আর এ দেশের মাওবাদীরা বুঝেছেন, পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে এখনও দাঁত ফোটানো কঠিন। সেই কারণেই জঙ্গল থেকে বেরিয়ে শহর ও শহরতলিতে পার্টিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের এই রিপোর্ট হাতে আসার কিছু দিন আগেই খাস বর্ধমান ও চুঁচুড়ায় সিপিআই (মাওবাদী) রাজ্য কমিটির নামে ছাপানো লিফলেট উদ্ধার করেছেন গোয়েন্দারা। সেই সঙ্গে কলকাতার বেলেঘাটা ও মানিকতলার মতো পুরনো ঘাঁটি, উত্তর শহরতলির বাগুইআটি, উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ, টিটাগড় ও ব্যারাকপুর, নদিয়ার শান্তিপুর এবং হাওড়ার বালি ও জগদীশপুরে মাওবাদীরা সংগঠন তৈরির কাজে হাত দিয়েছে বলে গোয়েন্দাদের দাবি। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যের যে সব জায়গায় কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, সেখানে গিয়ে মাওবাদীরা ক্যাডার নিয়োগ করার চেষ্টা শুরু করেছে।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি-র একটি সূত্রের খবর অনুযায়ী, অনলজি নামে এক মাওবাদী নেতাকে আপাতত পশ্চিমবঙ্গের কাজকর্ম দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছে মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটি। অনলজি ঝাড়খণ্ডের নেতা, আসল নাম পরিমল মাঝি। তাঁর তত্ত্বাবধানেই কলকাতা ও শহরতলিতে মাওবাদীরা নতুন করে সংগঠন তৈরি করার কাজে হাত দিয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, বহু তর্কবিতর্কের পর আকাশ ওরফে অসীম মণ্ডলকেই শেষ পর্যন্ত পার্টির রাজ্য সম্পাদক মনোনীত করেছে মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দাদের মতে, এখনই সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষোভ তৈরি হওয়া দুষ্কর। মাওবাদীরা বুঝেছে, জঙ্গলমহলে এখন আর লালগড়ের মতো সশস্ত্র আন্দোলন গড়ে তোলা মুশকিল। এক গোয়েন্দা-কর্তার পর্যবেক্ষণ, ‘‘যে সব যুবক জুনিয়র কনস্টেবলের চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের নিজেদের তল্লাটে চোখ কান খোলা রাখতে বলেছে অফিসাররা। যাঁরা চাকরি পাননি, তাঁদের একাংশ ভবিষ্যতে শিকে ছেঁড়ার আশায়। ওদের খেপানো বেশ শক্ত।’’ গোয়েন্দারা বলছেন, ‘‘তল্লাশিরত নিরাপত্তা বাহিনীর উপরে যে কোনও দিন চোরাগোপ্তা হামলা, ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ হতেই পারে। কিন্তু শিলদা বা সাঁকরাইলের মতো বড়সড় হামলা চালাতে গেলে বিস্তীর্ণ এলাকায় জনসমর্থন থাকা দরকার, যেটা মাওবাদীদের এখন কতটা তা বলা মুশকিল।

গোয়েন্দারা জেনেছেন, শহর ও শহরতলির পরিস্থিতিকে সংগঠন তৈরির জন্য মাওবাদীরা এখন অনেকটাই অনুকূল বলে মনে করছে। আইবি-র হাতে মাওবাদীদের যে নথি এসেছে, সে সব দেখে গোয়েন্দারা বলছেন, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নানা সমস্যার কারণে মফস্বল ও শহরের মানুষের একটা বড় অংশ বর্তমান সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ। অথচ বিরোধী দলগুলির কোনওটাই অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

আর এই শূন্যস্থানই মাওবাদীরা পূরণ করতে চাইছে। এ ক্ষেত্রে তারা সামনে রাখতে চাইছে শহরে পার্টির পুরনো সমর্থক ও সহানুভূতিশীলদের। মাওবাদীরা বিবৃতি দিয়ে লালগড়ের কিছু ভুল হত্যা করাও স্বীকার করেছে। গোয়েন্দাদের মতে, এই ভাবেই মাওবাদীরা ওই সব বসে যাওয়া শহুরে সমর্থকদেরই ফের কাছে টানতে চাইছে।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/special-report-on-maoist-activities-1.193219


ভারতঃ স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে যে কোনও দিন মাওবাদী অ্যাকশন, বার্তা দিল দিল্লি

chattisghad

স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠান বয়কট করে জনগণকে কালো পতাকা উত্তোলনের আহ্বান জানিয়েছে মাওবাদীরা। মাওবাদীরা অভিযোগ করেছে স্বাধীনতার গত ৬৮ বছরে গরীবরা গরীবই রয়ে গেছে আর ধনীরাই শুধু এদেশে উন্নত হয়েছে। স্বাধীনতার পর গঠিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যারা সরকার গঠন করেছে তারা আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার জন্য বিভিন্ন আইন যেমন 1/70, 1996 PESA, 5th and 6th schedules, 2006 Forest Rights Acts ইত্যাদি ভঙ্গ করে আসছে যাতে করে টাটা, পসকো, বিরলা, বেদান্ত, এসার, আনরাক ও জিন্দালের মতো বড় বড় কর্পোরেটরা এই অঞ্চল থেকে অর্থ রোজগার করতে পারে। মাওবাদীরা বলেছে আদিবাসীদের মাঝে খনি বিরোধী অসন্তোষ দমন করতে সরকার অপারেশন গ্রিন হান্টের তৃতীয় দফা বাস্তবায়ন করছে।  নিরাপত্তা বাহিনী গ্রামে গ্রামে হামলা চালিয়ে শিকারে করে জীবিকা নির্বাহ করা নিরীহ আদিবাসীদের উপর গুলি চালাচ্ছে। মাওবাদীদের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বড় ধরনের প্রকল্প, রাজ্যের রাজধানী ও বিমানবন্দরের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের নাম করে প্রতিটি সরকার ভূমি কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে আসছে যা জনকল্যাণ বিরোধী

জনগণের উপর শোষণের এই বিষয় গুলোকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গলমহলে নিরাপত্তা বাহিনীর উপরে বড় ধরনের হামলা চালানোর ছক কষেছে মাওবাদীরা, এবং সেটা হতে পারে এ সপ্তাহেই— সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের এই সতর্কবার্তা এসে পৌঁছেছে নবান্নে। আর তার পরেই নড়াচড়া শুরু হয়ে গিয়েছে রাজ্য প্রশাসনে। দিল্লি যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী নিজেও স্বীকার করেছেন সতর্কবার্তার কথা। নবান্নের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, জঙ্গলমহলে মাওবাদীরা যাতায়াত করছে, এমন খবর ছিলই। কিন্তু তারা যে থানা বা সিআরপিএফ ক্যাম্পের উপরে হামলা চালানোর চেষ্টা করছে, সেটা যথেষ্ট আতঙ্কের!

নির্দিষ্ট সূত্র মারফত মাওবাদীদের এই হামলা চালানোর ব্যাপারে কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বামপন্থী জঙ্গি কার্যকলাপ রোধ শাখা। তার ভিত্তিতেই নবান্নকে এই সতর্কবার্তা পাঠায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ। সেখানে মুখ্যসচিব ও পুলিশ প্রধানকে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও বলা হয়। নবান্নের খবর, বার্তাটি পাওয়ার পরেই স্বরাষ্ট্রসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য পুলিশের প্রধান জিএমপি রেড্ডি দীর্ঘ বৈঠক করেন। সেখানে জঙ্গলমহলের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। তার পরে পশ্চিমাঞ্চলের চারটি জেলার পুলিশ-প্রশাসনকে সর্তক করার পাশাপাশি যৌথ বাহিনীকেও তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। দিল্লি যাওয়ার সময় এই সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমাদের কাছে খবর এসেছে, ১৫ অগস্টের আগে কিছু উগ্রপন্থী সংগঠন অশান্তি সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন লোকের সাহায্যে মাল-মেটিরিয়াল সংগ্রহ করছে। একটি রাজনৈতিক দলের কথা আইবি-র রিপোর্টে রয়েছে। আমরাও সতর্ক রয়েছি।’’ প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘‘মাওবাদী হামলা সংক্রান্ত কিছু নির্দিষ্ট তথ্য আমরা পেয়েছি। প্রাথমিক ভাবে পশ্চিমাঞ্চলে মাওবাদীদের গতিবিধিও টের পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কিছু ঘটার আগেই যাতে তা ঠেকানো যায়, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’’

জঙ্গলমহল যে এর মধ্যেও ক্রমে ভিতরে ভিতরে অশান্ত হয়ে উঠছে, সেটা কিন্তু সম্প্রতি একাধিক ঘটনায় আঁচ করা যাচ্ছিল। বিশেষ করে কিষেনজিকে হত্যা করা নিয়ে যে মন্তব্য করেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তার বিরুদ্ধে সমানে পোস্টার পড়তে শুরু করে। সেখানে মাওবাদীরা পাল্টা আঘাতের ইঙ্গিতও দেয়। রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণা, বিক্ষিপ্ত ভাবে ঘটলেও এর পিছনে কোনও মাথা কাজ করতে পারে।

এর পরে নতুন করে মাওবাদী তৎপরতা শুরু হতে পারে আন্দাজ করেই গত চার-পাঁচ দিনে আইজি (পশ্চিমাঞ্চল) সিদ্ধিনাথ গুপ্ত পরপর দু’বার ঝাড়গ্রামে গিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। মাওবাদীরা যে জঙ্গলমহলে যাতায়াত বন্ধ করেনি, আইবি সেই সংক্রান্ত রিপোর্টও দিয়েছে রাজ্যকে। নবান্নের এক কর্তা সে কথা উল্লেখ করে জানান, কিন্তু যাতায়াত করা আর স্থায়ী ভাবে ঘাঁটি গেড়ে হামলার ছক করা এক কথা নয়। সিদ্ধিনাথ এ দিন দীর্ঘ সময় ঝাড়গ্রামে ছিলেন। প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে তাঁর কাছে নির্দেশ যায়। তিনি যৌথবাহিনীর সঙ্গে কথা তাদের সক্রিয় হওয়ার নির্দেশও দেন এর পরে।

কী বার্তা এসেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে?

নবান্ন সূত্রের খবর, কেন্দ্রের ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মাওবাদীদের ৬০ জনের একটি দল জঙ্গলমহলে ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে। তারা ১৫ অগস্টের মধ্যে যে কোনও সময়ে জঙ্গলমহলের কোনও পুলিশ বা সিআরপি ক্যাম্পে হামলা চালাতে পারে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা নির্দিষ্ট ‘সোর্স’ মারফত জেনেছেন, গত ২ অগস্ট রাতে ঝাড়খণ্ডের গুরাবান্দা গ্রামে এক গ্রামবাসীর বাড়িতে মাওবাদীরা জঙ্গলমহল আক্রমণের কৌশল ঠিক করতে বৈঠক করে। সেই বৈঠকে আকাশ, জয়ন্ত ওরফে সুসরাজ, রঞ্জিত পাল, সেপাই টুডু, কানু টুডুরা হাজির ছিলেন। সেখানেই মাওবাদী নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেন, কিষেনজির মৃত্যুর বদলা নিতে এ বার বাংলাতেই বড় ধরনের হামলা চালাবেন তাঁরা। ঠিক হয়, প্রথম নিশানা হবে বেলপাহাড়ি। এ জন্য তাঁরা ঝাড়খণ্ড থেকে বেলপাহাড়ির কোদাপুরা দিয়ে বাংলায় ঢুকবে। কোদাপুরা বেলপাহাড়ির শিমুলপাল গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে পড়ে। কেন্দ্রের বার্তা থেকে জানা গিয়েছে, ৩ অগস্ট গুরাবান্দা থেকে ৬০ জনের ওই দলটি পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া ঘাটশিলায় এসে পৌঁছয়। যে কোনও সময় তারা বেলপাহাড়িতে ঢুকে পড়তে পারে।

গুরাবান্দার এই বৈঠকের কথা পশ্চিম মেদিনীপুরের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি)-ও তাদের নজরদারি ব্যবস্থার সাহায্যে জানতে পেরেছে। তাদের কাছেও খবর, মাওবাদীদের আক্রমণের প্রথম লক্ষ্য বেলপাহাড়ির কোনও পুলিশ ফাঁড়ি। রাজ্য পুলিশের এক কর্তার কথায়, ‘‘ওদের নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা আমরা আগাম জানতে পেরেছি। ফলে জঙ্গলমহলে ৪৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে। চেষ্টা হচ্ছে, যাতে এ রাজ্যে ঢুকলেই ওই মাওবাদী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’’ রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের এক কর্তার কথায়, ‘‘স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবসের সময় দিল্লি থেকে বরাবর বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার নির্দেশ আসে। এ বার তেমন নির্দেশ আগেই এসেছে। কিন্তু সোমবার নর্থ ব্লক যে ধরনের নির্দিষ্ট তথ্য সহযোগে মাওবাদীদের আগাম পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে, তা আগে কখনও হয়নি। ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যৌথ বাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’’

কিন্তু থানা বা সিআরপি ক্যাম্পকেই কেন প্রথমে নিশানা করা হবে? কেন্দ্রের বার্তায় বলা হয়েছে, ২ অগস্টের বৈঠকে কয়েক জন মাওবাদী নেতা জানান, ছত্তীসগঢ় এবং ঝাড়খণ্ড থেকে বেশ কয়েক জন যুবক-যুবতী স্কোয়াডে যোগ দেওয়ায় তাঁদের শক্তি বেড়েছে। এই স্কোয়াডের জন্য আরও বেশি পরিমাণ অস্ত্র এবং গোলাবারুদ প্রয়োজন। সে জন্যই এক বা একাধিক পুলিশ বা সিআরপিএফ ক্যাম্পে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দাদের আরও বক্তব্য, নিরাপত্তা বাহিনীর উপরে হামলা মাওবাদীদের পুরনো ছক। এর আগে ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জঙ্গলমহলের শিলদায় ইএফআর শিবিরে হানা দেয় মাওবাদীরা। এই ঘটনায় ২৪ জন জওয়ান প্রাণ হারিয়েছিলেন। প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ লুঠ করা হয়েছিল।

‘শান্ত’ জঙ্গলমহল আবার কেন উত্তপ্ত হচ্ছে? প্রশাসন সূত্রে বলা হচ্ছে, এর পিছনে মূলত দু’টি কারণ রয়েছে। এক, মাওবাদীরা কিষেনজির মৃত্যুর ‘প্রতিশোধ’ নিতে চায়। সে জন্যই বড় হামলার প্রস্তুতি। দুই, ছত্রধরের যাবজ্জীবন সাজা হওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সেই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়েই জঙ্গলমহলে পায়ের তলায় মাটি খুঁজছে মাওবাদীরা। সে জন্যই তাদের যাতায়াত বেড়েছে। ক্রমে শক্তি বাড়িয়ে এখন তারা নিরাপত্তা বাহিনীর উপরে হামলা চালানোর ছক কষছে। তাতে সফল হলে ফের স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে ফেলতে পারে তারা।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/delhi-alerts-state-that-maoist-will-attack-anytime-1.191055


ভারতঃ মাওবাদীদের পুলিশ সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটি(PCAPA) পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা

maoist_journalism_illus_20100412

কলকাতা আগস্ট ৬ – সিপিআই (মাওবাদী) এর কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্য সম্প্রতি পুলিশ সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটির (People’s Committee Against Police Atrocities (PCAPA)) আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করার জন্য একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে মাওবাদীদের পূর্বকালীন মুক্তাঞ্চল জঙ্গলমহল পরিদর্শন করেছেন বলে, এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

১৯৯৫-২০১১ পর্যন্ত সিপিআই(মাওবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে কোটেস্বর রাও ওরফে কিষেণজি বাংলা অধ্যায় দেখাশোনা করতেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর দায়িত্বশীল পদটি শূন্য ছিল।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমরেড মাঝি হিসেবে উপস্থাপিত মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্য, ২৫শে জুলাই সন্ধ্যায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নয়াগ্রাম থানার সীমার মধ্যে ছান্দাবালিয়াতে একটি গোপন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ http://www.htsyndication.com/htsportal/article/Maoists-plan-to-revive-PCAPA-agitation/7640536


ভারত/পশ্চিমবঙ্গঃ মাওবাদীদের সক্রিয়তা বাড়ছে, বৈঠকে পুলিশ

maoist1-655x360

জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে মাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টার উদ্ধার একটা সময় দৈনন্দিন ঘটনা ছিল। এখন পরিস্থিতি আলাদা। সেই ‘শান্তি’র জঙ্গলমহলেই সম্প্রতি একাধিকবার সিপিআই (মাওবাদী)-র নামে লেখা পোস্টার মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার পুলিশ সুপারদের নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করলেন রাজ্য পুলিশের আইজি (পশ্চিমাঞ্চল) সিদ্ধিনাথ গুপ্ত।
বৃহস্পতিবার বেলপাহাড়ি থানায় ওই বৈঠকে ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার তথা ঝাড়গ্রাম পুলিশ জেলার ভারপ্রাপ্ত এসপি ভারতী ঘোষ, বাঁকুড়ার এসপি নীলকান্ত সুধীরকুমার ও পুরুলিয়ার এসপি রূপেশ কুমার, ডিআইজি (মেদিনীপুর রেঞ্জ) বিশাল গর্গ, সিআরপি’র ডিআইজি বি ডি দাস-সহ সিআরপিএফ ও কোবরা বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা। তবে এ দিনের বৈঠক নিয়ে মুখ খোলেননি পুলিশ কর্তারা।
পোস্টার উদ্ধারের পরে সে কাজে মাওবাদী যোগ অবশ্য মানতে চায়নি পুলিশ। উল্টে পুলিশ কর্তারা বলেছেন, ‘এ সব দুষ্টুলোকের কাজ’। কিন্তু এ দিনের বৈঠকে পুলিশ কর্তারা সকলেই একমত যে, সম্প্রতি তিন জেলার জঙ্গলমহলে যে সব হাতে লেখা পোস্টার মিলেছে, সেগুলি আর যাই হোক দুষ্টু লোকের কাজ নয়। পরিকল্পিত ভাবে মাওবাদীরাই পর্যায়ক্রমে ওই সব পোস্টার দিচ্ছে বলে মনে করেন আধিকারিকদের একাংশ। পুলিশ সূত্রের খবর, ওই সব পোস্টারের লেখার ধরন দেখে সন্দেহ দানা বেঁধেছিল। এ বার বিভিন্ন গ্রাম থেকে নির্দিষ্ট সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশের চিন্তা বেড়েছে।

জঙ্গলমহলে এলাকা ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করার পরে ঝাড়খণ্ড সীমানাবর্তী পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জঙ্গলমহলে জারি করা হয়েছে ‘হাই অ্যালার্ট’। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনটি জেলার পুলিশকে চূড়ান্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন আইজি। সেই সঙ্গে আরও জোরদার তল্লাশি-অভিযানের পাশাপাশি, জনসংযোগ কর্মসূচির উপর জোর দিতে বলেছেন পুলিশ কর্তারা। প্রচারের আলো পেতে, স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে মাওবাদীরা ফের কোনও অ্যাকশন চালাতে পারে বলেও চার জেলার পুলিশকে বৈঠকে সতর্ক করা হয়েছে। এ দিন বৈঠকের আগে বাঁশপাহাড়ি ও ছুরিমারা এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন আইজি।

সম্প্রতি যে ক’বারই মাওবাদীদের নামে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে, তড়িঘড়ি তা উদ্ধার করে চেপে দেওয়া হয়েছে ঘটনা। যেমন, গত ১৭ জুলাই বেলপাহাড়িতে দলীয় এক সভায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ঝাড়খণ্ড সীমানাবর্তী বেলপাহাড়ির কয়েকটি গ্রামে মাওবাদীদের নামাঙ্কিত কিছু পোস্টার পাওয়া যায়। কিন্তু পুলিশ তার সত্যতা স্বীকার করেনি। এরপর পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি চেয়ে পোস্টার মেলে। ২৮ জুলাই থেকে ৩ অগস্ট পর্যন্ত শহিদ সপ্তাহ পালনের ডাক দিয়ে বাঁকুড়া ও বেলপাহাড়ির বিভিন্ন গ্রামে পোস্টার মেলে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডের সীমানাবর্তী এলাকায় শহিদ বেদি তৈরি করে শহিদ সপ্তাহও পালন করেছে মাওবাদীরা।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, জঙ্গলমহলে মাওবাদীরা নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে। শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে পঞ্চায়েতের দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে এলাকায় জনমত গঠনেরও কাজ শুরু করে দিয়েছে মাওবাদীরা। আকাশ, বিকাশ, রঞ্জিত পালের মতো অধরা মাওবাদী নেতারা এলাকায় যাতায়াত শুরু করেছেন। ছত্তীসগঢ় থেকে আসা মাওবাদীদের ১৫ জনের একটি দল এলাকায় ঘুরে গিয়েছে বলে এলাকা সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিতে সদা সতর্ক থাকার সিদ্ধান্তই হয়েছে এ দিনের বৈঠকে।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/maoist-activities-increased-at-lalgarh-1.188685#


ভারত/পশ্চিমবঙ্গঃ জঙ্গলমহলে মাওবাদী সন্দেহে গ্রেফতার ২

naxal-Maoists-AFP1

মেদিনীপুর:  মাওবাদীদের শহিদ সপ্তাহের আগের দিনই পুরুলিয়া জঙ্গলমহলে পাওয়া গেল প্রচুর মাওবাদী পোস্টার। পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি থানার মাঠা, ভুচুংডি, টাইগার মোড়–সহ আশপাশ এলাকায় প্রচুর পরিমাণে মাওবাদী পোস্টার উদ্ধার করা হয়। সাদা কাগজের ওপর লাল কালিতে লেখা পোস্টারে পুলিস ও তৃণমূলকে সরাসরি হুমকি দেওয়া ছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর জঙ্গলমহলের উন্নয়নের দাবি নস্যাৎ করে দেয় মাওবাদীরা। একই সঙ্গে পোস্টারে পুলিসকে কবরে ফেলার কথাও বলা হয়। পোস্টারে আরও বলা হয় ‘মমতার নাটক চলবে না, জঙ্গলমহল জবাব দেবে’। এ ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করা হয়। মাওবাদী পোস্টারে বলা হয়, ‘মমতা দিদি কার আন্দোলনে মুখ্যমন্ত্রী হলেন, জবাব দাও’। অপারেশন গ্রিন হান্ট বন্ধ করা ও জঙ্গলমহল থেকে নাগা ও যৌথবাহিনী প্রত্যাহারের দাবি তোলা হয়। ‘দিগারডি পুলিস ক্যাম্প ভাঙতে হবে। এই অন্যায়ের জবাব দিতে হবে’। অবশ্য কোন অন্যায় তা স্পষ্ট নেই। সোমবার সকালে ওই গ্রামগুলির মানুষ প্রচুর পোস্টার দেখতে পায়। খবর পেয়ে আসে পুলিস। নাগা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিস গিয়ে পোস্টারগুলি উদ্ধার করে। প্রায় ১৬টি বিষয়কে সামনে রেখেই মাওবাদীরা পোস্টার দেয়। শহিদ সপ্তাহের আগের দিন এই পোস্টার পুলিসের চিন্তা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হল। জঙ্গলমহল জুড়ে ব্যাপক তল্লাশি শুরু হয়েছে। যদিও আজ মঙ্গলবার ঘটনায় যুক্ত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সূত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/mao-further-panic-jangalmahal-area.html


ভারত/পশ্চিমবঙ্গঃ জঙ্গলমহলে মাওবাদী পোস্টার

mao-postar-326x235

জঙ্গলমহলে ফের সক্রিয় মাওবাদীরা? নতুন করে জঙ্গলমহলের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে মাওবাদীদের পোস্টার উদ্ধার হয় আজ রবিবার। যা নিয়ে রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুলিশমহলে। যদিও এখনও এলাকায় মাওবাদীরা খুব একটা সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে না পুলিশ একাংশ। তবে, নতুন করে এলাকায় মাওবাদী আনাগোনা শুরু তা কার্যত স্বীকার করে নিচ্ছেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তবে আজ রবিবার যে মাও পোস্টারগুলি উদ্ধার হয়েছে তা শুধুমাত্র এলাকায় আতঙ্কের জন্য লাগানো হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন সকালে জঙ্গলমহলের বেশ কয়েকটি এলাকায় মাওবাদী পোস্টার লাগানো দেখতে পান এলাকাবাসী। যা নিয়ে রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়ায়। যদিও ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে তড়িঘড়ি এলাকা থেকে পোস্টারগুলি সরিয়ে ফেলে পুলিশ। নতুন করে মাওগড় জঙ্গলমহলে পোস্টার পড়ায় উৎসুক এলাকাবাসী।

সূত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/jangalmahal-area-surrounding-the-horrors-of-mao-posters.html