বাংলাদেশঃ মহান মে দিবসে বামপন্থী ৪ সংগঠনের যৌথ কর্মসূচী

Advertisements

এলপিজি প্লান্ট ও পাইপ লাইন স্থাপন চুক্তির বিরুদ্ধে ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ’ এর বিবৃতি

gonomancha_1240398450_1-mayday-poster-large2

বিবৃতি

 

এলপিজি প্লান্ট ও পাইপ লাইন স্থাপন চুক্তিসহ ঔপনিবেশিক দাসত্বমূলক হাসিনা-মনমোহন, হাসিনা-মোদি চুক্তি বাতিল কর

পাইপলাইনে গৃহস্থালী সরবরাহ বন্ধ করে এলপি গ্যাসের বাজার সম্প্রসারণ এবং তার একচেটিয়া ব্যবসা ভারত ও তার দালাল আওয়ামী লুটেরা ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেয়ার চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে।

আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, ভারতের মদদে ক্ষমতাসীন হয়ে আওয়ামীলীগ সরকার ২০১০ সালের জানুয়ারিতে হাসিনা- মনমোহন চুক্তির আওয়তায় একের পর এক দেশবিক্রয়কারী চুক্তি সম্পাদন করে চলেছে। সম্প্রতি ৪ দেশের যৌথ সড়ক যোগাযোগের নামে ট্রানজিট দেয়া এবং ভারতীয় আদানী গ্রুপের সাথে বিদ্যুৎ চুক্তির পর আজ সরকার এলপিজি প্লান্ট স্থাপন ও ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলে পাইপ লাইনে তরল জ্বালানী সরবরাহের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশের এলপিজি বাজারে ভারতের অনুপ্রবেশসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এলপিজি বাজারে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের একচেটিয়া অধিকার নিশ্চিত করা হল। সেই সাথে বড় আঞ্চলিক শক্তি ভারতের জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনেরও শর্ত সৃষ্টি করা হলো।

শুধু তাই নয়, এ চুক্তি এমন এক সময়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যখন ২০০৯ সালের পর আওয়ামী সরকার গ্যাস সংকটের অজুহাতে পাইপ লাইনে গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ রেখেছে। অথচ গৃহস্থালী গ্যাসের ব্যবহার মোট উৎপাদনের মাত্র ১.২৬ শতাংশ। সম্প্রতি একই অজুহাতে সরকারের মন্ত্রী উপদেষ্টারা পাইপ লাইন সংযোগ উঠিয়ে দেয়া, পাইপ লাইন ব্যবহারকারীদের ডাবল বার্নার চার্জ দুই দফা বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা করেছেন। এখন তা ১১০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির কথা বলছেন। লাভজনক এ খাতে এই অতিমুনাফার কারণকে ন্যায্যতা দেবার জন্য তারা এলপিজি ব্যবহারকারীদের সাথে ব্যয় বৈষম্যের অজুহাত দেখাচ্ছেন। তারা বলছেন এ বর্ধিত মুনাফা থেকে এলপিজি ব্যবহারকারীদের ভর্তুকী দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের আগে দেশে রাষ্ট্রীয় একমাত্র এলপিজি কোম্পানী ছাড়া আর একটি বিদেশী কোম্পানী কার্যরত ছিল। ২০০৯ সালের পর সরকারপন্থী ব্যবসায়ীরা এ ব্যবসা ফেঁদেছে। কিছু দিন আগে আকষ্মিকভাবে গৃহস্থালী গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী শীতজনিত সংকট হিসাবে একে বর্ণনা করলেও গ্যাস থাকা-না থাকার অবস্থা থেকে জনমনে সংশয় রয়েছে যে এটা আদৌ শীতজনিত সমস্যা; না পাইপ লাইন সরবরাহ বন্ধ করার পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা।

এ পরিস্থিতি বিচারে বুঝতে কোন সংশয় থাকে না যে, সরকার কুইক রেন্টাল দুর্নীতির মত এলপিজি খাতকে দেশী-বিদেশী লুটেরাদের জন্য উন্মুক্ত করতে চাইছে। শুধু তাই নয় দেশের দরিদ্র পীড়িত এবং বিকল্প জ্বালানীতে অভ্যস্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভর্তুকী দিয়ে এলপিজির বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টাও তারা করতে চায়। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর গণবিরোধী চক্রান্ত হল বিকল্প জ্বালানীর যেখানে অভাব, সেই শহারাঞ্চলে পাইপ লাইনের সংযোগ উঠিয়ে দিয়ে জোরপূর্বক এলপিজি বাজার সৃষ্টির প্রচেষ্টা। বাংলাদেশে এখন ৩ থেকে ৪ কোটি মানুষ যাদের অধিকাংশ শহুরে শ্রমিক ও শ্রমজীবী পাইপ লাইনের গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। এখন যেখানে মাসে ৬৫০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে এলপিজি-র ক্ষেত্রে সমপরিমান গ্যাস ব্যবহার করতে হলে খরচ পড়বে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। ৫৩০০ টাকা ন্যুনতম মজুরির দেশে ¯্রফে লুটেরা ব্যবসায়ী ও ভারতীয় ঔপনিবেশিক শক্তির স্বার্থে এই জাতীয় স্বার্থ বিরোধী ও গণবিরোধী প্রকল্প বাস্তবায়ন জনগণ মেনে নিতে পারে না। তাই জনসাধারণের প্রতি আমরা আহ্বান জানাই, গৃহস্থালী গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিসহ পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে গণ প্রতিরোধ গড়ে তুলুুন।

১৯৭১ সালে পিন্ডির বিরুদ্ধে জনগণের মুক্তিযুদ্ধের সাথে বেঈমানি করে বাঙ্গালী শাসক-শোষক শ্রেণী দেশকে দিল্লির দাসত্বে আবদ্ধ করেছিল। আজ হাসিনা-মনমোহন, হাসিনা-মোদি চুক্তির মাধ্যমে তার নবরূপায়ন ঘটানো হয়েছে। ইতিমধ্যে এ ঔপনিবেশিক দাসত্ব চুক্তির ফল জাতি ও জনগণ ভোগ করতে শুরু করেছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সুযোগে ভারত তার সম্প্রসারণবাদী থাবা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর উপর আরও জোরদার করছে। তারা দেশে দেশে তাঁবেদার ফ্যাসিস্ট সরকারগুলোকে এ শোষণ-লুণ্ঠনের প্রয়োজনে মদদ দিয়ে চলেছে। তাই দেশের স্বাধীনতা প্রিয় জনগণের প্রতি আমাদের আহ্বান আজ দিল্লী- ওয়াশিংটনের দালাল ফ্যাসিবাদী সরকার ও দিল্লীর দাসত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামিল হোন। শ্রমিক-কৃষক নিপীড়িত জাতি ও দেশপ্রেমিক জনগণের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করুন।

(-স্বাক্ষরিত) – (-স্বাক্ষরিত)
মাসুদ খান – আদিত্য মাহমুদ
সভাপতি – সাধারণ সম্পাদক
জাতীয় গণতান্ত্রিক মঞ্চ 

 13041312_1100563000006064_33937735183809672_o

বাংলাদেশঃ প্রকাশক হত্যার প্রতিবাদে জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের বিবৃতি

62740_105275666201474_7414939_n

বিবৃতি
০১ নভেম্বর, ২০১৫

প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে কাপুরুষোচিতভাবে হত্যা ও আহমেদুর রহমান টুটুলসহ তিনজনকে আহত করার প্রতিবাদ; সরকার দায় এড়াতে পারে না!
প্রতিক্রিয়াশীল-মৌলবাদী শক্তিকে রুখতে প্রগতিশীল-মুক্তমনা শক্তিকে ব্যাপক জনসাধারণের সাথে একাত্ম হওয়ার আহবান!________জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ

———————————————————————————-

এক যুক্ত বিবৃতিতে জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের আহ্বায়ক মাসুদ খান ও সদস্য সচিব রাতুল বারী জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যা ও শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর প্রকাশক আহমেদুর রহমান টুটুলসহ তিনজনকে কুপিয়ে আহত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এই কাপুরুষোচিত হত্যাকান্ড ও হামলার দৃষ্টান্তমুলক দাবী করেছেন, একই সাথে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে রুখতে প্রগতিশীল-মুক্তমনা শক্তিকে ব্যাপক জনসাধারণের সাথে একাত্ম হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে সরকারকে দায়ী করে বলা হয়, এর আগেও নিরস্ত্র ও নিরীহ লেখক-ব্লগারকে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির কাপুরুষোচিত হত্যাকান্ডের ঘটনায় সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করার কারণে পরিস্থিতির দ্রুত অবণতি হয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, এই পরিস্থিতি উত্তরণে প্রগতিশীল মুক্তমনা লেখক-প্রকাশক-ব্লগারদের ব্যাপক জনসাধারণের সাথে একাত্ম হয়ে তাঁদেরকে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে টেনে আনা ছাড়া লড়াইয়ে বিজয়ী হওয়ার অন্য কোন পথ খোলা নেই। তাই আজ প্রগতিশীল মুক্তমনা লেখক-প্রকাশক-ব্লগারদের ব্যাপক জনসাধারণের পাশে থেকে তাঁদেরকে প্রতিক্রিয়াশীল-মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সংগঠিত করতে হবে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ সকল গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল শক্তিকে প্রতিক্রিয়াশীল-মৌলবাদী শক্তির নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষের উপর এই কাপুরুষোচিত হত্যাকান্ড ও হামলার ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার আহবান জানান।

বার্তা প্রেরক
আদিত্য মাহমুদ
দপ্তর ও প্রচার সচিব,
কেন্দ্রীয় কমিটি, জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ।
অস্থায়ী কার্যালয়ঃ ৮৪/ক/এ, সাদেক খান রোড, রায়ের বাজার, ঢাকা-১২০৯।
ই-মেইলঃ gonomancha@yahoo.com, মোবাঃ ০১৭১২৬৭০১০৯।

11164064_998790446849987_3880688109613422984_n