কমরেড আবদুল হক-এর ও কমরেড হেমন্ত সরকার-এর মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করুন

comred-hoq

২২ ডিসেম্বর কমরেড আবদুল হক-এর ২২তম ও ২৮ ডিসেম্বর কমরেড হেমন্ত সরকার-এর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করুন

শ্রমিক-কৃষক-জনগণের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অগ্রসর হউন।

সংগ্রামী সাথী ও বন্ধুগণ,

সংগ্রামী অভিনন্দন গ্রহন করুন। আগামী ২২ ডিসেম্বর কমরেড আবদুল হক এর ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯২০ সালের ২৩ডিসেম্বর যশোর জেলার সদর থানার খড়কিতে জন্মগ্রহণ করেন। সামন্তবাদী পীর পরিবার থেকে আগত হলেও তিনি যখন কলকাতায় পড়াশুনা করতেন সেই ছাত্রাবস্থায় তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন এবং শ্রমিক এবং

শ্রমিক শ্রেণীর মার্কসবাদী-লেনিনবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বৈপ্লবিক কর্মকান্ড শুরু করেন। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে অর্থনীতিতে বি.এ অনার্স পড়ার সময় তিনি ১৯৪১ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী সভ্যপদ লাভ করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি পার্টির রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিচালিত ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট ফেডারেশনের বঙ্গীয় প্রাদেশিক কমিটির দায়িত্ব পালন করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.এ ভর্তি হলে তিনি পার্টির ডাকে সার্বক্ষণিক কর্মী হিসেবে কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।

১৯৪১ সালে যশোর জেলার বনগাঁয়ে তৃতীয় কৃষক সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এই সম্মেলনে “লাঙ্গল যার জমি তার” এবং ঐতিহাসিক তে-ভাগা আন্দোলনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যশোর জেলার কৃষকের তে-ভাগা আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দানকারীর ভূমিকা পালন করেন। পাকিন্তান আমলে তিনি ১৯৫৮ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পুর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বৃটিশ আমল, পাকিস্তান আমল ও বাংলাদেশের সময়কালে তিনি অনেক আন্দোলন প্রত্যক্ষভাবে গড়ে তোলেন ও অংশ নেন- যেমন: ছাত্রজীবনে ১৯৩৯ সালে হলওয়েল মনুমেন্ট ভাঙ্গার আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের মহা মন্বন্তরে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো, ১৯৪৪ সালে হাট তোলা বিরোধী আন্দোলন, ১৯৪৬ সালে তে-ভাগা আন্দোলন, ১৯৫০ সালে রাজশাহী জেলে খাপড়া ওয়ার্ড আন্দোলন, বিভিন্ন কৃষক আন্দোলনসহ ১৯৬৯ সালে গণআন্দোলন ও গণঅভ্যূত্থান এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের বিপ্লবী আন্দোলন ইত্যাদি। এই সামগ্রিক সময়কালে তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলনে অগ্রণী বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। কমিউিনিষ্ট আন্দোলনের ক্ষেত্রে তিনি সংশোধনবাদের সকল প্রকাশের বিরুদ্ধে মতাদর্শগত সংগ্রাম চালিয়ে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের লাল পতাকা সমুন্নত রেখেছেন। তিনি ক্রুশ্চেভ-ব্রেজনেভ-গর্বাচেভ মার্কা, তিন বিশ্ব তত্ত্ব ও মাও-সেতুং চিন্তাধারা মার্কা সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে এদেশ তথা উপমহাদেশে মতাদর্শিক সংগ্রামে বলিষ্ঠ নেতৃত্বকারী ভূমিকা গ্রহণ করেন। তিনি জাতীয় ক্ষেত্রে আলাউদ্দিন-দেবেন শিকদারদের কৃষিতে ধনবাদ, সুখেন্দু দস্তিদার-তোহাদের উগ্র বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী অবস্থান ও জিয়াউর রহমানকে ‘দেশপ্রেমিক সরকার’ ও সত্য মৈত্রী-ইদ্রিস লোহানীদের জিয়াউর রহমানকে ‘জাতীয় সরকার’ চিহ্নিত করার ডান সুবিধাবাদী-সংশোধনবাদী অবস্থান থেকে, জাসদের ট্রটস্কিবাদী বাম হটকারী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের লাল পতাকাকে উর্ধ্বে তুলে ধরে বাংলাদেশে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে শ্রমিক-কৃষকের মৈত্রীর ভিত্তিতে সাম্যবাদ-সমাজতন্ত্রের লক্ষে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করার সঠিক লাইন তুলে ধরে অগ্রসর করতে ভূমিকা গ্রহণ করেন। দশটি গ্রন্থের সমন্বয়ে কমরেড আবদুল হক গ্রন্থাবলী ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও শতাধিক প্রবন্ধ তিনি রচনা করেছেন। সুদীর্ঘ ষাট বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে পঁচিশ বছরই তাকে আত্মগোপনে কাটাতে হয়। ২২ ডিসেম্বর ১৯৯৫ শুক্রবার রাত ১০টা ৫ মিনিটে বার্ধক্যজনিত অসুস্থ্যতায় কমরেড আবদুল হক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

অপর কমরেড হেমন্ত সরকার ১৯৯৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর ৮২ বছর বয়সে নড়াইলে মৃত্যুবরণ করেন। কমরেড হেমন্ত সরকারের বিপ্লবী জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায় ১৯১৬ সালে নড়াইল জেলার সদর থানার বড়েন্দার গ্রামে এক গরীব কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শ্রমিকশ্রেণীর বিপ্লবী রাজনীতি ও কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সম্পর্কিত হন ১৯৪০-এর দিকে এবং ১৯৪২ সালে পার্টি সভ্যপদ লাভ করেন। ঐতিহাসিক তে-ভাগা আন্দোলনে তিনি দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রাখেন। দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে গ্রেপ্তার হয়ে পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বন্দী জীবন কাটান। ৬০ এর দশকে বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনে ক্রুশ্চেভ সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তিনি দৃঢ় ভূমিকা রাখেন। এ প্রেক্ষাপটে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) এর যশোর জেলা পার্টি পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখেন এবং যশোর জেলা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের লাইন গৃহীত হলে তিনি তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন এবং ১৯৭১ সালে পার্টি পরিচালিত বিপ্লবী যুদ্ধে তিনি নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা পালন করেন। উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদী অবস্থানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কমরেড আবদুল হকের নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের প্লেনামে তিনি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৫ সালে ৫ম কংগ্রেসে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পুনঃনির্বাচিত হন।

তিনি ১৯৮০ সালে সংশোধনবাদী তিন বিশ্ব তত্ত্ব বিরোধী সংগ্রামে দৃঢ় ভূমিকা পালন করেন এবং ১৯৮৩ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) এর ৬ষ্ঠ কংগ্রেসে কন্ট্রোল কমিশনের সভ্য নির্বাচিত হন এবং কন্ট্রোল কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

এর পর পরই ১৯৮৪ সালে তিনি পুণরায় গ্রেপ্তার হন। ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত ৭ম কংগ্রেসে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পূণঃনির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম কংগ্রেসে তিনি কন্ট্রোল কমিশনের সভ্য নির্বাচিত হন এবং কন্ট্রোল কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। নবম কংগ্রেসের প্রায় পূর্ব পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। নবম কংগ্রেসে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও অন্যান্য কারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সংগঠনে থাকেন না এবং পার্টির সভ্য হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন। সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব জয়যুক্ত করার জন্য ব্রিটিশ আমল থেকে তাঁর সংগ্রামী ভূমিকা, অধ্যবসায়, ত্যাগ-তিতিক্ষার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক অবদান থেকে সকল প্রগতিশীল বিপ্লবী, গণতান্ত্রিক ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নেতা-কর্মীদের গভীরভাবে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

সংগ্রামী বন্ধুগণ,

আজ যখন আমরা কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা কমরেড আবদুল হক ও কমরেড হেমন্ত সরকারের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করছি তখন বাংলাদেশ এক গভীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক তথা সামগ্রিক সংকটে নিমজ্জিত। চাল, লবন, পেঁয়াজ, শাক-সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, পুনরায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করে পণ্যসামগ্রী, যানবাহনের ভাড়া, বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করে জনজীবনকে আরো বিপর্যস্ত করছে। শ্রমিক বাজারদরের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ মজুরি না পেয়ে; বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক দ্বিতীয় দফায় উৎপাদন করতে পুনরায় ঋণগ্রস্থ ও উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে বিপর্যস্ত; শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণ, ভর্তি বাণিজ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস, দূর্নীতি, শিক্ষাঙ্গনে দলীয় সন্ত্রাস; খুন-গুম-অপহরণ; নারী ধর্ষণ-নির্যাতন, নারী ও শিশু পাচার; সরকার দলীয় সন্ত্রাস, পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস; মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশ নিয়ন্ত্রণ; সংবাদপত্র ও সংবাদ মাধ্যম কালা-কানুন করে নিয়ন্ত্রণ; শহর-গ্রামে সর্বত্র মাদকের ছড়াছড়ি ইত্যাদি সর্বাত্মক করে চলেছে। মহাজোট সরকার স্বৈরতন্ত্রকে তীব্রতর করে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং নেতৃত্বকারী বিপ্লবী ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র-চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল সামন্ত-আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া শ্রেণির স্বার্থ রক্ষাকারী মহাজোট সরকারের নির্মম শোষণ-লুণ্ঠন ও স্বৈরাচারি শাসনের বিরুদ্ধে আজ প্রয়োজন শ্রমিক-কৃষক-জনগণের জরুরি সমস্যা ও দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামকে বেগবান করা। এ ক্ষেত্রে অতীতের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল বুর্জোয়া শ্রেণির লেজুড় সংশোধনবাদী-সুবিধাবাদীরা এই মূল কাজকে আড়াল করে উগ্র বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের অবস্থান থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’র স্বপক্ষের শক্তির ঐক্যের শ্লোগানকে সামনে রেখে মহাজোট সরকারের লেজুড়বৃত্তি করে চলেছে। ১৯৯১ সালে ক্রুশ্চেভ-ব্রেজনেভ-গর্বাচেভ মার্কা সংশোধনবাদীরা বিপর্যস্ত হয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কমিউনিস্ট পার্টিকে বিলোপ করে। ১৯৫৬ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপে ক্রুশ্চেভ সংশোধনবাদীরা পুঁজিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে সমাজতন্ত্রের নামাবলী গায়ে দিয়ে চলে এবং ১৯৬৭ সালে সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদে পরিণত হয়ে পরাশক্তি হিসেবে আগ্রাসন তৎপরতা চালায়। এ প্রক্রিয়ায় ১৯৯১ সালে পুঁজিবাদের উলঙ্গ প্রকাশ ঘটে। আবার চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ১৯৪৯ সালে জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব করলেও তাকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সফল না করায় চীনেও সংশোধনবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়। তারা বর্তমানে রুশ ফেডারেশনের কমিউনিস্ট পার্টি, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি, ভিয়েতনামের ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন দেশের রুশ ও চীনপন্থী সংশোধনবাদী পার্টিগুলো কমিউনিস্ট ও ওয়ার্কার্স পার্টিসমূহের আন্তর্জাতিক অধিবেশন করে (IMCWP) চীনকে সামনে রেখে ভিয়েতনাম, উত্তর কোরিয়া ও কিউবাকে সমাজতান্ত্রিক আখ্যায়িত করে যে ডান সুবিধাবাদী সংশোধনবাদী ধারা সামনে আনছে তাদের এদেশীয় দোসর ওয়ার্কার্স পার্টি ও সিপিবি এবং তাদের নেতৃত্বে তথাকথিত বামপন্থীদের ঐক্যের তৎপরতা এদেশের শ্রমিকশ্রেণির বিপ্লবী সংগঠন ও সংগ্রাম তথা প্রকৃত বাম আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্থ করার ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ছাড়া আর কিছু নয়।

এমতাবস্থায় নয়াউপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী বাংলাদেশে তিন শত্রুর বিরুদ্ধে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে শ্রমিক-কৃষকের মৈত্রীর ভিত্তিতে সাম্যবাদ-সমাজতন্ত্রের মূল লক্ষে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করার ক্ষেত্রে অন্যতম বাঁধা হচ্ছে উল্লেখিত সংশোধনবাদীরাসহ সকল রূপের সংশোধনবাদ। ২০১৭ সালে আমরা যখন কমরেড আবদুল হক ও কমরেড হেমন্ত সরকারের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করছি- এ বছরই হচ্ছে মহান অক্টোবর বিপ্লবের শততম বার্ষিকী। আমাদের দেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের মহান নেতৃদ্বয় অক্টোবর বিপ্লব তথা মার্কসবাদ-লেনিনবাদের মহান শিক্ষাকে সামনে রেখে বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনের অংশ ও অধীন হিসেবে এদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনে সুবিধাবাদ ও সংশোধনবাদের সকল প্রকাশের বিরুদ্ধে যে আপসহীন মতাদর্শিক সংগ্রাম পরিচালনা করে লক্ষ্য অর্জনে অবিচল থেকেছেন সেই শিক্ষাকে সামনে রাখতে হবে। তাই আজ আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সংশোধনবাদের উল্লেখিত প্রকাশসহ সকল রূপের সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করার লক্ষে আপসহীন ধারাবাহিক সংগ্রাম পরিচালনা করা। আসুন, শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, মধ্যবিত্ত জনগণ এবং দেশপ্রেমিক, গণতান্ত্রিক সকল শক্তি ঐক্যবদ্ধ হই, গড়ে তুলি সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালদের বিরুদ্ধে দূর্বার আন্দোলন।

সংগ্রামী অভিনন্দনসহ

আব্দুল হক

সভাপতি

হাফিজুর রহমান

সাধারণ সম্পাদক

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, যশোর জেলা শাখা

৫৮, সমবায় ব্যাংক মার্কেট ভবন (৩য় তলা) পাইপপট্টি, যশোর-৭৪০০ থেকে ৫ ডিসেম্বর ২০১৭ প্রকাশিত ও প্রচারিত।

l

Advertisements

বাংলাদেশঃ মহান মে দিবসে বামপন্থী ৪ সংগঠনের যৌথ কর্মসূচী


২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের ৭ম জাতীয় সম্মেলন

posterrrr1-768x981

এক সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালদের পরিবর্তে আরেক সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালদের শাসন নয় সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, আমলা মুৎসুদ্দিপুঁজি বিরোধী শ্রমিক-কৃষক-জনগণের রাষ্ট্র, সংবিধান ও সরকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে অগ্রসর করুন।

রূপপুর, রামপালসহ সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে সম্পাদিত জাতীয় ও গণস্বার্থবিরোধী সকল চুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলুন

৭ম জাতীয় সম্মেলন
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
কাজি বশির মিলনায়তন (মহানগর নাট্যমঞ্চ), গুলিস্তান, ঢাকা।

সংগ্রামী বন্ধুগণ,
অভিনন্দন গ্রহণ করুন। জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এর সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিরাজ করছে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে চরম অস্থিরতা। এই অস্থিরতার মূল কারণ হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদী বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার ফলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ধস সৃষ্টি হয়েছে। সেই ধস থেকে উদ্ধার পেতে উদ্ধার, উদ্দীপকসহ বিভিন্ন ধরণের কর্মসূচি গ্রহণ করেও মন্দার পতনকে রোধ করা যাচ্ছে না। মন্দা যখন মহামন্দার দিকে ধাবিত হচ্ছে, তখন বাজার ও প্রভাব বলয় বিস্তার এবং শক্তি সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী শিবিরে আন্তঃদ্বন্দ্ব-সংঘাত, প্রতিযোগিতা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে এবং চলছে ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি। প্রাক-বিশ্বযুদ্ধ বা বিশ্বযুদ্ধের মহড়া হিসেবে আমরা প্রত্যক্ষ করছি বাণিজ্যযুদ্ধ, মুদ্রাযুদ্ধ, স্থানিকযুদ্ধ এবং আঞ্চলিকযুদ্ধ-যা প্রতিনিয়তই পৃথিবীর দেশে দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটে চলেছে। ফলে বিশ্বযুদ্ধের বিপদ ক্রমাগত ঘনীভূত হয়ে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। যার প্রভাব পড়ছে আমাদের দেশেও। বাংলাদেশ হচ্ছে নয়া ঔপনিবেশিক আধা সামন্তবাদী একটি দেশ। আমাদের দেশের সমস্যা-সংকট, দুঃখ-দুর্দশার জন্য দায়ী হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ, আমলা-দালালপুঁজির নির্মম শোষণ। আমাদের দেশে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও মার্কিনের দালাল নয়া ঔপনিবেশিক আধাসামন্তবাদী ভারতের প্রভাব থাকা সত্ত্বেও এখানে সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়া এবং পুঁজিবাদী চীনের প্রভাব ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। যার ফলে সরকারের ভূমিকার ক্ষেত্রে উভয় শক্তির সাথে আপাতদৃষ্টিতে সমঝোতা ও টানাপোড়েন দৃশ্যমান হলেও এখনও পর্যন্ত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রাধান্যই বজায় রয়েছে। এর পাশাপাশি ক্ষমতাপ্রত্যাশী বিএনপি’র নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আশীর্বাদ নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরিয়া। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও পুঁজিবাদী চীনও তাদের সাথে সম্পর্ক রাখছে। সাম্রাজ্যবাদের এই প্রভাব আন্তর্জাতিকভাবে শক্তিবিন্যাসের মধ্য দিয়ে যে কোন সময় পরিবর্তন ঘটাতে পারে। নানাভাবে এই প্রভাব বৃদ্ধির আঁচ পাওয়া যায়। রাশিয়ার সাথে অস্ত্রক্রয় চুক্তি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন চুক্তি, টিকফার আদলে চুক্তি, বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। যদিও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদও তার প্রভাবকে নিরঙ্কুশ রাখার স্বার্থে তার কার্যক্রমকে অব্যাহত রাখতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে মার্কিন নির্বাচনের একেবারে আগ মূহুর্তে দিয়ে জন কেরির উপমহাদেশ সফর। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথেও যৌথ অংশিদারিত্ব চুক্তি, সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতা চুক্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তি, যৌথ অংশিদারিত্ব সংলাপ, নিরাপত্তা বিষয়ক সংলাপ ইত্যাদিও কার্যকরি ও সচল রয়েছে।

সাথীরা,
একদিকে সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়া, পুঁজিবাদী চীন ও সাম্রাজ্যবাদের দালাল নয়াঔপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী ভারত সমর্থন দিয়ে চলেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকারকে। অন্যদিকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদসহ পশ্চিমের বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদীদের সমর্থন রয়েছে বিএনপি’র নেতৃত্বে গঠিত ২০দলীয় জোটের প্রতি। সাম্রাজ্যবাদীদের এই উলঙ্গ সমর্থন এবং প্রভাব বিস্তারের উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার কারণে আমাদের দেশে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ক্ষেত্রে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চলমান এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করে সরকার নির্মম স্বৈরাচারী রূপ পরিগ্রহ করে জনগণের ঘাড়ের উপর চেপে বসেছে।

শ্রমিক কৃষক জনগণের শ্রমে ঘামে যে উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয় তার সিংহভাগই লুটপাট করে নেয় সাম্রাজ্যবাদ ও তার এদেশীয় দালাল জোতদার-মহাজন, কমিশনভোগী ও দুর্নীতিবাজ আমলারা। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তাদের শীর্ষ নেতারাই এই লুটপাটের সাথে জড়িত থাকে। উন্নয়নের নামে চলতে থাকে লুটপাটের মহোৎসব। এই লুটপাট এখন মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে। স্বয়ং অর্থমন্ত্রী পর্যন্ত বলতে বাধ্য হয়েছেন, এখন পুকুরচুরি নয়, সাগর চুরি হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের টাকা লোপাট হয়ে যাচ্ছে। এক হলমার্কই সোনালী ব্যাংক থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লোপাট হয়ে গেছে ৮০০ কোটি টাকা।

কৃষক তার উৎপাদিত ফসল নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। যার ফলে ক্রমাগত মহাজন ও এনজিওসহ নানাভাবে ঋণের জালে আবদ্ধ কৃষক তার কৃষিকাজ পরিত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে। ঋণের দায় মিটাতে গিয়ে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হয়ে ক্রমশ ভূমিহীন কৃষকে পরিণত হচ্ছে। গ্রাম থেকে উচ্ছেদ হয়ে শহরের ভাসমান মানুষের দলে ভিড়ে দিনমজুরি করে কোন রকমে দিনাতিপাত করে চলেছে। এদেশে ভারী শিল্প (যন্ত্র-যন্ত্রাংশ উৎপাদন হয় এমন শিল্প) কোনো কালেই গড়ে উঠেনি। হালকা শিল্পক্ষেত্রের অবস্থা ক্রমাগত নাজুক হয়ে চলেছে। আমাদের দেশের উৎপাদিত কাঁচামাল অর্থাৎ কৃষিভিত্তিক শিল্প কলকারখানা বিশেষ করে পাট, রেয়ন, কাগজকল বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রামীণ তাঁতশিল্প অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন চিনি শিল্প বলে যে কলকারখানা চালু ছিল সেটিও বন্ধের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।

বৈদেশিক বাণিজ্যে চলছে ব্যাপক বাণিজ্য ঘাটতি। ফলে জনগণের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হয়ে যাচ্ছে। ওভার ইনভয়েসিং এর নামে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হয়ে যাচ্ছে। দেশীয় ব্যবসা বাণিজ্যের নামে চলছে সিন্ডিকেটের দাপট। উৎপাদক বঞ্চিত হচ্ছে ন্যায্য মূল্য থেকে, ভোক্তা ঠকছে উচ্চমূল্যে ভোগ্যপণ্য ক্রয় করে। পোয়াবারো মধ্যস্বত্বভোগী নামক সরকারি দলের বিভিন্ন সংগঠন ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের। একদিকে সরকার উপর্যুপরি বাড়িয়ে চলেছে গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের মূল্য; অন্যদিকে গাড়ি ভাড়া, বাড়ি ভাড়া বেড়ে চলেছে।

লগ্নিপুঁজি ও দালালপুঁজির স্বার্থে গড়ে ওঠা গার্মেন্টস শিল্পের অবস্থাও খুবই করুণ। এই শিল্পে কর্মরত লক্ষ লক্ষ শ্রমিক জীবনের ঝুঁকি মোকাবেলা করে কাজ করে যাচ্ছে। এখানে জীবনের নিরাপত্তা নেই। চাকুরির নিরাপত্তা নেই। সর্বোপরি নেই বাঁচার মতো কোন বেতন কাঠামো। নেই অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন করার স্বাধীনতা। অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগঠিত হবার অধিকার। কখনো কখনো বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা পথে নামলে তাদের ওপর নেমে আসে মধ্যযুগীয় পৈশাচিক নির্যাতন। কাজ করতে গিয়ে আগুনে পুড়ে, কারখানা চাপা পড়ে জীবন দিতে হয়। আবার ন্যায্য বেতনের অভাবে ক্ষুধার আগুনে নিত্য জ্বলতে হয় আর নিজের শ্রমের মূল্য চাইতে গেলে সইতে হয় নির্মম নিপীড়ন। এমনি এক দুর্বিষহ মানবেতর জীবন যাপন করছে এদেশের গার্মেন্টস শ্রমিক। এ শুধু গার্মেন্টস শ্রমিকের অবস্থা নয়, বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিকদের এটিই এখন বিধিলিপি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নৌযান শ্রমিক, হোটেল শ্রমিক, চা, পরিবহন, পাদুকা, বারকী, স’মিল, চাতাল, নির্মাণ শ্রমিক যেদিকেই তাকানো যাক না কেন সর্বত্রই একই অবস্থা বিরাজমান। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে চলছে হকার উচ্ছেদ। এরা যে শ্রমিক এই পরিচয়ে পরিচিত হবার যে ন্যূনতম শর্ত সেটিও আজ উপেক্ষিত। জীবনকে বাজী রেখে ভিটেমাটি বিক্রি করে যারা বিদেশ বিভুঁইয়ে গিয়ে অমানুষিক শ্রম করে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করে- সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে বিদেশে চাকরি খুইয়ে আত্মগোপনে থেকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। দেশে ফিরে আসতে হচ্ছে কপর্দকহীন অবস্থায়। নারীবাদের বিস্তার ঘটানো হলেও নারীদের উপরে অন্যায়-অত্যাচার, ব্যভিচার বন্ধে কার্যকরি কোন ব্যবস্থা নেই। নারীর মুক্তি যে সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামে নারী-পুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই কেবল সম্ভব সেই সত্যকে বিভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে।

প্রিয় সাথীরা,
শিক্ষা ক্ষেত্রের অবস্থা আরও ভয়াবহ। শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে। জিপিএ’র নামে চলছে এক মহাকেলেঙ্কারী। পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। শিক্ষা আজ আর অধিকার নয়। শিক্ষা এখন পণ্যে পরিণত হয়েছে। বাড়ছে ভ্যাটের চাপ। শিক্ষার বাণিজ্য এখন আর কোন অছ্যুৎ শব্দ নয়। যার টাকা আছে তারই শিক্ষা পাবার অধিকার আছে। স্বাস্থ্য এখন আর জনগণের বিষয় নয়, সেখানেও যার বিত্ত আছে তার স্বাস্থ্য পরিসেবা পাবার অধিকার আছে। সাংস্কৃতিক বিষয়ও আজ আর কোন পরিশীলিত বিষয় নয়, এটিও আজ বাণিজ্যের পসরায় রূপ নিয়েছে। অপসংস্কৃতির ছোবলে দেশ ক্ষতবিক্ষত, মাদকের কবলে পড়ে যুবসমাজ আজ ঝিমুচ্ছে। অন্যদিকে মধ্যযুগীয় পশ্চাদপদ, সাম্প্রদায়িক, অদৃষ্টবাদ কপালসর্বস্ব সংস্কৃতির ছোবলে আক্রান্ত হয়ে গোটা সমাজ ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে। দেশে যখন এই অবস্থা বিরাজমান তখন এরই মাঝে বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদ সৃষ্ট জঙ্গিবাদ নামক এক ছায়াশক্তির আবির্ভাব ঘটিয়ে জনগণের জানমালের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। যার থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়।

জনগণের ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকার বলে যা বোঝায়- বলতে গেলে তার বিন্দুমাত্র আর অবশিষ্ট নেই। বাক স্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা বলে কিছুই আজ আর থাকছে না। সারা দেশব্যাপী সরকার আর তার পেটোয়া বাহিনীর অত্যাচারে জনগণ দিশাহারা। জনগণের জানমালের কোনোই নিরাপত্তা নেই। প্রচলিত বিচারও আজ উপেক্ষিত। গুম, ক্রসফায়ার, এনকাউন্টার ইত্যাদির নামে চলছে নির্বিচারে মানুষ হত্যা। যেকোন মুহুর্তে যে কেউ নাই হয়ে যেতে পারে, এর জন্য সরকারকে কারও কাছে কোন জবাবদিহি করতে হবে না। এমনি এক বর্বর সমাজে আমরা আজ বসবাস করছি। সমাজে বর্বরতার বিস্তার এতই প্রকট যেখানে নৈতিক মানবিক মূল্যবোধ তলানিতে এসে ঠেকেছে।

সংগ্রামী সাথীরা,
সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালরা একদিকে জঙ্গিবাদ নামক জুজুর ভয়, অন্যদিকে উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মাদনা সৃষ্টি করে চলেছে। বর্তমান মহাজোট সরকার একের পর এক জাতীয় ও গণবিরোধী কার্যক্রম পরিচারলনা করে চলেছে। যার মধ্যে সুন্দরবনবিনাশী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও রয়েছে ভারতকে ট্রান্সশিপমেন্টের নামে করিডোর প্রদান। অথচ তিস্তার পানিবণ্টনের নামে মূলো ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। অন্যদিকে ভারত অভিন্ন নদীর পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহারের জন্য মরিয়া হয়ে বিভিন্ন বাঁধ-গ্রোয়েন নির্মাণ করে চলেছে। জনগণের ওপর বর্তমান সরকারের শোষণ নির্যাতন এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদসহ অন্যান্য সাম্রাজ্যাবাদের সাথে সম্পাদিত অসম জাতীয় ও গণস্বার্থবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে সরিয়ে নিতে বিভিন্ন সময়ে নন ইস্যুকে ইস্যু করা হচ্ছে। শ্রেণি শোষণকে ধামাচাপা দিতে জনগণের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কখনো কখনো ধর্মের নামে, কখনো সমতল-পাহাড়ির নামে। আবার স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ শক্তি, কখনো গণজাগরণ মঞ্চ, কখনো হেফাজতে ইসলাম আবার কখনো জঙ্গিবাদ নামক বিভিন্ন বিষয়ের অবতারণা করা হচ্ছে। জনগণের শোষণ বঞ্চনার জন্য দায়ী সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, আমলা, দালালপুঁজি ও তার পাহারাদার স্বৈরাচারী সরকার ও রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার নিশ্চয়তা বিধান করতে সাম্রাজ্যবাদ ও তার এ দেশীয় দালালদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান রচনার লড়াইকে এগিয়ে নিতে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের পতাকাতলে সমবেত হোন। সংগ্রামে সাহসী হোন। আমাদের বিজয় অনিবার্য।

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)
কেন্দ্রীয় কমিটি
কেন্দ্রীয় কার্যালয়: ৮ বি বি এভিনিউ (৩য় তলা) গুলিস্তান, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত। তারিখ: ২৫/০১/২০১৭।


রূপপুর পারমাণবিক ও রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বা‌তি‌লের দাবীতে ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’ এর বি‌ক্ষোভ মি‌ছিল ও সমা‌বেশ অনু‌ষ্ঠিত

বাংলাদেশঃ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

14690940_799164970225417_8790545713181782422_n

14724600_799166213558626_7691279777015262276_n

14680649_799151826893398_169598591000272777_n

রূপপুর পারমান‌বিক ও রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বা‌তি‌লের দা‌বি‌তে বি‌ক্ষোভ মি‌ছিল ও সমা‌বেশ অনু‌ষ্ঠিত

আজ ১৪ অ‌ক্টোবর ২০১৬ শুক্রবার বিকাল সা‌ড়ে ৪টায় জাতীয় গণতা‌ন্ত্রিক ফ্রন্টের দেশব্যা‌পি কর্মসূ‌চির অংশ হি‌সে‌বে জাতীয় প্রেস ক্লা‌বের সাম‌নে রূপপুর পারমান‌বিক ও রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বা‌তি‌লের দা‌বি‌তে বি‌ক্ষোভ মি‌ছিল ও সমা‌বেশ অনু‌ষ্ঠিত হয়। সংগঠ‌নের নেতা র‌মিজ উ‌দ্দি‌নের সভাপ‌তি‌ত্বে সমা‌বে‌শে বক্তব্য রা‌খেন সহসভাপ‌তি শ্যামল কুমার ভৌ‌মিক, সাধারণ সম্পাদক ব্রি‌গে: জেনা: (অব:) এম, জাহাঙ্গীর হুসাইন, সহসাধারণ সম্পাদক মো: ইয়া‌ছিন ও প্রকাশ দত্ত, প্রচার সম্পাদক র‌ফিকুল ইসলাম ও ঢাকা মহানগর ক‌মি‌টির সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান খান প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ ব‌লেন, মহা‌জোট সরকার ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী কর‌তে সাম্রাজ্যবাদী সকল শ‌ক্তির সা‌থে বি‌নি‌য়োগ চু‌ক্তিসহ সাম‌রিক বেসাম‌রিক চু‌ক্তি ক‌রে চ‌লে‌ছে। তারই আ‌লো‌কে রা‌শিয়ার ন্বা‌র্থে রূপপুর পারমান‌বিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বি‌ভিন্ন চু‌ক্তি ক‌রে অগ্রসর হ‌চ্ছে। অন্য‌দি‌কে আন্ত:সাম্রাজ্যবাদী দ্ব‌দ্বে সাম্রাজ্যবাদী শ‌ক্তিগু‌লো বিশ্ব বাজার বন্টন, পুনর্বন্টন নি‌য়ে যুদ্ধ প্রস্তু‌তি‌কে অগ্রসর কর‌তে গি‌য়ে এতদ্বাঞ্চ‌লে সাম্রাজ্যবাদের দালাল ভারত‌কে যুক্ত ক‌রে আ‌ধিপত্য বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ প্র‌তিষ্ঠা কর‌তে চায়। এমন এক প্রেক্ষাপ‌টে সাম্রাজ্যবা‌দের দালাল মহা‌জোট সরকার, দালাল ভার‌তের শাসক গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা ও খু‌শি কর‌তে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ ট্রান‌জিট, ট্রান্স‌শিপ‌মেন্ট চু‌ক্তি বাস্তবায়ন ক‌রে ক্ষমতায় টি‌কে থাক‌তে চায়। তাই রূপপুর ও রামপাল প্রকল্প দু‌টি প‌রি‌বেশ ও জনজীব‌নে ব্যাপক বিপর্য‌য়ের আশঙ্কার পরও সরকার চরম স্বৈরাচারী ম‌নোভাব নি‌য়ে প্রকল্প বাস্তবায়‌নের দি‌কে অগ্রসর হ‌চ্ছে। নেতৃবৃন্দ ব‌লেন, নয়াউপ‌নি‌বে‌শিক দেশগু‌লো প‌রিচা‌লিত হয় সাম্রাজ্যবাদী স্বা‌র্থে ও নি‌র্দে‌শে। বাংলা‌দে‌শের মত নয়াউপ‌নি‌বে‌শিক দে‌শে গৃ‌হিত কোন প্রকল্পই জাতীয় ও জনস্বার্থ রক্ষা কর‌তে পা‌রে না। আজ তাই প্র‌য়োজন রূপপুর ও রামপালসহ সক‌ল জাতীয় ও জনস্বার্থ বি‌রোধী ভূ‌মিকার বিরু‌দ্ধে সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল বি‌রোধী শ‌ক্তির ঐক্য গ‌ড়ে তু‌লে শ্র‌মিক কৃষক জনগ‌ণের রাষ্ট্র, সরকার ও সং‌বিধান প্র‌তিষ্ঠার ল‌ক্ষ্যে অগ্রসর হওয়া।

বার্তা প্রেরক

প্রকাশ দত্ত

সহসাধারণ সম্পাদক

০১৯২৪০৪৮১৯৩

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মোহাম্মদের প্রাণ নাশের হুমকির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডাঃ এম.এ করিম ও সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেঃ জেনাঃ (অবঃ) এম. জাহাঙ্গীর হুসাইন এক যুক্ত বিবৃতিতে অধ্যাপক আনু মোহাম্মদের প্রাণনাশের হুমকির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সরকার মুখে আইন শৃঙ্খলার উন্নতির কথা বললেও কার্যত মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা নেই বললেই চলে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হুমকিদাতাদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, অধ্যাপক আনু মোহাম্মদের ওপর হুমকি কোন ব্যক্তিগত বিষয় নয় এটি আন্দোলনরত প্রতিবাদকারী শক্তি, ব্যক্তি ও গোষ্ঠির ওপর হুমকি। আজ তাই প্রয়োজন দেশপ্রেমিক শক্তি, ব্যক্তি ও গোষ্ঠির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন।

বার্তা প্রেরক
প্রকাশ দত্ত
সহ-সম্পাদক
মোবাঃ ০১৯২৪-০৪৮১৩৯


বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির ১১তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত

12923380_705590282916220_7157117208663428287_n

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

তারিখঃ ০৯/০৪/২০১৬

“সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালদের উচ্ছেদের সংগ্রামই হচ্ছে কৃষি বিপ্লব তথা শ্রমিক কৃষক জনগণের মুক্তির সংগ্রাম” – ডা.এম এ করিম

নয়া-উপনিবেশিক আধা-সামন্তবাদী বাংলাদেশে শ্রমিক কৃষক জনগণের শত্রু হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালরা। এদের উচ্ছেদের সংগ্রামই হচ্ছে শ্রমিক কৃষক জনগণের মুক্তির সংগ্রাম। বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির ১১তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ’র সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবিদ ডা.এম এ করিম এসব কথা বলেন।

কৃষক সমাজের ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলনকে জোরদার করার লক্ষ্যে আজ ৯ এপ্রিল ২০১৬ শনিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির ১১তম জাতীয় সম্মেলন’১৬ ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি শ্যামল কুমার ভৌমিক এর সভাপতিত্বে দিনব্যাপী সম্মেলনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির ।

সম্মেলনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) এম জাহাঙ্গীর হোসাইন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী মনসুর হাবীব ও এনডিএফ’র সাবেক নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী ই.ইউ শহীদুল ইসলাম শাহীন প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ, বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ভুঁইয়া, বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, জাতীয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-আহ্বায়ক তৌফিক হাসান পাপ্পু প্রমুখ। সম্মেলনে অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, কৃষক সমাজের ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলনকে জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে ভর্তুকি প্রদান পূর্বক নামমাত্র মূল্যে সার ডিজেল, কীটনাশকসহ সকল কৃষি উপকরণের সরবরাহ, সার, বীজ, কীটনাশকে ভেজাল প্রতিরোধসহ জরুরী জাতীয় সমস্যা সমাধানে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। সম্মেলনে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে এলাকাবাসীর সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারার উপকূলীয় এলাকায় এস. আলম গ্রুপ ও চায়না সেফকো কোম্পানীর যৌথ উদ্যোগে কলয়া ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যার পরিণতিতে সোমবারের এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন হলে এলাকার কৃষিজমি, জনবসতি, লবণ ও পাশ্ববর্তী মৎস্য অভয়ারন্য বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে। নেতৃবৃন্দ ১০ হাজার মৎসজীবী ও ১৪ হাজার লবন চাষীর সরাসরি জীবিকা ধ্বংসকারী জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী দেশী-বিদেশী লুটেরা গোষ্ঠির স্বার্থের এই প্রকল্প বাতিল করার দাবি জানান। একই সাথে গত সোমবারের সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি করেন। সম্মেলন সিলেটের কালাগুল এলাকায় ভূমিহীন দরিদ্র কৃষকদের খাস জমি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চক্রান্ত রুখে চা শ্রমিক নেতা জয় মাহার্ত্য কুর্মিসহ আন্দোলনরত শ্রমিক কৃষক জনগণের ওপর পুলিশি নির্যাতন বন্ধ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন অগ্রসর করার আহ্বান জানানো হয়।

সম্মেলনের উদ্ভোধনী পর্ব শেষে সাধারণ সম্পাদক লিখিত সম্পাদকীয় রিপোর্ট উপস্থাপন করেন । রিপোর্টের ওপর আলোচনা করেন কেন্দ্রীয় কৃষক নেতা খায়রুল বসর ঠাকুর খান, ইয়াকুব আলী, আলাউদ্দিন ওমর, নিবিড় কান্তি বিশ্বাস মিঠু, ডাঃ আব্দুল খালেক লস্কর প্রমুখ নেতৃবৃন্দ ।
সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে শ্যামল কুমার ভৌমিককে সভাপতি, শাহজাহান কবিরকে সাধারণ সম্পাদক ও বি.এম. শামীমুল হককে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয় । নব-নির্বাচিত কমিটিকে শপথ পাঠ করান ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম। সবশেষে সম্মেলনের সভাপতি শ্যামল ভৌমিক তাঁর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন ।

বার্তা প্রেরক

(শাহজাহান কবির)
সাধারণ সম্পাদক
মোবাঃ ০১৭১২-০৫৮২৪৫।

12931244_705589956249586_5336577741894071002_n

12961702_705590169582898_2652340020967863511_n

12923232_705590306249551_7953336537243481247_n


বাঁশখালীতে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় NDF এর নিন্দা ও ক্ষোভ

somrajjo-p-400x208

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

তারিখঃ ৭/৪/২০১৬

বাঁশখালীতে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় NDF-এনডিএফ’র নিন্দা ও ক্ষোভ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে এলাকাবাসীর সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এক যুক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ’র সভাপতি ডা. এম এ করিম ও সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) এম জাহাঙ্গীর হোসাইন। নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারার উপকূলীয় এলাকায় এস. আলম গ্রুপ ও চায়না সেফকো কোম্পানীর যৌথ উদ্যোগে কলয়া ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যার পরিণতিতে সোমবারের এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন হলে এলাকার কৃষিজমি, জনবসতি, লবন ও পাশ্ববর্তী মৎস্য অভয়ারন্য বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে। নেতৃবৃন্দ ১০ হাজার মৎসজীবী ও ১৪ হাজার লবন চাষীর সরাসরি জীবিকা ধ্বংসকারী জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী দেশী-বিদেশী লুটেরা গোষ্ঠির স্বার্থের এই প্রকল্প বাতিল করার দাবি জানান। একই সাথে গত সোমবারের সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি করেন।

বার্তা প্রেরক
প্রকাশ দত্ত
সহ-সাধারণ সম্পাদক
মোবাইলঃ ০১৯২৪-০৪৮১৩৯


বাংলাদেশঃ জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রেস বিজ্ঞপ্তি

12122667_631170290358220_2918040289454810695_n

তারিখঃ ০৬/১০/২০১৫ইং

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

মালিক গোষ্ঠির স্বার্থে সরকারের পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির গণ বিরোধী ভূমিকার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলুন।

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টে কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আজ বিকাল ০৫টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি, গ্যাস, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, প্রশ্নপত্র ফাঁস সহ সকল জনস্বার্থ ও গণ বিরোধী ভূমিকার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহব্বান জানিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান খান। বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শ্যামল কুমার ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেঃ জেঃ (অব) এম জাহাঙ্গীর হোসাইন, সহ সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসিন, বাংলাদেশ হোটেল রেষ্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আখতারুজ্জামান খান। পরিচালনা করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সহ সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত। নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের স্বার্থ উপেক্ষা করে পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি, গ্যাস বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সহ একের পর এক জন স্বার্থে বিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলায় মানুষের জীবন জীবিকার সংকট তীব্র হচ্ছে। তার পরও সরকার উন্নয়নের গাল ভরা বুলি আওড়াচ্ছে। অপর দিকে প্রভু সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষা করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় সন্ত্রাস সর্বাত্মক করছে। আজ ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকার ও ক্ষমতা প্রত্যাশী বিএনপি নেতৃত্রে ১৪ দলীয় জোট উভয়েই আজ ষড়যন্ত্র- চক্রান্তের মাধ্যমে লক্ষ্য হাসিল করতে চায়। আজ তাই প্রয়োজন শ্রমিক কৃষক জনগনের রাষ্ট্র সরকার সংবিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সা¤্রাজ্যবাদ ও তার দালালদের উচ্ছেদের লক্ষ্যে সংগ্রাম বেগবান করা।

বার্তা প্রেরক
প্রকাশ দত্ত
সহ সাধারণ সম্পাদক