বাংলাদেশের গণযুদ্ধে শহীদ কমরেড ‘জয়দেব’

কমরেড জয়দেব

কমরেড জয়দেব

কালিগঞ্জ/খুলনা

কমরেড জয়দেব বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী ছিলেন। ’৭৩-’৭৪ সালে সিরাজ সিকদারের পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির নেতৃত্বে দেশব্যাপী সশস্ত্র সংগ্রামের প্রভাবে তিনি সর্বহারা পার্টিতে যুক্ত হন। যোগদানের পর থেকেই পার্টির নেতৃত্বাধীন সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ভুমিকা রাখেন।

সিরাজ সিকদার শহীদ হওয়ার পর জয়দেব সর্বহারা পার্টি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।  কিন্তু বিচ্ছিন্ন অবস্থায়ও তিনি পার্টির বিপ্লবী রাজনীতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতেন এবং বিপ্লবী রাজনীতির প্রতি অত্যন্ত বলিষ্ঠ ছিলেন। এ সময়ে প্রকাশ্যভাবে তিনি ইউপিপি’র ব্যানারে কাজ করতেন। এই পর্যায়ে জয়দেব গ্রেফতার হন।

জেলখানার বন্দীদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে জয়দেব আপোষহীন ভূমিকা রাখেন। ৮০ সালে রাজশাহী-খুলনা-ঢাকা সহ সারা দেশের জেলখানাগুলোতে দ্রুত বিচার নিস্পত্তি, খাবারের মান উন্নত, পরিবেশের উন্নয়ন, কুখ্যাত ব্রিটিশ জেল কোড বাতিল প্রভৃতি দাবীতে ব্যপক আন্দোলন গড়ে উঠে।

খুলনায় জেল আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে জয়দেব ছিলেন অন্যতম। দাবী আদায়ের জন্যে খুলনা জেলের সকল বন্দীরা অনশন ধর্মঘট করলেও গণতন্ত্রের গলাবাজীওয়ালা বিএনপি’র জিয়াউর রহমান সরকার বন্দিদের সাথে কোন আলোচনা না করে দমন-নির্যাতন চালাতে থাকে। এ অবস্থায় বন্দীরা সরকারকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার জন্য ২৪জন জেল কর্মচারীকে বন্দী হিসেবে আটক করেন।  বন্দীরা বিএনপি সরকারের প্রতিনিধিসহ বিরোধী দলের নেতাদের সাথে আলোচনার প্রস্তাব দেন। কিন্তু বিরোধী দলসহ সরকার এই আলোচনার প্রস্তাবকে অগ্রাহ্য করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফিজুর রহমান(খালেদা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী)- এর উপস্থিতিতে ২১শে অক্টোবর রাতে জেলখানায় হামলা করে নারকীয় গণহত্যা সংগঠিত করে। পরের দিন সরকারী প্রেস নোটে ৪০জন বন্দির হত্যার কথা বলা হলেও বেসরকারি মতে ২-৩শ বন্দীকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, খুলনা জেল সরকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর পুরো জেলখানা তল্লাশি করে বিপ্লবী জয়দেবকে ধরে এনে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়। এই জেল হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশের জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বন্দিদের প্রতিরোধের নেতা জয়দেব আগামী বিপ্লবীদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

Advertisements