তিউনিশিয়ায় চাকরীর দাবিতে বিক্ষোভ, তুমুল সংঘর্ষ, নিহত পুলিশ

y

তিউনিশিয়ায় চাকরির দাবিতে ডাকা বিক্ষোভে সমাবেশে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের তুমুল সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে বিক্ষোভকারীদের হামলায় অন্তত একজন পুলিশ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

বুধবার উত্তর আমেরিকার দেশ তিউনিশিয়ার কাজারেইন শহর যেন পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। দেশটির বেকারত্বের হার ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় জনগণ বিক্ষোভ সমাবেশ ডাকলে মঙ্গলবার কারফিউ জারি করা হয়। বুধবার কারফিউ উপেক্ষা করেই বিক্ষোভকারীরা প্রতিবাদ জানায় এবং পুলিশ স্টেশনে হামলা চালায়। এ ঘটনার পর পুলিশের তাদের তুমুল সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ছুড়ে পুলিশ।

z

এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা আমাদের কাজের অধিকার রক্ষা করার চেষ্টা করছি। এটাই এখন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের একমাত্র উপায়। আমরা পাঁচ বছর ধরে আমাদের দাবির বিষয়টি জানিয়ে আসছি কিন্তু তারা কোনো সারা দেননি।’

গত মঙ্গলবার বেকারত্বের কারণে তিউনিসিয়ার এক তরুণ আত্মহত্যা করার ২ দিন পর পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ কাজারেইনে চাকরির দাবিতে আন্দোলনরত বিক্ষুদ্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।

আরব বসন্তের সূতিকাগার তিউনিসিয়ার কাজারেইন প্রদেশের রাজধানীতে মঙ্গলবার বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বলে তিউনিসিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ট্যাপ জানিয়েছে।

সংঘর্ষে ৩ পুলিশসহ কমপক্ষে ২৩ জন আহত হয়েছেন বলে ট্যাপ জানিয়েছে। আহতরা অধিকাংশ টিয়ার গ্যাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে বুধবার ভোর ৫ টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে।

x

গত রবিবার কাজারেইন প্রদেশের রিদা ইয়াউয়ি নামের এক তরুণ চাকরিপ্রার্থী সম্ভাব্য সরকারি চাকরি প্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকায় নিজের নাম না থাকার হতাশায় আত্মহত্যা করে।

ইয়াউয়ি একটি বৈদ্যুতিক খাম্বায় উঠে নিজেকে শেষ করার হুমকি দেয়। এরপর খাম্বার বিদ্যুৎ পরিবাহী তারে নিজের শরীর জড়িয়ে আত্মহত্যা করে। সরকার ইয়াউয়ির আত্মহত্যার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

কাসেরিন শহরটি আলজেরিয়া সীমান্তের নিকট জেবেল ইক চাম্বি পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে তিউনিসিয়ায় বেকারত্বের হার প্রায় ১৫.৩%। ২০১১ সালে আরব বসন্তের পর এ হার ছিল ১৬.৭%। কিন্তু বিপ্লব পূর্ববর্তী সময়ে তিউনিসিয়ার বেকারত্বের হার ছিল মাত্র ১৩%।

আরব বসন্তের ফলে তিউনিসিয়ার রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তন আসলেও জনসাধারণের ভাগ্যের খুব একটা পরিবর্তন ঘটেনি। চাকরির দাবিতে তরুণের আত্মহত্যা তিউনিসিয়ার জনগণকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত তিউনিসিয়ার জনগণ আবারো নিজেদের অধিকার আদায়ে সহিংস হয়ে উঠেছে। আবারো বিক্ষোভে উত্তাল আফ্রিকার দেশটি।

সূত্র: আলজাজিরা


আন্তর্জাতিক সভা ২০১৫তে তিউনিসিয়ার Kahédin পার্টি

t1larg.tunisia.riots_.gi_

প্রিয় কমরেডগণ,

banlieuesসর্বহারা বিপ্লবের বিদ্রোহ” এই শ্লোগানে আপনাদের আন্তর্জাতিক সভাকে আমরা শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং আমরা গুরুত্বের সাথে জানাচ্ছি, তিউনিসিয়ার Kahédin পার্টি – বেকারত্ব, শোষণ ও পুলিশের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী নিপীড়িত তরুণদের বিপ্লবী সংগ্রামকে সমর্থন করছে। এই সংগ্রাম শুধুমাত্র ইউরোপে নয়, বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রেও ছড়িয়ে পড়েছে, যা সার্বজনীন বিপ্লবের দাবানল ছড়িয়ে দিতে একটি স্ফুলিঙ্গ হয়ে উঠতে পারে, তাই আমাদের এই সংগ্রামকে সংগঠিত ও শক্তিশালী করে তুলতে হবে। আমরা আপনাদের সভার শুভ কামনা করছি এবং আপনারা/কমরেডদের পাশাপাশি বলছি, শোষণ, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও সন্ত্রাসকে পরাজিত করতে বিপ্লবী পথ ছাড়া আর কোন পথ নেই।

বিদ্রোহ করা ন্যায়সঙ্গত !

সাম্রাজ্যবাদ ও প্রতিক্রিয়া নিপাত যাক !

সর্বহারা শ্রেণী ও নিপীড়িত জনগণের বিপ্লবী সংগ্রাম জিন্দাবাদ !

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.signalfire.org/2016/01/06/kadehin-party-of-tunisia-at-2015-international-meeting/