নকশালবাড়িকে সামনে রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফের সক্রিয় মাওবাদীরা

সূত্রের খবর, সিপিআই (মাওবাদী)’র পূর্বাঞ্চলীয় ব্যুরো এবং কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশিত একটি পুস্তিকা পড়ুয়া এবং অধ্যাপকদের মধ্যে গোপনে বিলি হচ্ছে।

image

রাজ্যের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৎপরতা বাড়াতে শুরু করেছে মাওবাদীরা। নকশালবাড়ি আন্দোলনের ৫০ বছর পূর্তিকে উপলক্ষ করে সক্রিয় হয়ে উঠছে ওই অতি বামপন্থী সংগঠনটি।

সূত্রের খবর, সিপিআই (মাওবাদী)’র পূর্বাঞ্চলীয় ব্যুরো এবং কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশিত একটি পুস্তিকা পড়ুয়া এবং অধ্যাপকদের মধ্যে গোপনে বিলি হচ্ছে। নকশালবাড়ি আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে সশস্ত্র সংগ্রাম শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে ওই পুস্তিকায়। যাদবপুরের এক অধ্যাপকের কথায়, ‘‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া-অধ্যাপকদের অধিকাংশই বামপন্থী। নকশালবাড়ি আন্দোলনের প্রতি তাঁদের আবেগও রয়েছে। সম্ভবত মাওবাদীরা সেই আবেগকে হাতিয়ার করতে চাইছে।’’

১৯৬৭ সালের ২৫ মে দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়িতে কৃষকদের উপর গুলি চালনার প্রতিবাদে চারু মজুমদার, কানু সান্যালদের নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল নকশাল আন্দোলন। ওই আন্দোলনের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে সিপিআই(মাওবাদী) ২৪ পৃষ্ঠার ওই পুস্তিকা প্রকাশ করেছে। ওই পুস্তিকায় ছ’টি অধ্যায় রয়েছে। সূত্রের খবর, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, একাধিক মেডিক্যাল কলেজ-সহ রাজ্যের বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুস্তিকাটি বিলি করা হচ্ছে। যেহেতু পুস্তিকাটি সিপিআই(মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটি প্রকাশ করেছে, তাই সরাসরি রাজ্য রাজনীতির প্রসঙ্গ সেখানে নেই।
সূত্রের খবর, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি অত্যন্ত সন্তর্পণে পুস্তিকাটি ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এক ছাত্রনেতার কথায়, ‘‘তৃণমূল সরকার রাজনৈতিক বিরোধীদের সঙ্গে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করছে। ভাঙড়ের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ দেওয়া হচ্ছে। তাই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।’’ সূত্রের খবর, যাদবপুর এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশের মধ্যে এখনও মাওবাদীদের সমর্থন রয়েছে। সম্প্রতি প্রয়াত মাওবাদী নেতা হিমাদ্রি সেনরায় (সোমেন) এবং নারায়ণ সান্যালের শেষযাত্রায় বেশ কিছু ক্যাম্পাসের ছাত্রছাত্রীরা সামিল হয়েছিলেন। তবে রাজ্যের মাওবাদী সমর্থক পড়ুয়ারা এখন দু’টি গোষ্ঠীতে বিভক্ত।

বাম আমলের শেষের দিকে যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি-সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শক্ত সংগঠন তৈরি করেছিলেন মাওবাদীরা। ছাত্রছাত্রীদের একাংশ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে লালগড় তথা জঙ্গলমহলে অধুনা জেলবন্দি ছত্রধর মাহাতোর নেতৃত্বাধীন পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটির আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূল আমলে দলের শীর্ষ নেতা কোটেশ্বর রাও বা কিষান’জির মৃত্যু এবং কলকাতা সিটি কমিটি ও রাজ্য কমিটির একাধিক নেতা ধরা পড়ায় ক্যাম্পাসগুলিতে মাওবাদীদের কার্যকলাপ ধাক্কা খেয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নকশালবাড়ির ৫০তম বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সক্রিয়তা বাড়াচ্ছেন তাঁরা।

সূত্রঃ https://ebela.in/state/maoists-started-their-activities-at-educational-institutions-1.611300


নকশালবাড়ি বিদ্রোহের ৪০ বছর (ভিডিও)

ভারতের গণযুদ্ধকে সমর্থন করুন !!!


কলকাতাঃ নকশালপন্থী সংগঠন Radical/র‍্যাডিক্যাল এর কিছু কথা, কিছু ভাবনা, কিছু প্রশ্ন

stabilityami

প্রাথমিক এই বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করেই র‍্যাডিক্যাল তার চর্চা, আলোচনা ও কাজের পরিসরকে কেন্দ্রীভূত করতে চায়। আলোচনার মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসা সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে কি কি কাজ করা যেতে পারে ও কিভাবে মানুষের কাজে লাগা যেতে পারে তাও আলোচনার মধ্য দিয়েই স্থির করার পক্ষে র‍্যাডিক্যাল-এর বন্ধুরা।

একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে র‍্যাডিক্যালের এই ভাবনার সাথে যারা সহমত পোষণ করেন বা করেন না, তাদের প্রত্যেককেই আমাদের আমন্ত্রণ রইল। সহযোগিতার মনোভাব থেকে মতামত দিন এবং মতামত দিয়ে সহযোগিতা করুন। আর যুক্ত হন আমাদের সাথে।

মাটিতো আগুনের মতোই হবে/যদি তুমি ফসল ফলাতে না জানো/যদি তুমি বৃষ্টি আনার মন্ত্র ভুলে যাও/তোমার স্বদেশ তবে মরুভূমি/তুমি মাটির দিকে তাকাও/মাটি প্রতিক্ষা করছে/তুমি মানুষের হাত ধরো/সে কিছু বলতে চায়… ‘ 

র‍্যাডিক্যালের কিছু কথা, কিছু ভাবনা, কিছু প্রশ্ন সম্পর্কে জানতে নীচে ক্লিক করুন

Radical 


ভারত/পশ্চিমবঙ্গঃ কমরেড চারু মজুমদারের শহীদ দিবস: বনধের ডাক

strike-balurghat

বালুরঘাট: প্রতি বছরের মত এবারও ২৮ জুলাই বালুরঘাটে পালিত হচ্ছে কমরেড চারু মজুমদারের শহীদ দিবস। নকশাল নেতা কমরেড চারু মজুমদারের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য এবছরও বনধের ডাক দিয়েছে সিপিআইএমএল(সেকেন্ড-সিসি)। তবে বাসিন্দাদের মুখে প্রয়াত নেতার নাম ও তাঁর আন্দোলনের কথা শোনা গেলেও বনধের বিশেষ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। হাতে গোনা কয়েকটি বড় দোকান এদিন বন্ধ থাকলেও বাজারহাট ও ছোট-মাঝারি মাপের প্রতিষ্ঠানগুলি খোলাই রয়েছে। জেলার মধ্যে রুটগুলিতে বেসরকারি বাস-মিনিবাস ও ট্রেকার মালিকরা তাদের গাড়ি বের করেননি। তবে সরকারি বাসগুলি অন্যান্য দিনের মতই চলেছে।

চারু মজুমদারের জন্ম রাজশাহী জেলার হাগুরিয়া গ্রামে। পৈতৃক নিবাস ছিল শিলিগুড়িতে। শিলিগুড়ি বালক হাই স্কুল থেকে ১৯৩৩ সালে মেট্রিক পাস করেন। পরে পাবনা এডয়ার্ড কলেজে আই এ ক্লাসে ভর্তি হন। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার আগে সাম্যবাদী ধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে লেখাপড়া ত্যাগ করে জলপাইগুড়ি জেলায় তেভাগা আন্দোলনে যোগদান করেন। ১৯৩৬ সালে তাঁর কর্মক্ষেত্র ছিলো জলপাইগুড়ি জেলা। ব্রিটিশ শাসনকালে ছয় বছর আত্মগোপন অবস্থায় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন। সেই সময়ই তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেছিলেন। ১৯৪২ সালে জলপাইগুড়িতে গ্রেফতার হয়ে দুই বছর কারাবাসের পর ১৯৪৪-এ মুক্তিলাভ করেন। তার পর উত্তরবঙ্গে চা-বাগান শ্রমিকদের সংগঠিত করার কাজে আত্মনিয়োগ। ১৯৪৮-এর ২৬ মার্চ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি বেআইনি ঘোষিত হলে নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার। ১৯৫৭-তে নকশালবাড়ির কেষ্টপুরে চা-বাগিচার মালিকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার অভিযোগে গ্রেফতার হন।  ১৯৬২-তে চিন-ভারত যুদ্ধের সময়ে ভারত রক্ষা আইনে গ্রেফতার। ১৯৬৩-তে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে শিলিগুড়ি কেন্দ্র থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভার উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৬৫-তে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় গ্রেফতার। একই বছর মুক্তিলাভের পর সিপিআই (এম)-এর নামে একটি বিশেষ ঘোষণাপত্র প্রকাশ। সিপিআই (এম) নেতৃবৃন্দ কর্তৃক একে দল বিরোধী আখ্যা দেয় । পরে অবশ্য দল তা প্রত্যাহারও করে নিয়েছিল।

কমরেড চারু মজুমদার

কমরেড চারু মজুমদার

পশ্চিমবঙ্গ বিধান পরিষদের নির্বাচনে (১৯৬৭) কংগ্রেসকে পরাজিত করে বামফ্রন্ট জয়ী হলে সিপিআই (এম)-এর বামফ্রন্ট সরকারে যোগদানের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সিপিআই (এম)-এর সংগে তিনি সম্পর্ক ত্যাগ করেন। কানু স্যান্যালের নেতৃত্বে দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ি এলাকায় সশস্ত্র কৃষক বিদ্রোহ সংগঠিত করেন। কৃষকদের জমির মালিকানার দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সেই সশস্ত্র আন্দোলন সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তরাঞ্চল, কেরালা ও পূর্ব উড়িষ্যায় ব্যাপকভাবে বিস্তারলাভ করেছিল। ১৯৬৮-তে কানু সান্যাল, জঙ্গল সাঁওতাল, নাগি রেড্ডি প্রমুখের সহযোগিতায় তিনি কমিউনিস্ট কনসোলিডেশন গঠন করছিলেন। ১৯৬৯সালের ১ মে কলকাতা ময়দানে সিপিআই (এমএল) গঠনের কথা ঘোষণা। চারু মজুমদার এ দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। এর পরেই আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি সারা ভারতে একজন বিপ্লবী নেতারূপে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর পরিচালিত আন্দোলনই নকশাল আন্দোলন নামে খ্যাত। ভারত সরকার তাঁর বিরুদ্ধে খতম পরিচালনা ও সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার অভিযোগ এনে তাঁর উপর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এর পর বেশ কয়েক বছর তিনি আণ্ডারগ্রাউন্ডে ছিলেন। ১৯৭২-এর ১৬ জুলাই কলকাতার এন্টালী রোডের এক বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৮ জুলাই পুলিশী হেফাজতে তাকে হত্যা করে, হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি ভাবে ঘোষণা করা হয়।

সূত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/charu-majumdar.html