প্রতিদিন কমরেড সিরাজ সিকদারের কবিতা- (১৮) ‘সন্ধ্যা’

poster, siraj sikder, 17 X 22 inch, 2 colour, 2005

সন্ধ্যা

জলে ভরা মাঠ-

ডুবে যাওয়া পাটের মাথা

ঝোপ-ঝাড় কচুরিপানা।

কালো জলে-

শাখা-পাতা-গুঁড়ির ছায়া মিলে

সন্ধ্যার অন্ধকারে

রহস্য গড়েছে।

ওপারে গ্রামগুলো

কালো বনের রেখা-

তারপরে শেষ সূর্যচ্ছটায়

রঙীন আকাশ।

শোঁ-শোঁ-শন-শন

দখিনা বাতাস।

গুরু গুরু মেঘের ডাক।

ব্যস্ত গৃহিনীরা

পাট তোলে ঘরে-

ছোট্ট মেয়েরাও কি কর্মব্যস্ত-

প্রাণভরা জীবনের ছবি।

আম-কাঁঠালের সারি

কুমড়োর ঝাঁকা-

ঘরের ছায়া

ত্বরায় ডেকে আনে

সন্ধ্যার অন্ধকার।

ক্লান্ত গৃহিনীরা

রাতের আহার যোগায়-

বেড়ার খোলা পাকের ঘরে

রুটি বেলা আর সেঁকা-

কাঠের চুলো-

পাতার আগুন

ধোঁয়ায় ভরা।

তবুও তারা কষ্ট করে যায়।

আসন্ন মুক্তির সংগ্রামে

কষ্টের শোধ তারা তুলবেই-

সুখময় জীবন তারা গড়বেই।

 


প্রতিদিন কমরেড সিরাজ সিকদারের কবিতা- (১৭) ‘নাট্যমঞ্চ’

poster, siraj sikder, 17 X 22 inch, 2 colour, 2005

নাট্যমঞ্চ

পূর্ববাংলা একটি নাট্যমঞ্চ!

দর্শক  জনতা।

সত্যিকার নায়কের আশায় উন্মুখ!

তারাও নায়কের সাথে

অংশ নেবে নাটকে

দুনিয়া আর সমাজকে পাল্টাবে।

নাটকটি তিন অংকের।

প্রথম অংক-

সাতচল্লিশ থেকে একাত্তর

চব্বিশ বছর।

প্রথম দৃশ্য-

দুর্দান্ত-প্রতাপ

পাক-সামরিক দস্যুদের

হুংকার লম্ফঝম্প

নির্মম শোষণ লুণ্ঠন

তার সাথে আওয়ামী লীগের

বড় বড় বুলি আর রণধ্বনি।

বিভিন্ন আকৃতির সংশোধনবাদী

কুকুরগুলো পা-চাটা

আর ঘেউ ঘেউ।

নাটক জমে ওঠে।

তৃতীয় দৃশ্যে শিশুর প্রবেশ-

হাতে রক্ত পতাকা-

দৃঢ় পদক্ষেপ!

পাক-সামরিক দস্যুদের চরম হামলা।

আওয়ামী লীগের পলায়ন।

এর মাঝে শিশুর লড়াই-

স্ফুলিঙ্গ দাবানল জ্বালে;

অভিজ্ঞতা আর শক্তির সঞ্চয়।

ভারতের আগমন-

শিশুকে হত্যার চক্রান্ত,

পাকিস্তানের পরাজয়

পূর্ববাংলা ভারতের উপনিবেশ।

প্রথম অংক

এই ভাবে হলো শেষ।

দ্বিতীয় অংকের শুরু।

জনগণের কঠোর উপলব্ধি-

বৃথা হলো তাদের রক্তপাত।

ক্রোধে তারা ফেটে পড়ে-

রক্তের শোধ তারা তুলবেই।

বিশ্বাসঘাতকদের তারা খতম করবেই।

সরল স্মিত-হাসি শিশু-

কৈশোরে পৌঁছায়।

সংশোধনবাদী কুকুরগুলো

নিজেদের মাঝে কামড়া-কামড়ি করে।

কিশোরের পদাঘাতে তারা

ছিটকে পড়ে ড্রেনে।

আওয়ামী লীগের নায়কের বেশ খসে পড়ে-

পাক-দস্যুর মত ভিলেন বেরোয়।

জনগণ তাকে মার মার বলে তেড়ে আসে।

কিশোর দ্রুত যুবকের বয়সে পৌঁছায়

জনগণ তাকেই নায়কে বরণ করে।

দ্বিতীয় অংকের গতি দ্রুততর।

তৃতীয় অংক সমাগত প্রায়।

নায়কের সাথে জনগণ

আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্টদের

তমের দুর্বার সংগ্রাম চালায়।

গড়ে ওঠে ঘাঁটি এলাকা

বিস্তীর্ণ গেরিলা অঞ্চল।

এভাবে দ্বিতীয় অংকের

হলো অবসান।

তৃতীয় অংক-

গণযুদ্ধের রোমাঞ্চকর দৃশ্য।

যুবক, নায়ক, জনগণ

আর শত্রু-

ঘেরাও দমন-পাল্টা ঘেরাও দমন,

গণযুদ্ধের চমৎকার খেলা।

প্যাঁচে প্যাঁচে ফ্যাসিস্টরা খতম।

সচল যুদ্ধ, ঘেরাও যুদ্ধ, অবস্থান যুদ্ধ

কামান-বন্দুক-ট্যাংক।

কী রোমাঞ্চকর, অদ্ভুত শিহরণ!

বিশ্বজনগণেরও দৃষ্টি টানে।

গ্রাম দখল, শহর ঘেরাও

অবশেষে শহর দখল।

যুবক আর জনগণের মহান বিজয়

সমাপ্ত হলো তৃতীয় অংক।

অবশেষে পূর্ববাংলা হলো মুক্ত।

(শিশু হচ্ছে অনভিজ্ঞ সর্বহারা বিপ্লবীরা যারা প্রথম সংগঠিত হয় পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলনে। কিশোর, যুবক হচ্ছে পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি)