ব্যালট যুদ্ধের উপর লাল ছায়া

b

একজন সিনিয়র মাওবাদী নেতা বলেছেন, তার দল বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন বয়কট করবে।  এর ফলে কমিউনিস্ট প্রভাবিত এলাকায় সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।

পাটনা থেকে ২০০ কিমি দূরে কাইমুর মালভূমির এক গোপন স্থান থেকে সিপিআই(মাওবাদী) সোন-গঙ্গা-বিদ্যাচল বিভাগের এরিয়া কম্যান্ডার অজয় রাজভর(৪০),  TOIকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন-

“অতীতের মতই এবারো আমরা নির্বাচন বয়কট করবো। জনগণ নির্বাচনে ভোট দেয়, কিন্তু বিনিময়ে কিছুই পায় না। সুবিধাবঞ্চিত, অবহেলিত ভাবে তারা জীবনযাপন করে।অবস্থাটা এমনি যে, পশুদের স্নান যে জলাশয়ে হয়, গ্রামবাসীরা একই জলাশয়ে থেকে পানি পান করতে বাধ্য হয়।”

রাজভর বলেন, “আমরা উন্নয়নের বিপক্ষে নই, কিন্তু এখানে জনগনের কিছুই নেই। তারা পর্যাপ্ত খাদ্য, স্কুল, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, সড়ক ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় অধিকার ছাড়াই বেঁচে আছে।” তিনি আরো বলেন, রাজনীতিবিদরা শুধু মাত্র ভোট ভিক্ষা চাইতেই কেবল জনগণের কাছে যায়। এই বছর, কাইমুর অঞ্চলের ৩০০টি গ্রামের জনগণ রাজনীতিবিদদের এই গ্রামগুলোতে প্রবেশের অনুমতি দেবে না। তিনি পরিস্কার ভাবে বলেন যে, গ্রামবাসীরা তাদের নিজেদের প্রয়োজনেই রাজনীতিবিদের থামাবে, “আমাদের কারণে নয়।”

রিপোর্ট অনুযায়ী, কমিউনিস্টরা নির্বাচনের সময়কালীন এলাকায় তাদের প্রভাব বা আধিপত্য বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছে। রাজভর বলেন, “সরকার অবশ্যই বুঝতে চেষ্টা করবে যে, কেন আমরা অস্ত্র হাতে নিয়েছি? এটাও জানা উচিত, কেন আমাদের বেঁচে থাকার জন্য যুদ্ধ করতে হচ্ছে ? আমাদের ২৫কিমি. হেঁটে গিয়ে ভোট দেয়ার কোন কারণ আছে কি ? গ্রামবাসীরা কেন এত কষ্ট করবে ? আমরা নিশ্চিত করব যে, এই বছর কেউই তাদেরকে পোলিং বুথে নেয়ার চেষ্টা করবে না।”

ঝাড়খণ্ডের পালামুর বাসিন্দা রাজভর জানান, কি ভাবে সে মাওবাদী হয়ে উঠে। “যখন মাওবাদীরা ২০০৫ সালে আমার শ্যালককে খতম করে, তখন তার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের উদ্দেশ্য আমি তাদের সাথে যোগ দিই। কিন্তু আমি তাদের মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়ি।”

২০১৪ সালে ২ মাসের জন্যে কেন তিনি অস্ত্র সমর্পণ করেছিলেন, তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি ভেবেছিলাম সরকারের আত্মসমর্পণ নীতি ভাল, কিন্তু আমি সরকারের কাছ থেকে কোন সাহায্যই পাইনি। যার ফলে জামিন পাওয়ার পরপরই আমি আমার কমরেডদের কাছে ফিরে গিয়েছিলাম।”

সাম্প্রতিক মাস গুলোতে বিহারের দক্ষিণাঞ্চলীয় কাইমুর, রোহতাস এবং গয়ার মত অনেক এলাকাতে মাওবাদীদের প্রভাব ও অ্যাকশন বেড়ে গেছে। কাইমুর মালভূমির ২টি ব্লক মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। কাইমুর  ও  রোহতাস মিলিয়ে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৬০,০০০ এর উপরে।

অনুবাদ সূত্রঃ http://timesofindia.indiatimes.com/city/patna/Red-shadow-on-battle-of-ballots/articleshow/48939434.cms

Advertisements

ভারতঃ আত্মসমর্পণকারী ৫১৪ জন মাওবাদীদের আসল গল্প

mao

 

সুত্র – http://samayikprasanga.in/epaper.php?pn=9


ভারতের ছত্তিশগড়ে ১০০ জন মাওবাদীর হামলায় ৭ পুলিশ নিহত, আহত ১২

abuhmarh

embed1

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে মাওবাদীদের হামলায় পুলিশের সাত এসটিএফ জওয়ান নিহত হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্য ১২ জন পুলিশ।

আজ (শনিবার) ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলার চিন্তাগুফার পিড়মেল-পোলামপল্লি এলাকায় পেডমাল জঙ্গলে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

ছত্তীসগঢ় পুলিশের নকশাল দমন শাখার প্রধান, অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল আর কে ভিজ জানিয়েছেন, পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের একটি দল শনিবার সুকমা জেলার চিন্তাগুফার পিড়মেল-পোলামপল্লি এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন। রাজ্য পুলিশের বিশেষ বাহিনীর (এসটিএফ) ৬১ জন জওয়ানদের ওই  দলটি পিডমেল জঙ্গল হয়ে দরনাপাল অঞ্চলের দিকে যাচ্ছিলেন । অন্ধ্র প্রদেশের সীমানা এলাকায়  অপারেশনের জন্য রওনা হয়েছিলেন তারা। খবর পেয়ে অতর্কিত হামলা চালায় মাওবাদীরা, এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে সশস্ত্র মাওবাদীরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মৃত্যু হয় ওই জওয়ানদের। জওয়ানরা পাল্টা জবাব দিলেও গভীর জঙ্গলের আড়ালে পালাতে সক্ষম হয় মাওবাদীরা। আহত জওয়ানদের আকাশপথে চপারে করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশের এডিজি (অ্যান্টি মাওয়িস্ট অপারেশন) আর কে ভিজ জানিয়েছেন।

জঙ্গলে তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় প্রায় ১০০ জন মাওবাদী তাদের উপর হামলা চালায়। এই সময় এসটিএফ জওয়ানদের সঙ্গে মাওবাদীদের মধ্যে প্রায় টানা দু’ঘন্টা ধরে বন্দুক যুদ্ধ চলে। নিহত সাত পুলিশ কর্মীরা হল, প্লাটুন কমান্ডার শঙ্কর রাও, হেডকনস্টেবল রোহিত সোধি এবং মনোজ বাঘেল, কনস্টেবল মোহন ভিকে, রাজকুমার মারকাম, কিরণ দেশমুখ এবং রঞ্জন টিকাম।

২০১০ সালের এপ্রিলে ছত্তিশগড়ের সুকমাতে নকশালপন্থীদের হামলায় ৭৪ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হয়। ২০১৩ তে রাজ্যে কয়েকজন শীর্ষ কংগ্রেস নেতাসহ ২৫ জনকে হত্যা করে মাওবাদীরা।

সুত্র – http://indianexpress.com/article/india/india-others/seven-stf-personnel-killed-11-injured-in-maoist-attack-in-chhattisgarh/