নেপালঃ ‘অক্টোবর বিপ্লবের বার্ষিকী’ উপলক্ষে মোহন বৈদ্য: “নেপালে নতুন বিপ্লব সম্ভব”

Mohan-Baidhya-800x445

সিপিএন(বিপ্লবী মাওবাদী) চেয়ারম্যান মোহন বৈদ্য- শ্রমিক শ্রেণির জনগণের নেতৃত্বে একটি নতুন বিপ্লব প্রয়োজনের উপর জোর দিয়ে বলেন যে, নেপালে এই বিপ্লবটিও সম্ভব।

১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষ উপলক্ষে পার্টির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে, দলের নেতা মোহন বৈদ্য, শ্রমিকদেরকে তাদের অধিকারের জন্য একটি নতুন বিপ্লবের পথের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য গুরুতরভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।  

তিনি বলেন- আজ বা নভেম্বর ৭, ১৯১৭ দিনটিতে অক্টোবর বিপ্লব হয়েছিল। এদিন রাশিয়াতে ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে বিপ্লব সংঘটিত এবং সমাজতন্ত্রের সৃষ্টি হয়েছিল।

“অক্টোবর বিপ্লবের নীতিগুলি প্যারিস কমিউনে কার্ল মার্ক্সের মতানুযায়ী সার্বজনীন এবং প্রাসঙ্গিক এবং এই ধরনের বিপ্লবের নীতিগুলি বিশ্বব্যাপী শ্রমিকশ্রেণির এবং নিপীড়িত সম্প্রদায়ের মুক্তি পর্যন্ত বার বার প্রয়োগ চলবে “, বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

“কমিউনিজমের বর্তমান পরাজয় অস্থায়ী এবং সংক্ষিপ্ত এবং সাম্রাজ্যবাদ তার নিজের ফাঁদে আটক হচ্ছে” বলেও তিনি বিবৃতিতে দাবি করেন।

সূত্রঃ http://www.myrepublica.com/news/30288/?categoryId=81

Advertisements

নেপালের বিপ্লবী নারী: গোরখা জেল-পলাতক বাহিনী-প্রধান ‘ভূজেল (শীলু)’

নেপালের মাওবাদী নারী যোদ্ধা

নেপালের মাওবাদী নারী যোদ্ধা

নেপালের বিপ্লবী নারী

গোরখা জেল-পলাতক বাহিনী-প্রধান
উমা ভূজেল (শীলু)

নোট: উমা ভুজেল নেপাল গণযুদ্ধের এক বীর নারী। তিনি বিপ্লবী বাহিনীর একজন গেরিলা ছিলেন।  ’৯৯ সালে তিনি গ্রেফতার হন ও জেলে বন্দী ছিলেন।  কিন্তু আরো কিছু সহবন্দীসহ তিনি এক অসম সাহসী জেল-পালানো অভিযানের নেতৃত্ব দেন এবং পুনরায় বিপ্লবী বাহিনীতে যোগ দেন।  এই সাক্ষাতকারটি অনুবাদ করা হয়েছে ‘দিশাবোধ’ নামক একটি মাসিক পত্রিকা থেকে।  পত্রিকাটি নেপালের রাজধানী কাঠমন্ডু থেকে প্রকাশিত হয়। এখানে যেসব তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে তা নেপালি ক্যালেন্ডারের।  অনুবাদের সময় নেপালি ও ইংরেজি ক্যালেন্ডার একত্রে পাওয়া যায়নি।  এ কারণে কাছাকাছি ইংরেজি তারিখ অনুমান করা হয়েছে।  যা ব্রাকেটে দেয়া আছে।

[প্রখ্যাত উমা ভূজেল ওরফে শিলু হলেন গোরখা জেলভাঙ্গা পলাতক দলের প্রধান।  ছয়জন নারী বিপ্লবীর জেল-পালানোর সাথে সাথেই উমা ভূজেলের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।  তারা গোরখা জেল থেকে এক সুড়ঙ্গপথ খনন করে পালান এবং পার্টির লোকদের সাথে যোগাযোগ করেন। বিপ্লবীদলের সদস্য হিসেবে উমার নাম পূর্ব থেকেই সুপরিচিত।  তাছাড়া তিনি ছিলেন প্লাটুন কমান্ডার কমরেড ভীমসেন পোখরেলের স্ত্রী।  কমরেড ভীমসেন সিপিএন (মাওবাদী)-র পলিট ব্যুরোর সদস্য কমরেড সুরেশ ওয়াগালের সাথে শহীদ হন।  তাদের মৃত্যুর কিছুদিনের মধ্যেই তেইশ বছর বয়স্কা উমা গ্রেফতার হন। ]

১নং প্রশ্ন: কখন ও কোথায় আপনি গ্রেফতার হলেন?
উত্তর: ১০ কার্তিক (২৫ অক্টোবর, ১৯৯৯) আরুঘাটে পুলিশ আমাকে আটক করে। সে সময় গোরখা জেলার টেন্ড্রাঙ্ক অঞ্চলের এক কৃষক বাড়িতে অবস্থান করছিলাম।
২৫ অক্টোবর আমাকে আম্বুখারানীতে এনে ২৫ জানুয়ারি, ২০০০ অবধি একাকী নির্জন অবস্থায় রাখা হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০০ সালে আমাকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার মিথ্যে অভিযোগে জেলে পাঠানো হয়।

২নং প্রশ্ন: জেল পালানোর ধারণা কখন থেকে আপনার মধ্যে কাজ করে?
উত্তরঃ গ্রেফতার হওয়ার মুহূর্ত থেকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আমি একটা উপযোগী সময়ের অপেক্ষায় ছিলাম, কিন্তু পাইনি।  ১ মার্চ, ২০০০, সহযোদ্ধা কমরেড কমলা নাহাকারমিকেও জেলে আনা হয়।  আমরা (উভয়ে) একত্রে জেল-পালানোর সংকল্প করি।  কিন্তু সহায়ক ব্যক্তি-শক্তির অভাবে তা সম্ভব হয়নি। সমা, মীনা, রীতা এসে আমাদের সাথে একত্রিত হওয়ায় আমাদের প্রত্যেকের বুদ্ধি সমন্বিত হয়ে কিছু কৌশল নির্ধারিত হয়।  ওদের সকলকে ধন্যবাদ।
একটি সুড়ঙ্গ খনন করে তিন মাসের মধ্যে জেল-পালানোর একটি পরিকল্পনা করি।

৩নং প্রশ্নঃ তিন মাসের এ পরিকল্পনাটি কেমন ছিল?
উত্তরঃ খননের কাজ আরম্ভ করার পূর্বে যথাসাধ্য আলাপ-আলোচনার দ্বারা আমরা কিছু কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। সিদ্ধান্তগুলো ছিল- সুড়ঙ্গ খনন আরম্ভ করার সময় নির্ধারণ, পরিকল্পিত কাজটিকে কয়েক অংশে ভাগ করা, আদর্শগত মানসিক ও দৈহিক প্রস্তুতি, শত্রুদের ব্যবহার করে তাদের কাজ-কর্মের মধ্যে জড়িয়ে পড়া ইত্যাদি ইত্যাদি।  এ সিদ্ধান্ত অনুসারে আমরা তিন মাস পরে পালানোর পরিকল্পনা করি।  ২৬ ডিসেম্বর থেকে সুড়ঙ্গ খনন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিই; উপলক্ষ ছিল কমরেড মাওয়ের মৃত্যুবার্ষিকী।  আর তখনই পরিকল্পনা করি, গণযুদ্ধ-সূচনার বার্ষিকী উদযাপনকালে জেল থেকে পালাবো।  তেমনি মানসিক শক্তি ও উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি ও প্রস্তুতির জন্য বিশ্বের ও নেপালের কিছু সাহসিক ও গভীর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ওপর পড়াশুনা ও আলোচনা করি।  শারীরিক প্রস্তুতির জন্য নিয়মিত কঠোর শরীরচর্চা করি।  খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে মনোযোগী হই।  শত্রুদের কাজে লাগানোর জন্য তাদের সাথে নমনীয় ও খাতির জমানোর কৌশল অবলম্বন করি- তাদের সন্দেহমুক্ত ও অনুগত করার জন্য পার্টির রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে আলোচনা করি।

৪নং প্রশ্নঃ জেল পালানোর বিষয়ে বাহির থেকে পার্টির কোন অনুপ্রেরণা ছিল কি?
উত্তরঃ মোটেই না; এ উদ্দীপনা ও পরিকল্পনা একান্তই আমাদের।

৫নং প্রশ্নঃ সুড়ঙ্গ খনন করে পালানোর মত জটিল কাজের প্রারম্ভে কি আপনার মৃত্যুর ভয় হয়নি?
উত্তরঃ মৃত্যুভয় পরিহার করেই আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করি। আমরা বাঁচি কিংবা মরি, আমরা মনে করি- এটা হবে একটা ঐতিহাসিক ঘটনা। বিফল হব, সে ভয়ে কিছু না করে কিছু করতে গিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া কি ভাল না?

৬নং প্রশ্নঃ পরিকল্পনা গ্রহণকালে কি সফলতার বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন?
উত্তরঃ সম্পূর্ণ সফল হবো- এ বিবেচনায়ই আমরা পরিকল্পনা করি। আমরা সকলে মিলে রাজি হই যে, যদি আমরা ব্যর্থ হই এবং ঘটনাক্রমে আমাদের মরতেও হয় তবুও শত্রুর কাছে মাথা নত করে মরবো না; নির্ভীক মৃত্যুই আমাদের জন্য সুখের মৃত্যু, এবং তা হবে গৌরবের।

৭নং প্রশ্নঃ খনন-কাজ কি করে, কিভাবে আরম্ভ হয়?
উত্তরঃ সীমানা দেয়ালের কাছাকাছি, জেলখানার খোলা মাঠে মাও-এর মৃত্যু-দিবস পালন করে বিকেল সাড়ে তিনটায় সুড়ঙ্গ খননের কাজ আরম্ভ করি।

৮নং প্রশ্নঃ কাজের দায়িত্ব কিভাবে ভাগ করা হয়?
উত্তরঃ কাজের দায়িত্ব ভাগ ছিল- সুড়ঙ্গ খনন, পাথর ও মাটি সরানো, প্রহরী সংরক্ষণ (প্রবেশ-দ্বারে), অন্যান্য কয়েদী ও নিরাপত্তা প্রহরীদের কাজে লাগানো, বাহিরের অবস্থা বিষয়ে সতর্ক নজর দেয়া, এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করা।

৯নং প্রশ্নঃ সুড়ঙ্গ খননকালে যে-সব সমস্যা দেখা দেয় সে-সব সমস্যার সমাধান কিভাবে করা হয়?
উত্তরঃ দেড়ফুট লম্বা লোহার দন্ড দিয়ে প্রায় অধিকাংশ সুড়ঙ্গ খননের কাজ চলে।  আশপাশ পরিষ্কার করতে গিয়ে রডটা পাওয়া যায়।  তিন তিনটি সিমেন্টের দেয়াল ভাঙ্গতে অনেক সময় লেগে যায়।  এ ছাড়াও বহু সমস্যা দেখা দেয়।  বেশ কয়েকবার জেলের নিরাপত্তা প্রহরীরা সুড়ঙ্গের খুব কাছাকাছি চলে আসে।  তাদের মনোযোগ পরিবর্তনের জন্য আমরা নানা কৌশলের আশ্রয় নিই।  সুড়ঙ্গের কাজ এগিয়ে গেলে আমরা কাঠ ও মাটি দিয়ে তা ঢেকে দিই এবং তার ওপর কিছু শাক-সবজি, ফল, ফুলের গাছ লাগাই।  তারপর, আরও নিরাপত্তার জন্য, তার ওপর একটা ক্যারমবোর্ড স্থাপন করি। সুড়ঙ্গ খননের প্রথম থেকেই আমরা প্রতিদিন সমস্যার সম্মুখীন হই, কিন্তু আমরা ধৈর্যচ্যুত হইনি।  শান্ত স্বাভাবিক থেকে সকলে মিলে সমস্যার সমাধান করি।  পুলিশদের সাথে ভাই-বন্ধুর মতো ব্যবহার করি।  পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে আসে।  খননের কাজ একমাস অগ্রসর না হতেই জেল প্রশাসন একটি টয়লেট নির্মাণ শুরু করে যা আমাদের ফাল্গুন মাস নাগাদ পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাকে ব্যাহত করে।

১০নং প্রশ্নঃ জেল পালানো দিনকার ঘটনাবলীর বিষয়ে কি কিছু বিষদ বিবরণ দেবেন?
উত্তরঃ সুড়ঙ্গ খননের কাজ শেষ হলে আমরা ২০০১ সালের মার্চ মাসের ৩০ তাং রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে জেল-পালানোর সিদ্ধান্ত নিই।  সেদিন সন্ধ্যার দিকে খুব চড়া আওয়াজে টিভি চালাই এবং সন্ধ্যা ৬টার দিকে জানালার একটি রড কাটতে আরম্ভ করি।  একমাত্র একটি রড কাটতেই ৯টা বেজে গেল। পৌনে একটার দিকে সেই জানালার ফাঁকে মাথা গলিয়ে আমি বাইরে চলে আসি।  তারপর একে একে অন্যান্য কমরেডগণ বেরিয়ে আসেন। এ সফলতার জন্য আমরা পরস্পর করমর্দন করি এবং দু’দলে বিভক্ত হয়ে সুড়ঙ্গে প্রবেশ করি।  সুড়ঙ্গের বাইরে এসে আবার সাফল্যের জন্য করমর্দন করি।  সুড়ঙ্গপথে হামাগুড়ি দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশ দু’বার আমাদের দিকে গুলি ছোড়ে, আর দু’বার গুলি ছোঁড়ে উন্মুক্ত আকাশের দিকে।  আমি সকলকে সতর্ক করে দিলাম, “তোমরা ঘেরাও হয়ে পড়েছো, আশা ত্যাগ কর”! ওরা ইতস্তত করছিল, ঠিক সে মুহূর্তেই আমরা সফলভাবে পালিয়ে আসি।  সেদিন এক কৃষকের বাড়িতে আশ্রয় নিই।  দু’দিন পর পার্টির সংস্পর্শে চলে যাই।  

সূত্রঃ নারী মুক্তি/২নং সংখ্যায় প্রকাশিত ॥ ফেব্রুয়ারি, ’০৪


মাওবাদী ধর্মঘটে অচল নেপাল, গ্রেফতার ১৫০

The Koteshwor-Balkumari road section along the Ring Road in Kathmandu wears a deserted look as the Netra Bikram Chand-led CPN Maoist imposes a bandh against arrest of their cadres, on Thursday, June 9, 2016. Photo: Monica Lohani

অনূদিতঃ 

নেপালে গতকাল নেত্র বিক্রম চাঁদ নেতৃত্বাধীন সিপিএন-মাওবাদী’র ডাকা বনধে অচল হয়ে পড়ে নেপাল।

নিজ দলের ক্যাডারদের মুক্তির দাবীতে ডাকা এই ধর্মঘট চলাকালীন ১৫০জন মাওবাদীকে গ্রেফতার করে পুলিশ, বিক্ষোভকারীরা এসময় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নয়টি পাবলিক বাস ও ট্যাক্সি ভাংচুর করে ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে।  রাউতাহাতা জেলায় পেট্রোল বোমার আঘাতে একজন ট্রাক চালক আহত হয়েছেন, ধর্মঘটে সরকারী ও বেসরকারী পরিবহন সেবা ফাঁকা হয়ে যায়, স্কুল ও কলেজ ধর্মঘটের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়।  রাজধানী অধিকাংশ স্থানের মার্কেট ও দোকানের শাটার সকাল থেকেই বন্ধ থাকে।  কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন পুলিশ সার্কেলের তথ্য অনুযায়ী কাঠমান্ডু, ভক্তপুরে এবং ললিতপুর থেকে ৬২ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়।  হরতাল জোরদার করতে চেষ্টা করার সময় সারলাহি, কাস্কি, কালিকোট, সুন্সারি, বাঙ্কে এবং চিতওয়ান জেলা থেকে প্রায় ৯০ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করা হয়।  এ সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্যে রাজধানীর রাস্তায় নিরাপত্তা কর্মীদের একটি বড় সংখ্যা মোতায়েন করা হয়।

সূত্রঃ http://www.tribuneindia.com/news/world/maoist-strike-cripples-nepal-150-arrested/249487.html


‘আমার জায়গা থেকেই আমি আমার বদলা নেব’ – ভারত কুমারী রেগমী

maowomen

আমার জায়গা থেকেই আমি আমার বদলা নেব

– ভারত কুমারী রেগমী

[নারী মুক্তি/৪নং সংখ্যায় প্রকাশিত ॥ ফেব্রুয়ারি, ’০৬]

[ নিন্মোক্ত সাক্ষাতকারটি নেপালের গণযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন নারী কমরেডের। নাম ভারত কুমারী রেগমী। ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মা ও প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষিকা। বাড়ি দাইলেখ জেলার খুরশানী বাড়ি গ্রামে। ২০০১ সালে তার বয়স ২৬। ঐ বছরের ২৭ ডিসেম্বর মাঝ রাতের দিকে নিজ বাড়িতে সরকারি বাহিনীর সদস্যরা দলবেধে তাকে ধর্ষণ করে অজ্ঞান অবস্থায় রেখে যায়। এরপর সকাল ৮টার দিকে জ্ঞান ফিরলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় নিজেকে আবিষ্কার করেন। স্বামী ও সমাজ কর্তৃক পরিত্যক্ত হবার ভয়ে তিনি ঐ নিষ্ঠুর ঘটনা সবার থেকে গোপন রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার স্বামী একসময় বিষয়টি জানতে পারেন এবং স্ত্রীকে পরিত্যাগ না করে চিকিৎসা করান। তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। প্রসঙ্গত স্বামী নারায়ণ শর্মাও (সন্দীপ) ছিলেন একজন বিপ্লবী। তিনি “সারা নেপালী জাতীয় ছাত্র ইউনিয়ন (বিপ্লবী)”র কেন্দ্রীয় কমিটির একজন বিকল্প সদস্য ছিলেন। তিনি ২০০২ সালের ২৩ আগস্ট দোলপায় রাজকীয় সেনাবাহিনীর গুলিতে মারা যান।
সাক্ষাতকারটি ২০০৩ সালে নেপালী পত্রিকা “জন আওয়াজ”-এ প্রকাশিত হয়েছিল। যার অংশবিশেষের বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করে ভারতের বিপ্লবী পত্রিকা “পিপল্স মার্চ” ফেব্রুয়ারি-মার্চ,’০৫ সংখ্যায়।]

প্রশ্নঃ রাজকীয় সৈন্যবাহিনী কোথায় ও কখন আপনাকে ধর্ষণ করে ?
উত্তরঃ আমি খুরশানী গ্রামে ভাইয়ের বাড়ি থাকতাম। সেখান থেকে আমার স্কুলে যেতে সুবিধে হোত। সেদিন আমি একলাই বাড়িতে ছিলাম। একজন স্থানীয় মহিলা গোয়েন্দা (যাকে কিনা রাজকীয় সেনারা একটা কর্ডলেস টেলিফোন দিয়েছিল) সরকারি বাহিনীকে জানায় যে আমার স্বামী সেদিন আমার সঙ্গে দেখা করতে আসবে। গভীর রাতে প্রায় দুটোর সময় প্রায় চার ডজন সরকারি সৈন্য এসে বাড়ি ঘিরে ফেলেছিল এবং আমার স্বামীর সন্ধান চালিয়েছিল। কিন্তু তারা তাকে খুঁজে পায়নি। তারপরই তারা আমার শ্লীলতাহানি করতে শুরু করে।

প্রশ্নঃ ধর্ষণকারীদের কাউকে কি চিনতে পেরেছিলেন ?
উত্তরঃ না, আমি সরকারি বাহিনীর কাউকে চিনতে পারিনি। কিন্তু আমি একজন হাবিলদার ও একজন পুলিশকে চিনতে পেরেছি। তাদের আমি আগে অনেকবার দেখেছি। কিন্তু আমি তাদের নাম জানি না। সমতলভূমি থেকে একজন প্রায়শ মরিচ বিক্রির অছিলায় আমাদের ওখানে আসত। আর একজন পুলিশ যার হাতে রুকমীতে পুলিশ আক্রমণের সময় গুলি লেগেছিল। আমি অত্যন্ত ভীত ও সন্ত্রস্ত থাকায় অন্যদের দিকে তাকাতে পারিনি আর সঠিকভাবে বলতে পারবো না তারা সংখ্যায় ক’জন ছিল।

প্রশ্নঃ ঘটনাটা কীভাবে ঘটল আপনি কি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করবেন ?
উত্তরঃ সৈন্যরা প্রথমে আমার বিছানা বালিশ ছিঁড়ে ফেলে অনুসন্ধান চালায়। তারপর তারা আমার স্বামীর (সন্দীপের) একটা ছবি বার করে এবং সেটা পুড়িয়ে ফেলে। আমি তাদের বলি ঘটনা যাই ঘটে থাকুক না কেন, ওটা আমার স্বামীর ছবি, পোড়ালে কেন? তারপরেই একজন সৈন্য আমাকে ধর্ষণ করার আদেশ দেয়। তারা আমাকে জাপটে ধরে বুটের লাথি মেরে মেঝেতে ফেলে দেয়। প্রথম সুযোগে আমি দৌড়ে পালাতে পেরেছিলাম। তারপর তাদের মধ্যে একজন আমার বুকে বুটের লাথি মারে। সেই আঘাতের পর আমি চোখে ঝাপসা দেখতে থাকি এবং আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে যাই। ছয় সাত জন ধর্ষণকারী ধর্ষণ করা অবধি আমার জ্ঞান ছিল, তারপর আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। পরদিন সকাল আটটার সময় জ্ঞান ফিরে পাই, তখনও আমার শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল। শরীরে এক টুকরো কাপড়ের আবরণ ছিল না। শয়তানেরা যাবার সময় ঘরবাড়ির সমস্ত দরজা-জানালা খোলা রেখে গিয়েছিল। আমি ধীরে ধীরে উঠে বসেছিলাম এবং ভান করেছিলাম যেন কিছুই হয়নি। আমার ভাইও তাই ভেবেছিল। কিন্তু আমার ভাই পরে ব্যাপারটি জানতে পেরেছিল এবং আমাকে রক্ত বন্ধ করার ইঞ্জেকশন দিয়েছিল। আমি আমার ভাইকে অনুরোধ করেছিলাম আমাকে তার ভগ্নীপতির কাছে নিয়ে যেতে। কিন্তু সে আমার শরীরের এই অবস্থায় ওখানে যেতে নিষেধ করল। কিন্তু আমি শুনিনি, সন্দীপের অপেক্ষায় ছিলাম এবং তাকে পেয়েও গেলাম। সন্দীপকে এ ব্যাপারে আমি কিছু বলিনি। আমি তাকে ভীষণ ভালবাসতাম। আমার ভয় ছিল ঘটনাটা জানতে পারলে সে আমায় না-ও গ্রহণ করতে পারে। এই ঘটনাটা জানার পর সে যদি আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাহলে আমি সব হারাবো। সেই কারণে গত তিন মাস ঘটনাটা গোপন করে গিয়েছিলাম।

প্রশ্নঃ সন্দীপ জানতে পারলো কী করে?
উত্তরঃ যদিও আমি বলতে চাইনি, কিন্তু আমার মনে হয় সৈন্যবাহিনীর কেউ অথবা অন্য কেউ যে কিনা খোলা দরজা দিয়ে ব্যাপারটা দেখেছিল, তারাই হয়তো কেউ সন্দীপকে বলে থাকবে। সন্দীপও ঘটনাটা শুনেছিল, এবং আমাকে প্রতিনিয়ত জিজ্ঞাসাবাদ করত। বহুদিন ধরে আমি এটা মিথ্যা কথা বলে এড়িয়ে গেছি। তা সত্ত্বেও সে বলেছিল, তুমি তো নিজের ইচ্ছেয় কাজটা করনি, সুতরাং আমায় খুলে বল। আমি তখন সমস্ত সত্য তার সামনে তুলে ধরলাম।

প্রশ্নঃ সন্দীপ ও তার পরিবারের লোকেরা সমস্ত ঘটনা জানার পর আপনার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করেছিল?
উত্তরঃ আমি বুঝতে পেরেছিলাম সন্দীপ সম্বন্ধে আমার ধারণা কত ভ্রান্ত। সে আমায় গ্রহণ করল। বস্তুত আমি সমস্ত ঘটনা খুলে বলার পর সে আমাকে যত্ন ও ভালবাসায় ভরিয়ে দিল। সে বলেছিল, প্রতিশোধ নিতেই হবে, সেই কারণে সে আমাকে দলের সংগঠনে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছিল। আমি যখন মাঝে মাঝে বিমর্ষ হয়ে পড়তাম, সে আমাকে হাসাত। সে আমাকে প্রায়শ বলতো, তুমি যদি প্রতিশোধ নিতে না পার, আমি ঠিক নেব। হায়, সেও শত্রুর হাতে মারা গেল। আমার চিকিৎসা হওয়ার পরই কেবলমাত্র তার বাবার সাথে দেখা করতে পেরেছিলাম। তার আগে পর্যন্ত আমি কারুর সাথে দেখা করেনি।

প্রশ্নঃ সন্দীপের বাবা আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করেছিলেন ?
উত্তরঃ সন্দীপের বাবা বলেছিলেন, তুমি আমাদের পুত্রবধূ নও, তুমি আমাদের পুত্র। তুমি আমার পুত্রের জায়গা নিয়েছ। তিনি আমার প্রচুর যত্ন নিয়েছেন।

প্রশ্নঃ আপনার চিকিৎসার ব্যবস্থা কে বা কারা করেছিলেন ?
উত্তরঃ সন্দীপের সঙ্গে থাকার সময় আমি প্রায় অসুস্থই ছিলাম। ইতিমধ্যে আমি পার্টি সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছিলাম। পার্টি সংগঠনই আমার সমস্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এখন আমি সুস্থ এবং সংগঠনের কাজ করছি।

প্রশ্নঃ সন্দীপের শহীদ হওয়ার ঘটনা শুনে আপনার মানসিক অবস্থা কেমন হয়েছিল ?
উত্তরঃ আমরা সবাই মানুষ, সুতরাং আমাদের মানবিক অনুভূতি থাকাটাই স্বাভাবিক। আমারও মানবিক অনুভূতি আছে। যদিও আমি এখন মতাদর্শগতভাবে অনেক পরিণত তবুও স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতির কারণেই আমি আঘাত পেয়েছিলাম। ঘটনাটি শোনার পর আমি প্রায় চার-পাঁচ ঘণ্টা অজ্ঞান হয়েছিলাম। মতাদর্শ যখন অনুভূতির চেয়ে বড় হয় তখন এটা বোঝা উচিত সে কেন শহীদ হয়েছে।

প্রশ্নঃ আপনাদের বিয়ে কীভাবে হয়েছিল ?
উত্তরঃ প্রাথমিকভাবে এটা ভালবাসার বিয়ে ছিল, কিন্তু আমার ভাইয়ের অনুমতি নিয়ে প্রথাগতভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল।

প্রশ্নঃ আপনার মতে আপনার উপর একদিকে গণধর্ষণের আঘাত অপরদিকে শত্রুর দ্বারা আপনার স্বামী শহীদ হওয়ার ঘটনা, এর সমুচিত জবাব কী ?
উত্তরঃ বাস্তবে একমাত্র সঠিক মতাদর্শই এই গভীর আঘাতের বেদনাকে সারিয়ে তুলতে পারে। নেপাল বিপ্লবের জন্য সে সর্বহারা শ্রেণির পক্ষে সর্বদাই লড়াই করে গেছে এবং সেই কারণেই সে তার জীবন দান করেছে। আমার মতে সে ছিল এক মহান ব্যক্তিত্ব। তার আদর্শ এবং ফেলে রাখা রক্তরাঙা পথ ধরে তার বন্দুক তুলে নিয়ে লড়াইয়ের পথে এগিয়ে যেতে পারলেই আমার এই ব্যথা কমবে। অবিরাম বিপ্লবী পথে যুক্ত হয়ে এগিয়ে যেতে পারলেই আমি এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাব। আমি মনে করি আমি সাহসী হয়ে উঠেছি। যদিও আমার কিছু মানসিক দুঃখ আছে তবুও আমি বলতে পারি না যে আমি মতাদর্শগতভাবে উন্নত হব না। আমি আমার জায়গা থেকেই প্রতিশোধ নেব। আমার সিঁদুর শূন্য সিঁথি প্রত্যক্ষ করবে এক প্রভাতী সূর্যের লাল আলো। আমি খুবই আশাবাদী।

প্রশ্নঃ সারা দেশে আপনার মতো বহু নারী যারা এই ধর্ষণের শিকার তাদের উদ্দেশে আপনার বক্তব্য কী ?
উত্তরঃ যারা আমার মতো দলীয় সংগঠনে যুক্ত আছেন তাদের উদ্দেশে আমি বলবো তারা যেন সাময়িক ক্ষয়ক্ষতির জন্য স্বপ্নভঙ্গ হয়ে এগিয়ে যাওয়া থেকে থেমে না যান। আসুন আমরা সবাই সাহসী হই এবং অত্যাচার, শোষণ এবং একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে এগিয়ে যাই। আমরা যেন আমাদের ব্যক্তিগত ক্ষতিকে প্রাধান্য না দিই, দলের বিজয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখি। শহীদ পরিবারের লোকজন যারা আজও সংগঠনে যোগদান করেননি তাদের উদ্দেশে বলি যে, যারা দেশ ও জাতির জন্য প্রাণ দিয়েছেন তারা কখনও ভুল পথ গ্রহণ করেননি। ছেলেরা পিতা-মাতার কোলহারা হয়েছে এবং বোনেরা সিঁথির সিঁদুর হারিয়েছে বলে আমরা কখনই আশাহত হব না। শহীদের রক্তের ঋণ আমরা রক্তেই শুধবো। পার্টি আজ বিরাট সাফল্য অর্জন করেছে। আমাদের প্রিয়জনদের রক্তদান বৃথা যায়নি। তাদের আত্মবলিদানের পথ ধরে যেন আমরা এগিয়ে যাই। এইভাবেই আমরা সেইসব শহীদ পরিবারের সম্মুখীন হতে পারি।

সূত্রঃ দেশে দেশে বিপ্লবী নারী সংকলন, বিপ্লবী নারী মুক্তি প্রকাশনা


চাঁদ নেতৃত্বাধীন সিপিএন-এম জনগণের সরকার পুনরুজ্জীবিত করবে

13244714_1057175767714357_4852063206900585910_n

অনূদিতঃ

সিপিএন-মাওবাদী সাধারণ সম্পাদক নেত্র বিক্রম চাঁদ বলেছেন, তার দল জনগণের সরকার এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের আদালত পুনরুজ্জীবিত করবে যেমন নতুন সংবিধান তার দলের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই জারি করা হয়েছিল। পুস্প কমল দহল প্রচণ্ডের নেতৃত্বে ১০টি মাওবাদী দল মিশে গিয়ে সিপিএন-মাওয়িস্ট সেন্টার গঠনের ১ দিন পরেই চাঁদের এই বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে।

গতকাল গণমিছিল শেষে খুল্লা মঞ্চে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তৃতাকালে চাঁদ বলেন, তার দল আগামীকাল থেকে কালোবাজারী ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করবে।  তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি মিথ্যা অভিযোগে মাওবাদী নেতা ও কর্মীদের ফ্রেম করার পরিকল্পনা করছিলেন।  তিনি বলেন, কিছু মাওবাদী নেতারা মূল মাওবাদী আদর্শ থেকে বিচ্যুত করেছে এবং সেই কারণে পুষ্প কমল দাহাল সহ কিছু নেতৃবৃন্দ বাস্তব মাওবাদী ছিল না।  ধর্মেন্দ্র বাস্তোলা, একরাজ ভান্ডারি, খড়গ বাহাদুর বিশ্বকর্মা এবং কমিউনিস্ট নিউক্লিয়াস পার্টির হেমন্ত প্রকাশ অলি আহ্বায়ক সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এই গণ সমাবেশে ভাষণ দেন।

সূত্রঃ https://thehimalayantimes.com/nepal/chand-led-cpn-m-revive-peoples-govt/


কাঠমান্ডুতে সংশোধনবাদী ‘ঐক্য’-র বিরুদ্ধে গণমিছিল

13220974_1057177051047562_264370048714633593_n

13221690_1057176647714269_8755017238767782595_n

13226988_1057175741047693_7529878387764079606_n

13227043_1057175704381030_8432732397145631931_n

13239342_1057175657714368_1567169758073503365_n

13244714_1057175767714357_4852063206900585910_n

Biplab-Maoist-2


‘কমিউনিস্ট নিউক্লিয়াস, নেপাল’ নামে একটি নতুন মাওবাদী পার্টির উত্থান হয়েছে

kamunist

 

নেপালে নতুন মাওবাদী পার্টি কমিউনিস্ট নিউক্লিয়াস এর উত্থান

গত সপ্তাহে নেপালের পশ্চিম অংশের দাং জেলায় মাওবাদীদের একটি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রোলপা, রুকুম, সাল্যন-রাপ্তি জোনের প্রবেশদ্বার হিসাবে দাং জেলার পরিচিতি রয়েছে। এটি ছিল নেপালের দশ বছরের গণযুদ্ধের প্রথম ঘাঁটি এলাকা।কমিউনিস্ট নিউক্লিয়াস, নেপাল নামে একটি নতুন মাওবাদী পার্টি তারা গঠন করেছে। কমরেড হেমন্ত প্রকাশ অলি, যিনি সুদর্শন নামে পরিচিত, কমিউনিস্ট নিউক্লিয়াস, নেপালের আহ্বায়ক হয়েছেন। তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি গণযুদ্ধের প্রাক্কালে এই ঘাঁটি এলাকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি দশ বছর গণযুদ্ধের সময় কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল(মাওবাদী) এর পলিটব্যুরো সদস্য এবং PLA ৫ম বিভাগের বিভাগীয় কমিশার ছিলেন। নিউক্লিয়াসের ১১জন সদস্যের বেশীরভাগই ঘাঁটি এলাকার সাবেক PLA সদস্য ও শহরের বুদ্ধিজীবীরা রয়েছেন, যারা নেপালের ১০বছরের গণযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন।

২রা এপ্রিল ২০১৬তে প্রকাশিত এক আহবানে, নয়াগনতান্ত্রিক বিপ্লবের কর্তব্য সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নিউক্লিয়াস যোগদানের জন্য তারা সনির্বন্ধ আবেদন জানান। তারা বিপ্লবী মেরুকরণের জন্যেও আবেদন করেছেন।

এই আবেদনে তারা কমরেড মাও সে তুঙ এর বিখ্যাত উক্তিটি তুলে ধরেন – “বিপ্লবের কেন্দ্রীয় কর্তব্য ও উচ্চতম রূপ হচ্ছে সশস্ত্র শক্তির দ্বারা রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল, যুদ্ধের দ্বারা সমস্যার সমাধান। মার্কসবাদ-লেনিনবাদের এই বিপ্লবী নীতি সর্বত্রই ঠিক, তা চীন দেশেই হোক বা বিদেশে হোক, সর্বত্রই ঠিক[যুদ্ধ ও রণনীতির সমস্যা-৬ই নভেম্বর, ১৯৩৮]

তাদের দলিল, তারা প্রচণ্ড ও বাবুরাম ভট্টরাইকে নেপালের বিপ্লবের বিশ্বাসঘাতক এবং সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের বিশ্বস্ত ক্লায়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছে। দলিলে তারা ভারত, ফিলিপাইন এবং তুরস্কের জনগণ, যারা ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে গণযুদ্ধের করছে,  তাদের সঙ্গে বিপ্লবী সংহতি প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে তারা ভারতে গণযুদ্ধের প্রতি শক্তিশালী সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। “আমাদের ফিলিপাইন, ভারত ও তুরস্কের গণযুদ্ধকে অধ্যয়ন করতে হবে এবং তাদের তেজস্বিতা এবং অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে হবে. আমরা অবশ্যই “সর্বহারা আন্তর্জাতিকতাবাদের মান অনুসরণ করবো।” তারা ‘বিপ্লবী আন্তর্জাতিক আন্দোলন (রিম)” বিলুপ্ত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যেমনটি তারা দলিলে উল্লেখ করেছেন, ‘বিপ্লবী আন্তর্জাতিকতাবাদী আন্দোলন (রিম) এর একটি নতুন ভ্রূণ কেন্দ্র গঠনে অবদান রাখার বিষয়টি আমরা গভীর গুরুত্বের সাথে নিয়েছি’। – (সংক্ষেপিত)

অনুবাদ সূত্রঃ  The Next Front

বিস্তারিত

Last Week, a group of Maoists held a meeting in Dang district, western part of Nepal. Dang is known as the threshold of Rolpa, Rukum and Salyan-the Rapti Zone, the first base area of Ten Year’s People’s War. They formed a new Maoist Party–Communist Nucleus, Nepal. Comrade Hemanta Prakash Oli, known as Sudarshan, is the Convener of Communist Nucleus, Nepal. He was the first man who had taken responsibility of Base Area in the eve of People’s War. He was the Politburo member of the Communist Party of Nepal (Maoist) and division Commissar of 5th Division PLA, during the Ten Year’s People’s War. In 11 member’s Nucleus, most of the members are former PLA from the base area and the intellectuals from the urban area, who joined 10 Year’s People’s War.

In an appeal released on April 2, 2016 they have appealed to join Nucleus to fulfill the task of New Democratic Revolution. They have appealed also for the revolutionary polarization. In their appeal they have quoted the famous words of Comrade Mao : The seizure of power by armed force, the settlement of the issue by war, is the central task and the highest form of revolution. This Marxist-Leninist principle of revolution holds good universally, for China and for all other countries.

In their document, they have mentioned Prachanda and Baburam Bhattarai as the traitor of Nepalese revolution and the faithful clients of Imperialism and Indian expansionism. In their document they have expressed revolutionary solidarity with the people of India, Philippines and Turkey, who are waging People’s War, against the fascist regime. Particularly they have expressed strong support to the People’s War in India. As they have mentioned– ”We must study the People’s ‘War in Philippines, India, and Turkey and should learn from their spirit and experience. We must follow the value of Proletarian Internationalism”. They have expressed deep concern also on defunct ‘Revolutionary International Movement (RIM). As the document writes: ”We must take deep concern and initiation and should contribute to form a new embryonic center–The Revolutionary Internationalist Movement(RIM).”

It is known to us that, these days Maoist party led by Mohan Baidhya ‘Kiran’ (now it is named as revolutionary Maoist), is facing massive internal dispute. Rapidly, it is going in the way to liquidation. A faction of this party, led by then General Secretary Ram Bahadur Thapa ‘Badal’ is going to merge his faction in the Communist Party of Nepal led by Prachanda. The faction led by ‘Badal’ has launched signature campaign against Kiran to join the UCPN (Maoist).This faction has accepted UNCP(Maoist) as the revolutionary party and Prachanda as a revolutionary leader. After the split of Badal faction, what the Kiran faction will do, is not clear. In document, Comrade Kiran has committed for the New Democratic Revolution through armed struggle. But in practice he has nothing to do. The main problem of Comrade Kiran is: not to move forward in practice. We all know, just to write in the document is not enough.

Another party, The Communist party of Nepal, Maoist, led by Comrade Biplav also is not clear in the ideological and political line. In the place of New Democratic Revolution, Biplav party has replaced ‘Unified Revolution’. ‘Unified Revolution’ is the character of Nepalese revolution or it is the Party’s political line ? They have not made it clear. Their analysis about International Communist Movement and the character of Nepalese society also is not scientific. To some extent, among the all Maoist organizations the organization led by Biplav is dynamic. But the ideological and political line that they are pleading is ambiguous. In fact, they are still at the crossroads.

Now the newly formed Communist Nucleus, Nepal has appealed the revolutionary cadres of all Maoist parties to join the Nucleus. There is going to be happened a new polarization of the Nepalese Maoist Movement. The revisionist will join Prachanda , the ring leader of Neo-reactionary camp and the revolutionaries will form a new revolutionary camp. There is a possibility of joint step between Nucleus, Baidhya led faction and Biplav’s CPN, Maoist. It is the demand of the time that later or sooner the revolutionaries will form a new center for the New Democratic Revolution guided by Marxisn-Leninism-Maoism.

It is the fact that, most of the revolutionary leaders and cadres accept, that the revolution of Nepalese society is the New Democratic Revolution and without arm struggle we can’t achieve the goal of revolution. But in practice, they don’t want to move forward. What type of armed struggle? Ideological and political line is the issue that the Nepalese revolutionary comrades are debating these days.

We want to make clear that there must not be any confusion, it is crystal clear that ultimately Nepalese revolution will take the road of Peoples War– Maoist Road of Nepalese character. The document of Nucleus also has stressed the following writing from Comrade Mao tse-tung’s famous document ‘Problems Of War And Strategy’.

Every Communist must grasp the truth, “Political power grows out of the barrel of a gun.” Our principle is that the Party commands the gun, and the gun must never be allowed to command the Party. Yet, having guns, we can create Party organizations, as witness the powerful Partyorganizations which the Eighth Route Army has created in northern China. We can also create cadres, create schools, create culture, create mass movements. Everything in Yenan has been created by having guns. All things grow out of the barrel of a gun. According to the Marxist theory of the state, the army is the chief component of state power. Whoever wants to seize and retain state power must have a strong army. Some people ridicule us as advocates of the “omnipotence of war”. Yes, we are advocates of the omnipotence of revolutionary war; that is good, not bad, it is Marxist. The guns of the Russian Communist Party created socialism. We shall create a democratic republic. Experience in the class struggle in the era of imperialism teaches us that it is only by the power of the gun that the working class and the labouring masses can defeat the armed bourgeoisie and landlords; in this sense we may say that only with guns can the whole world be transformed. We are advocates of the abolition of war, we do not want war; but war can only be abolished through war, and in order to get rid of the gun it is necessary to take up the gun.

It is the point to note that, if we are revolutionaries, if we are Maoists, without hesitation, we must follow the spirit and value of above mentioned writing of Comrade Mao tse-tung. To follow the Marxism means to apply it into practice.

সূত্রঃ  The Next Front