রোহিঙ্গা প্রশ্নে- নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা, রাজশাহী জেলা শাখা’র প্রচারপত্র

21469715_1736518509989099_702936634_n

Advertisements

‘হাওরবাসীর সর্বনাশের দায় রাষ্ট্রের’- নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার সমাবেশ অনুষ্ঠিত

নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চা

জাতীয় কমিটি

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

হাওরে লাখ লাখ কৃষকের সর্বস্বান্ত হওয়ার দায় রাষ্ট্র-সরকারকে নিতে হবে এবং হাওরের কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।”

আজ শুক্রবার, ২১-০৪-২০১৭, শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে উপরোক্ত দাবিতে নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল চারটায় শুরু হওয়া সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণমোর্চার সভাপতি কমরেড জাফর হোসেন। সমাবেশে উপস্থিত থেকে সংহতি জানান জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সহ সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত ও ল্যাম্পপোস্ট সম্পাদক নাহিদ সুলতানা লিসা।সমাবেশে গণমোর্চার নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন, শাহাজাহান কবীর- সভাপতি বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি।

সমাবেশে বক্তারা নিম্নোক্ত দাবি জানানঃ

১। হাওরে বাঁধ নির্মানে লুটপাটে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে গণ আন্দোলন গড়ে তুলুন।

২। হাওর অঞ্চলের কৃষকদের সকল মহাজনী সুদ, সরকারী কৃষি ও এঞ্জিও লোন মওকুফ করতে হবে।

৩। কৃযকদের কর্মসংস্থান এর লক্ষে সকল প্রকার ইজারাদারি প্রথা বন্ধ করার পক্ষে গণ আন্দোলন গড়ে তুলুন।

৪। “মাছ ধরবেন যিনি,জলার মালিক তিনি” নীতির ভিত্তিতে কৃষক সমাজ এক হোন।

৫। সকল প্রকার শোষণ-নিপীড়ন -অত্যাচারের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে গ্রামে-গঞ্জে শ্রমিক -কৃষকের গণক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করুন।

৬। ভারত-মার্কিন-চীন-রাশিয়ার দালাল শাসকশ্রেণীর গণবিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলুন।

বার্তা প্রেরক

বিপ্লব ভট্টাচার্য্য


বাংলাদেশঃ ইউপি নির্বাচন নিয়ে নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা’র বিবৃতি

231

ইউপি নির্বাচনসহ শাসক বুর্জোয়া শ্রেণির কোন নির্বাচনেই জনগণের মুক্তি নেই!

সাম্রাজ্যবাদ-ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ ও তাদের দালাল বুর্জোয়া শাসকশ্রেণিকে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও গণক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লড়াইকে এগিয়ে নিন!

সংগ্রামী  জনতা,

আমাদের দেশের শাসক বড় ধনী শ্রেণি জনগণকে গণতন্ত্র দেয়ার নামে তথাকথিত নির্বাচনের আয়োজন করে। কিন্তু তারা বাস্তবে এর মধ্য দিয়ে নিজেদের রাষ্ট্রক্ষমতাকে সুসংহত করে। এবং শ্রমিক-কৃষক-সাধারণ জনগণকে শাসন করে, তাদের সম্পদ লুটপাট করে এবং শোষণ-নিপীড়ন চালায়। সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের স্বার্থ রক্ষা করে। চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন তার থেকে ব্যতিক্রম নয়। উপরন্তু বর্তমান নব্য বাকশালী আওয়ামী সরকার ভারতের মদদে ৫ জানুয়ারি, ’১৪ এক প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে এক ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। তারা জনগণের ক্ষমতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাতো দূরের কথা, তাদের প্রতিপক্ষ বুর্জোয়া দলগুলোকেও ক্ষমতার ভাগ দিতে নারাজ। তারা রাষ্ট্রক্ষমতার জোরে নির্বাচন কমিশন, পুলিশ-প্রশাসনকে দলীয়করণ এবং তাদের ব্যবহার করে সিটি করপোরেশন, পৌর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ ‘বিজয়’ অর্জন করেছে। পৌর নির্বাচনের মত দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের আয়োজন করে এই নির্বাচনেও নিরঙ্কুশ বিজয় ছিনতাই করার বিভিন্ন ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত, ফন্দি-ফিকিরও তারা সেরে ফেলেছে। প্রথম পর্বের নির্বাচনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের ৬২ জন চেয়াম্যান প্রার্থী জয়ী হয়ে গেছে। তাই, বুর্জোয়া দলগুলোর মধ্যে চলছে চরম দ্বন্দ্ব-সংঘাত, হানাহানি-কামড়াকামড়ি। যার শিকার হচ্ছেন সাধারণ জনগণ।

আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, জাতীয় পার্টিসহ বুর্জোয়া দলগুলো হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ, ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের স্বার্থরক্ষাকারী এবং দালাল শাসক বড়ধনী শ্রেণির রাজনৈতিক দল। এই বুর্জোয়া দলগুলোর অনুমোদনে ও প্রভাবে এই ইউপি চেয়াম্যানগণ নির্বাচিত হবে। এরা মূলত জোতদার-ইজারাদার, সুদখোর মহাজন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ গণবিরোধী। (বুর্জোয়া পত্রিকায় প্রকাশ- হত্যা, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, বোমাবাজিসহ বিভিন্ন মামলার এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মামলার আসামীও প্রার্থী হিসেবে রয়েছে) এরাই বুর্জোয়া দলগুলোর নেতা-কর্মী। নিজেদের ক্ষমতার জন্য শাসকশ্রেণি জনগণের মাঝে গোষ্ঠীগত, এলাকাগত, সম্প্রদায়গত মতাদর্শ উসকিয়ে দিয়ে জনগণের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করে। যাতে জনগণ এই গণশত্রুদের বিরুদ্ধে কোন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে না পারেন। এই গণশত্রুদের জনগণ যে স্বেচ্ছায় ভোট দিবে না তা বুঝেই তারা নির্বাচনে জনগণের উপর চাপ সৃষ্টিসহ লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে এবং ঘুষ দিয়ে ভোট কিনে। যার কয়েক গুণ তারা তুলে নেয়/নিবে জনগণের রিলিফ এবং উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত রাষ্ট্রের ফান্ড থেকে এবং শ্রমিক-কৃষক ও সংখ্যালঘু জাতিসত্তাকে শোষণ-লুণ্ঠন করে।

ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররাই গ্রামাঞ্চলে বড় ধনীদের রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা এবং জনগণকে বুর্জোয়া রাজনীতিতে বেঁধে রাখায় প্রধান ভূমিকা রাখে। এবং সাম্রাজ্যবাদ, শাসকশ্রেণির গণবিরোধী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে এবং জনগণের বিপ্লবী, গণতান্ত্রিক কর্মসূচির বিরোধিতা করে। রামপাল, ফুলবাড়ীর কৃষক এবং হবিগঞ্জের চান্দপুর চা শ্রমিকদের আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনেই এর অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।

সংগ্রামী  জনগণ,

এই নির্বাচনে আপনাদের কোন স্বার্থ হবে না। বিগত ৪৫ বছর যাবত আপনারা আপনাদের জীবন-সংগ্রামে এটা প্রত্যক্ষ করছেন। এই নির্বাচনের পরও আপনাাদের দুর্বিসহ জীবনের অবসান হবে না। ভূমিহীন দরিদ্র কৃষক জমি পাবে না। জেলে জলমহলের অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবে। নারীরা পুরুষতান্ত্রিক নিপীড়ন থেকে মুক্তি পাবে না। কামার-কুমার-তাঁতিসহ শ্রমিক ও শ্রমজীবীগণ তাদের ন্যায্য মজুরী পাবে না। পাহাড়-সমতলের আদিবাসী জনগণের ভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া বন্ধ হবে না। ন্যায্য বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হবে না এবং পুলিশী হয়রানিও বন্ধ হবে না। ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ হবে না, বরং এর বদৌলতে পক্ষপাতিত্ব চলবে। চাঁদাবাজ-মাস্তানদের দৌরাত্ম পূর্বের মতই বহাল থাকবে। ধর্মীয় মৌলবাদের বিকাশ বন্ধ হবে না। সরকার ও রাষ্ট্রযন্ত্রের যে ফ্যাসিবাদ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চলছে তার প্রভাব জনগণের চরিত্রেও পড়ছে। তাই, হত্যা-ধর্ষণ, নারী ও শিশু হত্যা বন্ধ হবে না। কৃষক ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবে না, উপরন্তু দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন খরচ এবং বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, পানি সেচের মূল্য বৃদ্ধি সহ বহুবিধ কারণে জনগণের নাভিশ্বাস উঠছে এবং উঠবে।

তাই, বুর্জোয়া নির্বাচনে শ্রমিক-কৃষক-নারী-আদিবাসী ও নিপীড়িত সাধারণ জনগণের মুক্তি নেই। শাসক বড়ধনী শ্রেণির রাজনৈতিক ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার এবং লুটপাটের নির্বাচনের জোয়ারে না ভেসে বা বুর্জোয়া দলবাজিতে বিভক্ত না হয়ে তাদের গণবিরোধী রাজনীতি ও নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করুন। নিজেদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী রাজনীতিতে সজ্জিত ও ঐক্যবদ্ধ হোন। নিজ নিজ শ্রেণি-পেশার ভিত্তিতে সংগঠিত হোন, সংগঠন গড়ে তুলুন। ভূমি সংস্কারসহ বিভিন্ন বিপ্লবী, গণতান্ত্রিক দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলুন।

মার্কিনের নেতৃত্বে সকল সাম্রাজ্যবাদ, ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ, আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ ও সামন্তবাদকে উচ্ছেদ করে সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার লক্ষে নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব এগিয়ে নিন। নিজেদের মুক্তির সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করুন।

নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা

মোবাইলঃ ০১৯১৫২২১৯৮০,

মার্চ ২য় সপ্তাহ, ’১৬