১৮ই অক্টোবর- মাওবাদী নেতা ‘নিজামউদ্দিন মতিন’ এর স্মরণ সভা

 

১৮ অক্টোবর- মাওবাদী নেতা  ‘নিজামউদ্দিন মতিন‘ এর স্মরণ সভা

সুহৃদ,

মাওবাদী নেতা কমরেড নিজামউদ্দিন মতিন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত ১১ আগস্ট ২০১৯ দুপুর ১২টায় মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৬৯ সালেই কমরেড সিরাজ সিকদার প্রতিষ্ঠিত বিপ্লবী পার্টি গঠনের প্রস্তুতি সংগঠন ‘পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলন’-এ কমরেড মতিন যোগ দেন এবং আমৃত্যু জনগণের মুক্তি সংগ্রামে নিবেদিত ছিলেন।
কমরেড নিজামউদ্দিন মতিনের ত্যাগী জীবন, অধ্যাবসায় এবং এদেশের বিপ্লবী সংগ্রামে তাঁর অবদানকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার লক্ষ্যে আমরা স্মরণসভার আয়োজন করেছি। আগামী ১৮ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রমেশ চন্দ্র মজুমদার (আর সি মজুমদার) মিলনায়তনে স্মরণসভাটি অনুষ্ঠিত হবে। এ অনুষ্ঠানে দেশের বিপ্লবী আন্দোলনের নেতা ও বুদ্ধিজীবীবৃন্দ আলোচনা করবেন।
বিপ্লবী নিজামউদ্দিন মতিন এর স্মরণ অনুষ্ঠানে আপনাকে/আপনাদেরকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
সংগ্রামী শুভেচ্ছাসহ,

হাসান ফকরী,
আহ্বায়ক,
মাওবাদী নেতা কমরেড নিজামউদ্দিন মতিন স্মরণ কমিটি

সূত্রঃ https://www.facebook.com/events/2486969678244177/?active_tab=about


প্রয়াত কমিউনিস্ট নেতা কমরেড নিজামুদ্দিন মতিন

 

বাংলাদেশের ফেসবুকে বামপন্থীদের বিভিন্ন পোস্ট ও দেশটির জাতীয় দৈনিক ‘ঢাকা ট্রিবিউন’ জানাচ্ছে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট রাজনীতির অন্যতম ব্যক্তিত্ব, মাওবাদী ধারার কমিউনিস্ট পার্টি ‘পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি(এমবিআরএম)’ এর সম্পাদক কমরেড নিজামুদ্দিন মতিন ওরফে কমরেড ‘ক’ ওরফে কমরেড শাহিন গত ১২ই আগস্ট সকাল ১১টায় মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫বছর। তিনি দীর্ঘদিন যাবত কিডনি রোগে ভুগছিলেন। ১৯৫৫ সালে বরিশালের আলেকান্দায় জন্ম নেয়া মাওবাদী ধারার এই কমিউনিস্ট ব্যক্তিত্ত্ব মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৬৯ সালে তিনি সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে পুর্ব বাংলার শ্রমিক আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৭৫সালে কমরেড  সিরাজ শিকদারকে হত্যার সময়ে কমরেড নিজামুদ্দিন মতিন জেলে ছিলেন। সেখানেই বিভিন্ন কেন্দ্রের বিভ্রান্তি এড়াতে নিজেরা তৈরী করেন “সত্ত্বা” নামে একটি আলাদা গ্রুপ। পরে আবার মিশে যান মূলধারার সাথে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পাবনা, টাংগাইল ফ্রন্টের দ্বায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট রাজনীতিতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর অসংখ্য লেখা থেকে “শামুরবাড়ির প্রতিরোধ” স্মৃতিচারণমুলক লেখাটা ‘লাল সংবাদ’ আজ প্রকাশ করেছে।

 

 

মাদারীপুরে সর্বহারা অধ্যুষিত শিবচরে নৌপুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধন

photo-1518355660

সর্বহারা অধ্যুষিত মাদারীপুরের শিবচরের প্রত্যন্ত এলাকায় নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের সেক্রেটারি ও অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি নূর-ই আলম চৌধুরী (এমপি) এবং নৌপুলিশের ডিআইজি শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান (বিপিএমপিপিএম) এ ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।

গতকাল শনিবার বিকেলে শিবচর উপজেলার চরমপন্থী অধ্যুষিত নিলখী ইউনিয়নের কলাতলা এলাকায় নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় নৌপুলিশের ডিআইজি শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান বলেন, চরমপন্থী সর্বহারা অধ্যুষিত এলাকায় জেলা পুলিকে সহযোগিতা করতে নৌপুলিশ ফাঁড়ির যাত্রা শুরু হলো। চরমপন্থী যেই হোক এই এলাকায় কেউ কোনো কর্মকাণ্ড করে রেহাই পাবে না।’

উল্লেখ্য যে, শিবচর এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি(MBRM) অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত।

সূত্রঃ http://www.kalerkantho.com/online/country-news/2018/04/29/630720


কথিত বন্দুকযুদ্ধে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি(মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন) এর সদস্য নিহত

Rajbari-pic-2

বাংলাদেশের গণমাধ্যম banglatribune.com জানাচ্ছে, রাজবাড়ী জেলা সদরের জৌকুড়া বালু ঘাট এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ছাইদুল ওরফে আমির সরদার (৩২) নামে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি(মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন – MBRM) এর এক সদস্য নিহত হয়েছে। সোমবার (১৭ এপ্রিল)  দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি এসএলআর, ৩২ রাউন্ড গুলি, একটি দোনালা বন্দুক, ২৩টি কার্তুজ, ১টি ধারালো ছোরা, ৬টি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আসমা সিদ্দিকা মিলি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ বলছে, নিহত ছাইদুল পাবনা জেলার আটঘরিয়া থানার চাচকিয়া গ্রামের তাহামুদ্দিন তনু সরদারের ছেলে। সে নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি(মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন – MBRM) এর আঞ্চলিক কমান্ডার ছিল।

পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি জানান,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জৌকুড়া এলাকায় ডিবি পুলিশ অভিযান চালায়। চরমপন্থী সর্বহারা সদস্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশের দিকে গুলি চালায়।  পুলিশও তাদের নিজেদের জানমাল রক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। দু’পক্ষের গোলাগুলির এক পর্যায়ে চরমপন্থী সর্বহারার সদস্যরা পিছু হটে চরের বিভিন্ন দিকে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায় ছাইদুলকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজবাড়ী সদর হাসপাতোলের জরুরী বিভাগে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাত পৌনে ৪টায় মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, নিহত চরমপন্থী  ছাইদুল পাবনা জেলায় ২টি হত্যা, ২টি অস্ত্র, ১টি অপহরণ মামলাসহ মোট ৭টি মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ছিলো।

 


পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি (মাওবাদী বলশেভিক রিঅর্গানাইজেশন মুভমেন্ট- MBRM) এর সংগঠক গ্রেফতার

7977_n

রাজবাড়ীতে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি (মাওবাদী বলশেভিক রিঅর্গানাইজেশন মুভমেন্ট- MBRM) এর সংগঠক ইদ্রিস ব্যাপারী ওরফে ল্যাংড়া ইদ্রিসকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে রাজবাড়ী ডিবি পুলিশ। তিনি জেলা সদরের পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের নবগ্রামের ফজেল ব্যাপারীর ছেলে।

গত মঙ্গলবার উপজেলার কুটি পাঁচুরিয়া এলাকা থেকে ডিবির ওসি ওবাইদুর রহমানের নেতৃত্বে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, ইদ্রিস ব্যাপারী ওরফে ল্যাংড়া ইদ্রিস চরমপন্থী এমবিআরএমের রাজবাড়ীর সংগঠক। তার বিরুদ্ধে রাজবাড়ী থানায় দু’টি হত্যা মামলাসহ তিনটি মামলা রয়েছে।

সূত্রঃ  https://rajbaribarta.com/2312

 


পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি’র প্রথম অবাঙ্গালী বিপ্লবী শহীদ কমরেড তাহের আজমী

শহীদ কমরেড তাহের আজমী

শহীদ কমরেড তাহের আজমী

মোহম্মদ শমিউল্লাহ্ আজমী(পার্টি নাম- তাহের আজমী)। এই তাঁর পারিবারিক নাম। ডাকনাম বাচ্চু। জন্মেছিলেন ১৯৪৭ সালের জানুয়ারী মাসের কোনো একদিন। বর্তমান পূর্ব উত্তর প্রদেশের বালিয়া শহরে। পাঁচ ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। তাঁর বাবা মা ছিলেন উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলা থেকে আগত। তাঁর পরিবার দেশভাগের পর তদানিন্তন পূর্বপাকিস্তানে চলে যান। শমিউল্লা সেখানেই বড় হয়ে ওঠেন। তাঁর প্রাথমিক পড়াশুনা শুরু হয় তালোরা, গাইবান্ধা ও ফেনী এই তিন জায়গার বাংলা মাধ্যম স্কুলে। পরে যখন তাঁরা পাকাপাকিভাবে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন তখন প্রথমে ভর্তি হন ডন স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ও পরে শাহীন স্কুলে নবম ও দশম শ্রেণীতে। পরে ইন্টারমিডিয়েট তেজগাঁও টেকনিকাল কলেজে এবং তারপর কায়দে আজম কলেজে। কায়দে আজম কলেজে তিনি soil science নিয়ে B.sc.পড়তে শুরু করেন। এই সময়েই তিনি বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। ১৯৬৯ এ আত্মগোপন করার আগে পর্যন্ত তাঁর বাসস্থান ছিল ৯৫ সবুজবাগ, কমলাপুর, ঢাকা। কমরেড সিরাজ সিকদার কর্তৃক প্রথম যে দলটি সংগঠিত হয়, তিনি ছিলেন তার পুরোধা। ১৯৬৭ সালের শেষদিকে মেনন গ্রুপের EPSU ছাত্র সংগঠনের আজীমপুর, তোপখানা রোডের দফতরে তাঁর সাথে আজমীর প্রথম সাক্ষাত। সিরাজ সিকদার সেসময় একগুচ্ছ অত্যন্ত অগ্রসর বিপ্লবী চেতনা সম্পন্ন মানুষকে একত্রিত করার কাজে তৎপর হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিলো পরাধীন পূর্ববাংলার শোষিত মানুষের মুক্তির জন্য একটি সর্বাত্মক সশস্ত্র আন্দোলন গড়ে তোলা। পরিচয়ের কিছুদিনের মধ্যেই শমিউল্লা আজমী সিরাজ সিকদারের ঘনিষ্ঠতম সাথীদের একজন হয়ে হয়ে উঠলেন এবং ১৯৭১ এ সাভারে শহীদ হওয়া পর্যন্ত তাঁর স্থান এবং আনুগত্য অটুট ছিল। আজমীর এই অকাল মৃত্যুর কিছুকাল পূর্বে যখন তাঁর পরিবার করাচি চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখনই তাঁর মা আজমীকে সস্ত্রীক তাঁদের সাথে দেশত্যাগ করতে বলেন। আজমী এবং তাঁর স্ত্রী উভয়েই সে প্রস্তাব সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেন। মাতৃ হৃদয় অবুঝ। তিনি চলে গিয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু মৃত্যুর শেষদিন পর্যন্ত সন্তানের মাতৃক্রোড়ে ফিরে আসার প্রতীক্ষা করেছেন। এমনকি সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ বিশ্বাস করেননি মৃত্যু পর্যন্ত। আজমীর মৃত্যুর পর সিরাজ সিকদার শোকজ্ঞাপন করে এবং সংগঠনে ওপূর্ববাংলার জনগণের মুক্তিসংগ্রামে তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ করে একটি চিঠি আজমীর বোনের কাছে প্রেরণ করেন। বাংলার জন্য তাঁর আত্মদানকে সিরাজ সিকদার কানাডার কম্যুনিস্ট ডাক্তার নর্মান বেথুনের সঙ্গে তুলনা করে তাঁকে “বাংলার নর্মান বেথুন”এই আখ্যা দিয়েছিলেন।

মধ্যবর্তী ইতিহাসঃ

এক সন্ধ্যায় সিরাজ সিকদারের বাড়িতে তিনি, শমিউল্লাহ্ ও রজীউল্লাহ্(শমির ছোটো ভাই) একটি শপথনামায় নিজেদের রক্ত দিয়ে সই করেন। তাঁরা শপথ নেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বিপ্লবের পথে। ঐ তিনজন ছদ্মনাম গ্রহন করেন। সিরাজ ওরফে রুহুল আলম, শমিউল্লাহ্ ওরফে রুহুল আমিন এবং রজীউল্লাহ্ ওরফে রুহুল কুদ্দুস। এই রুহুল শব্দটি তিন জনের নামের মধ্যে রেখে একটি ভ্রাতৃত্ববোধের সঞ্চার করতে চেয়েছিলেন বোধহয়।কিন্তু পরবর্তিতে তা সফল হয়নি। ১৯৭০ এ খালেদা নামে একজন বিপ্লবী তরুণীর সাথে আজমীর ঘনিষ্ঠতা ও প্রেম হয়। তিনি সংগঠনের অনুমতিক্রমে ৫ই মে তে, যেদিন পাকিস্তান কাউন্সিল ও ইউসিস লাইব্রেরীর উপর একটি প্রতীকি হামলা চালানো হয়(কোনো জান মালের ক্ষতি না করে) সেই দিন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অবশ্য অনুমতিপত্র পকেটে নিয়েও সদ্যবিবাহিতা স্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করতে পারেননি। সাতদিন পর তিনি স্ত্রীকে নিয়ে বরিশাল রওনা হলেন লঞ্চে। বরিশালে কিছুকাল সংগঠন গড়ে তোলার পর আবার সস্ত্রীক ঢাকা ফিরে আসেন। এরপর দুজনে চলে যান চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামে একটি অবাঙালী টোলায় তাঁরা এবং আরও দুজন কমরেড একটি বাড়ি ভাড়া করে থাকেন। ঢাকা থেকেই সিরাজ সিকদার, তাঁর স্ত্রী জাহানারা, আজমী, তাঁর স্ত্রী খালেদা সকলের নামেই পাকিস্তান সরকার গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছিল। প্রত্যেকের মাথার দাম ঘোষিত ছিলো এবং জীবিত অথবা মৃত। এই মহল্লার মানুষের পক্ষে এসব জানা সম্ভব ছিলনা। এখানে আজমীর পরিচয় ছিল সাংবাদিক। তিনি ঐখান থেকেই চট্টগ্রামে জোরকদমে সংগঠন গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। তিনি ছিলেন অসাধারণ বাগ্মি এবং সহজেই মন জয় করতে পারতেন এবং উদ্বুদ্ধ করতে পারতেন কর্মীদের। ইতিমধ্যে কমরেড সিরাজ সিকদারের নির্দেশক্রমে আজমী তাঁর স্ত্রীর সহায়তায় স্বাধীন বাংলার পতাকার রূপ দান করেন। ১৯৭০ সালের ৩রা ডিসেম্বর পল্টনে মওলানা ভাসানীর জনসভায় পুর্ব বাংলার জাতীয় গনতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করার আহ্বান সংবলিত লিফলেট এবং ভবিষ্যতে স্বাধীন পুর্ব বাংলার পতাকা বিতরন করে। সে পতাকাটি, সিরাজ সিকদারের অনুসারীদের ভাষায়, এখনকার বাংলাদেশের পতাকা যার ডিজাইন করেছিলেন শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় কর্মী অবাঙ্গালী কমরেড তাহের আজমী ।

৭ই মার্চ পল্টন ময়দানে জনসমাবেশে মুজিব ঘোষিত স্বায়ত্বশাসনের ডাক জনগণের স্বাধীনতার আকাঙ্খার হুঙ্কারের নীচে চাপা পড়ে গেলে, মুজিবকে গ্রেফতারের নাটক হয়ে গেলে সারাদেশে শৃঙ্খলাহীণভাবে লড়াই শুরু হয়ে যায়। যুব সম্প্রদায় ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণ দিতে থাকে এই অসংগঠিত যুদ্ধে। বানের জলের মতো যোশ আর উচ্ছাসে জানের পরোয়া নেই কারো। ফলে অযাচিতভাবে কত তরুণপ্রাণ বিনষ্ট হয়েছে। ঐ অবস্থাতেই শুরু হয়ে যায় বাঙালী অবাঙালী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। আজমী হালিশহর থেকে কোনোভাবে বেরিয়ে মেহেদীবাগে ইঞ্জিনিয়ারদের মেসে উঠলেন। সেখান থেকে পাহাড়তলী। পাহাড়তলী থেকে হেঁটে রামগড় শাব্রুম হয়ে আগরতলা। আগরতলায় পৌঁছে তাঁর স্ত্রী ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিকে টাকা নেই।  স্ত্রীর গহনা যা কিছু আজমীর মায়ের দেয়া তা পার্টিফাণ্ডে জমা করা হয়ে গেছে। বিক্রি করে ওষুধ কেনার মতো কিছু ছিলনা। ছিল শুধু একটি লেডিস ঘড়ি স্ত্রীর হাতে।

 তাই বেচে স্ত্রীর পথ্য জোগাড় হ’ল। এখান থেকে ট্রেনে উঠে সোজা কুচবিহার খালেদার বাড়ি। তখন গোলমালের সময় বলে বোধহয় ট্রেনে টিকিট লাগতোনা।  যাই হোক কুচবিহারে কতদিন তিনি অবস্থান করেছিলেন জানা যায়না। পরে কলকাতা এসে বনগাঁ দিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে আসেন সস্ত্রীক। ঢাকা পৌঁছে আবার সংগঠনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন হ’ল।

কোনো এক অজানা কারণে কমরেড সিরাজ সিকদার আজমীকে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করে রাখলেন। একই শহরে থাকা সত্ত্বেও তাঁদের সাক্ষাতের অনুমতি ছিলনা।

এর কিছুদিন পর যুদ্ধের প্রয়োজনে মুক্তিবাহিনীর সাথে ঐক্যফ্রন্ট গঠনের উদ্দেশ্যে আজমীকে সাভারে প্রেরণ করা হয়। এরপরের ইতিহাস সবার জানা। আওয়ামী মুক্তিবাহিনীরা কমরেড তাহেরসহ অন্যান্যদের হত্যা করে।

কিন্তু জানা গেলনা কিভাবে ঠিক কোন জায়গায় তাঁদের হত্যা করা হয়েছিল।

এ নিয়ে সিরাজ শিকদার ‘সাভারের লাল মাটি’ শীর্ষক কবিতা লেখেন

তাহের, তোমাকে কতবার বলেছি

সতর্ক হতে।

আওয়ামী লীগের চররা

হায়নার মত খুঁজে বেড়ায়

বন্ধুর বেশে আমাদের

খতম করে।

রাতের অন্ধকারে

ফ্যাসিস্টদের বুলেটের শব্দে

তোমাদের ঘুম ভেঙ্গে যায় ।

তারপর…

লড়েছিলে ।

আর কিছু জানিনে ।

সূত্রঃ

raziazmi.com

ও শহীদ কমরেডের স্ত্রী Monzi khaleda begum

 


‘চার নীতিকে অনুশীলন করুন’ – পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি

poster

চার নীতিকে অনুশীলন করুন

[নোট: এই লেখাটি মোহাম্মদ শাহীনের, যা প্রথমে প্রকাশিত হয়েছিল পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির মতাদর্শগত তত্ত্বগত মুখপত্র “লালঝাণ্ডা” পত্রিকার তৃতীয় প্রকাশ,সংখ্যা নং-২, জুন ২০০১ সংখ্যায়।]

আমাদের চার নীতিকে অনুশীলনের জন্য প্রথমে নীতিগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা অর্জন করতে হবে। তাহলে নীতিগুলোকে সঠিকভাবে অনুশীলন করা যাবে।

আমাদের চার নীতি হচ্ছে:

. তিনকে বর্জন করা ও তিনকে আঁকড়ে ধরার নীতি।

. চারটি ভাল কাজ করা ও চারটি মন্দ কাজ না করার নীতি।

. দ্বন্দ্ববাদকে আঁকড়ে ধরার নীতি।

. বিপ্লবী তত্ত্বে সজ্জিত হবার নীতি।

এই নীতিগুলোকে আহ্বান আকারে কর্মী-জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে। এবং এই নীতিগুলো দ্বারা কর্মী-জনগণকে ভালভাবে সজ্জিত করতে হবে। এর সুবিধার্থে নীতিগুলোকে আহবান আকারে উপস্থাপন করা হলো।

তিনকে বর্জন করুন এবং তিনকে আঁকড়ে ধরুন

. সবকিছুকেই বিশ্বব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত করে দেখুন। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা সহায়ক তাকে বর্জন করুন। এবং কমিউনিজমের বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য যা প্রয়োজনীয় তাকে আঁকড়ে ধরুন।

. সবকিছুকেই বিপ্লবের সাথে সম্পর্কিত করে দেখুন। যা কিছু বিপ্লবের জন্য ক্ষতিকর তাকে বর্জন করুন। এবং যা কিছু বিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় তাকে আঁকড়ে ধরুন।

. সবকিছুকেই জনগণের সাথে সম্পর্কিত করে দেখুন। যা কিছু জনগণের জন্য ক্ষতিকর তাকে বর্জন করুন। এবং যা কিছু জনগণের জন্য উপকারী তাকে আঁকড়ে ধরুন।

চারটি ভালো কাজ ও চারটি মন্দ কাজ

. মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদকে আঁকড়ে ধরাটা হচ্ছে ভাল কাজ। এবং সংশোদনবাদকে গ্রহণ করাটা হচ্ছে মন্দ কাজ।

. জনগণের সেবক হওয়াটা হচ্ছে ভাল কাজ। এবং জনগণের মাথার উপর চড়ে বসা আমলা হওয়াটা হচ্ছে মন্দ কাজ।

. শ্রেণিসংগ্রামকে আঁকড়ে ধরাটা হচ্ছে ভাল কাজ। এবং শ্রেণিসমন্বয়বাদকে গ্রহণ করাটা হচ্ছে মন্দ কাজ।

. সিরাজ সিকদারকে উর্ধে তুলে ধরাটা হচ্ছে ভাল কাজ। এবং সিরাজ সিকদারকে নিন্দা করাটা হচ্ছে মন্দ কাজ।

দ্বন্দ্ববাদকে আঁকড়ে ধরুন

আপনার যোগ্যতা কম বা বেশি যাই হোক না কেনো, আপনি যদি দ্বন্দ্ববাদকে আঁকড়ে ধরেন, তাহলে তা জনগণের জন্য ও বিপ্লবের জন্য খুবই উপকারী হবে।

বিপ্লবী তত্ত্বে সজ্জিত হোন

বিপ্লবী তত্ত্বকে আঁকড়ে ধরুন, বিপ্লবী তত্ত্বকে অধ্যয়ন করুন, বিপ্লবী তত্ত্ব দ্বারা সজ্জিত হোন এবং বিপ্লবী তত্ত্ব দ্বারা অন্যদেরকেও সজ্জিত করুন, কেননা বিপ্লবী তত্ত্ব ছাড়া বিপ্লবী আন্দোলন হয় না। 

 

সূত্রঃ pbspmbrm