মাদারীপুরে সর্বহারা অধ্যুষিত শিবচরে নৌপুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধন

photo-1518355660

সর্বহারা অধ্যুষিত মাদারীপুরের শিবচরের প্রত্যন্ত এলাকায় নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের সেক্রেটারি ও অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি নূর-ই আলম চৌধুরী (এমপি) এবং নৌপুলিশের ডিআইজি শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান (বিপিএমপিপিএম) এ ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।

গতকাল শনিবার বিকেলে শিবচর উপজেলার চরমপন্থী অধ্যুষিত নিলখী ইউনিয়নের কলাতলা এলাকায় নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় নৌপুলিশের ডিআইজি শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান বলেন, চরমপন্থী সর্বহারা অধ্যুষিত এলাকায় জেলা পুলিকে সহযোগিতা করতে নৌপুলিশ ফাঁড়ির যাত্রা শুরু হলো। চরমপন্থী যেই হোক এই এলাকায় কেউ কোনো কর্মকাণ্ড করে রেহাই পাবে না।’

উল্লেখ্য যে, শিবচর এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি(MBRM) অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত।

সূত্রঃ http://www.kalerkantho.com/online/country-news/2018/04/29/630720

Advertisements

কথিত বন্দুকযুদ্ধে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি(মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন) এর সদস্য নিহত

Rajbari-pic-2

বাংলাদেশের গণমাধ্যম banglatribune.com জানাচ্ছে, রাজবাড়ী জেলা সদরের জৌকুড়া বালু ঘাট এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ছাইদুল ওরফে আমির সরদার (৩২) নামে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি(মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন – MBRM) এর এক সদস্য নিহত হয়েছে। সোমবার (১৭ এপ্রিল)  দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি এসএলআর, ৩২ রাউন্ড গুলি, একটি দোনালা বন্দুক, ২৩টি কার্তুজ, ১টি ধারালো ছোরা, ৬টি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আসমা সিদ্দিকা মিলি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ বলছে, নিহত ছাইদুল পাবনা জেলার আটঘরিয়া থানার চাচকিয়া গ্রামের তাহামুদ্দিন তনু সরদারের ছেলে। সে নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি(মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন – MBRM) এর আঞ্চলিক কমান্ডার ছিল।

পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি জানান,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জৌকুড়া এলাকায় ডিবি পুলিশ অভিযান চালায়। চরমপন্থী সর্বহারা সদস্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশের দিকে গুলি চালায়।  পুলিশও তাদের নিজেদের জানমাল রক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। দু’পক্ষের গোলাগুলির এক পর্যায়ে চরমপন্থী সর্বহারার সদস্যরা পিছু হটে চরের বিভিন্ন দিকে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায় ছাইদুলকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজবাড়ী সদর হাসপাতোলের জরুরী বিভাগে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাত পৌনে ৪টায় মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, নিহত চরমপন্থী  ছাইদুল পাবনা জেলায় ২টি হত্যা, ২টি অস্ত্র, ১টি অপহরণ মামলাসহ মোট ৭টি মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ছিলো।

 


পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি (মাওবাদী বলশেভিক রিঅর্গানাইজেশন মুভমেন্ট- MBRM) এর সংগঠক গ্রেফতার

7977_n

রাজবাড়ীতে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি (মাওবাদী বলশেভিক রিঅর্গানাইজেশন মুভমেন্ট- MBRM) এর সংগঠক ইদ্রিস ব্যাপারী ওরফে ল্যাংড়া ইদ্রিসকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে রাজবাড়ী ডিবি পুলিশ। তিনি জেলা সদরের পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের নবগ্রামের ফজেল ব্যাপারীর ছেলে।

গত মঙ্গলবার উপজেলার কুটি পাঁচুরিয়া এলাকা থেকে ডিবির ওসি ওবাইদুর রহমানের নেতৃত্বে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, ইদ্রিস ব্যাপারী ওরফে ল্যাংড়া ইদ্রিস চরমপন্থী এমবিআরএমের রাজবাড়ীর সংগঠক। তার বিরুদ্ধে রাজবাড়ী থানায় দু’টি হত্যা মামলাসহ তিনটি মামলা রয়েছে।

সূত্রঃ  https://rajbaribarta.com/2312

 


পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি’র প্রথম অবাঙ্গালী বিপ্লবী শহীদ কমরেড তাহের আজমী

শহীদ কমরেড তাহের আজমী

শহীদ কমরেড তাহের আজমী

মোহম্মদ শমিউল্লাহ্ আজমী(পার্টি নাম- তাহের আজমী)। এই তাঁর পারিবারিক নাম। ডাকনাম বাচ্চু। জন্মেছিলেন ১৯৪৭ সালের জানুয়ারী মাসের কোনো একদিন। বর্তমান পূর্ব উত্তর প্রদেশের বালিয়া শহরে। পাঁচ ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। তাঁর বাবা মা ছিলেন উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলা থেকে আগত। তাঁর পরিবার দেশভাগের পর তদানিন্তন পূর্বপাকিস্তানে চলে যান। শমিউল্লা সেখানেই বড় হয়ে ওঠেন। তাঁর প্রাথমিক পড়াশুনা শুরু হয় তালোরা, গাইবান্ধা ও ফেনী এই তিন জায়গার বাংলা মাধ্যম স্কুলে। পরে যখন তাঁরা পাকাপাকিভাবে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন তখন প্রথমে ভর্তি হন ডন স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ও পরে শাহীন স্কুলে নবম ও দশম শ্রেণীতে। পরে ইন্টারমিডিয়েট তেজগাঁও টেকনিকাল কলেজে এবং তারপর কায়দে আজম কলেজে। কায়দে আজম কলেজে তিনি soil science নিয়ে B.sc.পড়তে শুরু করেন। এই সময়েই তিনি বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। ১৯৬৯ এ আত্মগোপন করার আগে পর্যন্ত তাঁর বাসস্থান ছিল ৯৫ সবুজবাগ, কমলাপুর, ঢাকা। কমরেড সিরাজ সিকদার কর্তৃক প্রথম যে দলটি সংগঠিত হয়, তিনি ছিলেন তার পুরোধা। ১৯৬৭ সালের শেষদিকে মেনন গ্রুপের EPSU ছাত্র সংগঠনের আজীমপুর, তোপখানা রোডের দফতরে তাঁর সাথে আজমীর প্রথম সাক্ষাত। সিরাজ সিকদার সেসময় একগুচ্ছ অত্যন্ত অগ্রসর বিপ্লবী চেতনা সম্পন্ন মানুষকে একত্রিত করার কাজে তৎপর হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিলো পরাধীন পূর্ববাংলার শোষিত মানুষের মুক্তির জন্য একটি সর্বাত্মক সশস্ত্র আন্দোলন গড়ে তোলা। পরিচয়ের কিছুদিনের মধ্যেই শমিউল্লা আজমী সিরাজ সিকদারের ঘনিষ্ঠতম সাথীদের একজন হয়ে হয়ে উঠলেন এবং ১৯৭১ এ সাভারে শহীদ হওয়া পর্যন্ত তাঁর স্থান এবং আনুগত্য অটুট ছিল। আজমীর এই অকাল মৃত্যুর কিছুকাল পূর্বে যখন তাঁর পরিবার করাচি চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখনই তাঁর মা আজমীকে সস্ত্রীক তাঁদের সাথে দেশত্যাগ করতে বলেন। আজমী এবং তাঁর স্ত্রী উভয়েই সে প্রস্তাব সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেন। মাতৃ হৃদয় অবুঝ। তিনি চলে গিয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু মৃত্যুর শেষদিন পর্যন্ত সন্তানের মাতৃক্রোড়ে ফিরে আসার প্রতীক্ষা করেছেন। এমনকি সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ বিশ্বাস করেননি মৃত্যু পর্যন্ত। আজমীর মৃত্যুর পর সিরাজ সিকদার শোকজ্ঞাপন করে এবং সংগঠনে ওপূর্ববাংলার জনগণের মুক্তিসংগ্রামে তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ করে একটি চিঠি আজমীর বোনের কাছে প্রেরণ করেন। বাংলার জন্য তাঁর আত্মদানকে সিরাজ সিকদার কানাডার কম্যুনিস্ট ডাক্তার নর্মান বেথুনের সঙ্গে তুলনা করে তাঁকে “বাংলার নর্মান বেথুন”এই আখ্যা দিয়েছিলেন।

মধ্যবর্তী ইতিহাসঃ

এক সন্ধ্যায় সিরাজ সিকদারের বাড়িতে তিনি, শমিউল্লাহ্ ও রজীউল্লাহ্(শমির ছোটো ভাই) একটি শপথনামায় নিজেদের রক্ত দিয়ে সই করেন। তাঁরা শপথ নেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বিপ্লবের পথে। ঐ তিনজন ছদ্মনাম গ্রহন করেন। সিরাজ ওরফে রুহুল আলম, শমিউল্লাহ্ ওরফে রুহুল আমিন এবং রজীউল্লাহ্ ওরফে রুহুল কুদ্দুস। এই রুহুল শব্দটি তিন জনের নামের মধ্যে রেখে একটি ভ্রাতৃত্ববোধের সঞ্চার করতে চেয়েছিলেন বোধহয়।কিন্তু পরবর্তিতে তা সফল হয়নি। ১৯৭০ এ খালেদা নামে একজন বিপ্লবী তরুণীর সাথে আজমীর ঘনিষ্ঠতা ও প্রেম হয়। তিনি সংগঠনের অনুমতিক্রমে ৫ই মে তে, যেদিন পাকিস্তান কাউন্সিল ও ইউসিস লাইব্রেরীর উপর একটি প্রতীকি হামলা চালানো হয়(কোনো জান মালের ক্ষতি না করে) সেই দিন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অবশ্য অনুমতিপত্র পকেটে নিয়েও সদ্যবিবাহিতা স্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করতে পারেননি। সাতদিন পর তিনি স্ত্রীকে নিয়ে বরিশাল রওনা হলেন লঞ্চে। বরিশালে কিছুকাল সংগঠন গড়ে তোলার পর আবার সস্ত্রীক ঢাকা ফিরে আসেন। এরপর দুজনে চলে যান চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামে একটি অবাঙালী টোলায় তাঁরা এবং আরও দুজন কমরেড একটি বাড়ি ভাড়া করে থাকেন। ঢাকা থেকেই সিরাজ সিকদার, তাঁর স্ত্রী জাহানারা, আজমী, তাঁর স্ত্রী খালেদা সকলের নামেই পাকিস্তান সরকার গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছিল। প্রত্যেকের মাথার দাম ঘোষিত ছিলো এবং জীবিত অথবা মৃত। এই মহল্লার মানুষের পক্ষে এসব জানা সম্ভব ছিলনা। এখানে আজমীর পরিচয় ছিল সাংবাদিক। তিনি ঐখান থেকেই চট্টগ্রামে জোরকদমে সংগঠন গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। তিনি ছিলেন অসাধারণ বাগ্মি এবং সহজেই মন জয় করতে পারতেন এবং উদ্বুদ্ধ করতে পারতেন কর্মীদের। ইতিমধ্যে কমরেড সিরাজ সিকদারের নির্দেশক্রমে আজমী তাঁর স্ত্রীর সহায়তায় স্বাধীন বাংলার পতাকার রূপ দান করেন। ১৯৭০ সালের ৩রা ডিসেম্বর পল্টনে মওলানা ভাসানীর জনসভায় পুর্ব বাংলার জাতীয় গনতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করার আহ্বান সংবলিত লিফলেট এবং ভবিষ্যতে স্বাধীন পুর্ব বাংলার পতাকা বিতরন করে। সে পতাকাটি, সিরাজ সিকদারের অনুসারীদের ভাষায়, এখনকার বাংলাদেশের পতাকা যার ডিজাইন করেছিলেন শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় কর্মী অবাঙ্গালী কমরেড তাহের আজমী ।

৭ই মার্চ পল্টন ময়দানে জনসমাবেশে মুজিব ঘোষিত স্বায়ত্বশাসনের ডাক জনগণের স্বাধীনতার আকাঙ্খার হুঙ্কারের নীচে চাপা পড়ে গেলে, মুজিবকে গ্রেফতারের নাটক হয়ে গেলে সারাদেশে শৃঙ্খলাহীণভাবে লড়াই শুরু হয়ে যায়। যুব সম্প্রদায় ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণ দিতে থাকে এই অসংগঠিত যুদ্ধে। বানের জলের মতো যোশ আর উচ্ছাসে জানের পরোয়া নেই কারো। ফলে অযাচিতভাবে কত তরুণপ্রাণ বিনষ্ট হয়েছে। ঐ অবস্থাতেই শুরু হয়ে যায় বাঙালী অবাঙালী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। আজমী হালিশহর থেকে কোনোভাবে বেরিয়ে মেহেদীবাগে ইঞ্জিনিয়ারদের মেসে উঠলেন। সেখান থেকে পাহাড়তলী। পাহাড়তলী থেকে হেঁটে রামগড় শাব্রুম হয়ে আগরতলা। আগরতলায় পৌঁছে তাঁর স্ত্রী ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিকে টাকা নেই।  স্ত্রীর গহনা যা কিছু আজমীর মায়ের দেয়া তা পার্টিফাণ্ডে জমা করা হয়ে গেছে। বিক্রি করে ওষুধ কেনার মতো কিছু ছিলনা। ছিল শুধু একটি লেডিস ঘড়ি স্ত্রীর হাতে।

 তাই বেচে স্ত্রীর পথ্য জোগাড় হ’ল। এখান থেকে ট্রেনে উঠে সোজা কুচবিহার খালেদার বাড়ি। তখন গোলমালের সময় বলে বোধহয় ট্রেনে টিকিট লাগতোনা।  যাই হোক কুচবিহারে কতদিন তিনি অবস্থান করেছিলেন জানা যায়না। পরে কলকাতা এসে বনগাঁ দিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে আসেন সস্ত্রীক। ঢাকা পৌঁছে আবার সংগঠনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন হ’ল।

কোনো এক অজানা কারণে কমরেড সিরাজ সিকদার আজমীকে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করে রাখলেন। একই শহরে থাকা সত্ত্বেও তাঁদের সাক্ষাতের অনুমতি ছিলনা।

এর কিছুদিন পর যুদ্ধের প্রয়োজনে মুক্তিবাহিনীর সাথে ঐক্যফ্রন্ট গঠনের উদ্দেশ্যে আজমীকে সাভারে প্রেরণ করা হয়। এরপরের ইতিহাস সবার জানা। আওয়ামী মুক্তিবাহিনীরা কমরেড তাহেরসহ অন্যান্যদের হত্যা করে।

কিন্তু জানা গেলনা কিভাবে ঠিক কোন জায়গায় তাঁদের হত্যা করা হয়েছিল।

এ নিয়ে সিরাজ শিকদার ‘সাভারের লাল মাটি’ শীর্ষক কবিতা লেখেন

তাহের, তোমাকে কতবার বলেছি

সতর্ক হতে।

আওয়ামী লীগের চররা

হায়নার মত খুঁজে বেড়ায়

বন্ধুর বেশে আমাদের

খতম করে।

রাতের অন্ধকারে

ফ্যাসিস্টদের বুলেটের শব্দে

তোমাদের ঘুম ভেঙ্গে যায় ।

তারপর…

লড়েছিলে ।

আর কিছু জানিনে ।

সূত্রঃ

raziazmi.com

ও শহীদ কমরেডের স্ত্রী Monzi khaleda begum

 


‘চার নীতিকে অনুশীলন করুন’ – পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি

poster

চার নীতিকে অনুশীলন করুন

[নোট: এই লেখাটি মোহাম্মদ শাহীনের, যা প্রথমে প্রকাশিত হয়েছিল পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির মতাদর্শগত তত্ত্বগত মুখপত্র “লালঝাণ্ডা” পত্রিকার তৃতীয় প্রকাশ,সংখ্যা নং-২, জুন ২০০১ সংখ্যায়।]

আমাদের চার নীতিকে অনুশীলনের জন্য প্রথমে নীতিগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা অর্জন করতে হবে। তাহলে নীতিগুলোকে সঠিকভাবে অনুশীলন করা যাবে।

আমাদের চার নীতি হচ্ছে:

. তিনকে বর্জন করা ও তিনকে আঁকড়ে ধরার নীতি।

. চারটি ভাল কাজ করা ও চারটি মন্দ কাজ না করার নীতি।

. দ্বন্দ্ববাদকে আঁকড়ে ধরার নীতি।

. বিপ্লবী তত্ত্বে সজ্জিত হবার নীতি।

এই নীতিগুলোকে আহ্বান আকারে কর্মী-জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে। এবং এই নীতিগুলো দ্বারা কর্মী-জনগণকে ভালভাবে সজ্জিত করতে হবে। এর সুবিধার্থে নীতিগুলোকে আহবান আকারে উপস্থাপন করা হলো।

তিনকে বর্জন করুন এবং তিনকে আঁকড়ে ধরুন

. সবকিছুকেই বিশ্বব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত করে দেখুন। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা সহায়ক তাকে বর্জন করুন। এবং কমিউনিজমের বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য যা প্রয়োজনীয় তাকে আঁকড়ে ধরুন।

. সবকিছুকেই বিপ্লবের সাথে সম্পর্কিত করে দেখুন। যা কিছু বিপ্লবের জন্য ক্ষতিকর তাকে বর্জন করুন। এবং যা কিছু বিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় তাকে আঁকড়ে ধরুন।

. সবকিছুকেই জনগণের সাথে সম্পর্কিত করে দেখুন। যা কিছু জনগণের জন্য ক্ষতিকর তাকে বর্জন করুন। এবং যা কিছু জনগণের জন্য উপকারী তাকে আঁকড়ে ধরুন।

চারটি ভালো কাজ ও চারটি মন্দ কাজ

. মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদকে আঁকড়ে ধরাটা হচ্ছে ভাল কাজ। এবং সংশোদনবাদকে গ্রহণ করাটা হচ্ছে মন্দ কাজ।

. জনগণের সেবক হওয়াটা হচ্ছে ভাল কাজ। এবং জনগণের মাথার উপর চড়ে বসা আমলা হওয়াটা হচ্ছে মন্দ কাজ।

. শ্রেণিসংগ্রামকে আঁকড়ে ধরাটা হচ্ছে ভাল কাজ। এবং শ্রেণিসমন্বয়বাদকে গ্রহণ করাটা হচ্ছে মন্দ কাজ।

. সিরাজ সিকদারকে উর্ধে তুলে ধরাটা হচ্ছে ভাল কাজ। এবং সিরাজ সিকদারকে নিন্দা করাটা হচ্ছে মন্দ কাজ।

দ্বন্দ্ববাদকে আঁকড়ে ধরুন

আপনার যোগ্যতা কম বা বেশি যাই হোক না কেনো, আপনি যদি দ্বন্দ্ববাদকে আঁকড়ে ধরেন, তাহলে তা জনগণের জন্য ও বিপ্লবের জন্য খুবই উপকারী হবে।

বিপ্লবী তত্ত্বে সজ্জিত হোন

বিপ্লবী তত্ত্বকে আঁকড়ে ধরুন, বিপ্লবী তত্ত্বকে অধ্যয়ন করুন, বিপ্লবী তত্ত্ব দ্বারা সজ্জিত হোন এবং বিপ্লবী তত্ত্ব দ্বারা অন্যদেরকেও সজ্জিত করুন, কেননা বিপ্লবী তত্ত্ব ছাড়া বিপ্লবী আন্দোলন হয় না। 

 

সূত্রঃ pbspmbrm


পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর উদ্দেশ্যে পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি (সিসি)’র খোলাচিঠি

Maoist-Flag

পূবাকপা (এম-এল)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মী-জনগণের উদ্দেশ্যে পূবাসপা (সিসি)’র খোলাচিঠি

কমরেডগণ,

লাল সালাম।

বিগত শতাব্দীর ’৬০-এর দশকের শেষ দিকে রুশ-চীন মহাবির্তক, চেয়ারম্যান মাওয়ের নেতৃত্বে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব (জিপিসিআর) এবং কমরেড চারু মজুমদারের নেতৃত্বে ভারতের নকশালবাড়ীর সশস্ত্র কৃষক অভ্যুত্থানের প্রভাবে আমাদের দেশে মাওবাদী (তখন “মাও চিন্তাধারা” বলা হতো) আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। সেই আন্দোলনের অংশ হচ্ছে আপনাদের পার্টি পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) এবং আমাদের পার্টি পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি। ’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এবং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর রুশ-ভারতের দালাল শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী-বাকশালী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ’৭১-’৭৪ সালে এই দুই পার্টিসহ অন্যান্য মাওবাদী পার্টি ও সংগঠনসমূহ গৌরবময় সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালনা করেছিল। এই সংগ্রামেই আমাদের ও আপনাদের পার্টি-নেতা কমরেড সিরাজ সিকদার ও কমরেড মনিরুজ্জামান তারাসহ অনেক মাওবাদী শহীদ হন।

’৭৬ সালে চেয়ারম্যান মাওয়ের মৃত্যুর পর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের মহাসংকটকালে মাওবাদ অনুসারী কোন কোন সংগঠন ও বেশিরভাগ নেতা সংশোধনবাদে গড়িয়ে পড়ে। কোন কোন সংগঠন বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু আপনাদের ও আমাদের এই দুই পার্টিসহ কমরেড ননী দত্ত (ক. মোশতাক)-এর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (মা-লে) মাওবাদী পতাকা, বিশেষত মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঊর্ধ্বে তুলে ধরে। এই প্রক্রিয়ায়

’৮০-র দশকে আমাদের পার্টি মাদারীপুর-শরীয়তপুর-নরসিংদী-ময়মনসিংহ-রাজবাড়ী-উত্তরাঞ্চলসহ ২৪টি জেলায় এবং ’৯০-এর দশকে আপনাদের পার্টি দেশের পশ্চিমাঞ্চলে দৃষ্টিকাড়া সশস্ত্র সংগ্রাম গড়ে তোলে। যদিও শাসকশ্রেণি ও রাষ্ট্রযন্ত্রের দমন-নির্যাতন এবং মাওবাদী আন্দোলনের মধ্যে বিরাজমান ভুল-ত্রুটির কারণে সেই সংগ্রাম পরাজিত হয়।

’৭৯ সাল থেকেই রাজনীতি ও মতাদর্শকে কেন্দ্রে রেখে আমাদের সংগঠন ধাপে ধাপে তত্ত্ব-অনুশীলন-তত্ত্ব- এই মালেমা প্রক্রিয়ায় অতীত সংগ্রামের সারসংকলন চালাতে থাকে। ইতিপূর্বে ’৮০-র দশকেই আমাদের পার্টি বিশ্ব মাওবাদীদের ঐক্য-কেন্দ্র আর.আই.এম. (রিম) এবং দক্ষিণ এশিয়ার মাওবাদীদের সমন্বয় কমিটি কমপোসা’র সদস্য হয়েছিল। এই আন্তর্জাতিকতাবাদী নতুন ভূমিকাও আমাদের সারসংকলন কাজকে বিরাটভাবে প্রভাবিত করে।

 স্বাভাবিকভাবে এই সারসংকলনকে কেন্দ্র করে পার্টিতে দুই লাইনের সংগ্রামও চলে। একবার পার্টি বড় আকারে বিভক্তও হয়। এসবেরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত পার্টির একটি জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে “মাওবাদী আন্দোলনের চার দশকের সারসংকলন” নামে একটি “নতুন থিসিস” আমাদের পার্টি গ্রহণ করেছে। যার ভিত্তিতে এখন দেশের সমগ্র মাওবাদী আন্দোলনকে পুনর্গঠন করে একটি নতুন ধরনের ঐক্যবদ্ধ মাওবাদী পার্টি গঠন এবং নতুন ধরনের গণযুদ্ধ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা আমাদের পার্টি চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে আপনাদের পার্টি পশ্চিম অঞ্চলের সংগ্রাম, বিপর্যয় ও পরাজয়ের পরবর্তীতে বিভিন্ন বিতর্কের প্রক্রিয়ায় তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ বিভক্তিতে লাইনগত সংগ্রাম খুব একটা স্পষ্টভাবে উঠে আসেনি বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে, যদিও পরবর্তীতে রাজনৈতিক-মতাদর্শগত লাইনগত প্রশ্নাবলীর পার্থক্য কিছু কিছু স্পষ্ট হতে থাকে।

এই বিভক্ত অংশগুলোর মধ্যে ক. রাকেশ কামাল (ক. রাকা)-এর নেতৃত্বাধীন “লাল পতাকা” গ্রুপ নামের অংশটি কমপোসা’য় যোগদান করে এবং পূবাকপা’র বিগত সংগ্রামের সারসংকলন প্রক্রিয়া শুরু করে। সে প্রক্রিয়ায় ক. রাকা “সারসংকলন প্রতিবেদন (প্রাথমিক) খসড়া রূপরেখা” নামক একটি দলিল প্রণয়ন করেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দলিলটি সিসি কর্তৃক অনুমোদন এবং পার্টি-ব্যাপী ব্যাপক কোন আলোচনার পূর্বেই তিনি র‌্যাবের ভুয়া ক্রসফায়ারে শহীদ হন। এর আগেই ক. মোফাখ্খার চেীধুরী এবং ক. তপন একইভাবে শহীদ হন। শুধু এই নেতৃত্বগণই নন, আপনাদের পার্টির তিনটি কেন্দ্রের অধিকাংশ নেতৃত্বই শত্রুর হাতে শহীদ হন অথবা গ্রেফতার হন। এভাবে, আমরা ধারণা করি যে, তিনটি কেন্দ্রই অকার্যকর হয়ে যায়।

এভাবে আপনাদের পার্টি গুরুতর সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। কর্মী-জনগণ পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন ও দিশাহীন হয়ে পড়েছেন। কোন কেন্দ্রই পার্টির নেতৃত্বাধীন সংগ্রামকে অব্যাহত রাখতে পারেনি বা সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা রাখতে পারেনি। বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত কিছু উদ্যোগ দেখা গেলেও সুসংগঠিত কোন সাংগঠনিক কাঠামো পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

 পার্টি-পুনর্গঠনের বিষয়ে আমাদের জানা কিছু পর্যবেক্ষণ এখানে তুলে ধরছি

– ক. চেীধুরী শহীদ হওয়ার পর সেই কেন্দ্রের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং এখনও তার লাইনের অনুসারী দাবিদার একটি ধারাকে ক্রিয়াশীল দেখা যায়। আমাদের জানামতে এই ধারাটি এখনো পর্যন্ত পার্টির কোন দলিলপত্র-পত্রিকা-লিফলেট কিছুই প্রকাশ করেনি। এরা সাংস্কৃতিক গণসংগঠনসহ বিভিন্ন ধরনের গণসংগঠনের মাধ্যমে কার্যক্রম চালান। যা কমরেড চেীধুরীর লাইনের সাথে মেলে না। আবার তারা চেীধুরী-লাইনের কোন সারসংকলনের কথাও বলছেন না।

-ক. রাকেশ কামাল এবং তার পরবর্তী নেতৃত্ব ক. এনামুল শহীদ হওয়ার পর তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এমন কয়েকজন কমরেড শত্রুর দমন থেকে আত্মরক্ষার জন্য কৌশল হিসেবে পার্র্র্টির নাম পরিবর্তন করে “বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)” নামে সংগঠন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। একটা বৈঠকের পর তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকেনি। এই ধারাতেই অন্য একটি অংশ ২০১১ সালে “২২ মে শহীদ দিবসে” (ক. তারার মৃত্যুবার্ষিকীতে) “পূর্ব বাংলার মাওবাদী” নাম দিয়ে সংগঠনের একটি পোস্টার প্রকাশ করেছিল। পরে আর এই নামে কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। এই ধারারই অন্য একটি অংশ ১৯/০৩/’১১ তারিখে সার্কুলার- ১ নামে একটি দলিল প্রকাশ করেছিল যাদের কেন্দ্র পূবাকপা (মা-লে) (লাল পতাকা) নামটি উল্লেখ করেছে। এতে ক. রাকা’র সারসংকলনের ভিত্তিতে পার্টি পুনর্গঠনের কথা বলা হলেও বাস্তব অনুশীলনে সেই লাইনের কোন প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না বলে আমাদের মনে হয়। এই সার্কুলার অনুসারীরা এখনো সক্রিয়। এরা এখনো খতম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন। তাদের কৌশল হচ্ছে, শত্রুর চাপ এড়ানোর জন্য কিছু অনিবার্য খতম করলেও তা প্রচার করেন না। পার্টির দায় স্বীকার করেন না।

-সম্প্রতি আরো একজন নেতৃত্ব যিনি অতীতে জনযুদ্ধের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি পার্টি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন বলে শোনা যায়। যতদূর জানা যায় তিনিও মতাদর্শগত-রাজনৈতিক লাইনকে কেন্দ্রবিন্দু করছেন না। বরং পূর্বের ধারাতেই সামরিক এ্যাকশন, তথা খতমকে কেন্দ্রবিন্দু করছেন। তার বা তার অনুসারীদের পক্ষ থেকে এখনো কোন দলিলপত্র প্রকাশ হয়েছে বলে আমরা জানি না।

এইসব উদ্যোগে বিপ্লবের প্রতি গভীর আন্তরিকতা থাকলেও সেগুলো মাওবাদী রাজনীতি ও মতাদর্শকে চাবিকাঠি হিসেবে আঁকড়ে ধরছে না বলেই আমাদের ধারণা। পার্টি-গঠনের ৪০ বছর পর পার্টির আজকের বিপর্যস্ত ও ক্ষয়িষ্ণু অবস্থার কারণ অনুসন্ধানের জন্য লাইনগত সারসংকলনের ভিত্তিতে পার্টি-পুনর্গঠনকে কেউই কেন্দ্রবিন্দু করছেন না।

মনে রাখতে হবে পূবাকপা একটা মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি ছিল। যার রাজনীতিক লক্ষ্য ছিল নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব, সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজম। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রধান ধরনের সংগ্রাম ছিলো সশস্ত্র সংগ্রাম। তার মতবাদ ছিল মালেমা। সেই পার্টি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে শত্রু-দমনে। এ অবস্থায় প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে সেই পার্টিকে গঠন বা পুনর্গঠন করা। যেহেতু সশস্ত্র সংগ্রামের পার্টি তাই আজকের বাস্তব ও আত্মগত অবস্থা বিবেচনা করে পার্টি পুনর্গঠন করতে হবে। এখন লাইন বিনির্মাণ তথা লাইনগত সারসংকলন না করে এই পার্টির পক্ষে আর ইতিবাচকভাবে এগুনো সম্ভব নয় বলেই আমরা মনেকরি। ঠিক যে কাজটিতে হাত দিয়েছিলেন ক. রাকা ৫ বছর আগেই। এবং তার একটি বড় ও মৌলিক কাজ তিনি সম্পন্ন করে গিয়েছিলেন। অথচ বিগত ৫ বছরে সেকাজে আর কোন অগ্রগতি দূরের কথা, সে কাজটিকেই প্রায় বিস্মৃত করে দিয়ে পুরনো ধারায় বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত এ্যাকশনের প্রচেষ্টা এই পার্টিকে কোন অগ্রগতিই এনে দিতে পারে না।

আজকে সংগ্রামের/এ্যাকশনের নেতৃত্ব কে দিবে? নিশ্চয়ই পার্টি। সেই পার্টি কোথায়? চেয়ারম্যান মাও সেতুঙ বলেছিলেন, “যদি বিপ্লব করতে হয়, তাহলে অবশ্যই একটা বিপ্লবী পার্টি থাকতে হবে। একটা বিপ্লবী পার্টি ছাড়া, মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বিপ্লবী তত্ত্ব এবং বিপ্লবী রীতিতে গড়ে ওঠা একটা বিপ্লবী পার্টি ছাড়া, শ্রমিক শ্রেণি ও ব্যাপক জনসাধারণকে সা¤্রাজ্যবাদ ও তার পদলেহী কুকুরদের পরাজিত করতে নেতৃত্বদান করা অসম্ভব।” (উদ্ধৃতি পৃঃ ২-৩)। কয়েকটি ব্যক্তি হলেই পার্টি হয় না। প্রথমত একটি সামগ্রিক লাইন তার থাকতে হবে, তার একটি কেন্দ্র ও গঠন কাঠামো থাকতে হবে। একটি পরিকল্পনা থাকতে হবে। সেগুলো সুদূর অতীতে আপনাদের ছিল। তার ভিত্তিতে সংগ্রামও হয়েছে। কিন্তু তার ভাল-মন্দ সবই প্রকাশিত হয়ে সেসব অতীতের বিষয় হয়ে গেছে। এখন পরিবর্তিত বাস্তব ও আত্মগত অবস্থার প্রেক্ষিতে সেসবকেই নতুন করে নির্মাণ না করলে পার্টির কার্যত কোন সঠিক লাইন থাকতে পারে না। আর এ অবস্থায় কোন পার্টিও গড়ে উঠতে পারে না। তাহলে কে করবে এ্যাকশনের নেতৃত্বদান?

কমরেডগণ,

এটা খুবই জটিল পরিস্থিতি। একটা বিকাশমান সংগ্রাম পরাজিত হয়েছে। পার্টি যখন সংগ্রামে ছিল তখনকার কৌশল-পরিকল্পনা আজকের বিপর্যয়ের বাস্তবতায় আর কার্যকর করা সম্ভব নয়। আজকের আত্মগত অবস্থা মূল্যায়নের ভিত্তিতে নতুন করে কৌশল-পরিকল্পনাও করতে হবে।

পূবাকপা’র বিচ্ছিন্ন কমরেডদেরকে আমরা মনে করি এ দেশের মাওবাদী আন্দোলনেরই অংশ। আমরা ভিন্ন ভিন্ন পার্টি থেকে চল্লিশ বছরের বেশি এই ভূখণ্ডে সংগ্রাম করছি। পূবাকপা এখন শত্রুর দমনে বিপর্যস্ত। আমাদেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শত্রুপক্ষ এই দেশ থেকে মাওবাদী আন্দোলনকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। একে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে আন্দোলনকে রক্ষা ও বিকশিত করতে হবে। সেজন্য আমাদের অতীত সংগ্রামের পর্যালোচনা-সারসংকলনের ভিত্তিতে নতুন পরিকল্পনার ভিত্তিতে আগাতে হবে। ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হিসেবে পূবাকপা’র বিচ্ছিন্ন-বিপর্যস্ত কমরেডদেরকে পরামর্শ দেয়া, সহযোগিতা করার দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা এই খোলাচিঠি প্রকাশ করছি, যাতে আমরা কিছু পরামর্শও উল্লেখ করতে চাই। আমরা এসব পরামর্শ আপনাদের উপর চাপিয়ে দিতে চাই না। লাইন-নীতি-পরিকল্পনা নির্ধারণ করা প্রধানত আপনাদেরই দায়িত্ব। সেক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ যদি কোন সহায়তা করে সে আশাতেই আমরা এসব কথা বলছি।

কমরেডদেরকে মনে রাখতে হবে নানান জায়গা থেকে নানান ধরনের মতামত আসবে। সুবিধাবাদী-বিলোপবাদী মতও আসবে। মালেমা’র বিপ্লবী দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার-বিশ্লেষণ করে তা গ্রহণ বা বর্জন করতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না সেক্ষেত্রে আপনাদের বিপ্লবী দৃষ্টিভঙ্গিই আপনাদেরকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে, অন্য কেউ নয়।

* সংকীর্ণতাবাদী চেতনা থেকে বিভক্ত কোন কেন্দ্র নয়- সমগ্র পূবাকপা-কে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে, যা কিনা হবে বাস্তবে এদেশের সামগ্রিক মাওবাদী আন্দোলনের পুনর্গঠনেরই অংশ।

* পুনর্গঠনের জন্য প্রথম আঁকড়ে ধরতে হবে লাইন বিনির্মাণকে, যার মতাদর্শগত ভিত্তি হবে মালেমা।

আরও নির্দিষ্টভাবে এজন্য-

– বিগত শতকে শেষাংশে আন্তর্জাতিক মাওবাদীদের ঐক্যকেন্দ্র “রিম” (যা এখন কার্যত বিলুপ্ত) ও তার সদস্য

   গুরুত্বপূর্ণ পার্টিগুলোর মূল্যায়ন ও সারসংকলনকে বিবেচনায় নেয়া;

– ক. সিএম প্রতিষ্ঠিত ভারতের মাওবাদী আন্দোলনের সারসংকলনকে বিবেচনায় নেয়া;

– পূবাকপা’র সংগ্রাম সম্পর্কে পূবাসপা’র পর্যালোচনাকে বিবেচনায় নেয়া;

– ক. রাকেশ কামালের সারসংকলনকে বিবেচনায় নেয়া;

– অন্য যে কোন মত আসলে সেগুলোকেও বিবেচনায় নেয়া।

* এই দৃষ্টিভঙ্গিতে নি¤œতমভাবে নি¤েœর মৌলিক বিষয়গুলোতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করা-

– মতবাদগত;

– গণযুদ্ধ;

– আর্থ-সামাজিক;

– আন্তর্জাতিক লাইন।

* লাইন-বিনির্মাণ ও সারসংকলনকে কেন্দ্রবিন্দু করার জন্য ও তার স্বার্থে পুরনো ধারার সকল অনুশীলনকে স্থগিত করা উচিত বলে আমরা মনেকরি। যার মাধ্যমে শত্রুর দমনকে এড়িয়ে নিজেদের অবশিষ্ট শক্তিকে সংরক্ষণ করা যায় এবং তাকে সুসংগঠিত করা যায়।

যারা এভাবে পার্টিকে পুনর্গঠনে আগ্রহী তাদের মানোন্নয়ন প্রক্রিয়া শুরু করা। এজন্য নিম্নতম পাঠ্যসূচি ঠিক করা। পাঠ্যসূচির লক্ষ্য হবে- মৌলিক মালেমা-কে আত্মস্থ করা এবং তার ভিত্তিতে উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলোতে অধ্যয়ন, আলোচনা, পর্যালোচনাকে বিকশিত করা এবং একটি একটি করে বিষয়গুলোতে মতাবস্থান গ্রহণ করা।

* লাইন-বিনির্মাণের প্রক্রিয়ায় বাস্তব সাংগঠনিক-সাংগ্রামিক অনুশীলন কী হবে তাও নির্ধারিত থাকতে হবে। এজন্য যা যা করা যেতে পারে বলে আমাদের ধারণা-

– অবিলম্বে একটি কেন্দ্রীয় পরিচালনা সেল গঠন করে সমগ্র কাজের সূচনা করা। পরবর্তীতে কোন প্রতিনিধি সভার মাধ্যমে তাকে কমিটিতে রূপ দেয়া যেতে পারে।

– একটি বা দু’টি অঞ্চলকে নির্দিষ্ট করে সেখানে শক্তি কেন্দ্রীকরণের মধ্য দিয়ে ঘাসমূলের সংগঠন গড়ার প্রক্রিয়া চালানো।

– উপরোক্ত কাজকে ভিত্তি করে দেশব্যাপী বিচ্ছিন্ন যোগাযোগগুলো রক্ষার ব্যবস্থা করা। যতটা সম্ভব সেটা করা। কিন্তু তাকে কেন্দ্রবিন্দু না করা।

– রাজনৈতিক প্রচারকে গুরুত্ব দিয়ে পার্টিজান ও গেরিলা ধরনের কর্মী গড়ে তোলা।

– আর্থিক সামর্থ্য ও যোগ্যতা বিচার করে একজন একজন করে সার্বক্ষণিক কর্মী গড়ে তোলা; সার্বক্ষণিক কর্মীদের নিয়োগদানে সংগঠন-সংগ্রামের রণনৈতিক পরিকল্পনাকে ভিত্তি করায় গুরুত্ব দান।

– শ্রেণি লাইনকে আঁকড়ে ধরে আর্থিক পলিসি নির্ধারণ করা। পেশা, চাঁদা ও ব্যক্তিগত সম্পদের উপর নির্ভর করা। জরিমানা, শত্রুর সম্পত্তি দখল- ইত্যাকার সামরিক যুগের পদ্ধতিকে এড়ানো।

– নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার উপর অত্যধিক জোর দেয়া। শত্রুর অনুপ্রবেশকে ঠেকানো, আবার বেহুদা কাউকে শত্রু মনে না করা।

* উপরোক্ত কাজগুলোকে ভিত্তি করে এগুলে সামরিক এ্যাকশনের স্থানটি কী হবে সেটা বাইরে থেকে আমাদের পক্ষে নির্ধারণ করা সম্ভব নয় ও উচিত নয়। একটি সশস্ত্র সংগ্রামের পার্টি হিসেবে কোন কোন অঞ্চল/এলাকায় নিরস্ত্র কাজ আত্মঘাতী হতে পারে। আবার বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত সামরিক এ্যাকশন আরো বড় বিপর্যয়কর হতে পারে।

তবে এটা সহজবোধ্য যে, লাইন-বিনির্মাণ ও পার্টি-পুনর্গঠনের কাজ একটা পর্যায় পর্যন্ত সম্পন্ন না করে সামরিক কাজ/এ্যাকশনকে কেন্দ্রবিন্দু করাটা সঠিক হবে না বলেই আমরা মনে করি। কারণ, একবার শুরু করলে তা থেকে পিছন ফেরা যাবে না। সর্বোপরি, সংগ্রাম ও এ্যাকশনের মতাদর্শগত-রাজনৈতিক লাইন ও রণনৈতিক পরিকল্পনা কী হবে, যুদ্ধের/সশস্ত্র সংগ্রামের সামরিক লাইনের রূপরেখাটি কী হবে তা খুবই সুবিবেচিতভাবে নির্ধারণ না করে এখন আর আপনাদের পক্ষে কোন ইতিবাচক সংগ্রাম গড়া সম্ভব হবে না বলেই আমরা মনেকরি। তাই, আজকের পরিস্থিতিতে কোন্ অঞ্চল/এলাকাকে আপনারা কেন্দ্রীভূত করার জন্য বেছে নেবেন, এবং সেখানে কী ধরনের কাজ করবেন সেটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে নির্ধারণ করতে হবে।

উপরোক্ত অনেক বিষয়েই আমরা আরো সুনির্দিষ্ট কথা বলতে পারি, আলোচনা করতে পারি, যা এই খোলাচিঠিতে সম্ভব নয়। আমরা মনেকরি, শুধু আমাদের সাথেই নয়, অন্য সকল আন্তরিক মাওবাদী সংগঠন, ব্যক্তি ও শক্তির সাথেই এসব বিষয়েও আপনাদের প্রচুর আলোচনা ও মত বিনিময় করা উচিত। যাতে করে আপনারা সবচাইতে সঠিক নীতি-পরিকল্পনা ও পদ্ধতিগুলো অনুশীলনে নিয়ে আসতে পারেন।

** পরিশেষে বলতে চাই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর প্রায় ৪২ বছর পার হয়েছে। এই সময়ে দেশ শাসন করেছে বাঙালি বড় ধনী শ্রেণির প্রতিনিধি আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামাত এবং সেনা-আমলারা। এরা ধনীক শ্রেণি এবং তাদের প্রভু মার্কিনের নেতৃত্বে সা¤্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের স্বার্থ রক্ষা ছাড়া শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক জনগণের জন্য কোন কিছুই করেনি। বরং সব সরকারই বিপ্লবীদের, প্রতিবাদকারীদের হত্যা করে বিপ্লবী আন্দোলন দমন করে চলেছে। তাই, বিপ্লবীদের বিগত সংগ্রামের সারসংকলনের ভিত্তিতে নতুনভাবে সংগঠিত হতে হবে। উচ্চতর একটি লাইন, ঐক্যবদ্ধ ও নতুন ধরনের একটি পার্টির নেতৃত্বে একটা সত্যিকার সফল গণযুদ্ধ গড়ে তুলতে হবে। তাছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই।

পিবিএসপি/সিসি

তৃতীয় সপ্তাহ, নভেম্বর, ২০১৪

নোট– পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-[পূবাকপা (এম-এল)

           পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি (সিসি) [পূবাসপা (সিসি)]

সূত্রঃ http://pbsp-cc.blogspot.com/2016/03/blog-post_6.html


পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি-উত্তরাঞ্চল শাখার লিফলেট

Maoist-Flag

Choromponthi_bg_665622626

 

সূত্রঃ http://www.banglanews24.com/fullnews/bn/456536.html