পশ্চিমবঙ্গে কিষেনজি’র স্মরণে শিল্পাঞ্চলে মাওবাদীদের পোস্টার

201711251711552286_Maoist-poster-recovered-in-Durgapur_SECVPF

দীর্ঘদিন পর ফের মাওবাদীদের পোস্টার পড়ল পশ্চিমবঙ্গে। তবে, জঙ্গলমহলে নয়, মাওবাদীদের এই পোস্টার দেখা যায় রাজ্যের শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত, পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে। জঙ্গলমহলে নিহত মাওবাদী নেতা কিষেনজি’র স্মৃতিতেই ছিল এই পোস্টার। ২০১১-র ২৪ নভেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুরের বুড়িশোলের জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছিলেন ভারতে মাওবাদী আন্দোলনের অতি পরিচিত মুখ কিষেনজি। পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্গাপুরের ব্যস্ততম শপিং মল সিটি সেন্টারে এই পোস্টার সাঁটা হয়েছিল।

আজকের এই পোস্টারগুলোতে বলা হয়েছে যে, ভুয়ো এনকাউন্টারেই কিষেনজিকে মারা হয়েছিল। একই সাথে রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির বিরুদ্ধে তোপ দাগা হয়েছে। একইসঙ্গে সশস্ত্র কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমে নয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম ও মাওবাদী নেতা ও কর্মীদের খুনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করার ডাক দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শহীদ কমরেড আজাদ, শশধর, যুধিস্টির, কিষেনজি সহ সকল শহীদের প্রতি লাল সালাম জানানো হয়েছে।

ইদানীং ঘনঘন মাওবাদীদের উপস্থিতির খবর শোনা যাচ্ছে দুর্গাপুর-আসানসোলে। অতিসম্প্রতি ইসিএলের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে হুমকি দিয়ে, মাওবাদী পোস্টার পড়ে বালিজুরি গ্রামে। তবে, পোস্টারটি আদৌ মাওবাদীদের কি না, সে বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্রঃ https://eisamay.indiatimes.com/bardhaman/durgapur/after-a-lull-maoist-posters-make-a-comeback-in-west-bengal/articleshow/61798183.cms


জঙ্গলমহলের যুবকদের আহবান জানিয়ে মাওবাদীদের পোস্টার

image

সাদা কাগজে লাল কালিতে হাতে লেখা পোস্টার। নীচে লেখা ন্যাশনাল নকশাল কমিটি ও সিপিআই (মাওবাদী)-র তরফে বরুণ ও মদনের নাম। শুক্রবার ঝাড়গ্রামের জামবনি থানার বেশ কয়েকটি এলাকায় মাওবাদী নামাঙ্কিত এমন পোস্টার মেলায় নড়ে বসেছে পুলিশ। মনে করা হচ্ছে, জঙ্গলমহলে নতুন করে তৎপর হচ্ছে নকশালপন্থী একাধিক সংগঠন। রাজ্য সরকার ও শাসকদলের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের চেষ্টা হচ্ছে। ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্ত বলেন, “কারা ওই পোস্টার দিয়েছে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিছু সূত্র মিলেছে। পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকে এসে কেউ ওই পোস্টার দিয়েছে কি না সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

এ দিন জামবনির বেলিয়া মোড়, চিল্কিগড়, বালিজুড়ি, মোহনপুর ও বড়শোলের জঙ্গলরাস্তায়, কালভার্টের গায়ে সাঁটানো ও ছড়ানো অবস্থায় মোট ১২টি পোস্টার উদ্ধার করেছে পুলিশ। সবক’টির বয়ান মোটামুটি একই। সেখানে লেখা হয়েছে— ‘নিরীহ মানুষের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে মানুষকে পূর্ণ স্বাধীনতা না দেওয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে মানুষের সামনে আমরা এগিয়ে এসেছি।’ জঙ্গলমহলে যদি সত্যি শান্তি ফেরে তাহলে যৌথ বাহিনী, সিআরপি ক্যাম্প তোলা হচ্ছে না কেন, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে পোস্টারে। যারা অত্যাচার করছে তাদের হুঁশিয়ার করার পাশাপাশি পোস্টারে আরও বার্তা— ‘জঙ্গলমহলের সমস্ত যুবক ভাইদের কাছে আমাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক দল বা পুলিশের ধমকানিতে ভয় পাবেন না। আমরা রুখে দাঁড়াব, আন্দোলন গড়ব।’

পোস্টারের এই বিষয়বস্তু গোয়েন্দাদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। তাঁদের ব্যাখ্যা, এই বক্তব্য মাওবাদীদের সাংগঠনিক বিশ্বাস। আর সেই মতো মানুষের ক্ষোভ উস্কে জনমত গঠনের চেষ্টা শুরু হয়েছে। একসময় মাওবাদী-জনসাধারণের কমিটি থেকে যাঁরা তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের কয়েকজন গোপনে মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে গোয়েন্দা সূত্রের খবর। তৃণমূলের একাংশও আড়ালে মানছেন, আদিবাসীদের একটি অংশকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলমহলে নতুন করে ঘর গোছাতে চাইছে মাওবাদীরা। ২০১১ সালের নভেম্বরে জামবনিরই বুড়িশোলের জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর গুলিতে নিহত হন মাও শীর্ষনেতা কিষেনজি। তারপর জঙ্গলমহলে মাওবাদী সংগঠন ধীর গতি হয়ে পড়ে। একের পর এক নেতা-নেত্রী আত্মসমর্পণ করেন। বাকিরা গ্রেফতার হন। আর মাওবাদী-কমিটির একাংশ তৃণমূলে ভেড়েন। গত ছ’বছর জঙ্গলমহলের ভোটেও তৃণমূলের জয়জয়কার। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন এলাকায় জনগণের ক্ষোভের চোরাস্রোত বইছে। পঞ্চায়েতে দুর্নীতি, শাসকদল ও পুলিশের একাংশের মদতে বেআইনি বালি লরির যথেচ্ছ চলাচল, প্রতিশ্রুতিমতো অলচিকিতে পঠনপাঠন শুরু না হওয়ার মতো বিষয় ঘিরে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশও হচ্ছে। গত জুনেই হয়েছে আদিবাসীদের ‘রেল রোকো’ ও ‘হুল দিবস বয়কট’। তারপর একলব্য স্কুলকে কাঠগড়ায় তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন ফেলা হয়। সম্প্রতি জামবনিতে সরকারি উদ্যান তৈরির বিরোধিতা করে বেরোয় সশস্ত্র মিছিল। এ সবের পিছনে মাওবাদীদের মদত রয়েছে বলেই মনে করছেন গোয়েন্দারা। তাই পোস্টারের বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/district/mednipore/people-are-in-fear-after-watching-a-maobadi-poster-1.667837


পশ্চিমবঙ্গঃ শালবনির জঙ্গলে মাওবাদীদের পোস্টার

salboni

শালবনি জঙ্গলে মাওবাদীরা পোষ্টার প্রচার করেছে৷ পোষ্টারকে কেন্দ্র করে নতুন করে উৎসুক পরিবেশ তৈরি হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহল এলাকায়৷ শুক্রবার সকালে শালবনির জঙ্গলে কয়েকটি মাওবাদী পোষ্টার দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা৷ মাওবাদীদের পোস্টারের খবর পয়ে ঘটনাস্থলে যায় শালবনি থানার পুলিশ৷ পুলিশ পোস্টারটি নষ্ট করে দেয়৷ এলাকায় কে বা কারা এই পোষ্টার দিয়েছে তা জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷ এদিনের এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ৷

শালবনির জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়া ওই পোষ্টারে এদিন দাবি করা হয়, ‘‘ মাওবাদী নেতা কিষাণজীকে এনকাউন্টারে হত্যা করা হল কেনও মুখ্যমন্ত্রী জবাব দাও৷’’ অপর একটি পোষ্টারে জঙ্গলমহল থেকে যৌথ বাহিনী প্রত্যাহার করারও দাবি করা হয়৷

সূত্রঃ kolkata24x7.com


ভারতঃ অরণ্য শহরে মাওবাদীদের পোস্টার

image

জঙ্গলমহলের ঝাড়খণ্ড সীমানা এলাকায় মাওবাদী তৎপরতার কথা বেশ কিছু দিন ধরেই জানাচ্ছিল গোয়েন্দারা। নানা জায়গায় মাওবাদীদের পোস্টারও মিলছিল। এ বার খাস ঝাড়গ্রাম শহরেই একাধিক জায়গায় মিলল মাওবাদীদের নামে লেখা পোস্টার। সেই পোস্টারের একেবারে প্রথমেই লেখা— ‘মাওবাদী প্রতিষ্ঠা সপ্তাহের শেষ দিন রবিবার। তাই ঝাড়গ্রাম শহরে আমাদের উপস্থিতি জানালাম।’

রবিবার রাতেই ঝাড়গ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্র বাছুরডোবা এবং শহরের শেষ প্রান্তে জামদা এলাকায় মাওবাদীদের ওই পোস্টারগুলি লাগানো হয়েছিল। সোমবার সকালে সেগুলি দেখেন স্থানীয়রা। পুলিশ এসে পোস্টারগুলি খুলে নিয়ে যায়। পুলিশ অবশ্য এটা মাওবাদীদের কাজ বলে মানতে চায়নি। ঝাড়গ্রাম পুলিশ জেলার ভারপ্রাপ্ত সুপার ভারতী ঘোষ এ দিন বলেন, ‘‘দুষ্টচক্রের লোকজন এই কাজ করেছে। এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিতও করা হয়েছে। শীঘ্রই তাদের গ্রেফতার করা হবে।’’

অক্টোবরের গোড়াতেই ঝাড়গ্রাম সফরে আসার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পুলিশ যাই বলুক তার আগে মাওবাদীদের পোস্টার উদ্ধারে অরণ্যশহরে শোরগোল পড়েছে।  ঝাড়খণ্ড সীমানা ঘেঁষা এলাকা থেকে এ বার একেবারে খাস ঝাড়গ্রাম শহরে মাওবাদীদের পোস্টার মেলায় গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বাছুরডোবায় একটি বাড়ির পাঁচিলে এবং জামদায় কালভার্টে লাগানো পোস্টারগুলি সিপিআই (মাওবাদী)-র ঝাড়গ্রাম শহর কমিটির নামে দেওয়া হয়েছিল। সাদা কাগজে লাল কালিতে লেখা ছিল, ‘পুলিশ-প্রশাসন তৃণমূলে হয়ে কাজ করায় মাওবাদীদের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানাই। রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকা আদিবাসীদের উন্নয়নের জন্য নিয়েছে। সেই টাকা বিধানসভা ভোটে গুন্ডা বাহিনীর জন্য রাজ্য সরকার খরচ করবে। আর প্রচার করবে আদিবাসীদের উন্নয়ন করব। বাস্তবে কিছুই নেই।জঙ্গলমহলে কেন ক্যান্সার হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে পোস্টারে। আর সব শেষে জনসাধারণের কমিটির নেতা ছত্রধর মাহাতোর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/%E0%A6%AE-%E0%A6%93%E0%A6%AC-%E0%A6%A6-%E0%A6%A6-%E0%A6%B0-%E0%A6%A8-%E0%A6%AE-%E0%A6%AA-%E0%A6%B8-%E0%A6%9F-%E0%A6%B0-%E0%A6%8F-%E0%A6%AC-%E0%A6%B0-%E0%A6%96-%E0%A6%B8-%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A6%A3-%E0%A6%AF-%E0%A6%B6%E0%A6%B9%E0%A6%B0-%E0%A6%87-1.215189#popup


ভারতঃ সিপিআই(মাওবাদী)-র প্রতিষ্ঠা দিবসে বলরামপুরে পোস্টার

বলরামপুরের এই গ্রামেই রবিবার ভোরে পাওয়া গিয়েছিল সিপিআই(মাওবাদী)-র পোস্টার।

বলরামপুরের এই গ্রামেই রবিবার ভোরে পাওয়া গিয়েছিল সিপিআই(মাওবাদী)-র পোস্টার। 

আজ সোমবার সিপিআই(মাওবাদী)-র প্রতিষ্ঠা দিবস। তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগেই মাওবাদীরা পোস্টার লাগিয়ে দিল জঙ্গলমহলের বলরামপুরে কানহা গ্রামে। ঝালদা বাসস্ট্যান্ড এলাকতেও লাল কালিতে লেখা একটি পোস্টারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। জেলা পুলিশসুপার রূপেশ কুমার অবশ্য ওই পোস্টার মেলার খবর উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘পোস্টারের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়েছিল। কিন্তু কোনও পোস্টারই পাওয়া যায়নি।’’

জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের পোস্টার মেলার খবর নতুন নয়। এর আগে পোস্টার মিলেছে বান্দোয়ান, বাঘমুন্ডি, বারিকুল, বলরামপুরেও। রবিবার সকালে বলরামপুরের গেঁড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কানহা গ্রামে লাল কালিতে লেখা মাওবাদীদের একাধিক পোস্টার দেখতে পাওয়া যায় বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। পোস্টারগুলিতে ২১ সেপ্টেম্বর সিপিআই মাওবাদীর প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের ডাক দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, পোস্টারে লেখা ছিল প্রয়াত দুই নকশাল নেতা চারু মজুমদার, কানাই চট্টোপাধ্যায়ের নামও। গ্রামে গঞ্জে সিপিআই মাওবাদীর সংগঠন গড়ে তোলারও আহ্বান ছিল পোস্টারগুলিতে। যদিও জেলা পুলিশ এ দিন এমন কোনও পোস্টার মেলার খবর মানতে চায়নি।

বছর পাঁচেক আগে যখন এলাকায় মাওবাদীরা সক্রিয় ছিল, তখন জঙ্গলমহলের এই গ্রামগুলিতে বিভিন্ন সময় তাঁদের পোস্টার মিলত। বলরামপুরের ঘাটবেড়া-কেরোয়া লাগোয়া এই গেঁড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কানহাতেও মিলেছে পোস্টার। ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর বামনি ঝোরার কাছে যৌথ বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল মাওবাদীদের দুই স্কোয়াড সদস্য  বিপ্লব ও রিমিলের। রিমিল অর্থাৎ ধীরেন মুর্মুর বাড়িও কানহা লাগোয়া বেড়সা গ্রামে। অদূরে, অযোধ্যা পাহাড়ের ঢালে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের সংঘর্ষও হয়েছে। আর গত ১৫ অগস্ট এই গেঁড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার গড়গা গ্রামে ও বলরামপুর-বাঘমুন্ডি সীমানায় মাওবাদীদের একাধিক পোস্টার মিলেছে। সেই ঘটনায় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে।

এ দিন কানহা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পোস্টার মেলাকে ঘিরে গ্রামে চাঞ্চল্য রয়েছে। এই গ্রামেই বাড়ি গেঁড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য পুষ্পবালা রজকের। এ দিন তাঁর বাড়ির অদূরেও কয়েকটি পোস্টার পড়েছিল। কয়েকটি পোস্টার গ্রামের রাস্তাতেও পড়ে ছিল। পুষ্পবালাদেবীর স্বামী শরত রজক বলেন, ‘‘এগুলি স্থানীয় কোনও লোকের কাজ। মাওবাদীদের নয়।’’ তাহলে কি মাওবাদী সমর্থিত জনগণ পোস্টার গুলো লাগিয়েছে?

ঘটনা হল, এই এলাকাটি ঝাড়খণ্ডের মধ্যে হলেও বান্দোয়ান থেকে খুব দূরে নয়। গত বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলার টিকরি পাহাড়ে মাওবাদীদের সঙ্গে যৌথবাহিনীর বেশ কিছুক্ষণ গুলির লড়াই হয়েছে। মাওবাদীদের একাধিক শীর্ষনেতা টিকরি পাহাড়ের শিবিরে রয়েছে এমন খবর পেয়েই যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। তবে কোনও মাওবাদী নেতাকেই পুলিশ ধরতে পারেনি। এই শিবিরে মাওবাদীদের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক আকাশ, রাজ্য কমিটির সদস্য অতুল, রঞ্জিত এবং বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা রিজিওনাল কমিটির সদস্য সচিন ও বেলপাহাড়ি স্কোয়াডের মদন মাহাতো ছিল বলে জানতে পেরেছিল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। গোয়েন্দাদের দাবি, পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলে বাহিনী সক্রিয় থাকায় ও একদা মাওবাদীদের অবাধ বিচরণ ছিল যে সমস্ত এলাকায় সেই এলাকাগুলিতে এখনও সেভাবে সমর্থন না পাওয়ায় তাঁরা ঘাঁটি গাড়তে পারছে না। তবে তা না পারলেও লিঙ্কম্যানদের কাজে লাগিয়ে পোস্টার লাগানোর কাজ করছে বলে খবর গোয়েন্দাদের কাছে।

পোস্টার পড়ার বিষয়টি আমল না দিলেও, জেলা পুলিশ মাওবাদীদের প্রতিষ্ঠা দিবসকে খাটো করে দেখছে না। পুলিশসুপার বলেন, ‘‘জেলাজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।’’

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/%E0%A6%AB-%E0%A6%B0-%E0%A6%AE-%E0%A6%93%E0%A6%AC-%E0%A6%A6-%E0%A6%AA-%E0%A6%B8-%E0%A6%9F-%E0%A6%B0-1.211447#


ভারতঃ পশ্চিমবঙ্গে ফের মাওবাদী পোস্টার, সঙ্গে দু’টি কমিটির নাম

মাওবাদী পোস্টার

মাওবাদী পোস্টার

মাওবাদীরা বড়সড় হামলা চালাতে পারে, এর মধ্যেই ফের সাদা কাগজে লাল কালির লিখন জঙ্গলমহলে। এবং আবার পুরুলিয়ার সেই বলরামপুর ও বাঘমুণ্ডি এলাকার মধ্যবর্তী কয়েকটি গ্রামে।

এ বারের পোস্টারে শাসক দল তৃণমূলের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি— মাওবাদীরা বাংলার বুকে ফিরে এসেছে। শনিবার সকালে ডাভা, দেউলি, গড়গাঁ, নেকড়ে-র মতো গ্রামে কোথাও স্কুলের দেওয়ালে, কোথাও বন দফতরের অফিসের দেওয়ালে সাঁটা ওই পোস্টারগুলি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা।

কয়েকটি পোস্টারে সিপিআই (মাওবাদী)-এর নাম উল্লেখ করে লেখা— ‘টিএমসির দালালরা হুঁশিয়ার, বাংলার বুকে এসেছি আবার’, কোথাও আবার লেখা ‘টিএমসির দালালরা হুঁশিয়ার, জঙ্গলমহল কাঁপবে আবার’। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি প্রশ্ন তোলা হয়েছে— ‘জঙ্গলমহলের কোটি কোটি টাকা যাচ্ছে কোথায়, মমতাদিদি জবাব দাও’। সেই সঙ্গে ‘মমতা দিদি কিষাণজিকে কেন মারলেন, মমতা দিদি ছত্রধর মাহাতো সমেত ছ’জনকে সাজা দিলেন কেন’ এই সব প্রশ্ন তুলেও পোস্টার পড়েছে।

বলরামপুরের গড়গাঁ প্রাথমিক স্কুল চত্বরের একটি বেদিতে দেখা যায়, বাঁশের গায়ে কালো পতাকা টাঙানো। ওই স্কুলের জানলাতেও কালো পতাকা লাগানো ছিল। যারা পোস্টার সেঁটেছে, কালো পতাকা টাঙানো তাদেরই কাজ বলে পুলিশ মনে করছে। কিছু পোস্টারে স্বাধীনতা দিবস পালন করা নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে পোস্টার ও পতাকা খুলে নিয়ে যায়।

এ দিন উদ্ধার হওয়া পোস্টারগুলির মধ্যে কয়েকটি ‘জনগণের কৃষক কমিটি’ ও ‘জনগণের বিপ্লব কমিটি’র নামে পড়েছে। ওই দু’টি কমিটির নামে আগে কখনও পোস্টার দেখা যায়নি। ফলে, যে ভাবে পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনসাধারণের কমিটি-কে সামনে রেখে লালগড় আন্দোলন শুরু হয়েছিল, এখন ফের তেমনই কোনও কমিটিকে সামনে রেখে মাওবাদীরা জঙ্গলমহল মানুষের উপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে কি না, সেটা ভাবাচ্ছে পুলিশকে।

পোস্টারগুলিতে নাগাবাহিনী ও যৌথবাহিনীকে জঙ্গলমহল থেকে সরানোর দাবিও তোলা হয়েছে। গত ছ’বছর ধরে মাওবাদী ও তাদের গণ সংগঠনেরা এই দাবি নিয়ে সরব।

২০০৮-এর নভেম্বরে যখন জঙ্গলমহল উত্তাল, সেই সময়ে পুরুলিয়ায় কিন্তু জনসাধারণের কমিটির অস্তিত্ব সে ভাবে দেখা যায়নি। এখানে মাওবাদীদের গণ সংগঠন হিসেবে উঠে এসেছিল আদিবাসী মূলবাসী জনগণের কমিটি। রাজ্যে সরকার বদলের পরে ওই সংগঠনের সদস্যদের একটা বড় অংশ তৃণমূলে চলে আসেন। অনেকে এখন দলের বড় নেতাও হয়ে উঠেছেন।

পুরুলিয়ার জেলা পুলিশ সুপার রূপেশ কুমার এ দিন বলেন, ‘‘বলরামপুর ও বাঘমুণ্ডির সীমানা এলাকার কয়েকটি গ্রামে মাওবাদীদের নামাঙ্কিত কিছু পোস্টার পাওয়া গিয়েছে। কারা পোস্টারগুলি দিল, সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি।’’

জুলাই মাসের শেষেও বলরামপুর, বাঘমুণ্ডির কয়েকটি তল্লাটে মাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টার পড়েছিল। গত এক বছর ধরেই এই দু’টি এলাকায় যেন মাওবাদী পোস্টার পড়ার বিরাম নেই।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/%E0%A6%AB-%E0%A6%B0-%E0%A6%AE-%E0%A6%93%E0%A6%AC-%E0%A6%A6-%E0%A6%AA-%E0%A6%B8-%E0%A6%9F-%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%99-%E0%A6%97-%E0%A6%A6-%E0%A6%9F-%E0%A6%95%E0%A6%AE-%E0%A6%9F-%E0%A6%B0-%E0%A6%A8-%E0%A6%AE-1.193326


ভারত/পশ্চিমবঙ্গঃ মাওবাদীদের সক্রিয়তা বাড়ছে, বৈঠকে পুলিশ

maoist1-655x360

জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে মাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টার উদ্ধার একটা সময় দৈনন্দিন ঘটনা ছিল। এখন পরিস্থিতি আলাদা। সেই ‘শান্তি’র জঙ্গলমহলেই সম্প্রতি একাধিকবার সিপিআই (মাওবাদী)-র নামে লেখা পোস্টার মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার পুলিশ সুপারদের নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করলেন রাজ্য পুলিশের আইজি (পশ্চিমাঞ্চল) সিদ্ধিনাথ গুপ্ত।
বৃহস্পতিবার বেলপাহাড়ি থানায় ওই বৈঠকে ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার তথা ঝাড়গ্রাম পুলিশ জেলার ভারপ্রাপ্ত এসপি ভারতী ঘোষ, বাঁকুড়ার এসপি নীলকান্ত সুধীরকুমার ও পুরুলিয়ার এসপি রূপেশ কুমার, ডিআইজি (মেদিনীপুর রেঞ্জ) বিশাল গর্গ, সিআরপি’র ডিআইজি বি ডি দাস-সহ সিআরপিএফ ও কোবরা বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা। তবে এ দিনের বৈঠক নিয়ে মুখ খোলেননি পুলিশ কর্তারা।
পোস্টার উদ্ধারের পরে সে কাজে মাওবাদী যোগ অবশ্য মানতে চায়নি পুলিশ। উল্টে পুলিশ কর্তারা বলেছেন, ‘এ সব দুষ্টুলোকের কাজ’। কিন্তু এ দিনের বৈঠকে পুলিশ কর্তারা সকলেই একমত যে, সম্প্রতি তিন জেলার জঙ্গলমহলে যে সব হাতে লেখা পোস্টার মিলেছে, সেগুলি আর যাই হোক দুষ্টু লোকের কাজ নয়। পরিকল্পিত ভাবে মাওবাদীরাই পর্যায়ক্রমে ওই সব পোস্টার দিচ্ছে বলে মনে করেন আধিকারিকদের একাংশ। পুলিশ সূত্রের খবর, ওই সব পোস্টারের লেখার ধরন দেখে সন্দেহ দানা বেঁধেছিল। এ বার বিভিন্ন গ্রাম থেকে নির্দিষ্ট সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশের চিন্তা বেড়েছে।

জঙ্গলমহলে এলাকা ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করার পরে ঝাড়খণ্ড সীমানাবর্তী পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জঙ্গলমহলে জারি করা হয়েছে ‘হাই অ্যালার্ট’। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনটি জেলার পুলিশকে চূড়ান্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন আইজি। সেই সঙ্গে আরও জোরদার তল্লাশি-অভিযানের পাশাপাশি, জনসংযোগ কর্মসূচির উপর জোর দিতে বলেছেন পুলিশ কর্তারা। প্রচারের আলো পেতে, স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে মাওবাদীরা ফের কোনও অ্যাকশন চালাতে পারে বলেও চার জেলার পুলিশকে বৈঠকে সতর্ক করা হয়েছে। এ দিন বৈঠকের আগে বাঁশপাহাড়ি ও ছুরিমারা এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন আইজি।

সম্প্রতি যে ক’বারই মাওবাদীদের নামে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে, তড়িঘড়ি তা উদ্ধার করে চেপে দেওয়া হয়েছে ঘটনা। যেমন, গত ১৭ জুলাই বেলপাহাড়িতে দলীয় এক সভায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ঝাড়খণ্ড সীমানাবর্তী বেলপাহাড়ির কয়েকটি গ্রামে মাওবাদীদের নামাঙ্কিত কিছু পোস্টার পাওয়া যায়। কিন্তু পুলিশ তার সত্যতা স্বীকার করেনি। এরপর পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি চেয়ে পোস্টার মেলে। ২৮ জুলাই থেকে ৩ অগস্ট পর্যন্ত শহিদ সপ্তাহ পালনের ডাক দিয়ে বাঁকুড়া ও বেলপাহাড়ির বিভিন্ন গ্রামে পোস্টার মেলে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডের সীমানাবর্তী এলাকায় শহিদ বেদি তৈরি করে শহিদ সপ্তাহও পালন করেছে মাওবাদীরা।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, জঙ্গলমহলে মাওবাদীরা নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে। শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে পঞ্চায়েতের দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে এলাকায় জনমত গঠনেরও কাজ শুরু করে দিয়েছে মাওবাদীরা। আকাশ, বিকাশ, রঞ্জিত পালের মতো অধরা মাওবাদী নেতারা এলাকায় যাতায়াত শুরু করেছেন। ছত্তীসগঢ় থেকে আসা মাওবাদীদের ১৫ জনের একটি দল এলাকায় ঘুরে গিয়েছে বলে এলাকা সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিতে সদা সতর্ক থাকার সিদ্ধান্তই হয়েছে এ দিনের বৈঠকে।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/maoist-activities-increased-at-lalgarh-1.188685#


ভারত/পশ্চিমবঙ্গঃ বাঘমুণ্ডিতে মমতার বিরুদ্ধে মাওবাদীদের পোস্টার

পুরুলিয়ায় মাওবাদীদের পোস্টার

পুরুলিয়ায় মাওবাদীদের পোস্টার

বাঁকুড়ার বারিকুলের পর এ বার পুরুলিয়ায় মাওবাদীদের পোস্টার মিলল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি বিঁধে পোস্টার দিল মাওবাদীরা। ‘শহিদ সপ্তাহ’ শুরুর ঠিক আগের দিন, সোমবার সকালে পুরুলিয়ায় বাঘমুণ্ডি থানা এলাকায় বলরামপুর-বাঘমুণ্ডি রাস্তার ধারে ভুচুংডি মোড়, টাইগার মোড়, মাঠা ও ধনুডি মোড় এলাকায় সাদা কাগজের উপরে লাল কালিতে লেখা একাধিক পোস্টার দিয়েছে মাওবাদীরা। এক সময় ওই এলাকায় মাওবাদীদের গতিবিধি ছিল। স্থানীয় মাঠা বনবাংলো আগুন লাগিয়ে পুড়িয়েও দিয়েছিল তাঁরা। রবিবারই পাশের জেলা বাঁকুড়ার বারিকুলে মাওবাদী পোস্টার মিলেছিল।

স্থানীয় সূত্রের খবর, কারও বাড়ির বা গ্যারাজের দেওয়ালে, দোকানের গায়ে, এমনকী মাটিতে পাথর চাপা দেওয়া অবস্থাতেও ওই সব পোস্টার দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পরে এত পোস্টার দেখে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। ছত্রধর মাহাতোর সাজার হওয়ার পর আড়শার কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত ভাবে কয়েকটি পোস্টার মিললেও এত সংখ্যক পোস্টার কোথাও দেখা যায়নি।

এ দিন পোস্টারের খবর মিলতেই পুলিশ এবং  নাগা বাহিনী এলাকায় পৌঁছে পোস্টারগুলি সরিয়ে দেয়। ওই সব পোস্টারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। লেখা হয়েছে— ‘মমতাদিদি কাদের সহায়তায় মুখ্যমন্ত্রী হলেন, জবাব দাও’। আবার কোনওটিতে লেখা, ‘যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিল, তাঁদের পরিবার কী পেল, মুখ্যমন্ত্রী জবাব দাও’। এমনকী, ছত্রধর মাহাতোকে কেন সাজা দেওয়া হল, তারও জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে ওই সব পোস্টারে। পাশাপাশি, নাগা বাহিনী এবং যৌথ বাহিনী তুলে ‘অপারেশন গ্রিনহান্ট’ বন্ধের দাবিও তোলা হয়েছে।

পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার রূপেশ কুমার বলেন, ‘‘এ দিন বাঘমুণ্ডি এলাকায় মাওবাদী নামাঙ্কিত কিছু পোস্টার মিলেছে। কে বা কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে, তার তদন্ত শুরু হয়েছে।’’ মাওবাদীদের কোনও স্কোয়াড অযোধ্যা পাহাড়ে ঢুকেছে কি না জিজ্ঞাসা করা হলে এসপি-র জানান, পুলিশের কাছে এখনও পর্যন্ত সে রকম খবর নেই।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/maoist-posters-found-at-baghmundi-against-mamata-bandopadhyay-1.183116


ভারত/পশ্চিমবঙ্গঃ বারিকুলে মাওবাদী পোস্টার

বারিকুলের শুশুনিয়া গ্রামে মাওবাদীদের পোস্টার

বারিকুলের শুশুনিয়া গ্রামে মাওবাদীদের পোস্টার

বেলপাহাড়ির পরে বারিকুল। কিষেণজিকে ‘হত্যার প্রতিবাদে’ ফের মাওবাদী পোস্টার মিলল জঙ্গলমহলে। বেলপাহাড়িতে ছিল তাড়াহুড়োর ছাপ। বারিকুলের ক্ষেত্রে মাওবাদীদের প্রস্তুতি ও স্থানীয়দের সমর্থনের ছাপ বেশ স্পষ্ট।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার মাওবাদী শীর্ষনেতা কিষেণজিকে ‘হত্যা’ করেছে বলে সপ্তাহখানেক আগে বেলপাহাড়ির এক সভায় মন্তব্য করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে জোর রাজনৈতিক তরজা চলেছে গত ক’দিন। কিন্তু সে দিনের ওই সভার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সভাস্থল থেকে ১২-১৫ কিলোমিটার দূরে কয়েকটি গ্রামের রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল মাওবাদীদের পোস্টার। সাদা কাগজে আলতা দিয়ে তড়িঘড়ি লেখা। রবিবার সকালে দেখা যায় বারিকুলের বিভিন্ন গ্রামের দেওয়ালে, গাছে সাঁটা রয়েছে পোস্টার। রয়েছে কিছু ব্যানারও। তার চেয়েও যেটি লক্ষ্যণীয়, পোস্টার সাঁটা হয়েছে বাঁকুড়ার বারিকুল থানা, মন্ডলডিহা ফাঁড়ির পাশেই। এ ছাড়াও পোস্টার পাওয়া গিয়েছে শুশুনিয়া, রসপাল, ভেলাবাঁধি, সুতান, মাজগেড়িয়া, ঝিলিমিলি-সহ কয়েকটি গ্রামে। পোস্টারগুলি সিপিআই-মাওবাদীর নামে লেখা। বক্তব্য, ‘কিষেণজি অমর রহে’ এবং ‘কিষেণজিকে হত্যার প্রতিবাদে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’।

শুশুনিয়া গ্রামের চৌরাস্তার পাশে একটি গাছে জড়ানো লাল শালুর উপর সাদা কালিতে লেখা পোস্টারে আবার ডাক দেওয়া হয়েছে, ‘২৮ জুলাই থেকে ৩ অগস্ট ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে শহিদ সপ্তাহ পালন করুন’। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পোস্টারগুলি ছিঁড়ে ফেলে। পশ্চিম মেদিনীপুরে বেলপাহাড়ির শিমুলপাল এলাকার গ্রামগুলিতে যে সব পোস্টার মিলেছিল, তাতেও শহিদ সপ্তাহ পালনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, কিষেণজিকে ‘ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা’ করার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

কিছু দিন ধরেই কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের গোয়েন্দা-কর্তারা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে ফের মাওবাদী তৎপরতা শুরু হয়েছে। পোস্টারে শুধু নয়, মাওবাদীদের অস্তিত্ব টের পাওয়া যায় স্থানীয় সমস্যায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আড়ালে থেকে তাঁদের সংগঠিত করার মতো ঘটনায়। সাম্প্রতিক তেমন কিছু ঘটনা গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে এ রাজ্যে। সাধারণ ভাবে মাওবাদী সংগঠনের সদস্যরা স্থানীয় ভাবে কাজ করলেও দায়িত্বে থাকেন কোনও পলিটব্যুরো স্তরের নেতা বা নেত্রী। এক সময় যেমন ছিলেন কিষেণজি। রাজ্য পুলিশকে যেটা ভাবাচ্ছে তা হল, এতগুলি গ্রামে এক রাতে পোস্টার দিতে গেলে স্থানীয় স্তরে সমর্থনের প্রয়োজন হয়। সেটা চিন্তার। তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, এ সবের ছক কষে দিচ্ছেন কে? সে ব্যাপারে এখনও অন্ধকারে পুলিশ।

প্রাক-লালগড় আন্দোলন পর্বে জঙ্গলমহলের যে-সব জায়গা মাওবাদী নাশকতার মানচিত্রে উপরের দিকে ছিল, বারিকুল তার অন্যতম। ২০০৬ সালে মাওবাদীদের ‘বুবি ট্র্যাপ’ বুঝতে না পেরে বারিকুল থানার ওসি প্রবাল সেনগুপ্ত বিস্ফোরণে নিহত হন। ২০০৫ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বারিকুল থানা এলাকায় খুন হন সিপিএমের এক ডজনেরও বেশি নেতা কর্মী ও তাঁদের আত্মীয়। খুন হয়েছেন পুলিশকর্মীও। তাই বিধানসভা ভোটের বছরখানেক আগে বারিকুলে এই পোস্টার-ব্যানার উদ্ধারকে তাই হাল্কা ভাবে নিচ্ছে না পুলিশ-প্রশাসন ও শাসক দলের একাংশ। বারিকুলের এক-দু’টি পোস্টার সাঁটা হয়েছে তৃণমূলের দেওয়াল লিখন ও তাদের প্রতীক চিহ্নের উপরে। রাজ্য গোয়েন্দা পুলিশের এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘‘বারিকুলের ওই তল্লাটে মাওবাদীদের প্রতি সহানুভূতিশীলরাই ওই পোস্টার দিয়েছে। বাইরে থেকে  এসে কারও পক্ষে এমনটা করা সম্ভব নয়। তারা কারা, সেটা চিহ্নিত করাই এখন চ্যালেঞ্জ।’’

বাঁকুড়ার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার অনুপ জায়সবালের মোবাইলে এ দিন দুপুরে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। তবে, জেলা গোয়েন্দা দফতরের এক আধিকারিক বলেন, “নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিতেই মাওবাদীদের লিঙ্কম্যানরা এই কাজ করে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগের।’’ ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলে গত চার বছরে কেউ খুন হননি। মাওবাদীদের পোস্টার, ব্যানারও দেখা যায়নি। কিন্তু, এ দিনের ঘটনায় জঙ্গলমহলের এক তৃণমূল নেতার স্বীকারোক্তি, “শনিবার রাতে যে ভাবে একযোগে এতগুলি পোস্টার-ব্যানার সাঁটা হয়েছে তাতে স্পষ্ট, গ্রামে গ্রামে নতুন করে সংগঠন গড়ছে মাওবাদীরা। এটাই চিন্তার।’’

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/government-sees-challenge-from-maoist-poster-at-barikul-1.183004


ভারতঃ পশ্চিমবঙ্গের শালবনিতে মাওবাদী পোস্টারে আগ্রহ-জল্পনা

b

ফের মাওবাদী পোস্টার৷ এবং, এ বারও মাওবাদী ওই পোস্টার মিলল সেই শালবনিতেই৷ আর, সেখানকার বাগমারির ওই পোস্টারকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন নতুন করে দেখা দিয়েছে আগ্রহ, তেমনই অন্যদিকে আবার এখন শুরু হয়েছে জোর জল্পনাও৷

প্রতিটি পোস্টারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে “দিদি” বলে সম্বোধন করে মাওবাদী নেতা কিষেণজির মৃত্যুর বদলা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এরকম ৮ থেকে ১০টি পোস্টার উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া পোস্টারগুলিতে মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসকে উদ্দেশ্য করে ৭টি প্রশ্ন করা হয়েছে। পোস্টারগুলির একটিতে কিষেণজির হত্যাকারী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আরেকটিতে শশধর মাহাতকে হত্যা করার পর তার স্ত্রীকে নবান্নে কেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে জানতে চাওয়া হয়েছে তাও। এছাড়াও তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের সাবধান হওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে মাও পোস্টারে। জঙ্গলমহল থেকে CRPF তোলার দাবিও জানানো হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসকেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে পোস্টারে

রাষ্ট্রদ্রোহিতায় দোষী সাব্যস্ত ছত্রধর মাহাত সহ ছ’জনকে গত মঙ্গলবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে মেদিনীপুর আদালত৷ আর, ওই রায়কে কেন্দ্র করেই, জঙ্গলমহলের সঙ্গে দ্বিচারিতার জন্য নিশানা করা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ এমনই বিভিন্ন ঘটনার জেরে, স্বাভাবিকভাবেই, শালবনির ওই মাওবাদী পোস্টারকে কেন্দ্র করে সেখানে নতুন করে তৈরি হয়েছে জল্পনার পরিবেশ৷ লালগড়ে বিদ্রোহের জন্য সেখানকার মানুষকে এক হওয়ার কথাও বলা হয়েছে মাওবাদী ওই পোস্টারে৷ সাজা ঘোষণার পরে গত মঙ্গলবার ছত্রধর মাহাত জানিয়েছিলেন, যে বিস্ফোরণ ঘটানোর কথা বলা হচ্ছে, তার কোনও প্রমাণ নেই৷ কোনও প্রমাণ ছাড়া মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে৷ এর জবাব দেবেন জঙ্গলমহলের মানুষ৷ জঙ্গলমহলের আন্দোলন চলবে৷

কাজেই, মঙ্গলবার ছত্রধর মাহাতর ওই দাবি অথবা অভিযোগ এবং শালবনিতে মাওবাদী পোস্টার মেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে, প্রশাসনিক মহলের একাংশেও শুরু হয়েছে জোর জল্পনা৷ এই দুই ঘটনার সঙ্গে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে৷ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ওই মাওবাদী পোস্টারকে কেন্দ্র করে এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক অথবা গ্রেফতারের কথা জানায়নি পুলিশ৷ জিন্দালদের প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সেরে ফেরার পথে, ২০০৮-এর দুই নভেম্বর শালবনিতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয় রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর কনভয়ে৷ ওই বিস্ফোরণের পিছনে মাওবাদীরা যুক্ত বলে অভিযোগ ওঠে৷ আর, ওই ঘটনার জেরে পুলিশি ধরপাকড় সহ অত্যাচার (অভিযোগ)-এর বিরুদ্ধে, লালগড়ে জন্ম নেয় পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটির৷ ওই কমিটির-ই নেতা ছত্রধর মাহাত৷

সুত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/again-maoist-postars-shalbani-west-bengal.html