কমিউনিস্ট গেরিলাদের দমনে ‘ডেথ স্কোয়াড’ গঠনের ঘোষণা দিল ফিলিপাইন প্রেসিডেন্ট

NPA2-800x445

ফিলিপাইনের মাওবাদী- নিউ পিপলস আর্মি'(NPA)

মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের দমনে একটি ‘ডেথ স্কোয়াড’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। বুধবার তিনি বলেছেন, মাদকবিরোধী যুদ্ধের চেয়ে এর ব্যাপকতা বেশি হবে। দুতার্তের এই বক্তব্যের পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের আশঙ্কা, দুতার্তের নতুন এই দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে পড়বে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, মাদকের বিরুদ্ধ লড়াইয়ে এরই মধ্যে ডেথ স্কোয়াডগুলো ভয়ংকর পরিবেশ তৈরি করেছে। নতুন করে এই বাহিনী সৃষ্টিতে অবস্থা আরো নাজুক হবে।

পুলিশের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের হাতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি এই নিহতের সংখ্যা অন্তত তিন গুণ বেশি হবে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘দুতার্তের এই ঘোষণা বিদ্রোহী, বামপন্থী, বেসামরিক নাগরিক এবং সরকারের সমালোচকদের নির্বিচারে আটকের অধিকার দেবে। তাঁর এই ঘোষণা ফিলিপাইনের অবস্থা আরো নাজুক করে তুলবে।’

বার্তা সংস্থা এএফপির এক খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে দেয়া এক বক্তৃতায় রদ্রিগো দুতার্তে কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের হিট স্কোয়াড হিসেবে পরিচিত ‘স্প্যারো ইউনিটসকে’ লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলেন। 

৫০ বছর ধরে কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান চালাচ্ছে ফিলিপাইন সরকার। পূর্ববর্তী সরকারের মতো দুতার্তেও প্রথমে কমিউনিস্টদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু গত বছর সেনা ও পুলিশ সদস্যদের ওপর ভয়াবহ হামলার পর সে আলোচনা বাতিল হয়ে যায়। কমিউনিস্টদের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুতার্তে কমিউনিস্ট পার্টি অব দ্য ফিলিপাইনস এবং ৩৮০০ সদস্যের সশস্ত্র শাখা নিউ পিপলস আর্মিকে (এনপিএ) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেন। মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট দুতার্তে তাঁর ভাষণে কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের দমনে ‘স্প্যারো ইউনিট’ নামে বাহিনী গঠনের কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজের একটা বাহিনীর অভাব বোধ করছি। এ কারণে কমিউনিস্টরা এখনো মাথাচাড়া দিচ্ছে। সুতরাং আমি নিজের একটা স্প্যারো বাহিনী তৈরি করব।’

ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেলফিন লোরেনজানা গতকাল বুধবার জানান, তাঁরা এই বাহিনীর পরিকল্পনা নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণা করবেন। কে এটা পরিচালনা করবে, কে এটা দেখাশোনা করবে এবং কারা এর লক্ষ্যবস্তু হবে, তা নিয়ে কাজ করবেন। এই আইন অপব্যবহারের বড় বিপদ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

দুর্তাতের এই পরিকল্পনায় কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ‘হোসে মারিয়া সিসন’ এবিএস-সিবিএন টেলিভিশনকে বলেন, শুধু ১৯৭০ ও ১৯৮০ দশকের দিকে স্প্যারো ইউনিটের অস্তিত্ব ছিল। দুতার্তে তাঁর একাধিক ডেথ স্কোয়াডের কার্যকারিতা প্রমাণে অনেক স্প্যারো ইউনিট তৈরি করছেন, যা অবৈধ।


মাওবাদী কমিউনিস্টদের হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করলেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট দুতের্তে

18010141_10154609668578576_5527140361601419786_n

‘আল জাজিরা’ জানাচ্ছে, মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের হত্যার জন্য ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের পুরস্কার ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছে মানবাধিকার গ্রুপ, বিদ্রোহী ও আদিবাসী সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ দুতের্তের এই ঘোষণা সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধাপরাধে প্ররোচিত করবে।

গত সপ্তাহে দুতের্তে মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। ফিলিপিনো প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, আধা-সামরিক বাহিনীর যোদ্ধা বানাতে তিনি আদিবাসী জনগণকে প্রশিক্ষণ এবং মিনদানাওর দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপে তাদের সম্প্রদায়ের প্রত্যেক কমিউনিস্ট বিদ্রোহীকে হত্যার জন্য ২০ হাজার পেসো (৩৮৪ মার্কিন ডলার) করে দিবেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা অর্থ চাও? আমি তোমাদের অর্থ দিব। প্রত্যেকের জন্য ২০ হাজার পেসো দিব।’

তবে দুতের্তের ওই ঘোষণার পর এরই মধ্যে দক্ষিণ ফিলিপাইনের সবচেয়ে বড় আদিবাসী সংগঠন জানিয়েছে, অর্থের জন্য হত্যা করা তাদের সংস্কৃতির অংশ নয়। দুতের্তে এর আগেও একইরকম বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি নারী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের ‘অকার্যকর’ করতে সেনাবাহিনীকে তাদের যৌনাঙ্গে গুলি করার কথা বলেছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার দেওয়া বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কার্লোস এইচ কন্ডে বলেন, ওই পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে দুতের্তে তার ‘সেনাবাহিনীকে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করতে উত্সাহিত করছেন’। তিনি আরো বলেন, দুতের্তের ‘হিংসাত্মক বক্তব্য’ সশস্ত্র সংঘাতের রীতি-নীতি লঙ্ঘনে উত্সাহ দেয়। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের র‍্যাচেল চোহয়া-হাওয়ার্ডও দুতের্তের নতুন পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করে একে ‘একই সঙ্গে আতঙ্কজনক ও নিষ্ঠুর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টির নির্বাসিত নেতা হোসে মারিয়া সিসন বলেন, দুতের্তে তার শাসনের মধ্য দিয়ে একটি অপরাধী চক্রের সর্দারের মতো কাজ করছেন। আল জাজিরাকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দুতের্তের ওই সমাধানের ফলে নির্বিচারে হত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে।


মাওবাদী কমিউনিস্ট নারীদের যৌনাঙ্গে গুলি করা উচিতঃ ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট দুতার্তে

AFP_Z90A7-5344

ফিলিপাইনে প্রেসিডেন্ট দুতার্তে

aljazeera.com জানাচ্ছে, ফিলিপাইন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেয়া মাওবাদী কমিউনিস্ট নারী বিদ্রোহীদের যৌনাঙ্গে গুলি করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশটির মানবাধিকার সংস্থা ও নারী সংগঠনগুলো।

ফিলিপাইনের হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সোমবার আল জাজিরাকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছে, নারীদের নিয়ে দুতার্তের ধারাবাহিক মন্তব্যের মধ্যে সাম্প্রতিক এই মন্তব্যটি চরম নারী বিদ্বেষমূলক, মর্যাদাহানিকর এবং অপমানজনক।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ফিলিপাইন প্রতিনিধি কার্লোস কন্দে বলেন, ‘দুতার্তের এই বক্তব্য সশস্ত্র সংঘাতের সময় রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে যৌন সহিংসতা সংগঠিত করতে উৎসাহিত করবে। আর এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন।’   

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৭ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট এই বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ফিলিপাইনের সেনাদের মাওবাদী কমিউনিস্ট নারী বিদ্রোহীদের গুলি করে মারা উচিত নয়।

দুতার্তে বলেন, ‘আমরা শুধু তোমাদের গোপনাঙ্গে গুলি করব। যাতে করে তোমাদের আর কোনো গোপন অঙ্গ না থাকে। তখন তোমরা এমনিতেই অকেজো হয়ে যাবে।’

কমিউনিস্ট আন্দোলনে যোগ দিতে যেসব নারী যোদ্ধারা পরিবার ও সন্তানদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তাদের ভর্তসনা করেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট।

গাব্রিয়েলা উইমেনস পার্টির কংগ্রেস সদস্য ইমি ডি জেসাস বলেছেন, দুতার্তের এটি ‘নোংরা মন্তব্য’। তার এই বক্তব্য দেশের ‘দমনমূলক সংস্কৃতির’ পরিচয় বহন করে।

তিনি প্রেসিডেন্ট দুতার্তেকে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বিপজ্জনক পুরুষ ফ্যাসিবাদী বলে উল্লেখ করেন।  

 


ফিলিপাইনের শীর্ষ মাওবাদী নেতা ‘রাফায়েল বেলোসিস’ আটক

 

Rafael-Baylosis

ফিলিপাইনের শীর্ষ মাওবাদী নেতা ‘রাফায়েল বেলোসিস’

শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুতার্তের নির্দেশে ফিলিপিন্সের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির এক শীর্ষ মাওবাদী কমিউনিস্ট গেরিলা নেতাকে আটক করেছে।

বুধবার রাজধানী ম্যানিলার উত্তরপূর্ব শহর কোয়েজন থেকে ৬৯ বছর বয়সী বেইলসিসকে তার সঙ্গী রোকে গুইলারমোসহ আটক করা হয় বলে ফিলিপিন্সের ন্যাশনাল পুলিশের মুখপাত্র জন বুলালাকাও জানিয়েছেন।

পুলিশের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বেইলসিস ও তার সঙ্গী সেনা ও পুলিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বুধবার বিকালের দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন।

“বেইলসিস সম্ভবত নিউ পিপলস আর্মির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন,” তিন হাজার সশস্ত্র সদস্যের মাওবাদী গেরিলা সংগঠনটির নাম উল্লেখ করে বলেন পুলিশের মুখপাত্র।

কয়েক মাস আগে মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর বেইলসিসই প্রথম আটক হওয়া শীর্ষ নেতা।

২০০৬ সালে সেনাবাহিনী ফিলিপিন্সের মধ্যাঞ্চলে সন্দেহভাজন ১৫ সরকারি গুপ্তচরের একটি গণকবর আবিষ্কারের পর এ গেরিলা নেতার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়। 

গত বছরের অগাস্টে বেইলসিসসহ ১৮জন গেরিলা নেতাকে জামিন দিয়ে মধ্যস্থতা ও আলোচনার জন্য নেদারল্যান্ডে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল ফিলিপিন্স সরকার।

আলোচনা চলার সময়ও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে দুতার্তে মাওবাদী কমিউনিস্টদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বাতিল করে দেন। গেরিলা নেতাদের ‘সন্ত্রাসী’ অ্যাখ্যা দিয়ে তাদের গ্রেপ্তারেরও নির্দেশ দেন তিনি। ওই ধারাবাহিকতাতেই বেইলসিসকে আটক করা হয় বলে ভাষ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

মানবাধিকার সংগঠন ও বাম রাজনৈতিক কর্মীরা রাষ্ট্রের জারি করা ‘দায়মুক্তি’র মধ্যেই বেইলসিসকে আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। গেরিলা এ নেতার মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল পুলিশের সদরদপ্তরের সামনে বিক্ষোভেরও ঘোষণা দিয়েছে তারা।

“বানোয়াট অভিযোগগুলো অবশ্যই বাতিল করতে হবে। শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারীকে নির্যাতন করার চেয়েও দুতার্তের উচিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সূচিগুলো নিয়ে শান্তি আলোচনা ফের শুরু করা,” বিবৃতিতে বলেন স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন বায়ানের সেক্রেটারি জেনারেল রেনাতো রেইজ। 

মাওবাদী গেরিলাদের রাজনৈতিক শাখা ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বেইলসিসের আটককে ‘অবৈধ’ অ্যাখ্যা দিয়েছে। এর মাধ্যমে শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বেইলসিসের  নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ‘গুরুতর লংঘন’ ঘটেছে বলেও অভিযোগ তাদের।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র হ্যারি রোকে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট শান্তি আলোচনা বাতিল করার সঙ্গে সঙ্গেই ওই গেরিলা নেতাদের নিরাপত্তা ও দায়মুক্তি অকার্যকর হয়ে পড়েছিল।

বেইলসিসের আটকাদেশ নিয়ে আদালতে যেতেও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

“কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে; যদি তাকে গ্রেপ্তার না করা হত, তাহলে কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে মুখোমুখি হতে হত,” বলেন তিনি

phelipines

গেরিলা এ নেতার মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল পুলিশের সদরদপ্তরের সামনে মানবাধিকার কর্মীদের বিক্ষোভ।

 


ফিলিপাইনে আইএসের পর প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তের টার্গেট মাওবাদী কমিউনিস্টরা

npa-4

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে জানিয়েছেন, ‘আইএস বোকাদের দমনের পর এবার তার লক্ষ্য কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের উৎখাত করা।’ কয়েকটি হামলার পর কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বাতিল করে এ লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন বন্দুকভক্ত প্রেসিডেন্ট বলে পরিচিত দুয়ার্তে।

বৃহস্পতিবার দুয়ার্তে মারাউই সিটির একটি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সেনাদের উদ্দেশে বলেন, আইএসের সঙ্গে জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে লড়াইয়ের পর তারা কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের দমনে যুদ্ধে নামবেন।

দুয়ার্তে বলেন,  এখানে ওই বোকাদের (আইএস) দমনের পর আমরা নিউ পিপল’স আর্মির বিরুদ্ধে নতুন অভিযান শুরু করব।

নিউ পিপল’স আর্মি হচ্ছে কমিউনিস্ট পার্টি অব দ্য ফিলিপাইনের সশস্ত্র বাহিনী।

দুয়ার্তে আরও বলেন, তাদের আমি আর আলোচনা করতে চাই না। তারা আমাদের অনেক সেনাদের হত্যা করেছে, অনেক পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে। ভাবতে পারেন বাজারে যাওয়ার সময় দুই সেনাকে হত্যা করা হয়েছে। এটা আমাকে ক্ষুব্ধ করেছে।

চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে নেদারল্যান্ডসে কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারের মধ্যস্ততাকারীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসার কথা ছিল। কিন্তু দুয়ার্তের নিরাপত্তারক্ষীদের উপর হামলার পর আলোচনাটি বাতিল করা হয়েছে।

শুক্রবার দুয়ার্তের মুখপাত্র আর্নেস্টো আবেলা সাংবাদিকদের বলেন, মেনে নেওয়ার মতো শর্তে উভয় পক্ষ রাজি না হওয়া পর্যন্ত সবকিছু স্থগিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দশক ধরেই ফিলিপাইনে কমিউনিস্ট ও মুসলিম বিদ্রোহীরা সশস্ত্র সংগ্রাম করে আসছে। দেশের বিভিন্ন অংশে সরকারি সেনাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে তারা।

সূত্র: আল জাজিরা।


ফিলিপিন্সে মাওবাদী হামলায় প্রেসিডেন্ট গার্ডের ৫ সৈন্য আহত

maoist

 


আইএস জঙ্গি দমনে মাওবাদীদের সমর্থন চাইলেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ‘দুতার্তে’

npa-11

ফিলিপিন্সের মারাবিতে ইসলামপন্থী আইএসআইএস জঙ্গিদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চলমান সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ১শ’ জন ছাড়িয়ে গেছে। এরমধ্যে কেবল রোববারই নিহত হয় অন্তত ১৯ জন। জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণ থেকে মারাবি শহর পুনরুদ্ধারে গেল সপ্তাহে শুরু হওয়া এ অভিযানে এরইমধ্যে পালিয়ে গেছে হাজার হাজার মানুষ। জঙ্গিদের নির্মূলে সরকারকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসার জন্য মরো মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদী ও মাওবাদীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে।

লানাও দেল সুর প্রদেশের একটি আশ্রয় কেন্দ্রে রোববার ত্রাণ বিতরণ করে ফিলিপিন্স কর্তৃপক্ষ। মারাবি শহরে জঙ্গিদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চলমান সংঘর্ষ থেকে বাঁচতে যারা পালিয়ে এসেছে সেই সব শরণার্থী এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। গেল সপ্তাহে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে মিনদানাও দ্বীপের হাজার হাজার মানুষ। এছাড়াও, জঙ্গিদের হাতে আটকা পড়ে আছে ২ হাজার বেসামরিক নাগরিক। বন্দী করে রাখা হয়েছে, এক খ্রিষ্টান যাজককে।

পালিয়ে আসা এক নারী বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে মৃত্যুভয় আমাদের তাড়া করে ফিরছে। বন্দুকের নলের সামনে থেকে কোনো রকমে জীবন বাঁচিয়ে পালিয়ে এসেছি। আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই।’

আরেক নারী বলেন, ‘পালিয়ে আসার পর আমরা অসুস্থ হয়ে পড়েছি। সরকার আমাদের ওষুধ সরবরাহ করছে। আশা করি, খুব শিগগিরই এই অবস্থার পরিবর্তন হবে।’

ফিলিপিন্সের মারাবি শহরে জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর গেল ছয়দিনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ১শ’ জন ছাড়িয়ে গেছে। জানা গেছে, নিহতদের অধিকাংশই সাধারণ মানুষ। এরইমধ্যে কেবল রোববারই সহিংসতায় মারা যায় অন্তত ১৯ বেসামরিক।
পুলিশ জানায়, রোববার সকালে আটজনের মরদেহ শহরের বাইরে থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এদের সবাই পেশায় কাঠমিস্ত্রি। পুলিশের ধারণা, কোরআন পড়তে না পারায় জঙ্গিরা তাদের হত্যা করে।

এদিকে, বিচ্ছিন্নতাবাদ পরিত্যাগ করে দক্ষিণাঞ্চলে চলমান জঙ্গিবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য মুসলিম মরো গেরিলা ও মাওবাদীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। জোলো দ্বীপের একটি সামরিক ঘাঁটিতে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি মাওবাদীদের শান্তি আলোচনার মাধ্যমে কট্টরপন্থী দমনের লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। জঙ্গি দমনে মাওবাদীদের সমন্বয়ে একটি আলাদা বাহিনী গঠনেরও প্রস্তাব করেন দুতার্তে।

তিনি বলেন, ‘মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট এবং মোরো ন্যাশনাল ফ্রন্টের সদস্যের প্রতিও আমার আহ্বান আপনারা আমাদের সামরিক বাহিনীতে অংশ নিন। আমরা আপনাদের সেনা সদস্য হিসেবে সাদরে গ্রহণ করবো। সেনা সদস্যদের মতোই আপনাদের সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। আমি জানি, তাদের আলাদা যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। কারণ অস্ত্র চালোনাসহ সব ধরনের সামরিক কাজে পারদর্শী তারা।’

ফিলিপিন্সে আইএস সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের উত্থানের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় আইএসের হুমকি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিপিন্সে সহিংসতা, ইন্দোনেশিয়ায় বোমা হামলা এবং মালয়েশিয়ায় আইএস সন্দেহে ছয় জনকে আটকের ঘটনায় বোঝা যায়, এশীয় অঞ্চলে পাকাপোক্তভাবেই ঘাঁটি গাড়ার চেষ্টা করছে আইএস।

সূত্রঃ  somoynews


ফিলিপাইনের রাজধানীতে শতশত মাওবাদী গেরিলা, জনগণকে বিপ্লবে যোগ দেয়ার আহবান

গত ২৭শে মার্চ ২০১৭, ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টি’র এর সশস্ত্র শাখা ‘নিউ পিপলস আর্মি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পার্টির রাজনৈতিক সংগঠন ‘ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’ এর বিপ্লবী মাওবাদী গেরিলা কর্মীরা রাজধানীতে সমাবেশ ও র‍্যালি বের করে। এসময় শতশত মাওবাদী বিপ্লবীরা- মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী, আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ ও সামন্তবাদ বিরোধী বিপ্লবে অংশ নিতে ও ‘নিউ পিপলস আর্মি’তে যোগ দেয়ার জন্যে জনগণের প্রতি আহবান জানান।


ফিলিপাইনে সরকার ও মাওবাদীদের মধ্যকার শান্তি আলোচনা থমকে গেছে

মাওবাদী কমিউনিস্ট গেরিলা

মাওবাদী কমিউনিস্ট গেরিলা

ফিলিপাইনের সরকারের সঙ্গে কমিউনিস্ট মাওবাদীদের অতি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা ভেস্তে দিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট দুতার্তে। আলোচনার শর্ত অনুযায়ী, কারাবন্দী ৪০০ মাওবাদী বিদ্রোহীকে মুক্তি দেয়ার প্রস্তাব ‘অগ্রহণযোগ্য’ বিবেচনা করে তিনি এ আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দেন। এর ফলে ছয় মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান অস্ত্রবিরতি বাতিলের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নরওয়ের মধ্যস্থতায় দেশটির রাজধানী অসলোতে ফিলিপাইন সরকার ও কমিউনিস্ট মতাদর্শের মাওবাদী বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিউ পিপলস আর্মির (এনপিএ) মধ্যে ধারাবাহিক শান্তি আলোচনা চলছিল। এ আলোচনা এগিয়ে নিতে দু’পক্ষ অস্ত্রবিরতিও পালন করছে। চলতি মাসের শেষে দু’পক্ষের পরবর্তী বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝেই আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দিলেন দুতের্তে।

স্থানীয় সময় শনিবার জন্মশহর দাভাওয়ে এক বক্তব্যে দুতের্তে বলেন, ‘৪০০ মাওবাদী বিদ্রোহীকে মুক্তি দেয়ার শর্ত গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আমি আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত নই। আলোচনা বাদ দিয়ে সরকারপক্ষের লোকজনদের দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছি।’  তিনি আরো বলেন, ‘আমি শান্তি আলোচনা সফল করতে অনেক ছাড় দিয়েছি। অসলোতে আলোচনায় অংশ নিতে বিদ্রোহী নেতাদের মুক্তি দিয়েছি। কিন্তু নতুন করে আর কোনো শর্ত মানা সম্ভব নয়।’ যেসব বিদ্রোহী নেতা অসলোতে শান্তি আলোচনায় অংশ নিয়েছেন, তাদের দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এরপর দুর্মুখ প্রেসিডেন্ট দুতার্তে কমিউনিস্ট পার্টির সশস্ত্র শাখা নিউ পিপলস আর্মিকে ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যা দেন। উভয় পক্ষের মধ্যে যে দুর্বল ঐকমত্য ছিল, সেখান থেকে উভয়েই সরে এসেছে। ফলে ফিলিপাইনের প্রান্তিক অঞ্চলে নতুন করে সশস্ত্র বিবাদ শুরু হতে পারে। এসব অঞ্চলে কমিউনিস্ট আন্দোলন এখনো টিকে আছে। আবার অনেক জায়গায় তা শুরুও হচ্ছে।
ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেলফিন লরেনজানা ঘোষণা দিয়েছেন, এই মাওবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ শুরু হবে। আরেক জেনারেল সতর্ক করে দিয়েছেন, তাঁর সেনারা ‘তাদের ঘাঁটিতে চতুর্দিক থেকে আক্রমণ করবে’। ওদিকে মাওবাদীরাও কম যায় না। তারা ভাবলেশহীনভাবে বলেছে, সরকার সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করুক না। গর্ব করে তারা বলেছে, ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়’।
দুতার্তের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে একটি ছিল এ রকম যে, দ্বন্দ্ব-সংঘাতপূর্ণ ও দরিদ্র অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করা হবে। কিন্তু কমিউনিস্টদের দাবী সরকার না মানায় মাওবাদীরা আবারও গেরিলা যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার কারণে দুতার্তের এই প্রতিজ্ঞা পূরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে ফিলিপাইন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি অসমতা ও দারিদ্র্যপীড়িত দেশ, সেখানে ভাগ চাষও পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি, যার জন্য দেশটি কুখ্যাত। সেখানে ব্যাপারটা এমন যে, নিপীড়ক ভূস্বামী, লোভী মধ্যস্বত্বভোগী ও সুবিধাবাদী রাজনীতিকেরা নিয়মিতভাবে লাখ লাখ সাধারণ কৃষককে নির্যাতন করেন। এই কৃষকেরা এখনো প্রকৃত অর্থে ভূমি সংস্কার কর্মসূচি থেকে লাভবান হননি।

এই নিপীড়নের ফলে দেখা গেল, ফিলিপাইনের গ্রামীণ অঞ্চলে মানুষের মধ্যে প্রভূত ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের মধ্যে সামগ্রিকভাবে এই ক্ষোভ আছে বলে মানুষ বিদ্রোহ করছে, যাদের বেশির ভাগই মাওবাদীদের নেতৃত্বে কমিউনিস্ট ভাবাদর্শে উজ্জীবিত। কমিউনিস্ট আন্দোলন ১৯৮০-এর দশকের ফিলিপাইনে একনায়ক মার্কোসের আমলে চরমে পৌঁছেছিল। কিন্তু এই আন্দোলন সম্প্রতি শক্তি হারিয়েছে বলে সরকার পক্ষ বলছে ।

আজ দেখা যাচ্ছে, বড় বড় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর উত্থানের কারণে এই আন্দোলন অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে। বিশেষ করে, মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের কথা বলা যায়, যারা সরকারের সঙ্গে ২০১৫ সাল থেকে আলোচনা করে আসছে, যদিও মাঝে নানা ছেদ পড়েছে। তা সত্ত্বেও দুতার্তে কমিউনিস্টদের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী শান্তিচুক্তি করতে আগ্রহী ছিলেন, যিনি নিজ শহর দাভাওয়ে যুদ্ধরত বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সমঝোতা আনার চেষ্টা করেছিলেন। আবার তিনি একজন স্বঘোষিত ‘সমাজতন্ত্রী’, যার সঙ্গে কমিউনিস্টদের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে ভালো। অনেকেই মনে করেন, এই দীর্ঘদিনের মাওবাদী বিদ্রোহের রাশ টানতে তাঁর ওপরই বেশি ভরসা রাখা যায়।

এমনকি দুতার্তে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শ্রম, সমাজকল্যাণ, কৃষি সংস্কার ও দারিদ্র্য দমন কমিশনের মন্ত্রী বানাতে চেয়েছিলেন। আর এখানেই তিনি অন্য ফিলিপিনো প্রেসিডেন্টদের চেয়ে ভিন্ন। বস্তুত দুতার্তে ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান তাত্ত্বিক হোসে মারিয়া সিসনের ছাত্র। অনেক বছর তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগেও এমন আশা ছিল যে, ছাত্র-শিক্ষকের মিলন হবে। শিক্ষক তো নেদারল্যান্ডসে নির্বাসনে আছেন, সম্ভাবনা ছিল, তিনি ফিলিপাইনে ফিরে আসবেন। এটা করতে দুতার্তে প্রশাসনকে বহুদূর যেতে হতো। এর জন্য ওয়াশিংটনের সন্ত্রাসী তালিকা থেকে তাঁর শিক্ষককে বের করে আনতে হতো।

এর মধ্যে দুই দফা উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে, অসলো ও রোমে। ফলে এমন আশা সৃষ্টি হয়েছিল যে, দ্রুতই পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য চুক্তির মাধ্যমে এশিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কমিউনিস্ট বিদ্রোহের অবসান হবে। সিসনও আনন্দিত হয়ে বলেছিলেন, ‘আবার আমি দুতার্তের কাছে কৃতজ্ঞ, তিনি শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।’ প্রাক্তন ছাত্র ও বর্তমানে ফিলিপাইনের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মানুষটির প্রতি তিনি এভাবেই কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন।

প্রাথমিকভাবে শান্তি আলোচনায় সফলতা আসার পর অনেক ভাষ্যকারই কিছুটা ঠাট্টার সুরে বলেছিলেন, দুতার্তে শিগগিরই নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবিদার হবেন। সর্বোপরি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস অনেক বছরের চেষ্টায় ফার্ক বিদ্রোহীদের আস্থা অর্জন করে তাদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছেন। ফলে তিনি গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু দুটি ব্যাপার দুতার্তের প্রচেষ্টা ব্যাহত করেছে।

প্রথমত ও সর্বাগ্রে দুতার্তে খেপে গিয়ে বলছে, মাওবাদীরা কাঠামোগত ঐকমত্য ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হওয়ার আগে নানা দাবি তুলেছে। সরকার শীর্ষ কমিউনিস্ট নেতাদের মুক্তি দেওয়ার পর তাঁরা আরেক দফা দাবি উত্থাপন করে। এতে সামরিক বাহিনীসহ যারা কমিউনিস্টদের সঙ্গে দীর্ঘদিন তিক্ত লড়াই করেছে, তারা বিরক্ত ও বিরোধিতা জানাচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে দুতার্তে বাহ্যত তাঁদের সতর্ক করে দেন, তাঁরা যেন বেশি দাবি না করেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি।

এরই মাঝে কমিউনিস্টদের স্থানীয় ইউনিটগুলো যুদ্ধবিরতি ও চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যে কয়েকটি বিলাসবহুল রিসোর্ট ও সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। সেনাবাহিনী বলছে, এই সময় শান্তি আলোচনার সুযোগ নিয়ে মাওবাদীরা প্রায় ১০০০ নতুন গেরিলা সদস্য রিক্রুট করে ফেলেছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে দুতার্তে ভাবতে শুরু করেন, কমিউনিস্টদের সতর্ক করে স্বল্প মেয়াদে কৌশলগতভাবে জয়লাভ করতে চাচ্ছেন, যিনি এর বাইরে যাবেন না।

উল্লেখ্য, এনপিএ ফিলিপাইন কমিউনিস্ট পার্টির সশস্ত্র অংশ। প্রায় ৫০ বছর ধরে এ মাওবাদীদের সাথে দেশটির সরকারের সঙ্ঘাত চলছে। সঙ্ঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ১৯৮৯ সালে ফিলিপাইনে অবস্থিত মার্কিন সেনা কলোনিতে সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় আসে এ মাওবাদী বিদ্রোহীরা।

সূত্রঃ আল জাজিরা থেকে নেওয়া।

 


ফিলিপাইনে ৭ দিনের অস্ত্রবিরতি পালন করবে মাওবাদী কমিউনিস্টরা

1471690733

শান্তি আলোচনাকে সামনে রেখে নতুন করে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়েছে ফিলিপাইনের সরকার এবং কমিউনিস্ট পার্টি। চলতি মাসের ২২ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত নরওয়েতে ওই শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা।  ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টি সাত দিনব্যাপী অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করার পর ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তেও নতুন করে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেন।  এর আগে মাওবাদী গেরিলাদের হাতে সরকারের মিলিশিয়া বাহিনীর একজন সদস্য নিহত হলে প্রেসিডেন্ট ঘোষিত ওই অস্ত্রবিরতি ভেস্তে যায়।
উল্লেখ্য নিউ পিপলস আর্মি-র দুইটি ফ্রন্ট। এর প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংগঠন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট। অপর ফ্রন্ট নিউ পিপলস আর্মি আন্ডারগ্রাউন্ডে মাওবাদী ধারায় গেরিলাযুদ্ধ করে থাকে।
এক বিবৃতিতে কমিউনিস্ট পার্টি জানিয়েছে, ‘আমরা আশা করি অস্ত্রবিরতির ঘোষণা সরকারের পক্ষ থেকেও আসবে। যা শান্তি আলোচনার প্রতি সরকারের আস্থাকে নির্দেশ করবে।’ সেখানে আরও বলা হয়, ‘শান্তি আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য পার্টি এবং তার সশস্ত্র ইউনিট (নিউ পিপল’স আর্মি) দীর্ঘমেয়াদী অস্ত্রবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।’ পার্টির প্রকাশ্য সংগঠন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট জানিয়েছে, তারা শান্তি আলোচনার জন্য তৈরি।
এর আগে প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তে ২৫ জুলাই মাওবাদীদের প্রতি অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করেন। তবে তা টিকেছিল মাত্র পাঁচ দিন। মাওবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষে সরকারি বাহিনীর এক কর্মকর্তা নিহত হলে ওই অস্ত্রবিরতি ভেঙে পড়ে। এবার সরকারের পক্ষ থেকে নতুন অস্ত্র বিরতির ঘোষণা দিয়ে শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা জেস দুরেজা বলেন, ‘এই ভূখণ্ডে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যা দরকার, তা-ই করা হচ্ছে। বন্দুকের মুখ বন্ধ করে আমরা নিজেদের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আনতে পারবো।’

এর আগে শুক্রবার দুয়ার্তে দুই জ্যেষ্ঠ কমিউনিস্ট নেতাকে মুক্তি দেন। তারা শান্তি আলোচনার জন্য নরওয়ের অসলোর জন্য যাত্রা শুরু করেছেন।

ফিলিপাইনে ১৯৬৯ সাল থেকে সশস্ত্র কমিউনিস্টদের সঙ্গে সরকারের চলমান বিরোধের বলি হয়েছেন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ৩০ বছর ধরে চলছে আলোচনা। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি।

সর্বশেষ ২০১২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বেনিগনো অ্যাকিনোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়ে। ধারণা করা হয়, এখন প্রায় চার হাজার সশস্ত্র যোদ্ধা রয়েছে মাওবাদীদের।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আল-জাজিরা।