“আদিবাসী নারীদের ‘উত্যক্ত এবং গণধর্ষণ’ এর জন্যে নিরাপত্তা বাহিনী দায়ী” – নকশাল নেতা

IMG-20150802-WA014_2500415f

বস্তারে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারানো ৪০জনের মধ্যে ৮জন ছিল মাওবাদী, বাকিরা ছিলেন নিরীহ গ্রামবাসী।

বস্তারের আইজি এসআরপি কাল্লুরি দাবি করেছিল- ‘২০১৬ সালের প্রথম ২মাসে ৪০জন মাওবাদীকে হত্যা করা হয়েছে’। কাল্লুরির দাবিকে বর্জন করে দিয়ে নকশাল নেতা ‘গণেশ উইকি’ বলছেন- ‘হত্যাকৃত ৪০জনের মধ্যে ৮জন মাওবাদী ছিলেন’।

সিপিআই(মাওবাদী) দক্ষিণ আঞ্চলিক কমিটি’র সম্পাদক ‘গণেশ উইকি’ এক প্রেস বিবৃতিতে দাবি করে বলেন- মাওবাদী বিরোধী অভিযানের নামে বস্তার পুলিশ ৭জন নারীসহ ৪০জনকে হত্যা করেছে।’ তিনি বলেন- নিহতদের মধ্যে বিজাপুর জেলায় ১৭, সুকুমা জেলায় ১২, দান্তেওয়াদায় ৩, কোন্দাগাঁদনে ৫ ও বস্তারের ৩ জন ছিলেন। এই ৪০ জনের মধ্যে, মাত্র ৮জন আমাদের পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি’র সদস্য ছিলেন। বাকিরা ছিলেন নিরীহ গ্রামবাসী, এই সব নির্দোষ কৃষক ও গ্রামবাসীদের ভুয়া এনকাউণ্টারের নামে হত্যা করা হয়েছে।”

‘গণেশ উইকি’ এছাড়াও আদিবাসী নারীদের “উত্যক্ত এবং গণধর্ষণ” এর জন্যে নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিযুক্ত করেন এবং এই সমস্ত ঘটনার প্রতিবাদে ১২ই মার্চ দক্ষিণ বস্তারে বনধ ডাকা হয়েছে।

‘গণেশ উইকি’ বলেন, “কিন্তু কাল্লুরি এবং রমন সিং সরকার মাওবাদীদের হত্যার দাবী করেছে, কোন সামাজিক সংগঠন, আইনি সংগঠন বা সাংবাদিক, যারা এই হত্যাকাণ্ডের বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, তারাই পুলিশ ও প্রশাসনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।”-

অনুবাদ সূত্রঃ thehindu.com


ভারতঃ মাওবাদী দমনের নামে বেপরোয়া জুলুম বস্তারে

jhargram-rape_1207_630

নতুন চেহারায়,নতুন ভঙ্গিমায় ছত্তিশগড়ে ফিরে আসছে সালওয়া জুদুম। ‘মাওবাদী’ আখ্যা দিয়ে চলছে নির্বিচারে সমাজকর্মী-সাংবাদিক-আইনজীবীদের ওপর আক্রমণ। আদিবাসী মানুষদের ধরপাকড়। হঠাৎই নিরুদ্দেশ হয়ে যাচ্ছেন নিরীহ গরিব আদিবাসীরা বস্তার থেকে! আদিবাসী মহিলাদের শ্লীলতাহানি, দল বেঁধে ধর্ষণ। অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। বি জে পি কর্মীদের বিরুদ্ধে। সামাজিক একতা মঞ্চ গড়ে তুলে মাওবাদী দমনের নামে যে কোন প্রতিবাদকে থামানোর চেষ্টা চলছে কয়েকমাস ধরেই। বি জে পি শাসিত ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী রামন সিং ও তাঁর বশংবদ পুলিশের একটাই লক্ষ্য বস্তার, বিজাপুর, সুকমার খবর যাতে বাইরের পৃথিবীতে না আসে।

২০শে ফেব্রুয়ারি। জগদলপুর থেকে গিদমে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন মানবাধিকার ও সমাজকর্মী-আপ নেত্রী সোনি সোরি। অতর্কিতে আক্রমণ, সোনি সোরির মুখে ছোঁড়া হয় সবুজ রঙের রাসায়নিক তরল। কালো মুখ নিয়ে সোনি সোরি দিল্লিতে, অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই বস্তার অঞ্চলে আদিবাসীদের মধ্যে কাজ করে আসছেন সোরি। মাওবাদী তকমা সেঁটে দিয়ে আদিবাসী মানুষদের ওপর পুলিশের অত্যাচার, জুলুমের বিরুদ্ধেও বারে বারে সরব হয়েছেন তিনি। সালওয়া জুদুমের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে গেছেন সোরি। অভিযোগ করেছিলেন জেলে শারীরিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে। গত লোকসভা ভোটে বস্তার কেন্দ্র থেকে আপ-র প্রার্থী ছিলেন সোরি।

কয়েকদিন ধরেই চলছিল হুমকি। বাড়িতে ছোঁড়া হয়েছিল পাথর। সোরির পরিবারের লোকেদেরও দেওয়া হয়েছিল প্রাণনাশের হুমকি। বস্তার ছাড়তে হবে সোনি সোরিকে, অভিযুক্ত সেই বি জে পি কর্মীদের নিয়ে গঠিত ‘সামাজিক একতা মঞ্চ’। শেষ পর্যন্ত হামলা।

গত তিন বছর ধরে নিরীহ আদিবাসীদের ওপর পুলিশী জুলুম, মিথ্যা মামলায় তাদের সাহায্যের জন্য কাজ করছিলেন দুই মহিলা আইনজীবী শালিনী গেরা ও ইশা খান্ডেলওয়াল। গড়ে তুলেছিলেন ‘জগদলপুর লিগাল এইড গ্রুপ’। কয়েকমাস ধরে চলছে জগদলপুরে আদিবাসী মহিলাদের ওপর যৌন হেনস্তা, অভিযোগ এসেছে দলবদ্ধ ধর্ষণেরও। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী। শালিনী ও ইশাকে জগদলপুর ছাড়তে হয়েছে। পুলিশ বাড়িওয়ালাকে ডেকে বলেছে ওঁদের ভাড়া থেকে তুলতে।

একই অবস্থার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক মালিনী সুব্রহ্মণ্যম। একসময়ে ছত্তিশগড়ে রেডক্রসের প্রধান ছিলেন মালিনী। নিরীহ আদিবাসীদের ওপর মাওবাদী অভিযোগ দেখে পুলিশের ধরপাকড়, ভুয়ো এনকাউন্টার, মিথ্যে আত্মসমর্পণের নাটক নিয়ে এখন নিয়মিত লিখছেন ওয়েব পোর্টাল স্ক্রল ডট ইন এ। বিজাপুরে আদিবাসী মহিলাদের ওপর পুলিশ-আধাসেনার যৌন আক্রমণ নিয়েও লিখেছিলেন তিনি। বারে বারে হুমকির মুখে পড়েছেন মালিনী। ‘সামাজিক একতা মঞ্চ’ গত ৬ই ফেব্রুয়ারি চড়াও হয় মালিনীর ভাড়াবাড়িতে। মালিনী নাকি মাওবাদীদের প্রতি সহানুভূতিশীল, এই অভিযোগে তাঁর বাড়িতে ঢিল ছোঁড়া হয়, গাড়ির কাচ ভাঙা হয়। চলতে থাকে অশ্রাব্য গালিগালাজ। আজ বস্তারে থাকেন না মালিনী। গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ছত্তিশগড়।

বস্তার ছাড়া হয়েছে বিশিষ্ট সমাজকর্মী বেলা ভাটিয়াও। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পি এইচ ডি, মুম্বাইয়ের ‘টাটা ইন্সটিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্স’-র প্রাক্তন অধ্যাপিকা বেলা বিগত একবছর ধরে গরিব আদিবাসীদের মধ্যে কাজ করছিলেন। ২০০৬ সালে প্ল্যানিং কমিশন গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যা ছিলেন বেলা, সেই একই কমিটিতে ছিলেন আজকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও! ছত্তিশগড়ের মাওবাদী সমস্যা নিয়ে সেই বিশেষজ্ঞ কমিটি বলেছিল গরিব আদিবাসী ও দলিত সম্প্রদায়ের সাথে সরকার, সমাজের মূলস্রোতের ধারাবাহিক বিচ্ছিন্নতার সুযোগেই মাওবাদীরা নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। বেলা ভাটিয়ার বিরুদ্ধেও একই ভাবে মাওবাদীদের সহানুভূতিশীল অভিযোগে আক্রমণ, কুৎসা,হুমকি চালিয়ে গেছে ‘সামাজিক একতা মঞ্চ’। বেলা ভাটিয়াও এখন বস্তার ছাড়া। জগদলপুরের বাইরে এখন থাকেন তিনি।

আদিবাসীদের ওপর আক্রমণ, মাওবাদী অভিযোগে মিথ্যে মামলা, ভুয়ো সংঘর্ষে মৃত্যুর বিরুদ্ধে সরব হওয়া কন্ঠস্বরগুলিকে দমানো হচ্ছে বারে বারেই। দীর্ঘ হচ্ছে তালিকা। অভিযোগ মূলত দুটি সংগঠনের বিরুদ্ধে। পুলিশের প্রত্যক্ষ মদতে চলছে তাদের কাজ।

সালওয়া জুদুমের প্রাক্তন নেতা, এখন বি জে পি-র মাতব্বর মধুকর রাওয়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘নকশাল পীড়িত সংঘর্ষ সমিতি’ আর বস্তারের স্থানীয় নেতার ভাইপোর গড়ে তোলা ‘সামাজিক একতা মঞ্চ’।

গত কয়েক মাসে বস্তার, বিজাপুর, জগদলপুরে অজস্র মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও নীরব পুলিশ। একটা এফ আই আরও দায়ের হয়নি, তদন্ত দূর অস্ত। এত ঘটনা ঘটলেও দায় এড়িয়েছেন বস্তারের ইন্সপেক্টর জেনারেল কাল্লুরি।

‘বস্তারের মানুষ বাইরে থেকে আসা ওনাদের মেনে নিতে পারছিলেন না, সমাজকর্মীরা মাওবাদীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে পুলিশের অভিযানে বাধা দিচ্ছিলেন, এই ঘটনাগুলি তারই বহিঃপ্রকাশ’! সাফ সাফাই কাল্লুরির।


ভারতঃ বস্তারে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ৩ মাওবাদী

 _79421885_maoistrebelschattiosapমঙ্গলবার ছত্তিসগড়ের বস্তার অঞ্চলে দুটি পৃথক সংঘর্ষে ৩ মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবী করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোররাতে সুকমার পোলামপল্লী পুলিশ স্টেশনের অন্তর্গত এলাকায় ঘটে প্রথম সংঘর্ষটি। কাঁথিপাড়া গ্রামেও নিহত হন ২ মাওবাদী। পুলিশের সঙ্ঘে সংঘর্ষের জেরেই মাওবাদীরা নিহত হয়েছেন বলে প্রেস বিবৃতি দিয়ে দাবী করেছে পুলিশ।

সূত্রঃ http://satdin.in/?p=5690


ভারতঃ দান্তেওয়াদায় মাওবাদীদের হামলায় জখম সিআরপিএফ আধিকারিক

maobadi-655x360

ছত্তিসগড়: দান্তেওয়াদায় মাওবাদীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে এক সিআরপিএফ কমান্ডেন্ট৷ দান্তেওয়াদার মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা বস্তারে এই হামলার ঘটনা ঘটে৷ স্থানীয় সাপ্তাহিক বাজার এলাকায় ওই কমান্ডেন্টকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় মাওবাদী গেরিলারা৷

সিআরপিএফের ১১১ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের অ্যাসিস্টান্ট কমান্ডেন্ট বিজয় মালিক শুক্রবার সকালে বাজারে গিয়েছিলেন নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কিনতে৷ সেই সময় তিনজন মাওবাদী গেরিলা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার উপর হামলা চালায় ও মারাত্মকভাবে তাকে জখম করে জঙ্গলে পালিয়ে যায়৷

আহত সিআরপিএফ অফিসারকে স্থানীয় দান্তেওয়াদা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷

সূত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/naxalites-attack-a-crpf-assistant-commandant-with-farming-tools-in-dantewada-district-chattisgarh.html


ভারতে মাওবাদীদের নিয়ন্ত্রিত বস্তার অঞ্চলে আদিবাসীদের নৃত্য

বস্তারের আদিবাসী নৃত্য  10984237_792803227468379_8048116814577165265_n 10995991_792803137468388_2565762814316565012_n

 

দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে যুক্ত ভারতের বস্তারের এই আদিবাসী সম্প্রদায় রাষ্ট্র কর্তৃক চরম অবহেলিত, নিপীড়িত ও শোষিত হচ্ছে, অভাবের তাড়নায় গাছের শিকড় খেয়ে জীবন ধারণের মতো পরিস্থিতির শিকার তারা। অধিকার বঞ্চিত ও অভাব থেকে মুক্তির আশায়  এই সব আদিবাসীরা এখন দলে দলে মাওবাদীদের সাথে যুক্ত হচ্ছেন।

Source- Times of India