বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত এবং রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদ

images (6)

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত এবং রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদ

চার্বাক

 

রবীন্দ্রনাথের দেড়শ’তম জন্মবার্ষিকী মহাসাড়ম্বরে পালন করা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। যাকে শুদ্ধ ভাষায় ডাকা হচ্ছে “সার্ধশততম” বলে। আওয়ামী লীগ সরকার নিজেকে বেশী বেশী করে বাঙালী জাতীয়তাবাদের রক্ষক, এবং কাজে কাজেই অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রবক্তা বলে প্রমাণ করার জন্য যেন বেশী করে এই জন্মবার্ষিকী পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। সেজন্য তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাথে একত্রে যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচী নিয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে বোঝাই যাচ্ছে রবীন্দ্রনাথ এই গণবিরোধী শাসকদের জন্য বেশ প্রয়োজনীয়।

রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষার বিরাট সাহিত্যিক। বলা চলে এখনো পর্যন্ত প্রধানতম ব্যক্তি। তিনি বেঁচে ছিলেন প্রায় ৮০ বছর, যার মাঝে ৬০ বছরের বেশী সময় তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন। তদুপরি তিনি ছিলেন জমিদার পরিবারের সন্তান এবং নিজে জমিদার। ফলে নির্বিঘ্ন সাহিত্য চর্চার পথে দারিদ্রের কোন সমস্যা তাকে মোকাবেলা করতে হয়নি। এ কারণে তার পক্ষে আরো ব্যাপক আকারে সাহিত্য সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। তিনি ছিলেন মূলত কবি, সঙ্গীতকার। অসংখ্য কবিতা এবং প্রায় ৩ হাজার সঙ্গীত তিনি রচনা করেন। কিন্তু এছাড়াও প্রচুর ছোটগল্প, বেশ কিছু উপন্যাস এবং বহু নিবন্ধ তিনি রচনা করেছেন। সুতরাং তার এই বিরাট বপুর সাহিত্য, তার দীর্ঘ জীবন এবং তার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সার্বিক আলোচনা বা মূল্যায়ন করা শুধু বিশেষজ্ঞদের পক্ষেই সম্ভব। তদুপরি বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম পুরুষ হবার কারণে ভাষা, সাহিত্য, শিল্পরূপ ইত্যাদিতে তার যে বিরাট অবদান সেটাও রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভঙ্গি ও রাজনীতির নির্মোহ মূল্যায়নে একটা বড় বোঝা হিসেবে সামনে আসে। প্রায় সর্বদাই রবীন্দ্রনাথের ঐসব ভূমিকার ইতিবাচক দিকগুলো তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির

বাস্তবতাকে আড়াল করে রাখতে সক্ষম হয়।

সুতরাং এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য খুব সংক্ষেপে শুধু একটিমাত্র বিষয়ে রবীন্দ্রনাথকে কিছুটা আলোচনা করা, যাকিনা বর্তমান বাংলাদেশের শাসকশ্রেণী ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে সংগ্রাম করার সাথে সরাসরিভাবে যুক্ত। সেটা হলো বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ও রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদ।

বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ এটা প্রায় সবাই জানেন। দেশের শাসকশ্রেণী, রাষ্ট্র ও বিশেষত আওয়ামী লীগ সরকার ও সেই ঘরানার বুদ্ধিজীবীরা বাঙালী জাতীয়তাবাদ বলতে আবেগে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। আর সেই রকম আবেগ নিয়ে আসে জাতীয় সঙ্গীতটির ও তার রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ আলোচনায়।

জাতীয় সঙ্গীত বুর্জোয়া জাতি রাষ্ট্রে জাতির আবেগের সাথে জড়িত। সেই আবেগ খুব একটা ভাল জিনিস নয়, বিশেষত সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর ক্ষেত্রে-তো বটেই। কারণ বাস্তবে জাতির আবেগের আড়ালে এটা বুর্জোয়া শ্রেণীর আবেগকে ধারণ করে। বর্তমানের তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতেও এই জাতীয়তাবাদী আবেগ প্রায় ক্ষেত্রেই ভাল নয়। তথাপি অনেক ক্ষেত্রেই জাতির সংগ্রামের ইতিহাস, শৌর্য-বীর্য, অহংকারগুলো জাতীয় সঙ্গীত ধারণ করে যার কিছু কিছু অন্তত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জনগণের মননে সাম্রাজ্যবাদ-উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে ইতিবাচক ভূমিকাও রেখে থাকে।

কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত সেরকম কিছুকেই ধারণ করেনা। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদির ইতিহাস যেমন শাসক শ্রেণী বিশেষত আওয়ামী লীগ মিথ্যা দিয়ে ভরে রেখেছে, তেমনি এর জাতীয় সঙ্গীতটিকে ঘিরেও তারা করেছে এক জঘন্য প্রতারণা।

রবীন্দ্র সাহিত্যের শ্রেণী চরিত্র অনুযায়ীই এই সঙ্গীতে শুধু আকাশ-বাতাস-গাছপালা ব্যতীত অন্য কিছু নেই; মানুষ নেই। সাহিত্যে, মানুষের আবেগ ও মননে, প্রকৃতির অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে সন্দেহ নেই। কিন্তু সেসবই মানুষকে কেন্দ্র করে। মানুষ না থাকলে, তার সংগ্রাম না থাকলে, সেসবকে ঘিরে না হলে প্রকৃতি-সংক্রান্ত আবেগ অর্থহীন। প্রকৃতি ও মনুষ্য জাতির শত্র“, তার সমাজ ও উৎপাদন প্রভৃতির সাথে বা তার জন্য সংগ্রামের মধ্য দিয়েই মানুষ প্রকৃতির সৌন্দর্য ও প্রয়োজনকে উপলব্ধি করে। মানুষের বা জাতির থাকে বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের ইতিহাস। রবীন্দ্রনাথের এ সঙ্গীতে সেসব নেই। ফলে এটা বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদী অবস্থান থেকেও জীবন-ঘনিষ্ঠ কোন জাতিগত আবেগ সৃষ্টিতে সক্ষম নয়। এটা উৎপাদন বিচ্ছিন্ন, ব্যাপক জনসাধারণের জীবন ও সংগ্রাম বিচ্ছিন্ন, আয়েশী জমিদার নন্দনের নিরাপদ বড়লোকী দেশপ্রেম ছাড়া আর কিছুকেই ধারণ করে না। আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিব এই গানকে যে জাতীয় সঙ্গীত করেছে সেটা তাদের গণবিরোধী শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই এসেছে।

এই সঙ্গীতের ইতিহাসটা যদি কিছুটা আলোচনা করা যায় তাহলে বোঝা সম্ভব যে এর জাতীয়তাবাদ বর্তমান বাংলাদেশের বাঙালী জাতীয়তাবাদকেও কোনক্রমেই ধারণ করে না। শাসকরা যে এটা চালিয়ে যাচ্ছে সেটা একটা প্রতারণা বৈ কিছু নয়।

বৃটিশ ভারতে ১৯০৫ সালে বৃটিশরা বিবিধ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণে তৎকালীন বাংলা প্রদেশকে ভাগ করে পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম বাংলা বানাতে চেয়েছিল। যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। কিন্তু সেটা তারা অব্যাহত রাখতে পারেনি। কারণ, কলকাতা ভিত্তিক মূলত হিন্দু বাঙালী উঠতি বুর্জোয়ারা ও শিক্ষিত মধ্যবিত্তরা তার তীব্র বিরোধিতা করে। সেসময় বাঙালী মুসলমানরা তেমন একটা শিক্ষিত ছিল না। শিক্ষিত বাঙালী বলতে হিন্দুদেরকেই বোঝাতো। তারাই বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রথম সারির লোক ছিল।

প্রশ্ন হলো তারা কেন বাঙলা বিভক্তিকে এত বিরোধিতা করেছিল? এর আর্থ-সামাজিক কারণকে গভীরভাবে বুঝতে হলে পৃথক গবেষণা প্রয়োজন। তবে একটি কারণ এটা ছিল যে, পূর্ব বাংলায় বুর্জোয়া বিকাশকে বিরোধিতা করা। পূর্ব বাংলাভিত্তিক বুর্জোয়া বিকাশের অর্থ ছিল কোলকাতা-কেন্দ্রীক উঠতি বুর্জোয়া, জমিদার ও শিক্ষিত মধ্যবিত্তদেরÑ যারা মূলত ছিল হিন্দু, তাদের বিকাশের একচেটিয়াত্ব ভেঙে পড়া। বিপরীতে ঢাকা শহরকে ভিত্তি করে পৃথক বিকাশ হওয়া, যাকে প্রতিনিধিত্ব করছিল ঢাকা-কেন্দ্রীক মুসলিম সামন্ত-জমিদাররা। রবীন্দ্রনাথের জমিদারীর প্রধান অংশ ছিল পূর্ব বাংলায়। তাই পৃথক প্রদেশ হলে তাতে তার নিজের জমিদারী স্বার্থেরও অসুবিধা হতে পারতো। সেটাও হয়তো তিনি চাইতেন না, আরো সব কোলকাতা ভিত্তিক শিক্ষিত হিন্দু বাঙালীদের মতোই।

১৯৪৭ সালে বৃটিশ চক্রান্তে এবং প্রতিক্রিয়াশীল কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের যোগসাজশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মাধ্যমে বাংলা বিভক্তির বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক ঘটনাপ্রবাহের একটা সম্পর্ক ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের ঘটনার সাথে থাকতে পারে বটে। কিন্তু ১৯৪৭-এর বাংলা বিভক্তির প্রতিক্রিয়াশীলতা, আর ১৯০৪ সালের বঙ্গভঙ্গ একই রকম ব্যাপার ছিলনা।

যাই হোক না কেন, আমরা যা আলোচনা করতে চাচ্ছি তাহলো এই জাতীয় সঙ্গীত প্রসঙ্গ। যখন বৃটিশের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের জোয়ার চলছে কলকাতাইয়্যা বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে, সেসময়ই রবীন্দ্রনাথ এই সঙ্গীতটি রচনা করেছিলেন। এটা দ্বারা তিনি বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতার জন্য অখন্ড বাংলার বাঙালী জাতীয়তাবাদকে তুলে ধরেছিলেন, যা সেসময়ে বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদের একটা আবেগকেও অবশ্য তুলে ধরে।

প্রশ্ন হলো অখন্ড বাঙালী জাতীয়তাবাদের এই সঙ্গীত কীভাবে বর্তমান বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হয়? বর্তমান বাংলাদেশের সংবিধানে এরা জাতীয়তাবাদ যুক্ত করেছে। প্রশ্ন হলো কোন জাতীয়তাবাদ?

আওয়ামী লীগ, শেখ মুজিব বোঝাতে চেয়েছে বাঙালী জাতীয়তাবাদ। “সবাই বাঙালী হয়ে যাও”- পাহাড়ের সংখ্যালঘু জাতিসত্ত্বাগুলোর প্রতি শেখ মুজিবের নির্দেশ এ থেকেই এসেছিল। কিন্তু যেহেতু বাঙালী জাতিকে সেই ১৯৪৭ সালেই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল, তাই বাংলাদেশ রাষ্ট্র যদি কোন বিশেষ জাতীয়তাবাদ তুলে ধরেই সেটা হতে পারে পূর্ববাংলার জাতীয়তাবাদ, অখন্ড বাঙালী জাতীয়তাবাদ নয়। এই বিপদে পড়ে শাসকশ্রেণী জিয়ার নেতৃত্বে নিয়ে এলো বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। কিন্তু বাংলাদেশীরা তো কোন একক জাতি নয়। বাংলাদেশের নাগরিকরা বাংলাদেশী পরিচয় দিতে পারে বটে, কিন্তু জাতিসত্ত্বা পরিচয় তো প্রতিদিন বদলে যেতে পারে না। ৬৫ বছরের উর্ধ বয়সী একজন লোকের জাতিসত্ত্বা কি রাষ্ট্রের বদলের সাথে সাথে তার জীবনে তিনবার বদলে যেতে পারে? (বৃটিশ আমলে ভারতীয়, পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানী, আর এখন বাংলাদেশী?!)

যাহোক আমাদের আলোচনা ছিল রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে। তার এই সঙ্গীতটি অখন্ড বাংলাকে তুলে ধরেছিল, তাই তার অন্তর্নিহিত জাতীয়তাবাদ ছিল অখন্ড বাঙালী জাতীয়তাবাদ। ১৯৪৭ সালেই যার পরিসমাপ্তির শুরু হয়েছিল। সেই জাতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদের কথা বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদীরাও কেউ এখন আর বলে না- না ভারতীয় বাঙালী, না বাংলাদেশের বাঙালী। ফলে সেই মৃত আবেগসম্পন্ন সঙ্গীতকে কেন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত করা হলো? হলো আর কোন পথ না পেয়ে, রবীন্দ্রনাথকে গৌরবান্বিত করার জন্য, রবীন্দ্র-ভাবমানসের প্রতিক্রিয়াশীলতা দ্বারা জনগণকে প্রভাবিত করার জন্য, যাকিনা এই প্রতিক্রিয়াশীল শাসকশ্রেণীর কাজে লাগে।

বর্তমান বাংলাদেশে বাঙালী ছাড়াও যে অন্যান্য অনেক সংখ্যালঘু জাতিসত্ত্বার বাস তাদেরকে এই ‘জাতীয়’ সঙ্গীতে পাওয়া যাবে না। জাতীয়তাবাদের প্রতিক্রিয়াশীল আদর্শে এটাই স্বাভাবিক। পার্বত্য চট্টগ্রামের সংখ্যালঘু জাতিদের মাটি গাছ আকাশ বাতাস রবীন্দ্রনাথের এই জাতীয় সঙ্গীতের মতো মোটেও নয়। তারা কেন এ গান গাইবেন?

* আবারো আসতে হবে রবীন্দ্রনাথে। সেটাই আমাদের আলোচনার আরেকটি মূল বিষয়।

রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষায় সাহিত্য রচনা করেছেন, তিনি নিজে বাঙালী ছিলেন, তিনি বাংলায় থেকেছেন আজীবন, তাই বাংলা ও তার মানুষ তার লেখায় এসেছে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ কি নির্ভেজাল বাঙালী জাতীয়তাবাদের ধারক ছিলেন? যেমনটা বাঙালী বুর্জোয়া শাসক ও বুদ্ধিজীবীরা বোঝাতে চান?

সেটা ভাবলে ঠিক হবে না। একটা উদাহরণই যথেষ্ট। সবাই জানেন যে, বর্তমান ভারতের জাতীয় সঙ্গীতটির রচয়িতাও রবীন্দ্রনাথ। বর্তমান ভারত আর বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ কি এক? দুটো দেশের জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম এক হয় কিকরে ? সেটা অসম্ভব। তাহলে রবীন্দ্রনাথ আসলে কোন জাতীয়তাবাদকে ধারণ করতেন?

রবীন্দ্রনাথের প্রকৃত জাতীয়তাবাদ ছিল ভারতীয়। কিন্তু সেটা বাস্তব নয়, কারণ, ভারত কখনোই একটি জাতিভিত্তিক দেশ নয়। ভারতকে ভিত্তি করে একটা দেশপ্রেম, অখন্ড ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম এসবের একটা ভিত্তি থাকলেও যখনই কেউ জাতীয়তাবাদে যেতে চাইবে তখনই তাকে স্বীকার করতে হবে যে, ভারত ছিল একটি বহুজাতিক দেশ। বহু জাতির দেশের জাতি-জনগণ একত্রে স্বাধীনতার জন্য অভিন্ন বৃটিশ বিরোধী সংগ্রাম করেছেন এবং দীর্ঘ ঐতিহাসিক বন্ধন ও সম্পর্কের কারণে সেসময়ে একটি অখন্ড স্বাধীন ভারতের চিন্তা করেছেন- এটা বহু জাতির অস্তিত্ব ও জাতিভিত্তিক বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদকে বাতিল করতে পারে না। শুধুমাত্র জাতিগত সমতার ভিত্তিতে এবং বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদের বিপরীতে আন্তর্জাতিকতার ভিত্তিতে জাতিগুলো একত্রে থাকতে পারে, নতুবা সেগুলোকে একত্রে রাখার জন্য কৃত্রিম কোন আদর্শ উপর থেকে চাপাতে হয়। রবীন্দ্রনাথ বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদের বিরোধী, শোষণহীন সমাজ ও সমাজতান্ত্রিক আন্তর্জাতিকতাবাদের ধারক ছিলেন না। ফলে তিনি অখন্ড ভারতের জন্য প্রাচীন হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদকে ভিত্তি করতে চেয়েছেন। সমগ্র রবীন্দ্র সাহিত্যে এই হিন্দুত্ববাদকে আমরা ব্যাপকভাবেই পাবো। যে বাঙালী জাতির প্রধান অংশ ছিল মুসলিম, তাদের সংস্কৃতি রবীন্দ্র সাহিত্যে খুবই কম, নেই বললে চলে। এটাও প্রমাণ করে রবীন্দ্রনাথ বাঙালী জাতীয়তাবাদকে প্রতিনিধিত্ব করতেন না।

প্রকৃতপক্ষে রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদ মূলত ছিল সর্বভারতীয় হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদ। আর সাহিত্যচর্চায় তারই আওতায় মাঝে মাঝে এসেছিল অখন্ড বাঙালী জাতীয়তাবাদ। নিশ্চয়ই এ দুয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল যার ভাল আলোচনা হতে পারে এ বিষয়ে গভীর গবেষণার মধ্য দিয়ে। তবে এটা তো আজ পরিস্কার যে, বর্তমান ভারতে যারা উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি করছে সেই বিজেপি রবীন্দ্রনাথকে উর্ধে তুলে-যে ধরে তা বিনা কারণে নয়।

উপরের আলোচনা থেকে পরিস্কারভাবেই বোঝা সম্ভব যে, বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদকে সাংবিধানিক আদর্শ করে শাসক শ্রেণী ও রাষ্ট্র যে গোঁজামিল চালিয়ে যাচ্ছে তার মাঝে একটা বড় অঙ্গ হলো রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্র সাহিত্যে প্রকাশিত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিক্রিয়াশীলতার কারণে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় জায়গাতেই তিনি গণশত্র“ শাসকশ্রেণী ও রাষ্ট্রের কাছে স্মরণীয় বরণীয়। ভাষা ও শিল্প-সাহিত্যের রূপের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের বড় অবদান থাকলেও সেসবও বিরাটভাবে কিভাবে শ্রমিক-কৃষক-শ্রমজীবী-দরিদ্র মানুষ নয়, বরং সুখে থাকা মানুষদের সংস্কৃতিকে প্রকাশিত ও প্রতিনিধিত্ব করে তার ভাল বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন ভবিষ্যতে বিপ্লবীদেরকে অবশ্যই করতে হবে।

রবীন্দ্রনাথ বিশাল বৃক্ষ, তাই তার প্রভাবও বড় এবং তাকে আলোচনা করাটাও বিরাট কাজ। কিন্তু সেকাজকে শুরু করা যায় অল্প থেকেইÑ শুধু যদি তার অচল হয়ে পড়া ও প্রতিক্রিয়াশীল জাতীয়তাবাদটিকে আমরা বুঝি তাহলেই। প্রথমত বাংলাদেশী জাতীয় সঙ্গীতের এই গোঁজামিলের জাতীয়তাবাদকে এবং সেই সাথে রবীন্দ্রনাথের প্রতিক্রিয়াশীল জাতীয়তাবাদকে বর্জন করার মধ্যেই এক্ষেত্রে একটা বড় অগ্রগতি ঘটতে পারে। #

লেখাটির রচনাকাল – ২০১১ইং

[ “কাদের জন্য লিখব?… …। যত দীর্ঘ সময়ই লাগুকনা কেন, এ প্রশ্নের সমাধান আমাদের করতেই হবে এবং এর স্পষ্ট ও পরিপূর্ণ সমাধানই করতে হবে। আমাদের সাহিত্য ও শিল্পকলার কর্মীদের অবশ্যই এ কর্তব্য সম্পাদন করতে হবে এবং নিজেদের অবস্থানের পরিবর্তন সাধন করতে হবে; শ্রমিক, কৃষক ও সৈন্যদের মধ্যে গভীরভাবে প্রবেশ করার প্রক্রিয়া ও বাস্তব সংগ্রামের গভীরে যাবার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং মার্কসবাদ ও সমাজকে অধ্যয়ন করার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের অবশ্যই ক্রমে ক্রমে এগিয়ে আসতে হবে এবং এসে দাঁড়াতে হবে শ্রমিক, কৃষক ও সৈনিকদের পক্ষে, সর্বহারা শ্রেণীর পক্ষে।

মাও সে তুঙ

সাহিত্য ও শিল্পকলা সম্পর্কে ইয়েনানের আলোচনা সভায় প্রদত্ত ভাষণ (মে, ১৯৪২), পৃষ্ঠা- ৮৯-৯০ ]

Advertisements

সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী প্রগতিশীল বিপ্লবী কমরেড হেমন্ত সরকার লাল সালাম

1978802_658119857663263_5592373856179391799_n

আজ ২৮ ডিসেম্বর’১৫ সোমবার এদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম প্রবীণ নেতা বাংলাদেশের কৃষক আন্দোলন তথা ঐতিহাসিক তে-ভাগা আন্দোলনে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে নিঃস্বার্থ, নিবেদিত প্রাণ, ত্যাগী, অভিজ্ঞ নেতা কমরেড হেমন্ত সরকার-এর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী।

প্রয়াত কমরেড হেমন্ত সরকার ১৯৯৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর ৮২ বছর বয়সে নড়াইলে মৃত্যুবরণ করেন। কমরেড হেমন্ত সরকারের বিপ্লবী জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায় ১৯১৬ সালে নড়াইল জেলার সদর থানার বড়েন্দার গ্রামে এক গরীব কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শ্রমিকশ্রেণীর বিপ্লবী রাজনীতি ও কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সম্পর্কিত হন ১৯৪০-এর দিকে এবং ১৯৪২ সালে পার্টি সভ্যপদ লাভ করেন। ঐতিহাসিক তে-ভাগা আন্দোলনে তিনি দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রাখেন। দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে গ্রেপ্তার হয়ে পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বন্দী জীবন কাটান। ৬০ এর দশকে বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনে ক্রুশ্চেভ সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তিনি দৃঢ় ভূমিকা রাখেন। এ প্রোপটে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) এর যশোর জেলা পার্টি পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখেন এবং যশোর জেলা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের লাইন গৃহীত হলে তিনি তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন এবং ১৯৭১ সালে পার্টি পরিচালিত বিপ্লবী যুদ্ধে তিনি নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা পালন করেন। উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদী অবস্থানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কমরেড আবদুল হকের নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের প্লেনামে তিনি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৫ সালে ৫ম কংগ্রেসে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পুনঃনির্বাচিত হন। তিনি ১৯৮০ সালে সংশোধনবাদী তিন-বিশ্ব তত্ত্ব বিরোধী সংগ্রামে দৃঢ় ভূমিকা পালন করেন এবং ১৯৮৩ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) এর ৬ষ্ঠ কংগ্রেসে কন্ট্রোল কমিশনের সভ্য নির্বাচিত হন এবং কন্ট্রোল কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এর পর পরই ১৯৮৪ সালে তিনি পুনরায় গ্রেপ্তার হন। ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত ৭ম কংগ্রেসে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পূণঃনির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম কংগ্রেসে তিনি কন্ট্রোল কমিশনের সভ্য নির্বাচিত হন এবং কন্ট্রোল কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। নবম কংগ্রেসের প্রায় পূর্ব পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। নবম কংগ্রেসে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও অন্যান্য কারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সংগঠনে থাকেন না এবং পার্টির সভ্য হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন। সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব জয়যুক্ত করার জন্য ব্রিটিশ আমল থেকে তাঁর সংগ্রামী ভূমিকা, অধ্যবসায়, ত্যাগ-তিতিক্ষার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক অবদান থেকে সকল প্রগতিশীল বিপ্লবী, গণতান্ত্রিক ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নেতা-কর্মীদের গভীরভাবে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।


ভারতের আগ্রাসনে পড়েছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি -এটা বোঝা খুব জরুরী: নুরুল কবির

Nurul-Kabir

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের যারা সক্রিয়ভাবে বিরোধীতা করেছিল এবং যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিচার হওয়ার দাবি এদেশের সাধারণ মানুষের।

তবে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি এই বিচারের বিষয়টি বিলম্বিত করেছে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে।

তিনি বলেন, বিলম্বে হলেও বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার  বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে এবং কিছু রায়ও এরইমধ্যে হয়েছে এবং তাতে দেশের মানুষ খুশি। কারণ এরমধ্য দিয়ে একটা অধ্যায়ের নিস্পত্তি হবে।

তবে নিরপেক্ষভাবে যারা চিন্তা করেন তাদের কাছে আওয়ামী লীগের এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে  করেন নুরুল কবির।

তিনি বলেন, এই বিচার প্রক্রিয়ায় যারা কেবলমাত্র আওয়ামী লীগের বিরোধীপক্ষ যারা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত তাদেরই মাত্র বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু ওই একই অপরাধের সাথে জড়িত যারা আওয়ামী লীগ বা তাদের মিত্র জোটের মধ্যে আত্মগোপন করে আছে এবং যাদেরকে তারা আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে তাদের বিচার হচ্ছে না।

ফলে  রাজনৈতিক বিচারের যে প্রশ্নটি উঠেছে তা থেকে আওয়ামী লীগ তখনই মুক্তি পেতে পারে যখন তারা তাদের মধ্যে বা মিত্রজোটের মধ্যে থাকা অপরাধীদের বিচার শুরু করবে।

নুরুল কবির বলেন, সালাউদ্দিন কাদেরের ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে পরিপূর্ণভাবে কোনো বিবৃতি দেয়া হয়েছে বলে আমি মনে করি না। সেখানে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর  আইনজীবীর বক্তব্য কোড করা হয়েছে। ফলে আমার কাছে মনে হয়েছি দলটি তাদের স্ট্যান্ডিং কমিটির একজন সদস্যের ব্যাপারে পরিপূর্ণভাবে দাঁড়ায়নি।

বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত-উচ্চমধ্যবিত্তের একাংশ এবং সরকারের একটি অংশ ভারতের প্রতি নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে চলছে। কারণ ভারত বর্তমান সরকারকে অন্যায়ভাবে তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসিয়েছে এবং এখনও দেশের জনগণের বিপক্ষে গিয়েও ক্ষমতায় রেখেছে। ফলে ভারতের প্রতি একধরণের আনুগত্য রাজনৈতিকভাবে রয়েছে।

 অন্যদিকে তাদের সমর্থকদের একটি বিরাট অংশ ভারতের প্রতি সাংস্কৃতিভাবে একধরণের হীনমন্যতায় ভোগে। আর তারই ফলশ্রুতিতে এ ধরনের একটি পলিসি নেয়া হয়েছে বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রেডিও টেলিভিশন এব সিনেমা হলে যেভাবে হিন্দি গান, সিনেমা, নাটক এবং অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে তাতে বাংলাদেশের নিজ সংস্কৃতি এবং ইতিহাস ঐতিহ্য ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মুখে পড়েছে তা অনুধাবন করা দেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

সূত্রঃ http://bangla.irib.ir/home16/%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE/item/79424-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%9C%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%8F%E0%A6%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A7%8B%E0%A6%9D%E0%A6%BE-%E0%A6%96%E0%A7%81%E0%A6%AC-%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%BF-%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0


ভারতের ছত্তিশগড়ে ১০০ জন মাওবাদীর হামলায় ৭ পুলিশ নিহত, আহত ১২

abuhmarh

embed1

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে মাওবাদীদের হামলায় পুলিশের সাত এসটিএফ জওয়ান নিহত হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্য ১২ জন পুলিশ।

আজ (শনিবার) ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলার চিন্তাগুফার পিড়মেল-পোলামপল্লি এলাকায় পেডমাল জঙ্গলে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

ছত্তীসগঢ় পুলিশের নকশাল দমন শাখার প্রধান, অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল আর কে ভিজ জানিয়েছেন, পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের একটি দল শনিবার সুকমা জেলার চিন্তাগুফার পিড়মেল-পোলামপল্লি এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন। রাজ্য পুলিশের বিশেষ বাহিনীর (এসটিএফ) ৬১ জন জওয়ানদের ওই  দলটি পিডমেল জঙ্গল হয়ে দরনাপাল অঞ্চলের দিকে যাচ্ছিলেন । অন্ধ্র প্রদেশের সীমানা এলাকায়  অপারেশনের জন্য রওনা হয়েছিলেন তারা। খবর পেয়ে অতর্কিত হামলা চালায় মাওবাদীরা, এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে সশস্ত্র মাওবাদীরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মৃত্যু হয় ওই জওয়ানদের। জওয়ানরা পাল্টা জবাব দিলেও গভীর জঙ্গলের আড়ালে পালাতে সক্ষম হয় মাওবাদীরা। আহত জওয়ানদের আকাশপথে চপারে করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশের এডিজি (অ্যান্টি মাওয়িস্ট অপারেশন) আর কে ভিজ জানিয়েছেন।

জঙ্গলে তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় প্রায় ১০০ জন মাওবাদী তাদের উপর হামলা চালায়। এই সময় এসটিএফ জওয়ানদের সঙ্গে মাওবাদীদের মধ্যে প্রায় টানা দু’ঘন্টা ধরে বন্দুক যুদ্ধ চলে। নিহত সাত পুলিশ কর্মীরা হল, প্লাটুন কমান্ডার শঙ্কর রাও, হেডকনস্টেবল রোহিত সোধি এবং মনোজ বাঘেল, কনস্টেবল মোহন ভিকে, রাজকুমার মারকাম, কিরণ দেশমুখ এবং রঞ্জন টিকাম।

২০১০ সালের এপ্রিলে ছত্তিশগড়ের সুকমাতে নকশালপন্থীদের হামলায় ৭৪ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হয়। ২০১৩ তে রাজ্যে কয়েকজন শীর্ষ কংগ্রেস নেতাসহ ২৫ জনকে হত্যা করে মাওবাদীরা।

সুত্র – http://indianexpress.com/article/india/india-others/seven-stf-personnel-killed-11-injured-in-maoist-attack-in-chhattisgarh/


ভারতে নকশালরা ২০শে ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ রাজ্যে বন্ধ ডেকেছে …

বিশাখাপত্তনম : রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের জন বিরোধী কার্যক্রমের প্রতিবাদে সিপিআই (মাওবাদী) ফেব্রুয়ারীর ২০ তারিখ থেকে অন্ধ্র প্রদেশ ও তেলেঙ্গানা সহ পাঁচ রাজ্যে বন্ধ ডেকেছে। বৃহস্পতিবার টিওআই পাঠানো একটি প্রেস রিলিজে মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় আঞ্চলিক ব্যুরো (CRb) মুখপাত্র প্রতাপ- ছত্তিশগড়, উড়িষ্যা এবং মহারাষ্ট্রে ধ্বংসাত্মক এবং গণবিরোধী নীতি বাস্তবায়নকারী হিসেবে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি , পি মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু, তেলেঙ্গানা মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও কে দায়ী করেন। 

Source – http://timesofindia.indiatimes.com/city/visakhapatnam/Naxals-call-for-5-state-bandh-on-Feb-20/articleshow/46224136.cms


ভারতের গণযুদ্ধের লাল সংবাদঃ ১১/২/২০১৫

-মঙ্গলবার ব্লগার জেসন সি কুপার ও এডভোকেট থুশার নির্মল সারথীর জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে এরনাকুলাম এর জেলা ও প্রিন্সিপাল সেশন আদালতের বিচারক এস মোহনদাস। যেহেতু এই মামলার তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে সেহেতু এই মুহূর্তে জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা হবেনা বলে আদালত জানায়।

-মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা নাগাদ উড়িষ্যার কালাহান্দি জেলার লাঞ্জিগড় এলাকায় মাওবাদীদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি বিনিময় হয়। অল্প কিছু সময় গুলি বিনিময়ের পর মাওবাদীরা তাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সিআরপিএফ সূত্রের দাবী, মাওবাদীদের পক্ষে থেকে হতাহতের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে যদিও এখনো পর্যন্ত এ ব্যাপারে নিশ্চিত ভাবে কিছু জানা যায়নি।

– মঙ্গলবার তামিলনাড়ু পুলিশের ১২ সদস্যের একটি দল তামিলনাড়ু-কেরালা সীমান্তের কাছে আদিবাসীদের গ্রামগুলোতে মাওবাদীদের দমনের উদ্দেশ্যে চিরুনী অভিযান চালায়। এসময় পুলিশ গ্রামবাসীদের কাছে সন্দেহভাজন মাওবাদীদের ছবি ও পুলিশের ফোন নাম্বার প্রদান করে। এছাড়া, সীমান্তের নিকটবর্তী থানাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি কেরালার আন্তঃরাজ্য সীমান্তের কাছে মাওবাদীরা হামলা চালায়।

সূত্রঃ newindianexpress.com/odishasuntimes.com/ thehindu.com