তথাকথিত “বাঙালী ছাত্র-গণপরিষদ” গঠন, পাহাড়ী জনগণের বিরুদ্ধে সরকারী চক্রান্ত

Study-Area-Chittagong-hill-tracts

তথাকথিত “বাঙালী ছাত্র-গণপরিষদ” গঠন, পাহাড়ী জনগণের বিরুদ্ধে সরকারী চক্রান্ত

(নভেম্বর/’৯১)

পার্বত্য চট্টগ্রামে সংখ্যালঘু জাতিসত্তাসমূহের জনগণের বিরুদ্ধে দমন পরিচালনাকারী বাঙালী সেনাবাহিনী ও জাতীয়তাবাদী আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়াদের বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি দুটো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এক হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালী ছাত্র গণপরিষদ নামের এক উগ্র জাতীয়তাবাদী সংগঠন প্রতিষ্ঠা।  যারা সম্প্রতি পাহাড়ী জনতার বিরুদ্ধে ঢাকায় অপপ্রচার চালিয়ে গেল, বুর্জোয়া প্রচার মাধ্যম এবং মার্কিনের দালাল বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক নেতাদের সহযোগিতায়।
এদের উদ্দেশ্য স্পষ্টতই এটা যে পাহাড়ী জনতার উপর উগ্র বাঙালী জাতীয়তাবাদী সরকারের যে শোষণ-নির্যাতন তাকে ধামাচাপা দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতির সমস্ত দোষ পাহাড়ীদের উপর চাপানো। পাহাড়ী ও বাঙালী জনগণের মধ্যে জাতিগত সংঘাতের উসকানি প্রদান।
এ ধরনের সংগঠন নিশ্চিতভাবেই বাঙালী শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত জনগণের মুক্তির সপক্ষে হতে পারে না। বরং বাঙালী জনগণের মুক্তির পক্ষে মৌলিক বাধা সাম্রাজ্যবাদের দালাল বুর্জোয়া ও সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষাকারী বিদ্যমান রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই এ জাতীয় সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে। তাই বাঙালী শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত জনতার কর্তব্য হচ্ছে এ ধরনের স্বৈরাচারী জাতিবিদ্বেষমূলক সংগঠনকে তীব্রভাবে বিরোধিতা করা।
অন্যদিকে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে সংগ্রামরত শান্তিবাহিনীকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে।  এই নিয়ে চারবার সাধারণ ক্ষমা করা হলো। এভাবে কথিত গণতান্ত্রিক সরকার পূর্ববর্তী সরকারগুলোর মতই পার্বত্য চট্টগ্রামের মূল সমস্যাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধান না করে সমস্যা থেকে দৃষ্টিকে অন্যদিকে নেয়ার চক্রান্ত করছে।
এটা পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার সমাধানে সরকারের সদিচ্ছার পরিচায়ক নয়, বরং এটা ভাঁওতাবাজি।
সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে বাঙালী সরকার পাহাড়ীদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিকতার নামে পাহাড়ী বাঙালী জনগণকে ধোঁকা দিতে চেয়েছে। যদি ন্যূনতম সদিচ্ছা তাদের থাকতো তাহলে তারা বাঙালী সেনাবাহিনীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে প্রত্যাহার, বাঙালী পুনর্বাসন বন্ধ, পুনর্বাসিত বাঙালীদের ফেরত আনা, বাঙালী সেনাবাহিনীর হাতে নিহত-আহত পাহাড়ী জনগণের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ পাহাড়ী জনতার পরিপূর্ণ আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ঘোষণা করতো। কিন্তু উগ্র বাঙালী জাতীয়তাবাদী সরকার তা করবে না- করতে পারে না। এজন্য বাঙালী জনগণকেই তা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে হবে এবং আওয়াজ তুলতে হবে-
ষড়যন্ত্রমূলক বাঙালী ছাত্র গণপরিষদ মানি না।
পাহাড়ী জনতা আমাদের শত্রু  নয়, শত্রু  তাদের নিপীড়ক বাঙালী বড় আমলা বুর্জোয়ারা এবং তাদের রাষ্ট্রযন্ত্র।
পাহাড়ী জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার- জিন্দাবাদ।

সূত্রঃ পাহাড় ও সমতলে আদিবাসী জাতিসত্ত্বার সংগ্রাম সম্পর্কে নিবন্ধ সংকলন, আন্দোলন প্রকাশনা