বাংলাদেশঃ টাঙ্গাইলে র‍্যাবের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি(লাল পতাকা)-র তিন সদস্য নিহত

Tangail_BG_491375829

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের ওমরপুর গ্রামে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনজন কমিউনিস্ট সদস্য নিহত হয়েছেন। র‍্যাব বলছে, নিহত ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে থাকা এলিট ফোর্স র‍্যাব গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটায়।

নিহত কমিউনিস্টরা হলেন, সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের ওমর (৩০), ঢালানগোপালপুর গ্রামের কাশেম (২৫) এবং খোর্দজুগনি গ্রামের সাদ্দাম (২৬)।

ওমর পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এম এল-লাল পতাকা) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি, কাশেম সংগঠনের এমপি ও সাদ্দাম স্কোয়াড কমান্ডার।

ঘটনাস্থল থেকে দুটি বিদেশী পিস্তল, সাতটি গুলিসহ দুটি ম্যাগাজিন ও দুটি দোনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে বলে র‍্যাব জানিয়েছে।

র‍্যাব-১২ এর তিন নম্বর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকি বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে র‍্যাবের একটি দল পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের ঘেরাও করে। র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা গুলি ছোড়ে। র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে তিনজন আহত হয়। তাঁদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ব্যক্তিদের লাশ টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।

ওমরপুর গ্রামে নিহত কমিউনিস্ট সদস্যদের দেখতে উপস্থিত জনগণ

ওমরপুর গ্রামে নিহত কমিউনিস্ট সদস্যদের দেখতে উপস্থিত জনগণ

সূত্রঃ http://www.thedailystar.net/country/3-%E2%80%98pbcp-outlaws%E2%80%99-killed-%E2%80%98gunfight%E2%80%99-tangail-rab-191956


বাংলাদেশঃ ‘বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটছে তা প্রমাণের জন্য মার্কিন রিপোর্টের প্রয়োজন নেই’

1429440749.

দেখুন, বাংলাদেশ সরকার স্বেচ্ছাচারী ও বিচারবহির্ভূত হক্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে এ খবরের সত্যতা বিশ্বাস করার জন্য মার্কিন মানবাধিকার রিপোর্টের কোনো প্রয়োজন নেই।

এমন মন্তব্য করেছেন ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবির

 তিনি বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশে মাসের পর মাস র‍্যাব ও পুলিশের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিবারের বিশেষত যারা সরকার বিরোধী নানা সংগঠনের সাথে জড়িত তাদেরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গুম করে ফেলা হয়েছে। পরবর্তীতে কারো কারো লাশ পাওয়া গেছে কারো কারো লাশ পাওয়া যায়নি। তাদের পরিবারগুলো বছরের পর বছর ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ঠাণ্ডা মাথায়  রাজনৈতিকভাবে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। এটা বাংলাদেশের মিডিয়ায় নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। তারই ভিত্তিতে আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ প্রতিবেদন করছে। ফলে এতে আমাদের বিস্মিত হওয়ার মতো কিছু নেই।

বিশিষ্ট এ সাংবাদিক বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যেসব সদস্য এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদেরকে সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না এর কারণ হচ্ছে, বর্তমানে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত আছে সে সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে এবং জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে ক্ষমতায় আসেনি। এই সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য অবৈধভাবে র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবিসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করছে। আর এসব সংস্থা খুব ভালো করেই জানে সরকারের কাছে তাদের উপযোগিতা অনেক বেশি। ফলে তারা যখন স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে তখন সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণের নৈতিক অধিকার রাখে না।

নুরুল কবির এ প্রসঙ্গে আরো বলেছেন, একদিকে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে তার প্রতিপক্ষকে দমন করার জন্য অন্যদিকে এই বাহিনীগুলো নিজেরাই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সরকারের কাছে তাদের কোনো জবাবদিহিতার সুযোগ থাকছে না। এসব কারণ মিলিয়েই বাংলাদেশে ভয়াবহ একটা শ্বাসরুদ্ধকর অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সংঘবদ্ধ সচেতন মানুষের কার্যকর প্রতিবাদ ছাড়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়।

গম কেলেঙ্কারির বিষয়টি এরইমধ্যে জাতীয় স্ক্যান্ডালে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নুরুল কবির। তিনি বলেন,  একদিকে অনেক বেশি দাম দিয়ে পচা খাদ্য কেনা হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজে সেটা লক্ষ্য করেছেন। কিন্তু তার খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রী সেটা মানছেন না। এখন মন্ত্রী মানুন আর নাই মানুন দেশের মানুষ জেনে গেছে যে এরমধ্যে খুব বড় ধরণের দুর্নীতি ছিল।

সূত্রঃ http://bangla.irib.ir/home16/%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE/item/74785-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A7%82%E0%A6%A4-%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A7%8D%E0%A6%A1-%E0%A6%98%E0%A6%9F%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%9C%E0%A6%A8-%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%87


আমেরিকা বলেছে- বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম বাংলাদেশে সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যা, অথচ আমেরিকাতেই প্রতিদিন ৩৩ জন বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার

MXGM-Report-Every-36-hours-w563

আমেরিকা বলেছে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে ঘটালেও সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিচারবহির্ভূত হত্যা ও জোর করে তুলে নিয়ে গুম বাংলাদেশে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যা। এর পরই রয়েছে অনলাইন ও গণমাধ্যমে মত প্রকাশে নানা প্রতিবন্ধকতা, খুবই নিম্নমানের কর্মপরিবেশ ও শ্রম অধিকার না থাকা।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরে মার্কিন স্টেস্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে ২০১৪ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওয়াশিংটনে স্টেট ডিপার্টমেন্টে সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন মূল্যায়ন করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনশৃংখলা বাহিনীর কোনো সদস্য অপরাধ করলে কিংবা কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করলে, বলতে গেলে তিনি কোনো শাস্তির মুখোমুখিই হন না। এটি বাংলাদেশে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে ভয়াবহতম সমস্যা।

অথচ-

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে গড়ে ৩৩ জন মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ফেডারেল প্রশাসনের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনের ফলাফল অনুযায়ী গত ১৯ জুনের আগ পর্যন্ত আড়াই বছরে বন্দুকের গুলিতে ২৯ হাজার ৭ শ’ ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এই হতাহতের বড় একটি অংশ শিশু-কিশোর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চার্চ, রেস্টুরেন্ট ও জনসমাগমে এসব অতর্কিত হামলা হয়েছে।

সর্বশেষ সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লস্টনে শত বছরের পুরনো গির্জায় এক বন্দুকধারীর গুলিতে ৯ জন নিহত হন।

B9f7lvsIAAAMU6f