বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ Sparkling Red Star

Sparkling Red Star/স্পার্কলিং রেড স্টার’ একটি চমৎকার বিপ্লবী সিনেমা। চীনের বিপ্লবী গণযুদ্ধের সময়ে কিভাবে জনগন সেই যুদ্ধের সাথে যুক্ত হচ্ছেন তা এই সিনেমায় দেখানো হয়েছে। পরিবারগুলো কিভাবে নিজেদের সর্বস্ব রেড গার্ডদের দিয়ে দিচ্ছে তা বোঝা যায় এই ছবির কাহিনীতে। চেয়ারম্যান মাও সেতুং প্রদর্শিত চীনের বিপ্লবী যুদ্ধ কিভাবে একইসাথে জনগনকে রক্ষা করেছে তা বোঝা যায়। সর্বোপরি একজন ১০/১২ বছরের শিশু কিভাবে রেডগার্ড হয়ে উঠছে সেই বিষয়টি এখানে খুবই স্পষ্ট হয়েছে। শিশুটির চোখের সামনে তার ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং সেই ঘরে তার মা রয়েছে, তারপরেও সে শক্ত হয়ে থাকে, বিপ্লবী প্রতিজ্ঞায় নিজেকে সজ্জিত করে। বিপ্লবী যুদ্ধে তথা জনগণের যুদ্ধে শিশুরা স্বেচ্ছায় কি ভূমিকা রাখতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে রেড আর্মির ভূমিকা কি থাকে তা এই সিনেমা দেখলে পরিষ্কার হওয়া যায়।

Advertisements

বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ ১২টি চলচ্চিত্রে চীনের কমিউনিস্ট ইতিহাস (১৯৫০-৭০)


বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ The Dupes

120220_poster

ফিলিস্তিনি বিপ্লবী এবং লেখক ‘ঘাসান কানাফানি’ উপন্যাস Men in the Sun এর উপর ভিত্তি করে নির্মিত এই চলচ্চিত্র, সিরিয়ার এই চলচ্চিত্রটিতে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের আত্মোৎসর্গ ও কষ্টের ছবি তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমাটি অনেক ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা।

কানাফানি (১৯৭২ সালে মোসাদ কর্তৃক নিহত হওয়ার আগে), যিনি পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্যা লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন এর একজন সদস্য ছিলেন, তিনি PLO এর নেতৃত্ব ইয়াসির আরাফাতের পরাজয়বাদী কৌশল এবং পাশাপাশি অন্যান্য মুৎসুদ্দি নেতৃত্বের শাসনাধীনে দুর্নীতি ও নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেন।

এই বার্তাটি আজ ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের পিএলও এর বিক্রি হওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে PFLP এর তৃতীয় ইন্তিফাদা নির্মাণের অব্যাহত সংগ্রাম। 


বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ ‘Viva Zapata’

মেক্সিকান বিপ্লবী এমিলিয়ানো জাপাতা (১৮৭৯ - ১৯১৯)

মেক্সিকান বিপ্লবী এমিলিয়ানো জাপাতা (১৮৭৯ – ১৯১৯)

মেক্সিকান বিপ্লবী এমিলিয়ানো জাপাতা, যিনি বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে দুর্নীতিগ্রস্ত, অত্যাচারী একনায়কতন্ত্রী প্রেসিডেন্ট পোরফিরিরো ডিয়াজ বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্বে দিয়েছেন, তারই জীবন কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত- মার্লোন ব্রান্ডো অভিনীত ও এলিয়া কাজান পরিচালিত এই চলচ্চিত্র।

Poster - Viva Zapata_04


বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ Red Ant Dream

Red-Ant-dream-maoist-film

ভারতের মাওবাদী আন্দোলনের উপর সঞ্জয় কাক’র নির্মিত খুবই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র – Mati Ke Laal – Red Ant Dream

তথ্যচিত্রটির সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সঞ্জয় কাক’র সাক্ষাৎকারটি পড়ুন –

‘সব জায়গায়, সব গ্রামে, সাধারণ লোক বহুজাতিকের বিরুদ্ধে রায় দিচ্ছে৷ কয়েক বছর ধরে হাজার অত্যাচারের মধ্যেও আদিবাসীরা বেদান্ত কোম্পানিকে বক্সাইট ও অন্যান্য মিনারেলের জন্যে জায়গা ছাড়েনি৷’ জানালেন তথ্যচিত্র নির্মাতা সঞ্জয় কাক৷ আলাপে সৌমিত্র দস্তিদার

সৌমিত্র দস্তিদার: তোমার নতুন ছবি তো এর মধ্যেই বেশ বিতর্ক তুলেছে, অনেকে বলছে তোমার ‘রেড অ্যান্ট ড্রিম’ আগের দুই ছবি ‘নর্মদা’ ও কাশ্মীর নিয়ে ‘জশন্-এ-আজাদি’-র পরিপূরক৷ বস্ত্তত এ এক ট্রিলজি, ‘নর্মদা’ নিয়ে ক্যামেরায় তোমার যে জার্নির সূচনা, তার বৃত্ত সম্পূর্ণ হল নতুন এই ছবিতে৷ তুমি কী বলো?

সঞ্জয়: আমি ব্যক্তিগত ভাবে ট্রিলজি বা নির্দিষ্ট কোনও গন্তব্যে পৌঁছনো তা বলিনি৷ আসলে পিপলস মুভমেন্ট যেখানে যেখানে হয় তার কারণ অনুসন্ধানই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ৷ সে ক্ষেত্রে তুমি লক্ষ করবে ‘নর্মদা’ মূলত মেধা পাটকরের নেতৃত্বে গান্ধীবাদী আন্দোলন, ‘জশন্-এ-আজাদি’ আবার একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং জাতিসত্তার প্রশ্ন নিয়ে সংগ্রামের এক দলিল৷

পাশাপাশি এই ছবিতে দেখো অনেক ক্ষেত্রেই বার বার ঘুরে ফিরে এসেছে বস্তারের মাওবাদী রাজনীতি৷

এই নতুন ডকুমেন্টরিতে তুমি মাওবাদী রাজনীতি যেমন এনেছ, তেমনই ভগত্‍ সিং ও ওড়িশার নিয়মগিরি মুভমেন্টের কথাও বলেছ৷ সেই সঙ্গে পাঞ্জাবের খালিস্তানি আন্দোলনে শহিদ কবি পাসে’র কবিতাও ব্যবহার করেছ৷ তাঁকে স্মরণও করেছ৷ এই তিন আলাদা আলাদা আপাত পৃথক বিষয়ের মধ্যে যোগসূত্রটা ঠিক কী? তথ্যচিত্রের ফর্মের দিক দিয়েও ভাবনাটা অভিনব একটু কি উত্তরআধুনিক বলা যায়?

কোনও নির্দিষ্ট সংজ্ঞা আমি বলব না, আমি বিশ্বাসও করি না পোস্ট মডার্ন, সুরিয়ালিস্ট বা আভাগাঁর্দ- এ ভাবে ভাগাভাগিতে৷ আসলে আমি যে বিষয়ে বলতে চাই সেটাকে নানা দিক দিয়ে দেখি৷ তারই প্রতিফলন ঘটে আমার ছবির ফর্মে৷ ‘নর্মদা’ থেকে ‘বস্তার’ এই তিনের মধ্যে যোগসূত্রও থাকছে৷ এক তো আগেই বলেছি পিপলস মুভমেন্ট, দুই হচ্ছে রাষ্ট্র কী ভাবে গণআন্দোলনকে চিরকালই সন্ত্রাসবাদ আখ্যা দিয়ে দমন-পীড়ন চালায়৷ আবার প্রয়োজনে সেই সন্ত্রাসবাদীকেও আইকন হিসেবে রাষ্ট্র ব্যবহার করে৷ ‘ভগত্‍ সিং’ যেমন ব্যক্তি সন্ত্রাসের রাজনীতির বাইরে গিয়ে জেলের ভিতরে হয়ে উঠেছিলেন আদ্যন্ত মার্কসিস্ট৷ ফাঁসির ঠিক আগে জেলের কর্মীরা যখন ওকে ডাকতে আসে তখন তিনি বলেছিলেন একটু অপেক্ষা করতে হবে আমি বইটা শেষ করে যাচ্ছি৷ বইটি ছিল লেনিনের ‘রাষ্ট্র ও বিপ্লব’৷ স্বাধীনতার পরে সমস্ত রাজনৈতিক দলই ভগত্‍ সিং-এর জনপ্রিয়তাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চেয়েছে তাঁর দর্শনকে বাদ দিয়ে৷ কবি পাস শহিদ হয়েছিলেন ভগত্‍ সিং-এর ফাঁসির দিনই ২৩ মার্চ, সময়ের ফারাককে বাদ দিলে দু’জনেই কিন্ত্ত আজ গোটা দেশে বিশেষ করে পাঞ্জাবের নতুন প্রজন্মের কাছেও জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ দেশপ্রেমিক৷ মাওবাদীদের ক্ষেত্রে একটা কথা তো সত্যি, রাষ্ট্রের হাজার অত্যাচারের মধ্যেও বস্তারে বিস্তীর্ণ এলাকায় জনমনে তাদের প্রভাব অনস্বীকার্য৷ যেখানেই স্ক্রিনিং হয় লোকে যখন জানতে চায় যে বস্তার ও কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ কোন পক্ষে?

আমি প্রায়ই বলি, যে যদি কাশ্মীরের আমজনতাকে জিজ্ঞেস করেন ভারতীয় সেনা ও আন্দোলনকারী আপনি কার সমর্থক? দেখবেন ৯০ শতাংশ লোকই মিলিটারির বিরুদ্ধে৷ একই ভাবে বস্তারেও রাষ্ট্র পুলিশ মিলিটারি এস পি ও আর মাওবাদীদের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা হলে লোকের সমর্থন সন্দেহ নেই থাকবে মাওবাদীদের দিকে৷ এই কারণগুলো না খুঁজলে দেশের কোনওদিনই গণতন্ত্র সার্থক হতে পারে না৷

তুমি যখন কাশ্মীরের কথা বলছই তখন জিজ্ঞেস করি, কিছুদিন আগে শ্রীনগরে যে জুবিন মেহতার মিউজিক কনসার্ট হল শান্তির উদ্দেশে তা নিয়েও কিছু কিছু মহলে কথা উঠেছে কলকাতাতেও কবীর সুমন জুবিনের বিরোধিতা করে গান লিখেছেন, বিক্ষোভ হয়েছে কাশ্মীরেও, কিন্ত্ত কেন? গোটা বিষয়ে উদ্দেশ্য নিয়ে তোমার কী মত?
প্রথমেই বলি, আমরা তো কেউ সঙ্গীতের বিরুদ্ধে নই৷ এমনকী কবীর সুমনও যে গান লিখেছে তুমি নিশ্চয় জানো, সেখানেও ব্যক্তি জুবিনকে বিরোধিতা করা হয়নি৷ প্রশ্ন তোলা হয়েছে গান গাইবার সময় জুবিনের একবারও মনে পড়বে যে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার কয়েক হাজার নিরীহ কাশ্মীরির কথা? তা ছাড়া, এর পিছনে যে জার্মান কনসাল-এর উদ্যোগ ছিল তিনি এর আগেও আফগানিস্তানে এ রকম কনসার্ট বসিয়েছিলেন৷ আপাত ভাবে এই উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার কথাও নয়৷ কিন্ত্ত গোটা রাজ্যে বিশেষ করে শ্রীনগরে কার্ফু জারি করে কনসার্ট বোঝাই যায় এর পিছনে জনসমর্থন ছিল না৷
এক দিনে কোটি কোটি টাকা খরচা হয়েছে৷ শালিমার বাগে অত্যাধুনিক বিদেশি গাড়ির লাইন পড়ে গিয়েছিল৷ মোট বাজেটের বড়ো অংশ নাকি এই গাড়ি স্পনসর করেছিল৷ তাদের উদ্দেশ্য অবশ্যই ভারতের বাজার দখল করা, কিন্ত্ত শান্তি প্রতিষ্ঠা কিনা সে প্রশ্ন আলাদা৷ কাশ্মীরে বলা হয় টেররিস্টরা সঙ্গীতেরও বিরুদ্ধে৷ অথচ এই ‘এহসাস-এ-কাশ্মীর’ যখন জুবিন মেহতা করলেন তাঁর পাল্টা হিসেবে কাশ্মীরের সাধারণ লোক কাছেই একটা পার্কে যে ‘হকিকত-এ-কাশ্মীর’-এর আয়োজন করেছিলেন তাতে কার্ফু উপেক্ষা করে ভিড় উপচে পড়েছে৷ সুতরাং বলা যাবে না সঙ্গীতের বিরুদ্ধে কাশ্মীরের আন্দোলন৷ বরং আন্দোলনের হাতিয়ার হয়ে সঙ্গীত নাটক চলচ্চিত্র উঠে এসেছিল ‘হকিকত-এ-কাশ্মীর’-এ৷

তুমি কী বিশ্বায়নের সংস্কৃতির পাল্টা হিসেবে গণআন্দোলনের এক মাধ্যম হিসেবে সংস্কৃতির বিকল্প পথের উপরেও জোর দিতে চাইছ?

একদম ঠিক, কাশ্মীরের পার্কে গণজমায়েতে যে সংস্কৃতির ধারা সাধারণকে অনুপ্রাণিত করেছিল তা কোনও কর্পোরেট পুঁজির দাক্ষিণ্যে জনপ্রিয়তা পায়নি৷ মানুষের আবেগই উঠে এসেছিল গান কবিতা নাটক সংস্কৃতি নানা মাধ্যমে৷ ভোপালে ইউনিয়ন কার্বাইডের গ্যাস দুর্ঘটনা, আদতে যা গণহত্যা তার প্রতিবাদেও ‘৮৪-র পর থেকে আজ অবধি প্রতি শনিবার কার্বাইড কারখানার কাছের এক পার্কে নিয়মিত এক সাংস্কৃতিক জমায়েত হয়৷ সেখানে দুর্ঘটনায় নিহত শহিদের পরিবারেরা যেমন থাকেন তেমনই দেখা যায় নতুন প্রজন্মের অজস্র তরুণ তরুণীদের৷ ডকুমেন্টরির বিপণনেও মাল্টিপ্লেক্স কালচারের বিপরীতে আমরা গড়ে তুলতে চাই ‘জনতা কি মাল্টিপেক্স’৷ অজস্র গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মধ্যে দিয়ে জন্ম নিতে পারে এক সাংস্কৃতিক আন্দোলন৷ এই জনগণের সংস্কৃতি সব সময়ই সব দেশেই শাসকদের ভয়ের কারণ হয়৷ এক দিকে যখন কাশ্মীরে রাষ্ট্র সঙ্গীতের মধ্যে দিয়ে শান্তির আবহ তৈরি করতে চাইছে, অন্য দিকে পুনায় ও অন্যান্য নানা শহরে নব্যহিন্দুত্ববাদীরা আক্রমণ নামিয়ে আনছে কবীর কলা মঞ্চের মতো দলিত গণশিল্পীদের সংগঠনের উপর৷ এ কাজে বি জে পি ও কংগ্রেস কোনও ফারাক নেই৷ আনন্দ পট্টবর্ধনের নতুন ছবি ‘জয় ভীম কমরেড’-এ গান করেছেন কবীর কলা মঞ্চের শিল্পীরা৷ তাদের মাওবাদী সন্দেহে পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে হয়রান করেছে৷ অথচ দলিত তরুণী শীতল শাঠের মতো গায়িকা নিঃসন্দেহে দেশের গৌরব৷

তুমি বস্তারের আন্দোলনটা কী ভাবে দেখছ?

দেখো, আবারও বলব, নর্মদা, বস্তার, ওডিশার বিভিন্ন জায়গা সর্বত্রই ছবিটা এক৷ খনিজ সমৃদ্ধ এলাকাগুলিতে একের পর এক বহুজাতিক পুঁজি হিংস্র থাবা বসাচ্ছে উন্নয়নের নামে৷ আমাদের সরকার দু’হাত তুলে তাদের স্বাগত জানাচ্ছে৷ তার ফলে বঞ্চিত হচ্ছে বিশাল সংখ্যক আদিবাসী জনজাতির লোকেরা৷ একটা সময় ছিল যখন সব কিছুই তারা ভবিতব্য বলে নীরবে মেনে নিত৷ কয়েক বছরে ধীরে ধীরে ছবিটা পাল্টেছে৷ কৃষক, অসংগঠিত শ্রমিক আদিবাসী পাল্টা প্রতিরোধে নেমেছে৷ বঞ্চনার বিরুদ্ধে নিজেদের জল-জঙ্গল-জমি নিয়ে অধিকারের দাবিতে৷ রাষ্ট্র, পুঁজি বনাম জনগণের এই দ্বন্দ্বে সারা ভারতেই পুঁজির পক্ষ নিচ্ছে৷ সন্ত্রাস নামাচ্ছে নিজেদের নাগরিকদের বিরুদ্ধে৷ বস্তারেও তার ব্যতিক্রম নয়৷ ওখানে এখন আক্ষরিক অর্থেই যুদ্ধপরিস্থিতি৷ গ্রামের পর গ্রাম একদিকে ‘মাওবাদী পিপলস্ গেরিলা লিবারেশন’ আর্মি মার্চ করছে, অন্যদিকে রাষ্ট্র ক্রমেই নতুন নতুন পথ খুঁজছে দেশের পক্ষে সবচেয়ে বিপজ্জনক শক্তির উপর আঘাত হানার জন্য৷ এই পরিস্থিতি ক্রমশই আরও জটিল হবে৷ পুঁজি খনিজসমৃদ্ধ এলাকা নিজের অধিকার যত বেশি কায়েম করতে চাইবে ততই সংঘাত তীব্র হবে৷

বস্তারের অবুঝমার-এ মিলিটারি তো নতুন করে ঘাঁটি করবে ঠিক করেছে৷ আকাশপথেও বিমান আক্রমণে প্রস্ত্ততি চলছে৷ এই অবস্থায় তোমার কী মনে হয় দু’এক বছরের মধ্যেই সরকারি ভাবে যুদ্ধ ঘোষণা হবে?

‘৬০-এর দশকে নাগাল্যান্ডের নাগা ‘বিদ্রোহী’দের দমন করার জন্যে গ্রামের পর গ্রাম ভারতীয় বায়ুসেনার বোমায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল৷ সে সব এখন ইতিহাস৷ কত হাজার গ্রামবাসী ওই সময় প্রাণ দিয়েছিলেন৷ তা নিয়ে আজ আর কোনও আলোচনাই হয় না৷ কে জানে বস্তারের ঠিক কী হতে চলেছে? তবে আমার মনে হয় যেহেতু এখন বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা চলছে বহুজাতিক পুঁজি কিছুটা কোণঠাসা৷ তাই বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি সরকারকে এখনও চরমসীমা দিতে পারেনি যে গোটা এলাকা আদিবাসীশূন্য করে দেওয়ার৷ তাই এখনও সে অর্থে যুদ্ধ ঘোষণা হয়নি কিন্ত্ত বাকিটাই বা কী আছে? দন্তেওয়াড়া, গীদম, বাসাগুডা, গড়চৌলি সব জায়গায় ভারতীয় সেনার রণহুঙ্কার হঠাত্‍ দেখলে ইরান ইরাক আফগানিস্তানকে মনে করিয়ে দেয়৷ সরকারি সন্ত্রাস যত বাড়বে তত মাওবাদী রাজনীতির প্রভাবও বাড়বে৷

অবুঝমার তো প্রাচীন গোণ্ড আদিবাসীদের পবিত্র স্থান৷ স্বাভাবিক ভাবে সেখানে মিলিটারি ঘাঁটি গড়ে উঠলে মাওবাদী নয় এবং সাধারণ আদিবাসীরাও তো বিদ্রোহ করবে৷ তা তো করবেই৷ নিয়মগিরিও তো তাই৷ ওডিশা রায়গোডা বিভিন্ন গ্রামে কয়েক বছর ধরে স্থানীয় গ্রামসহ ভোটাভুটি হচ্ছে ‘উন্নয়নের স্বার্থে’ মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিকে জায়গা দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে৷ সব জায়গায়, সব গ্রামে, সাধারণ লোক বহুজাতিকের বিরুদ্ধে রায় দিচ্ছে৷ কয়েক বছর ধরে হাজার অত্যাচারের মধ্যেও আদিবাসীরা বেদান্ত কোম্পানিকে বক্সাইট ও অন্যান্য মিনারেলের জন্যে জায়গা ছাড়েনি৷ এই বিস্তীর্ণ ভারতে ছোটো ছোটো যে গণআন্দোলন তাই কিন্ত্ত আগামী দিনে ভারত রাষ্ট্রের মাথাব্যথার কারণ হতে পারে৷ তা সে গান্ধীবাদী পথেই হোক বা মাওবাদী বা অন্যান্য বামপন্থী ধারার নেতৃত্বেই হোক৷ স্বাভাবিক আমি এ ছবিটা করেছি, ছবিটার নাম দিয়েছি ‘রেড অ্যান্ট ড্রিম’৷ এই ছোটো আপাত গুরুত্বহীন লাল স্বপ্ন যত তুচ্ছই হোক, ইতিমধ্যেই তা সরকারি মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে৷ কাশ্মীর, মধ্যভারত ও উত্তরপূর্ব ভারতে সন্ত্রাস দিয়ে কখনওই তা দমন করা যায় না৷ এক জায়গায় যদি আগুন নিভে যায় অন্য জায়গায় তা জ্বলে ওঠে৷ এই ভারতকে নতুন করে আমাদের আবিষ্কার করতে হবে৷ খুঁজতে হবে মানুষের মধ্যে অপরিসীম শক্তিকে যা শাসকদের দম্ভ কখনওই থামিয়ে দিতে পারে না৷ আমার ছবিতে বা আমাদের ছবিতে বারে বারে এই ভারতই উঠে আসে৷

কয়েক বছর আগেও ডকুমেন্টারি গোটা দেশে এত পরিচিত ছিল না৷ এখন আজমগড়, ভাতিন্দা, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, রাজস্থান বিভিন্ন জায়গায় ছোটো ছোটো শহরে ডকুমেন্টারি এক বিকল্প বিপণনের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে৷ সাধারণ লোক জানতে চাইছে এ দেশের আসল পরিস্থিতি কী? গ্রামের দেহাতি মানুষও পকেটের পয়সা খরচা করে কিনে নিয়ে যাচ্ছে বিকল্প তথ্যচিত্রের ডিভিডি৷ আন্দোলন ও আন্দোলনের ছবি একে অন্যের পরিপূরক৷ আন্দোলন যত বাড়বে ডকুমেন্টারিও এ দেশে তত গুরুত্বপূর্ণ হবে৷

 


বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ ‘Communist Life’

original_1451123727

তথ্যচিত্রটির ২টি অংশে, গ্রামাঞ্চল এবং শহুর উভয় বিপ্লবী আন্দোলনে ফিলিপাইনের কমিউনিস্টদের জীবনের বিস্তারিত বিবরণ চিত্রায়িত হয়েছে।

১ম অংশে – ফিলিপিন কমিউনিস্ট পার্টির(CPP) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জোসেফ মারিয়া সিসন থেকে শুরু করে পার্টির সশস্ত্র শাখা নিউ পিপলস আর্মি (এনপিএ) এর কমান্ডার, মুক্তিযোদ্ধা ও ডাক্তারদের, জনগণের বিপ্লবী কমিটির কর্মকর্তাদের এবং CPP এর  গ্রামীণ ঘাঁটি এলাকার স্থানীয় শাখার সম্পাদকরা বিপ্লবী আন্দোলনের সংগ্রাম এবং জনগণতান্ত্রিক ক্ষমতা নির্মাণে তাদের বৈচিত্রময় অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

২য় অংশে – শহরের বিপ্লবী গণআন্দোলনের অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্যগুলি ও সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক অবস্থা, সেইসাথে জনগণকে জাগিয়ে তোলার জন্যে বিপ্লবের অনুকুল পরিস্থিতি, জাতীয় ও সামাজিক মুক্তির জন্যে গণআন্দোলনে ব্যপক সংখ্যক জনগণের সংগঠিত অংশগ্রহণ তথ্যচিত্রটিতে দেখানো হয়েছে।


বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ ‘A Journey of the Indian Revolution’

cpi-maoist-cadre

এই চলচ্চিত্রটি- ভারত বিপ্লবী কমিউনিস্ট আন্দোলনের কাহিনী অবলম্বনে। প্রেক্ষাপট- ১৯৬৭ সালের মে এর ঐতিহাসিক নকশালবাড়ী বিদ্রোহ, যা সংশোধনবাদকে ভেঙ্গে দিয়ে কয়েক দশক ধরে চলমান।

১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) এর প্রথম কংগ্রেস থেকে তিন দশকেরও বেশী সময় পর ২০০১ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) (পিপলস ওয়ার) এই নামে পার্টির ২য় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্বের ‘বৃহত্তম গণতন্ত্র’ হিসেবে ছদ্মবেশী একটি নৃশংস শত্রুর মুখে দাঁড়িয়ে -নয়াগণতান্ত্রিক ভারতের বীরত্ব ও ত্যাগের কাহিনী এখানে দেখানো হয়েছে।

Blazing Trail: A Journey of the Indian Revolution(2005)